এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ভ্রমণ  দেখেছি পথে যেতে

  • সান্দাকফু - পথ চলার গল্প - ৪

    সুদীপ্ত লেখকের গ্রাহক হোন
    ভ্রমণ | দেখেছি পথে যেতে | ১৪ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৬৬ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • মেঘমা থেকে বেরিয়ে ঘন্টাখানেক চলার পর বেশ কিছুটা উঠেই দেখি গাড়ির রাস্তা হাজির। তবে এই সময়ে গাড়ির ঝামেলা তেমন নেই, যারা যাওয়ার, চলে গেছে এতক্ষণে। রাস্তা থেকে দূরে চেয়ে দেখি মেঘের আড়ালে পাহাড়ের লুকোচুরি আর রোদের আলো-ছায়ার খেলা তখন-ও চলছে। কাঞ্চনজঙ্ঘা আমাদের পাহাড়ের ঠিক উল্টোদিকে, টোংলু পৌঁছনোর আগে তার দেখা পাওয়া যাবে না। গেলেও এত বেলায় এই মেঘ আর কুয়াশায় সে মুখ দেখাবে বলে মনে হয় না। নিত্যম কিছুক্ষণ পরে জানালো, আর ঠিক তিনটে বাঁক পার হলেই টোংলু। প্রথমদিনের টার্গেট শেষ করার আনন্দে আমরা হই হই করে উঠলাম। শেষ বাঁকটা পার হয়ে পাহাড়ের মাথায় ট্রেকার্স হাট দেখা গেল, ছবির মতই সুন্দর, ব্লগ আর ভ্লগের কল্যাণে দূর থেকে চিনে নিতে এক মুহূর্ত লাগল না। 
     
    মেঘমা থেকে টোংলুর দিকে

     
    টোংলু ট্রেকার্স হাট 

     
    ঠিক সন্ধ্যে নামার মুখে - সূর্যাস্ত, টোংলু থেকে 

     
    টোংলুর উচ্চতা প্রায় দশ হাজার ফুটের কাছাকাছি। এখানে বসতি নেই বললেই চলে। ট্রেকার্স হাট পৌঁছনোর খানিক আগে দেখলাম কিছু কটেজ বানানো চলছে, প্রাইভেট কটেজ। আর কোনো বাড়ি-ঘর চোখে পড়ল না। সান্দাকফু যাঁরা ট্রেক করেন, মানেভঞ্জং থেকে হয় টোংলু-তে আসেন অথবা টুমলিং-এ, আর রাত কাটান। টোংলু ভারতের সীমানার মধ্যে পড়ে, ওদিকে টুমলিং নেপাল-এ। ট্রেকার্স হাটে পৌঁছে ভেতরে গিয়ে আমাদের ঘর দখল করে নিলাম, এখানে আমরা নিয়েছি ছয় বেডের একটা ডরমিটরি। একেবারে সামনের দিকে সামনের আর বাঁপাশের জানলার পর্দা সরালেই সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার কথা, যদিও এখন মেঘ আর কুয়াশা মিলে সব-ই সাদা। টোংলু ট্রেকার্স হাটের ঠিক পিছনের দিকে একটা ঘাসজমি আর মাঠ, খাদের আগে, সেখান থেকে সূর্যাস্ত দেখে এলাম আমরা সবাই, আকাশের নীল আর মেঘের সাদায় লালের আবির মাখিয়ে আস্ত কমলালেবুটা পাহাড়ের পিছনে নেমে যেতেই ঝুপ করে অন্ধকার নেমে এল যেন, হাওয়ার বেগ-ও যেন বেড়ে গেল কয়েক গুণ। কাঁপতে কাঁপতে ট্রেকার্স হাটের কিচেন থেকে গরম জল নিয়ে ঘরে ফিরলাম সবাই। কফি আর রোহিতের অক্ষয় স্ন্যাক্সের ঝুলি তো আছেই।
     
    এখানে বলে রাখি, টোংলু ট্রেকার্স হাটের টয়লেট-গুলোর অবস্থা খুব, খুব-ই খারাপ। কেউ সেভাবে পরিষ্কার-ও করে না। আর গড়পড়তা ট্যুরিস্ট যত বেশী পরিষ্কার টয়লেট চায় হোটেল ইত্যাদিতে, নোংরা করেও ঠিক ততটাই। এমনকি দরজা-ও এখানে আটকায় না। সুতরাং কেউ গেলে বাইরে পাহারাদারী-টুকু দস্তুর। এর থেকে এ বস্তুটি না থাকলে বাইরে মাঠ-ঘাটও ভালো ছিল। এখানে অব্যর্থভাবে আমার উমাপ্রসাদ বা জলধর সেনের হিমালয় ভ্রমণের পথে চটিতে বর্ণনা করা শৌচালয়ের (তখন যদিও শৌচালয় বলতে মাঠ-ঘাট, বড়জোর দরমার একটা বেড়া, শুধু স্থানটুকু নির্দিষ্ট, যদিও সেও সবসময় কেউ মানত না, সুতরাং…) কথা মনে পড়ে গিয়েছিল।  

    রাতে আজ ট্রেকার্স হাট ভর্তি, ট্রেকারদের থেকেও এদিন ল্যান্ড রোভারের সওয়ারী বেশী। আমাদের দুই পোর্টার টোংলু থেকে একটু নেমে গিয়ে কোনো এক পরিচিতের ঘরে আশ্রয় নিল। নিত্যম অবশ্য এখানেই রইল। আটটা বাজতেই আমরা গয়ে হাজির হলাম কিচেনে, তিনটে টেবিল বসানো আছে বিরাট ঘরের তিনটে অংশে। আমরা সামনেরটায় বসতেই চলে এল গরম গরম ভাত, ডাল, আলুভাজা, স্কোয়াশের তরকারি আর ওমলেট। খাওয়া দাওয়া সেরে বোতলে গরম জল ভরে বাইরে এসে তারা-ভরা আকাশ দেখলাম কিছুক্ষণ ট্রেকার্স হাটের উঠোন থেকে, কিন্তু কাঞ্চনজঙ্ঘার দিকে শুধুই কুয়াশা আর মেঘ! দেখা যাক কাল কি হয়!

    দুটো করে কম্বল গায়ে ফেলে শুয়ে পড়েছি সবাই। ডরমিটরিতে নিকষ অন্ধকার। ঘুম হচ্ছে ছেঁড়া ছেঁড়া, মনে উসখুস - ব্রাহ্মমুহূর্ত, থুড়ি, কাঞ্চনমুহূর্ত হাতছাড়া না হয়। মাঝে মধ্যে মোবাইলে সময় দেখে নিচ্ছি, এই একটা, দুটো, তিনটে। যেন গভীর ঘুম বলে কোনো বস্তু কেউ শোনেনি কোথাও কখনো। তার উপর ঠান্ডা, কম্বল দুটোও যেন হিম হয়ে গেছে। ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ উঠে দেখি আকাশ পরিষ্কার, তবে অন্ধকারে কাঞ্চনজঙ্ঘার আবছা অবয়ব শুধু বোঝা যায়। সময় বুঝে প্রাতঃকৃত্যটি সেরে ঠিক দশ মিনিট পর আবার উঁকি মেরে দেখি, একেবারে চমৎকার! তিনি খোলস ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছেন স্বমহিমায়! দুদ্দাড় করে আমরা চারজন দৌড়োলাম বাইরের উঠোনে, রোহিত তখন টয়লেটে যাবে বলে উঠেছে, বলল, এখন তো কিছুক্ষণ দেখা যাবে, যাই ঘুরে আসি ফাঁকা থাকতে। আমরা বাইরে এসে প্রাণ ভরে দেখছি, সূর্যম্‌ উদিতে, কাঞ্চনজঙ্ঘাঃ প্রকাশতে! ঠিক পাঁচ মিনিট, নিজের-ও এখন আর বিশ্বাস হয় না, একেবারে ঘড়ি ধরে পাঁচ মিনিট, পাহাড়ের গায়ে প্রথম আলো লেগেছে, চারিদিক লালে লাল, ট্রেকার্স হাটের উঠোনে দুজন, চারজন করে ভিড় বাড়ছে, একেবারে একরাশ কুয়াশা যেন যক্ষের মত হা-হা করে ছুটে এসে পুরো ট্রেকার্স হাটকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলল! আমরা তো অবাক, এত কুয়াশা এল কোত্থেকে! বলাই বাহুল্য কাঞ্চনজঙ্ঘা-ও উবে গেছে আর এবার কুয়াশার সঙ্গে মেঘের দল-ও ঠেলে ঠেলে ওপরে উঠছে; হঠাৎ রোহিত দৌড়োতে দৌড়োতে এসে হাজির, আর আমাদের বিশ্বাস-ই করতে চায় না চারিদিক দেখে, যে আমরা কিছুটা সেই স্বর্গীয় দৃশ্য দেখে ফেলেছি! এমনকি, পরে যারা এসে ভিড় করছে, তারাও বিশ্বাস করতে চাইছে না, যে আজ দেখা গেছে। চারিদিকে তখন এত-ই ঘন মেঘ আর কুয়াশা। আমি এমনকি ক্যামেরা আনার সু্যোগ-টুকুও পাই নি, সুতরাং ওই মোবাইলে সে ছবির কিছুটা ধরা গেছে, সেসব দেখিয়ে রোহিতকে শান্ত করা হল। হিমালয় তো এমনি, কে আর তাকে কবে নিশ্চিৎ করে চিনেছে বা দেখেছে! আমি নিজেও আজ অবধি টাইগার হিল থেকে সেই বহুকথিত সূর্যোদয় দেখিনি, যেটুকু দেখেছি তাও ছেঁড়া ছেঁড়া, তবে এই ট্রেকে দেখা সূর্যোদয়ের পর আর সে দুঃখ একেবারেই নেই, তবে সেকথা যথাসময়ে।
     
    কাল যা হল - সূর্যোদয় টোংলু ট্রেকার্স হাট থেকে (মোবাইল থেকে তাড়াহুড়োয় তোলা - নীচে থেকে ফুঁসে উঠছে কুয়াশা আর মেঘ)


    সাতটা বাজতেই আমরা ব্যাগপত্র বাঁধাছাঁদা শেষ করে প্রাতঃরাশ সেরে নিলাম। আজকের মেনুতে টোস্ট, মাখন, ওমলেট আর কফি। ঘড়ি ধরে আটটায় নিত্যম আর তার সঙ্গীরা হাজির, অতএব টোংলু-কে বিদায় জানিয়ে এবার চললাম টুমলিং এর পথে। শুরুতে কিছু গবাদি পশুর পায়ে চলা পথ আর তৎকৃত বর্জ্য থেকে পা এড়িয়ে খানিক চলার পর আবার অনন্যসুন্দর এক সবুজ আর পাহাড়ী উপত্যকার পথ। পাথর আর ঘাসের সরু এক ফালি পায়ে চলা পথ এঁকে বেঁকে চলে গেছে, উপত্যকার বিভিন্ন অংশে রোদ আর ছায়ার খেলা। টোংলু থেকে প্রকৃতির রঙও বেশ পাল্টাতে থাকল, শুধু সবুজের জায়গায় পাতাঝরার মরশুমের হলুদ, লাল ভাগ বসাতে শুরু করল। ঘাস, গাছের পাতা সবেতেই রঙের ছড়াছড়ি! আমাদের পথের বেশ কিছু জায়গায় ছোটো ছোটো ঝোরা দেখলাম, এর ফলে পথে কিছু কিছু অংশ অল্প জল-কাদা মাখা, তবে ঘাসের প্রাচুর্য তাকে অনেকাংশে ঢেকে দিয়েছে। এই রাস্তাটুকু প্রায় পুরোটাই সমতল, সত্যি বলতে উৎরাই, কারণ টুমলিং-এর উচ্চতা কম। প্রায় আধঘন্টা মত চলার পর আমরা এসে উঠলাম গাড়ির রাস্তায়। এখন এত সকালে কোনো গাড়ি নেই। রাস্তায় নামতে দূরে টুমলিং দেখা গেল, রাস্তাটাও অদ্ভুত সুন্দর এঁকেবেঁকে পাহাড়ের উপরে উঠে হারিয়ে গেছে।
     
    টোংলু থেকে বেরিয়ে 

     
    দূর থেকে টুমলিং


    টুমলিং-এ জনবসতি রয়েছে, হোটেল বা হোম-স্টে গুলোতে সব আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আছে, তবে কাঞ্চনজঙ্ঘা নেই, ওটি পেতে হলে টোংলু। সুতরাং পাঁচ মিনিটের জন্যে হলেও আমাদের টোংলু আজ টুমলিং কে গুনে গুনে দশ গোল দিয়েছে শুধু ঐ একটি কারণে। টুমলিং-এ এসে আমরা পারমিট করিয়ে নিলাম পরের দুদিনের, পাঁচজনের মোট ১২০০ টাকা। বেশ কিছুটা সময় গেল। এবার চেকপোস্টে আবার আই ডি কার্ড চেক করিয়ে আবার চলা শুরু।
     
    আমরা ট্রেক করি আনন্দে, মাঠে ঘাটে বেলা কাটে সকাল হতে সন্ধ্যে... 


    টুমলিং থেকে রাস্তা আবার উপরে ওঠা শুরু হল, বেশ চড়াই। মনে করিয়ে দিই, এই আমাদের দ্বিতীয় দিনের ট্রেক, আমাদের মতে সবচেয়ে কঠিণ এই দিনটি, সবচেয়ে বেশী হাঁটা শুধু নয়, পথ-ও দুর্গম, আর শেষ দিকে পাথুরে রাস্তা পা-কে ক্লান্ত করে তোলে, রাস্তা শেষ হতেই চায় না। যাই হোক, টুমলিং থেকে প্রায় দশ মিনিট চলার পর আমরা আবার গাড়ির রাস্তা ছাড়লাম আর নেপালের জঙ্গলের রাস্তা ধরলাম। পাহাড়ের ওপর দিয়ে পথ চলে গিয়েছে আর দুদিকে এবার ঘন জঙ্গল। আমাদের সঙ্গে আরও একটি দল উঠছে। কখনো তারা এগিয়ে চলেছে, আবার আমরা এগিয়ে চলেছি তাদের বিশ্রামের সুযোগে। প্রায় তিন কিলোমিটার চলার পর আমরা উঠে এলাম একটা খোলা সবুজ প্রান্তরে, জঙ্গল কমে এল, এবার সবই ঝোপ-ঝাড় জায়গায় জায়গায়, দূরে ঢালু হয়ে গেছে জমি, দু-এক জায়গায় বানানো কৃত্রিম জলাধার চোখে পড়ল। কিছুটা এগোনোর পর একটা সীমানা-নির্দেশক স্তম্ভ চোখে পড়ল, তার একদিকে লেখা নেপাল, আর একদিকে ইন্ডিয়া। সেখানেই আমরা একটু জিরিয়ে নিলাম, সঙ্গে রাখা চকোলেট আর ড্রাই ফ্রুটস খাওয়া হল। এখান থেকে দূরে চোখে পড়ল জৌবারি, নেপালের-ই একটি গ্রাম। আমরা রাস্তা দিয়ে গেলে জৌবারি হয়ে যেতাম। এখন আমরা যেখানে আছি, অনেক নীচে আর একটা পাহাড়ের গায়ে জৌবারি-কে দেখা গেল। আমরা অনেক উপরে উঠে এসেছিলাম, এবার শুরু হল নামা।
     
    টুমলিং থেকে জৌবারির দিকে


    দূরে মেঘের ভিতর দিয়ে জৌবারি - আর এদিকের ছোটো নীল অংশ দুটো কৃত্রিম জলাশয়


    এরপর গৈরিবাস পর্যন্ত শুধুই নামা। কিছুটা জঙ্গল আর কাঁটাঝোপের পথ পার হয়ে শুরু হল একটা পাথুরে রাস্তা দুদিকে ঘন জঙ্গলকে রেখে। বিক্রম, আমাদের এক পোর্টার বলল, এই রাস্তায় রেড পান্ডার দেখা মিলতে পারে, আমরা দুদিকের জঙ্গলের গাছ-গাছালিতে সজাগ দৃষ্টি রেখে চলা শুরু করলাম। কিন্তু কিছুর দেখা পাওয়া গেল না, শুধু শীতের পাতা পড়ার শব্দ, ঝিরঝিরে হাওয়া আর মাঝে মধ্যেই ঘিরে ধরা কুয়াশাকে সঙ্গী করে আমরা নেমে এলাম গৈরিবাসে প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার পথ পার হয়ে।

    গৈরিবাসে নেমে এসে আমরা সবাই দুপুরের খাওয়া সেরে নিলাম থুকপা আর মোমো দিয়ে, সঙ্গে ঘরে বানানো ঝাল লঙ্কার আচার। গৈরিবাস থেকে কাইয়াকাট্টা, এই সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা সোজা খাড়াই। আমরা রাস্তা ছেড়ে পাহাড়ের গা দিয়ে ধাপে ধাপে ওঠা শুরু করলাম। প্রাণান্তকর চড়াই, একটু করে উঠছি আর দশ সেকেন্ড দাঁড়াচ্ছি। গাড়ির রাস্তা কখনো কখনো দেখা যাচ্ছে, কখনো রাস্তা পার হয়ে আবার পাহাড়ের ধাপে ধাপে উঠছি। কাইয়াকাট্টা এসে যখন পৌঁছোলাম, সবাই তখন বেশ ক্লান্ত। একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার চলা শুরু হল। এবার চড়াই কম, তবে রাস্তা দুর্গম, পাথুরে। কাইয়াকাট্টা থেকে কালিপোখরি খাতায়-কলমে তিন কিলোমিটার, কিন্তু রাস্তা আর ফুরোয় না, চলছি তো চলছি, চলছি তো চলছি। 
     
    কালিপোখরির পথে - কখনো মেঘ ঘর ছাড়ার হাতছানি

     
    এদিকে দিনের আলো পড়ে আসছে, পাহাড় আবছা আলোয় আরও রহস্যময় হয়ে উঠছে আর আমাদের গাইড-পোর্টার-রা বলেই যাচ্ছে আর একটা বাঁক ঘুরলেই কালিপোখরি। কোন বাঁক যে সেই স্বর্গীয় বাঁক, সে আর বুঝে পাই না, একের পর এক বাঁক পার হচ্ছি। আজকের দূরত্ব ছিল প্রায় ১৬ কিলোমিটার কিন্তু মাঝে মধ্যেই মনে হচ্ছে অন্ততঃ আরও ৩-৪ কিলোমিটারের গন্ডগোল আছে সেই হিসেবে। অবশেষে প্রায় ছ’টা নাগাদ আমাদের সেই বহু প্রত্যাশিত বাঁক ঘুরেই আবছা আলোয় চোখে পড়ল কালিপোখরির লেক। তখন অন্ধকার হয়ে এসেছে, আর কারোর পা প্রায় চলছে না, সুতরাং পরের দিন সকালে ভালো করে সব দেখা হবে ঠিক করে ছাওয়াং লজে ঢুকে পড়লাম। প্রচন্ড ক্লান্তিতে সবাই মোটামুটি যে যার ঘরে ঢুকে বিশ্রাম করে নেব ঘন্টা দুয়েক ঠিক করলাম। আমার নিজের-ও কাফ মাসলে টান ধরেছিল একেবারে শেষদিকে এসে, পা মুড়তে বেশ অসুবিধে হচ্ছে,  চিন্তায় পড়ে গেলাম কাল কি করে আবার ট্রেক শুরু করব! প্রার্থনা, উষসীর হাল-ও বেশ খারাপ! রোহিতের হাঁটুও গড়বড় করছে। একমাত্র কিছুটা ঠিক আছে অনুপম। আটটার মধ্যে রাতের খাওয়া সেরে প্যারাসিটেমল নিতে হল, আর পায়ে ভালো করে ভলিনি স্প্রে করে শুয়ে পড়লাম।
  • ভ্রমণ | ১৪ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৬৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সুদীপ্ত | ১৬ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:১৮515379
  • দু-এক জায়গায় একটু এডিট করে দিতে হল।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ মতামত দিন