এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ভ্রমণ  যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে

  • ফারাও-এর দেশে কয়েকদিন - ৫

    সুদীপ্ত লেখকের গ্রাহক হোন
    ভ্রমণ | যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে | ১০ মার্চ ২০২৪ | ৪৫৫ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • গ্রহ থেকে বিচ্যুত হয়ে উপগ্রহের মতো সায়িদি আমাদের নিয়ে ছুটে চলল গিজা থেকে দাশুর-এর দিকে। সামাহ বলে দিয়েছিল সায়িদি-র সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে, আমরাও সামাহ-র নম্বর রেখেছিলাম, কারণ সায়িদি খুব কম আর ভাঙা ভাঙা ইংরাজীতে কথা বলতে পারে। এখানে বলে রাখি, আমরা দুজনেই আন্তর্জাতিক রোমিং সক্রিয় করে নিয়ে গিয়েছিলাম, আর মোটামুটি কাজ চালিয়ে নেওয়া গেছে দরকার মতো। তবে মিশরের মোবাইল নেটওয়ার্ক মোটেই ভালো নয়, কল হয় তবে মাঝে মধ্যেই নেটওয়ার্ক থাকে না, আর ডেটা ফোর-জি কখনো সখনো দেখায় বটে, তবে স্পীড টু-জি-র মতোই। হোটেলের ওয়াই-ফাই ও খুব সুবিধের নয়। গিজা থেকে যে রাস্তায় আমরা গিয়ে পড়লাম, খুব পরিষ্কার নয়, এখানে ওখানে স্তূপাকার নোংরা পড়ে আছে অবিন্যস্ত, ঘরবাড়ির ঘনত্ব-ও ভালোই, কিন্তু একেবারেই প্ল্যানমতো কিছু বানানো নয়, খুব উঁচু বাড়ি তেমন দেখা গেল না। গিজা থেকে দাশুর প্রায় ঘন্টাদেড়েকের রাস্তা, পঞ্চাশ কিলোমিটার মতো, দুই-তৃতীয়াংশ যাওয়ার পর যেখান থেকে মেমফিসের রাস্তা আলাদা হয়ে গেছে, শুরু হলো ম্যাজিক। রাস্তার দুপাশের ছবি যেন হঠাৎ কোনো জাদুকাঠির ছোঁয়ায় বদলে গেল! সবুজ শীতের ফসলের ক্ষেত আর খেজুর গাছের সারি। ঘন নীল আকাশের গায়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে, অপূর্ব শোভা এই রাস্তার, সঙ্গে ভর-দুপুরে প্রাণ-জুড়নো ঠান্ডা হাওয়া! সায়িদি বললো, সাক্কারা আর দাশুরের খেজুরের বাগান খুব প্রসিদ্ধ। আর এখানকার এক বাগানের খেজুরের স্বাদ আর মিষ্টত্ব অন্য বাগানের থেকে আলাদা! পরে খেয়ে দেখেওছিলাম সত্যি তাই। আমরা সাক্কারার রাস্তা ছাড়িয়ে আগে চলে গেলাম দাশুরের পথে। দূর থেকে স্টেপ পিরামিড দেখতে পেলাম। দাশুরের পিরামিড চত্বর একেবারেই খাঁ খাঁ মরুভূমির মধ্যে, ঢোকার সময় রীতিমতো গাড়ির লাইসেন্স ইত্যাদি দেখেশুনে ঢুকতে দেওয়া হলো, এই এলাকাটি মিশরীয় সেনার আওতায়। এদের কাছে এই প্রথম ছোটো ইউ জি আই দেখলাম। প্রথমে পৌঁছে গেলাম রেড পিরামিডের কাছে।
     
    দাশুরের পথের পাশের দৃশ্য, খেজুর বাগান 


    স্টেপ পিরামিড থেকে সমতল ঢালের পিরামিড – এই পরিবর্তনের হোতা ছিলেন চতুর্থ রাজবংশের ফারাও স্নেফেরু, খুফুর পিতা। আনুমানিক ২৬০০ খ্রীষ্টপূর্বের আশেপাশে প্রথমে তিনি বেন্ট পিরামিড নির্মাণ করতে শুরু করেন। মাটি থেকে ৫৪ ডিগ্রী কোণে এই পিরামিডের নির্মাণ শুরু হয়, কিন্তু সম্ভবতঃ এই কোণে পিরামিডের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছিল, যার ফলে কিছুটা তৈরী হওয়ার পর বাকি অংশটি বানানো হয় ৪৩ ডিগ্রী কোণে। যার ফলে একটি ট্রাপিজিয়ামের মাথায় ত্রিভুজ বসালে যে আকৃতি হয়, এক পাশ থেকে এর আকৃতি ঠিক সেইরকম। এর ফলেই বেন্ট পিরামিড নাম। সব মিলিয়ে নির্মাণে ত্রুটি থাকায় এই পিরামিড পরিত্যাজ্য হয়ে যায়। স্নেফেরু তখন নতুন করে বেন্ট পিরামিড থেকে দেড় কিলোমিটার আগে বানাতে শুরু করেন এই রেড পিরামিড, আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ৪৩ ডিগ্রী কোণেই বানানো হয় রেড পিরামিড। স্নেফেরু-র উত্তরাধিকারী খুফু অবশ্য আরও একটু সাহসী হয়ে পরবর্তীকালে ৫১ ডিগ্রী-তে বানিয়ে ফেলেন সর্বোচ্চ পিরামিড! লাল চুনাপাথর দিয়ে তৈরী বলে দূর থেকে লালচে ভাব চোখে পড়ে, সেই থেকেই এই নাম। দু-দশজন পর্যটক সাকুল্যে, ভিড়ের ব্যাপার নেই। রাস্তার বাম পাশে দাঁড়িয়ে আছে। তবে এর-ও উপরের সমতল অংশ বা ‘কেসিং’-টি নষ্ট হয়ে গেছে। উঁচু পাথরের সিঁড়ি অনেকটা উঠে গিয়েছে প্রবেশদ্বার পর্যন্ত। প্রবেশদ্বারের সামনে পাথরের ছোটো চাতাল।  সেখান থেকে বহুদূর পর্যন্ত মরুভূমি দেখা যায়, সাক্কারার স্টেপ পিরামিড-ও এখান থেকে দৃশ্যমান। এখানেও একইভাবে কাঠের পাটাতন নেমে গেছে পিরামিডের গর্ভে, ভিতরে অবশ্য সার্কোফেগাস ছাড়া কিছু নেই। এই কাঠের পাটাতন আমাদের ঘাট থেকে নৌকো-য় উঠতে যে ধরণের পাটাতন ব্যবহার করা হয় লোহার বিট দেওয়া খানিকটা অন্তর, একেবারে সেই জিনিস শুধু একটু চওড়া আর শক্তপোক্ত। একইভাবে হাঁটু মুড়ে কোমর বেঁকিয়ে নামার ব্যবস্থা।  নেমে এসে এরপর আমরা আরও দেড় কিলোমিটার এগিয়ে এলাম বেন্ট পিরামিডে। এটা কিছুটা কালচে রঙের, এর কেসিং অবশ্য বেশ কিছুটা অক্ষত। এর অন্যপাশে দেখলাম ব্ল্যাক পিরামিড। এটি তৈরী করেছিলেন ফারাও তৃতীয় আমেনেমহাত। এটিই প্রথম পিরামিড যেখানে ফারাও আর তাঁর রাণীদের একসাথে সমাহিত করা হয়। এই পিরামিডের ক্যাপস্টোন-টি আমরা দেখেছিলাম কায়রোর ইজিপ্সিয়ান মিউজিয়ামে। পিরামিডটি অবশ্য এখন একটি ধ্বংসস্তূপ বলা চলে।
     
    রেড পিরামিড 

     
    বেন্ট পিরামিড 

     
    ব্ল্যাক পিরামিড 

     
    দাশুর-এর চত্বর ছেড়ে এবার আমরা চললাম সাক্কারা-র দিকে, সেই সুন্দর পথ ধরে। পিরামিড চত্বরে ঢোকার বেশ কিছুটা আগে থেকেই দেখে গেল স্টেপ পিরামিড। এর আশে পাশে দেখা গেল ছোটো বড় আধ-ভাঙা মাস্তাবা, ফারাও উনাস আর উসারকাফের পিরামিডের ধ্বংসাবশেষ। পিরামিড তৈরীর  আগে এই মাস্তাবা-ই ছিল সমাধিস্থল। এর আকার ট্র্যাপিজিয়াম আকৃতির  প্রিজমের মতো। দাশুর যেমন প্রায়-জনশূন্য ছিল, এখানে তেমন নয়, লোকজন রয়েছে ভালোই, যদিও গিজার মতো নয়। স্টেপ পিরামিডে ঢোকার প্রবেশপথটি দেখার মতো! প্রায় ত্রিশ ফুট উঁচু একটি পরিবেষ্টনী। এটি প্রায় এক মাইলের কাছে লম্বা ছিল। এই প্রাচীরটি দেখতে ঠিক একটুকরো লম্বা কাগজকে ভাঁজে ভাঁজে মেলে ধরলে যেমন হয়। সবচেয়ে আশ্চর্য হতে হয় এই প্রাচীরের মসৃণতা দেখলে, মনে হবে পাথর  পালিশ করে রেখেছে কেউ! প্রবেশপথ দিয়ে ভিতরে ঢুকলে দুপাশে সারি দিয়ে উঁচু স্তম্ভ, এগুলি আগে প্রায় কুড়ি ফুট উঁচু ছিল, এখন অবশ্য আধ-ভাঙা। মাঝের পথটি ফুট চারেক চওড়া। উপরের ছাদটি অবশ্য পরে বানানো। এই স্তম্ভগুলিও দিব্যি মসৃণ! তবে এই পথটি বা প্রাচীরটি পিরামিডের সমকালীন নয়, বরং বানানো হয়েছে টলেমিক রাজত্বকালে। সমাধিক্ষেত্রের প্রবেশদ্বারটি দক্ষিণদিকে। সমাধি চত্বরে ঢুকে আসার পর একটি বিশাল মুক্ত প্রাঙ্গন, তার পরে দাঁড়িয়ে আছে স্টেপ পিরামিড। ডানদিকে তাকালে চোখে পড়ে ‘সেদ’ বা ‘হেব-সেদ’ উৎসবের মন্দির, কিছুটা অংশ টিকে আছে এখনো। এই সেদ বা হেব-সেদ উৎসব হতো ফারাও-এর ত্রিশ বছরের রাজত্বকাল উদযাপন উপলক্ষ্যে। ত্রিশ বছর পর প্রতি তিন বছর অন্তর এই উৎসব চলতে থাকত। এই প্রান্তরে দাঁড়িয়ে দূরে দেখা যায় বেশ কিছু ভাঙাচোরা মাস্তাবা। এগিয়ে যাই স্টেপ পিরামিডের দিকে। আনুমানিক ২৭০০ খ্রীষ্টপূর্বে প্রাচীন মিশরের তৃতীয় রাজবংশের ফারাও জোসার এই পিরামিড তৈরী করান আর এর নকশা বানানো বা নির্মাণের দেখভাল করেন জোসারের রাজসভার বিখ্যাত স্থপতি ভিজির (অর্থাৎ উজীর/মন্ত্রী) ইমহোটেপ। ইতিহাস বলে এই ইমহোটেপ ছিলেন একাধারে স্থপতি, প্রযুক্তিবিদ, রসায়নবিদ এবং লিপিকার (স্ক্রাইব)। এই স্টেপ পিরামিডের ছটি স্তর আছে, প্রতিটি এক-একটি মাস্তাবার আকৃতি, একটির উপর আর একটি বসানো। মাস্তাবাগুলি বানানো হতো কাদামাটির ইঁট দিয়ে, এই প্রথম স্টেপ পিরামিডে ব্যবহার হলো চুনাপাথর। পিরামিডের সামনে গিয়ে পথ চলে গেছে ভিতরে, এর নামার পথটি সহজ, যদিও কয়েকটি কক্ষ আর লম্বা হলঘর ছাড়া কিছুই নেই তেমন। তবে ভিতরে নীল টাইলের ব্যবহার বেশ উল্লেখযোগ্য। এখনো রয়ে গেছে বেশ কিছু। পিরামিডের পাশেই একটি বদ্ধ ছোটো ঘরে রয়েছে জোসারের মূর্তি, আর তার জানলায় দুটি ফুঁটো, যেখান দিয়ে নাকি ফারাও সোজা উত্তর আকাশে ধ্রুবতারা দেখতে পান। সে-যুগে দাঁড়িয়ে এ-জিনিসের পিছনে জ্যামিতিক ভাবনা অবাক করার মতো!  
     
    স্টেপ পিরামিডের প্রবেশদ্বার 

     
    প্রবেশপথ


    ফারাও জোসারের স্টেপ পিরামিড

     
    হেব-সেদ মন্দিরের অবশেষ 

     
    ফিরে আসার পথে আমরা দেখলাম পঞ্চম রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ফারাও উসারকাফের পিরামিড, অনেকটাই ভেঙে গেছে, ভিতরে ঢোকাও বন্ধ। আর এরপর ‘এপিস বুল’-এর সমাধিক্ষেত্র। এপিস বুল ছিল মিশরীয়দের আরাধ্য দেবতা (অনেকে বলেন দেবতা পিতাহ-র জীবন্ত রূপ), ইনি একজন জ্যান্ত ষাঁড়। এঁকে বাছার কিছু উপায় ছিল, যেমন এই ষাঁড়-কে হতে হবে তার মা-গরুর জ্যেষ্ঠ সন্তান, একেবারে সাদা রঙ হতে হবে, শুধু পিঠের দিকে থাকবে উড়ন্ত বাজের মতো কালো রঙের ছোপ। এঁর সারাদিনের চলাফেরা, গতিপ্রকৃতি বুঝে পুরোহিতরা দেশের ভবিষ্যৎ গণনা করতেন। এপিস বুল মারা গেলে তাকে মমি বানিয়ে রাখা হতো, সোনার কফিন আর সার্কোফেগাসে। এপিস বুলের এই সমাধিক্ষেত্র খানিকটা আলেকজান্দ্রিয়ার ক্যাটাকম্ব-এর মতো। সারি দিয়ে ছোটো ছোটো ঘর বা প্রকোষ্ঠ  আর তার ভিতরেই রাখা হতো এপিস বুলের মমি। ভিতরে এখন কিছুই নেই, আর আবিষ্কারের আগেই নাকি সব সোনার জিনিস চুরি হয়ে গিয়েছিল এই সমাধিক্ষেত্র থেকে। তাই আমরা বাইরে থেকেই দেখলাম, আর এবার ফিরে চললাম আবার আমাদের গ্রহের সঙ্গে মিলে যেতে, কায়রোর উদ্দেশ্যে। হ্যাঁ এখানে আবার বলে যাই, মনে ইচ্ছে থাকলেও মিঠুনদা না বললে আমরা হয়ত এতটা জোর দিয়ে আমাদের ট্যুর প্ল্যানে এই পরিবর্তনটুকু আনতাম না, সেটার জন্যে কৃতজ্ঞতা জানাতেই হবে! কায়রোর বিকেলের ট্রাফিক বেশ ভয়াবহ শুনেছিলাম, কিন্তু আজ কোনো কারণে ছুটি থাকায়, কোনোরকমে ঠিক সাড়ে চারটেয় আমরা হোটেলে এসে ঢুকলাম, পথে দেখে এলাম সুলতান সালাদিনের দুর্গ। হাত-মুখ ধুয়ে হোটেলের লাউঞ্জে বসে একটু জিরোতেই হইহই করে আমাদের সঙ্গী-সাথীরাও চলে এল, আর আমরাও বাসে উঠে চললাম এয়ারপোর্টের পথে, কায়রো-কে বিদায় জানিয়ে এবার আমাদের গন্তব্য আসোয়ান। 
     
    স্টেপ পিরামিড ও উসারকাফের পিরামিড

     
    এপিস বুলের সমাধিক্ষেত্র

    কায়রো থেকে আসোয়ান বিমানে লাগে পঁয়তাল্লিশ মিনিট থেকে এক ঘন্টা। আসোয়ানে নেমে দেখা গেল আমাদের দলের এক সঙ্গীর একটি ব্যাগ এসে পৌঁছোয়নি। পরের বিমানে যাতে সেটি আসে আর সরাসরি আমাদের হোটেলে পৌঁছে দেওয়া হয় তার ব্যবস্থা করা হলো। এখানে বলে রাখি, গোটা ট্যুরে আমাদের একজন ট্যুর লীডার ছিলেন, একেবারে মুম্বাই থেকে মুম্বাই, সুশান্ত খারাট। সুশান্ত আমাদের সকলের সুবিধা-অসুবিধা, হোটেলের ঘর নির্দিষ্ট করে দেওয়া, খাওয়া-দাওয়া এমনকি সামাহ-র সাথে ট্যুর প্ল্যান ঠিকঠাক রাখা সবকিছু দায়িত্ব নিয়ে করতেন। সামাহ-র সঙ্গে সদাহাস্যময় সুশান্ত-এর কথাও বলতেই হবে এত সুন্দরভাবে সবকিছু পরিচালনা করার জন্যে।  সুশান্তের মাসে অন্ততঃ পনেরো থেকে কুড়িদিন নাকি বাইরেই এভাবে ঘুরতে হয় পর্যটকের দল নিয়ে, সবচেয়ে বেশী ট্যুর করান ইউরোপের। তবে বাকি দিনগুলো একেবারেই পরিবারের সঙ্গে কাটান, অফিসের কোনো ঝামেলাই থাকে না। আসোয়ান এয়ারপোর্টের বাইরে এসে আমরা অন্য একটি মার্সিডিজ-এর বাসে উঠলাম, একই বসার জায়গা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। প্রথমে আমরা পৌঁছোলাম একটি ফেরীঘাটে। আমাদের হোটেলের নাম পিরামিসা আইসিস আইল্যান্ড, এটি পিরামিসা দ্বীপে। আমাদের নীলনদে মিনিট পনেরো ভটভটিতে করে চলে পৌঁছোতে হবে সেই হোটেলে; আমাদের সব ব্যাগপত্র সহ আমরা চড়ে বসলাম সেই ভটভটি নৌকোয়, রাতের অন্ধকারে নীলনদে ভ্রমণ বেশ ভালোই, তবে ঠান্ডা হাওয়াও তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে, রীতিমতো কান-গলা ঢেকে বসতে হলো। নীলনদের গতি পথে ছ’টি ক্যাটারাক্ট বা উচ্ছ্বল জলস্রোত (জলপ্রপাত কথাটি এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়) দেখা যায় পাহাড়ি নদীর মতো, এই ক্যাটারাক্টগুলিতে এসে নীলনদ বেশ কিছু সরু স্রোতে ভেঙে যায় আর মাঝে দ্বীপ জেগে ওঠে। প্রথম ক্যাটারাক্ট-টি এই আসোয়ান-এ, আর এই তীব্র স্রোত-কে কাজে লাগাতেই তৈরী হয়েছিল আসোয়ান বাঁধ আর জলাধার। আসোয়ানে দুটি জলাধার আর বাঁধ আছে, লো ড্যাম আর হাই ড্যাম। এই যে আমরা নদী পার হচ্ছি, জলে বেশ চোরা স্রোত রয়েছে। পাথর-ও জেগে আছে এদিক-ওদিক, তার মাঝখান দিয়ে যাওয়ার পথ। মিনিট পনেরো পরে জেটি-তে এসে লাগলো আমাদের নৌকো। এই জেটি-টি হোটেলের নিজস্ব, বেশ বড় জায়গা নিয়ে দ্বীপের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। হোটেলে ঢুকে আমরা সটান চলে গেলাম নৈশাহারের জায়গায়, আর ঘর নির্দিষ্ট করে দেওয়া হলো তার মাঝেই। রাতে ব্যালকনি থেকে বেশ দেখা গেল নীলনদের চলন-গমন!
     
    আসোয়ান বিমানবন্দরের বাইরে 

    চতুর্থ দিন সকালে আমরা প্রাতঃরাশ করে হোটেল ছেড়ে দিয়ে প্রথমেই যাবো আসোয়ানের হাই ড্যাম আর লেক নাসের দেখতে; তারপর ফেরার পথে ফিলে মন্দির ঘুরে আমরা উঠবো আমাদের নীল নদের ক্রুজ ‘নাইল স্টোরি’-তে, সেখানেই পরের তিন দিন। আসোয়ান অল্প-বিস্তর পাহাড়ি শহর, পাহাড়ি বলতে হিমালয়ের বা এমনকি নীলগিরি বা পূর্ব-পশ্চিমঘাট নয়, নীচু মালভূমি এলাকার জমি  যেমন উঁচু-নীচু ধরণের হয়, তেমনই জমির উপর দিয়ে রাস্তা, পাথুরে জায়গা তো বটেই, তবে নদীর দু-পাশে আবাদী জমি-ও আছে। হোটেল ছেড়ে আমরা প্রথমেই নদী পার হলাম, এরপর বাসে আধঘন্টার পথ, লো ড্যাম পার হয়ে চলে এলাম হাই ড্যামের কাছে, লেক নাসের-এর সামনে। লেক নাসের পৃথিবীর বৃহত্তম হ্রদগুলির মধ্যে একটি। মিশর আর সুদানের সীমানার কাছেই এই সুবিশাল হ্রদ।  এখানে পরপর দুটি হ্রদ পার হয়ে নীল নদ তার যাত্রা অব্যাহত রেখেছে, দ্বিতীয়টি আরও দক্ষিণে লেক নুবিয়া, অপেক্ষাকৃত ছোটো। আসোয়ানের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প-ও চোখে পড়ল। ১৯৫২-র মিশরের গণ-অভ্যুত্থানের নায়ক এবং পরবর্তীতে মিশরের রাষ্ট্রপতি নাসের-এর নামে এই লেক। তিনি-ই এই লেক আর জলাধারের পরিকল্পনা করেন, যার ফলে মিশরে নীলনদের বন্যা-নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়, চাষ-আবাদের পরিমাণ এক ধাক্কায় কয়েকশো গুণ বেড়ে যায়, বিদ্যুতের চাহিদা মেটে আর জলের ব্যাপারে স্বনির্ভরতাও বাড়ে। আর সুয়েজ খালের সমস্যা চলাকালীন বৃটেন-ফ্রান্স মদতপুষ্ট ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের ব্যাপারেও নাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন আরবের অন্যান্য দেশগুলিকে একসূত্রে বাঁধতে। হাই ড্যাম-এ ঢোকার আগেই একটি পদ্মের আকারের স্থাপত্য, এটি শুনলাম নাসের-ক্রুশ্চেভ, তথা মিশর-রাশিয়ার সখ্যতার একটি চিহ্ন। সকালের রোদ্দুর মাখা উজ্জ্বল নাসের লেকের নীল রঙ সত্যি-ই চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়ার মতো! নীল আকাশের ছায়া পড়ে সেই নীল যেন আরও গাঢ় হয়েছে। অপূর্ব দৃশ্য! ড্যামের অন্যপাশে নীলনদ অবশ্য শীর্ণকায়। এখানে রাস্তার পাশে বেশ ক’টি দোকানপাট, দাম মোটামুটি সস্তা; লেকের পাশে কিছুটা সময় কাটানোর পর আমরা কিছু স্মারক কিনে নিলাম এখান থেকে। তারপর বাসে উঠে ফিলে মন্দিরের পথ ধরলাম।
     
    আসোয়ান লো ড্যাম 

     
    আসোয়ান হাই ড্যাম 

     
    লেক নাসেরের প্রবেশপথের আগে রুশ-ইজিপ্ট সখ্যতার পদ্মের স্থাপত্য 

     
    লেক নাসের 

     
    ফিলে মন্দির সেই ক্যাটারাক্ট-এর আর একটি দ্বীপে, যার নাম অ্যাজিলকিয়া দ্বীপ। এই মন্দিরটি আগে  ছিল ফিলে দ্বীপে, আসোয়ান হাই ড্যাম তৈরী হওয়ার পর জলস্তর বেড়ে গিয়ে মন্দিরটি প্রায় জলমগ্ন হয়ে যাওয়ায়, ইউনেসকোর সহযোগিতায় পুরো মন্দিরটিকে প্রায় পাঁচশো মিটার স্থানান্তরিত করে এনে প্রতিস্থাপিত করা হয় এই অ্যাজিলকিয়া দ্বীপে। ফিলে মন্দিরের প্রথম স্থাপত্যটি তৈরী করা হয় পঁচিশতম রাজবংশের রাজত্বকালে, ফারাও তাহারকার সময়ে। তখন এটি ছিলো দেবতা আমুন-এর মন্দির। পরে দেবী আইসিসের মন্দির প্রতিষ্ঠা হয় সম্ভবতঃ ফারাও নেকতানেবো-র সময়ে। সাড়ে পাঁচশো খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত অর্থাৎ মিশরের প্রাচীন দেবদেবীর অবলুপ্তি ঘটানোর আগে পর্যন্ত দেবী আইসিস-এর মন্দির হিসেবেই ফিলে মন্দির পরিচিত ছিল। এই মন্দিরের আরও একটি বিশেষ পরিচিতি ছিল পৌরাণিক মতে দেবতা ওসাইরিসের দেহাংশ (যা দ্বিতীয় পর্বে বলেছিলাম) জুড়ে মামিফিকেশন আর সমাহিত করার স্থান হিসেবে। আমরা বাস থেকে নেমে জেটিতে পৌঁছে আমাদের জন্যে নির্দিষ্ট ভটভটি নৌকোতে উঠে বসলাম, প্রায় কুড়ি মিনিট চলার পর নীলনদের বুকে দেখা দিল ফিলে টেম্পল বা মন্দির। দূর থেকে তার তোরণ দেখা দিল, তারপর মন্দিরের পুরো চেহারাটি। এপারে নেমে একটু এগোতেই মন্দিরের চত্বর, এখানে বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন ফারাও-এর তৈরী বেশ কয়েকটি মন্দির থাকলেও দেবী আইসিস-এর মন্দিরটি প্রধান। এই মন্দিরে শুধু আইসিস নন, পুজো করা হতো ওসাইরিস এবং তাঁদের পুত্র হোরাস-কেও। প্রবেশপথ দিয়ে ঢোকার পরেই ফারাও নেকতানেবো-র তৈরী বেশ কিছুটা ভেঙে পড়া প্রবেশপথ। কিছু থাম আর রিলিফ এখনো অবশিষ্ট রয়ে গেছে। এরপর দুপাশে একসারি করে থাম আর তার পাশে দেওয়াল, তাদের গায়ে বিভিন্ন ফারাও-এর আইসিসের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অফারিং (নৈবেদ্য আর কি) দেওয়ার রিলিফ। কিন্তু দেখতে এক মনে হলেও প্রতিটি থাম বা দেওয়ালের রিলিফ একে অপরের থেকে আলাদা।  তারপর আইসিস মন্দিরের প্রথম তোরণদ্বার। এর উচ্চতা প্রায় ১৮ মিটার আর ৪৫ মিটার চওড়া।  মাঝে প্রবেশদ্বার। এর একপাশের তোরণের রিলিফে ফারাও দ্বাদশ টলেমি (নিওস ডায়োনিসস) লাঠ্যৌষধ প্রয়োগ করছেন তাঁর শত্রুদের উপর, আর এক পাশে দাঁড়িয়ে আছেন আইসিস, নেফথিস, হোরাস, হাথোর। বাকি অংশে সেই নৈবেদ্য-র অবতারণা। এখানে বলি প্রাচীন মিশরে সাম্রাজ্যটি দু’ভাগে রাখা হতো, আপার ইজিপ্ট (দক্ষিণ মিশর – কায়রোর দক্ষিণ থেকে আজকের লেক নাসের পর্যন্ত) আর লোয়ার ইজিপ্ট (কায়রো থেকে উপরে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত), ফারাও-রা তাঁদের উত্তরাধিকারীদের অনেক সময় আপার ইজিপ্টের ফারাও বানিয়ে নিজেরা লোয়ার ইজিপ্ট শাসন করতেন, কারণ লোয়ার ইজিপ্টের বাণিজ্যিক আর শ্ত্রু আক্রমণের দিক থেকে গুরুত্ব বেশী ছিল। পূর্ববর্তী ফারাও-এর মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরাধিকারী হয়ে বসতেন দুই অংশের একচ্ছত্রাধিপতি। এই দুই ইজিপ্টের দু’রকম মুকুট ছিল। আর একাই ফারাও হলে তিনি পরতেন দুই মুকুট একত্রে। এই তোরণের ছবিতে ফারাও পরেছেন দুই মুকুট একত্রে, সুতরাং তিনি তখন ছিলেন সমগ্র ইজিপ্টের অধিপতি। প্রবেশদ্বারের সামনে দুটি সিংহ আর ঠিক উপরেই নৃত্যরত ফারাও নেকতানেবো-র রিলিফ, সামনে বসে আছেন দেব-দেবীরা - ওসাইরিস, আইসিস, হাথোর আর খানুম। আইসিসের মন্দিরের ভিতরে ঢুকলে বাঁদিকে বার্থ হাউজ (এখানে দেবী আইসিসের গর্ভে দেবতা হোরাসের জন্ম থেকে বড় হয়ে ওঠা, এমনকি সেথের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার বিভিন্ন রিলিফ রয়েছে) আর ডানদিকে পুরোহিতদের থাকার ঘর। এরপর দ্বিতীয় তোরণদ্বার, অগাস্টাস সোমরসের নৈবেদ্য দিচ্ছেন আইসিস আর হোরাস-কে। ডানদিকে নীচে একটি বড় চ্যাটালো পাথরে ফারাও তাহারকা-র এখানকার জেলে সম্প্রদায়ের উপর কর বসানোর আদেশ লিখিত রয়েছে, মনে করা হয় এটি এই দ্বীপের সর্বপ্রথম স্থাপত্য। অধিকাংশ ছবিতেই কার্তুশ-এ পরিচয় দেওয়া আছে। এই কার্তুশ জিনিসটা আসলে খানিক ক্যাপসুলের মতো বেলনাকৃতি দেখতে। হায়রোগ্লিফে শেন বা শেনু (শেন রিং) বলে একধরণের বৃত্তাকার অংশের মধ্যে কোনো ব্যক্তির নাম বা নথি লেখা হতো, এতে নাকি সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তির পরিচয় অমরত্ব পেত। এই শেন রিং-এর একটু লম্বাটে প্রকার হলো কার্তুশ,  লম্বাটে হয়ে পড়ার কারণ শুধুই লেখার দৈর্ঘ্যকে সামাল দেওয়া। নেপোলিয়নের মিশর অভিযানের সময় তাঁর সৈন্যরা বিভিন্ন রিলিফে বা প্যাপাইরাসে এই চিহ্নটি দেখে তার সাথে বন্দুকের কার্তুজ (কার্ট্রিজ) -এর মিল দেখে এই নামের উদ্ভাবন করেন।  ঐতিহাসিক মতে মিশরের সর্বশেষ হায়রোগ্লিফ লিপির নিদর্শন পাওয়া যায় এই ফিলে মন্দিরেই আর ইসলাম শাসন শুরু হওয়ার পর প্রাচীন মন্দিরগুলির মধ্যে সবশেষে বন্ধ হয় এই মন্দিরটি-ই। মূল মন্দিরের ভিতরে একটি হাইপোস্টাইল হল (যে বিরাট ঘরের ছাদ উঁচু কলাম বা থাম দিয়ে ধরে রাখা), এই হলটি পরবর্তীতে চার্চে পরিণত করা হয়েছিল জাস্টিনিয়নের রাজত্বকালে, দেওয়ালের পাথর কুঁদে বানানো ক্রস তার প্রমাণ বলে মনে করা হয়। সবশেষে গর্ভগৃহ।
     
    নীলনদের ফেরী থেকে ফিলে মন্দির 

     
    নেকতানেবোর তৈরী অংশ 

     
    মন্দিরের প্রথম তোরণ 

     
    মন্দিরের দ্বিতীয় তোরণ 

     
    মন্দিরের একটি রিলিফ 

     
    হাথোরের মন্দির 

     
    দ্য কিয়স্ক অব ট্রাজান - ফারাও-এর বিছানা 

    আইসিসের মন্দির থেকে বেরিয়ে বঁদিকে রয়েছে হাথোরের মন্দির, তিনি আনন্দ আর প্রেমের দেবতা, মন্দিরের রিলিফেও বাদকদের বাঁশী বাজানো ইত্যদি থেকে স্পষ্ট। এর ঠিক আগেই রয়েছে হোরাসের মন্দিরের বেদী, তবে মন্দিরটি এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আর একটু এগিয়ে শেষ প্রান্তে ‘দ্য কিয়স্ক অব ট্রাজান’, ফারাও-এর শয্যা বলেও পরিচিত; দুপাশে দরজা, মাঝে চারদিকে থাম আর দেওয়াল দিয়ে ঘেরা, সঙ্গে নীলনদের ফুরফুরে হাওয়া, ঘুমনোর আদর্শ জায়গা বটে! বাইরে থেকে এই অংশটি দেখতেও বেশ সুন্দর। ফিলে মন্দির থেকে ফেরার পথে জেটিতে আর বাইরে বাস দাঁড়ানোর জায়গা জুড়ে প্রচুর দোকান-পাট। আমরা এখান থেকে খান দুই আনুবিসের মূর্তি বেশ কম দামে পেলাম। এরপর আমাদের গন্তব্য নীলনদের ক্রুজ।
     
    নাইল স্টোরি ক্রুজ - উপর তলের প্রবেশপথের ডানদিকের চার নম্বর ঘরটি ছিল আমাদের

    আমাদের নাইল ক্রুজের নাম ‘নাইল স্টোরি’ – সুদৃশ্য ত্রিতল-বিশিষ্ট জাহাজের একেবারে উপর তলায় আমাদের ঘর, ঘরের জানলা-কাম-ব্যালকনি খুললেই সামনে নীলনদ। ক্রুজের নীচের তলায় অর্থাৎ গ্রাউণ্ড ফ্লোরে রিসেপশন, তার পিছনে একটি প্রশস্ত ড্যান্স-বার, এর নীচের তলায় অর্থাৎ বেসমেন্টে  খাবার-দাবারের এলাহি আয়োজন। ছাদে রয়েছে বসার পর্যাপ্ত টেবিল-চেয়ার, ছোটো একটি রুফ-টপ বার, সুইমিং পুল আর কিছু রোদ পোহানোর চেয়ার। আজ ক্রুজ ছাড়বে না, আমাদের বাকি দিন বিশ্রাম, চাইলে আসোয়ানের বাজার দোকান ঘুরে দেখা যায়। তবে আমরা বিশ্রাম-ই নিলাম, আর আমাদের বিশেষ দিনটি ক্রুজের ছাদে বসে পানীয়-সহ গল্প-গুজব করে, নীলনদের শোভা দেখে  কাটালাম বিকেল আর সন্ধ্যেটুকু, সন্ধ্যের পর আরও কিছু ক্রুজ এসে নোঙ্গর করলো আমাদের জাহাজের চারপাশে। এরপর রাতে নৈশভোজ সেরে নিলাম ক্রুজের বেসমেন্টের বিশালায়তনের ভোজনকক্ষে, কত যে দেশী-বিদেশী পদ তার ইয়ত্তা নেই, তবে অধিকাংশ-ই আগের পর্বে বলেছি। হ্যাঁ, আমাদের বিশ্রাম নেওয়ার আর একটি কারণ, আগামীকাল আমরা রওনা হবো রাত আড়াইটেয়, হ্যাঁ ঠিকই শুনলেন, রাত আড়াইটে - আমাদের গন্তব্য আবু সিম্বেল, পরের পর্বে।
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ভ্রমণ | ১০ মার্চ ২০২৪ | ৪৫৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kk | 2607:fb90:eab2:c595:f982:14a6:e0a8:2c0b | ১০ মার্চ ২০২৪ ২৩:২৩529227
  • বাঃ। রেড পিরামিডের ছবি দেখেছি আগে। কিন্তু বেন্ট পিরামিড, ব্ল্যাক পিরামিড এই প্রথম দেখলাম।
  • দীমু | 182.69.178.205 | ১০ মার্চ ২০২৪ ২৩:৪১529229
  • এই পর্বের জায়গাগুলোর কথা আগে জানতাম না। ছবিগুলো দেখে নীলনদ সত্যিই নীল মনে হচ্ছে। yes
  • সুদীপ্ত | ১১ মার্চ ২০২৪ ০৮:৩২529236
  • ধন্যবাদ kk! আমি নিজেও ব্ল্যাক পিরামিড আর উসারকাফের পিরামিডের কথা জানতাম না, হেব-সেদ উৎসব-ও জানতাম না, এই উৎসবের একটি আচার অনুসারে ফারাও-কে পিছনে কৃত্রিম লেজ লাগিয়ে দৌড়োতে হতো, এরকম কত কি গল্প শুনলাম! 
     
    ধন্যবাদ দীমু, নীলনদের রঙ সত্যি অবাক করার মতো! আকাশের ছায়া থাকলেও এরকম তীব্র নীল রঙ যেন অবিশ্বাস্য! একেবারেই নাম দিয়ে যায় চেনা! 
  • | ১১ মার্চ ২০২৪ ০৯:৪৮529240
  • 29327 এই সংখ্যাটা  ধারাবাহিক প্রথম সংখ্যার লিংক বাক্সে বসিয়ে দিলে লিংকড হচ্ছে না? 
     
    (এইবারে পড়ি) 
  • | ১১ মার্চ ২০২৪ ১০:১৩529241
  • লেক নাসেরের ছবিটা থেকে চোখ ফেরাতে পারছি না। 
    ইশ প্রশান্ত্এর মত একটা ট্যুর ম্যানেজারের চাকরি পেলে বেশ হোত। 
    লেখা ছবি দুইই একেবারে হাতে হাত মিলিয়ে চলেছে। 
  • সুদীপ্ত | ১১ মার্চ ২০২৪ ১০:৪১529242
  • ধন্যবাদ দমদি! আরে কি কান্ড আমি বসিয়েছিলাম 39237, অতএব ঘেঁটেছিল! আমরা ফেরার সময় সুশান্ত-কে নিয়ে এটাই আলোচনা করছিলাম, লা-জবাব চাকরি, এক কোভিড-এর মতো ব্যাপার স্যাপার না হলে, বাকি কিছু অন্য সমস্যাও আছে।
     
     আরও দুটো ছবি দিয়ে যাই তাহলে, নাসের লেকের কথা বললে যখন
    নীলনদ, ফিলে যাওয়ার সময় নৌকো থেকে
     
    নাসের লেক, কোনো কায়দা নেই, সরাসরি মোবাইলে তোলা
     
     
     
     
  • dc | 2401:4900:2341:2ef1:281d:d088:aa01:7fcb | ১১ মার্চ ২০২৪ ১০:৪৮529243
  • বেন্ট পিরামিড আর ব্ল্যাক পিরামিড দেখে মনে পড়লো, গ্রাহাম হ্যানকক নামে এক লেখকের বই বেরিয়েছিল, ফিঙ্গারপ্রিন্টস অফ দ্য গডস। তখন আমি সবে চাকরিতে ঢুকেছি, সেই সময়ে হ্যানককের থিওরি নিয়ে অনেক হৈচৈ হয়েছিল, বেশ কয়েক বছর চলেছিল। ওনার থিওরিগুলোর মধ্যে একটা ছিল, এই যে এতো বড়ো বড়ো গাজার পিরামিড, ওগুলো একবারে ওরকম পার্ফেক্ট রেশিও, ওরিয়েন্টেশান ইত্যাদি মেনে একবারে কিভাবে বানালো? তাতে আমারও মনে হয়েছিল, তাইতো, ওরকম বিশাল স্ট্রাকচার কোনরকম এক্সপেরিমেন্ট না করে কিভাবে বানানো সম্ভব? তার অনেক পরে অন্য কয়েকজন আর্কিওলজিস্টের লেখা পড়েছিলাম যে না, ওরকম পিরামিড ইজিপ্টে আরও আছে, সেগুলো বেঁকাত্যারা, অসমাপ্ত, ইত্যাদি। সুদীপ্তবাবুর ছবি দেখে সেসব কথা মনে পড়লো। 
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:bb16:1d10:a753:2b5e | ১১ মার্চ ২০২৪ ১১:০১529244
  • আমি তো ভাবছিলাম লেখা বন্ধ হয়ে গেল নাকি!! যাক, আবার চালু হয়েছে।
  • যোষিতা | ১১ মার্চ ২০২৪ ১১:০৭529245
  • লেখা সব পড়ছি কিন্তু।
    টুর অপারেটর সুশান্ত এর সঙ্গে কেমন করে যোগাযোগ করা যায়?
  • সুদীপ্ত | ১১ মার্চ ২০২৪ ১৯:৩২529260
  • ধন্যবাদ dc! মিশরের ইতিহাস একটু খুঁটিয়ে জানার আগে 'এত বড় পিরামিড কিভাবে বানাল' এরকম প্রশ্ন আসবেই,  অথচ এগুলো পুরোটাই একটা প্রসেসের মধ্যে দিয়ে গেছে, একদিনে হয়নি, সেটা খুব ভালো বোঝা গেল কাছ থেকে দেখে আর জেনে।
     
    ধন্যবাদ পলিটিশিয়ান,  নতুন চশমা ইত্যাদি নিয়ে সমস্যায়, তায় কাজকর্মের চাপ, সপ্তায় একটার বেশী লেখা যাচ্ছে না। তবে শেষ করব আশা করি।
     
    ধন্যবাদ যোষিতাদি, আমরা গিয়েছিলাম 'Kesari Tours' এর সঙ্গে, ওরা ট্যুর লীডারের নম্বর দিতে বারণ করে, আপনি সরাসরি ওদের ওয়েবসাইট দেখে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরাও তাই করেছিলাম।
  • hu | 72.241.81.21 | ১১ মার্চ ২০২৪ ২৩:১০529274
  • অসাধারণ যথারীতি! আমার দাশুর যাওয়া হয়নি। সাকারা থেকে পরিস্কার দিনে অনেকটাই দেখা যায়। আমরা দূর থেকেই দেখেছি অজস্র ছোটোবড় পিরামিড ছড়িয়ে আছে গিজা আর সাকারার মাঝখানে। সাকারায় যে ঘরটায় জশুরের মূর্তি আছে, যার ফুটো দিয়ে ধ্রুবতারা দেখা যায়, তার ছবি দেওয়ার লোভ সামলাতে পারছি না। মূর্তির যদি প্রাণ থাকে, গত সাড়ে তিনহাজার বছর ধরে এই লোকটা ধ্রুবতারার দিকে চেয়ে বসে আছে। ছবিটা দেওয়ালের সেই ফুটোয় ক্যামেরা রেখে তোলা।
     
  • সুদীপ্ত | ১২ মার্চ ২০২৪ ০৮:৩২529284
  • ধন্যবাদ hu! বাহ এই ছবিটা দারুণ উঠেছে তো! গর্তের আকারটাও ঠিক চোখের মতো ছিল, ছবিটা দেখে মনে পড়ল।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন