এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • সঙ্গীত-সংগ্রাহক দেবেন ভট্টাচার্য -- এক বিস্মৃত বাঙালি

    Dipankar Dasgupta লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০১ মে ২০২২ | ১০৯৫ বার পঠিত | রেটিং ৪.৪ (৫ জন)
  •  
    আফগানিস্তানে লোকসঙ্গীত রেকর্ড করছেন দেবেন।  

    মুসলিমদের আজান এসেছে বেদুইনদের সঙ্গীতের ভিতর দিয়ে। সেই ১৯৫০-৬০ এর দশকে জর্ডনের মরু অঞ্চলে বেদুইনদের রহস্যময় জগতের সঙ্গে পরিচিত হবার সূত্রে এবং বেদুইনদের গান-বাজনা শোনা ও রেকর্ড করার পর সঙ্গীত- সংগ্রাহক দেবেন ভট্টাচার্যের এমনটিই মনে হয়েছিল। ঈদের আগে রমজান মাসের এক সকালে এমন এক উপলব্ধির কথা জানতে পেরে বেশ চমকিত হলাম। বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাট্য পরিচালক ও অভিনেতা আলি জাকেরের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গের অবতারণা। জাকেরও বলেছিলেন, আজানের সুরের ভিত্তি আহির ভৈরবী। সেই সময় দেবেন ভট্টাচার্যের রেকর্ড করা বেদুইন সঙ্গীতের একটি অংশ পেলাম ইন্টারনেট আর্কাইভে। সেটি শুনলে ভ্রম হয় যেন আজানের ধ্বনি। সেই ক্লিপের লিঙ্ক থাকল এখানে।
    https://archive.org/.../disc1/02.02.+Ballad+-+Bedouin.mp3
    ১৯৪৯ সালে বছর ২০-২২ এর এক বাঙালি যুবক বারাণসী থেকে চলে গিয়েছিলেন বিলেতে। নিজের চেষ্টায় আর আগ্রহে খোদ বিবিসিতে চিঠি লিখে কথিকার আমন্ত্রণ পান। ধীরে ধীরে আরও অনুষ্ঠানের। ১৯৫৫ সালের গ্রীষ্মে বিবিসির-র এক কমিশনড প্রোগ্রামে ইউরোপ থেকে প্রায় লঝ্ঝড়ে একটি মিল্কভ্যানে যুগোস্লাভিয়া, গ্রিস, ইতালি, তুরস্ক, সিরিয়া, ইরাক, জর্ডন, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান হয়ে ১২ হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে ছ' মাস বাদে ভারতে আসেন বিভিন্ন দেশের গান রেকর্ড করতে করতে। সঙ্গী ছিলেন আর্কিটেকচারের ইংরেজ ছাত্র কলিন গ্লেনি আর ফরাসি সাংবাদিক হেনরি অ্যানভিল। স্থাপত্যশৈলীতে আগ্রহী গ্লেনির শর্ত ছিল, ভারতে পৌঁছলে তাঁকে লা করব্যুসিয়েরের পরিকল্পিত আধুনিক নগরী চন্ডিগড় দেখাতে হবে।  আর অ্যানভিল সফরে শামিল হয়েছিলেন অ্যাডভেঞ্চারের টানে। ইংরেজ বন্ধুর সম্পর্কে দেবেন মন্তব্য করেছিলেন, "উনি গাড়ি চালাতেন, আমি টেপ রেকর্ডার।" কারণ, পোর্টেবল রেকর্ডার তখন সবে বেরিয়েছে।  অধিকাংশ রেকর্ডিং হত ৩৫ কেজি ওজনের বিরাট রেকর্ডারে যা চালাতে হত গাড়ির ব্যাটারি দিয়ে। প্যারিস থেকে বিভিন্ন দেশ ঘুরে দেবেন যখন কলকাতায় এসে পৌঁছন তখন মধ্য কলকাতার ওয়েলিংটন স্কোয়ারে সেই সময়কার বিখ্যাত বাৎসরিক উৎসব বঙ্গ সংস্কৃতি সম্মেলন চলছে।  সেখানে তিনি নবনী দাস বাউল, তাঁর পুত্র পূর্ণ দাস, বাংলাদেশ থেকে আসা আব্বাসউদ্দীন ও অন্যান্য শিল্পীর নদীমাতৃক গান রেকর্ড করেছিলেন। দেশের আদি বাড়ি ফরিদপুরে হলেও দেবেনের জন্ম ১৯২১ সালে বারাণসীতে। বাবা ছিলেন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। আন্তর্জাতিক স্তরে প্রায় তিরিশটি দেশে কাজ করার পর দেবেন ছিলেন প্যারিসের স্থায়ী বাসিন্দা।

     
    ২০১৮ সালে প্রকাশিত সেই বই চারটি সিডি সহ 

    কী আশ্চর্য! যুবক দেবেনের বিলেতে যাবার অনুপ্রেরণা ইংরেজ কবি, ভারতীয় আধ্যাত্মিকতার প্রতি গভীর ভাবে অনুরক্ত লুইস থম্পসন। ২০ বছর বয়সে থম্পসন নিজের দেশের রুটিন জীবন ছেড়ে ফ্রান্সের গ্রামাঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বিভিন্ন উৎসব, অনুষ্ঠান দেখছেন পরম আগ্রহে। এমন সময় ১৯৩১ সালের এপ্রিলে প্রভেন্স শহরে উদয়শঙ্করের কনসার্ট দেখেন। তার পরেই থম্পসনের হৃদয়ে কী যে তোলপাড় হল, তিনি মন্ত্রচালিতের মতো পরের বছরেই চলে আসেন ভারতে। তখন ভারতে ব্রিটিশ রাজ। কিন্তু ব্রিটিশদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতায় আগ্রহ ছিল না। ১৩ বছর বয়স থেকে তাঁর অনুসন্ধিৎসা হিন্দুত্ব, বৌদ্ধ ও চৈনিক ঐতিহ্য সম্পর্কে। তাঁর উপলব্ধি ছিল, জীবন জিজ্ঞাসার স্পষ্ট উত্তর পাশ্চাত্যের কাছে নেই। কাজেই নিজের অন্তরাত্মা যখন বিবিধ প্রশ্নে সঙ্কটের মুখোমুখি তখন তাঁর স্বাভাবিক গন্তব্য হয়ে ওঠে ভারতবর্ষ যেখানে তিনি ১৮ বছর কাটানোর পর বারাণসীর প্রবল গ্রীষ্মে মাত্র ৪০ বছর বয়সে মারা যান। তবে গভীর আত্মোপলব্ধির নিরিখে তার মধ্যেই লিখে ফেলেছেন Mirror to the Light: Reflections on Consciousness and Experience. আবার সেই একই শহর থেকে দেবেন ১৯৫০ এর দশকে পাড়ি দিলেন লন্ডনে। নিজের জ্ঞান, পারদর্শিতা ও কর্মকুশলতার জোরে তিনি বিবিসির প্রোডিউসার হন। এপার ও ওপার বাংলার লোকসঙ্গীতের রেকর্ডিং শুরু করেছিলেন বেয়ার্ড টেপরেকর্ডারে যে সব যন্ত্র এখন বিজ্ঞানের মিউজিয়ামে সংরক্ষিত। তবে পল্লীবাংলার মাঠেঘাটে ঘুরে সেই কাজে এগনোর আগে তাঁর বিরাট সমস্যা ছিল অর্থসঙ্কট। তখন একটা টেপরেকর্ডারের দাম ৮০ পাউন্ড, ট্রান্সফর্মারের দাম ২০ পাউন্ড। কুড়িটি ব্ল্যাঙ্ক টেপ ২৫ পাউন্ড। তাছাড়া বম্বে যেতেই তো এক পিঠের জাহাজ ভাড়া ৬০ পাউন্ড। কিছুটা সুরাহা হল যখন বিবিসি রেডিওর আন্তর্জাতিক সম্প্রচারের বিভাগীয় প্রযোজক সানডে উইলসন তাঁকে পাঁচ মিনিটের ছটি কথিকার জন্যে মনোনীত করলেন। তাতে তিনি পেলেন ৩০ পাউন্ডের সামান্য কিছু বেশি। এর কয়েক সপ্তাহ পরে বিখ্যাত ইংরেজ কবি স্টিফেন স্পেন্ডার তাঁকে ভারতীয় কবিতার ওপরে একটি নিবন্ধ লিখতে বললেন তাঁর সদ্য শুরু করা সাহিত্য পত্রিকা 'এনকাউন্টারে'র জন্যে। পরবর্তী আরও দুটি প্রবন্ধের জন্যেও অগ্রিম অর্থ দিলেন। এরপর আর্গো রেকর্ডস দেবেনকে দিল ৫০ পাউন্ড এবং ভবিষ্যৎ রয়্যালটি বাবদ টেপরেকর্ডার, টেপ ইত্যাদির জন্যে প্রয়োজনীয় অর্থ। ভারত সফরে গিয়ে তিনি যা রসদ সংগ্রহ করেছিলেন তা দিয়ে বেশ কয়েকখানি রেকর্ড হয়ে যেতে পারে। এমনই একটি রেকর্ড ছিল, 'সংগস ফ্রম বম্বে।' এই রেকর্ড বেরোতেই তাঁর বহু কাঙ্খিত ইউরোপ থেকে বিভিন্ন দেশ ঘুরে ভারত পর্যন্ত যাবার এবং দেশে দেশে গান রেকর্ড করার প্রকল্পের পথ সুগম হয়। এরপর আর তাঁকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।


    রবাব হাতে বেদুইন।  ডানে কফি পেষাইয়ের সঙ্গে যে গান শুনেছিলেন দেবেন। 

    প্যারিস থেকে দশটি দেশের মধ্যে দিয়ে স্থানীয় সব সুর ও সঙ্গীত যন্ত্রস্থ করতে করতে ভারতে আসার যাত্রাপথের চমকপ্রদ অভিজ্ঞতার কথা দেবেন নিয়মিত লিখে রেখেছিলেন তাঁর ডায়েরিতে। চল্লিশ ঘন্টার রেকর্ডিং প্রকাশিত হয়েছিল বিভিন্ন অ্যালবামে। তবে অন্যান্য কাজের ভিড়ে সেই ডায়েরি বিস্মৃতির আড়ালে চাপা পড়েই ছিল।  অবশেষে ২০০১ সালে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী ঝর্ণা বসু ভট্টাচার্য দীর্ঘ ৬০ বছর বাদে সেই ডায়েরি আবার বের করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের সাবলাইম ফ্রিকোয়েন্সিসের ব্যবস্থাপনায় ওই ডায়েরি ও রেকর্ডিংয়ের সমৃদ্ধ সম্ভারের ভিত্তিতে ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয় ১৬০ পৃষ্ঠার এক কাব্যিক ভ্রমণকাহিনী -- "প্যারিস টু ক্যালকাটা: মেন অ্যান্ড মিউজিক অন দ্য ডেজার্ট রোড।" তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় চারটি অডিও সিডি।  তাতে ঊষর মরুভূমি র বুকে খল-নুড়িতে বেদুইনদের কফি বীন পেষাই করার তালে তালে সঙ্গীতের মূর্চ্ছনা থেকে শুরু করে বেদুইন লোকসঙ্গীত, মুসলিম দরবেশের রবাব বাদন ও কণ্ঠসঙ্গীত, সুলেমান ও তাঁর দলের গাওয়া প্রেমের গান যা সাধারণত ঘোড়ার পিঠে চড়ে কোথাও যেতে যেতে গাওয়া হত সবই রয়েছে।  আর আছে ইস্পাহানি সন্তুর বাদন, পারস্যের সেতারের সুর, হেরাটের প্রেমগীতি, দোস্ত মহম্মদের রণসঙ্গীত, অনামা শিল্পীর নাসিকা বীণা, আবার সিমলার লোকসঙ্গীত, জয়চাঁদ ভগত ও বাবুর গাওয়া ভক্তিরসে সিক্ত ভজন, মন্দিরের ঘন্টাধ্বনি ও ড্রাম বাদন বা বীরভূমের পথে কালীপদ দাসের মেঠোসুর সহ দেশ-বিদেশের আরও অনেক সুর আর শব্দ। বইটির ভূমিকা লিখেছেন ঝর্ণা নিজে এবং বিখ্যাত মার্কিন সঙ্গীত রসিক, বিশেষজ্ঞ ও পর্যটক রবার্ট মিলিস, যিনি ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে ২০১২-১৩ সালে ভারতে এসে সঙ্গীত-সংগ্রাহক ও সাউন্ড আর্টিস্টদের চোখ দিয়ে ৭৮ আর পি এম গ্রামোফোন ইন্ডাস্ট্রির বিবর্তনের ওপরে গবেষণা করেন। তিনি নিজেও দেবেনের কাছ থেকে গভীর অনুপ্রেরণা লাভ করেছিলেন। দেবেনের কাজের ওপরে আগেই একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন ব্রিটিশ আই সি এস অফিসার এবং শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক ইতিহাস রচয়িতা ডব্লিউ জি আর্চার যিনি বিল আর্চার নামে সমধিক পরিচিত। সেটিও এই বইয়ে রয়েছে।


    গোপীযন্ত্র হাতে এক বাউলের সঙ্গে বীরভূমের গ্রামে দেবেন 

    গাড়ির ব্যাটারি চালিত রিল-টু-রিল টেপ রেকর্ডার এবং একটি মাইক্রোফোনের সাহায্যে দেবেনের রেকর্ডিংয়ের কাজ শুরু হয় বসফরাসে পৌঁছনোর পর থেকে।  ওই সময়ের দিনলিপিতে তিনি লিখছেন, "এই সফরের সবচেয়ে উত্তেজনাকর দিক হল, মানুষের সঙ্গে পরিচয় গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অনিশ্চিত পরিস্থিতি।  কখন কার সঙ্গে কোথায় যে দেখা হয়ে যাবে আগে থেকে তার কিছুই আভাস নেই। কোন সন্ধ্যায় আরব মরুভূমির কোথাও একটা দেখা হয়ে যাচ্ছে বেদুইনদের সঙ্গে, আবার তারপরেই কোনদিন পেট্রোল পাম্পে বা পথের পাশের কোন পান্থশালায় কানে ভেসে আসছে একদল তীর্থযাত্রী বা কৃষকদের কণ্ঠের অচেনা সুর।" তাঁর রেকর্ড করা সঙ্গীতের মতোই দেবেনের লেখা দিনলিপির ছত্রে ছত্রে রয়েছে ভ্রমণ-পথের মানুষ ও অভিজ্ঞতার কাব্যিক বর্ণনা।  তাঁর ছবির মতো বিবরণে আমরা যেন শুনতে পাই ইরাকের কোথাও হাতের চাপে স্তূপীকৃত পেস্তার খোলা ভাঙার কর্কশ শব্দ কিংবা আফগানিস্তানের এবড়ো খেবড়ো রাস্তায় তাঁদের ভ্যানের ছুটে চলার আওয়াজ।  আম্মানে বেদুইনদের তাঁবুতে কফি বীন পেষাই করার অনুপুঙ্খ বিবরণ পড়তে পড়তে মনে হওয়া  স্বাভাবিক, বাতাসে যেন ভেসে আসছে সেই কফির নেশা ধরানো সৌরভ।  আবার এর পাশাপাশি বাংলা-বিহার সীমান্তে বরাকর নদীতে ব্যাঙের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙও তিনি বর্ণনা করেছেন দক্ষ শিল্পীর নিপুণতায়।

    বিভিন্ন দেশের সুর রেকর্ড করার সময় দেবেন বিশেষ ভাবে খেয়াল করেছেন যাতে সেই সব গান বা সুর যেন হয় একান্ত ভাবেই সেই দেশের নিজস্ব।  তাতে যেন কোন পাশ্চাত্য প্রভাব বা অনুকরণের ছায়া না থাকে।  সেই কারণেই তুরস্কে গিয়ে তিনি খেদের সঙ্গে লিখেছিলেন, "এরা সব নিজেদের পাশ্চাত্য সঙ্গীতের জ্ঞান জাহির করতেই ব্যস্ত।  সব জায়গায় সেই এক মোৎজার্ট, বিঠোফেন আর ওয়াগনারের প্রতিধ্বনি।  টার্কিশ ক্যাবারে ও জ্যাজও রয়েছে তার পাশাপাশি।  খুব খারাপ ও অবসন্ন লাগে দেখে যে এরা নিজেদের ঐতিহ্য ও নিজস্ব সম্পদকে ভালোও বাসে না বা তা নিয়ে নিজেদের কোন গর্ব নেই।"  আবার দামাস্কাসে পৌঁছে দেবেনের এক অন্যতর, গভীর উপলব্ধি।  তিনি লিখছেন, "মুসলিম দরবেশের কণ্ঠের গান আর রবাব শুনে আমার প্রথম অভিজ্ঞতা হল, জীবন ও ধর্মের থেকে সঙ্গীতের সুর কখনই বিচ্ছিন্ন হতে পারে না।"  আলেপ্পো, বাগদাদ, কাবুল সহ আফগানিস্তান ও ইরাকের বিভিন্ন শহর বলতেই যখন আমাদের চোখের সামনে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ধ্বংস, মৃত্যু আর হানাহানির চেহারা ভেসে ওঠে তখন দেবেনের সফরের বর্ণনা সেই সব শহরের অত্যন্ত সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।  সিরিয়ার পথে ভায়োলিন, ইরাকের কুর্দদের ব্যালাড বা আফগানিস্তানে লোকনৃত্যের সঙ্গে পরিবেশিত সঙ্গীতের রেকর্ডিং সমগ্র বিশ্বের দরবারে মহত্বর ব্যঞ্জনায় উদ্ভাসিত হয়েছে। তবে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল, মধ্যপ্রাচ্যে কেবল পুরুষ সঙ্গীত শিল্পীদেরই দেবেন রেকর্ড করতে পেরেছেন।  মহিলা শিল্পীরা প্রায়ই নজরের আড়ালে দ্রুত চলে যেতেন। এই ঘটনা থেকে তখনকার সামাজিক পরিস্থিতির কথাও বেশ বোঝা যায়।

    দেবেনের রেকর্ডিংয়ের বিচিত্র সম্ভারের কিছু নমুনা শুনলেই বোঝা যায়, জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি সারা বিশ্বের খ্যাত-অখ্যাত শহর, গ্রাম, পাহাড় বা মরুপ্রান্তরে কাটিয়েছেন।  পথে-ঘাটে, মন্দিরে-মসজিদে-গির্জায়, বাজারে যেখানেই স্থানীয় সুর দেবেনকে আকর্ষণ করেছে, তাই তিনি  বিশ্বের শ্রোতার জন্যে পরম নিষ্ঠায় তখনকার সীমিত প্রযুক্তির সাহায্যে নিজের যন্ত্রে রেকর্ড করে রেখেছেন। তাঁর ওই পরিশ্রম আর গভীর আগ্রহ ও কৌতূহলের জন্যেই আজ এতদিন পরেও আমরা ইয়েমেন কিংবা আফ্রিকার অ্যাটলাস পর্বতমালা বা তিউনিসিয়া কিংবা স্পেন থেকে এসে ইজরায়েলে জড়ো হওয়া ইহুদিদের প্রেম ও বিবাহ সঙ্গীত বা বাজার এলাকায় সেই জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত উচ্ছল সুর বা মেষ পালকদের লোকসঙ্গীত কিংবা প্রিয়জনের মৃত্যুতে পারিবারিক শোকগাথার হৃদয়স্পর্শী সুর নিজের কানে শোনার দুর্লভ সুযোগ পাচ্ছি।  বিশ্বের বৈচিত্র্যপূর্ণ সঙ্গীতের অপূর্ব ঐতিহ্যের হদিস প্রকৃতপক্ষে দেবেনই প্রথম দুনিয়ার মানুষকে দিয়েছিলেন।  তার আগে নানা দেশের লোকসঙ্গীতের সমৃদ্ধ ভান্ডারের অস্তিত্ব সম্পর্কে আন্তর্জাতিক স্তরে কার্যত কোন ধারণাই ছিল না। মার্কিন ক্লাসিক রক মিউজিশিয়ান ফ্রাঙ্ক জাপ্পা বিলেতের মর্যাদাপূর্ণ মাসিকপত্র 'দ্য গিটারিস্ট'কে ১৯৯৩ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তাঁর গিটারের বাজনা বা গানের অধিকাংশ অনুপ্রেরণা এসেছে দেবেনের রেকর্ড করা মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতীয় লোকসঙ্গীত শুনে।  তিনি জানিয়েছিলেন, সময় পেলেই তিনি 'মিউজিক অন দ্য ডেজার্ট রোড' অ্যালবামটির সব ধরণের জনগোষ্ঠীর গান শুনতেন।

    আউদ বাদ্যযন্ত্র হাতে অনামা শিল্পী  

    বেদুইনদের রহস্যময় জগৎ ছাড়া এই সফরে দেবেনকে যা প্রবল উৎসাহ জুগিয়েছিল তা হল ইজরায়েল।  সেটি তখন নবীন রাষ্ট্র যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা ইহুদিদের সামনে একটাই স্বপ্ন -- সব প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম জারি রাখা আর নিজস্ব বাসভূমির ভিত্তি দৃঢ় করা।  প্রাক পরিচয় ঘুচিয়ে অতীতের জীবনচর্যা থেকে সরে এসে সম্পূর্ণ এক নতুন পরিবেশে হিব্রু ভাষায় সড়গড় হয়ে ইজরায়েলি নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা। সেই দেশে পৌঁছে দেবেনের তাই প্রথমেই নজর কেড়েছিল মানুষের মুখের বৈচিত্র্য আর শব্দের নানাত্ব।  খর্বাকৃতি, নাশপাতি আকারের তারযন্ত্র আউদের সঙ্গে দীর্ঘ স্প্যানিশ ব্যালাড, আরবের বীণা, কেরোসিনের টিনের বাজনার তালে তালে হিব্রু ভাষায় গাওয়া ইয়েমেনি মানুষের গান, চাং, সন্তুর বা কামাঞ্চার মতো ঐতিহ্যপূর্ণ বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে বুখারার এক গায়কদলের কণ্ঠে পূর্ব ইউরোপের ইহুদি সিনাগগের মধুর ধর্মীয় সঙ্গীত অথবা মরক্কোর কোন গায়কের কণ্ঠে আরবি ভাষায় প্রেমের গান কিংবা আবার ভারতের দাক্ষিণাত্যে কোচি থেকে আসা ইহুদি জনগোষ্ঠীর কণ্ঠে আউদের তানে ধর্মীয় সঙ্গীত সবই দেবেনকে বিমোহিত করেছিল। আর সেগুলি তিনি পরম আগ্রহের সঙ্গে রেকর্ডও করেছিলেন। 

    দেবেনের বিবিধ রেকর্ডিংয়ের আরও এক ঝলক                                                                

    আর এভাবেই আন্তর্জাতিক স্তরে দেবেনের পরিচিতি গড়ে ওঠে এথনোমিউজিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে। সেই যুগে এক দল লোকসঙ্গীত শিল্পীকে তিনি সুইডেনে হাজির করেছিলেন।  জীবনের সেই অধ্যায়ে তাঁকে পেশার তাগিদে লন্ডন ও স্টকহোমে থাকতে হত। ১৯৬২ সালে তিনি কিছু ডকুমেন্টারি তৈরিতেও হাত দেন। বিবিসি থার্ড প্রোগ্রাম প্রোডিউসার রবার্ট লিটন তাঁকে আলাপ করিয়ে দেন ডেভিড অ্যাটেনবরোর সঙ্গে যিনি তখন বিবিসির এক এক্সিকিউটিভ। দেবেন তাঁকে বলেন, একজন দক্ষ ক্যামেরাম্যানকে নিয়ে তিনি ভারতে যাবার পরিকল্পনা করছেন। অ্যাটেনবরো তাঁকে এক হাজার পাউন্ড দেন। ভারত থেকে ফিরে আসার পর তাঁর সংগৃহীত রসদ সম্পাদনা করে বিবিসি বানায় দুটি ছবি, 'কথাকলি' আর 'স্টোরিটেলার্স ফ্রম রাজস্থান'। বিশ্বের দরবারে ভারতীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হল তার যোগ্য মহিমায়। এরপরে সুইডিশ টেলিভিশনও তাঁকে দিয়ে ফিল্ম করায়। রোমানিয়া, তিব্বত, চিন, বাংলাদেশ, নেপাল সহ বহু দেশে এজন্যে তাঁকে যেতে হয়েছে। নিজেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তাঁর প্যারিসের বাড়িতে ৬০০ ঘন্টার সঙ্গীতের রেকর্ডিং মজুদ আছে। বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৬ হাজার ছবিও তিনি সংগ্রহে রেখেছিলেন।

    ১৯৭১ সালে একবার দেবেন সস্ত্রীক কলকাতায় আসেন। সেটা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কাল। কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্তে শরণার্থীর ঢল নেমেছে।  নদীয়া, উত্তরবঙ্গ সহ বেশ কিছু জায়গায় গড়ে উঠেছে  বিরাট শরণার্থী শিবির। দেবেনের ইচ্ছে বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থী সাধারণ মানুষের কিছু গান রেকর্ড করবেন। দেবেনের স্ত্রীর সঙ্গে আগে থেকেই পরিচয় থাকায় তাঁরা কলকাতায় এসে যোগাযোগ করলেন গৌরী আয়ুবের সঙ্গে। তিনি তখন তাঁদের আলাপ করিয়ে দেন মৈত্রেয়ী দেবীর সঙ্গে।  সেই যোগাযোগের সূত্রে দেবেন নানা শরণার্থী শিবিরে ঘুরে মানুষের সঙ্গে ভাব জমাতে থাকেন।  আর এভাবেই জানতে পারেন শরণার্থীদের মধ্যেই রয়েছেন কত প্রতিভাসম্পন্ন গায়ক।  সেই সময় তিনি রেকর্ড করেন তোরাব আলী শাহ এবং চট্টগ্রাম থেকে আসা মহম্মদ শাহ বাঙালির গান।      

    যাঁকে নিয়ে আজও সমান ভাবে গর্ব করার কথা আমাদের দুই বাংলার মানুষেরই, ভাবতে অবাক লাগে এমন এক আশ্চর্য বাঙালিকে নিয়ে হাল আমলে কোন চর্চা নেই। দেবেনের বিপুল সঙ্গীত সম্ভারের ঐশ্বর্যের সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের পরিচয় ঘটানোর দায়িত্ব কি কারও নেই?

    তাঁর অসামান্য কাজের কিছু তালিকা --

    Partial filmography:
    * Waves of Joy: Anandalahari - Director
    * The Cosmic Dance of Shiva - Director
    * The Chanting Lama - Director
    * Silk and Strings: Taiwan - Director
    * Raga - Director
    * Painted Ballad of India - Director
    * Krishna in Spring - Director
    * Jesus and the Fisherman - Director
    * Faces of the Forest: The Santals of West Bengal - Director
    * Echoes from Tibet - Director
    * Buddha and the Rice-Planters - Director
    * Chinese Opera - Director (1983)
    * Land of Smiles: Thailand - Director (1973)
    * Bali: Isles of Temples - Director (1973)
    * Ecstatic Circle: Turkey - Director (1972)
    * Adaptable Kingdom: Music and Dance in Nepal - Director (1972)

    Partial discography:
    * Bedouins of the Middle East 1955-60 - ARC Music
    * Sounds of West Sahara: Mauritania - ARC Music
    * Maqams of Syria - ARC Music
    * River Songs of Bangladesh - ARC Music
    * Treasures in Sound - India UA International, 1967
    * The Living Tradition Music From Turkey - Argo Records, 1968
    * The Living Tradition Music From Iran - Argo, 1971
    * The Living Tradition - Songs of Krishna - Argo, 1971
    * The Living Tradition Music From Bangladesh - Argo, 1972
    * The Living Tradition - Songs and Dances From Macedonia - Argo, 1972
    * Various - Folkmusik Från Rumänien - Caprice Records 1972
    * 2 Ragas - Sveriges Radio
    * Musique folklorique du monde: Yougoslavie - Musidisc
    * Musique folklorique du monde: Iran - Musidisc
    * Various - Sacred Temple Music of Tibet - ARC Music 1998

    Books:
    * Songs of the Qawals of India: Islamic Lyrics of Love
    * Songs of the Bards of Bengal
    * Love Songs of Vidyapati

    https://archive.org/.../disc1/02.02.+Ballad+-+Bedouin.mp3

    তথ্যসূত্র
    https://archive.org/details/lp_music-from-the-middle-east_deben-bhattacharya

    https://archive.org/details/lp_music-from-turkey_deben-bhattacharya
    https://archive.org/details/lp_music-from-yugoslavia_deben-bhattacharya
    https://archive.org/details/cd_the-music-of-uzbekistan_deben-bhattacharya-fakhruddin-sadikov
    https://www.discogs.com/release/12867823-Deben-Bhattacharya-Paris-To-Calcutta-Men-And-Music-On-The-Desert-Road
    https://www.thetravellingarchive.org/tribute/deben-bhattacharya/
    https://www.last.fm/music/Deben+Bhattacharya/+wiki
    https://4columns.org/dayal-geeta/deben-bhattacharya
    https://theworldjukebox.wordpress.com/2011/01/20/ethnic-music-from-israel-field-recordings-by-deben-bhattacharya/
     
  • ব্লগ | ০১ মে ২০২২ | ১০৯৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • pi | 42.110.136.11 | ০১ মে ২০২২ ১৩:৪১507061
  • এতো ভীষণই ইন্টারেস্টিং!  আমাদেরই দুর্ভাগ্য যে কিছু জানিনা এঁকে নিয়ে, কোন কথাবার্তাও প্রায় নেই।
    অনেক ধন্যবাদ লেখাটির জন্য। এরকম বিস্নৃতপ্রায় কৃতী বাঙালিরা আরো সামনে আসুন ! 
  • ইন্দ্রাণী | ০১ মে ২০২২ ১৪:০১507062
  • অশেষ ধন্যবাদ এই লেখাটির জন্য।
    ইউ টিউবের লিঙ্কটি (লিভিং ট্র্যাডিশন সিরিজের) এখানে থাকঃ
  • Debasish Sengupta | ০১ মে ২০২২ ১৮:৩০507075
  • সংগীত সংগ্রাহক দেবেন ভট্টাচার্যর কথা জানতে পেরে ঋদ্ধ হলাম। নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছে যে দেবেনের মতো এক নিরলস  সংগীত গবেষকের কথা এতদিন জানতাম না। লেখককে আন্তরিক ধন্যবাদ তাঁর এই মূল্যবান প্রতিবেদনটির জন্য। 
     
  • সম্বিৎ | ০২ মে ২০২২ ০০:৪৩507088
  • এটা একটা অসামান্য লেখা।
  • b | 14.139.196.16 | ০২ মে ২০২২ ১০:০৪507102
  • ধন্যবাদ, অনেক ধন্যবাদ । 
  • শিবাংশু | ০২ মে ২০২২ ১০:৩৯507103
  • একটি মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ সন্দর্ভ। দীপঙ্করবাবুকে অনেক ধন্যবাদ। 
  • Sumantune | ০২ মে ২০২২ ২২:২৪507131
  • অসাধারণ তথ্য সম্পৃক্ত লেখা। লেখাটা রেখে দিলাম।
  • santosh banerjee | ০৩ মে ২০২২ ১৯:০৮507175
  • এতো বড়ো মাপের মানুষ , জন্ম সূত্রে বাঙালি হয়েও আন্তর্জাতিক, সারা পৃথিবীর সঙ্গীত আর স্থানীয় কলরব, শব্দ ইত্যাদি কে ধরে রাখলেন আমাদের জন্য! আর, আমরা ওনাকে জানলাম না। গুরু চনডালী'র কাছে অশেষ কৃতজ্ঞ ।
  • অদিতি দাশগুপ্ত | 45.113.103.8 | ০৩ মে ২০২২ ২১:৫৪507190
  • অনেক ধন্যবাদ এই অজানা রতন এর সন্ধান দেবার জন্য 
  • রঞ্জনা শিকদার | 2409:4060:2e0f:50ca:ca80:8b44:8dab:9a3b | ০৫ মে ২০২২ ১১:১২507254
  • অসাধারণ তথ্য সমৃদ্ধ এক অসাধারণ মানুষের সম্বন্ধে জানতে পারলাম। অনেক ধন্যবাদ।
  • Asok Kumar Kundu. | 2409:4060:2093:6361:5ba4:9b9:a8b8:2555 | ০৫ মে ২০২২ ১২:৩২507255
  • প্রতিক্রিয়া দেবার যোগ্যতা নেই। আছে, গানগুলো শুনে আনন্দে থাকার যোগ্যতা।
    ধন্যবাদান ।
  • Swapan Sengupta | ০৬ মে ২০২২ ১২:০৬507289
  • কত অজানারে .....
    ঋদ্ধ হলাম
    ধন্যবাদ 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে প্রতিক্রিয়া দিন