এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • সেকাল ও একালের দুই আমলার কথকতা 

    Dipankar Dasgupta লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ৩০ অক্টোবর ২০২৩ | ৬২০ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • একজন ১৮৬৮ থেকে ১৯০৪। অন্যজন ১৯৮০ থেকে ২০১৬। প্রথমজন পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ প্রভুদের অধীনে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট।  দ্বিতীয়জন স্বাধীনতার তিন দশক অতিক্রান্ত হওয়ার পরের পর্বের আই এ এস। দুজনেই প্রশাসনিক কাজে যুক্ত ছিলেন ৩৬ বছর ধরে। বিচক্ষণতা, দক্ষতা এবং দরদী ও অনুভূতিসম্পন্ন অন্তরের স্নিগ্ধতায় পেয়েছেন সাধারণ মানুষের উজাড় করা ভালোবাসা। কায়েমী স্বার্থের সংঘাত অগ্রাহ্য করে বিবাদ-বিসম্বাদ মেটানো থেকে শুরু করে দুর্নীতি রোধ, উন্নয়ন সহ বিবিধ কর্মকান্ডের জটিল দায়িত্বের প্রাত্যহিকতা সামলে দুজনেই সৃজনশীল সাহিত্যসেবী। দুজনেই কবিতা ও গদ্যে সমান স্বচ্ছন্দ। দুজনেই প্রকৃতিপ্রেমী বঙ্গসন্তান। প্রথমজন মাইকেল মধুসূদনের থেকে ২৩ বছরের এবং তাঁরই সমসাময়িক আর এক কবি ও হাকিম রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঠিক ২০ বছরের কনিষ্ঠ নবীনচন্দ্র সেন। 'রৈবতক', 'কুরুক্ষেত্র', 'পলাশীর যুদ্ধ', 'রঙ্গমতী' রচনা করে যিনি জনপ্রিয় এবং ইংরেজ আমলে বাঙালি কবিদের মধ্যে যিনি সর্বপ্রথম গদ্যে লেখেন আত্মজীবনী, 'আমার জীবন'। প্রথমজনের সঙ্গে দ্বিতীয়জনের ব্যবধান শতাধিক বছরের। দ্বিতীয়জন একালের সুপরিচিত লেখিকা অনিতা অগ্নিহোত্রী যাঁর প্রশাসনিক জীবনে "মানুষের আঙিনায় বসে দেখা রাষ্ট্রের রূপ" প্রকাশ পেয়েছে 'রোদ বাতাসের পথ' বইটিতে।  এই দুটি বই পাশাপাশি পড়লে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয়। স্থান-কালের ব্যবধান যাই থাকুক না কেন, দেশ পরাধীন বা স্বাধীন যাই হোক না কেন, দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে কিছু বিষয় তেমন বদলায়নি। 

     

    পিতার মৃত্যুর পর নবীনচন্দ্র সেন চট্টগ্রাম থেকে কলকাতায় এসেছেন। কলেজের পড়া শেষ করে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের চাকরি পেয়েছেন। কাজে যোগ দেওয়ার আগে প্রথামাফিক প্রেসিডেন্সি বিভাগের কমিশনার চ্যাপম্যানের সঙ্গে দেখা করতে গেছেন। চ্যাপম্যান বললেন, তুমি বোধ হয় জেনেছ যে তোমার প্রথম পোস্টিং যশোহরে, তুমি সেখানকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনরো সাহেবকে চেন? এই শুনেই তো নবীন আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন। কারণ, নবীন যখন চট্টগ্রামের স্কুলে নিচু ক্লাসের ছাত্র তখন মনরো ছিলেন  সেখানকার সহকারি ম্যাজিস্ট্রেট। সুপুরুষ সাহেবের এক পা খোঁড়া। কিন্তু তাঁর নামে গোটা জেলা থরহরিকম্প !  কারও সম্পর্কে একবার তাঁর বিরূপ ধারণা হলে আর রক্ষা নেই। চাকরির শুরুতে একেবারে তাঁরই হেফাজতে! চ্যাপম্যান তাঁকে অভয় দিয়ে মনরোকে একটা চিঠি লিখে দিলেন -- "প্রিয় মনরো! এইটি তোমার নূতন ডেপুটী বাবু নবীনচন্দ্র সেন। বড় অল্প বয়স, কিন্তু very intelligent."

    নবীনচন্দ্র মনরোর কাছে গিয়ে হাজির হলে তিনি বললেন, "আমি তোমাকে এক পক্ষের মধ্যে একজন পাকা কর্ম্মচারী করিয়া তুলিব।" পরদিন অফিসে গিয়ে ডেপুটিতে দীক্ষার শপথ পাঠ করে নবীনচন্দ্র প্রয়োজনীয় সইসাবুদ করলেন। মনরো নবীনচন্দ্রকে নিজের ঘরের পাশের ছোট কামরায় নিয়ে গিয়ে বললেন, এই তোমার এজলাস। তখনকার দিনে হাকিমের এজলাসে সাধারণত রেলিং দেওয়া থাকত। নবীনচন্দ্র দেখলেন, সে সব নেই। তাঁর ভয় হল, সদ্য কলেজ পাশ করা যুবককে সেই এজলাসে কে সমীহ করবে! মনরো তখন নিজের কামরায় নিয়ে গিয়ে নবীনচন্দ্রকে দেখালেন, সেখানেও রেলিং নেই। নবীনচন্দ্র বললেন, সে তো আপনার নামই যথেষ্ট, সেই ভয়েই কেউ উৎপাত করবে না। মনরো তখন একটু হেসে বললেন, তোমাকেও সেইরকম নাম করতে হবে। তা না করতে পারলে যশোহরের বদমায়েশদের শাসন করতে পারবে না। এটি তোমার প্রথম শিক্ষা। অর্থাৎ নিজের কাজের দক্ষতা ও ন্যায়নিষ্ঠ আচরণের মাধ্যমে অপরিচিত জনগোষ্ঠীর সম্ভ্রম আদায় করাই আদর্শ আমলার প্রাথমিক শিক্ষণীয়।  ক্রমে তিনি পরবর্তী ধাপের শিক্ষার অঙ্গ হিসেবে কালেক্টরির নথি, সার্কুলার, খাজনা ও ফৌজদারি মোকদ্দমার নথিপত্রের সঙ্গে নবীনচন্দ্রের পরিচয় করালেন।

    আপাত ভাবে ছোট ছোট বিষয়ের মধ্যে দিয়ে নবীন আমলাকে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার এই তালিম দেওয়ার গুরুত্ব আগেও যেমন ছিল, আজও তেমন আছে। তাই একালের তরুণী অনিতা যখন আমলাতন্ত্রে প্রবেশ করলেন তখন তাঁকে 'পুরুষের দ্বিগুণ সক্ষম' হিসেবে গড়েপিটে তৈরি করেছিলেন হাজারিবাগের ডি এম, পাটনার বাঙালি অনুপ মুখোপাধ্যায়। নিজেও অত্যন্ত সৎ ও সাহসী জেলাশাসক প্রোবেশন পিরিয়ডে অনিতাকে পাঠিয়েছিলেন শহর থেকে দূরে ঘন জঙ্গলে ঘেরা বড়কাগাঁও ব্লকে। যাবার আগে হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলেন দুদিকে লোহা বাঁধানো লাঠি। আত্মরক্ষার জন্যে সব সময় সঙ্গে রাখার হাতিয়ার।  আবার অন্য জেলায় কর্মরত আই এ এস স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়াটা যেহেতু সরকারি কাজের গোত্রে পড়ে না তাই তরুণী অফিসার অনিতাকে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করার আস্কারা না দিয়ে জেলাশাসক বলেছিলেন গণপরিবহনেই ভরসা করতে। চালকের দোষে সেই বাস যখন গাছে ধাক্কা মেরে উল্টে গেল, আহত হয়ে রক্তাক্ত হলেন অনিতা। পেট্রোল পাম্প থেকে ডি এম-কে ফোনে জানালে নিস্পৃহ কণ্ঠে তাঁর পরামর্শ, এফ আই আর করে পথ চলতি কোন গাড়ি ধরে অনিতা যেন হাজারিবাগে ফেরেন ডাক্তার দেখাতে। শেষে একটি ট্রাক থামিয়ে ফিরতে হল অনিতাকে।

    হিচ হাইক করে ট্রাক-যাত্রা যদি ক্লেশকর হয় তবে শতবর্ষ আগে নতুন সাবডিভিশনের দায়িত্ব বুঝে নিতে এক্কাগাড়ি সফরের কিছু বিবরণের দিকে আমরা এবার চোখ ফেরাই। অবিভক্ত বাংলার দক্ষিণ প্রান্তের যশোহর থেকে বিহারের পশ্চিমাঞ্চলে স্বাস্থ্যকর স্থান ভবুয়ায় নবীনচন্দ্রকে বদলি করেছেন সেক্রেটারি রিভার্স টমসন। মাগুরার সাবডিভিশনাল অফিসার অসুস্থ হওয়ায় চাকরির এগারো মাসের মাথাতেই অবশ্য নবীনচন্দ্রকে সেখানকার অস্থায়ী দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছিল। নদীতীরবর্তী মাগুরাও খুব সুন্দর  জায়গা। বছর তেইশের যুবক সেখানে যে দক্ষতায় কাজ করেছেন তাতে অমৃতবাজার পত্রিকায় ফলাও করে খবর বেরিয়েছে। এবারে অবশ্য এস ডি ও-র পূর্ণ দায়িত্বে। ভবুয়া যাওয়ার পথে ট্রেনে নামতে হয়েছে ঝমনিয়া স্টেশনে। নবীনচন্দ্রকে অভ্যর্থনা জানাতে পাল্কি ও নীলকুঠির টমটম নিয়ে পুলিশ হাজির। সন্ধ্যায় তাঁরা পৌঁছলেন আট মাইল দূরের দুর্গাবতী থানায়। সেখানে নৈশাহারে সেই প্রথম 'ডাল আউর রোটি'। পরদিন সকালে ভবুয়া থেকে অন্য পাল্কি ও বেহারা আসার কথা। কিন্তু সে সব তখনও এসে না পৌঁছনোয় থানার দারোগা  নবীনচন্দ্রের স্ত্রীর জন্যে অন্য একটি পাল্কি , দুই শিশু ভ্রাতার জন্যে দড়ি দিয়ে বোনা খটুলি এবং নবীনচন্দ্রের জন্যে একটি এক্কার ব্যবস্থা করে দিলেন। সেই এক্কাটি ছিল বিচিত্র দর্শন -- দুটি কাঠের চাকার ওপরে বসানো বাঁশের মাচা এবং তার ওপরে ঠাকুরের খাটের মতো চারটি বাঁশের খুঁটিতে টাঙানো লাল, হলুদ, নীল রঙের কাপড়ের টুকরোতে তৈরি এক চাঁদোয়া।  চাঁদোয়ার সজ্জায় কড়ির মালা। আবার ছোট্ট টাট্টু ঘোড়াটিও সেই ভাবে সাজানো। গলায় ঝুলছে ঘন্টা এবং গাড়ির চাকার সঙ্গে লাগানো রয়েছে  করতাল। বসার মাচাটির সামনের দিকটা উঁচু আর পিছনের ভাগ ক্রমশ নিচু। সেখানে বসার পরমুহূর্তে নেমে এসে নবীনচন্দ্র বললেন, তিনি ওভাবে যেতে পারবেন না। হেঁটেই যাবেন। দারোগা বললেন, "হুজুর! আপ বহুত জলদি আউর বড়ি মজেমে যায়েঙ্গে।" বাধ্য হয়ে আবার উঠতে হল। কিন্তু এক্কা চলতে শুরু করতেই একদিকে কাঁসার করতালের আওয়াজ, অন্যদিকে সওয়ারি নবীনচন্দ্র তিলমাত্র বসে থাকতে পারছেন না। কাত হয়ে পড়ে যাচ্ছেন বারবার। ওই ঝাঁকুনিতে ঘর্মাক্ত কলেবর সারথীও নবীনচন্দ্রের কোলে এসে পড়ছেন। ত্রাহি ত্রাহি অবস্থায় অবশেষে এক্কা থেকে নেমেই পড়লেন নবীনচন্দ্র। এর কিছু পরেই অবশ্য তিনটি পাল্কি নিয়ে হাজির হল লাল পাগড়িধারী পুলিশ।  সেই পাল্কিতে চেপে তাঁরা অবশেষে পৌঁছলেন ভবুয়ায়।

    বর্ষায় গ্রামের কাঁচা রাস্তার হাল হত শোচনীয়। ভবুয়ায় সেই রাস্তা পাকা করার জন্যে নবীনচন্দ্র রিপোর্ট পাঠালেন। সেই রিপোর্ট পেয়ে এক্জিকিউটিভ অফিসার বিদ্রূপ করে লিখলেন, ওই রাস্তা পাকা করলে 'প্লাম পুডিং'য়ে যেমন প্লাম ডুবে যায়, পাকা খোয়াও তেমন ডুবে যাবে। নবীনচন্দ্র সেই কটাক্ষের জবাব দিলেন সুদ সমেত আরও তীব্র ভাষায় এবং ইঞ্জিনিয়ার নিজে এসে সন্ধি করলেন। জানালেন, নবীনচন্দ্রের পূর্বতনেরা এমন অবস্থার কথা আদৌ জানাননি। নবীনচন্দ্রের পূর্বসূরি কে ছিল জানেন? কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই প্রথম স্নাতকের অন্যতম যদুনাথ বসু। বঙ্কিমচন্দ্রের সহপাঠী। আর দুজনেই ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। সে যাই হোক, রাস্তা দ্রুত পাকা হল। আমলারা কাজ করতে চাইলে কিন্তু  দীর্ঘ অচলাবস্থা কেটে এভাবেই ম্যাজিকের মতো রূপান্তর ঘটে। বহু যুগ বাদে সেই বিহারের গ্রামেই কাজ করতে গিয়ে অনিতা দেখলেন, মুন্ডা, ওঁরাও অধ্যুষিত আদিবাসী অঞ্চলে পানীয় জলের কষ্ট দূর করতে প্রায় ২৫ টি কুয়ো মঞ্জুর হয়েছে। কিন্তু কাজ আর এগোয় না। ওভারসিয়ার, অ্যাকাউনট্যান্ট আর ক্যাশিয়ারের পারস্পরিক ঠেলাঠেলি, কাজের তদারকি, রিপোর্ট পেশ এবং ঠিকাদারকে টাকা দেওয়ার চক্করে সব ঝুলে থাকে দেড় বছর গড়িয়ে গেলেও। আদিবাসী গাঁয়ের কুয়ো নিয়ে কারও হেলদোল নেই। তখন সব জড়তার ঝুঁটি ধরে নাড়িয়ে অনিতা 'দুয়ারে সরকার' উদ্যমের অভূতপূর্ব নজির গড়লেন। কর্মীদের নিয়ে হাজির হলেন প্রতিটি গ্রামের কুয়োতলায়। সেখানেই মাপজোক করে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়ে হাতে হাতে টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা হল। পরের মরসুমেই জলে ভরে উঠল সব কুয়ো।  তীব্র শীতের রাতে হরিয়ানা থেকে বিরাট ট্রাকে বোঝাই আলু বীজ ব্লকে এসেছে চাষিদের জন্যে। সেই সময় বিহার জুড়ে চলছে সরকারি কর্মীদের আচমকা ধর্মঘট। আর কেউ নেই, চৌকিদার প্রভুরামকে নিয়ে বেলচা দিয়ে নিজেই গুদামে আলু মজুদের কাজে নেমে পড়েছেন অনিতা। বিবাহের পরে ওড়িশা ক্যাডারে চলে যাবার পর কোরাপুট রায়গড়ার বিদ্যুৎ-বিহীন প্রত্যন্ত গ্রামে যখন সৌর বিদ্যুতের সূচনা করতে পারলেন তখন সেই "বিজন গ্রামের আলোক বিন্দু সমাহারের মতো মনোমুগ্ধকর" দৃশ্যে তিনি অভিভূত। 

    বিহার, ওড়িশা, চট্টগ্রাম, ফেনী, রানাঘাট ইত্যাদি জায়গা ঘুরে একদিন নবীনচন্দ্র আলিপুরে বদলি হয়ে এলেন। কিন্তু এসেই টের পেলেন, মহানগরীর মানুষ দলাদলিতে নিমজ্জিত। তিনি লিখছেন, "কলিকাতায় পঁহুছিয়া দেখিলাম, কেবল পল্লীগ্রাম নহে, মহানগরী কলিকাতাও দলাদলির ভীষণ রঙ্গভূমি"। অন্যদিকে ওড়িশা থেকে একালে  কলকাতায় বদলি হয়ে এসে নিজস্ব অভিজ্ঞতার কথা লিখছেন অনিতা, "সারাদিন অফিসে ইউনিয়ন এবং এজেন্টদের সঙ্গে ঠান্ডা লড়াইয়ের পর হা-ক্লান্ত বাড়ি ফিরতাম।" কলকাতার কর্মসংস্কৃতি এমনই যে এই শহরে বসে সরকারি কাজে সিদ্ধান্ত নেওয়া যে কঠিন ব্যাপার, সেই অভিজ্ঞতাও অনিতার হয়েছে। বৈদেশিক বাণিজ্য দপ্তরের কাজ সেরে তিনি যুক্ত হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও ইতালির যৌথ উদ্যোগের ফিল্ম ল্যাব 'রূপকলা কেন্দ্র' রূপায়ণের দায়িত্বে। সমাজ সংযোগ চলচ্চিত্র নির্মাণের উপযোগী পাঠ্যক্রম তৈরি থেকে শুরু করে উপযুক্ত গ্রন্থাগারের ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরিকাঠামো সবই গড়ে উঠেছিল তাঁর তদারকিতে। কিন্তু একদিন সেই প্রতিষ্ঠানও ছেড়ে আবার তাঁকে ফিরে যেতে হল ওড়িশা ক্যাডারে তাঁত ও কারুশিল্প উন্নয়নের দায়িত্বে। ওড়িশায় কৃষির পরেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর বয়নশিল্প। ১৯৯৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর সুতাকলগুলি নষ্ট হয়ে গেছে, রয়ে গেছে তাঁতশিল্প। নদীজলের সঙ্গে জীবনযাপনের ওতপ্রোত সম্পর্কের গভীরতাও এই সময় অনিতার অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধিকে সমৃদ্ধ করে। রসদ তৈরি হয় তাঁর 'মহানদী' উপন্যাসের। টানা ও পোড়েনের মতো ওড়িয়া ভাষায় টানি ও ভরণীর শব্দ সৃষ্টি করে উপন্যাসের প্রেক্ষাপট। আবার কাঁসা শিল্পের জন্যে বিখ্যাত গ্রাম কন্টিলোর কথাও লিখেছেন অনিতা। ওড়িশা থেকে মুম্বই ও দিল্লিতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। লেখায় উঠে এসেছে কত ঘটনার কথা, কতরকম বাধা ও বিচিত্র সমস্যা মোকাবিলার কাহিনী।



    অনিতা তখন ওড়িশায়। সরকারি দপ্তরের নামকে জনমুখী করে তোলার খেলায় সাদামাটা সেচ বিভাগ রাতারাতি রূপান্তরিত জলসম্পদ বিভাগে। তাঁকে দেওয়া হয়েছে বিভাগীয় অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্ব। দপ্তরের নাম বদলালেও জনকল্যাণের প্রয়াসে যে বিস্তর বাধা তা কাজ করতে গিয়েই টের পেলেন তিনি। বিশ্বব্যাঙ্কের বিশাল অঙ্কের অনুদান বাঁধ প্রকল্পে। সঙ্গে পুনর্বাসনের শর্ত। কর্মসূত্রেই প্রকৃতিপ্রেমী অনিতা নদী আর তার ওপর নির্ভরশীল মানুষজনকে দেখেন কাছ থেকে। তিনি লিখছেন, "অপরূপ সুন্দর রহস্যময় সব নদী, তাদের বাঁকে বাঁকে অচেনা গ্রাম-গঞ্জ, জঙ্গল পাহাড়ের চালচিত্রে তাদের ডাকের সাজ। কত রকম নাম তাদের মহানদী, ব্রাহ্মণী, বিরূপা, বৈতরণী -- বঙ্গোপসাগরে এসে পড়া বিপুলা নদীগুলিকে তো আগে থেকেই চিনতাম, এবার কোরাপুট, কালাহান্ডি গিয়ে দেখা হল গোদাবরীর উপনদী ইন্দ্রাবতীর সঙ্গে। বলাঙ্গির নওয়াপাড়ার কাছে গিয়ে পেলাম তেল জঙ্ক উদন্তী ইন্দ্র নদীদের দেখা। পূর্ব উপকূলে আছে সুবর্ণরেখা, বুঢ়াবলং, দয়া, দেবী, ভার্গবী, কুশভদ্রার মতো আধো চেনারা। দক্ষিণের বংশধারা ঋষিকুল্যা নদীরা এমনিতে শান্তশিষ্ট, কিন্তু হঠাৎ বন্যায় কূলপ্লাবী হয়ে যায়। ... নদী দেখলে চোখ জুড়োয়। কিন্তু বড় বাঁধের জলাধারের জন্য যখন মানুষের বাস ওঠে, তখন ব্যাপারটা পরিণত হয় মানবিক সংকটে।" পুনর্বাসনের সংজ্ঞা নিয়ে আগে মাথা ঘামানো হত না। তাই স্বাধীন দেশের প্রথম বড় বাঁধ হীরাকুঁদের জলভান্ডার ভরার আগে পুলিশের জুলুমে 'বারো আনা, দেড় টাকা ক্ষতিপূরণ' নিয়েও আদিবাসীদের রাতারাতি বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে। সময় বদলালেও আমলাতন্ত্রের মনোবৃত্তি বদলায় না। তাই গ্রামবাসীদের জন্যে যথার্থ ক্ষতিপূরণ, নষ্ট জীবিকার সুষ্ঠু সুরাহা সুনিশ্চিত করতে অনিতা যখন জোর সওয়াল করেন তখন শিল্প-বিনিয়োগের দায়িত্বে থাকা সহকর্মীদের কাছেই তাঁর পরিচয় হয় 'উন্নয়ন বিরোধী' হিসেবে। তিনি লিখছেন, "আমাদের কাজটার পোশাকি নাম পাবলিক সার্ভিস। কিন্তু সাধারণ মানুষের পক্ষ নেওয়াকে উন্নয়ন বিরোধিতা, এবং ক্ষেত্র বিশেষে দেশদ্রোহীতা বলেই ধরা হয়। এ কলঙ্ক আমার নামে প্রথম থেকেই আছে।" প্রশাসনের স্বরূপ আরও মারাত্মক ভাবে প্রকাশ পায় বিভাগীয় প্রধান সচিবের মন্তব্যে। তিনি আবার ইংরেজি সাহিত্যের কৃতী ছাত্রী। তিনি একদিন অনিতাকে ডেকে বললেন, "পুনর্বাসন নিয়ে এত পরিশ্রম করছ কেন? জানো, আমি যখন ডি এম তখন রঙ্গলী বাঁধ হচ্ছিল। তিন প্ল্যাটুন পুলিশ নিলাম, জল ছেড়ে দিলাম, গর্তের ইঁদুরের মতো সবক'টা জমি ছেড়ে পালাল।" শীর্ষ এক আমলার কী অমানবিক, নির্লজ্জ বাহাদুরি!    
                       
    তিন খন্ডে সম্পূর্ণ নবীনচন্দ্রের 'আমার জীবন' এবং অনিতার 'রোদ বাতাসের পথ' আত্মজীবনীমূলক  হয়েও বিষয়বৈচিত্র্যে অনন্য।  ওড়িশা, বিহার ও অবিভক্ত বঙ্গের বহু জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক বিবরণ নবীনচন্দ্রের বইটিতে অসাধারণ ভাবে প্রকাশ পেয়েছে। চট্টগ্রামের দলাদলির কথা যেভাবে নবীনচন্দ্র তুলে ধরেছেন তা অতুলনীয়। সেই সময়ের বিভিন্ন মনীষীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের হদিসও রয়েছে তাঁর লেখায়। আর একালের অনিতার রচনায় আমরা পাই নানা মানুষের বর্ণিল বা বিবর্ণ জীবনের আখ্যান। তাঁদের বেঁচে থাকার সংগ্রামের কাহিনী। লাল ফিতের ফাঁস কাটিয়ে এক প্রশাসকের আন্তরিক ভাবে কাজ করার, এলাকার উন্নয়ন ঘটানোর ও প্রান্তিক মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর অদম্য চেষ্টার কথা।
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ৩০ অক্টোবর ২০২৩ | ৬২০ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    ইঁদুর  - Anirban M
    আরও পড়ুন
    ** - sumana sengupta
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Somnath mukhopadhyay | ৩০ অক্টোবর ২০২৩ ২০:২২525354
  • দীপঙ্কর দাশগুপ্ত নিত্যনতুন বিষয় নিয়ে ভাবতে ও ভাবাতে চান। আলোচ্য লেখাটিও সেই ধারার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। নিবন্ধটিতে লেখক দুই ভিন্ন সময়ের দুই  দক্ষ সরকারি প্রশাসকের কার্যকারণ অভিজ্ঞতা বিষয়ে একটা তুলনামূলক আলোচনা করেছেন। লেখকের বক্তব্য,শতাধিক বছরের ব্যবধান হলেও নবীনচন্দ্র ও অনীতা অগ্নিহোত্রী দুজনেই প্রশাসক হিসেবে লোককল্যাণকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন ফলে প্রশাসকের আরোপিত গাম্ভীর্য সীমাকে ছাপিয়ে তাঁরা লোকহৃদয়ে স্থায়ী আসন লাভ করতে পেরেছেন। আসলে একজন সত্যিকারের প্রশাসককে সবসময়ই লোকহিতের কথা ভাবতে হয়। দ্বন্দ্বশুরু হয় তখনই যখন মধ্যস্থ সুযোগসন্ধানীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে সবকিছুকে নিজেদের স্বার্থে নিয়ন্ত্রণ করতে। কর্মসূত্রে বহু বিচিত্র মানুষের সঙ্গে তাঁদের ওঠাবসার সুযোগ হয়। একজন অনুভবী মানুষ সেই সব অভিজ্ঞতার কথা কলমবন্দী করলেই তা উৎকৃষ্ট সাহিত্যের মর্যাদা লাভ করে। সময় বদলালেও দেশ বদলায় না।ট্র্যাজেডি হয়তো এখানেই। দক্ষ প্রশাসকরা মাইলফলক হিসেবে বহমান সময়ের বুকে ব্যতিক্রমী হয়ে মানুষের স্মৃতিতে অম্লান থাকেন বহুকাল।
    দীপঙ্কর বাবুকে ধন্যবাদ একটা অন্যরকম পথে পাড়ি দেবার জন্য।
  • দীপংকর ভট্টাচার্য | 2405:201:8016:da14:21c5:548:312f:e126 | ৩১ অক্টোবর ২০২৩ ১১:১৮525373
  • হ্যাঁ শ্রীমতী অনিতা অগ্নিহোত্রীর কাজের কিছু জিনিষ এর চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করেছি। অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও দরদি মনোভাব সম্পন্ন একজন বিশিষ্ট প্রশাসকের কি প্রভাব পড়ে সমাজের উপর তার প্রত্যক্ষদর্শী।আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে
    ঐ ধরনের মানসিক দৃঢ়তা,ভাবাই যায় না। তবে এই লেখাতে সমগ্ৰ কর্ম জীবনের ছবি যা আরো বেশি ভালো লাগলো।
    নবীন সেনের ব্যাবহারিক প্রশাসনিক জীবনের কথা যেনে ও সমান ভাবে ভালো লাগলো।
    লেখক,যিনি রিভিউ করেছেন তিনি এই সব নিয়ে বেশ ভালো লেখেন। তাঁকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।  
  • Kishore Ghosal | ৩১ অক্টোবর ২০২৩ ১১:৫৯525377
  • নবীন চন্দ্র সেন ও অনিতা অগ্নিহোত্রীকে সাহিত্যিক হিসেবেই জানতাম, তাঁদের  এমন উজ্জ্বল কর্মজীবন সম্বন্ধে কোন ধারণাই ছিল না। 
     
    দীপঙ্কর দাশগুপ্তবাবুকে অনেক ধন্যবাদ - বইদুটি পড়ার কৌতূহল জাগিয়ে তোলার জন্যে। 
  • প্রণব কুমার চট্টপাধ্যায় | 2409:4088:821e:1c43::1f6:d8b0 | ২৩ নভেম্বর ২০২৩ ২০:৫৭526425
  • এমন একটি বিষয় নিয়ে অনুপুঙ্খ  বিস্লেষনে গিয়েছো যা প্রতিটি অনুভবী  পাঠককে ভাবাবে।ব্যুরোক্রেসী কতটা মানবিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে তার একটি অমূল্য দলিল এটি...
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভেবেচিন্তে মতামত দিন