ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • লেবু মোটেও পাতি নয় 

    Dipankar Dasgupta লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২৪ এপ্রিল ২০২২ | ৯২৭ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাসের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির খবরকেও ছাপিয়ে দেশজুড়ে এখন লোকজনের প্রাত্যহিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে লেবুর অস্বাভাবিক দাম। গতমাসেও যেখানে কুড়ি টাকায় অন্তত ছটি লেবু পাওয়া যেত, সেই লেবুই এখন অবিশ্বাস্য ভাবে বিকোচ্ছে আক্ষরিক অর্থে সোনার দামে। কোথাও একটি লেবুর দাম ১০ টাকা, কোথাও ১৫ টাকা, পুণে বা মুম্বইয়ের বিভিন্ন তল্লাটে তো ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত! এক কেজি লেবু আগে যেখানে মিলত বড়জোর ৪০-৭০ টাকায়, তাই লাফ দিয়ে উঠে এসেছে ৩৫০-৪০০ টাকায়।  নয়ডার বাজারে এক লাফে দাম বেড়ে হয়েছে প্রতি কেজি লেবু ৪২৮ টাকা। এপ্রিলের কাঠফাটা গরমে সারা দিনের শেষে ইফতারে সাধারণ মানুষ যে একটু ফল, ছোলা সেদ্ধ আর লেবুর সরবত খেয়ে শরীর জুড়োবেন তার উপায় নেই।  লেবু এখন রাতারাতি বিলাস সামগ্রী।  রাজকোটের এক বিয়েবাড়ির গায়ে-হলুদ অনুষ্ঠানে আত্মীয় বন্ধুরা পাত্রকে বড় বড় দু-বাক্স লেবু উপহার দিয়েছেন।  মুহূর্তে সেই ছবি দেশ জুড়ে ভাইরাল।  ট্যুইটার আর সোশ্যাল মিডিয়াতেও লেবুর দাম নিয়ে কার্টুন, মিম আর মস্করার ছড়াছড়ি।  কেউ বলছেন লেবু কিনতে বেরিয়ে মত বদলে তিনি মার্সিডিজ কিনে ফেলেছেন।  কেউ বা পরামর্শ দিচ্ছেন, বিটকয়েনে লগ্নি করার বদলে লেবুতে লগ্নি করলে ঢের বেশি মুনাফা।

    লেবুর আকাশছোঁয়া দাম দেখে আমূলের সেই বিজ্ঞাপন

    লেবুর পসরা সাজিয়ে বসা এক বিক্রেতার ছবি পোস্ট করে জনৈক রসিক মার্কিন ধনকুবের এলন মাস্কের তুলনা টেনে ক্যাপশন দিয়েছেন, "মিট মিস্টার লেমন মাস্ক।" অশুভ দৃষ্টি এড়াতে গাড়িতে ঝোলানো লেবু-লঙ্কা চুরি করতে দুষ্কৃতী চড়াও হচ্ছে, মজা করে ট্যুইটারে এমন ছবিও কেউ দিয়েছেন। তাই অনেকেরই মনে হচ্ছে, লেবু হল এখন 'নতুন সোনা'। গুরুত্বপূর্ণ সাময়িক প্রসঙ্গ বা জনপ্রিয় চর্চার বিষয় নিয়মিত উঠে আসে আমূল মাখনের বিজ্ঞাপনে। লেবুর আকাশছোঁয়া দামের প্রতি ইঙ্গিত করে বিজ্ঞাপনের আমূল কন্যার লেবু-হাতে ছবির ক্যাপশনে তাই আক্ষেপ, “Nimboora Haal Hai!” সত্যিই তো। এই গরমে দুপুরে ভাতের পাতে মসুর ডালের সঙ্গে যদি দু-ফোঁটা লেবুর রসের জন্যেও ভাবতে হয় তার চেয়ে খারাপ হাল আর কী-ই বা হতে পারে!

    একে তো গত ১২১ বছরে এত গরম নাকি মার্চ মাসে পড়েনি, তাই তৃষ্ণায় ছাতি ফাটা ধনী-দরিদ্র সব মানুষের সামান্য চাহিদা একটু লেবু জল। চাহিদা যখন আকাশচুম্বী লেবুর যোগান তখনই অন্যান্যবারের তুলনায় সবচেয়ে কম। সারা দেশে বছরে লেবুর গড়পরতা উৎপাদন ৩৭ লক্ষ টনেরও বেশি।  আমদানি বা রপ্তানি কোনটাই নেই। অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাত, ওড়িশা ও তামিলনাড়ু লেবু চাষের জন্যে বিখ্যাত। লেবু ফলনের মরসুমকে বলে বাহার।  জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে লেবুগাছে যখন ফুল আসে তখন তা লেবুচাষিদের কাছে পরিচিত আম্বে বাহার নামে।  সেই লেবু পাওয়া যায় এপ্রিলে।  মৃগ বাহারে লেবু বাগান ফুলে ভরে ওঠে জুন-জুলাই মাসে।  সেই লেবু মেলে অক্টোবরে। আর সেপ্টেম্বর- অক্টোবরে লেবু বাগিচা ফুলে ফুলে হেসে ওঠে হাসতা বাহারে। বাজারে সেই লেবুর আমদানি হয় মার্চের পর থেকে। কিন্তু লেবু গাছ যখন ফুলে ফুলে হেসে ওঠার কথা ঠিক সেই সময়েই গত সেপ্টেম্বর- অক্টোবরের বৃষ্টিতে লেবুর ফুল সব ঝরে গেছে। এবারে পর পর দুটি বাহারে লেবু চাষের ভয়ানক ক্ষতিতে বাজারে লেবুর যোগান নেই।  হিমঘরও খালি। যেটুকু লেবু রয়েছে তা বাজারে নিয়ে আসতে পরিবহনের খরচও অনেক বেড়েছে। তাই লেবু সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। লেবুর দাম কমানো এখন বুঝি কেবল ভগবানেরই হাতে!  সেই বিশ্বাস সম্বল করে বারাণসীতে তন্ত্র সাধনার জাগ্রত দেবী আদিশক্তির মন্দিরে তাই এগারোটি লেবু বলি দেওয়া হয়েছে। আবার লেবু ও জ্বালানি এমন দামি হয়ে ওঠায় ক্রেতা-মনস্তত্ব বুঝে বারাণসীরই একটি মোবাইলের দোকান ঢালাও প্রচার চালাচ্ছে, দশ হাজার টাকা বা তার বেশি দামের মোবাইল কিনলে এক থেকে আট লিটার পর্যন্ত পেট্রোল ফ্রি। সঙ্গে কয়েকটি লেবু। ব্যস! সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ল অভিনব এই বিপণন কৌশলের আকর্ষণীয় খবর। জি নিউজ মন্তব্য জুড়ল, মোবাইল কিনে বিনি পয়সায় নিজের গাড়ি চেপে বাড়ি ফেরা আর তারপরে সোফায় বসে মৌজ করে বিনি পয়সার লেবুতে এক গেলাস করে সরবতও! এই মাগ্গি গন্ডার বাজারে সে তো বিরাট প্রাপ্তি। 

    গাড়ির লেবু-লঙ্কা চুরি করতেও যখন ডাকাত পড়ে  

    লেবু চাষের উৎপত্তি কিন্তু অসম সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের কিছু জায়গায় আর চিন ও মায়ানমারে।  ক্রমে তার প্রচলন পাশ্চাত্যে গিয়ে পৌঁছয়। আজ হঠাৎ লেবু বিলাসিতার পর্যায়ে চলে যাওয়ায় স্মরণ করা দরকার, একেবারে গোড়ার দিকে রোমে লেবু ছিল ধনীদের কাছে বিরাট মর্যাদার প্রতীক। আম জনতার পক্ষে লেবুর নাগাল পাওয়া মোটেই সহজ ব্যাপার ছিল না। ঐতিহাসিক পম্পেই শহরের নানান মন্দির, প্রাসাদ, বাড়ি ও স্থাপত্যের দেওয়ালে খচিত ফ্রেস্কো পেইন্টিংয়ে লেবু চিত্রিত আভিজাত্যের চিহ্ন হিসেবেই। প্রাচীন গ্রিসে বিষক্রিয়ার প্রতিষেধক হিসেবে লেবুর ব্যবহার ছিল।  রোম নগরী যখন দাউ দাউ করে জ্বলছে তখন নিশ্চিন্তে বেহালা বাজানোয় যাঁর কুখ্যাতি সেই মাতৃ-হন্তারক, স্ত্রী-হন্তারক সম্রাট নীরো আতঙ্কে ভুগতেন, তাঁর খাবারে বিষ মেশানো হতে পারে।  সম্ভাব্য বিষক্রিয়া ঠেকাতে তাই তিনি রোজ প্রচুর লেবু খেতেন আর তাঁর প্রাসাদে ছিল লেবুর মজুদ ভান্ডার। অভিজাত সমাজে লেবুর প্রভাব এমনই ছিল যে ম্যানেট, সেজান, মাতিস বা পিকাসোর মতো বিখ্যাত ইউরোপীয় চিত্রকরদের তুলির ছোঁয়ায় লেবু হয়ে উঠেছে অবিনশ্বর।

    ফরাসি চিত্রকর পল সেজানের তুলির স্পর্শে চির পরিচিত লেবুর অক্ষয় মহিমা

    গুপ্তচরবৃত্তি, অবৈধ প্রণয় বা যুদ্ধের ক্ষেত্রেও লেবুর ভূমিকা চাঞ্চল্যকর।  মার্কিন গৃহযুদ্ধ, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কাগজের ওপরে লেখা গোপনীয় বার্তা লেবুর রসের ফোঁটা ফেলে অদৃশ্য করে দেওয়া হত।  বার্তার প্রাপক সেই কাগজে তাপ দিলে ইনভিজিবল ইঙ্কে সেই লেখা আবার ফুটে উঠত।  প্রবাদ  প্রতিম প্রেমিক ক্যাসানোভা ও তাঁর শতাধিক প্রণয়ীর সম্ভোগে জন্মনিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার ছিল লেবু।  নেপোলিয়ানের সঙ্গে যুদ্ধে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে স্কার্ভি। এই রোগ ঠেকাতে ব্রিটিশ রণতরী এইচ এম এস স্যালিসবেরির সার্জন জেমস লিন্ডের দাওয়াই মেনে নৌসেনাদের জন্যে বরাদ্দ হয়েছিল লেবু জল।  আর তাতেই কেল্লা ফতে। স্কার্ভি দূর হঠিয়ে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রবল পরাক্রমে উপকূল অবরোধের সম্মুখীন ফ্রান্সের নৌশক্তি পর্যুদস্ত।  পরাজিত নেপোলিয়ানের নির্বাসন হল সেন্ট হেলেনায়। আবার উনিশ শতকে ক্রিতদাস প্রথা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতায় ঘনিয়ে ওঠে আমেরিকান সিভিল ওয়ার। কিংবদন্তিতুল্য জেনেরাল টমাস 'স্টোনওয়াল' জ্যাকসন রণক্ষেত্রে যাবার আগে লেবু চুষতেন। সেই থেকে তাঁর পরিচিতি বিশ্বের সবচেয়ে খ্যাতিমান লেবু-প্রেমিক হিসেবে। এখনও ভার্জিনিয়ায় তাঁর সমাধিস্থলে পর্যটকেরা শ্রদ্ধাবশতঃ রেখে আসেন একটি লেবু।
     
    তবে সে তো অনেক পরের ব্যাপার। আধুনিক বিশ্বে নানা ব্র্যান্ডের কোল্ড ড্রিংক, লেমন জুস বা লেমনেডের জনপ্রিয়তা দেখে কল্পনা করা মুশকিল লেবুর সঙ্গে কত কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনা ও কাহিনী জড়িত রয়েছে। লেবু গাছের প্রথম বিবরণ মেলে দশম শতাব্দীতে কুস্তুস আল-রুমির আরবি ভাষায় লেখা চাষ-আবাদের একটি বইয়ে।  লেবু যে ভিটামিন সি-র বিরাট উৎস এবং শরীরের প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে লেবুর যে জুড়ি নেই সে কথা কোভিড মহামারীর সুবাদে সকলে তো আরও বেশি করে উপলব্ধি করেছেন। কোভিডের সূত্রেই আবার নতুন করে বহু চর্চিত স্প্যানিশ ফ্লুয়ের সময়ে বিশেষ করে ওই রোগ ঠেকাতে লেবুর উপকারিতা বিরাট ভাবে প্রচারিত হয়। তবে তার অনেক আগে দ্বাদশ শতকের শেষে জেরুজালেম-বিজয়ী মিশর ও সিরিয়ার সুলতান সালাদিনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ইব্ন জামি লেবুর অসামান্য গুণের কথা প্রথম আলোচনা করেন। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলিতে তখন লেবু মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পড়ে। মিশরের বিখ্যাত কবি ও পর্যটক নাসির-ই-খুসরোর লেখা থেকে জানা যায়, মধ্যযুগে কায়রো শহরে তো বটেই এবং তার পাশাপাশি ১৪০০ সালের মধ্যে স্পেন, পর্তুগাল সহ ভূমধ্যসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলের দেশগুলিতে জনপ্রিয় পানীয় ছিল 'কাশকব' যা তৈরি হত একটু গেঁজিয়ে ওঠা বার্লি, পুদিনা, গোলমরিচ ও লেবুপাতার মিশ্রনে। আর যখন থেকে লেবু পাওয়া গেল তখন কায়রোর ব্যবসায়ীরা লেবুর রস, জল আর চিনি দিয়ে সরবত বানিয়ে তা 'কাতারমিজাত' নাম দিয়ে বোতলে পুরে বিক্রি করতে শুরু করল দেশে-বিদেশে। ১৪৯৩ সালে কলম্বাস তাঁর দ্বিতীয় অভিযানে লেবু নিয়ে গিয়েছিলেন হেইতিতে।

    প্রাণ জুড়োনো লেমনেড

    ইউরোপে লেমনেডের প্রচলন হয় অটোমান সাম্রাজ্যের মাধ্যমে।  ১৬৩০ সালে প্যারিসে লেমনেডের আত্মপ্রকাশ।  পিঠে স্ট্র্যাপ বেঁধে কিছু বিক্রেতা রাস্তার মোড়ে ও জনবহুল জায়গায় স্বচ্ছ জলে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে নতুন ওই সরবত বিক্রি শুরু করতে অল্প দিনেই তা সকলের মধ্যে দুর্দান্ত চাহিদা জাগিয়ে তোলে।  ১৬৭৬ সালের মধ্যে লেমনেড প্যারিসে হয়ে ওঠে এক ফ্যাশনেবল পানীয়।  ইউরোপ জুড়ে লেমনেড তখন এমন সাড়া ফেলেছে যে রোম ও প্যারিসের মধ্যে চলছে বিশ্বের লেমনেড রাজধানীর তকমা পাওয়ার প্রতিযোগিতা। লেমনেড পানের হিড়িকে প্লেগের সংক্রমণ অনেকাংশে ঠেকানোও সম্ভব হয়েছিল প্যারিসের পক্ষে। লেমনেড নিয়ে উন্মাদনা ব্রিটেনে অন্য মাত্রা পেল যখন বিখ্যাত রসায়নবিদ ও দার্শনিক জোসেফ প্রিস্টলি সোডাওয়াটার তৈরির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও পদ্ধতি উদ্ভাবন করলেন। আবার তার কিছুদিনের মধ্যে জার্মান-সুইস ঘড়ি নির্মাতা ও শখের বিজ্ঞানী যোহান জেকব শোয়েপস কম্প্রেশন  পাম্পের সাহায্যে বাণিজ্যিক ভাবে আরও সহজে সোডাওয়াটার উৎপাদনের পন্থা বের করলেন।  ফলে লেবুর সরবত বানাবার প্রচলিত প্রথা অচল হয়ে পড়ল ১৮৩০ সাল নাগাদ।  কারণ তখন যে লেমনেডের বোতলের ছিপি খুললেই বেশ এক ঝাঁঝালো অনুভূতি!

    গ্রীষ্মের ছুটিতে আমেরিকার বিভিন্ন শহরে গজিয়ে উঠেছিল এমনই সব লেমনেড স্ট্যান্ড।  কৈশোরেই মার্কিন স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে উদ্যোগী পুঁজিপতি হয়ে ওঠার ভাবনা জাগিয়ে দেওয়া।  ফ্লোরিডা স্টেট আর্কাইভসের সৌজন্যে। 

    আমেরিকায় লেমনেডের প্রাথমিক খরিদ্দার ছিল কিন্তু মূলত ইউরোপীয় অভিবাসীরা। উনিশ শতকের মাঝামাঝি ১৮৬০ সাল নাগাদ নিউ ইয়র্কের পথেঘাটে হকাররা নোংরা গামলার মধ্যেই কাটা লেবুর রস জলে মিশিয়ে তার মধ্যে গুলে দিত কিছুটা ঝোলা গুড়।  বিভিন্ন দেশ থেকে আসা জাহাজ থেকে নিউ ইয়র্ক উপকূলে নেমে ম্যানহাটানের রাস্তায় হাজির হতেই পিপাসার্ত অভিবাসীদের মধ্যে ওই সস্তার লেমনেড বিক্রি করার চল ছিল। সেটা চলেছিল মোটামুটি ১৯২১ সাল অবধি। এর পাশাপাশি মদ্যপান বিরোধী মার্কিন নারীদের বিখ্যাত সংগ্রাম টেম্পারেন্স মুভমেন্টের সঙ্গেও জড়িয়ে গেল লেমনেডের বৃত্তান্ত। স্লোগান উঠল, "গুডবাই টু লিকার, হিয়ার'স টু লেমনেড"। খোদ হোয়াইট হাউজে সমস্ত রাষ্ট্রীয় ভোজসভা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে মদ পরিবেশনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হল।  এই ব্যবস্থা চলেছিল ১৮৭৭ সাল থেকে ১৮৮১ সাল অবধি প্রেসিডেন্ট রাদারফোর্ড হেসের আমলে। তা নিয়ে বিরূপ সমালোচনা কম হয়নি। ফার্স্ট লেডি লুসি ওয়েব নিজে ইসাবেলা বীটনের ক্লাসিক "দ্য বুক অব হাউজহোল্ড ম্যানেজমেন্ট" থেকে লেমনেড রেসিপি নির্বাচন করেছিলেন।  অতিথিদের অ্যালকোহলের বদলে সেই লেমনেড দেওয়ার রেওয়াজ চালু হল আর জনান্তিকে ফার্স্ট লেডির নাম হয়ে গেল 'লেমনেড লুসি'। এ তো গেল সাদা বাড়ির রাজকীয় কিস্যা। ১৮৭৯ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস ছোট্ট একটা খবর ছাপল।  শহরের একটি এলাকায় জনৈক দোকানদার তাঁর দোকানের বাইরে টেবিল পেতে পথচারীদের লেবুর সরবত বিক্রি করছেন।  তার এক বছরের মধ্যে গোটা নিউ ইয়র্ক শহরের প্রায় সর্বত্র গ্রীষ্মকালে লেমনেড স্ট্যান্ড গজিয়ে উঠল।  রেস্তোঁরা বা বারে যে লেমনেডের দাম তখন ১৫ সেন্ট, পথেঘাটের লেমনেড স্ট্যান্ডে সেই একই জিনিস পাওয়া যেতে লাগল ৫ সেন্টে। তবে তারও আগে ১৮৭৩ থেকে ১৮৭৬ সালের মধ্যে ১১ বছরের বালক এডওয়ার্ড বক ব্রুকলিন এলাকায় ঘোড়ার গাড়ির সওয়ারিদের জন্যে এক পেনির বিনিময়ে বরফ জল বিক্রি করতে শুরু করেছিল।  দেখাদেখি অন্য ছেলেরাও বকের ব্যবসায় থাবা বসালে বক তিন সেন্টে এক গেলাস লেমনেড বেচতে আরম্ভ করল। পরবর্তী কালে সেই বালকই হন 'লেডিজ হোম জার্নালে'র জনপ্রিয় সম্পাদক। নিজের স্মৃতিকথায় ছোটবেলায় লেমনেড বেচে কিঞ্চিৎ লাভ করার কাহিনী শোনান তিনি।  বকের আলেখ্য বহু মার্কিন অভিভাবককে নিজের সন্তানের মধ্যে ব্যবসা বুদ্ধি জাগিয়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করেছিল। কাজেই কার্যত মার্কিন উদ্যোগ আর ঝুঁকি নেবার সাহসের প্রতীক হয়ে দাঁড়াল লেমনেড।  ওয়ারেন বাফেটের মতো ব্যবসায়ী তো নিজেই বলেছেন, তাঁর ব্যবসায়িক শিক্ষার হাতেখড়িও লেমনেড স্ট্যান্ডের মাধ্যমেই।  স্কুলে পড়ার সময় গরমের ছুটিতে তিনি বন্ধুর বাড়ির সামনে লেমনেড স্ট্যান্ড বসিয়েছিলেন। কারণ, সেখান দিয়ে লোকজনের যাতায়াত ছিল বেশি।  


    মার্কিন সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ পিঙ্ক লেমনেড।  ভ্রাম্যমান সার্কাসের জনপ্রিয়তাই যার উৎস।        

    লেবুজলে চিনি মেশানো সরবত যখন আমেরিকা জুড়ে সকলের প্রিয় হয়ে উঠেছে তখন হঠাতই ঘটনাচক্রে উল্কার মতো আবির্ভাব হল হালকা গোলাপি রঙের পিঙ্ক লেমনেড। তার সঙ্গে আবার জড়িয়ে রয়েছে ভ্রাম্যমান সার্কাসের নাটকীয় ভূমিকা।  উনিশ শতকের মধ্যে বরফের ব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠতে শুরু করেছে।  প্রবল গরমে গলা ভেজাতে আর শীতল আরামে আয়াস করতে সকলেরই তখন চাহিদা সরবতের গেলাসে কয়েক টুকরো বরফ।  আর ওই সময়েই সার্কাসের আকর্ষণও ক্রমে বাড়ছে।  মাইলের পর মাইল ঠেঙিয়ে কাতারে কাতারে লোকজন হাজির হচ্ছে দুঃসাহসিক ট্রাপিজের খেলা, জোকারের মজার মজার হাবভাব আর হরেক উত্তেজনার আঁচ পোহাতে।  কাজেই গলা শুকিয়ে গেলে তো তেমনই এক মানানসই জবরদস্ত পানীয় চাই! তাই সার্কাসের তাঁবুর আশপাশে রমরমিয়ে শুরু হল লেমনেডের ব্যবসা। এক গেলাস লেমনেডের জন্যে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো উদগ্রীব জনতার তর আর সয় না। এমন সময় ১৮৭৯ সালে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার পত্রিকা 'হুইলিং রেজিস্টারে' প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রথম নজরে এল পিঙ্ক লেমনেডের কথা। মুদ্রিত তথ্যের আগে ও পরে অবশ্য বহু বছর ধরে পিঙ্ক লেমনেড নিয়ে অজস্র গালগল্প আর কৌতূককর কাহিনী মুখে মুখে ছড়িয়েছে। তার মধ্যে দুটি কাহিনী ঐতিহাসিক সমর্থন পেয়েছে। চিরাচরিত সাদা লেমনেড ছু মন্তরে রাতারাতি গোলাপি হল কী করে ১৯১২ সালের সেই ঘটনার কথাই প্রথমে জেনে নেওয়া যাক জোশ চেটউইন্ডের লেখা "হাউ দ্য হটডগ গট ইটস বান: অ্যাক্সিডেন্টাল ডিসকভারিজ অ্যান্ড আনএক্সপেক্টেড ইনস্পিরেশনস দ্যাট শেপ হোয়াট উই ইট অ্যান্ড ড্রিংক' নামের দারুণ একখানি কেতাব থেকে। ঘটনা আর কিছুই নয়।  যথারীতি সার্কাসের তাঁবুর বাইরে লেমনেড স্ট্যান্ড রয়েছে। সেখানে শিকাগো থেকে বাল্যবয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে সার্কাসে যোগ দেওয়া হেনরি ই অ্যালটের হাত থেকে সরবতের গামলায় পড়ে  গেল কিছু লাল রঙের দারুচিনির ক্যান্ডি।  মুহূর্তে লেমনেড হয়ে গেল পিঙ্ক। পরিস্থিতিতে এতটুকু হতচকিত না হয়ে অ্যালট উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে চেঁচিয়ে প্রচার শুরু করলেন, নতুন স্ট্রবেরি লেমনেড! ব্যস! ব্যবসা পুরো হিট! উদ্বেল জনতা তখন এক গেলাস পিঙ্ক লেমনেডের জন্যে পাগল! আর একটি কাহিনী বেশ উদ্ভট।  শুনলে গা গুলিয়ে উঠতেই পারে।  সেই ঘটনার কথা লিখেছেন হার্ভে ডব্লিউ রুটস ১৯২১ সালে প্রকাশিত 'দ্য ওয়েজ অব দ্য সার্কাস: বিয়িং দ্য মেমোরিজ অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার্স অব জর্জ কঙ্কলিন টেমার অব লায়নস' শীর্ষক গ্রন্থে। বইটিতে কাহিনীর নায়ক সিংহের সঙ্গে খেলা দেখিয়ে বিখ্যাত জর্জ। তবে কথাপ্রসঙ্গে জর্জ শুনিয়েছেন তাঁর ভাই পিটের গল্প। ১৮৫৭ সালের কথা। এক জায়গায় সার্কাসের দর্শকদের প্রবল ভিড় লেমনেড স্ট্যান্ড ঘিরে।  এমন সময় গামলায় সরবতের জলে টান পড়ল।  তাড়াতাড়ি জল আনতে ছুটে পিটের চোখে পড়ল একটি ভর্তি গামলা।  সে তো আর  জানেনা, সার্কাসেরই এক মহিলা খেলোয়াড় তাতে তার ব্যবহৃত গোলাপি প্যান্টটি কেচেছে! ওই জলেই লেবুর রস, চিনি আর বরফ মিশিয়ে 'আরও উন্নত মানের' যে গোলাপি লেমনেড বিক্রির ঝড় উঠল তা ছিল এক কথায় বিস্ময়কর। তারপর থেকে প্রথম সারির কোন সার্কাস কোম্পানি পিঙ্ক লেমনেডের স্টল ছাড়া কোথাও তাঁবু খাটানোর কথা ভাবতেও পারত না।

    মার্কিন সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত লেমনেডের প্রসঙ্গ উঠলে বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত প্রবচনে পরিণত এক গভীর দার্শনিক উক্তির কথা তো বলতেই হয়। কথায় কথায় আমরা অহরহ বলে থাকি, 'ইফ লাইফ গিভস ইউ লেমন, মেক লেমনেড অব ইট।' এর আসল প্রেক্ষাপট জানলে আশ্চর্য হতে হয়।  মার্কিন কমেডিয়ান ও লেখক মার্শাল পিঙ্কনি ওয়াইল্ডার ছিলেন কুব্জ-বিশিষ্ট বামনবীর যাঁর প্রসঙ্গে মনে পড়ে যায় হাঞ্চব্যাক অব নোতরদামের কথা। উনিশ শতকের আমেরিকায় ওয়াইল্ডারের সমগোত্রীয় মানুষদের একমাত্র ঠাঁই হত সার্কাসের জোকার হিসেবে।  কিন্তু নিজের যাবতীয় শারীরিক বিকৃতি ও প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বিশিষ্ট মার্কিন রসস্রষ্টা। নিজেকে বা তাঁর সমগোত্রীয়দের সমাজের চোখে বিকৃত বা হেলাফেলা করার মতো দুর্বল বলে দাগিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে ছিল তাঁর সংগ্রাম। জীবনের সব বাধা ঠেলে আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও সৃজনশীল হয়ে ওঠার প্রয়াসে তাঁর নিজস্ব উপলব্ধি ছিল, "ফেট হ্যান্ডেড মি আ লেমন বাট আই হ্যাভ মেড লেমনেড অব ইট।" ১৯১৫ সালে তাঁর মৃত্যুর স্মৃতিচারণে মার্কিন লেখক এলবার্ট হুবার্ড ওই উদ্ধৃতি প্রয়োগ করায় তা জনমানসে গেঁথে যায় আর হয়ে ওঠে সর্বজনীন অনুপ্রেরণার উৎস।

    এক লেবুর যে কত গুণ! তবে দামের জন্যে সাধারণ মানুষের কাছে সেই লেবু যখন অধরা, তখন হয়ত মনের মধ্যে গুনগুনিয়ে উঠতে পারে ১৯৫০ এর দশকে প্রেমের সঙ্গে লেবুর একাত্মতা বর্ণনা করে উইল হোল্টের রচিত মার্কিন লোকসঙ্গীত “Lemon tree, very pretty, and the lemon flower is sweet; But the fruit of the poor lemon is impossible to eat.” ট্রিনি লোপেজের গাওয়া সেই গানটির ইউটিউব লিঙ্ক দেওয়া রইল। লেবুর সরবতের কথা ভাবতে ভাবতে নাহয় একবার জনপ্রিয় গানটিই শুনলেন! 

    বলা বাহুল্য, লেবু মোটেও পাতি নয়।



     
     
             

         
     
  • ব্লগ | ২৪ এপ্রিল ২০২২ | ৯২৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সন্দীপন | 117.215.166.113 | ২৪ এপ্রিল ২০২২ ১৪:২৩506856
  • লেবু মোটেই পাতি নয়,খুব সত্যি কথা।লেবু এতো lucretive তে লেবু চুরি পেশায় দাঁড়িয়ে গেছে।এ বিষয়ে গতো ১৩ই এপ্রিলের হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন  আরো বেশি আলোকপাত করবে। আসলে হাত বদলালেই দাম বেড়ে যায়।ভালো লাগলো লেখাটা।
     
     
     
     
  • নির্মাল্য সেনগুপ্ত | 182.70.22.99 | ২৪ এপ্রিল ২০২২ ১৬:৩৮506859
  • Pink লেমোনেডের ইতিহাস টা  জানতাম না smiley
     
    তথ্যে ভরপুর। 
    yes
     
     
  • পূর্ণা চৌধুরী | 2607:fea8:e364:4600:eca8:de:4384:6b41 | ২৪ এপ্রিল ২০২২ ১৮:০০506860
  • পিঙ্ক লেমনেড খুব ভাবিয়ে তুললো ! খুবই রসালো লেখা, তবে সে আর নতুন কি?
  • Abhyu | 47.39.151.164 | ২৪ এপ্রিল ২০২২ ২০:০৮506864
  • বাহ 
  • প্রণব কুমার চট্টপাধ্যায় | 122.163.49.228 | ২৫ এপ্রিল ২০২২ ০১:২৪506870
  • অত্যন্ত তথ্য সমৃদ্ধ লেখা
    প্রতি ছত্রে বিষয় বৈচিত্র মনের পরাতে পরাতে থেকে যায়।পাতি লেবু পাতিতো নয়ই বরং প্রসাদ গুণে গন্ধরাজ হয়ে উঠেছে এবং এক ঐতিহাসিক  চরিত্র হয়ে উঠেছে দীপংকরএর লেখনীর  গুণে।
     
  • santosh banerjee | ২৫ এপ্রিল ২০২২ ২২:১৬506896
  • এমন কুচক্রী হয়েছে ব্যাবসাদার সম্প্রদায় যে লেবু জন্ম নেয় নি, তার আগেই ছিঁড়ে নিয়ে বাজারে বিক্রি করছে! ধরবে কে ? সবাই তো কেষ্ট কে নিয়ে ব্যাস্ত!!!
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে প্রতিক্রিয়া দিন