• বুলবুলভাজা  আলোচনা  রাজনীতি

  • তালিবানি দখল এবং RAWA র প্রতিক্রিয়া

    সাক্ষাতকার- সোনালী কোলাৎকার
    আলোচনা | রাজনীতি | ২৫ আগস্ট ২০২১ | ১৪৫৫ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • আফগান উওমেন্স মিশন (AWM) এই সংকটকালে RAWA (Revolutionary Association of the Women of Afghanistan) র সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন তাদের জরুরী প্রয়োজনগুলি সম্বন্ধে অবহিত হতে। AWM এর সহকারী ডিরেক্টর সোনালী কোলাৎকার এর সাথে এই সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর পর্বটিতে RAWA এই মুহূর্তে আফগানিস্তানের বাস্তব পরিস্থিতি আমাদের সামনে বিশদে ব্যাখ্যা করেছেন। (আসল সাক্ষাৎকারের লিঙ্ক)


    “নারী অধিকার”, “গণতন্ত্র”, “জাতির গঠন” এগুলি আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র বা ন্যাটোর লক্ষ্য ছিল, এসব কথা ঠাট্টারই নামান্তর

    অনুবাদ: রৌহিন ব্যানার্জি

    সোনালি কোলাৎকার: মার্কিন দখলদারির বিরুদ্ধে RAWA দীর্ঘদিন সরব। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, যেই মার্কিনিরা সরে গেল, তালিবানরা ফিরে এসেছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন কি পারতেন এমন পদ্ধতিতে সেনা অপসারণ করতে, যাতে আফগানিস্তান এখনকার তুলনায় আরও একটু বেশি নিরাপদ থাকতে পারত? তাঁর পক্ষে কি আরও কিছু এমন করা সম্ভব ছিল যাতে তালিবানদের এত দ্রুত দখলদারি কায়েম করাটা আটকানো সম্ভব হত?

    RAWA: বিগত ২০ বছর ধরে কিন্তু আমাদের অন্যতম দাবি ছিল মার্কিন / ন্যাটো দখলদারির অবসান – আর সেটা সত্যিই ভালো হত যদি তারা তাদের পেটোয়া ইসলামিক মৌলবাদী এবং টেকনোক্রাটের দলকে নিজেদের সঙ্গেই নিয়ে চলে যেতেন আর আমাদের দেশবাসীকে নিজের ভাগ্য নিজেদেরই ঠিক করার সুযোগটুকু দিতেন। তার বদলে এই দখলদারির ফলে আমরা পেয়েছি শুধু অবিরাম রক্তপাত, ধ্বংস আর বিশৃঙ্খলা। ওদেরই কল্যাণে আমাদের এই দেশটা এখন পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত একটি নিরাপত্তাহীন ড্রাগ-মাফিয়াদের রাজত্বে পরিণত হয়েছে, যা সকলের পক্ষেই বিপজ্জনক – বিশেষ করে মেয়েদের পক্ষে।

    এরকম একটা পরিণতির কথা আমরা প্রথম থেকেই অনুমান এবং আশঙ্কা করে আসছিলাম। প্রথম যেদিন আফগানিস্তানে মার্কিন দখলদারি সেনা প্রবেশ করে, সেইদিনই, ১১ই অক্টোবর ২০০১ তারিখে RAWA ঘোষণা করেছিল:

    “লাগাতার মার্কিন আক্রমণ এবং তার ফলে নিরপরাধ সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান শিকার হয়ে চলা শুধু যে এখানে তালিবানদের ছুতো খুঁজে পেতে সাহায্য করবে, তাই নয় – বরং এই অঞ্চলে এবং এমন কী বাকি পৃথিবী জুড়ে মৌলবাদী শক্তিকেই আরও শক্তিশালী করে তুলবে”

    আমাদের এই বিরোধিতার পিছনে প্রধানতম কারণ এটাই ছিল যে “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে”র নাম করে এই শক্তিগুলি উল্টে সন্ত্রাসবাদকেই মদত দিয়ে চলেছে। সেই শুরুর দিকেই, ২০০২ সালে যখন “নর্দার্ন অ্যালায়েন্সে”র খুনি এবং লুঠেরার দলকে সেই তথাকথিত সর্বশেষ “শান্তি আলোচনা” এবং দোহায় হওয়া চুক্তি আর সমঝোতার পরে ক্ষমতায় ফেরানো হল, সেখান থেকে এই ২০২০-২১ এ ৫০০০ সন্ত্রাসবাদীকে জেল থেকে মুক্ত করা অবধি পুরো কর্মকাণ্ড সেটায় এটাি স্পষ্ট ছিল যে সেনা সরিয়ে নিলেও তার ফল শুভ হবে না।

    পেন্টাগন এটা প্রমাণ করে দিয়েছে যে অনুপ্রবেশ বা মিশ্রণের কোন তত্ত্বই শেষ অবধি নিরাপত্তার সন্ধান দিতে পারেনি। সমস্ত সাম্রাজ্যবাদী শক্তিই তাদের নিজস্ব কৌশলগত, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক লাভের কথা মাথায় রেখেই অন্য দেশে অনুপ্রবেশ করে মিথ্যার আশ্রয়ে, এবং শক্তিশালী কর্পোরেট মিডিয়া প্রাণপণে তাদের আসল উদ্দেশ্য এবং মতলবগুলিকে আড়াল করার চেষ্টা করে নিজেদের স্বার্থে।

    "নারী অধিকার”, “গণতন্ত্র”, “জাতির গঠন” এগুলি আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র বা ন্যাটোর লক্ষ্য ছিল, এসব কথা আফগানিস্তানে ঠাট্টারই নামান্তর! আমেরিকা আফগানিস্তানে এসেছিল এই অঞ্চলের স্থিতি বিঘ্নিত করে একে সন্ত্রাসবাদের মুক্তভূমিতে পরিণত করতে এবং সেইটার মাধ্যমে আফগানিস্তানের আশেপাশে আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলির, বিশেষত চিন এবং রাশিয়াকে ঘিরে ধরার পাশাপাশি এই অঞ্চলের স্থানীয় অর্থনীতিকে ছিবড়ে করে শুষে নেবার লক্ষ্য নিয়ে। অবশ্যই এরকম ভাবার কোন কারণ নেই যে মার্কিন সরকার নিজেদের বাহিনীর এরকম লজ্জাজনক অপসারণ চেয়েছিল, যার ফলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই আবার মার্কিন বাহিনীকে ফিরে আসতে হল বিমানবন্দরগুলি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যাতে তাদের আমলা এবং অন্যান্য কর্মীদের নিরাপদে বার করে নিয়ে যাওয়া যায়।

    আমরা বিশ্বাস করি, আমেরিকা আফগানিস্তান ছেড়ে গেছে তাদের তৈরি পশুদের (তালিবান) কাছে পরাজিত হয়ে নয়, ফিরেছে তাদের নিজস্ব দুর্বলতার কারণে। এই অপসারণের দুটি খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে বলে আমরা মনে করি।
    প্রথম এবং প্রধান কারণটি হল আমেরিকার বহুমুখী এবং বহু আস্তরণবিশিষ্ট আভ্যন্তরীণ সঙ্কট। বহু-খ্যাত মার্কিন শাসনব্যবস্থার ক্ষয়ের লক্ষণ আমরা দেখেছি কোভিড-১৯ অতিমারীতে তার দুর্বল মোকাবিলার সময়ে, দেখেছি ক্যাপিটল হিল আক্রমণের সময়ে এবং বিগত কয়েক বছরে মার্কিন আমজনতার অজস্র প্রতিবাদ-প্রতিরোধে। সেনা প্রত্যাহার এবং নিজেদের জ্বলন্ত আভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলির দিকে মনোযোগ দেওয়া ছাড়া মার্কিন নীতি নির্ধারকদের সামনে এই মুহূর্তে আর কোন পথই খোলা ছিল না।
    দ্বিতীয় কারণ, আফগানিস্তান যুদ্ধ আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল যুদ্ধ – যার খরচ এতদিনে কয়েক লক্ষ কোটি ডলারে পৌঁছে গেছে – যার সবটাই ট্যাক্স-দাতাদের টাকা। এই খরচ মার্কিন অর্থনীতিতে এতটাই বড় ক্ষত তৈরি করেছে যে তার জেরেই তারা আফগানিস্তান ছাড়তে একরকম বাধ্য হয়েছে বলা যায়।

    এই যুদ্ধবাজ নীতি থেকেই স্পষ্ট যে আমেরিকা কোনদিনই আফগানিস্তানকে নিরাপদ করার মানসিকতা নিয়ে চলেনি, এখন ছেড়ে চলে যাবার সময় তো সে প্রশ্ন আরওই ওঠে না। উপরন্তু, তারা ভালো করেই জানত যে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনা অপসারণের সময়ে একটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে, তা সত্ত্বেও তারা সেটা করেই ফেলল কোন কিছুর পরোয়া না করেই। এখন আফগানিস্তান আবার সবার নজরের কেন্দ্রে কারণ তালিবানেরা ক্ষমতায় এসেছে – কিন্তু এই পরিস্থিতিতেই আমাদের বিগত ২০ বছর কেটেছে। প্রতিদিন শয়ে শয়ে আমার দেশবাসী খুন হয়েছেন, এই দেশটা ধ্বংসের পথে এগিয়ে গেছে, কিন্তু সংবাদমাধ্যম সেসব রিপোর্ট করা প্রয়োজন মনে করেনি।

    সোনালি কোলাৎকার: তালিবান নেতৃত্ব বলছেন তাঁরা মহিলাদের অধিকারকে সম্মান দিতে চান যতক্ষণ তা ইসলামিক আইনের পরিপন্থী না হয়ে যাচ্ছে। কিছু পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম এই ঘোষণাকে একটি ভাল দিক হিসাবে দেখাতে চাইছে। কিন্তু তালিবানেরা কি ২০ বছর আগেও একই কথা বলেনি? মানবাধিকার এবং নারী অধিকার বিষয়ে তালিবানদের অবস্থানের কোন পরিবর্তন হয়েছে, এরকম মনে করার কোন কারণ আপনারা পেয়েছেন কি?

    RAWA: কর্পোরেট মিডিয়া কেবল আমাদের দেশবাসীর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিতে ব্যস্ত। যেভাবে তারা তালিবানদের নৃশংসতাকে ঢাকার চেষ্টা করে চলেছে সেজন্য তাদের লজ্জা হওয়া উচিৎ। তালিবান মুখপাত্র নিজেই স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের ১৯৯৬ এর আদর্শের সঙ্গে বর্তমান আদর্শের কোন পার্থক্য নেই। নারী অধিকার বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাদের আগের শাসনকালে যা ছিল, এখনও তার হুবহু প্রতিধ্বনি – শরিয়া আইনের প্রচলন।

    এখন তালিবানেরা রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তিদানের প্রকল্প চালু করেছে এবং এই বিষয়ে তাদের স্লোগান হচ্ছে: “রাজনৈতিক মুক্তিতে যে আনন্দ, প্রতিশোধে সেই আনন্দ নেই”। কিন্তু বাস্তবে কী ঘটছে? তারা সর্বত্র সাধারণ মানুষকে হত্যা করে বেড়াচ্ছে। গতকালই নাঙারহারে একটি বাচ্চা ছেলে তালিবানের সাদা পতাকার বদলে আফগানিস্তানের তেরঙা জাতীয় পতাকা নিয়ে যাচ্ছিল বলে তাকে গুলি করে মারা হয়েছে। কান্দাহারে চারজন প্রাক্তন সেনা অফিসারকে হত্যা করা হয়েছে। হিরাট প্রদেশে তরুণ আফগান কবি মেহরান পোপালকে ফেসবুকে তালিবান বিরোধী পোস্ট দেবার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বাড়ির লোক তারপর থেকে তার কোন খোঁজ পাননি। এগুলি তালিবানি হিংসার সামান্য কয়েকটি উদাহরণ দিলাম মাত্র, তাদের মুখপাত্রদের “সুশীল” এবং পালিশ করা বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে।

    আমাদের ধারণা, এইসব দাবিদাওয়া আসলে তালিবানদের নাটক মাত্র, যার সাহায্যে তারা নিজেদের আর একটু গুছিয়ে নেবার জন্য কিছু সময় কিনতে চাইছে মাত্র। সবকিছু খুব দ্রুত ঘটে গেছে, ফলে তাদের একটু সময় দরকার সরকার গঠনের ধাপগুলি ঠিকভাবে গুছিয়ে নিতে, নিজস্ব গুপ্তচর-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে, মন্ত্রণালয়গুলিকে “শুভকাজের সহায়ক এবং অশুভর প্রতিরোধক” হিসাবে উপযোগী করে তুলতে। এই শুভ-অশুভের মধ্যেই পড়বে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ – যেমন আমার দাড়ির দৈর্ঘ্য কতটা হবে, কোন পোশাক পরা যাবে আর কোনটা যাবে না, স্ত্রীলোকের মাহরাম (মহিলাদের অত্যাবশ্যক পুরুষ সঙ্গী – বাবা, ভাই অথবা স্বামী) থাকছে কী না ইত্যাদি।

    তালিবানেরা দাবি করে যে তারা নারী অধিকারের বিরুদ্ধে নয় – কিন্তু তা হতে হবে ইসলামি বা শরিয়া আইনের খাঁচার মধ্যে। এই তথাকথিত ইসলামি/শরিয়া আইন বস্তুত একটি ভিত্তিহীন আইন যা ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইসলামিক শাসকের নিজস্ব রাজনৈতিক অভিসন্ধির পরিপূরক হিসাবে বিভিন্নভাবে লাগু করা হয়েছে। উপরন্তু তালিবানদের মনোগত ইচ্ছা, পশ্চিমা শক্তিগুলি তাদের স্বীকৃতি এবং গুরুত্ব দিক – এইসব দাবি তাই আদতে নিজেদের ভাবমূর্তির ওপর একটা সাদা পোঁচ ছাড়া কিছুই না। হতেই পারে যে কয়েক মাস পরে তারা নির্বাচন ঘোষণা করে দেবে এবং জানাবে যে “আমরা সুবিচার এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসী”! কিন্তু যে ভানই করুক, তাতে তাদের মৌলবাদী চরিত্রে কোন পরিবর্তন আসবে না। তারা মূলত নারিবিদ্বেষী (misogynist), অমানবিক, বর্বর, প্রতিক্রিয়াশীল, গণতন্ত্র এবং প্রগতি-বিরোধী। এক কথায়, তালিবান মানসিকতা কিছুই পালটায়নি, কখনো পালটাবেও না।

    সোনালি কোলাৎকার: আফগান ন্যাশনাল আর্মি এবং আমেরিকার মদত-পুষ্ট আফগান সরকারের এরকম তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ার কারণ কী?

    RAWA: কয়েকটি প্রধান কারণ হল:

    1. আফগানিস্তানকে তালিবানদের হাতে তুলে দেওয়া হবে – এই সমঝোতার ভিত্তিতেই সমস্ত কাজ হয়েছে। পাকিস্তান এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিগুলির সঙ্গে মার্কিন সরকারের চুক্তি হয়েছিল একটি সরকার গঠনের – যা মূলত তালিবানদের নিয়েই তৈরি। অতএব যখন যুদ্ধ লাগল, আফগান সৈন্যরা আগে থেকেই জানত যে এই যুদ্ধে তাদের জেতা বা হারায় আফগান জনতার কোন লাভ বা ক্ষতি হবার প্রশ্ন নেই – কারণ, তালিবানদের ক্ষমতায় আনার ছক বন্ধ দরজার আড়ালেই হয়ে গেছিল। তাহলে বৃথা এই অকারণ যুদ্ধে তারা নিজেদের প্রাণ বাজি রাখবেই বা কেন? তালিবানদের ক্ষমতায় ফেরানোর জন্য জালমভ খালিজাদ যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন সেজন্য আফগান জনতা তাকে চরম ঘৃণার চোখে দেখে।
    2. বেশিরভাগ আফগান এটা বোঝেন যে আফগানিস্তানের বুকে চলা এই যুদ্ধ আদতে তাদের যুদ্ধ নয়, এতে তাদের দেশের কোন লাভ নেই। এই যুদ্ধ আদতে বিভিন্ন বিদেশি শক্তিদের অর্থে তাদেরই স্বার্থের সংঘাত, যেখানে আফগানেরা যুদ্ধের রসদ মাত্র। যেসব অল্পবয়সী ছেলেরা সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছে তারা মূলত চরম দারিদ্র আর বেকারত্বের কারণেই গেছে। স্বভাবতই এই যুদ্ধে তাদের নৈতিকতা বা দায়বদ্ধতা কিছু নেই। এখানে এটাও উল্লেখ করা দরকার যে বিগত ২০ বছরে আমেরিকা এবং পশ্চিমা শক্তিগুলি আফগানিস্তানকে একটি ক্রেতা রাষ্ট্রই বানিয়ে রাখতে চেয়েছে, এবং সেই কারণেই এখানে যে কোন শিল্পের বৃদ্ধিকে যতটা সম্ভব বাধা দিয়েছে। এর ফলে বিপুলভাবে বেড়েছে বেকারত্ব এবং দারিদ্র, যার অবশ্যম্ভাবী ফল হিসাবে পুতুল সরকারের সেনাবাহিনীতে ভর্তির পাশাপাশি বেড়েছে তালিবানে যোগ দেওয়া লোকের সংখ্যা আর আফিমের উৎপাদন।
    3. এতদসত্ত্বেও, এক সপ্তাহে যুদ্ধে গো-হারা হেরে যাবে, এত দুর্বলও নয় আফগান সেনা। কিন্তু তাদের কাছে ক্রমাগত প্রেসিডেন্টের প্রাসাদের ভিতর থেকে আদেশ এসেছে তালিবানদের কাছে আত্মসমর্পণ করার জন্য, পালটা লড়াই না করার জন্য। বেশিরভাগ প্রদেশই বেশ শান্তিপূর্ণভাবে তালিবানদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
    4. হামিদ কারজাই এবং আশরাফ গনির পুতুল সরকার বহু বছর ধরেই তালিবানদের “অসন্তুষ্ট ভাইয়েরা” বলে সম্বোধন করে আসছেন, তাদের অধিকাংশ নৃশংস সেনাপতি এবং নেতাদের জেল থেকে মুক্তি দিয়ে দিয়েছেন। আফগান সেনাদের বলা হল এমন এক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে, যারা তাদের “শত্রু” নয়, “ভাই”। স্বভাবতই এটা যেমন তালিবানদের সাহস বাড়িয়েছিল, তেমনি আফগান সশস্ত্র বাহিনীর নৈতিক এবং মানসিক বলে প্রবল আঘাত করেছিল।
    5. এর আগে কখনো আফগান সশস্ত্র বাহিনীতে দুর্নীতি এই পরিমাণে চেপে বসেনি। বিপুল সংখ্যক জেনারেলরা (যাদের অধিকাংশই পুরনো নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের নৃশংস যুদ্ধবাজ দলপতি ছিল) কাবুলে বসে কোটি কোটি ডলার আত্মসাৎ করেছে আর সাধারণ সৈন্যদের বরাদ্দ মাইনে এবং খাবার থেকেও নিজেদের কাটমানি নিয়েছে। SIGAR  তুলে এনেছিল “ভূতুড়ে সৈন্য” র ঘটনা – যে সৈন্যদের অস্তিত্বই নেই কিন্তু মাইনে ইত্যাদি আছে। উচ্চপদস্থ অফিসারেরা নিজেদের পকেট ভরতে ভরতে এইরকম কয়েক লক্ষ ভূতুড়ে সৈন্যদের মাইনে ও অন্যান্য প্রাপ্য টাকা নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকাচ্ছিল।
    6. যখনই কোথাও যুদ্ধে আফগান সেনা তালিবানদের হাতে ঘেরাও হয়েছে, তাদের সাহায্যের আবেদনে কাবুল থেকে কখনোই সাড়া পাওয়া যায় নি। বহুবার শয়ে শয়ে আফগান সেনা নিরস্ত্র, সপ্তাহের পর সপ্তাহ অভুক্ত অবস্থায় তালিবানদের হাতে বিধ্বস্ত হয়েছে। এই কারণেই আফগান সশস্ত্র বাহিনীর মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (দাভোস ২০১৯) এ আশরাফ গনি স্বীকার করেছিলেন যে ২০১৪ সালের পর থেকে প্রায় ৪৫০০০ আফগান নিরাপত্তা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, যখন সেই একই সময়কালে আমেরিকা / ন্যাটোর মাত্র ৭২ জন মারা গেছেন।
    7. মোটের ওপর দেখলে পুরো সমাজ ব্যবস্থায় ব্যাপকহারে দুর্নীতি, বেকারত্ব, নিরাপত্তা-হীনতা, অনিশ্চয়তা, জোচ্চুরি, বিপুল দারিদ্র, নেশার দ্রব্য, চোরাচালান ইত্যাদি মিলিয়ে তালিবানের পুনরভ্যুত্থানের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েই ছিল।


    সোনালি কোলাৎকার: এই মুহূর্তে আমেরিকা ঠিক কিভাবে RAWA এবং আফগান জনতাকে সাহায্য করলে সবচেয়ে ভাল হয়?

    RAWA: আমেরিকার স্বাধীনতাপ্রেমী মানুষ এই সম্পূর্ণ সময়কাল ধরে আমাদের পাশে থেকেছেন, এজন্য আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং নিজেদের ভাগ্যবান মনে করি। আমেরিকান জনতার কাছে আমাদের চাহিদা এই যে তাঁরা প্রতিবাদে সোচ্চার হইয়ে উঠুন, তাঁদের সরকারের এই যুদ্ধবাজ নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এবং এই বর্বরদের বিরুদ্ধে সাধারণ আফগানদের যুদ্ধকে সমর্থন দিয়ে শক্তিশালী করে তুলুন।

    প্রতিরোধ মানুষের স্বভাবসিদ্ধ, ইতিহাস তার সাক্ষী। আমেরিকান জনতার “অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট” অথবা “ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার” এর মত উজ্জ্বল লড়াইয়ের সাক্ষী আমরা থেকেছি। আমরা দেখেছি যে নিপীড়ন, হিংসা, অত্যাচার যতই ভয়ঙ্কর হোক না কেন, তা প্রতিবাদ-প্রতিরোধের পথকে রুদ্ধ করতে পারে না। মেয়েরা আর শিকলে বাঁধা থাকবে না। যেদিন তালিবানেরা রাজধানীতে প্রবেশ করল, তার ঠিক পরের দিন সকালেই আমাদের কয়েকজন সাহসী মেয়ে দেওয়ালে স্লোগান লিখে দিয়েছে, “তালিবান নিপাত যাক” বলে। আমাদের মেয়েরা এখন রাজনৈতিকভাবে সচেতন, তাঁরা আর বোরখার আড়ালে বসে থাকতে চান না – ২০ বছর আগে যা তাঁরা মেনে নিয়েছিলেন সহজেই। আমরা নিরাপদ থাকার রাস্তা নিজেরাই খুঁজে বার করে নেব আমাদের বুদ্ধি দিয়ে। আমরা নিরাপদে থাকব।

    আমরা মনে করি অমানবিক মার্কিন সেনা সাম্রাজ্য শুধু আফগান জনতার জন্যই ক্ষতিকর, তাই নয়, তারা সারা দুনিয়াজোড়া শান্তি এবং স্থিতির পক্ষে একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। এখন যখন তাদের নিজেদের ব্যবস্থাই ভেঙে পড়ার মুখে, এই সময়ে সমস্ত শান্তিকামী প্রগতিশীল, বামপন্থী, সুবিচারকামী ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীগুলির প্রত্যেকের হোয়াইট হাউস, পেন্টাগন আর ক্যাপিটল হিল এর নৃশংস যুদ্ধবাজদের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার সময় এসেছে। এই পচাগলা ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং একটি মানবিক শাসন-ব্যবস্থার প্রবর্তন শুধু কোটি কোটি আমেরিকার দরিদ্র জনতাকেই মুক্ত করবে না, এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়বেও সারা বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে।

    এই মুহূর্তে আমাদের আশঙ্কা, নব্বইয়ের দশকের রক্তাক্ত তালিবান জমানার মতই আরও একবার পৃথিবী আফগানিস্তান এবং আফগান মেয়েদের কথা বেবাক ভুলে যাবে। তাই আমেরিকার প্রগতিশীল মানুষ এবং সংস্থাগুলির কাছে আমাদের আবেদন, আফগান মেয়েদের ভুলে যাবেন না।

    আমরা আমাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাব, প্রতিরোধকে তীব্রতর করে তুলব। ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র আর নারী-অধিকারের স্বার্থে লড়াইও চলবে।

     

  • বিভাগ : আলোচনা | ২৫ আগস্ট ২০২১ | ১৪৫৫ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • প্রতিভা | 2401:4900:382a:ed59:1:2:884b:9c52 | ২৫ আগস্ট ২০২১ ১৬:৪৮497094
  • লজ্জাহীন বিশ্ববিবেক বা সোনার পাথরবাটি এই অত্যন্ত লজিক্যাল  আহবানে সাড়া দেবে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। 
    সাম্রাজ্যবাদ  নিপাত যাক। আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার বন্ধ হোক। আফগানী নারীদের মুক্ত কর। গণতন্ত্র পুনরজ্জীবিত হোক।
  • dc | 223.184.44.161 | ২৫ আগস্ট ২০২১ ১৭:০৪497096
  • যাকলা। পুরো সাক্ষাতকারে আমেরিকাকে গালি দিয়ে শেষে সেই আমেরিকারই  "প্রগতিশীল মানুষ এবং সংস্থাগুলির কাছে আমাদের আবেদন"? ​​​​​​এটা কিরকম ​​​​​​​হলো? :d :d
  • র২হ | 2405:201:8005:9947:bc3f:acc2:15eb:e868 | ২৫ আগস্ট ২০২১ ১৭:১০497098
  • সরকারকে গালি দিয়ে মানুষের কাছে আবেদন? যেমন আমেরিকার সরকার ভিয়েতনামে যুদ্ধ করছিল আর অনেক মানুষ সরকারকে খিস্তি দিচ্ছিল?
    বা আমাদের দেশে অনেক মানুষ সরকারকে গাল দেয়...?
    প্রগতিশীল মানুষ যুদ্ধবাজ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে, তার ফলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ তৈরী হবে - এমন আশা হতে পারে।
  • রৌহিন | ২৫ আগস্ট ২০২১ ১৭:২৪497099
  • এই কথাটা লিখতে লিখতে আমার নিজেরও মনে হয়েছে। আমার মনে হয়েছে RAWAর যে মুখপত্র সাক্ষাৎকারটি দিয়েছেন তিনি মূলতঃ আমেরিকানদের সাথে কম্যুনিকেট করছেন,এই ধারণা থেকেই কথাগুলি বলেছেন। 
  • dc | 223.184.44.161 | ২৫ আগস্ট ২০২১ ১৭:২৫497100
  • সে তো অলরেডি আমেরিকার ভোটাররা চাপ তৈরি করেছে আর তার ফলে সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। কিন্তু সাক্ষাতকারে তো দেখলাম তার জন্যও আমেরিকাকে গাল খেতে হয়েছে! 
  • dc | 223.184.44.161 | ২৫ আগস্ট ২০২১ ১৭:২৬497101
  • রৌহিন বাবুর কথাটা আমারও মনে হয়েছে। পুরো সাক্ষাতকারটাই যেন আমেরিকার কোন পত্রিকায় পড়ছি। মানে যেদিকেই যাক না কেন, আমেরিকাকে গাল খেতেই হবে :d
  • Ranjan Roy | ২৭ আগস্ট ২০২১ ০৬:৩৫497152
  • কোন রাজনৈতিক নীতির মূল্যায়ণে আমরা কি আমেরিকার সরকার ও আমেরিকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তফাত করব না?  ভারত সরকারের সব নীতিকেই ভারতের জনতার চিন্তার বা ইচ্ছার প্রতিফলন ধরে নেব?
    হ্যাঁ, যিনি ইন্টারভিউ নিচ্ছেন  এবং যিনি দিচ্ছেন-- অবশ্যই আমেরিকার জনতার কথা মাথায় রেখে কথোপকথন চালাচ্ছেন।
  • Amit | 203.0.3.2 | ২৭ আগস্ট ২০২১ ০৭:৪২497157
  • "সরকারের সব নীতিকেই ভারতের জনতার চিন্তার বা ইচ্ছার প্রতিফলন ধরে নেব?-  সেটা ধরে নেওয়ার ​​​​​​​নিশ্চয় ​​​​​​​কোনো দরকার ​​​​​​​নেই কিন্তু  একটা ডেমোক্র্যাটিক সিস্টেমে যদি সরকারের নীতি মেজরিটি জনতার ইচ্ছে অনিচ্ছের সাথে না মেলে -তাহলে ভোটে সরকারকে সরানোর রাস্তা খোলা থাকার কথা। 
     
    সেটা নাহলে ধরে নিতে হবে সেখানকার সাধারণ মানুষের প্রায়োরিটি আলাদা। 
  • Dhritiman Bhattacharjee | ২৭ আগস্ট ২০২১ ১৭:০১497248
  • এই লেখাটা খুব দরকার ছিল। ভীষন ধন্যবাদ।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন