• হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • রাম-বাম ও আমরা 

    Bagchi P লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ২৩ এপ্রিল ২০২১ | ২৮০ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • রাম-বাম ও আমরা

    সংযুক্তা মিত্র

     

    ১৯৮৯-৯০ সালে আমরা যে অঞ্চলে থাকতাম সেটা কলকাতা থেকে বাইশ কিমি দূরের এক মফস্বল। উদ্বাস্তুরা আসার পরেই জায়গাটার সত্যি সত্যি কিছু উন্নতি ঘটে। তার আগে ঝোপঝাড়, বাশবন, কোথাও অল্প ক্ষেত, আমের বাগান, কাঁচা রাস্তা। বিদ্যুৎ সব জায়গায় আসেনি। সন্ধ্যে হলে শেয়াল ডাকে, ভাম এসে গৃহস্থ বাড়িতে উৎপাত করে। ওপার বাংলা থেকে এসে নতুন মানুষগুলি গড়ে তুললেন  নতুন বসত। টালির বাড়ি, ছেঁচার বেড়া। আস্তে আস্তে তাঁদের এলাকায় গড়ে উঠল একটা ইস্কুল। বাজার বসল। দোকান পাট বসল নতুন করে, তাদেরই কেউ কেউ সেইসব দোকান চালান। এইরকম একটা পরিবেশে যা হওয়ার ছিল ঠিক তাই হল। ওপার বাংলার ছিন্নমূল মানুষ, মূলত তারা হিন্দু, নিজেদের অভিভাবক হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন বামপন্থীদের। সারা পশ্চিমবাংলার ক্ষেত্রেই যা হয়েছিল আর কি। স্থানীয় বাম দলের নেতারা প্রায় সবাই উদ্বাস্তু আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, ইউ সি আর সি বলে একটি উদ্বাস্তুদের সংগঠন ছিল, তারা কাজ করতেন সেই ছাতার তলায়। আশির দশকে স্থানীয় পুরসভার বেশির ভাগ কাউন্সিলার বাম দলের, চেয়ারম্যান তাদের। লোকাল কমিটির বেশ জাঁকালো অবস্থা। পাড়ার বেশির ভাগ ক্লাবের প্রশাসনিক দখল সেই বাম নেতাদেরই হাতে।  

    এই রসায়নটা হঠাৎ পালটে গেল নব্বইয়ের দশকের গোড়ায়। যখন রাম মন্দির নিয়ে সারা দেশে আলোড়ন উঠল। আলোড়ন কথাটা সচেতনভাবে ব্যবহার করলাম, কারণ রাম মন্দির আন্দোলন এই কথাটায় আমার আপত্তি। আন্দোলন বলতে ঐতিহাসিক ভাবে আমরা যা বুঝি তার সঙ্গে একটা বৃহত্তর মহত্ত্বের বোধ জড়িয়ে থাকে। রামমন্দির নিয়ে যা হয়েছিল তার সঙ্গে এমন কোনো কিছু আদৌ যুক্ত ছিল না। যাই হোক আচমকা জনপ্রিয় হওয়া ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান, রাম শিলা নিয়ে কর সেবকদের দাপাদাপি এইসব তখন সেই নিস্তরঙ্গ মফস্বলে বেশ নতুন নতুন একটা ব্যাপার। আরো নতুন হল এই রাম নামের দলে ভিড়ে যেতে দেখলাম এমন কিছু মানুষকে, যারা এতকাল বাম দলের আওতাতেই ছিলেন। মিটিং মিছিলে লেনিনের ছবি টাঙানো পার্টি অফিসে এই মুখগুলোকে দেখা যেত। খোদ নেতারা পড়লেন মহাবিপদে। কারণ তাদের একাংশ তখন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আওতায় চলা ফেরা আরম্ভ করেছে। তাদেরই কেউ কেউ রামশিলা নিয়ে অযোধ্যা গেলেন, পাড়ায় মিছিল করলেন। যাই হোক এর পরে বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার পরে কেন্দ্রীয় সরকার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ দলকে নিষিদ্ধ করলে ওই বাম থেকে রামে যাওয়া মহদাশয় রা পাড়া ছাড়া হয়ে থাকলেন কিছুদিন। তার পরে রামে বামে আর মিলমিশ হয়েছিল কি না সেই খবর আর রাখিনি।

    তাই আজকে এই রাজ্যে বিজেপির বাড় বাড়ন্ত নিয়ে যারা একতরফা ভাবে তৃণমূল সুপ্রিমোর ওপর দায় চাপাতে চাইছেন তাদের ভাবের ঘরে কোথাও একটা চুরি আছে। কেন তা বলি। বিজেপি এই রাজ্যে প্রথমবার ভোটে নামে ১৯৮২র বিধানসভায়, সেবার ৫২ আসনে প্রার্থী দিয়ে তারা পেয়েছিল ১২৯৯৯৪ টি ভোট। ১৯৮৪র লোকসভা ভোটে রাজ্যে ৯টি আসনে লড়াই করে তারা পায় ১০১১৬৫ (০.৪%) ভোট। ১৯৮৭র রাজ্য বিধানসভা ভোটে তারা ৫৭ আসনে প্রার্থী দিয়ে সামান্য ভোট বাড়ায় ( ১৩৪৮৬৭ টি ) । এর পরেই রাজীব গান্ধী সরকারের বিরুদ্ধে কামান কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলে ভি পি সিং কংগ্রেস সরকার থেকে বেরিয়ে এসে বাম দলগুলিকে তার মিত্র হিসেবে পায়। ওইসময় বিজেপিও কংগ্রেস বিরোধিতার জায়গা থেকে ভিপির পাশেই দাঁড়ায়। কার্যত কংগ্রেস বিরোধিতার জায়গা থেকে তখন বাম ও বিজেপি একই সমতলে দাঁড়িয়ে। যদিও এটাকে ঠিক জোট বলা সমীচীন নয়। এমনকি, ২ জুলাই ১৯৮৮ সেই বহু আলোচিত ব্রিগেডে কংগ্রেস-বিরোধী নেতাদের সমাবেশে জ্যোতিবাবু ও অটলবিহারী হাতে হাত ধরে দাড়ান ---- যে ছবি দেখিয়ে একসময় কংগ্রেস বামেদের বিরুদ্ধে বিজেপি- সংসর্গের অভিযোগ তুলত। অবশ্য এই ছবি দেখে এটাকে বাম বিজেপির গাটছড়া বলাটা উচিত নয়, কারণ সর্বভারতীয় রাজনীতির বিচারে এটা একটা সাময়িক কৌশল ছিল। জ্যোতিবাবু জীবনের শেষদিন অবধি বিজেপিকে ‘অসভ্য বর্বরদের দল’ বলে চিহ্নিত করে এসেছেন। ন্যায্য অর্থেই বলেছেন। কিন্তু জ্যোতিবাবুর জমানার থেকেও যখন আজকের বিজেপি আরও আরো আগ্রাসী তখন তার উত্তরসূরিরা তৃণমূল সুপ্রিমোকে যত কদর্য ভাষায় আক্রমণ করেন, তার এক ছটাকও গলা চড়ান না বিজেপিকে নিয়ে। কোনো পুথির পাতায় এই বিষয়ে ব্যাখ্যা আছে কি না, আমাদের জানা নেই।

    ১৯৮৯-র লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও আবার সেই কংগ্রেস ঠেকানোর জন্য বাম ও বিজেপি উভয়েই ভি পি সিং এর জনতা দলের সরকারকে সমর্থন দেয়। খেয়াল করা দরকার, ১৯৮৯-র লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ১৯ আসনে প্রার্থী দিয়ে ৫২৯৬১৮ (১.৬৭%) ভোট পায় --- অর্থাৎ বিজেপির ভোট বাড়ছে। এই বৃদ্ধি বোঝা গেল, ১৯৯১ রাজ্য বিধানসভার ভোটে। এই ভোটে তারা ২১৯ আসনে প্রার্থী দেয় ও ৩৫১৩১২১ (১১.৩৪%) ভোট পায় ----- দু বছরে ১০% মতো ভোট বৃদ্ধি। ওই বছর একই সঙ্গে লোকসভার ভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেই ভোটেও বিজেপি একক ক্ষমতায় ১১.৬৬% ভোট পায় (৩৬২৪৯৭৪)। মনে থাকতে পারে, এই সময়টাতেই আদবানীর রামরথ সারা ভারতে দাঙ্গা লাগাতে লাগাতে এগিয়ে যাচ্ছিল ----- সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছিল সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা। রাজ্যের বাম সরকার কিন্তু আদবানীর সেই ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক কর্মসূচিকে প্রতিহত করেনি। পশ্চিমবঙ্গের কোথাও রাম রথ আটকানো হয়নি। অবশ্য এটা ঠিক, ওই সাম্প্রদায়িক আবহে রাজ্যে বড় মাপের কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়নি। কিন্তু মানুষের মনের ভিতরে যে সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি কাজ করেনি, তা কিন্তু নয়। নইলে পরের ভোটে বিজেপি প্রায় ১১% ভোট পেল কী করে? বিশেষ করে অনুপ্রবেশ প্রশ্নে ও দেশভাগের ফলে আগত উদ্বাস্তুদের মধ্যে সেই সময় বিজেপি মুসলিম বিদ্বেষী সেন্টিমেন্ট নতুন করে উস্কে দেয়। বামপন্থী চেতনার আওতায় থাকা মানুষ তাতে প্ররোচিত হন। প্রশাসনিক ভাবে দাঙ্গা না হওয়ার কৃতিত্ব তারা নিতেই পারেন কিন্তু আদর্শগত জায়গাটার খামতি তারা ঢাকা দেবেন কী করে? এই সময়কালে তো তৃণমূল কংগ্রেস ছিল না !

    ১৯৯৬ সালেও এই রাজ্যে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। সেবার বিধানসভায় তারা ভোট পায় ২,৩৭২২,৪৮০ টি, লোকসভায় ২৫২৫৮৬৪ (৬.৮৮%)  ---- ভোটের শতাংশ কিছু কম হলেও রাজ্যে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে থাকে। ১৯৯৮ সালে সদ্য গঠিত  তৃণমূল কংগ্রেস লোকসভা ভোটে প্রথম বিজেপির সাথে আসন সমঝোতা করে। কারণ রাজ্যের তখন যা পরিস্থিতি তাতে বাম বিরোধিতার মঞ্চ হিসেবে কংগ্রেসকে তারা বাতিল করেছিল ফলে একমাত্র বিকল্প হিসেবে সর্ব ভারতীয় রাজনীতির প্রেক্ষিতে বিজেপিকে তারা মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে। বৃহত্তর দিক দিয়ে ভাবলে এই বিবেচনা সঠিক ছিল না। কারণ, অটল বিহারী বাজপেয়ীকে যতই উদার বলে প্রচার করা হোক, আদপে তিনি আজীবন আর এস এসের সেবক ছিলেন আর আদবানি তো তার আগেই তার গোঁড়া মৌলবাদী চেহারা প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। ১৯৯৮ এর নির্বাচনে তৃণমূল ৭টি লোকসভা আসনে জেতে, বিজেপি জেতে একমাত্র দমদম আসনে। বিজেপি ভোট পায় ১০.২%, যা ১৯৯১এর থেকে কম এবং আসন সমঝোতা করায় এই ভোট একক বিজেপির নাও হতে পারে। ১৯৯৯ সালে আবার লোকসভা ভোট হলে বিজেপি ১৩ আসনে প্রার্থী দিয়ে দমদম ও কৃষ্ণনগর দুটি আসনে জেতে, ভোট পায় ৩৯২২৪৪৪(১১.১৩%) যা আবারো ১৯৯১ এর থেকে কম। সেই সঙ্গে এইবার বিজেপির সঙ্গে জোট করে তৃণমূল লড়ে ৮টি আসন পায় ফলে বিজেপির ভোটের মধ্যে তৃণমূলের ভোট কিছুটা আছে। ২০০১ সালের রাজ্য বিধানসভার ভোটে তৃণমূল বিজেপির সঙ্গ ছিন্ন করে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে ও ২২৬ আসনে প্রার্থী দিয়ে মাত্র ৬০টি আসন পায়। ডিসেম্বর ২০০৩ এ তৃণমূল কংগ্রেস আবার বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এন ডিএ জোটে ফিরে যায় ও ২০০৪ সালে বিজেপির পরাজয়ের সঙ্গে সঙ্গে জোট শিথিল  হয়ে যায়। সেই বছর (২০০৪) ভোটে তৃণমূল মাত্র একটি আসন পায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণ কলকাতা আসন থেকে জেতেন। বিজেপি সেইবার ভোট পেয়েছিল ৮.০৬% যা আবারও ১৯৯১ এর থেকে কম। ফলে টিএমসি বিজেপি জোট রাজ্যে বিজেপির ভোট ব্যাঙ্ক বাড়িয়েছে এই তথ্যটা খুব বিশ্বাসযোগ্য নয়। ১৯৮২ থেকে ২০০৪, এই বাইশ বছরের মধ্যে বিজেপি সব থেকে বেশি ভোট পেয়েছে ১৯৯১ সালে। আর এন ডি এ জোটে টি এম সি ছিল সাকুল্যে সাড়ে তিন বছর, এর মধ্যে এই রাজ্যে আলাদা করে বিজেপির ভোট কিন্তু বাড়েনি। ফলে যে অভিযোগ অহরহ শুনতে হয় যে এই রাজ্যে বিজেপিকে জায়গা করে দিয়েছে তৃণমূল তা একেবারেই সঠিক নয়, অন্তত ভোটপ্রাপ্তির সরকারি পরিসংখ্যান তা বলে না।

    প্রসঙ্গত একটা কথা না বললেই নয়। ১৯৯৮ ও ১৯৯৯, পরপর দুই বছর দমদম লোকসভা আসন থেকে বিজেপির প্রার্থী যে জিতে গেল এর মধ্যে কি একটা বিস্ময় নেই?  দমদম বরাবরই বাম দুর্গ বলে পরিচিত। ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই দমদমে বামেরা প্রচুর গণআন্দোলন গড়ে তুলেছে, দমদম লোকসভা এলাকার মধ্যে অনেকটা শিল্পাঞ্চল, সেখানে বাম শ্রমিক ইউনিয়ন শক্তিশালী ছিল। দমদমের একচেটিয়া সাংসদ ছিলেন শ্রমিক নেতা নীরেন ঘোষ, এলাকার পার্টি সংগঠন দেখাশোনা করতেন বামফ্রন্টের কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা ও মন্ত্রী। সেখানে কী এমন ঘটল যে বামেরা পেছিয়ে পড়ল বিজেপির থেকে? অথচ ওই দুই বছর লোকসভায় বামেদের ফল যে খারাপ হয়েছিল এমন নয়, তাহলে আচমকা বিচ্ছিন্ন ভাবে ওই এলাকার রসায়নে কী ঘটল যে ১৯৯৮ সালে দমদম লোকসভায় বিজেপি পেল ৫০.৭% ভোট ( বাম প্রার্থী ৩৯.৭%), পরের বছর বিজেপির ভোট আরো বেড়ে হল ৫১.৫৯% ( বাম প্রার্থী ৪০.২৯%) ! বামেদের সদর দফতরে এর কী ব্যাখ্যা আছে তারাই জানেন। তবে সে সময়ে একটা কানাঘুষো শোনা গিয়েছিল যে এক হেভিওয়েট মন্ত্রী নাকি দলকে ‘টাইট’ দেবেন বলে বিজেপির পক্ষে নিজের সংগঠন কে কাজে লাগিয়েছিলেন। যেহেতু নারদা স্ট্রিং অপারেশন এর মতো এর কোনো ভিডিও ফুটেজ নেই তাই এটা একরকম ভাবে আজও এক ধাঁধা ।

    ২০০৬ সালের বিধানসভায় তৃণমূল একেবারেই ভাল ফল করতে পারেনি। মাত্র ২৯টি আসন নিয়েই তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয় এবং এন ডি এ র সঙ্গে তাদের সরকারিভাবে বিচ্ছেদ হয় । বিজেপি সেইবার একটিও আসন পায়নি, ভোট পেয়েছিল ১.৯% । আসা যাক ২০১১তে। সেইবার বামফ্রন্টকে হারিয়ে টি এম সি ক্ষমতা দখল করে, তাদের জোটসঙ্গী ছিল কংগ্রেস। বিজেপি একা লড়ে পায় ৪.১% ভোট, ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একা লড়ে  পায় ১৬.৮% ভোট ও ২টি আসন । ২০১৬ সালের বিধানসভায়  তাদের ভোট কমে হয় ১০.২% ( আসন ৩টি ) যা কিন্তু এখনো সেই ১৯৯১এর প্রাপ্ত ভোটকে ছাপিয়ে যেতে পারেনি। ফলে এখনো এই খবর মান্যতা পায় না যে তৃণমূল আমলে বিজেপির ভোট বেড়েছে। অন্যদিকে,  ২০১১ ও ২০১৬ সালে বিধানসভায়  তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল যথাক্রমে ৩৮.৯% ও ৪৪.৯% ভোট অর্থাৎ বৃদ্ধি ৬%। ২০১৯ এর লোকসভার ভোটে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি পেয়েছে ৪০.৩% আর টি এম সি পেল  ৪৩.৩% ( ২০১৪ লোকসভার থেকে ৪% বেশি) আর বিজেপির এই বাড়তি ভোট এল কোথা থেকে ? সেই বিষয়ে ইশারা স্পষ্ট। কারণ ২০১৪ লোকসভায় যে বামেদের ভোট ছিল ২৯.৫%  ২০১৬র বিধানসভায় সেটা হল ২৫.৭%  আর ২০১৯ লোকসভায় সেটা দাঁড়াল ৭% ? এই তথ্যগুলো মোটামুটি সকলেই জানে্ন। বামের ভোট রামে গেছে এই গুজবটা খুব একটা ফেলনা নয় কারন নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া ভোট তথ্য সেই দিকেই ইঙ্গিত করে। কিন্তু তার পরেও এই রকম একটা ভিত্তিহীন অভিযোগ কেন টি এম সি র বিরুদ্ধে তোলা হয় তার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না ।

    অবশ্য একদম ব্যাখ্যা নেই তা নয়। যেসব তথ্য দেওয়া হল তাতে স্পষ্ট যে টি এম সি র সঙ্গে জোটে থেকে বিজেপি এই রাজ্যে মোটেও নিজেদের ভোট বাড়াতে পারেনি। একক চেষ্টায় লড়ে তারা সব থেকে বেশি ভোট একবার পেয়েছে ১৯৯১সালে আর পরের বার ২০১৪সালে। ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বার্থেই টি এম সি বিজেপিকে মাথা তুলতে দেয়নি কারণ বিজেপির ক্ষমতা বাড়লে তাদের বিপদ। পরিবর্তে কিন্তু বামেদের হিন্দু ভোটের একাংশের জোরেই আজ বিজেপির এত বাড় বাড়ন্ত। এই সহজ সত্যিটা বামেরা এড়িয়ে যেতে চায়। কার্যত আজকের অবস্থায় বিজেপির দাপটের পেছনে রাজ্যের সব দলই সমান দায়ী। কেউই সদর্থক অর্থে বিজেপির হিন্দু রাজনীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেনি, এর প্রধান কারণ হিন্দু ভোট হারিয়ে ফেলার ভয়। বামেরাও এর ব্যতিক্রম নয়,  কিন্তু তারা নিজেদের দায় তৃনমূলের ওপর চাপিয়ে নিজেদের মুক্ত রাখতে চায়। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই আজ টি এম সি বিজেপি বিরোধী অবস্থান নিয়েছে, এই মুহূর্তে বাম বা কংগ্রেসের সেই ভয় নেই তাই তারা সব দায় চাপিয়ে দিয়েছে অন্যের ওপর। কিন্তু আজকের ভোটে যদি সত্যিই বিজেপি ক্ষমতায় আসে তার মূল্য চোকাতে হবে সব দলকেই । এই সহজ কথাটা রাজ্যের বিরোধী রাজনীতির প্রান্তীয় সীমায় পৌঁছেও যে বামেরা বুঝতে পারছেন না এখনো এ বড় বিপদের কথা। মন্দ রাজনীতির থেকেও ভুল রাজনীতি কি বেশি ক্ষতিকর নয়?   

     

     

    তথ্য ঋণ : নির্বাচন কমিশন, এন ডি টিভি, পার্থপ্রতিম মৈত্র , উইকিপেডিয়া

     

     

     

     

     

     

  • বিভাগ : আলোচনা | ২৩ এপ্রিল ২০২১ | ২৮০ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে মতামত দিন