• বুলবুলভাজা  সমোস্কিতি  বুলবুলভাজা

  • নির্বাক অভিনয়ের রূপ-রস-ছন্দ

    স্বপন সেনগুপ্ত
    সমোস্কিতি | ০৭ জানুয়ারি ২০২১ | ৩৭৬ বার পঠিত | ১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • নির্বাক অভিনয়! এক সময়ে মাঝে মধ্যে স্কুল-কলেজে আসতেন মূকাভিনয় শিল্পীরা। স্কুল-কলেজ আছে বটে, কিন্তু তাঁদের কি সেসব চত্বরে দেখা যায় খুব! বোধহয় না। মূকাভিনয় নামক শিল্পমাধ্যমটিকে কাছ থেকে দেখে, উপলব্ধি করে বিশ্লেষণ করার কাজ প্রায় চোখে পড়ে না বললেই চলে। এ লেখা সে অর্থে ব্যতিক্রমী। গুরুচণ্ডা৯ সুলভ।

    মানব সভ্যতার প্রথম পর্যায়ে মানুষ তাঁর অনুভূতির প্রকাশ করত-মূলত নির্বাক অভিব্যক্তি ও আকার-ইঙ্গিতের মাধ্যমে!

    কোনও ঘটনার বিবরণও নির্বাক মাধ্যমেই উপস্থাপিত করত; সাথীদের বোঝাত নদীর জলে গাছের ভেলায় ভেসে যাওয়ার সময়, হঠাৎ ঝড়ে, কেমন করে ভেলা উল্টে পড়েছিল! সাঁতার কেটে, উতল হাওয়া আর দুরন্ত স্রোতে, কেমন করে ফিরে আসতে পেরেছিল! অথবা কেমন করে ওরা বন্যপ্রাণী শিকার করেছিল!

    অভিব্যক্তি আর দেহের অঙ্গ-ভঙ্গিমায় সবার কাছে পৌঁছে যেত-সে সব গল্প, ঘটনা আর তার ছন্দায়িত বিবরণ!

    শুরু হল অভিনয় শিল্পকলা! মানুষের গল্প বলা আর যোগাযোগের প্রথম মাধ্যম!

    সভ্যতা এগিয়ে চলল! ভাষা এল! বিবর্তিত হল শিল্প মাধ্যম!

    কবিতা-গল্প-নাটক-চিত্রকলা-সঙ্গীত-নৃত্য-বাদ্য-চলচিত্র! সুর-তাল-লয়-ছন্দ-রূপ-রস! আবেগ-অভিঘাত-মূর্ছনা! প্লট-কন্টেট-থিম!

    মোদ্দা কথা- মানুষ নিজের কথা বলতে চায়! মনের কথা! অনুভূতির কথা!
    কিন্তু মজার কথা হল- মানুষ সবটা বলতে পারে না! কিছু কথা বলা হয়ে ওঠে না- বুঝে নিতে হয়!

    ‘না বলা বাণী’র মাঝে শুধু কিছু অনুভূতির প্রকাশ-ক্রমাগত আবেগের অনুপম বর্ণচ্ছটা ছড়িয়ে পড়ে চোখের ভাষায়, মুখের অবয়বে, আকারে ইঙ্গিতে, চালচলনে, দেহ ভঙ্গিমায়; আর এইসব মনোভাবের (অ্যাটিটিউড) অন্তর্নিহিত ছন্দোবদ্ধ প্রকাশই হল নির্বাক অভিনয়ের (বা প্যানটোমাইমে’র) রূপ রস আর ছন্দ!

    মার্সেল মার্সো’র মতে- ‘প্যানটোমাইম ইজ দ্যা আর্ট অফ এক্সপ্রেসিং ফিলিং বাই অ্যাটিটিউড অ্যান্ড নট মিনজ অফ এক্সপ্রেসিং ওয়ার্ডজ থ্রু জেসচারজ।’

    পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অনুভূতি ভালোবাসা’কে শুধুমাত্র চোখের ভাষাতেই প্রকাশ করা সম্ভব! ‘পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন’এর অভিব্যক্তি আমাদের কল্পলোকে অনুরণন তোলে! শব্দ তখন হারিয়ে যায়! শিহরিত অনুভূতির রঙিন আবিলতা আমাদের আবিষ্ট করে! আমরা আনন্দিত হই!

    আসলে মানুষের অনুভূতির প্রকাশ হয় মূলত তার ভাবে, ইঙ্গিতে, চলনে, অভিব্যক্তিতে! যে কোনও ঘটনার প্রাথমিক প্রভাব পড়ে তার শরীরে! কথা আসে তারপরে!

    দৈনন্দিন জীবন যাপনেও আমরা প্রতিনিয়ত এ ভাবেই একে অন্যের সাথে ভাবের বিনিময় করি! গড়ে ওঠে সম্পর্ক!

    নাট্যশাস্ত্র’ গ্রন্থে ভরত বলছেন -

    অভিপূর্বস্থ নীঞ ধাতুরাভি মুখ্যর্থ নির্ণয়ে।
    যস্মাৎ প্রয়োগং নয়তি তস্মাদভিনয়ঃ স্মৃতঃ।।

    বিভাবয়তি যস্মাচ্চ নানার্থন্‌ হি প্রয়োগতঃ।
    শাখাঙ্গো প্রাঙ্গসংযুক্ত স্তস্মাদ ভিনয়ঃ স্মৃতঃ।।



    (৮ম অধ্যায়/ ৬ ও ৭)



    এখানে অভি পুর্বক ‘নীঞ‌’ ধাতুর উত্তরে ‘অচ্‌’ প্রত্যয় যোগে অভিনয়’ শব্দটি এসেছে।

    এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে অভি’ উপসর্গের অর্থ হল দিকে বা অভিমুখে আর ‘নীঞ্’ ধাতুর অর্থ-নয়ন’, এখানে যা ‘নিয়ে যাওয়া’ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে! ‌ সুতরাং ‘অভিনয়’ হল ভাবের রূপটিকে অপরের দিকে নিয়ে যাওয়া বা পৌঁছে দেওয়া!

    সুতরাং ভাবের রূপায়ন মানে অবশ্যই অনুভূতির প্রকাশ! আর প্রকাশ করা বা অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হল শাখা অর্থাৎ অঙ্গ ও উপাঙ্গ সংযুক্ত প্রক্রিয়া বা আঙ্গিকাভিনয়!

    মজার কথা হল ভরত মুনি’ প্রায় ২৫০০ বছর আগে যা বলেছেন, সেই একই কথা এখন মার্সেল মার্সো বলছেন- “---এক্সপ্রেসিং ফিলিং বাই অ্যাটিটিউড!”

    অ্যাটিটিউড বা মনোভাব:

    এই অ্যাটিটিউড বা মনোভাব কোনও ব্যক্তি বা বিষয় বা ঘটনার ক্ষেত্রে ইতিবাচকও হতে পারে, নেতিবাচকও হতে পারে! এই অ্যাটিটিউড কেমন হবে, তা নির্ভর করে প্রত্যক্ষ জ্ঞান এবং উপলব্ধির উপর বা অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অথবা বর্তমানের প্রবল ক্ষমতাশালী মিডিয়া দ্বারা প্ররোচিত হয়ে!একজন মাইম বা নির্বাক অভিনেতা কোনও ঘটনা, গল্প বা শিল্পিত নির্বাক মুহূর্ত উপস্থাপিত করার সময়ে দর্শকের মনোভাব বিশ্লেষণ করবেন, দর্শকের সাথে একাত্ম হওয়ার চেষ্টা করবেন! উপস্থাপনার বিষয়ের সাথে অভিনেতা আর দর্শকের অ্যাটিটিউড একরকম হওয়াটা অবশ্যই বাঞ্ছনীয়! দর্শকের মনে যে কোনও বিষয়ের/ঘটনার চলন বা ভবিতব্য সম্পর্কে একটা পূর্বনির্ধারিত জ্ঞান থাকে; অভিনেতাকে ঐ ঘটনার/বিষয়ের অভিনয় করতে হলে-ঠিক তেমনটিই করা উচিত-যেমনটি হবার ছিল!

    দড়ির উপর বা সরু পাঁচিলের উপর হাঁটতে গেলে শরীরের ভারসাম্য ঠিক ছন্দেই রাখতে হবে! ছন্দ পতন হলে ভাবের রূপটিকে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে না।

    অ্যাটিটিউডের বা মনোভাবের ব্যবহারিক ভিত্তি:

    সেলফ পার্সেপশন থিয়োরি’ অনুযায়ী, আমরা জানি যে, কোনও ঘটনা বা বিষয় অথবা ব্যক্তি সম্পর্কে আমাদের নিজস্ব পূর্ব অভিজ্ঞতালব্ধ একটা ধারণা থাকে। বিভিন্ন ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে আমরা এই অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করি।

    আকাশের রঙিন খেলায় আমরা আনন্দিত হই। পাখির ডাকে আমরা রোমাঞ্চিত হই। ফুলের গন্ধে আমরা আবিষ্ট হই। শিশুর কোমল হাতের পরশে আমরা অভিভুত হই। মিষ্টান্ন’র স্বাদে আমরা পুলকিত হই। এই সমস্ত অনুভূতি আমাদের আনন্দ দেয়।

    আবার অনেকসময় অন্য ধরনের উল্টো অভিজ্ঞতা আমাদের নিরানন্দও করে!

    বিস্তীর্ণ প্রান্তরে একলা পথিক- হঠাৎ আকাশ কালো করা মেঘে বিচলিত হবেন।

    অথবা দুরন্ত গতিতে ছুটে আসা বিশাল লরি দেখে একজন পথচারীর দিগভ্রান্ত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে ওঠাই স্বাভাবিক!

    আবার বিভিন্ন সমাজে বা সামাজিক কাঠামোয় মূল্যবোধও একেক রকম। পাশ্চাত্য সভ্যতায় নারী পুরুষের সম্পর্ক খোলামেলা, স্বাধীন এবং আমাদের দৃষ্টিতে হয়ত কিছুটা প্রগলভ। লন্ডন-প্যারিস বা নিউইয়র্ক মেট্রো স্টেশনে একজোড়া যুবক-যুবতী’র প্রলম্বিত উষ্ণ আলিঙ্গন এখনও আমাদের শহরের মেট্রো স্টেশনে হয়ত মূল্যবোধজনিত সামাজিক শিক্ষার কারণেই সংযত। অথবা পিতৃতুল্য মানুষের কাছে কোনও যুবক সিগারেট ধরাবার জন্য, যদি বলে ওঠে- ‘দাদা একটু আগুনটা দিন তো!’-তবে তা দৃষ্টিকটুও ঠেকতেই পারে।

    প্রাত্যহিক ব্যবহারিক জীবনে আমাদের নিজস্ব বোধের সঙ্গে এইসব ঘটনা, বিষয় বা ব্যক্তির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার একাত্মতা আমরা অনুভব করি; আমাদের জ্ঞানলব্ধ অভিজ্ঞতার সঙ্গে সেই মুহূর্তের কার্যকারণের একটা মিল পাই!

    সাবান দিয়ে হাত ধুলে ফেনা হয় এবং হাত সাফ হয় অথবা রসগোল্লা সুস্বাদু এবং মিষ্টি। অনুভূতি একই রকম হলে সবকিছু ঠিকঠাক। কিন্তু অনুভূতির প্রকার ভেদ হলেই আমরা বিচলিত হই।

    কগ্নিটিভ ডিসোনেন্স থিয়োরি- অনুযায়ী আমাদের অভিজ্ঞতার সাথে কোনও ঘটনার ছন্দ পতন হলে আমাদের অনুভুতিও হয় অন্যরকম!

    সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার সময় ফেনা হচ্ছে না, উল্টে যেন জ্বলছে! অথবা রসগোল্লার স্বাদ তিতো কেন? ইস্‌, এতো পচা ছানা! ---- এই যে হঠাৎ করে পাল্টে যাওয়া অনুভূতি, তার প্রকাশও হয় অন্যরকম!

    এই অন্য অনুভূতিটাই হল বিস্বর বা ডিজোনেন্স!

    নির্বাক অভিনয় বা প্যান্টোমাইমে’র বিষয় নির্বাচন ও নাট্যায়নের জন্য এই বিস্বর বা ডিসোনেন্স’টা অত্যন্ত জরুরী।

    বিষয়টা বোঝাবার জন্য ৭০ দশকে আমাদের গ্রুপের (ক্যালকাটা সাইলেন্ট থিয়েটার) একটি স্কেচের (ড্রিমস ফ্রম স্বপন) কথা উল্লেখ করছি।

    প্রেক্ষাপট- তখন উত্তাল সময়! চারদিকে আন্দোলন! পুলিশের গুলি! রাজপথে রক্ত! মৃত্যু!

    উপস্থাপনা- একজন নির্বাক অভিনেতা একটি বই পড়ছেন। পড়তে পড়তে কোথায় হারিয়ে যাচ্ছেন- যেন স্বপ্ন দেখছেন!

    আন্দোলন চলছে! একজন যুবক মিছিলে হাঁটছেন! হাত তুলে স্লোগান দিচ্ছেন! হঠাৎ পুলিশের লাঠিচার্জ!

    আন্দোলনকারীরা ছুটে পালাচ্ছে! কেউ কেউ রুখে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে! পুলিশের দিকে ইট ছুড়ছে!

    ঘোড়সওয়ার পুলিশ লাঠি চার্জ করছে! আন্দোলনকারীরা পিছু হটে আড়াল থেকে ইট ছুড়ছে!

    পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছে! আন্দোলনকারীরা- যে কাঁদানে গ্যাসের শেলগুলি ফাটছে না- সেগুলো তুলে নিয়ে উল্টে ছুড়ে দিচ্ছে পুলিশের দিকে!

    পুলিশ গুলি ছুঁড়ছে। আন্দোলনকারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটে পালাচ্ছে। কেউ কেউ পুলিশকে লক্ষ্য করে বোম ছুঁড়ছে।

    পুলিশ এলোপাথাড়ি গুলি চালাচ্ছে! আন্দোলনকারীরাও ছত্রভঙ্গ!

    হঠাৎই একটা গুলি লাগে একজন যুবকের শরীরে! যুবকটি মুষ্টিবদ্ধ হাত আকাশের দিকে ছুঁড়ে লুটিয়ে পড়েন রাজপথে!

    যে পুলিশটি গুলি চালিয়ে ছিলেন, তিনি বিজয় গর্বে এগিয়ে আসছেন! কিন্তু এ কী! ছেলেটি যেন চেনা মনে হচ্ছে! পুলিশটি দুরু দুরু বুকে এগিয়ে এসে দেখেন- এ যে তার’ই ছেলে-হায়!!

    এমনটি তো হওয়ার কথা নয়-এই যে বিস্বর বা ডিসোনেন্স সমস্ত দৃশ্যায়নকে একটা অন্যখাতে পৌঁছে দেয়! ঘটনার এই আকস্মিকতা দর্শকের মনকে আলোড়িত করে- যেন মনে মনে বলে ওঠেন - ইস্‌!!

    অথবা সমরেশ বসুর ‘আদাব’ গল্প!

    দাঙ্গার সময়ে দুজন মানুষ ছুটে পালাতে পালাতে একই জায়গায় লুকিয়ে পড়েন! দু’জনের কেউই জানেননা অন্যজনের পরিচয়! কথায় কথায়, তাঁরা জানতে পারেন একজন হিন্দু আর অন্য’জন মুসলমান!

    পাঠক তাঁর বোধ বা উপলব্ধি (পারসেপশন) অনুযায়ী হয়তো ভাবতে বসবেন- এবার শুরু হবে হিন্দু-মুসলমানের লড়াই! কিন্তু না! ওঁরা একসঙ্গে আশু বিপদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করেন! বিস্মিত পাঠকের অ্যাটিটিউড বা মনোভাবেরও রূপান্তর হয়!

    অথবা পথের পাঁচালী ছবিতে হরিহর শহর থেকে ফিরে উপহারগুলো দেখাচ্ছেন, দুর্গার শাড়ি দেখাচ্ছেন- হরিহরের পরিপ্রেক্ষিতে (পারসপেক্‌টিভে) তাঁর ধারণা ও অনুভূতি (পারসেপশন) অনুযায়ী হয়তো তিনি ভাবছেন- এখনই দুর্গা আসবে; জড়িয়ে ধরে বলবে- বাবা! কিন্তু না! সমস্ত পারসেপশন চুরমার করে দিয়ে দুর্গার মৃত্যুসংবাদ! হরিহরের কাছে এ এক চূড়ান্ত বিস্বর (ডিসোনেন্স) - একটা চরম পরিণতি (পয়েন্ট অফ্‌ ক্লাইম্যাক্স)!

    অথচ দর্শক কিন্তু জানতেন দুর্গার মৃত্যুসংবাদ! ছবিটার স্টাইলটা বর্ণনামূলক (ন্যারেটিভ); স্বাভাবিক ভাবেই হরিহরের কাছে দুর্গার মৃত্যুসংবাদ পৌঁছোবার মুহূর্তে দর্শকের পারসেপশনে দর্শকের কাছে দুর্গার মৃত্যুসংবাদ ডিসোনেন্স নয়! কিন্তু সত্যজিতের অসাধারণ পরিবেশনায় ব্যাকগ্রাউন্ডে তার সানাই আর সর্বজয়ার দুর্গার শাড়িটা দাঁত দিয়ে কামড়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ার দৃশ্যে - দর্শকও আবেগে আপ্লুত হয়ে একটা পয়েন্ট অফ ক্লাইমাক্সে পৌঁছে যান!

    অথবা চার্লি চ্যাপলিনে’র ‘গোল্ড রাশ’!

    ক্ষুধার্ত চ্যাপলিন’ জুতো সিদ্ধ করে আয়েশ করে কাঁটাচামচ দিয়ে জুতোর ফিতে খাচ্ছেন! সমস্ত দৃশ্যটাই আমাদের পারসেপশনের বাইরে! এই সামাজিক কাঠামোর বিরুদ্ধে যেন এক নির্বাক বিদ্রোহী নির্মম বিদ্রুপ!

    সুতরাং মোদ্দা কথা- একজন নির্বাক অভিনেতা(মাইম) অবশ্যই দেহ ভঙ্গিমায় আর অভিব্যক্তিতে ‘অনুভূতি প্রকাশে’র জন্য একটার পর একটা ইলিউশন (মায়া-বিভ্রম) তৈরি করে গল্প বলবেন- হ্যাঁ, গল্পই বলবেন, এমন গল্প যা মনকে আলোড়িত করে, একটা অভিঘাতের সৃষ্টি করে!

    রসসৃষ্টি না করে পরিবেশনা করলে দিনের শেষে কিছুই দাঁড়ায় না! অন্তত শিল্প হয়ে ওঠে না!

    প্যন্টোমাইমে’র রূপ রস আর ছন্দে- আমাদের রূপ আর ছন্দ হয়তো আছে, কিন্তু প্রায়শই রসের অভাবে রসস্বাদন করা যাচ্ছে না! সুতরাং এই অসাধারণ শিল্প মাধ্যমকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অবশ্যই রসসমৃদ্ধ গল্প বলা প্রয়োজন।



    ছবি- pixabay
  • বিভাগ : সমোস্কিতি | ০৭ জানুয়ারি ২০২১ | ৩৭৬ বার পঠিত | ১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Sankar Kusari | ০৮ জানুয়ারি ২০২১ ২০:১৪101568
  • আমি আমার সামান্য জ্ঞানবুদ্ধি নিয়ে যদ্দুর বুঝি মূকাভিনয় বিষয়টা সাধারণ অভিনয়ের থেকে অনেক বেশি কঠিন। এমনকি নির্বাক চলচ্চিত্রের তুলনাতেও এই মাধ্যমটি কঠিনতর। সত্যি বলতে কি কোনোরকমের সাহায্যকারী বস্তু বা বাক্য এই পদ্ধতিতে নেই। কিন্তু এটাও সত্যি সঠিকভাবে উপস্থাপনা করতে পারলে দর্শক মনে অসম্ভব একটা প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে সক্ষম এই ধরনের অভিনয়। স্বপন বাবুকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এই বিষয়টাকে এমন সহজ সরল ভাবে তুলে ধরার জন্যে।.. 

  • Tapan Kumar gupta | 103.217.234.172 | ০৮ জানুয়ারি ২০২১ ২২:১৫101570
  • দারুন।  anek পড়াশুনার  jজন্য   এই  প্রতিবেদন  সৌন্দর্য  লাভ  korte  পেড়েছে . অনেক  শুভেচ্ছা  রইলো 

  • সুভাষ বাগচী | 115.124.43.151 | ০৯ জানুয়ারি ২০২১ ০০:০৫101573
  • 'নির্বাক অভিনয়ের রূপ..' লেখাটি অবশ্যই সুখপাঠ্য; কিন্তু, যেটা আরও বলার- এ আলেখ্যর প্রাজ্ঞলতা। একটি অপেক্ষাকৃত কম জনপ্রিয় অভিনয় মাধ্যম সম্বন্ধে একজন লে-ম্যানকেও ছিপছিপে এই রচনাটি মাইম সম্বন্ধে আগ্রহী করে তুলতে সক্ষম। স্বপন যে বিষয়টি তত্ত্বগত ও প্রয়োগগত ভাবে গুলে খেয়েছে সেটা কঠিন বিষয়কে সহজ করে বলার ভাষা ও প্রকাশভঙ্গিমাতেই ব্যক্ত। শুভেচ্ছা রইল। 


      ্

  • Gahan Sengupta | 117.222.69.253 | ০৯ জানুয়ারি ২০২১ ১২:৪৭101577
  • This is an excellent article on pantomime ! Beautifully presented and very lucidl explained . The depth of the content clearly shows that the author himself was an eminent artist in this very difficult genre of performing art .


    In my opinion , this article will remain as a treasure on pantomime .


    With best wishes ,

  • Gahan Sengupta | 117.222.69.253 | ০৯ জানুয়ারি ২০২১ ১২:৪৯101578
  •  lucidlly

  • বাপ্পা | 2401:4900:1040:c425:0:55:9a2:9701 | ০৯ জানুয়ারি ২০২১ ১৪:৫৭101580
  • বেশ ভালো লেখা। আরো কিছু লেখা দরকার।বাংলার প্রান্তিক বহুরূপীদের  নিিয়ে।

  • শুক্লা মুখোপাধ্যায় | 45.123.161.152 | ০৯ জানুয়ারি ২০২১ ১৯:১২101586
  • লেখাটা পড়ে অনেক গুলো না জানা technical term জানা হল । আরেকটু বিসদ হলে ভালো হতো । শ্রুতি নাটক এবং নাটক এই দুটি ভিন্ন ধরণের নাটকের মধ্যে কোনটির জন্য কোন বিষয়ের ওপর concentrate করতে হবে  এই নিয়ে একটু আলোচনা হলে ভালো হয় ।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন