• বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  উৎসব  শরৎ ২০২০

  • De otro lado / Gloria Bernal/ Traducción - অন্য দিক থেকে/ গ্লোরিয়া বেরনাল/

    অনুবাদ- জয়া চৌধুরী
    ইস্পেশাল | উৎসব | ০২ নভেম্বর ২০২০ | ৭৮২ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • “আমরা প্যারা মিলিটারি। গেরিলা যোদ্ধাদের খুঁজে বের করতে এসেছি”- একথা চিৎকার করে বলছিল ওরা। সকালের সময়টায় মারামারির শব্দে ঘুম ভেঙে গেছিল রোসার। সাবধানে উঠে বসল যাতে বাচ্চারা জেগে না যায়। এই ঘরটায় এক মাস আগে তার স্বামী খুন হয়েছিল, এখানেই বাচ্চারা ঘুমোচ্ছে।

    দরজার উল্টোপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ওর নাম ধরে ওরা ডাকছিল। “দরজা খুলে দে আমাদেরর না হলে ওটা ভেঙে ফেলব আমরা”। সে দরজা খুলেছিল। অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অনেক লোকজন ঘরে ঢুকে পড়েছিল। ওদের মাথা ঢাকা। বাচ্চারা ভয়ে জেগে উঠতেই চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করেছিল। রোসা বাচ্চাকে এক হাতে নিয়েছিল আর মেয়েটাকে দু পায়ের ফাঁকে।
    যে লোকটা আলো জ্বালিয়েছিল তার পরনে অন্যদের মতই কালো পোশাক। বুট জুতো পরা। কারো কারো মুখে লাল রঙের রুমাল বাঁধা আর কালো টুপি দিয়ে মুখ ঢাকা।

    লোকটা তাকে স্বামীর কথা জিজ্ঞেস করেছিল। এক মাস আগে এই ওরাই এসেছিল তাকে মেরে ফেলতে। “আহ সেজন্যই সে ভয় পেয়েছে”। রাগী ষাঁড়ের মত ফুঁসে উঠল মেয়েটা। দাঁতের ফাঁক দিয়ে ঘন লালা বেরিয়ে এল। লোকটার মুখ তাক করে থুতু ছুঁড়ল। তারপর রোসা যখন মাথা নিচু করল ওরা তখন ওর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়েছিল। গায়ে রগড়াচ্ছিল ওটা। মেয়েটার পায়ের নখ পর্যন্ত ভয়ে হিম শীতল হয়ে গিয়েছিল।

    কান্না না থামিয়েই বাচ্চারা খাটের নিচে গিয়ে লুকিয়ে পড়েছিল। “বাচ্চাগুলোকে চুপ করা। হয় ওরা থামবে নাহলে আমরা ওগুলোকে মারব”। মেয়েটা ওদের কাছে কাকুতিমিনতি করেছিল যাতে বাচ্চাদের কোন ক্ষতি তারা না করে। ওদের একজন বাচ্চার দিকে তাক করে রেখেছিল বন্দুক, সে তখন বলল “ঠিক আছে, তাহলে আমার সঙ্গে তোকে কথা বলতে লাগবে”।
    লোকটা রোসাকে খাটের ওপর বসাল। “সত্যি করে বল নইলে তোকে এক গুলিতে খতম করে দেব”। ওকে জিজ্ঞেস করেছিল সে কোথায় কাজ করে। মেয়েটার হাসপাতালের নার্স ছিল। “মিথ্যে কথা, তুই অন্য কোন চাকরি করিস। ড্রাগ আর অস্ত্রগুলো সব কোথায় গেল?” মেয়েটা উত্তর দিল তার কাছে কোনটাই নেই। অনুভব করল বন্দুকের লোহা তার মাথায় ঠেকে আছে আর ওরা চিৎকার করছে। বিছানার নিচে থাকা বাচ্চাগুলো তখন কান্না থামিয়ে দিয়েছিল।

    যতবার ওরা মাথায় আরো শক্ত করে বন্দুক ঠেকাচ্ছিল অন্য লোকগুলো গোটা বাড়ি তছনছ করে দেখছিল। কাপড় চোপড় ছিঁড়ে ফেলছিল। “নড়বি না, নড়লেই মেরে ফেলব” ওর স্কার্ট ছিঁড়ছিল তারা। পতাকা আঁকা তিনরঙ্গা ব্লাউজের নিচে ওর স্তন দুটির মধ্যে বন্দুক গুঁজে দিয়েছিল। বন্দুক গুঁজে ছিঁড়ে ফেলেছিল ব্লাউজ।

    “সত্যি কথা বল, নাহলে তোকে আর তোর বাচ্চাদের সবাইকে মারব”। ওরা কী নিয়ে কথা বলছে সে সম্বন্ধে মেয়েটার কিছু জানা ছিল না। ওরা চিৎকার করে তাকে মিথ্যেবাদী বলছিল। তার স্বামীর মত গেরিলা সৈন্যের সাহায্যকারীনী ভাবছিল তাকে। “আমরা প্যারা মিলিটারির লোক। গেরিলা যোদ্ধাদের মারতে এসেছি। তুই জানিস অস্ত্রগুলো সব কোথায় আছে। কথায় দক্ষিণী টান। লোকটা মেয়েটার চাইতে বিশাল বড় চেহারা। মোটা হাতে কালো গ্লাভস পরে, সরাতে গিয়ে তার বাদামী আঙুলের দিকে তাকাল। “কেমন করে আমায় না বলে থাকিস, দেখব। তোকে চুদব”। ডাক্তারদের ব্যবহার করার সাদা গ্লাভস পরল। জিজ্ঞেস করল কতদিন সে সহবাস করে নি।

    ব্লাউজ খুলে ফেলতে বলল। রোসা মিনতি করল তাকে থামার জন্য। চিৎকার না করে নিঃশব্দে কাঁদতে শুরু করল, যাতে খাটের নিচে থাকা বাচ্চাদের কানে না যায়। লোকটা জোর করে যাচ্ছিল হয় সে বলুক না হলে ওকে মেরে ফেলবে। আর যদি চেঁচায় তাহলে বাচ্চাদের সামনে ওকে উলঙ্গ করে দেবে। খাটের ওপর শোয়াল তাকে। এক থাপ্পড় দিয়ে অন্তর্বাস টেনে খুলে ফেলল। পা ফাঁক করে দিল। এক হাতে বন্দুক, অন্য হাতে সার্জেন্টের গ্লাভস পরা।

    প্রসব করার সময় যেমন থাকে সেরকম ভাবে রাখল মেয়েটাকে। “যদি এতেও না ভাঙে তাহলে মেরে ফেলব”। লোকটা তার আঙুল ওর যোনিতে ঢোকাল। ওকে কঠোর ভাবে পিষ্ট করে ফেলতে ফেলতে অস্ত্র কোথায় সেকথা জিজ্ঞেস করছিল বারবার। ড্রাগ কোথায় যা ও লুকিয়ে রেখেছে। মেয়েটি বারবার মিনতি করছিল তার বাড়িতে ওসব কিচ্ছু নেই। ভগবানের দিব্যি কাটছিল সে। “ঠিক আছে, এই যদি তুই চাস” তাকে উঁচুতে তুলে ধরল। পুরুসাঙ্গ ঠেসে ধরল। পুরো বীর্যের থলি উপুড় করে দিল ওর যোনিতে।

    অন্য পুরুষেরা তাকে তাড়া দিচ্ছিল।“ চল চল, আরো অনেকে অপেক্ষা করছে সঙ্গমের জন্য। মেয়েটা পক্ষাঘাতগ্রস্তের মত পড়ে রইল। কিছু বলল না। চিৎকারও করল না, নিঃশব্দে কাঁদছিল। বাচ্চার কথা ভাবছিল, খাটের নিচে থাকা ওর বাচ্চা। তাকে সান্ত্বনা দিতে চাইছিল। শেষ সময় তো আসবারই ছিল।


    ছবিঃ ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক

    পড়তে থাকুন, শারদ গুরুচণ্ডা৯ র অন্য লেখাগুলি >>
  • বিভাগ : ইস্পেশাল | ০২ নভেম্বর ২০২০ | ৭৮২ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
আরও পড়ুন
একা - Shah Alam Ranzu
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Prativa Sarker | ০৬ নভেম্বর ২০২০ ১৯:২৯99693
  • কী ভয়ানক কাহিনি ! কিন্তু সর্বত্র বাস্তব। এই ভয়াবহতা বাস্তবতা দুইই অনুবাদের গা থেকে চুইয়ে পড়ছে। 

  • Jaya Choudhury | 223.191.19.121 | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১২:৩৩102728
  • Thanks

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন