• টইপত্তর  বাকিসব  মোচ্ছব

  • আহিরণ নদীর বুক ফাটে, মুখ ফোটে না

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    বাকিসব | মোচ্ছব | ০৩ অক্টোবর ২০২০ | ৩৮০ বার পঠিত | ১/৫ (১ জন)
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • (১)

    সাঁঝবেলায় গাছপালা ফলপাকুড় পাখপাখালির গপ্পোসপ্পো

    কত দিন আগের কথা? তা প্রায় দু’কুড়ি কি তারও আগের বছর।  আহিরণ নদীর তখন ভরা যৌবন।  ছলছল টলটল।  ওর রকমসকম দেখে চিন্তিত মুখে মাথা নাড়ে প্রাজ্ঞ বট আর বুড়ো পাকুড়গাছ।  বুঝলে, অত ছটফটানি ভাল নয়, একটু রয়ে সয়ে।  যা বলেছ যৌবন হল ভগবানের দান, হেলাফেলার জিনিস নয়, একটু সামলে সুমলে , নইলে কিছু একটা হতে কতক্ষণ! বট ফের মাথা নাড়ে আর দু’চারটে বাদুড়ে ঠোকরান ফল মাটিতে ছিটকে পড়ে।

    বাবুলগাছ  এসবে পাত্তা দেয় না; বরং মিচকি হেসে বলে হিংসে হচ্ছে? তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে পড়শি অশ্বত্থ।  হাসিস কেন লা?

    হাসব না? আরে ভগমান যাকে রূপ-যৌবন দিয়েছে , তাকে রক্ষা করার শক্তি -বুদ্ধিও দিয়েছে।  তোমরা নিজের চরকায় তেল দাও দিকি! আহিরণের চিন্তা করবে ওর বাপ হসদেও নদী। 

    ব্যস, ফুটন্ত তেলে জলের ছিঁটে পড়ল।

    কিন্তু বাবুলের হয়ে গলা তুলল কোসম-পলাশ-শিমুলের দল।  হক কথা।  বাবলাগাছের কাঁটা আছে।  আর আমাদের আছে ঠাকুরদেবের দয়া।  গতবছরের কথা এর মধ্যেই ভুলে গেলে! সবার বাক্যি হরে গেল।  বল না কোসম, নিজের মুখে বল!

       কোসম গাছ হাসে । ও বেড়ে উঠেছে ঠিক যেখানটায় আহিরণের কোমর নাচের ছন্দে বাঁক নিয়েছে । ও ফিসফিসিয়ে বলে যে বেড়ে ওঠা বিধির বিধান, এতে আহিরণের কোন হাত নেই, কিন্তু গৌরব আছে। বুড়োগুলো খালি ভয় দেখায়, আসলে হিংসে করে। সবাইকে ওদের মত জবুথবু হয়ে বাঁচতে হবে নাকি! হ্যাঁ, বিপদ-আপদ আছে, তাতে কি? নিজেকে রক্ষা করতে জানতে হয়। কোসম গাছ জানে।

    হ্যাঁ, সে এক কান্ড হয়েছিল বটে।  খেল দেখিয়েছিল কোসম গাছ।  কয়েকবছর আগে এক ভরা বরষার দিন।

    ভিন গাঁ থেকে এসেছিল তিনজন কাঠুরে। তারা এদিক ওদিক দেখে সামনের অশত্থ গাছের তলায় বসে বিড়ি খেল। গামছা দিয়ে গায়ের ঘাম মুছল। তারপর বেছে নিল কোসম গাছটিকে। ওরা তিনবার প্রদক্ষিণ করে বয়স্ক লোকটিকে বলল-- লে, বুড়উ, তঁয় শ্রীগণেশ কর।

        বুড়ো পিচ করে থুতু ফেলল আর কুড়ুল তুলে মনে মনে কোন মন্তর আউড়ে ঘা বসাল কোসমের গায়ে। তারপর ওর ভুরূ কুঁচকে গেল।  সামান্য ছিলকা ছিটকে উঠেছে। কিন্তু দাগটা তেমন গভীর হয় নি। ও গম্ভীর হল। এবার কুড়ুল হাঁকড়াল বেশ জোরে, হাঁ: করে শ্বাসের শব্দ তুলে। কোথায় কী!

      বুড়োর হাত থেকে ছিটকে পড়েছে কুড়ুল, আর বুড়ো এক পায়ে লেংচে বেড়াচ্ছে। ওর পায়ে হুল ফুটিয়েছে এক কাঁকড়াবিছে। কোসমগাছের গোড়ায় কোন গর্তে ওর বাসা কে জানে!

      দলটা চলে গেল। প্রবীণ সঙ্গী বাকি দুজনের কাঁধে লেংচাতে লেংচাতে যাচ্ছে দেখে কোসম গাছ ফিকফিকিয়ে হাসল।

     কাঁকড়াবিছে গাছকে বলল--কেইসন সঙ্গী? বনে বনে?

     গাছ বলল--বনে বনে!

      (কেমন হল সাথী? ঠিক করলাম তো?

         --ঠিক ঠিক।)

    তারপর কার্তিক মাসে হল আরেক ফ্যাসাদ।

    কয়েক কোশ দূরের ছুরিখুর্দ বা ছোটকী ছুরি গাঁ থেকেএসেছিল আমোল সিং বৈদ্যরাজ, সঙ্গে দুই চ্যালা।  কী না কোসমগাছের শুকনো ফল, ডাল আর পাতা নিয়ে যাবে।  তার থেকে  বীজ পিষে হবে তেল।  সেই তেলের অনেক গুণ; গায়ের ব্যথা সারে, পিদিম জ্বলে, পোয়াতির পেটে মালিশ করা যায়। 

      বৈদ্যরাজের অভিজ্ঞ চোখ ভাল করে কোসমকে জরিপ করল, সামনে পেছনে দু’দিক থেকে।  দুটো ফল কুড়িয়ে নিয়ে টিপে টুপে কিছু বিড়বিড় করল।  পাতা হাতে ধরে দেখল তার শিরা-উপশিরা।  গাছের শরীরে দু’জায়গায় দাগ দিয়ে চ্যালাদের বলল কোপ লাগাতে।  এদিকে রাগে ফুঁসছিল কোসম।  ওরা টের পায় নি।  প্রথমজন কুড়ুল তুলে হাঁকড়ালো এক কোপ, কিন্তু কুড়ুল গেল পিছলে, ছিটকে পড়ল মাটিতে।

    খিঁচিয়ে উঠল আমোল সিং—কেইসন লেরভের আদমি! ঘর লে কা খাকে আয়েহস?

      (ক্যামন ল্যাবা রে তুই! বাড়ি থেকে খেয়েদেয়ে আসিস নি?)

    অন্য চ্যালাটি এবার তুলল কুড়ুল।  গাছের সামনে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে লাগালো এক কোপ।  আর কী আশ্চর্য! এবার কুড়ুল ঠিকরে গিয়ে পড়ল ওদের গুরু বৈদ্যরাজের পায়ে।  আমোল সিংয়ের গলা চিরে বেরল বীভৎস আর্তনাদ।  আর যায় কোথায়! দুই চ্যালা গুরুকে ফেলে দানো ! দানো! চিৎকার করে পড়িমড়ি করে ছুটে পালালো।  ঘন্টা দুই পরে ওরা ফিরে এল গাঁ থেকে জনাদশেক লোক আর একজন বৈগাপুরুতকে সঙ্গে নিয়ে।  প্রথমে বৈগা মন্ত্র পড়ে অপশগুন বা অশুভ জায়গাটা বন্ধন করল।  তারপর রক্তে মাখামাখি পা অর্ধচেতন আমোল সিংকে ওরা নিয়ে গেল গাঁ থেকে বয়ে আনা একটি খাটিয়ায় শুইয়ে।

     ওই ঘটনা ঘটেছিল এই আহিরণ নদীর পাড় ঘেঁষে আর পুরো ব্যাপারটা ড্যাবডেবিয়ে বড় বড় চোখ মেলে দেখেছিল বট-অশত্থ-পাকুড়ের দল।  ঠিক কথা।  তারপর বহুদিন নদীর এপারের জঙ্গলে কোন মনিষ্যি কাঠ কাটতে আসেনি।  সেই কথা ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বট-পাকুড়।  সবটাই কি ভাল? মানুষকে বাদ দিয়ে কি আমাদের চলে? ভেবে দেখ।

    কোসমের আঁতে ঘা লাগল কি? ও বলল—বেশ কথা। মানুষের সঙ্গে আমাদের কিসের সম্পর্ক? কত্তারা খোলসা করে বলুন।

    কেন? দেয়া-নেয়ার সম্পক্কো, সে কি আজ থেকে? সেই বাপ-পিতামোর ও অনেক আগে থেকে।

    যেমন, আমরা ওদের ছায়া দিই, ফল-ফুল দিই, জ্বালানি কাঠ দিই।  হ্যাঁ, হ্যাঁ, ঘর বানাতে খুঁটি, বাতা, ঘর ছাইতে কড়ি-বরগা।  আরে তুই ও তো দিস, তেল বানাতে ফল।

    বেশ, প্রতিদানে ওরা কী করে?

    চিড়বিড়িয়ে উঠল নব্যযুবক বনইমলি।  কী করে? আমাদের অ্যায়সি কী ত্যায়সি করে।

    কোথা থেকে উড়ে এল একঝাঁক ঘরফেরতা পাখির ঝাঁক।  ওদের পাখার সরসরানিতে হাওয়ায় ঢেউ উঠল—ঠিক ঠিক। 

     তারপর কেটে গেছে দু’কুড়ি বছর। আহিরণ নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে।  ও এখন মাঝবয়েসি।

    সেই কোসম গাছেরও দিন গিয়েছে।  গত মাসে কোরবা শহর থেকে এল ফড়ের দল। ওষুধের কারখানার জন্যে নদীর ধারে জড়িবুটির খোঁজ করতে।

      চোখ গেল ভরভরন্ত কোসমের দিকে। কাছে এসে চোখ কুঁচকে জরিপ করল। ওর নতুন জেগে ওঠা পল্লবে হাত বুলিয়ে দেখে পাকা হাতে উপড়ে নিল জোড়াপাতা , বোঁটা শুদ্ধু। ওরা গাছে চড়ে ছিঁড়ে আনল কোসমফল। ওর বীজ থেকে তেল হবে; এ তেলের দাম আছে। নানান কাজে লাগে।  খেটে খাওয়া মানুষের ব্যথাবেদনা সারে। সন্ধেবেলায় তেলের কুপি জ্বলে, কেরাচিন কিনতে হয় না।

    আঁধার নামছে। কা-কা করতে করতে বাসায় ফিরছে কাকের দল। অনেক উঁচু দিয়ে ঝাঁক বেঁধে উড়ে যাচ্ছে বকের সারি। মাছরাঙা আর কোঁচবকের কাজ ফুরিয়েছে। একটা বেরসিক কাঠঠোকরা সারাদিন ঠকঠক করে কাজ করছিল, সেও এবার ক্ষ্যামা দিল।

    ঝিঁঝিঁদের বৃন্দগান উদারা ছাড়িয়ে মুদারায়। হঠাৎ সব চুপ। কান্নার আওয়াজ। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে কোসম গাছ।

    বট-অশত্থ বোঝাতে চাইল। কেঁদে লাভ নেই। যা হবার তা তো হয়ে গিয়েছে। গায়ের ব্যথা? ও সকাল নাগাদ ঠিক হয়ে যাবে। আমরা আগেই বলেছিলাম- ওরে, অত উদু-উদু করিস নি। শুনলে তো!

       এখন বসন্ত এসেছে।  শিমূলের ডালে ডালে রাঙা হাতছানি।  পলাশের কুঁড়ি দেখা যায়।  মৌ বনে মৌ ধরেছে।  এবার চৈত্রের ঝড়ে তেমন কোন ক্ষতি হয় নি। আমের মুকুল ঝরে যায় নি। বেড়েছে মৌমাছিদের আনাগোনা।  কিন্তু দিন ফিরেছে মহুয়াগাছের।  সারাবছর কেউ ওর খোঁজ নেয় না।  এখন ফুল এসেছে, ফল ধরছে।  তার ম’ ম’ গন্ধে ভিড় জমায় হরিণ আর ভালুক।  রাত্তিরে দল বেঁধে আসে লাজুক চিতল হরিণের দল।  অন্ধকারে জ্বলে ওদের পান্না-সবুজ চোখ।  আগে তলার পড়ে থাকা মহুয়া কুড়িয়ে খায়, চিবিয়ে নেয় ওর ভেতরের চোরকাঁটার মত ছোট্ট কাঁটাগুলো।  তারপর মাথা তোলে আর নজর দেয় উঁচুডালে পাতার ভেতর লুকিয়ে থাকা ফলগুলোর দিকে।  শেষে পেট ভরলে পাশে নদীর পাড় থেকে গলা বাড়িয়ে জলে মুখ দেয়, ল্যাপল্যাপিয়ে চেটে খায় আহিরণের মিষ্টি জল। ফিরে যায় নিজেদের নিরাপদ ডেরায়।

    কখনও একা আসে বিরাট  শিংয়ের ডালপালাওলা সম্বর।  সতর্ক, কান খাড়া।  ওর শত্রু  অনেক।  এদিকে নেকড়ে নেই।  ডোরাকাটা বাঘের দল সরে গিয়ে ডেরা বেঁধেছে টিলার ওপরে আর ঘন বাঁশঝাড়ের আড়ালে। এদিকে সেসব তেমন নেই।  কিন্তু আছে লোভী হায়না আর গুলবাঘা, এদিকের মানুষজন বলে ‘বুঁদিয়া শের’।  ওর সঙ্গে দৌড়ে হরিণ পেরে ওঠে না।  তারপর রয়েছে হুড়ার আর বুনোকুকুরের হামলা।  একা সম্বরের পক্ষে পালিয়ে বাঁচা কঠিন।  ও ভাল করেই জানে- আপন মাংসে হরিণা বৈরি।

    তবে মহুয়ার আসল প্রেমিক হল ভালুক।  ও আসে একা একা, কখনও সপরিবারে।  চার পায়ের ধারালো নখে আঁকড়ে ধরে মহুয়াকে, উঠে বসে গাছের ডালে, দোল খায় উল্টো হয়ে।  যদি চোখে পড়ে ঝুলন্ত মৌচাক, ওকে আর পায় কে! গায়ের লোমশ কম্বলের বর্মে প্রতিহত হয় ক্রুদ্ধ মৌমাছিকুলের সাঁড়াশি আক্রমণ।  ও অনায়াসে ভেঙে ফেলে চাক। চেটেপুটে খায় মধু, যতটা পারে। 

    ও আসে সাঁঝের বেলায়, ও আসে ঘুমজড়ানো চোখে শুকতারা ডোবার আগে।  আর পেটপুরে মহুয়া খেয়ে মাতাল হয়ে ঘুরে বেড়ায় আপনমনে।  কখনো কখনো বেখেয়ালে পৌঁছে যায় লোকালয়ে। 

      কিন্তু সেটা শত্রুপুরী।  মানুষেরা দল বেঁধে আসে।  দা-কুড়ুল- গাঁড়াশি- কটার-ভালা নিয়ে হামলা করে, তিনদিক থেকে।  ওদের বিশ্বাস ঋক্ষরাজের নখের মালা ধারণ করলে রোগাপটকা ল্যাকপেকে সিংও গব্বর পা্লোয়ানকে ধোবি-পাছাড় দিতে পারে।  আর ওর শরীরের বিশেষ অঙ্গের তেলে  বর্দ্ধিত হবে পুরুষত্ব।  একা ভালুক পালায়, কিন্তু মানুষের দল কাছাকাছি এসে পড়লে ও ক্লাসরুমে মুরগি হবার ভঙ্গিতে নীচু হয়ে দু’পায়ের ফাঁক দিয়ে দেখে নেয় দুশমনদের।  কারণ, ওর চোখের উপর ঝুলে পড়া গোছা গোছা লোমের চোটে ওর পক্ষে সামনাসামনি কাউকে দেখা দুষ্কর। তাই সে দেখায় ভেল্কি; উলটো ডিগবাজি খেয়ে এক নিমেষে ঝাঁপিয়ে পড়ে একজন দুশমনের ঊপর।  নখে চিরে দেয় বুক, কামড় দেয় গালে, গলায়।  ভালুকের হামলায় আহত মানুষ হয় চোখ হারায়, নয় ঘা বিষিয়ে মারা যায় মাস খানেক পরে; অথবা  বেঁচে থাকে মুখে ও শরীরে ভালুকের সঙ্গে অসম যুদ্ধের পরিণতির সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়ে।

      আহিরণের দুই পারের বিভিন্ন গাঁয়ে—যেমন ছুরিখুর্দ, ছুরিকলাঁ, সতরেংগা, মাদন, লখনপুর বা কোসা গাঁয়ে গেলেই এমন কিছু চেহারা চোখে পড়বে।  তবে গত বর্ষায় আমোল সিং বৈদ্যরাজের পরাজয়ের পর থেকে দশগাঁয়ের কেউ আর আহিরণের ওদিকের জঙ্গলে যায় নি।

      কিন্তু বছর ঘুরতে চলল, ঘটনার ঝাঁঝ গেছে ফিকে হয়ে।  আর পেটের জ্বালা বিষম জ্বালা।  তাই এই ফাগুনে যখন বনে বনে শুকনো পাতা ঝরে দেখা দিচ্ছে নতুন কচিপাতা , আর দুপুরে এলোমেলো গরম হাওয়ার ঘুর্ণিতে ঊড়িয়ে নিচ্ছে কুটো , তখন দুকালু লকড়হারা বা কাঠুরে তার দশবছরের মেয়ে দ্রুপতীবাঈকে নিয়ে জঙ্গলে চলল জ্বালানি কাঠ কাটতে।   ও কাটবে কাঠ, সেগুলোকে আঁটি বেঁধে কাঁধে ঝুলিয়ে নিয়ে সাঁঝের বেলা বাড়ি ফিরবে। পরের দিন গাঁয়ের সম্পন্ন মানুষজনের বাড়ির দরজায় দরজায় গিয়ে হাঁক পাড়বে—বোঝা লেবে ও দাঈ! এক এক বোঝা দু’রুপিয়া।

           কাঠ কিনবেন গিন্নিমা! এক এক আঁটি জ্বালানি কাঠ দু’টাকা।

    শেষে দরাদরি করে বারো আনা আঁটি হিসেবে বেচে ঘরে ফিরবে চাল কিনে।  অভিজাত চাল হল দুবরাজ, বিষ্ণুভোগ, শ্রীকমল, চিনিশক্কর আর কালিমুছ।  এগুলো দুই থেকে আড়াইটাকা কিলো।  এরা কিনবে মোটা বহুপ্রসবিনী ধানের  চাল; যেমন গুরমিটিয়া বা স্বর্ণা।  আট আনা থেকে দশ আনা বড়জোর।

      আরও আছে।  ওর চালাকচতুর মেয়েটা--যাকে  ওর মা ডাকে দ্রুপতী বা দুরুপতী বলে , আর পঞ্চায়েত ভবনে বালবাড়ির বহিনজি বলেন ‘দ্রৌপদী’—কুড়োবে শুকনো তেন্দু, কুল আর মহুয়া, নিয়ে আসবে বড় গামছায় বেঁধে।  ওর মা সেগুলো মাটির দাওয়ায় বিছিয়ে দিয়ে শুকিয়ে নেবে। তখন শহর বা গঞ্জ থেকে আসবে ফড়ের দল। দেশি মদের কারখানার ফড়ে।  ওরা ঘরে ঘরে গিয়ে নগদ পয়সা ধরিয়ে নামমাত্র দামে কিনে নেবে সব।  সরকারি  ভাষায় মাইনর ফরেস্ট প্রডাক্টস্।  তারপর ভাল কমিশনে সেসব সাপ্লাই দেবে কারখানায় বা লাইসেন্সহীন দেশি চোলাইয়ের ভাটিতে।

       দুকাল বা দুর্ভিক্ষের  সময়ে জন্মেছিল বলে বাপ নাম রেখেছিল দুকালু।  ওর এসবে কিছু যায় আসে না। হাতে দুটো নগদ এল, তাতেই খুশি; জানে যে দুনিয়ায় ভগোবান দু’রকম লোক বানিয়েছেন—একদল ঠকাবে, অন্য দল ঠকবে।   ও দ্বিতীয় দলের স্থায়ী সদস্য। 

       তবে  নেহাৎ হাঁদা ভোঁদা নয়।  কিছু শুকনো মহুয়া সরিয়ে রেখে পরে  গোপনে ঘরের পেছনের কোলাবাড়িতে (কিচেন গারডেনে) উনুন বানিয়ে মাটির হাঁড়িতে জ্বাল দিয়ে নিজেরাই বানাবে মহুয়ার মদ।  নিজেরা খাবে, ইয়ারদোস্ত পাড়াপড়শিকে খাওয়াবে আর পহুনা (অতিথি/আত্মীয়স্বজন) এলে খাতির করবে।

      এসব দুকালুরামদের জন্যে নতুন কিছু নয়।  কিন্তু এবারে ব্যাপারটা হল অন্যরকম।  দ্রুপতী এই প্রথম বাপের সাথে হাত লাগাতে জঙ্গলে এল। আর ভালুক-মানুষ লড়াইয়ের সাক্ষী হয়ে এলাকায় নতুন ইতিহাস গড়ল।
     

    (২)

    বাপ কা নাম দুকালু অউ গাঁও কা নাম ছুরি,

    ভালু সংগ লড় গইস বাহাদুরিন টুরি।

    (ছুরি গাঁয়ের  সাহসী মেয়ে বাবার নাম দুকালু,

    ওর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে হার মেনেছে ভালু।)

     ছুরিকলাঁ বা বড় ছুরি গাঁয়ের লোকগুলো বড় বিটলে।  তাদের মধ্যে সেরা হল দুই মানিকজোড়—শিবু আর রসেলু পটেল।  এরা দুজন আবার গাঁয়ের ঠাকুরদেবের থানে পূজো দিয়ে ‘সখি’ পাতিয়েছে।  অর্থাৎ এরা নিজেদের নাম ধরে না ডেকে ‘সখি’ বলে ডাকবে।  আর আপদে বিপদে ডাক পেলে সবার আগে দৌড়ে যাবে।  এরা কেউই ‘ঠলহা’ বা অকম্মার ঢেঁকি নয়। একজনের কাজ বিভিন্ন দোকানে নানা ধরনের চালের যোগান দেওয়া তো আরেকজনের বাসরাস্তার মোড়ে চা-ভাজিয়া- নিমকি- জিলিপির দোকান, ইদানীং ঘুগনি-পাঁউরুটি ও পাওয়া যাচ্ছে।  আসলে কোরবা ছুরি বাসরাস্তার ওপর মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে খুলে গেছে ইন্ডোবার্মা বারুদ ফ্যাক্টরি; বানায় নাইট্রোগ্লিসারিন।  ওখানকার বেশ কয়েকজন কর্মচারি বাসা বেঁধেছে এই গাঁয়ে। ওই ছোকরার দল সকালে ডিউটি যাওয়া ও ফেরার পথে এখানেই নাস্তার পাট চুকিয়ে নেয়।

         সে যাই হোক, গাঁয়ের লোক এদের দু’জনকে ভয় পায়। এদের প্রিয় বিনোদন লোকের পেছনে লাগা।  তাই দু’জনকে একসঙ্গে দেখলেই লোকে আশংকায় ভোগে— আজ কিসকী ইজ্জত উতারেঙ্গে ইন দোনোঁ,  কৌন জানে! আজ দুপুরেই ওরা ডাক্তারবাবুর যা হাল করল বলার মত নয়।

         গাঁয়ে সবেধন নীলমণি একজন ডাক্তার – চন্দ্রকান্ত কাশ্যপ, লোকের মুখে চান্দু ডাগদর।  তিনি ডিপ্লোমা নিয়েছেন আয়ুর্বেদে , কিন্তু করেন এ্যালপ্যাথি।  তবে কেউ ওঁর নামে লোকঠকানোর অপবাদ দিতে পারবে না। নিজের সাইনবোর্ডে গোটা গোটা করে লিখে দিয়েছেনঃ

                           +      জনতা দাওয়াখানা     +

                       ড: চন্দ্রকান্ত কাশ্যপ, (আর এম পি) নং ৩৭১৯

                           হম সেবা করতে হ্যায়,

                         ঈশ্বর চাংগা করতে হ্যায়

    সোজা করে বললে – ওষুধ আমি দিচ্ছি, কিন্তু সারিয়ে তোলা ভগবানের হাতে।  কিন্তু ওঁর কম্পাউন্ডার ভুরুয়া  সদনলাল বা ধলা সদন বলে – ঈশ্বর চাংগা করতে হ্যায়, হম নাংগা করতে হ্যায়। লোকে হাসে, কিন্তু জানে কথাটা সত্যি নয়।  উনি খুব বেশি দাম নেন না, গরীবগুর্বোদের বাকিতে চিকিৎসা করেন আর অসুখ বেড়ে গেলে সোজা কোরবা শহরের জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাবার পরামর্শ দেন।

     ওঁর শ্বশুরবাড়ি মধ্যপ্রদেশের শাহডোল শহর। সেখান থেকে শালাবাবু এসেছেন সপ্তাহখানেক হল।  সংগে এনেছেন দিদির জন্যে শাড়ি , জামাইবাবুর জন্যে স্যুটের কাপড়-- রেমন্ড কোম্পানির—আর ভাগ্নে-ভাগ্নির জন্যে জামাকাপড় আর খেলনা।  কাল দুপুরবেলা ডাক্তারবাবুর বাড়িতে হুলুস্থুল বেঁধে গেল।  রেগে অগ্নিশর্মা শালাবাবু স্যুটকেস গোছাচ্ছিলেন।  রাত্রের ট্রেনেই বাড়ি ফিরে যাবেন, তার জন্যে এক্ষুণি বড়রাস্তায় গিয়ে কোরবা যাওয়ার বাস ধরতে হবে।  দিদির বাড়িতে অন্নগ্রহণ তো দূর, ঊনি জলগ্রহণ ও করবেন না।  হল কী , কেউ বুঝতে পারছে না।

          অনেক সাধ্যসাধনার পর জানা গেল যে একটু আগে অড়হরের ডাল, লালভাজি, পোস্তর বড়া, মুরগির মাংসের ঝোল আর রায়তা দিয়ে দু’থালা ভাত সাঁটিয়ে ঊনি গেছলেন মোড়ের মাথায় মিঠেপাত্তি পান খেয়ে মুখের স্বাদ আর আইঢাই ভাব ঠিক করতে।  সেখানে দুই অপরিচিত ব্যক্তি নিজেদের মধ্যে গুজগুজ ফুসফুস করছিল।  কানে এল যে ডাগদর নিজের শালাবাবুকে নিয়ে ভারি পরেশান।  শালা এসেছে, বেশ কথা। দিদিকে গিফট দিয়ে দু’দিনে নিজের শহরে ফিরে যাবে, কিন্তু এ যে নড়বার নাম করছে না।  সাতদিন হয়ে গেল , দুবেলা মাছ-মাংস-মিষ্টি সাঁটিয়ে চলেছে! দিদিও আহ্লাদের ভাইকে মাথায় তুলেছে।  ওরা ভেবেছে কী! এটা কি ধর্মশালা নাকি? একটু চক্ষুলজ্জাও নেই?

            হতভম্ব ডাগদরবাবু হাতজোড় করছেন—ওরে ছোটু, তোকে আমার বিয়ের সময় ছোট্টটি দেখেছি। আমি কি এরম বলতে পারি?

              ভবি ভোলে না, শালাবাবু নিজের কানে শুনেছে যে! শেষে উনি নিজের ছেলের মাথায় হাত রেখে কসম খেলেন।

            কিন্তু মনের ধন্দ ঘোচে না; দুজন অচেনা লোক খামোখা মিথ্যে বলবে কেন? শেষে ডাক্তারগিন্নি ভাইকে শুধোলেন—কেমন দেখতে রে সেই লোকদুটো? একটা লম্বা আরেকটা বেঁটে?

    --- হ্যাঁ দিদি! দুটোই ধুতি পরা, লম্বুটা সাদা ফুল শার্ট আর বেঁটে নীল হাফহাতা।  দুজনেই চপচপ করে পান চিবুচ্ছিল আর পিক ফেলছিল।

    আররে-এ-এ! সমস্বরে সবাই বলে উঠল,-- এ তো দুই ভাঁড়, শিবু আর রসেলু!

     ডাগদরবাবু রেগে আগুন তেলে বেগুন! গাঁয়ের বুড়ো কোতোয়ালকে বললেন ব্যাটাদের কান ধরে নিয়ে আস্তে।  পনের মিনিট পরে খবর এল ওরা একঘন্টা আগেই বিলাসপুর যাবার বাসে চড়ে বসেছে।

     এইসব ঝামেলা মেটাতে গিয়ে ওঁর দুপুরের খাওয়াদাওয়া যখন শেষ হল তখন বেলা বাজে তিনটে।  বিছানায় লম্বা হয়ে কখন চোখ জুড়ে গেছল টের পান নি।  ঘুম ভাঙল কম্পাউন্ডারের ডাকে।  চোখ যেন আঠা দিয়ে সাঁটা। ওকে বললেন এবেলায় আর ডিস্পেনসারিতে বসবেন না।  ওই যেন ম্যানেজ করে নেয়।  কিন্তু ভুরুয়া সদনলাল নড়ে না।  দুটো সিরিয়াস কেস এসেছে।  বাপ আর মেয়ে। ভালুকের হামলায় ক্ষতবিক্ষত, মেয়েটার জ্ঞান আছে।  ওর বাপের অবস্থা সংগীন।  কোরবা হাসপাতালেই পাঠাতে হবে, ট্র্যাক্টরে চাপিয়ে চব্বিশ কিলোমিটার।  তবে প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু ডাকতার কাশ্যপকেই করতে হবে।  পেইন কিলার, বেটাডাইন দিয়ে ক্ষত পরিষ্কার করা আর অন্ততঃ পেনিসিলিন সুঁই দেওয়া।

    ডাকতারবাবুর ঘুম উধাও।  কম্পাউন্ডারকে সব তৈরি করতে বলে উনি পাঁচমিনিটে অকুস্থলে হাজির।  ঘন্টাদুইয়ের মধ্যে সমবেত গ্রামবাসীদের ভিড়, আশংকার মাঝে ঋক্ষরাজের শিকার বাপ-বেটি আগাপাশতলা মিশরের মমির মত ব্যান্ডেজ বাঁধা চেহারায় বাঁশের ডুলিতে শায়িত অবস্থায় সরপঞ্চ সঝলাকুমারের ট্র্যাক্টরএর ট্রলিতে করে কোরবা সরকারি হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেল।  সমবেত জনতা জয়ধ্বনি দিল—জয় হো কোসগাই মাতা! জয় হো বাঢ়রাণীকে! আপন বেটা-বেটি লা রক্ষা করো মহতরি! দয়া করো!

       কোথা থেকে হাজির হয়েছে গাঁয়ের দুই বিদুষক শিবু ও রসেলু।  বোঝা গেল ওরা গাঁ ছেড়ে পালায় নি।  লুকিয়ে ছিল ডাক্তারের রাগ পড়ার অপেক্ষায়। এবার ওরা গলা তুলল—জয় হো কুমারসাহেব কে!  যো মুফত কে আপন টেরাক্টর লা আসপাতাল লে জায়ে বর  দিস।  জয় হো ডাক্তার কাশ্যপকে, যো ইলাজবর ইঞ্জেকশান লগায়ে বর একো পইসা নহি লিস।

    কুমারসাহেবের জয়, যিনি ওনার ট্র্যাক্টর মিনিমাগনায় মরণাপন্নদের হাসপাতালে নিয়ে যাবার জন্যে দিয়েছেন। ডাক্তার কাশ্যপের জয়, যিনি ওদের চিকিচ্ছের জন্যে এক পয়াসাও নেন নি, এমনকি ইঞ্জেকশানেরও না।

    এভাবেই ওরা সকালবেলায় বেয়াড়া ইয়ারকির জন্যে মাপ চেয়ে সন্ধি করে নিল।  খুশি কুমারসাহেবও।  ছুরির রাজপরিবারের এই সেজ বা সেজলাকুমারের একটাই লক্ষ্য, প্রজারা ওঁকে দেবতা মনে করুক। আফশোস, বড় ভাই মানে যুবরাজ সাহেব হলেন হাড়কিপটে।  সকাল আটটায় স্নান করে ঘাড়ে পাউডার লাগিয়ে উনি এসে দাঁড়ান বাসরাস্তায় রসেলুর চায়ের দোকান ও ইতয়ারুর পানঠেলার সামনে।  এর তার সঙ্গে খেজুরে গল্প জুড়ে দেন এই আশায় যে কেউ এককাপ চা খাইয়ে দেবে, কেউ একটা পানামা সিগ্রেট অফার করবে।

           তাই দেখে বিদুষক সহেলু ফুট কাটে—দেখে মা শ্যামসুন্দর, পাদে মা ঢেমকাউয়া!
             দেখলে পরে কেষ্টঠাকুর,
              পাদলে লাগে ঘেয়ো কুকুর।
    কিন্তু সেজোকুমার? অন্য গল্প।  উনি হলেন –দিল দরিয়া, গাঁড় সমুন্দর।
                    সমুদ্রহৃদয়,
            তবু  পাছা ফেটে যায়।
    তবে বিরক্ত হয়েছে কম্পাউন্ডার ভুরা সদনলাল।  সাধারণতঃ ইঞ্জেকশানের পয়সার বেশির ভাগটা ওর পকেটে যায়।
আরও পড়ুন
ছড়া - Ramit Chatterjee
আরও পড়ুন
লোনার - Saswati Basu
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অরিন | ০৪ অক্টোবর ২০২০ ০২:০৯732873
  • অসম্ভব ভাল লেখা! জাস্ট কিছু বলার নেই। এই নিয়ে পাঁচবার পড়লাম। 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু প্রতিক্রিয়া দিন