• টইপত্তর  বাকিসব  মোচ্ছব

  • আহিরণ নদীর বুক ফাটে, মুখ ফোটে নাঃ ৮ম পর্ব

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    বাকিসব | মোচ্ছব | ৩১ অক্টোবর ২০২০ | ৩০৮ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • ৬) “লে চল পার, লে চল পার”

    দ্রুপতী বাঈ দ্রুত হাতে গরম ভাত, ডাল, আলুভাজা ও মুরগীর পাতলা ঝোল নামিয়ে ফেলে। কিন্তু তার আগে ঝগড়া বাঁধে। ওকে সাহায্য করতে এসে ডোঙ্গরে ও ঠুল্লু একগাদা রসুন পেঁয়াজ ছুলে ও লাললংকা কেটে একটা ডেকচির থালায় সাজিয়ে দিয়েছিল। দ্রুপতী দেখে প্রথমে মুখ বাঁকায়, তারপরে সেগুলোর চারভাগের তিনভাগ ডোঙ্গরে ঠুল্লুর হাঁ হাঁ করে ওঠা অগ্রাহ্য করে একপাশে সরিয়ে রাখে। বলে এত গরম জিনিস দিয়ে রান্না হলে সাহেবদের পেট গরম হবে। হতাশ ঠুল্লু বলে –ইতনী কম! সোয়াদ কেইসে হোগী?

    --আরে বজ্রমুরখ! সির্ফ মশল্লা ঠুস দেনে সে সোয়াদ হোতে? তোলা কউন বাতাইস?

    --মোর হোটেল কে খানা পাকানেওয়ালে!

    -- ওমন শাম কো দারুহামন কে লিয়ে এইসন পাকাথে!

    ওরা যত মদোমাতালদের জন্যে ওইরকম মশলাদার ঝাল ঝাল রান্না করে।

    কিন্তু রান্না নামলে সবাই চেটেপুটে খেল, ডোঙ্গরে বিড় বিড় করল –ভুখ লগনে পর সবকুছ স্বাদিষ্ট লগতে হ্যাঁয়।

    ডোঙ্গরে, ঠুল্লু ও দ্রুপতী একটু আলাদা করে বসে আড়াল করে খাচ্ছিল। কারণটা একটু পরে বোঝা গেল। নুন-তেলের সন্ধানে বেড়িয়ে ওরা মহুয়া চাখার সুযোগ পায় নি, তাই।

    রাজন ও শ্রীরাম রূপেশকে সিগ্রেট বাড়িয়ে দিয়ে বলে –স্যার, এই মওকায় আপনার মদ খাওয়ার ট্রেনিং এর গল্পটা বলে ফেলুন। কে দিল ট্রেনিং? স্টেট ব্যাংকের সিঙ্ঘানিয়া সা’ব?

    --ধ্যাৎ, সিংঘানিয়া সা’ব সাত্ত্বিক রুচির মানুষ। পাক্কা ফ্যামিলি ম্যান। দারু-সিগ্রেট কুছ নহী চলতা। সির্ফ চায় অউর পান , মিঠিপাত্তি –উসমে লং, ইলাইচি, কত্থা, চুনা, কিমাম, রিমঝিম ব্যস।

    তবে উনি এক মঙ্গলবার আমাকে ওঁর চ্যালা ভাগবত সোনীর সঙ্গে পান্তোরা গ্রামে হাটের দিন কিছু দোকান ইন্সপেকশন করতে আর রিকভারি আনতে পাঠালেন। সেদিন গাঁয়ে ‘রাত্রিবাস’ করতে হবে। কী আপদ! তবে ভাগবতজী আশ্বস্ত করল যে ওসব নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না । ওই আমার গার্জিয়ান হবে। ও নিজে ওই হাটে সুনারি ধান্ধা, মানে রূপো আর ডালডার নকল গয়না নিয়ে বসে। চাষিবৌদের গছিয়ে কিছু কামিয়ে নিয়ে ফেরে।

    আমি মল্লু ভাঁচার হোটেলে দুপুরের ডাল ভাত খেয়ে সাইকেলে চড়ে রওনা দিলাম। সঙ্গে ব্যাংকের রিকভারি বুক, দোকানের লিস্ট ইত্যাদি ঝোলায় নিয়ে পিওন গোরেলাল। ওর সাইকেল আমার আগে আগে, পথ দেখিয়ে চলেছে । পান্তোরা বড় গাঁ, অকালতরা রাজ পরিবারের এক বংশজের জাগিরদারি, দলহা পাহাড়ের নীচে। মাইলস্টোন দেখে জানলাম ২৪ কিলোমিটার দূর। কতক্ষণ লাগবে? এই দু’ঘন্টা; রাস্তা খারাপ যে!

    আমি প্যাডল করতে শুরু করি। জীবনে দশ থেকে পনের কিলোমিটারের বেশি চালাইনি। হ্যাঁ, রাস্তা নতুন তৈরি হচ্ছে, লুজ মোরাম, বড় বড় পাথর এবং খোয়ার টুকরো। পাশে মাঠে নেমে শর্টকাট করতে চাইলে ধানক্ষেতের আল বড় বাধা, এছাড়া রয়েছে ধানকাটার পর খোঁচা খোঁচা ধানের গুঁড়ি । পেরিয়ে যাই ভেলই, খিসোরা গ্রাম। রাস্তা ক্রমশঃ খারাপ থেকে আরও খারাপ হচ্ছে।

    আমার অবস্থা দেখে গোরেলাল সান্ত্বনা দেয় – আর একটু, এর পর ক্যানাল আর ব্যারেজ পড়বে। ব্যারেজের পাশ দিয়ে শেষ আট কিলোমিটার আরামে সাইকেল চালাতে পারবেন।

    কিন্তু ব্যারাজ পৌঁছুতে পৌঁছুতে আমার অবস্থা কাহিল। পা চলছে না , ঘামে ভেজা প্যান্ট সিটের সঙ্গে যেন লেপটে গেছে। নড়লে চড়লে পশ্চাতদেশে জ্বালা করছে । কয়েক গজ এগিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ছি, গোরেলাল আগে গিয়ে আমার জন্যে অপেক্ষা করছে। আমি আস্তে আস্তে প্যাডল করে ওকে ধরে ফেলি, ও হেসে বলে শীতের সন্ধ্যে তাড়াতাড়ি নামে। এভাবে চললে--!

    দুঃখ কী কালী রাত ভী আখির গুজর জাতী হ্যাঁয়। আমরা পান্তোরা হাটে যখন পৌঁছে গেলাম তখন সূর্যের রঙ গোলাপি। আমি সাইকেল থামিয়েছি, নামতে পারছি না । গোরে এসে আমাকে ধরে ধরে নামায় ও সাইকেল স্ট্যান্ডে রাখে। আমার লাগছিল যেন পাছার চামড়া গুটিয়ে গেছে। কোথা থেকে হাজির হয় ভাগবত সোনী। গোরের থেকে রিকভারি পর্চি বুক, পেন ও খাতকের লিস্ট নিয়ে আমাকে ওর সঙ্গে যেতে বলে। গোরে আরেকটা বুক নিয়ে অন্যদিকে পা চালায়।

    আমাকে বোঝায় যে পৌঁছুতে দেরি করে ফেলেছেন স্যার। তাই দু’জন দু’দিকে গেলে বেশি ইউনিট ইন্সপেকশন হবে। গোরের সব দোকান চেনা আছে। আপনাকে আমি নিয়ে যাচ্ছি। বাকি কাল সকালে হবে। আগে একটু চা খেয়ে নিন।

    আমরা চা ও চিনির কটকটি এবং ভাজিয়া খেয়ে নিই । দাম দিতে গেলে সোনীজি হাত চেপে ধরে। বলে এখন প্রোবেশন চলছে। যখন পুরো ম্যানেজার হবেন, তখন দাম দেবেন। আর এটুকু আমার হাটে দোকান লাগালে পকেট খরচা, হিসেবে ধরা আছে।

    তারপর ভাগবত সোনী আমাকে প্রায় হাত ধরে গোটা পাঁচেক দোকানের সামনে এক এক করে নিয়ে গেল। ওরা তখন ভাঙা হাটে পসরা গোটাতে ব্যস্ত। পরিচয় পেয়ে সবাই আমাকে হাত কপালে ঠেকিয়ে বলে ‘জয় রাম সাহাব’। কিন্তু কিস্তির কথা তুললেই বলে আজ বিক্রিবাটা ভাল হয় নি। কাল ব্যাংকে গিয়ে দিয়ে আসবো। আমি আনাড়ি, হাল ছেড়ে দিই। কিন্তু সোনী মুচকি হেসে বলে ইনি প্রথমবার তোমার দ্বারে এসেছেন, সাঁঝের বেলা, খালি হাতে ফিরিও না; যা হোক কিছু দাও।

    এতে কাজ হল, শুধু একজন মহাঢিট বাদে। তারপর সোনী বলে --চলুন , আমাদের রৈনবসেরা বা রাত্রিবাসের জায়গায়। একটা ছোট ঘর আমরা ভাড়া নিয়ে রেখেছি। আমরা মানে বলোদা গাঁয়ের চার ব্যাপারি; বলতে পারেন চার বন্ধু। আমি, সদনলাল রেডিমেড জামাকাপড়ের ধান্ধা, চন্দ্রিকা দর্জি আর হেমন্ত গুড়াকুওয়ালা, অর্থাৎ চিটেগুড় ও তামাক মিশিয়ে দাঁতে ঘষার ‘মিশি’ বিক্রিওলা। আমরা সপ্তাহে চার জায়গার হাটে দোকান লাগাই। সবখানেই ঘর ভাড়া নিয়ে রেখেছি যাতে রাত্রে বাড়ি না ফিরে এখানেই খাওয়াদাওয়া করে এক ঘুম মেরে গায়ের ব্যথা দূর করে পরের দিন সকালে বাড়ি ফিরি।

    চলতে চলতে চোখে পড়ে এক অশত্থ গাছের নীচে ব্যাংকের চাপরাশি গোরেলাল। । একটি মেয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আলাপচারিতায় মগ্ন। আমি উৎসাহিত হয়ে ওর নাম ধরে ক’বার চেঁচালাম, কিন্তু ও শুনতে পেল না । সোনী আমার হাত ধরে টানে। ও এখন শুনতে পাবে না । গোরে ‘খুবসুরতি’ (সৌন্দর্য) দেখায় ব্যস্ত। ও ঠিহায় পৌঁছে যাবে, আপনি চলুন তো!

    চলার পথে জানতে চায় আমি খুবসুরতি দেখতে আগ্রহী কি না ! আমি রেগে গিয়ে জানতে চাইলাম যে ওদের কি খারাপ অসুখ-বিসুখ হওয়ার ভয় নেই ? তাতে সোনীজি আহত অভিমানে বলল—আপনি কি ওদের বেশ্যা ভেবেছেন? ভুল। ওরা গেরস্ত ঘরের কৃষকবধূ। খালি ‘নজরে দো চার’ ! নয়নে নয়ন মিললেই হল। আপনার যদি ভাল লাগে তাহলে --! ওরা শুধু ভালবাসা চায়। এটা ভালবাসার সম্পর্ক।

    --আচ্ছা? এই ভালবাসাবাসির আয়ু কতদিন?

    ও যেন আমার গলায় ব্যঙ্গের সুর খেয়াল করেনি। বলে যে আপনি যতদিন চাইবেন, ততদিন। হাত জোড় করে বলি এই অভিনব ভালবাসা আপনাদেরই মুবারক হো। আমি ওতে নেই । একটি খাপরা ছাওয়া বাড়ির মাটির উঁচু দাওয়ায় উঠে দেখি সবাই হাজির। সদনলাল, চন্দ্রিকা, হেমন্ত, মায় গোরে পর্য্যন্ত। ও নাকি ওই মেয়েটির সঙ্গে একটা মুরগী নিয়ে দরদাম করছিল। আমি কি তাহলে ভুল বুঝলাম? কিন্তু হেমন্ত একটি থলের থেকে পা বাঁধা দুটো মুরগী বের করে। গোরেলাল নিয়ে আসে এক লোটা জল ও একটি হাঁসুয়া। হেমন্ত এক পা দিয়ে মুরগীর পা চেপে ধরে হাঁসুয়ার দুই পোঁচে পাখির গলাটা আলগা করে দেয় । কবন্ধ ডানা ঝটপট করে, ছিন্নমুন্ড খাবি খেতে খেতে চোখ বুজে ফেলে। গোরে আমার দিকে জলের মগ এগিয়ে দেয় । আমি কী করতে হবে বুঝতে পারি না ।

    সবাই দেখি আমার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। কেন?

    হেমন্ত আমাকে সম্বোধন করে—সাহাব, পানি পিলাইয়ে।

    কাকে?

    কাকে আবার, পাখিটাকে।

    কেন?

    ফের কেন? আরে পাখিটা মরে অন্য দুনিয়ায় চলে যাচ্ছে , শেষ সময়ে মুখে জল দিতে হয় না ? কিছুই জানেন না নাকি? ওই দেখুন, তেষ্টায় কেমন ঠোঁট দুটো বার বার খুলছে আর বন্ধ হচ্ছে!

    আমার তথাকরণ। সবাই জয় রাম বলে ছাল ছাড়াতে আর মশলা পিষতে লেগে যায়। আমি ওদের জানাই যে সারা গায়ে খুব ব্যথা, হাত পা নাড়লেও ব্যথা। রাতে ঘুমুতে পারবো না । কারো কাছে অ্যানালজিন বা ডেসপিরিন আছে কি না ?

    নাঃ , কারও কাছে ওসব কিস্যু নেই । আর হাটের কাছে যে দাওয়া দুকান তার ঝাঁপ সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে। এখন উপায়?

    সবাই একযোগে জানায় যে একটাই দাওয়াই আছে। গোরের সঙ্গে গিয়ে হাটের আরেক মাথায় দেশি মদের দোকান থেকে এক গেলাস গিলে আসুন, গায়ের ব্যথা পেইলে যাবে, রাত্তিরে নাক ডাকিয়ে ঘুমোবেন।

    অসহায় ভাবে গোরের দিকে তাকাই, ও মাথা কাত করে বলে ৫০ এম এল, তার বেশি নয়। দুরুদুরু বুকে রওনা দিই। হাটের দোকান প্রায় উঠে গেছে। কোথাও কোথাও বোঁচকা বাঁধা হচ্ছে, টেমি জ্বলছে; কাছেই বৈলগাড়িতে অথবা সাইকেলের পেছনে মাল তোলা হচ্ছে। কিন্তু বাজারের এক কোনায় কাপড় দিয়ে ঘেরা তাঁবুতে বিজলি আলো!

    কাছে গিয়ে দেখি লাইন দিয়ে লোকে ঢুকছে আর ক’পাত্তর গিলে গোঁফ মুছতে মুছতে বেরিয়ে আসছে। আর এঁটো প্লাস্টিকের গ্লাস একটা বালতির পাশে নামিয়ে লাগছে। বালতির জল এরমধ্যেই ঘোলা হয়ে গেছে। সেই গোণাগুনতি গ্লাসেই সবাই এঁটো করে খাচ্ছে। আমার অন্তরাত্মা রী রী করে ওঠে। আর গেলাস নেই , দুনিয়াভরের লোকের এঁটো মদ খেতে হবে?

    কাউন্টারের ওপাশে মাঝবয়সী বিক্রেতা শুনতে পেয়ে খিঁচিয়ে ওঠেঃ রাখুন তো মশাই আপনার এঁটো! শুনিয়ে শ্রীমান, আওরত অউর দারু কভি ঝুটা নহীঁ হোতে!

    নারী ও মদিরা কখনও এঁটো হয় না ।

    এক চুমুক খেয়েই মনে হল –না , না ; ইটা চইলবেক নাই।

    পাশ থেকে গোরে বলে নাক টিপে ওষুধ ভেবে বাকিটা খেয়ে ফেলুন। সবাই অপেক্ষা করে আছে, রান্না নামতে আর বেশি দেরি নেই ।

    রাত বাড়ে। মাটিতে কাগজ বিছানো হয়েছে। তার উপর একটা করে চাদর পেতে সবাই একটা চাদর গায়ে দেয় । এসবই চাদর-গামছা-জামাকাপড় বিক্রেতা সদনলালের বদান্যতায়। ওর মাল থেকে লেবেল সাঁটা চাদরের পিন খুলে আমাদের দিয়েছে। সকালে আবার ভাঁজ করে পিন লাগিয়ে যথা পূর্বং ।

    কখন যেন দ্রুপতী ঠুল্লু ও ডোঙ্গরে এসে পেছনে দাঁড়িয়ে হাঁ করে ম্যানেজারের কারণবারিতে দীক্ষাগ্রহণের গল্প শুনছিল। এবার নীচু গলায় দ্রুপতী জানায় রওনা হওয়া দরকার। ভিজে হাওয়া, মনে হচ্ছে পাহাড়ে বৃষ্টি হয়েছে। নদীতে জল বেড়ে যাবে।

    জিনিসপত্র গুছিয়ে নদীর পাড়ে গিয়ে দাঁড়াতেই চিত্তচমৎকারা! জলের নিশানা দেওয়া

    কাঠিগুলো ডুবে গেছে। কারও মুখে কথা নেই । পাহাড় থেকে নেমে আসা জল মিশে এখন জল বেশ ঘোলাটে। কোথায় কত গভীর কী করে বোঝা যাবে?

    শ্রীরাম বলে আমরা হাতে হাত ধরে জলে নামব, এক-পা এক-পা করে এগোবো।

    সবাই সমর্থনের আশায় রূপেশের দিকে তাকায়। ও এক এক করে সবাইকে দেখে। খেয়াল হয় একজন কম, দ্রুপতী যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। যাকগে, ওকে কি নিজেদের দলের মধ্যে ধরা ঠিক হবে? তায় ওর কুঁড়েঘর তো এ পারেই; নিঘঘাৎ নিজের ঘরে গেছে, ঠিকই করেছে।

    ও জানতে চায় ক’জন সাঁতার জানে, ও নিজে জানে না । শ্রীরাম বিলাসপুরের সরকারি সুইমিং পুল ‘সঞ্জয় তরণ পুষ্কর’ এ কোচের কাছে শিখেছে। কিন্তু সে তো স্থির নীল জল। তার গভীরতা জানা আছে। এ যে পাহাড়ি নদী, তায় জলের মধ্যে ছোট ছোট ঘুর্ণি। এই নদীই কি ওরা সকালে ছপছপিয়ে পেরিয়ে এসেছিল! অন্ধকার নামছে দ্রুত, অতি দ্রুত। হাওয়ার বেগ বাড়ছে। টর্চ কার কাছে?

    সমাধান নেই , কারও মাথায় কিছু আসছে না। গুজগুজ ফুসফুস; অন্য কোন দিক দিয়ে রাস্তা খুঁজে নদী পেরোলে হয় না ? ধ্যাৎ, অন্ধকারে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে! বাওরা হো ক্যা? তাহলে? এখানেই কোথাও রাতকাটানো? দূর! এই গ্রামটা হতচ্ছাড়া। গ্রাম কোথায় , খালি কয়েকটা ঝুপড়ি। তাহলে?

    এমন সময় জলে ছপ ছপ শব্দ । আবছা অন্ধকারে একটা ডিঙি নৌকো ধীরে ধীরে ওদের দিকেই এগিয়ে আসছে। ওরা গা ঘেঁষাঘেষি করে । চালক লগি মেরে ডিঙিটাকে ওদের কাছাকাছি ভিড়িয়ে দিয়ে পাড়ে নামল। ওদের মুখে কথা নেই কারণ চালক একটি মেয়ে—দ্রুপতী।

    প্রাথমিক বিস্ময়ের ধাক্কা কাটিয়ে উঠে ওরা চেঁচায়—কোথায় গেছলি তুই? আমাদের না বলে?

    দ্রুপতী বিরক্তিতে খিঁচিয়ে ওঠে। ই হমর গাঁও, তুমন পহুনা । মোলা কাবর কোনো লা বতাকে জানা পড়ি!

    এটা আমার গাঁ, তোমরা হলে অতিথি। আমি কেন কাউকে বলে যাব?

    গাছের গুঁড়ি থেকে তৈরি এই ডোঙা আমাদের গাঁয়ের । জল বাড়লে পারাপার করার জন্যে। এখন চল, তোমাদের ওপারে পৌঁছে দিয়ে আমি আবার এটা নিয়ে ফিরে এসে পাড়ে বেঁধে রাখব। একজন একজন করে উঠে পড়, বসার জায়গা নেই, মাঝখানে সারি দিয়ে দাঁড়াতে হবে। সবার আগে ঝোলা নিয়ে ঠুল্লু ও ডোঙ্গরে ওঠে। তারপর সন্তর্পণে রূপেশ। দ্রুপতী হাত বাড়ায়, রুপেশ ইতস্তত করে। দ্রুপতী বোঝায় এলোমেলো ভাবে চড়লে ডিঙি দুলবে, উলটে যেতে পারে । তারপর রাজন এবং সবার শেষে শ্রীরাম। শ্রীরামের কি পেটে মহুয়া বেশি চলে গেছে? টলে গিয়ে প্রায় হুমড়ি খেয়ে পড়ছে ? নদী বেশি চওড়া নয়। অভ্যস্ত হাতে লগি ঠেলে চলে দ্রুপতী। ডিঙি সহজে ওপারে পৌঁছে যায়। সবাইকে হাত ধরে নামাতে থাকে দ্রুপতী। শ্রীরাম স্খলিত স্বরে বলে –এই অন্ধকার রাতে কোথায় ফিরে যাবি? আজ রাতে তুইও আমাদের পহুনা হয়ে ছুরিতে থাক। কাল ফিরে যাস।

    দ্রুপতী হেসে ওঠে। সাহাবমন, তুমন জুম্মা জুম্মা ছুরি আয়ে হো। মোর নাম ‘ভালুমার দ্রুপতী’, মেঁহা অপন মন কী রাণী। জহাঁ মন লাগিস উঁহা চল দেথন। কমর ম এক হাঁসুয়া রাখে হন। ই অন্ধেরা ই জানবর মোলা কা ডরাহি?

    সাহেব, নতুন নতুন ছুরিতে এসেছ, তাই জান না। আমার নাম ‘ভালুমারা দ্রৌপদী’। আমি নিজের মনের রাণী। যেখানে মন চায় চলে যাই। কোমরে সব সময় একটা হাঁসুয়া গোঁজা; এই অন্ধকার, জানোয়ার?— আমার কিসের ভয়?

    অন্ধকারে লগির ছপ ছপ আওয়াজ ক্রমশঃ মিলিয়ে যায়।

    রাত্তিরে রূপেশের অনেকক্ষণ ঘুম আসে না । কোন একটা কাজ পেন্ডিং? উঠে নিজের ব্রিফকেস খোলে। ব্যাংকের লেটার প্যাড বের করে তাতে দুটো কার্বন লাগিয়ে চিঠি লেখে।

    এতদ্বারা প্রধান কার্যালয়কে সূচিত করা হইতেছে যে আপনাদের পূর্ব পত্র ক্রমাংক অমুক দিনাংক তমুকের মাধ্যমে প্রাপ্ত নির্দেশানুসার নিম্ন উল্লিখিত দুই ট্রেনি অফিসার, যথাক্রমে, শ্রীমান শ্রীরাম চিত্তাওয়ার ও শ্রীমান বিপুল ডোঙ্গরেকে দুই মাস ট্রেনিং ও ডেপুটেশন যথাযথ পূর্ণ হওয়ায় আজ কার্যালয়ীন সময়ের শেষে বর্তমান শাখা হইতে দায়িত্বমুক্ত করিয়া অবিলম্বে প্রধান কার্যালয়ে রিপোর্ট করিতে নির্দেশ দেওয়া হইতেছে।

    ভবদীয়

    শাখা প্রবন্ধক

    ঘরের কোণায় রাখা কুঁজো থেকে এক গেলাস জল গড়িয়ে ঢক ঢক করে খায় রূপেশ। তারপর লাইট নিভিয়ে বিছানায় শোয়া মাত্র ঘুমিয়ে পড়ে ।

    ৭ ভরত-মিলাপ

    পরের দিন। ব্যাংক খুলতেই দুই ট্রেনি অফিসারকে রিলিভিং লেটার ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওরা আজই সন্ধ্যেয় বিলাসপুর ফিরে যাবে। কাল হেড অফিসে রিপোর্ট করে নিজেদের নতুন পোস্টিং এর অর্ডার হাতে হাতে পেয়ে যাবে।

    অর্ডার পেয়ে চমকে ওঠে শ্রীরাম; আশা করেছিল ম্যানেজার ওকে আরও একমাস রেখে দেবে। তার জন্যে হেড অফিসে রেকমেন্ড করবে। কিছু একটা বলবে বলে মুখ খুলতে গিয়েও বুজিয়ে ফেলে। জল খায়। ডোঙ্গরে কিছু বলে না ।

    লাঞ্চ এর পর ওরা চলে যায়। যাওয়ার আগে রূপেশের সামনে মাথা নীচু করে বলে- জানে অনজানে অগর কিসীকো কুছ দুখ পঁহুচায়া তো মাফ কর দেঙ্গে।

    জেনে-না জেনে যদি কাউকে দুঃখ দিয়ে থাকি, তার জন্যে মাপ চাইছি।

    বিকেলে ক্যাশ ক্লোজ হবার পর রাজন ঠুল্লুকে কফি বানাতে বলে। রূপেশের জিজ্ঞাসু চোখ দেখে বলে –স্যার, ওরা চলে যাওয়ায় একটু হালকা লাগছে। ঠিক যেন তেলে জলে মিশছিল না ।

    রূপেশ এড়িয়ে যাবার চেষ্টায় বলে – আরে দু’মাসের ডেপুটেশন, পুরো হয়ে গেছে। এক্সটেন্ড করলে এক্সট্রা ডেপুটেশন অ্যালাউন্স পে করার ব্যাপারে আমাকে জাস্টিফিকেশন দিতে হবে , তাই।

    কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে রাজন অনুরোধ করে একটা অসমাপ্ত গল্প শেষ করতে ।

    মানে?

    চুড়ৈল অউর দারু পীনে কী কহানী তো হো গয়ী। কিন্তু আপ আপকে ঘরওয়ালে কে বারে মেঁ মনে মনে যে কী গিঁট বেঁধে রেখেছেন তা বলতে বলতে থেমে গেছেন। আমাকে বলুন, বলে ফেলুন। বুকের ভার হালকা হবে, সত্যি বলছি।

    রূপেশ কি এই অনুরোধের জন্যে মনে মনে অপেক্ষা করছিল? নইলে কেন এত কথা হটাৎ কল কল করে জলের ট্যাপ খোলার মত বেরিয়ে এল?

    রূপেশ জানে না ।

    ‘তখন ভিলাইয়ের ছেলেমেয়ে সবাই সায়েন্স পড়তে ১৪ কিলোমিটার দূরে জেলাসদর দুর্গ শহরের সরকারি কলেজে ভর্তি হত। আর্টস আর কমার্সের ছাত্ররা যেত ভিলাই সেক্টর সেভেনের কল্যাণ সমিতির প্রাইভেট কলেজে। আমার অংক ভাল লাগত। স্কুলে স্যারেরা বলতেন আমার নাকি অংকের মাথা ভাল। এ নিয়ে বাবা , বড়ে ভাইয়া বেশ গর্ব করতেন। বলতেন আমাদের ছোটু একদিন বড় হয়ে ভিলাই স্টিল প্ল্যান্টের চিফ ইঞ্জিনিয়র হবে।

    ‘আমি ভাবতাম অংকের প্রফেসর হব, রিয়েল নাম্বার বা স্ফেরিক্যাল ট্রিগনোমেট্রি নিয়ে রিসার্চ করব। আমাদের এইচ ও ডি প্রফেসর বর্মার প্রিয় ছাত্র ছিলাম। ওঁর গণিত নিয়ে প্রবন্ধ একটি দেশি জার্নালে বেরোত। এই ভাবেই দুটো ইয়ার পেরিয়ে এলাম। ইচ্ছে এখান থেকেই গণিতে এম এস সি করব। তারপর?

    ‘আমার ফাইনাল ইয়ার। বর্মাজী ট্রান্সফার হয়ে সাগর ইউনিভার্সিটি চলে গেলেন। বললেন ফাইনাল ইয়ারে ভাল রেজাল্ট করলে খড়গপুর বা কোন আই আই টিতে ম্যাথস এ পছন্দের টপিক নিয়ে এম ফিল করতে । ভর্তির ব্যাপারে উনি রেকমেন্ডেশন লেটার দেবেন। বিএস সি ফাইনালের রেজাল্ট বেরোলে ওঁর সঙ্গে সাগর ইউনিভার্সিটিতে চিঠি লিখে যোগাযোগ করতে । ব্যস, ম্যাঁয় তো হাওয়া মেঁ উড়নে লগা। মেরা দিলো-দিমাগ সব সাতওয়াঁ আসমান পর।

    ‘হাওয়ায় উড়ছিলাম, মন মেজাজ সব খুশির সপ্তম স্বর্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এত সুখ কপালে সইল না । আমি কি একটু অহংকারী ও অসতর্ক হয়ে পড়েছিলাম?

    ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হল। সব ভালই চলছিল। ফিজিক্স কেমিস্ট্রি উতরে গেল। এবার ম্যাথস। প্রথম পেপারে ক্যালকুলাস, অ্যাডভান্স অ্যালজেব্রা ও ভেক্টর অ্যালজেব্রা মেরা বাঁয়া হাত কা খেল থা। উসকে বাদ সেকন্ড পেপার। স্ট্যাটিস্টিক্স অউর প্রোবাবিলিটি। মজেদার পেপার। তিন সওয়াল বন গয়া থা। অব এক লার্জ স্যাম্পল কে সওয়াল হল কর রহে থে কি পিছে সে এক লড়কা কোচনে লগে।

    ইয়ার, টি অউর জেড ফাংশন কা টেস্টিং ফর্মূলা বতা দো। প্লীজ, ইয়ার!

    ‘বলে দিতাম। কিন্তু তখন আমার মাথা গরম। বাই লিঙ্গুয়াল কোশ্চেন পেপারে ওই লার্জ স্যাম্পলের অংকটার ডেটা দুই ভাষায় দু’রকম দেখাচ্ছে। আমি ইংরেজি ভার্সনের ডেটা নিয়ে কষতে গিয়ে দেখি উটপটাং রেজাল্ট আসছে। তবে কি প্রশ্নটা ভুল! ইংরেজি ভার্সন নাকি হিন্দি? কোনটা ? এদিকে ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলেছে। আর একবার চেক করি, কষে দেখি; আমারও ভুল হতে পারে ।

    ‘কিন্তু মনঃসংযোগ যে কী কঠিন! কারণ সামনে পেছনে ছেলেগুলো কথা বলেই চলেছে। আর ইনভিজিলেটর যেন দেখেও দেখছেন না , মাঝে মাঝে হুমকি দিচ্ছেন বটে, -- আপস মেঁ বাতচিত নহীঁ, -- কিন্তু সেগুলো যে গিদড়-ভপকি বা নকল ধমক, তা সবাই বুঝছে।

    এমন সময় একটি অচেনা গলার আওয়াজে চমকে উঠলাম।

    --হোয়াট আর ইউ ডুইং মাই বয়? কিছুই লিখছ না , গালে হাত দিয়ে বসে আছ? আজকের পেপার কি খুব কঠিন? প্রশ্নগুলো কি আউট অফ কোর্স?

    আমি গণিতশাস্ত্রের সমস্যার ভুবন থেকে কঠিন বাস্তবের দুনিয়ায় ফিরে এলাম। তাও ঝাঁকুনি খেয়ে। আমার সামনে দাঁড়িয়ে একজন মাঝবয়েসি সৌম্যদর্শন ভদ্রলোক, মুখে এক চিলতে হাসি, কিন্তু চশমার ফাঁকে চোখজোড়া হাসছে না ।

    গোটা ক্লাসরুমে সন্নাটা।

    ‘আমি উঠে দাঁড়াই। আমাকে উনি কী বলছেন, কেন বলছেন কিছুই মাথায় ঢুকছে না । আমার মাথার ওপর দিয়ে উনি ক্লাসরুমের পেছন দিকে কাউকে কিছু যেন আদেশ দিলেন। মাথা ঘুরিয়ে পেছনে তাকাতেই ব্যাপারটা বুঝলাম। নকল রোখার ফ্লাইং স্কোয়াড!

    তিনজনের একটি দল কখন যেন আমাদের রুমে ঢুকে পড়েছে। দু’জন পেছনের ও দরজার দিকের বেঞ্চগুলোতে সবার পকেট চেক করছে ডেক্সের ভেতর চেয়ারের তলা সব খুঁটিয়ে দেখছে। কিন্তু এই ভদ্রলোক আমাকে জেরা করছে কেন?

    একটু পরে আওয়াজ আসতে লাগল—পেয়েছি স্যার, ফর্মূলা লেখা চিটগুলো শার্টের কলারের মধ্যে গুটিয়ে রাখা।

    আর একে দেখুন, এই গরমে জুতো মোজা পরে এসেছে, মোজার ভেতরে। আর এই চিকলমুন্ডি ন্যাড়ামাথা শ্রীমান, ইনি ফুলহাতা শার্ট পরে এসেছেন।

    ‘এই ভদ্রলোক সম্ভবতঃ দলের নেতা। সবজান্তা মোডে মাথা নেড়ে বললেন—জানতাম। ঠিকই খবর পেয়েছিলাম যে এখানে মাস লেভেলে চিট চলছে। এটা গভর্ণমেন্ট কলেজ, তার এই হাল? এমন রিপোর্ট দেব যে ইনভজিলেটর অধ্যাপকটির ইনক্রিমেন্ট আটকে যাবে।

    এরপর উনি আমাকে বললেন—আমি কারও পকেটে হাত দিই না , যা আছে বের করে দাও।

    উনি যে আমাকেও চিট চালাচ্ছি বলে সন্দেহ করছেন এটা বুঝতে খানিকক্ষণ লাগল। ধমক খেয়ে পকেট উলটে দেখালাম যে রুমাল ছাড়া কিছু নেই । উনি আমাকে একনজর দেখে ধমকে উঠলেন—হাত দুটো ডেস্কের উপর রাখ।

    তারপর আচমকা নীচু হয়ে আমার পায়ের কাছ থেকে একটা দোমড়ানো কাগজের দলা তুলে নিলেন। এটা কি? দেখ, দেখে বল।

    আমার গলা শুকিয়ে গেছে। স্যার, এটা আমার না ।

    বেশ, তাহলে কোনটা তোমার সেটাই বলে দাও।

    স্যার, আমি চিটিং করি না । সাক্সেনা স্যারকে জিজ্ঞেস করুন।

    আমার কাউকে জিজ্ঞেস করার দরকার নেই । এই চিট তোমার কাছ থেকে পাওয়া গেছে। এই যথেষ্ট।

    স্যার, এটার ফর্মূলা কার্ল পিয়ার্সন কো-এফিশিয়েন্ট আর মিউচুয়ালি এক্সক্লুসিভ প্রোব্যাবিলিটির। এর কোন সওয়াল আজকের পেপারে আসে নি।

    ও হো, তাই তুমি এটা মাটিতে ফেলে দিয়েছ।

    না স্যার, আমি এটা বানাইনি, ফেলিওনি।

    তাহলে কি করে জানলে এই চিটে কিসের ফর্মূলা লেখা আছে।

    জানতাম না , তখন আপনি দেখতে দিলেন, তাই।

    আচ্ছা? ওই খুদে খুদে লেখা একনজর দেখেই তুমি ওটা কার্ল না আর্ল সব বুঝে গেলে! স্ট্রেঞ্জ!

    বিশ্বাস করুন, আমি সিরিয়াস স্টুডেন্ট; কখনও চিট বানাইনি।

    বল, কখনও ধরা পড়নি।

    হ্যাঁ স্যার।

    এই তো সুবোধ ছেলের মত কথা বললে।

    এবার এই কাগজে দস্তখত করে বাড়ি যাও। তোমাকে হাতেনাতে ধরেছি। এই হলের চারজনকে বুক করলাম। তোমরা চাইলে যদি কিছু পেপার বাকি থাকে তাতে বসতে পার। কিন্তু রেজাল্ট উইথহেল্ড থাকবে। এরপর ইউনিভার্সিটি যা ভাল বুঝবে ।

    ‘কীভাবে যে বাড়ি ফিরেছিলাম মনে করতে পারি না । তারপর যা হল সেটাকে আজও ভুলতে পারি নি। আমার কথা কেউ বিশ্বাস করে নি; বাবা, মা , দাদা , পাড়া-প্রতিবেশি—কেউ নয়। সবার এক কথা; হলে বেয়াল্লিশ জন পরীক্ষা দিচ্ছিল, বাকি তিনজনের সঙ্গে তোকে কেন ধরল! দাদা বললেন--তোর সঙ্গে কি ওদের জাতি –দুশমনি ছিল ? ওরা তো বোধহয় তোকে চিনতই না । ছি-ছি-ছি! আমাদের মুখ হাসালি!

    বন্ধুরাও বাঁকা হাসি হেসে বলল—চিট পেয়েছে তবেই তো বুক করেছে। খামখা চেঁচিয়ে কী লাভ? তারচেয়ে ভাল করে তৈরি কর, তিনমাস পরে সাপ্লিমেন্টারী পরীক্ষা দিয়ে দে, বছর নষ্ট হবে না ।

    এরাই আমার বন্ধু! স্কুলের দিন থেকে?

    বাবা সাতদিন বাড়ি থেকে বের হলেন না । সবাই জানত ওর ছোট ছেলে অংকে ভাল। এখন সবাই জানতে চায় কেন এমন হল? রূপু কি ইদানীং বখে যাচ্ছিল? নইলে চিট নিয়ে হলে যায়! আরে চিট তো ওর পায়ের কাছেই পাওয়া গেছল, তবে?

    ‘কী বলব, এই তবে’র উত্তর পেয়েছিলাম অনেকদিন পরে। পেছনের বেঞ্চের ছেলেটি , যাকে অনেক অনুনয়-বিনয় সত্ত্বেও ফর্মূলা বলে দিই নি । সেই গুরবানী এল আমাদের বাড়িতে ওদের গাড়ি নিয়ে। আমার মায়ের প্রেসার বেড়ে মাইল্ড অ্যাটাক মত হয়েছিল। দাদা অফিসের কাজে আউট অফ স্টেশন। বাবা ঘাবড়ে গিয়ে কি করবেন কিছু বুঝতে পারছিলেন না । শিগগির মাকে নিয়ে সেক্টর নাইনের মেইন হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। আমাদের গাড়ি নেই , ভরদুপুরে ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স খালি পেলাম না । সেই সময় কী করে খবর পেয়ে গুরবানী এল গাড়ি নিয়ে। ওদের লোহার ছড়ের ব্যবসা, পেল্লায় বাড়ি; তিনটে গাড়ি।

    এমার্জেন্সি ওয়ার্ডে গিয়ে ওই চেনা ডাক্তার বের করে সাততাড়াতাড়ি মাকে ভর্তি করিয়ে দিল। আমাকে বলল –টেনশন মত লেনা। পতা কিয়া, মামলা উতনা সিরিয়াস নহীঁ হ্যাঁয়। দো দিন অবজার্ভেশন কে বাদ শায়দ পরশুদিন বাড়ি যেতে দেবে। আমি জানতে চাই গাড়ি পেট্রল বাবদ কত দেব?

    ও আমার পিঠে হাত রেখে মাথা নাড়ে। ওয়ার্ডের বাইরে গার্ডেনে নিয়ে গিয়ে একটা সিগ্রেট ধরিয়ে আমাকে একটা দেয় । বলে শোন, কিছু দিতে হবে না । আজ বলে নয়, যখনই দরকার পড়বে , বলবি। আমি গাড়ি নিয়ে আসব।

    এটা দেখি ক্যালকুলাসের চেয়েও জটিল ব্যাপার।

    ও হাসে; বলে এটা ওর পাপের প্রায়শ্চিত্ত । কয়েক বছর আগে পরীক্ষার হলে ফ্লাইং স্কোয়াডের রেইডের সময় ও ভয় পেয়ে ওর চিট দলা পাকিয়ে ছুঁড়ে ফেলে। সেটা গিয়ে সামনে বসা আমার পায়ের সামনে পড়ে । জলারামের কসম খেয়ে বলে –বিশ্বাস কর, তোকে ফাঁসাব ভেবে কিছু করি নি; কিন্তু তুই বুক হলি। তোর বছর নষ্ট হল। আমি জানি ইস গুনাহ কী মাফি হো নেহী সকতা; পর--।

    আমার একটা অদ্ভুত অনুভূতি। রাগ, ঘেন্না কিছু নয়, একটা শুকনো বোদা ভাব। খালি একটা বছর নষ্ট! না , তিন-তিনটে বছর।

    ‘আমি সাপ্লিমেন্টারী না দিয়ে কলেজ বদলে নিলাম। সায়েন্স ছেড়ে কমার্স নিয়ে তিন বছর প্রাইভেট কলেজে পড়ে গ্র্যাজুয়েট হলাম। আগের একজন বাদে সব বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্কছেদ করেছিলাম। সেই দোস্ত আর তার বাবা আমার কথা বিশ্বাস করেছিলেন।

    তাই বাড়ি থেকে একটাও পয়সা নিই নি। অংকের টিউশনি করে পড়ার খরচা চালিয়েছি। বড়ে ভাইয়া ব্যঙ্গ করলেন, গাল দিলেন । কিন্তু আমি জেদ ছাড়ি নি।

    এভাবেই একদিন এমার্জেন্সির সময় গ্রামীণ ব্যাংক খুলল, বিজ্ঞাপন বেরোল। বাড়িতে না জানিয়ে বন্ধুর বাড়ির ঠিকানা দিয়ে অ্যাপ্লাই করলাম, পরীক্ষা দিলাম। ইন্টারভিউ হল। বাকিটা তো আগেই তোমায় বলেছি। ব্যস’।‘

    রাজন এক গেলাস জল খেল। মুখ মুছল, গলা খাঁকরি দিল।

    --স্যার, একটা কথা জিজ্ঞেস করি? আমায় যে প্রথম দিন দাদার থেকে টাকা আনতে হবে শুনে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে সিকিউরিটির টাকা দিয়েছিলেন সেটা --?

    --ঠিকই বুঝেছিস। সেই ‘দাদা’ ফ্যাক্টর।

    রূপেশ হাসে, রাজন উশখুশ করে। খাবার সময় হয়েছে। ঠুল্লু এসে টিফিন ক্যারিয়ার খুলে টেবিলে থালা সাজাচ্ছে।

    --স্যার, আই উড লাইক টু সে সামথিং। আই হ্যাভ অলসো ওয়ান স্টোরি , নট আন-ইউজুয়াল লাইক ইয়োর্স, বাট ইয়েস, এ স্টোরি অল রাইট।

    ‘স্যার, হয়েছিল কি জয়েন্ট ক্লিয়ার করতে পারি নি। আসলে আমার মন লাগত না অংকে, ঠিক আপনার উলটো কেস। তবু, বাবা ভর্তি করে দিলেন এক কম্পিউটার ইন্সটিট্যুটে জেলা সদরে। এক ব্যাটা অ্যাপল না কিসের ফ্রাঞ্চাইজি নিয়ে ফেঁদে বসেছে একটা ঝকাস স্মার্ট কম্পু-ক্লার্ক বানাবার দোকান। অথচ সাইনবোর্ডে এবং প্রস্পেক্টাসে বড় বড় করে লেখা এখান থেকে পাশ করে ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যায়। সাউথ আফ্রিকার কোন ইউনিভার্সিটির অ্যাফিলিয়েশন। এত সহজে ফরেন ডিগ্রি! কম্প্যু ইঞ্জিনিয়র! ব্যস, আমার বাবা ও ওঁর মত অনেক মাঝারি চাষি জমি বেচে পয়সা লাগিয়ে দিল। হোস্টেলে থেকে পড়তে হবে, ভালো পোষাক চাই। পার্সোনাল কম্পিউটার চাই, ডেস্কটপ। তখন ল্যাপটপ দেড় লাখের নিচে পাওয়া যেত না ।

    ‘প্রথম প্রথম বেশ লাগছিল, কিন্তু ওই দুটো সেমিস্টার পর্য্যন্ত। অ্যালগোরিদম ও অংক গুলো কঠিন হতে হতে আমার ক্যাপাবিলিটির বাইরে চলে গেল। আমি ক্লাস বাংক করতে শুরু করলাম।

    আমি একা নই, বেশ ক’জন সঙ্গী জুটে গেল। বেশিরভাগ শহরের, আমিই শুধু গ্রামের। তবে সবারই এক প্রবলেম—এইসব ছাইছাতার অংক আর অ্যালগোরিদম ! কাজ নেই বিদেশি ইঞ্জিনিয়র হয়ে। আস্তে আস্তে দীক্ষা হল, সিগ্রেট থেকে মদ ও গাঁজা। না , ব্রাউন সুগার বা কোন ড্রাগস নয়। কিন্তু দুপুরের শো’তে সিনেমা দেখা সব চেয়ে বড় নেশা হয়ে দাঁড়াল। আমাদের গাঁয়ের বাড়িতে কারও টিভি ছিল না । কলেজের ফীস বাকি পড়তে লাগল। আজ দেব, কাল দেব করেও লোড বেড়ে যাচ্ছিল। এক বন্ধু ধার দেবে বলেও আজ- নয়- কাল করতে লাগল। শেষে বাড়িতে চিঠি গেল। প্রাইভেট কলেজ বলে কথা। বাবা এল। প্রিন্সিপালের রুমে আমাকে ডেকে পাঠানো হল। বাবা জানলেন যে আমি দিনের পর দিন ক্লাসে যাইনি, মাসের পর মাস মাইনে দিই নি। বাবা বললেন যে উনি তো নিয়মিত আমার নামে মানি অর্ডার করেছেন।

    বাবা হাতজোড় করে প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে মাপ চাইলেন, আমার হয়েও। তারপর আমাকে কলেজ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বাড়ি চলে এলেন। সাতদিন কোন কথা বলেন নি। গুম হয়ে বসে থাকতেন আর মাঝে মাঝে বিড়বিড় করতেন—আমার ছেলে চোর! ছিঃ।

    সাতদিন পরে এক সকালে আমাকে বিছানা থেকে টেনে তুলে বললেন—তৈরি হও। আমার সঙ্গে ক্ষেতে কাজ করতে যাবে।

    মাকে বললেন—আমার সঙ্গে ওর খাবারও বেঁধে থলিতে ভরে দাও। দুপুরে ওখানেই খাবে। চাষার ছেলে চাষাই হোক, আমারই ভুল।

    ‘সাতটা দিন গেল না , আমি হাঁফিয়ে উঠলাম। জমিতে কাদার মধ্যে মই দেওয়া, হাল ধরা, আগাছা নিড়ানো—এ যে কি পরিশ্রমের কাজ যে করেছে সে জানে। রাত্তিরে ঘুমুতে পারি নে, সারা শরীরে ব্যথা। বাবার পা ধরে ক্ষমা চেয়ে বললাম –অন্যায় করেছি। আর একটা চান্স দাও, ভাল করে পড়াশুনো করব। চাষের কাজ আমার দ্বারা হবে না ।

    বাবা অবিচল।

    পাশের বাড়ির জ্যাকব আংকল বাবার বন্ধু। উনি বললেন –অনুশোচনায় সব পাপ, অনেক বড় বড় পাপ ধুয়ে যায়। আর এ তো তোমার ছেলে, কীই বা বয়েস!

    শেষে সব কথা খুলে জানিয়ে জ্যাঠতুতো দাদাকে চিঠি লিখলাম। উনি ভিলাই স্টিল প্ল্যান্টের চার্জম্যান, উইনাদের আইটি আই থেকে পাশ, মেশিনিস্ট কাম মিলার।

    ‘তারপর দাদার চিঠি এল। উনি আমাকে ভিলাইয়ে নিজের কাছে রাখবেন, একটা আর্টস কলেজে ভর্তি করে দেবেন। আমি যাতে ভালভাবে গ্র্যাজুয়েট হই সেটার দায়িত্ব উনি নেবেন। বাকিটা বুঝতেই পারছেন। এখন আমাকে নিয়ে বাবা বেশ গর্বিত। উইনাদের চাষার ছেলে ব্যাংকের মত কঠিন কাজের লায়েক হয়েছে। লাখ লাখ টাকা নাড়াচাড়া করে। ভারত সরকার ওকে বিশ্বাস করে’।

    রূপেশ বলল খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে, খেয়ে নে।

    খাবার পর হাত ধুয়ে বসে রাজনকে বলল যে ওর কাছে সিগ্রেট থাকলে একটা দিতে।

    রাজন কোন কথা না বলে একটা বাড়িয়ে দিল।

    একটু পরে বলল—এই যে আপনি শুধু দিওয়ালির সময় বাড়ি যান, গিয়ে কী করেন? বাবা-মার সঙ্গে কথা বলেন না ?

    যা বলি তা না বলারই মত। মানে মা বা বৌদি চায়ের কাপ ধরিয়ে বলল দিয়ে আসতে। আমি নিয়ে গিয়ে ঠক করে ওঁদের সামনে রেখে দিয়ে বলি—চায় লীজিয়ে, ব্যস।

    রাজন দু’দিকে মাথা দোলায়। আচ্ছা, ওঁরা কিছু বলেন না ? ধরুন, বোস, আমাদের সঙ্গে বসে চা খাও।

    --আগে বলতেন, আমি উত্তর না দিয়ে উঠে চলে যেতাম। এখন আর কিছু বলেন না ।

    -- আপনি বয়সে ও পোস্টে বড়। আপনাকে অ্যাডভাইস দেব সে অধিকার নেই । আপনাকে ভাল লাগে, বুঝতে পারি আপনি কষ্ট পাচ্ছেন, তাই বলি—সারাজীবন ওই একটি ঘটনার ব্যাগেজ বয়ে বেড়াবেন? আজকে আপনার নতুন করে কাউকে কিছু প্রমাণ করার নেই । কিসীকো দিখানে কী কোই জরুরত নহী হ্যাঁয়; ঘরওয়ালে মুহল্লেওয়ালে-- কিসীকো নহী। ইসীলিয়ে কহতা হুঁ, বাতচিত শুরু কীজিয়ে। পিতাজীসে, বড়ে ভাইয়া সে। জিদ ছোড়িয়ে, ঘর জাইয়ে । খুদ পহল কীজিয়ে, করকে দেখিয়ে।

    রুপেশ সিগ্রেট নিভিয়ে ওকে শুতে যেতে বলে।

    পরের শনিবার। দিনের শুরু, বেলা দশটা। ঝাঁট-পাট হয়ে টেবিলে লেজার সাজানো হচ্ছে, কাস্টমারের জন্যে গেট খুলবে আরো আধঘন্টা পরে।

    রূপেশের টেবিলের পাশে একটি এয়ারব্যাগ দেখে রাজন বলল—এটা কার?

    --আমার রে। আর কার! আজ আমিও হাফ ডে’র পর ব্যাংক বন্ধ করে তোর সাথে ভিলাই যাব; হ্যাঁ, ‘বন্দে মাতরম’ বাস ধরে। ফিরব সোমবার সকালে, তোর সাথে। কণ্ডাকটারকে বলে একটা ভাল সিট জোগাড় করিস তো, সামনের দিকে।

    রাজনের চোখ বড় বড়, কথা ফোটে না । রূপেশের মুখে হাসি, কিন্তু চেহারায় একটা লজ্জা লজ্জা ভাব।

    --তোকে বলা হয় নি। কাল ছিল বড়ে ভাইয়ার জন্মদিন। কী মনে হল, সকালবেলা ব্যাংকের ল্যান্ডলাইন থেকেই ফোন করে ‘হ্যাপি বার্থ ডে ভাইয়া’ বললাম।

    খানিকক্ষণ সন্নাটা। ভাবছিলাম লাইন ছেড়ে দেব কি না । এমন সময় একটা কাঁপা কাঁপা আওয়াজ শোনা গেল—কৌন?

    ভাইয়া, আমি রূপেশ; আজ আপ কা জন্মদিন হ্যাঁয় না , ইসীলিয়ে।

    আবার সন্নাটা। তারপর এল এক হুঙ্কারঃ বেওকুফ, জানবর, উল্লু কঁহিকে! এতদিন পরে আমাকে মনে পড়ল? তোর বড়ে ভাইয়াকে?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অরিন | 161.65.237.26 | ০১ নভেম্বর ২০২০ ০৪:৪৪733105
  • বয়ে চলা নদীর মতন জীবনের গল্প বলছেন রঞ্জনবাবু। নুড়ি পাথরের ওপর দিয়ে লাফাতে লাফাতে আমরা যেমন নদী পেরিয়ে যাই, এই লেখাটাও ঐককম সাবলীল একটা জীবনের গল্প । ক্রমশ চলা ।

  • শিবাংশু | ০১ নভেম্বর ২০২০ ১১:০০733111
  • চরৈবেতি ...

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন