এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  গপ্পো  পুজো স্পেশাল ২০১১

  • এক গঞ্জের ইতিবৃত্ত এবং কিছুটা স্মৃতিমেদুরতা

    সুকান্ত ঘোষ
    গপ্পো | ০২ অক্টোবর ২০১১ | ৭৩৫ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)


  • আমি শরৎ ভালোবাসি, অনেকে বলে শরৎকেই ভালোবাসি। জানালায় উঁকি মেরে অ্যাশট্রের গা ভরা রোদ, চারশো মিলিয়ন ইয়ার রোদও ভালোবাসি। একের পর এক ভালোবাসার ঝাপটায় তিনটে লাইনে পাঁচবার ভালোবাসি। ...

    (এক)

    অনেকের মত আমিও শরৎ ভালোবাসি

    আমি শরৎ ভালোবাসি, অনেকে বলে শরৎকেই ভালোবাসি। জানালায় উঁকি মেরে অ্যাশট্রের গা ভরা রোদ, চারশো মিলিয়ন ইয়ার রোদও ভালোবাসি। একের পর এক ভালোবাসার ঝাপটায় তিনটে লাইনে পাঁচবার ভালোবাসি। ইয়ার এর কথায় মনে পড়ল অনেক ইয়ার ধরে আমি ইয়ারবাজ ছিলাম। কথার মারপ্যঁ¡চে আমার চিরকালীন অনীহা। সোজা বল, সোজা চল - মুরগীর দোকান বাঁদিকে, ডানদিকে কদমের ধাবা যেখানে রাতে মাল পাওয়া যায়। আমরা শালুকফুলের দল অল্পরাতে মাল কিনতাম, সিনিয়ররা বেশী রাতে মাল ওঠাত - সবারই অফ্‌ লাইসেন্স। মুক্তবাজার - এখানে সার্ফ পাওয়া য়ায়, রেডিমেড ডাল এমনকি কাতুরে বঙ্‌দের জন্য মোচার প্যাক। বঙ কাদের বলে জান? এটা ভৌগোলিক বার্তা। ফিজিক্স, কেমিষ্ট্রি, ম্যাথ ও বঙ্‌ মিলেমিশে নালেঝোলে মাখামাখি। ভাগ্যিস শালারা ইঞ্জিনিয়ারিংটা কমিউনিজমের সাথে ঘুলিয়ে ফেলেছে। এই দ্যাখো, কোথা থেকে কোথায় এলাম। শিব্রাম এর গল্পের মতন - সেই যে একটা ছেলেকে তার মা যাই পড়তে দেয়, সে ঘুরেফিরে খালি খাবারের কথায় চলে আসে। মা বিরক্ত হয়ে বলল অঙ্ক করতে। একক, দশক, শতক , সহস্র, অযুত ... লক্ষী, সরস্বতী, কার্ত্তিক, অঘ্রাণ, পৌষ মাগ ছেলে পুলে পিঠে ... এরপর মনের সুখে তালমিছরি বসিয়ে যাও। আমার হয়েছে শালা সেই দশা যেখানেই ছাড় মাগীর গল্পে ঘুরে ফিরে আসবই! আমি মনে হয় আগের জন্মে নেতা ছিলাম, এই জন্মে পার্ভাট। আর ভিতরে ঢুকছি না ... যা বলছিলাম, আমি কাশ ফুল ভালোবাসি। পদ্ম? তাও ভালোবাসি - পদ্মকে পুকুরঘাটে খুব করে ভালোবাসি - কাশ? আর একটু পারতাম। হুঁ হুঁ বাবা, জাতীয় ভাষা - জোরদার খিস্তি, ভালোবাসাও তুরুশ্চু করা যায়। শালে, মেরী জান ও ভাগো হিঁয়াসে রেসপেকটিভলি এদের ই.জি। ওহো আরো একটা জিনিস করা যায় - চলমানের গতিরোধ - ভাই রোককে। রুখলুম, তবে শুধু রুখলেই হবে কি? মনটা উদার করতে হবে। অ্যাকসেপ্টেন্স লিমিট বাড়াতে হবে। এর একটা তুল্যমূল্য আলোচনা করা যেতেই পারে।

    - তা বাবা বিহারী, আবার লাড্ডু কেন?
    - জি সাব, ফের মেরা লেড়কা হুয়া, কাল দেশ সে খত্‌ আয়া
    - সে কী রে! তুই তো পাঁচ বছর দেশেই যাস নি!
    - তো কেয়া হুয়া সাব, লেড়কা তো মেরি বিবি কা ই হ্যায় না ...

    টেস্ট দ্য থান্ডার!!!!!!!!!

    আমি যা দেখছি, এটা নতুন কিছুই হচ্ছে না। সেই ফাটা রেকর্ড। আচ্ছা যুগান্তকারী লেখার রহস্যটা কী? লেখা দিয়ে কি যুগের অন্ত ঘটিয়ে দেওয়া যায়!! গ্যালে পড়ে সেটা কোন যুগ? আমার সেজকা জানত।

    ইদানিং শক্তিগড়ের রেলগেটের কাছে জি.টি. রোড ডাইভার্ট করার কারণে ল্যাংচা ব্যবসায়ীরা গামছা পড়ার মতন অবস্থায় চলে গেছে বলে সংবাদসংস্থা জানিয়েছে। এ গান বহু আগের লেখা।

    তো যা বলছিলাম, সেজকা বাদ দিয়ে তামাম যুগান্তকারী শিল্পীরা এত যুগ কী করে শেষ করেন!! অবশ্য আমি সাক্ষাত তাঁদের যুগ নিয়ে খেলা করতে দেখেছি ... এক্সাম্পল কুচযুগ, যুগলমিলন, যুগলবন্দী (অ্যামেরিকায় জন্মালে শেষোক্তরা গে কাপল হিসেবে খ্যাতিলাভ করতেন ) ... যুগ এর ছড়াছড়ি ... হ্যঁ¡ যা বলছিলাম, শরৎ কিন্তু আমি সত্যি ভালোবাসি। মামণিরা শরতে রচনা লেখে, আমি শরতের শিউলিতে মরি - কাব্যি করি। খোলা দরজা দিয়ে আসে ছেলেবেলা, হাফপ্যান্ট, আজান, মেহেন্দী, দুষ্টুমি আর দুষ্টুমি। পাশের বাড়িগুলো মমতা হয়ে যায় - আমাদের পরবর্ত্তিরা শিকড় থেকে আলগা, আমরা তখনো ...

    শালা কবিতা আসে না, এলেও প্রাণ থাকে না তারা এখনো ছেঁড়া ছেঁড়াই। ফিলিংস আসে তো রঙের কৃত্রিম প্রলেপ আসে না। ফলে আমার লেখারা শুধু ডায়েরিতেই থেকে যায়। তাতে কী? রোজ কলমটা হাতে বুলিয়ে নিই, কবিতারা জমা হচ্ছে - নেমে আসবে একদিন গলা মোমের মত তোমার আমার নিটোল হাতগুলো দিয়ে।

    একটা নিখাদ ভালোবাসা, নির্যাস ভালোবাসা, নিহত গোলাপের মত লটকানো (কাব্যি) মুখ করে বলতে চাইছিলাম শরৎ ভালোবাসি।

    (দুই)

    ভালোবেসে মিটিল না সাধ
    বঁধুয়া আমার চোখে জল এনেছে হায় ...

    কোনটায় টান দেব বুঝতে পারতাম না, বঁধুয়া নাকি জলে!! সেজকা বলত দুটো ধরেই টান দিতে। ওই দুটোই নিরাকার, যে পাত্রে রাখবে তারই আকার ধারণ করবে

    বিনা কারণে ...

    কিন্তু কমলি নেহি ছোড়তা, এখনো করি বেহায়ার মত। সেজকার গল্প শুরুতেই শেষ হয়ে যায় নি। পান নিয়ে বাড়বাড়ন্তও নয়! আমি পান দিতে, করতে ও খেতে ভালোবাসি না। সতেরোর বন্ধুর তিরানব্বই বাপের ছেরাদ্দে আয়েস করে একটা পান খেয়েছিলাম সান্ত্বনা দেবার জন্য। অন্যরা পোড়াতে গিয়ে পান করে ওটা দিয়েছিল, যার যেমন পদ্ধতি আর কি। আমার প্রাণের বন্ধু, বকুল বন্ধু, আমাদের বুলবুলি ক্ষেতে জড়ানো বন্ধু। বল কুড়োতে গিয়ে বাঁশের বাখারিতে অণ্ডকোষের তলাটা কেটে গেলে আমিই তো অ্যাভন সাইকেলে করে শিল্পী দিদিমণির কাছে নিয়ে গিয়েছিলুম। কোনরকম পক্ষপাত ছাড়াই তখন কোষের মর্যাদা জানতুম। বায়োলজির প্রতি বেজায় ঝোঁক তখন (এখনো আছে, তবে ভিতরে ঢুকতে চাই না) , খুব ঘাঁটাঘাঁটি করতাম ব্যাঙের মাথা থেকে বাঈদের বায়োলজি। বড়জ্যাঠার প্রেডিকশন, এইচ.এস এ লেটার বাঁধা। জ্যাঠা আমার কংগ্রেস পিরিওডে পানকৌড়ি শিকারে গিয়ে ওপারের খেজুর গাছে রস পাড়তে রামাশিষের পাছায় ছড়ড়া ঢুকিয়েছিল, পরে যুক্তফ্রন্টে কাপড়ের দোকান দেয়। ব্যাপারটা লক্ষ্য করুন। কোথায় ঢুকেছিল? পাছায় ...নকশালবাড়ি তখনও চার বছর। গাঁটের কাপড় গাঁটেই থাকে, পায়ে গেঁটে বাত জন্মে জলসাঘরের ছবি বিশ্বাস হয়েছে নাকি আজকাল, শোনা কথা।

    ভালোবেসে মিটিল না সাধ
    ফুরালো না এ জীবনে
    হায়, এ জীবন এÉ¡তো ছোটো ক্যানে ...

    সাড়া তো দাও না কেউ!! তার চেয়ে আমার পূবালীই ভালো, শম্পা, কেয়া - ছোটোবেলার কুমীরডাঙা আর আধবয়সী খড়ের গাদার খেলা। ওরা বড় সুন্দর ছিল - ওদেরই তো ভুরু ধনুকের মত ডায়নার আগে - ওরাও হঠাৎ বড় হয়ে গেল, আমিও ফ্রেঞ্চকিসের প্রকৃতি প্রত্যয়। আবার সেজকায় আসি, আমার ডিফেন্ডার সেজকা, ডে-লাইট জ্বালা দ্রৌপদী সেজকা, গুড় মুড়ির জল চুমুকে খাওয়া সেজকা। গুড় মুড়ির প্রসঙ্গে - কথনে আছে এই জল খেলে হাড় শক্ত হইবে। হক কথা, হাড়ে হাড়ে সত্যি। আমার শরীরে এখন শক্ত হাড়ের সাথে ল্যাকমে মাসলের খেলা জমে উঠেছে। আমি নিজেই এ খেলার আম্পায়ার, রেফারী ও চুষিকাঠি। রইল পড়ে ফাঁকা মাঠে গোল দেবার ব্যাপারটা। আমি আগেই বলেছিলাম গ্রহণেই লিমিট বাড়াতে হবে। ভিক্টোরিয়া চুমুর শেষে যারা যারা গোল গোল খেলা করে ঘন্টা হিসাবে কোনো গোলযোগ ছাড়াই। সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণ প্রজাতির এই গ্রহণ কেপলারের আগে থেকেই প্রেডিক্টেড ছিল। তুমি বলবে তা হলে ওরা কি হরিহর আত্মা? ছেলেবেলায় হরিহর আত্মা কথাটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট । হরি আমাদের যৌবনের নায়ক - আমাদের ক্যাপ্টেন। হাজারটা গোয়ালিনী সামলানো হরি নয়, লালু, ইন্দ্রনাথ এর মত রাবার ডিউস ও টেনিস বলের মালিক বা মালকিন। অনেক জলীয় শ্যাওলা হড়কে পরম ও চরম প্রাপ্তি। ক্লাশ কতোয় মনে নেই. বেশ্যাদের নিয়ে কবিতা মক্সো করেছিলাম না লালিনগ্রাদ, পিটসবার্গ নয়, ও হল গিয়ে ম-স-কো।

    সূর্যটা টুপ করে থালার মত ডুবে গেলে
    তুমি সাজতে বসো হে বঁধুয়া (মনে রাখবেন তখন রবিভাব প্রবল)
    কতজনের হাত ফেরত - কতজনের
    ঠিক কতটা পরে ধেবড়ে যাবে তোমার সিঁদুরগুলো ...

    এ কবিতা টেকনিক্যালি মার খেয়েছিলো। সিঁদুরগুলো হবে কি? হায় রে তোরা আমার আজকের লেখা পড়। তবে সুমন বলেছিল সে নাকি ল্যাপলাস আর ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম করে বার করে দেবে সিঁদুর ধেবড়াতে কতক্ষণ সময় লাগে। অনেকদিন দেখা নাই। ও আরো বড় হয়েছে। ওর বউ মনে হয় বড় করে সিঁদুরের টিপ পড়ে, ও তার ল্যাপে লাস হয়ে পড়ে থাকে। ধরো লোহা, লোহা-তামা, লোহা-দস্তা, শেষেরগুলো গ্যালভানিক কাপলিং। বলে কি শালা! লোহা-তামায় জোড়া দিলে লোহা খইবে তাড়াতাড়ি, শুধু লোহার থেকে (আবার দস্তার বেলায় উল্টো) ... ভাবো এবার কে লোহা আর কে তামা? এই জটিল ব্যাপার (তবে অপ্রাসঙ্গিক নয় গ্যারান্টি!) আমি তোমাদের হাতে ছেড়ে দিলাম। আনন্দ পাচ্ছ না? পাবে কি করে ... নাচা - গানা হয় নি যে অনেকক্ষণ! এসো একটা গান শোনাই ...

    নীল যমুনার কালো জলে আর যাব না
    সিক্ত বসনে শিহরিয়া তুমি
    খাড়া বৃন্তে এ কোন সিন্ধু দেখি আমি

    উনিশশো পঞ্চাশ নাগাদ লেখা রবীন্দ্রসঙ্গীত। অমনি সুর সুর করে উঠল! একই বৃন্তে দুটি কুসুম বলবে গদগদ হয়ে আর এই বৃন্তে দোষ! এই সুর সুর করে ওঠা থেকেই সুরকার কথাটির উৎপত্তি বলেছিল সেজকা, আমিও অবিশ্বাসের কোনো কারণ দেখি না।

    কত কথা বলা বাকি। কত বাসি পার্বণ। এক শীত পেরিয়ে আবার পাতা ঝরাদের খেলা। আমাদের পাতা ঝরা নেই। আমি পাহাড়ী চিতা হতে চেয়েছিলুম, আমি গোলাপ বাগানে জলঝাড়ি, রেললাইনের কাঁপা শব্দে বিলীন, আরো অনেক অনেক কিছু হতে চেয়েছিলুম (একবার ইলিশের আঁশও) সময় থাকলে বলব, সবই কবিতা নয়, আবার তারা কবিতাও - কে যেন বলে সবই সাবসেট!! তোমরা কি পেয়েছ বৃহৎ সেটটা খুঁজে? আমি অণু, পরমাণু, ফুলের রেণু মেখে ঘুরে বেড়াই সানস্ক্রীন লোশনের সাথে ... একদিন দেখা হবে

    (তিন)

    আমার সাথে রাই জাগে ভোরবেলা
    রাই জাগো রাই জাগো - সুক সারি বলে
    আর কত নিদ্রা যাবে শ্যাম নাগরের কোলে

    পৌষের দিন পিঠের গন্ধ আর চাল গুঁড়িতে এই গানের সাথেই ঘুম ভাঙত সে এক আলোকবর্ষ আগে। ঠাকুমার গুন গুন সুরে আমাদের ডগিটাও মাথা নাড়াত। আমার সকাল, তোমার সকাল - সবার সকাল জুড়ে ছিল সেই মিহি মিহি থিম।

    নাগর আমার কাঁচা পিরিত পাকতে দিল না ...

    ডি শার্পে গানটা খেলিয়ে শার্প ক্যালানি খেয়েছিলাম বাপের কাছে। সব নাগর এক নহে - শ্যাম নাগরের ব্যাপার আলাদা। কেত্তন কর আর ঢুলুঢুলু চোখে হেলে পড় ভারি ভারি পাছায় - দোষ নাই। নাগরই নাগরিক জীবনের জটিলতার কারণ সেটা আমি সিঁড়ি ভাঙা অঙ্কের সাথেই শিখেছিলাম। মার, চাবকানো, প্যঁ¡দানি ও ক্যালানি এরা সবাই এক গোত্রের ষষ্ঠী আর সপ্তমী তৎপুরুষের মত। আগে বাইরে বলতে হত, এখন ক্যালানি FM তেও শোনা যায়। বৃশ্চিক - মেয়েছেলের পিছনে লু লু করবেন না - ক্যালানি খাবার সম্ভাবনা! বাপি, ক্যালানি কী? হলদিরামে পাওয়া যায়? স্মার্ট কিড?। ফালুদার মত ক্যালানিও ঘরে ঘরে ঢুকিয়ে দেবে অচিরে। সরে আমি অনবরত - আমি আর সকালের গান।

    যাহার-ও লাগিয়া খাটিয়া মরিনু, সে তো ভুলিয়া যাবে রে
    আর না হবে মোর মানব জনম - পাথরে কুটিলে মাথা রে ...

    সুর থেকে যায় মাথার সাথে। কতটা মাথা খাটালে খাটিয়াতে মরা যায় সে সম্বন্ধে প্রথম কৌতুহল এখন থেকেই। সমাজচেতনার মার প্যঁ¡চ ভাবতে ভাবতে ডাংগুলি খেলার মজাই আলাদা। নিস্তরঙ্গ গ্রাম্য জীবন - মালটা ঝেড়ে দিলাম - বড়ো যুৎসই কথা - তো তরঙ্গ তোলার চেষ্টায় যে সময় ব্যবহৃত হত তাতে করে মহাভারত বা রামায়ণ নাহোক মহায়নটা লিখে ফেলতে পারতাম সেই বয়সেই। তরঙ্গ উদাহরণ - আলমের ছাগল ধানজমিতে বিষ খেয়েছে, পূজার সময় অমুকের বাঁশঝাড়ে আলোড়ন, বাঁশকাটার সাথে অনাবিল আনন্দের আওয়াজ অথবা ইঁদুর ফাল্গুনির পেট করে দিয়েছে। শেষ জিনিসটা নিয়ে ক্লাশ এইট পর্যন্ত রীতিমত ধন্দ। ইঁদুর তখন গামছার ব্যবসা করত আর ফাল্গুনি গায়ে কাঁচা হলুদ মাখত যাহা আমাকে পরবর্তী লাইফের ইন্টিগ্রেশন চিহ্ন চোখের সামনে চাইকি হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছিল। গণ্ডগোল বাঁধল পেট করা নিয়ে। বাপি, গণেশের পেট কে করেছে? পেট থেকে পেটি চিতলের পেটি আর মিঠুর পেটি এক নহে। চিতলের পেটি পরবর্তী পেটির মত ভীড়ের গাদায় সহজলভ্য ছিল না।

    ও আমার দরদী গো, আগে জানলে (২ বার)
    তোর ভাঙা নৌকায় চড়তাম না ...

    দর করাকরি থেকে যে দর্দ উঠে আসত সেখান থেকেই দরদীর ব্যাপক ব্যবহার। শেফালি বর্ধমান যেত মাছ বেচতে, তার দরদীর অভাব হত না।

    - ব্যাগ ভর্তি কী রে?
    - বই আছে, ফার্ষ্ট হয়েছি ক্লাসে।
    - তুইও ফার্ষ্ট হচ্ছিস, দেশের কী অবস্থা ...

    গান্ধী বলেছিল আর এই শিবেজ্যাঠা বলল - ভাঙা নৌকা সেই ফুটোই রইল - আগে জানলে - আগে জানলে ...

    - ও কাকা, ও কাকা, এই সাইকেলটায় চেপ না
    - দূর বোকা, ভর দেব নাকি তা বলে!

    কাকা আমার ঠ্যাং তুলে সাইকেল চেপেছিল। সেই গানটাও শোনা

    চড়বি নাকি কলির সাইকেলে
    তার দুদিক চাকা, মধ্যে ফাঁকা
    চাপতে হয় যে ঠ্যাং তুলে ...

    অলি, কলি দুই বোন - ওদের সাইকেলে অনেক চেপেছি - তবে লেডিস বলে ঠ্যাং তুলতে হয়নি - তাই প্রমাণ হয়েছিল গানটা জেন্টস সাইকেলকে লেখা। এর পর আর বৃত্ত বা উপবৃত্তের রহস্য বুঝতে কোনো অসুবিধা হয়নি। ঘটনা আর গল্পের মধ্যে পার্থক্য কী? আমার বড় জ্যাঠা বাঘ মারতে গিয়ে জলে লাফ মারল - গল্প, সঙ্গে রাম থাবা খেয়ে তিনমাস পি.জি.তে - ঘটনা। মাথা ঘামাইনি - সব একসাথে বিশ্বাস করে গেছি। মৌলবী বলল পাগলামির মূলে আছে জিন - ঠিকই তো, অনেক পরে বুঝলাম শুধু পাগলামি নয়, আরো অনেক কিছুর মূলেই জিন। সুধীরের ছেলেকে মদনদার মত দেখতে - তার মূলেও জিন। ছোটবেলা থেকেই সাধুবাবা হবার একটা দেদার ঝোঁক ছিল (কুষ্টিতে অবশ্য খুব কাছাকাছি লম্পট প্রেডিক্সন ) - শুধুই ম্যাসেজের লোভে। গ্রামের আশ্রমে গাড়ি করে এক গা গয়নারা সে বাবার পা টিপত। বাঁজা মাগীর ছেলে হবে - নির্ধনের ধন। যারা আসত তাদের ধন থাকত কিনা জানতাম না, ফেরার পরও ধন বাড়ত কিনা দেখার সৌভাগ্য হয় নি। মিলেমিশে ছিলাম, তালেগোলে ছিলাম।

    লোকে বলে - বলে রে
    ঘরবাড়ি ভালা না আমার
    কি ঘর বানাইমু আমি
    শূন্যেরও মাঝারে ...

    ঘর আমরা বানিয়েই যাচ্ছিলাম - হয়তো শূন্যতেই। কেউ বলেছিল শূন্য আর শূন্যে এক করতে পারে কেবল মানুষই - এই আমরা যেমন। তখনও বুঝেছিলাম পরে ইঞ্জিনিয়ারিংতেও বুঝলাম শূন্যে ঘর হবে না। বেস স্ট্রং করা চাই। লেগে গেলাম মজবুত করতে। পাঁচ টাকার তিনটে বই অভূতপূর্ব কার দিয়েছিল।

    না পিনা হারাম হ্যায়
    না পিলানা হারাম
    পি কে হোঁস মে আনা হারাম হ্যায়

    বুঝেশুনে পিয়েছি - ততোধিক সন্তর্পণে পি। চেনের সাথে পুরুষদের চিরকালীন শত্রুতার কারণটা উঁকি মেরে গিয়েছিল। বেস আর অ্যালকালি মিশে নিউট্রাল হয়ে চলছিল অন্যদিকে। আমার গ্রামের লোকে ঘরের দরজা বেচে পান করা শুরু করল। হাঁড়ি ভরা তাড়ি উড়ে যাচ্ছে তারি মুখ মনে করে। শায়েরী বেশি না শিখলেও, শিখে নিয়েছি কেয়াবাত বলাটা। এটিকেট বলে ব্যাপার। ইনসপায়ার করতে হবে। আমরা কেয়া বলতাম জোরে, বাতটা সাইলেন্ট থাকত। কেয়া আমাদের যৌবনের হার্টথ্রব এখনকার বৌদি। কেয়ার সাথে বাত করার জন্য মনের মধ্যে যেটা হত সেটাকেই হিন্দীতে আনচান করা বলত মনে হয়। তখনকার টেলিভিশন পত্রিকা বলল, পামেলা বর্দ মুখ খুললেই ব্রিটিশ সরকার উল্টে যাবে। তো কেয়া মুখ খুললে আমাদের পঞ্চায়েত উল্টাতো! সেই ব্যাপারে আমাদের বাপের ব্যাচের সাথে আমাদের ব্যাচের মতে মিলত। (টেলিভিশনের উপর আমি একবারই রেগে গিয়েছিলাম, রোদ পোয়ানো পামেলার বুকের উপর আড়াআড়ি নাম লেখাতে)। দিন চলে গিয়েছিল তার আপন নিয়মে আর তার কক্ষপথে আমি। কথা ফুরাবার নয় - শুধু কমে এসেছে কেয়াবাত বলার লোক। একা থাকতে থাকতেও একা ছিলাম না তো কখনই, তাইতো এখনও গুনগুন করি

    হাসন রাজা কয়
    আমি কিছু নই রে, আমি কিছু নই
    চলেছি ----- তাই আমার কথা এখনো আমাদেরই কথা ...

    (চার)

    কেবলি রিকির নাম লিখি আজ

    মদন মাষ্টারের মেয়েকে ভালো লাগত। সে এক দেদার ভালোবাসা। দেবার ছলে দ্বারে দাঁড়িয়ে থাকাকেই আমরা দেদার বুঝে হাঁসফাঁস করতাম। আপের দশটা বাইশ আর ডাউনের চারটে তিন আমার ত্রিকোণমিতি নিয়ে খেলা। ছায়া লম্বা হয়ে যায় তবে অ্যাঙ্গেল মাপতে পারি না। ভূমির উপর লম্বা তোলা সোই বয়সেই শুরু।

    কেবলি রিকির নাম লিখি আজ ফাল্গুনের মসৃণ বাতাসে

    বিনীত আমি হয়েই ছিলাম - এ লাইন আজো মাষ্টারের মেয়ের জন্যই - বাতাস আমার কলজেতে - তা দিয়ে বাস করতে লাগলাম মসৃণ মাদুরেতে।

    দেখা হইল না রে, শ্যাম
    আমার এই নতুন বয়সের কালে ...

    লেডিসের আগেরটা আর ফেরার সময় পরেরটা আমার কৈশোর লুট করতে থাকল। হরির লুট ... ঠাকুমা বলত মাষ্টারের মেয়ের মত নাতবৌ করব - পানপাতার মত মুখ। সবাকার ঠাকুমার সাথে সবাকার মতের মিল হইল মতের, ফলে "কী মাল রে' আর বলতে কেউ রাজী হল না। ক্লাশ ওয়ান থেকে ফাইভ পর্যন্ত ইংরাজী ইস্কুলে পড়ার সুবাদে আমার উপরেই ভার পড়েছিল তার ইংরাজী প্রতিশব্দ বার করার। তিন রাত জাগার ফল what a beauty!! তৎসম, অর্ধ - তৎসম ও তদ্ভব স্টেজ পেরিয়ে পাঁচমাস পর উহা দাঁড়াল "ওরে বুড়ি', বুড়ি মাষ্টারের মেয়ের ডাকনাম ... মাষ্টার অনেক কিছু বলত, একদিন বলল এখানে বনের কাছে ক্যাম্প আমি ফেলিয়াছি।

    আধুনিক কবিতার দু:সাহসিক লাইন। কবিতাকে আমি অনেকদিন ধরেই চিনি, ছোটবেলায় খামচাখামচিও করেছি। এখন আধুনিক কবিতাকে মোরামের উপর হিল জুতো পায়ে সন্ধ্যের ট্রেন ধরতে দেখি। কোন লাইনটা দু:সাহসিক বোঝার চেষ্টা দিলাম - আমার নিজের পজিশন ছিল ফোর্থ কিংবা ফিফথ। যা কিছু দু:সাহস ওই ক্যাম্পের মধ্যেই হতে পারে বুঝলুম - তারপরেই সেই ক্যাম্প খাট প্রীতি - ফাঁকা ছাদে সিজন চেঞ্জের সময় বুকে লিলুয়া বাতাস ...

    গোলাপ যেমন থাকে, তেমনি রয়েছ তুমি আমি
    পত্রের মতন ভুলে অন্য এক দুয়ারের কাছে।

    আমি তো গোলাপ হতে চাই, জলকণা হয়ে ঝড়ে পড়তেও, চাঁদ, সমুদ্র, নদী, ঢেউ আর মেয়ে দেখতে ভালো লাগত। কোঁকড়ানো চুলের শর্বরী আর চশমার জন্য সেমন্তীকেও ... মাষ্টারের মেয়ে ইতু পূজোর চাঁপা কলা কেনে - চাঁপা কলা অনেকই খুঁজতে হয় ... শুধু কাঁচকলাই ঝুলে থাকে বড়ো বড়ো। "ছড়ায় ছড়ায় কলা জন্ম পেল দণ্ড ঘিরে অনেক দেখেছি'। শর্বরী দাদার টেলিফোন বুথ থেকে টেক্সসটাইল পড়া প্রেমিকের খিল খিল তুলে নেয় - কাচের দরজার এপাশে আমি ...

    অন্তরে আনন্দ দেয় সবচেয়ে বেশী পরিমাণ
    তাকেই বিবাহ করে অনূঢ়া যুবতীগণ।
    আমার বাড়ির থেকে বাইরে বেড়িয়ে
    প্রতিদিন আমি দেখি অগণিত যুবতী চলেছে ...

    শর্বরী বিবাহ করে অন্তরে আনন্দ পেল ও তার বহি:প্রকাশ ঘটল পেটে। সরস্বতী পূজা, ক্রিকেট ও নারকেল গাছের মত আমাদের জীবনে খড়েরও এক বিশিষ্ট স্থান থেকে গেছে। এমনকি মাষ্টারমশাইরা পর্যন্ত আমাদের খড়প্রীতি স্বাভাবিক বলেই ধরে নিয়েছিলেন। শঙ্করীদের পাশের গ্রামে লাগাতের গরু এবং বিশিষ্ট সব ষাঁড়। আমাদের গ্রাম থেকে আমরা গরু ভালোবাসাতে যেতাম। ইস্কুলের পাশে গরুদের ভলোবাসা দেখতে ভীড় ক্রমশ বাড়ার জন্য পঞ্চায়েত পাঁচিল তুলতে বাধ্য হল। তার আগে ইস্কুলে সেক্স এডুকেশন দরকার হত না - সিলেবাস তৈরী হল পাঁচিল তোলার পর। তা যা বলছিলাম শঙ্করী শুদ্ধু প্রায় সব মেয়েদেরই বিশেষ গরু প্রীতি ছিল - যতটা না দুধের জন্য তার থেকেও বেশী খড়ের বহুরূপ ব্যবহার ওরা আমাদের কাছ থেকেই শিখেছিল। সেই শঙ্করীর বিয়ে হল হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের সাথে। দশ বছর স্টেবল বিয়ে দেখে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেল যে, হোমিওপ্যাথির সাথে রেচনতন্ত্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও জননতন্ত্রের সম্যক কানেকশন নাই।

    আমি বহুক্ষণ ব্যাপী সকল কলাগাছের কথা ভাবলাম
    অতি মনোযোগ দিয়ে কলাবাগানের মধ্যে বাস করব না আমি আর।

    কলাবাগান নিয়ে কাজ কর্ম থামালেও সরষের ক্ষেত নিয়ো বিস্তর মাথা ঘামাতে হত, যত না নিজেদের তিন বিঘে চাষ নিয়ে, তার থেকেও বেশী সরষের ফুল কাছ ও দূর সবখান থেকেই ঘন দেখায় কিনা সেই নিয়া। সরষের ভুঁই থেকে না ফিরে এলে ডাকাবুকো হবার অসুবিধা ছিল খুব। কলেজের জি.এস তেমনি এক সরষে ফেরতকে বিবাহ করার পর ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছিল যে ভুট্টা ক্ষেত হলে ব্যাপারটা আরো জমত।

    একবার বাস হলে কমপক্ষে সাত দিন তার
    আমেজ শরীরে থাকে, ভুট্টা থাকে কাত্‌ হয়ে পড়ে
    সহজে দাঁড়ায় না সে ...

    ভুট্টা ক্ষেত তেমন জনপ্রিয় ছিল না - তার কারণ ভুট্টার কাৎ হয়ে পড়া। আমরা ভুট্টা ফুটিয়ে লেবুর রস দিয়ে চাখতাম - স্বাভাবিকভাবেই ... পরে জেনেছিলাম ভুট্টা অনেক ভাবেই খাওয়া যায়। বাঁশবন, কলাঝাড়, সরষে ও ভুট্টাক্ষেত এবং কচুবন স্পেশালিষ্ট বাপন তারপর প্রেমপত্র রাখার জন্য টিনের বাক্স কিনেছিল। আর অগুনতি চিঠির ড্রাফট, কাট - পেষ্ট ও এডিটিং করার ফলে ফাষ্ট ইয়ারে আমার কাছে এম. এস অফিস নতুন কিছু লাগেনি - লাগেনি আরো পরের পেপার লেখাও। পার্থক্য একটাই - প্রেমপত্রে কোনো রেফারেন্স লাগত না!!

    - এই দোয়েল, তুই কার সাথে প্রেম করছিস?

    ক্লাশ এইট বলল - কেন, বাপনদাদার সাথে!!!

    সে কী ইমপ্যাক্ট, সে কী ইমপ্যাক্ট - টিন বলেই বাপন এখন চায়ের দোকান (যার দেয়ালে ঝোলে "আলিঙ্গন' নামে পত্রিকা, নামটা আমারই দেওয়া!) দিতে পেরেছে, লোহা হলে রক্তারক্তি হত।

    এই সব সুলিখিত গাছে ফলে লাল ফল সারাটা বছর,
    এই সব রসাত্মক ফলগুলি আমাদের গ্রামের মানুষগুলি নিয়মিত খাই ...

    গ্রামের রাত পাহারার সময় জামাইয়ের বাড়ির পাশ দিয়ে এসে দিলীপদা বলল, "জামাইয়ের ঘরে শব্দ হচ্ছে, মনে হচ্ছে রথে চেপেছে' .. আমরা কচি কাঁচা উৎসাহিত হলাম - রথ এল কোথা থেকে!!

    আমাদের বলা হল, তোরা বড় হলে বুঝবি, জামাই সাধক প্রকৃতির মানুষ। তা বড় হয়ে বুঝেছিলামও প্রকৃতই সাধক ছিল সে - তাই পঁয়ষট্টিতেও রথে চড়ত - কিংবা শাক্ত বলেই রথে চড়তে হত!! জানিনা।

    তো যাক, আমাদের ইনটারেস্ট ছিল জামাইয়ের মেয়ে - কী হিলহিলে চেহারা। ডায়ানা ও ব্রিটনি স্পিয়ার্স - এর পরই যার সামনের দিকটা বেড়েছে কিনা বা বেড়েছিল কিনা এই নিয়ে সব চেয়ে বেশী আলোচনা হয়েছিল। সেও কবিতাকে ভালোবাসত - ভালোবাসত রাতের বেলা রেল জি.টি রোডের ধারে টর্চ লাইট নিয়ে পায়চারি করতে। লরির ড্রাইভারদের সাথে নাকি তার ভারি ভাব ছিল। সেই সব দিনে যখন বেশীর ভাগ ছেলেই বাসের কনডাক্টর হতে চাইত, তখন ওই জাতীয় ভাব রীতিমত হিংসার চোখে দেখতাম। আচ্ছা, ড্রাইভারেরাই কি কবিতা ভালোবাসত? অনেকদিন পর জানা গেল জামাইয়ের মেয়ে ড্রাইভারদের কাছ থেকে ভাইরাস পেয়েছে। ভাইরাস দেখতে গেলাম দল বেঁধে - না জানি কী জিনিস!! মেয়ে যেন বলে ছিল ...

    সময়ের সঙ্গে এক বাজী ধরে পরাস্ত হয়েছি ...

    এ কী রে বাবা, যাত্রার ডায়লগ নাকি? আমার প্রশ্নটা ভুলে গেলাম। উত্তম ডাক্তারের মত এও ভাইরাস দেখাতে পারল না। অদেখা রয়ে গিয়েছিল অনেক কিছুই - মাস্টারের মেয়ের হাসি, তার নেলপালিশ করা সরস্বতী পূজো .. অচেতনে সরে গেলে ধনেখালি তাঁত, তখনো হুকের রঙ সাদা - দাগ দেওয়া শেরসাহের শাসনব্যবস্থা ... আর ভিজে চুলের আরতি ... ঠাকুমা সব ভুলতে শুরু করল - এক পানপাতা থেকে অন্য পানপাতা ...

    সে এখন চুপচাপ শুয়ে আছে সকলের আগোচরে মনোনীত স্থানে
    তার শরীরের মধ্যে ঢুকে গেছে লোনা জল ...

    আমার নোনতা লাগে ... আর মাস্টারের মেয়েকে খুঁজি না ... সে শুধু আমার বিরানব্বইয়ের খাতাতেই - একটুকরো ঝাউপাতার সাথে ...

    তুমি নিজে নির্বিকার, এই প্রিয় বেদনা বোঝোনা ...

    (পাঁচ)

    আমি বের করি গোপন ডানা

    আমি ভাবসম্প্রসারণ ভালো পারতাম, ততোধিক ভালো ভাবসঙ্কোচন। প্রথমটি যারা ভালো পারে তাদের পরবর্তী কর্পোরেট যুগে ম্যানেজার এবং প্রিন্টেড মিডিয়ার দ্বিতীয়টি পারলে কবি বলা হতে থাকল। একমাত্র আমিই দুটোই ভালো পেরেও উভয়ের কোনটাই হতে পারলাম না। বাট ইউ নো, এক্সপ্রেশন প্রুভস দি রুল!

    তুমি থাকো ডালে, আমি থাকি জলে
    একসাথে দেখা হবে মরণকালে

    ঠাকুমার মুখে এইসব শুনেই ভাবসম্প্রসারন লাইফ শুরু হয়েছিল। কেউ বলত ধাঁধা, কেউ বলত ভাঙানি - তবে আমরা জানতাম এদের উত্তর না জানা পর্যন্ত পায়খানার অনিয়মও স্বাভাবিক ছিল। এই ধাঁধার মাছ ও তেঁতুলকে নিয়ে বিশেষ বাড়াবাড়ির সুযোগ ছিল না একমাত্র যথাক্রমে বায়োলজি ও জুলোজির খাতায় বহুদিন পরে ছাড়া। আমার ফেবারিট ভাবসম্প্রসারণ ছিল অনেকের মত অনেকগুলি। বন্ধুরা যখন নদীর ওপার নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে তখন আমি মনোনিবেশ করেছিলাম তরীতে। ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই, ছোট সে তরী। আরো পরে ফ্রয়েডিয় ব্যাখ্যা ও অপব্যাখ্যা পড়ার পর আমার নি:সন্দেহমূলক ধারণা জন্মেছিল যে উপরের লাইনটি আদতে যৌন অভিসন্ধিসূচক যেমনটা ছিল, খোল খোল দ্বার, রাখিওনা আর - বাহিরে আমায় দাঁড়ায়ে। স্যারদের সৌভাগ্য ও আমার দুর্ভাগ্য যে দ্বিতীয়টির ভাবসম্প্রসারণ আমাদের করতে হয়নি (কেবলমাত্র গার্লসস্কুলের বাৎসরিক অনুষ্ঠানে কোন কোন মেয়ে গাইত আর এখনও আমাদের গ্রামের উঠতি নায়িকা উৎপলদার মেয়ে গায়) আর প্রথমটির জন্য আমার একবার গার্জেন কল হয়েছিল।

    চিৎ করে ফেলে উপুড় করে
    এমন করা করে যে গয়না শুদ্ধু নড়ে

    একটা স্টেশন ট্রেন চেপে স্কুলে যেতাম এবং তার উপর ক্লাশ টেন পর্যন্ত লেডিস কামরা অ্যালাউ ছিল। সেখানেই শোনা ধাঁধা - বই বিক্রি করতে উঠে নানা সুরে বৌদি এই ছড়টাই বলত। বৌদি নাম কী করে হয়েছিল জানা নেই - সম্ভবত টেস্টোটেরনের সাথে প্রোজেস্টেরনের আধিক্যটাও একটু বেশী ছিল বলে। যাই হোক ওই একটা স্টেশনের জন্য এই ধাঁধার উত্তর বহুকাল জানা হয়নি। বৌদি ধাঁধার বই থেকে সায়ার দড়িতে শিফট করে যাবার পর একদিন জিজ্ঞাসা করেছিলাম, উত্তর পাইনি।

    রেললাইনের কথায় মনে পড়ল , "মেল না মাল' এই সংক্রান্ত ডিবেট আমরা প্রায়শই শুনতাম। অঙ্কের স্যার দেবনারায়ণবাবু রোজই আধঘন্টা দেরীতে আসার কারণ জানতে চেয়ে হেডস্যার উত্তর পেলেন , "স্যার রেলগেটের ওপার থেকে আসছি, বলব কি মালগাড়ি যাচ্ছে তো যাচ্ছেই, যাচ্ছে তো যাচ্ছেই' ...

    এর পর থেকে "মেল না মাল' ডিবেটে আমরা মালের দলেই থাকতাম। শুনেছিলাম তৎকালীন রেলমন্ত্রীও নাকি আমাদের দলেই।

    প্রতিটি ফুলের ভিতর অন্তত একটি আন্তরিক গর্ত থাকে
    সেই গর্তের দিকে চোখ চলে যায় ...

    এই চোখ চলে যাওয়া অনিবার্য ছিল। চোখ দিয়েই ভাবসঙ্কোচনের চেষ্টা করতাম বলেই হয়ত ফুটবল মাঠে অনেক মিস করেছি সহজভাবে যেদিন রাজুদার বাডির দিকে গোল করতে যেতাম। বৌদির নাম ফুল ছিল না, কিন্তু আন্তরিকতা ছিল, না হলে কেনই বা রোজ বিকেলে উপত্যকা মেলে দাঁড়াত গ্রীলের ফাঁকে। খেলার শেষে টিউবের আলোয় আমরা আন্তরিক ভাবেই গর্ত খুঁজতাম। স্কুলে আমার ক্লাশমেট ছেনি সেই একই কাজ করত তিনতলার ঘোরানো সিঁড়ি থেকে যখন নামত সঞ্চিতা, পম্পা, শর্মিষ্ঠা ইত্যাদি তাদের লাল পাড় আর গলার ফাঁক দিয়ে ছোলা ছুঁড়ে ছুঁড়ে। সিক্স সিগমা শেখার আগে আমার ট্রায়াল অ্যান্ড এররের গুরু ছিল ছেনিই। গর্ত আর ফুটোর মধ্যে পার্থক্য বুঝতাম না যেমনটা বুঝতাম না সোহাগ আর সোনায় সোহাগা। বড়রা বলাবলি করত ফুটো বড় সাংঘাতিক জিনিস, পাশের গ্রামের রাসবিহারী নাকি চৌষট্টি বিঘা জমি ঢুকিয়ে ফেলেছে! সঞ্জু বাপের পকেট মেরে একবার কলকাতা পালিয়েছিল, সে বলল একেই নাকি কলকাতার লোকে ব্ল্যাক হোল বলে।

    যাদের একাধিক দরজার সংখ্যা ছিল সীমিত তাই দরজা সংক্রান্ত সুবিধা এবং অসুবিধা দুটোই পালাক্রমে আমরা ভোগ করে এসেছি। আমরা ছিলাম এই ব্যাপারে ভাগ্যবান। ছোটবেলায় লাইন তুলে নেওয়া যায় যার এককথায় প্রকাশগুলো বড়বেলায় শেখা। আমরা নিজেরা বড় হতাম, আবার অনেককে বড় করে দিত পাড়ার বৌদিরা। মৌসুমী কলঘরের দরজা খোলা রেখে চান করত বা বিশ্বাসদের দিলীপের বউ কল থাকতেও পুকুরপাড়ে গা ঘসত, এদের এককথায় ইংরাজীতে কি বলা হবে পরে শিখেছিলাম। তবে এই দরজা নিয়েই আমাদের গ্রামের সোনা ময়রার বিখ্যাত ডায়লগ ছিল যেটা শোলের থেকে কম প্রচলিত ছিল না! গাঁজা খাবার পর বাড়াবাড়ি শুরু করাতে সোনার মা সোনাকে ঘরে দরজা বন্ধ করে রাখে। তারপরে সেই ফেমাস উক্তি, "মা ভালো চাস তো দরজা খুলে দে, না হলে আমি চাল ফুঁড়ে বেরোব'। তাই বলছিলাম দরজার সুবিধা ও অসুবিধা দুটোই আছে। পিছনের দরজা বেশি জনপ্রিয়।

    আমি নই তনুশ্রীর প্রেমিক
    তনুশ্রীও জানে
    তবুও কোনো কোনো দিন তনুশ্রীর জন্য
    পালক ঝরাতে ভালোলাগে

    প্রেমিক বড় খটোমটো শব্দ। সিনেমা, টেলিভিশন এবং খবরের কাগজেই ওগুলো মানাত। আমরা লাইন লাগাতাম, লাইন মারতাম ও লাইন করতাম। দিবাকর কনট্রাক্টরের আন্ডারে রাতে লাইনে কাজ করতে যেত। আমাদের বলেছিল যে ওরা প্রায়ই নাকি লাইনেই লাগাত। বাংলা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করার পর বুঝেছিলাম লাইনের মত বহুমাত্রিক শব্দ খুব একটা নেই (একমাত্র কাছাকাছি আছে বাল, যা নিয়ে না লিখলে ছোটবেলাটা অধরাই থেকে যাবে )। আমাদের জীবনে তনুশ্রী সত্যিই ছিল জন দুই। প্রথম জন ঘোষপাড়ার তনুশ্রী যাকে তনো নামেই আমরা চিনতাম এবং কুমীর ডাঙা খেলার সময় ওর উল্টো দলে থাকার জন্য মারামারি হয়ে যেত প্রায়। পরে শুনেছিলাম ওই অ্যাপেনডিক্স তৈরীতে পাশের বাড়ীর করুণদার বিশেষ হাত ছিল। দ্বিতীয় তনুশ্রীর কাছে জেনেছিলাম ভাসা ভাসা চোখ কাকে বলে। তনুশ্রী অসুস্থ মাকে খাইয়ে ইস্কুল আসত, আমি চাকরী জীবনেও সেই কথা মনে করে মোবাইলের বোতাম টিপেছি। আমাকে বলেছিল, "তোকে জিনসের জ্যাকেটে বড় সুন্দর লাগে'। একমিনিট, মনে হয় ওটা অরুণিমাই বলেছিল - যেই বলুক ওটা ছিল ধার করা জ্যাকেট, নিজেরটা পরি কিছুদিন আগে। দেখাতে চেয়েছিলাম - অরুণিমা তখন গার্ডেনরীচে ... জিনসের জ্যাকেটের সাথে পালকও ফেলে দিয়ে যাই নিরন্তর ... বন্দরে দাঁড়িয়ে জাহাজ দেখার মত তনুশ্রীকে দেখেছি।

    রূপাই নামে যে জন্মান্ধ যুবক ফেরিওলাটি
    গ্রীষ্মের মধ্য দুপুরে প্রতিদিন উর্মিবৌদিকে
    জলের দরে চিকনের ব্লাউজ আর পিকো করা
    ওড়না বিক্রি করে যায় সে বড়ো বোকা
    কারণ সে প্লেফেয়ারের স্বত:সিদ্ধটি জানে না

    না জানুক ক্ষতি নেই। স্বত:সিদ্ধটি সম্ভবত: সমান্তরাল সরলরেখা বা ওই জাতীয় কিছু জিনিস নিয়ে। তবে আমাদের ছোটবেলায় দুপুরের কাপড়ের বদলে প্লাষ্টিক বিক্রির স্থান ছিল রহস্য ঘেরা। আমি তাকিয়ে থাকতাম ওই সরলরেখার দিকে কখনও বা প্লাষ্টিক নামানো সরে যাওয়া লাল সবুজ ব্লাউজ আর ঘামে ভিজে থাকার দিকে। গা সিরসির করত - যে অনুভূতির ইংরাজী নামও এখন জানি। বয়স বেড়ে যেত ভগ্নাংশে। কাশ্মীরঅলারা এমনই দুপুরে গরম বেচতে আসত - চর্বি ঘাঁটা বৌদিরা কি আমারই মতন সিরসির করে উঠত? জানি না তবে ছেলেদের দুধ খাওয়াতে ভুলে যেতে দেখেছি।

    দেখেছি গরু পাইকের ভোলার তিন মেয়ের প্রেম হয়ে যাওয়া। আমাদের গ্রামে নারী প্রগতির মূলে তারাই ছিল - যারা নির্দ্দিষ্ট স্বামী নিয়ে মাথা ঘামায়নি। আমরা দুপুরে খেলতাম বেসিক ট্রেনিং স্কুলের দিদিদের হস্টেলের সামনে ...

    গার্লস হস্টেলের সামনে ঘোড়ার গাড়ি রঙ করি
    বারান্দায় দাঁড়ানো মেয়েরা সারাদিন তুলোর
    পুতুল ছেঁড়ে, গড়িয়ে
    দেয় ব্যান্ডেজ। সেই সব ব্যান্ডেজের মধ্য থেকে
    আমি বের করে আনি বনপথ ...

    ব্যান্ডেজের একটা কাজই আমরা জানতাম। হস্টেলের সামনে অসংখ্য ব্যান্ডেজ দেখে বৌদিদের ও দিদিদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। ইতিহাসের স্যারও নাকি একবার আমার দাদার দোকান থেকে ব্যান্ডেজ কিনেছিলেন। রিটায়ার্ড করার পরও কেন ব্যান্ডেজ কিনছে এই নিয়ে দাদারা হাসাহাসি করত।আমরা বেঁকা চোখে তাকাতাম - মনে হয় তখন দাদারাই কেবল বনপথ বের করতে পারত। আমার যখন বনপথ আর গোপন ডানা বের করার বয়স হল তখন মুখগুলি আর মনে পড়ত না। মঞ্জুদি, সেমিমাদি, প্রতিভাবৌদি সবাই হারিয়ে গেছে ... কেবল কারও কারও কপালের পাশের চুলগাছি মনে পড়ে ...

    গলায় গামছা জড়ালে আমাদের খুব মস্তান মস্তান মনে হয়, এবং কুয়াশার মাঝখান দিয়ে আমাদের বান্ধবীরা সাইকেল চালায় ...

    খুব ইনটারেস্টিং ব্যাপার। এখনো গোপনরাতে ইতালিয়ান, পোলিশ ও পারসিক মেয়েটিকে পিছনদিক দিয়ে গামছা পরাই। ওরা অবাক চোখে তাকায়, তারপর ঝিলিক দিয়ে হাসে। আমি কোট প্যান্ট ছাড়াই মস্তান হয়ে উঠি ... সে তো এখনকার কথা। ছোটবেলার বান্ধবীদের কুয়াশায় সাইকেল চালানো দিয়ে ভাবতে বসি ... অন্যদিন, এখনি বা অন্য কোনওখানে ...

    (ছয়)

    আমার শালিখ ঠোঁট ঘসে নেয়

    চশমার অনেক অসুবিধা যার মধ্যে একটা হল নিজের ও পরের টি শার্টের ভিতর মাথা ঢোকানো। ঢাকুরিয়া লেক থেকে ফিরে সম্রাট এটা শিখিয়েছিল কলেজ লাইফে। ওর কাছে আর কী শিখেছিলাম মনে নেই তবে চশমাটা মাথায় গেঁথে যায় - সেই চশমা - নীচু হলে প্রাইভেটে লেখার সময় চোখ ছাড়াও অন্যকিছু দেখা যেত - আর চশমা মানেই জয়শ্রীদি ...

    কুঁচকানো ভ্রূ - ভালো থেকো
    নীল এবং সাদা টুকরায় বেদনা মধুর হয়ে
    যাওয়া বৃষ্টিতে - টিপটিপ বৃষ্টিতে আমি
    তমুক আপার মুখ থেকে সম্ভাব্য ঠোঁট সরিয়ে নিচ্ছি।

    তমুক মানে জয়শ্রীদি, জয়ি বা ঠাকুমার ভাষায় ছেনাল মাগী। তুমি রুলটানা খাতা দেবে বলেছিলে - আমি গমের বোঝায় ঝাঁপ। উঠোনে জড়ো করা গমের সাথে রাষ্ট্রভাষার গমের মিলটা তারপর বুঝেছিলাম। কভি খুশী থে, আর গমে ঝাঁপ মারার পরের ভাবটাই হল গম্‌। ইদানিং মনে হয় গম্‌ ভর্তি গলায় কথা বলাকেই গমগমে বলে। তবে তুমি তখনো বুঝতে না - রুলটানা খাতা নয়, আমি ডাইভ দিয়েছিলাম সম্ভাব্য ঠোঁটে - আমার সাইকেল, তুমি বসে সিল্কের শাড়ী - আমি রাস্তা দেখি, মাঝে মাঝে প্যাডেল। সম্ভাব্যের প্রব্যাবিলিটি হয় তবে সেটা পয়েন্ট নাইন ...

    পল্লী দেখেছ কি? আমি দেখি সাপ
    এঁকে বেঁকে চলে যায় উচ্চপদস্থ মানুষ ...

    আমি পল্লী দেখেছি এন্তার, চেটে এবং ঘেঁটে। বহুদিন পর্যন্ত কেবল পল্লীই দেখেছি। ইস্কুল মাষ্টার ছাড়া আমাদের গ্রামে উচ্চপদস্থ মানুষ ছিল সাকুল্যে তিনজন। প্রথম দুজন ডানলপ ও আকাশবাণীতে, তবে আমাদের ইন্টারেস্ট ইলেকট্রিক অফিসের মঙ্গল কাকা। কেমন উচ্চপদস্থ ছিল জানি না, তবে দু একবার কারেন্টের পোলে উঠতে দেখেছিলাম। গল্প বেশি কেউটে সাপকে নিয়ে থাকলেও সবচেয়ে আলোচিত ছিল ঢ্যামনা। ঢ্যামনায় ফণা তুলতে পারে না, ঢ্যামনার বিষ নেই। দুর্দার ঢ্যামনার ব্যবহার চলত নামের আগে ও পরে পদবীর মত। ছেলের সাথে ঢ্যামনা জুড়লে যা বোঝানো হয় মেয়ের সাথে হয় না। ঢ্যামনা কামড়ালে নাকি ছাড়তে চায় না - এই বৈশিষ্টটাই তখন দেখা হয়। তাহলে বিষের ব্যাপারটা? কে বলে ঢ্যামনা মাগীর বিষ নেই? এগুলো এখনো আমার রিসার্চের গ্রে এরিয়া - আনরিজলভড্‌।

    আমাদের পল্লীজীবন ঠাকুমা বর্ণিত ছেনাল এবং ঢ্যামনা মাগীতে ভরে উঠছিল। গ্রামের প্রথম লভ্‌ ম্যারেজ সাহেবের। ভিন্ন ধর্মের মিল তো হলই, রিটায়ার্ড লাইফে প্রাইভেট ... শাট দ্য ডো এর বাচ্য পরিবর্তন করে হাততালি পেয়েছি এবং হাতে কলমে করে দেখলাম চশমার ফাঁকে আমি ছাড়াও সাহেবও তাকায় ... জয়শ্রীদিকে তার পর থেকেই আপা বলা শুরু ... আজ তুমি পেটে দাগ নিয়ে স্কুলমাষ্টার বরের স্কুটারে আসো - আমরা সাহেবকে ভাবি

    স্কুটারের গায়ে একটা নকশী করা টিপ
    লেপটে আছে কোনো অভিমানী কিশোরী ...

    আমরা মামা হয়ে গেছি অজান্তে ... ছোট চশমার হাত দিই না, শুধু গাল টিপে মামা কর্ত্তব্য সারি। লেপটানো টিপের বড় টান ...

    - মাষ্টারমশাই ছেলেটাকে মাঝে মাঝে ক্যালাবেন তো, বাড়িতে খুব বদমাইশী করছে

    - একে আমি আর কী সামলাবো, এ তো একেবারে হারামির বাচ্ছা!

    আমাদের ইস্কুল চলছে। হারামির বাচ্ছারা ঘুরে ঘুরে চরতে থাকে যতক্ষণ না আরো বড় হারামির বকা খায়। বছর পেরোতে থাকে, আমরা মাটি থেকে বেঞ্চ, বেঞ্চ থেকে খোলা মাঠ আর শালবন। পোষ্টমাষ্টারের মেয়ে মিঠু আমাদের ছিল - ক্লাসে এবং ক্লাসের বাইরেও। হাত ধরাধরি করেছি আবার ধরেছিও। নিরীহ যন্ত্রেরা চুপ করে ছিল, সে তখনও কঠিনতা জানে না। একে একে অন্য ইস্কুল, একসাথে সরস্বতী পূজো। একসাথে ভোরবেলা ফুল তুলতাম, চোখের সামনে ফুল ফোটাও। প্রতিটা পরের স্টেজ তার আগেরটা থেকে সুন্দর, শেষেরটা সবচেয়ে - কুঁড়িতে হাত দিয়েছি, লাজুক চোখে ছুঁতে দিয়েছে ফুলও ...

    চলোনা একটু ইজের দেখাবে
    আর কিছু না, চাইছিনা তো বসন্তফুল
    রমনা পার্কে গোসল দুপুর ...

    না চাইতেই বকুলফলের কাছে পেয়েছি বসন্ত। আচ্ছা ইজেরের সমর্থক কি টেপজামা? যাই হোক, টেপজামার শব্দের উৎপত্তি নিয়ে আর মারপ্যঁ¡চ খেলতে চাইছি না, কারণটা জলের মতো সোজা, এই নিয়ে দ্বিমত থাকার কথা নয়। তবে জিনিসটা নিয়ে একটা কৌতূহল ছিলই। এই সব জিনিস হল ইনটারনিটেন্ট - গেঞ্জির আর টেপজামার সাইজ একসাথে বাড়ত লম্বায় ও আড়ে যথাক্রমে। পার্থক্য, আমি এখনও গেঞ্জি পরি, মিঠু টেপজামা পরে না (কিংবা কে জানে হয়তো পরে নিজে একাকী রহিবার তরে)। মিঠু সহ প্রায় সব মেয়েরাই টেপজামা থেকে যাতে শিফট করে যেত তার ঠিক বাংলা আমি জানি না। আমার ঠাকুমাও টেবিল চেয়ার ছাড়া ওই একটি ইংরেজী শব্দই স্পষ্ট বলত, তবে র-ফলাটা ছাড়া। কাঁচুলি দিয়ে ঠিক এক্সপ্রেস হয় না, অবশ্য পৌরাণিক কাহিনীর প্রতি মানুষের টান হঠাৎ বেড়ে যাবার জন্য এর অবদান টি.ভি ওলারা এখনো নতমস্তকে স্বীকার করে। এ ছাড়া ওই বাংলা না জানা জিনিসটা এখনও হোটেলের রেলিংয়ে ঝুলতে দেখলে সমুদ্রের ডাক শুনতে পাই ...

    রাস্তার ফুটপাথে একটা ছিন্নভিন্ন ব্রেসিয়ার পড়ে থাকতে দেখি
    ময়লা, দলিত মথিত
    প্রথমে উত্তেজনা জাগে
    ভয় হয়
    তারপর সব মায়া ...

    গোপালদার বউ ছাড়াও যে মায়া নিয়ে আমি দ্বিধায় ছিলাম তার কথা পরে বলছি, আগে সেরে নিই রমনা পার্ক ব্যাপারটা। পার্ক নামটা কবে থেকে হল জানা নেই, আমাদের সময় শুধুই রমনা। রমনা শব্দটা রমনীয় বা রমণ যে কোনটা থেকেই আসতে পারে, তবে ছোটবেলায় রমনার পাড়ে যে হারে ভিজে বেলুন কুড়িয়েছি তাতে করে বড়বেলায় মনে হয় ওটা রমণ থেকে এসেছে। কবিদের ভাষা জানি না, তবে কথাসাহিত্যিকরা বলেছেন রমণীরা রমণের পরেই নাকি রমণীয় হয়। আমরা ছোট ছিলাম - আমাদের দেখা হত না। তাই আমরা বারোটা দশ মানেই গোসল দুপুর জানতাম। ঝামা ইঁটের উপর আলতা পায়ের ঘষা দেখেছ?

    আমার শালিক শার্ট প্যান্ট পরে - সালোয়ার পরে
    সকাল বেলা ঠোঁট ঘসে নেয় - রাস্তার ওপারে পা ঘষে নেয় ...

    আমি বলি কি, কিছু বাদ থেকে গেল। সালোয়ার পায়ের থেকে শাড়ি পায়ের আলতা ঘষা অনেক চমৎকার সেটা আমি হলফ করে বলতে পারি। কেননা প্রথমটায় ফর্সা পায়ের ডিমে দেখা যেত না ... মায়া বৌদির সেগুলি চমৎকার ছিল লোমহীন ... বিজয়া দশমী কেন অনেকবার আসে না! আমি হেঁট হব আর ছুঁয়ে থাকব অনন্তক্ষণ যতক্ষণ না তুমি তুলে ধরে চিবুকে একটা চুমু দেবে। মায়ায় মোহিত ছিলাম। পরে কলেদে শিখলাম মায়া মানে অন্য কিছুও হতে পারে! যেমন ক্লাশ মায়া করে দেব! বেপাত্তা আর কি ... তো মায়ার সাথে বেপাত্তা জুড়ে গেল তখন থেকেই - কেন আরো আগে হল না! মায়া বৌদি এখন নেই, পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দেয় এখনো হবু বন্ধুর বউ এবং বন্ধুর হবু বউ। চার অক্ষর খসে গিয়ে দু অক্ষর হয়ে গেছে, আমার পিসতুতো দাদা লেডিস টেলারে মাপ নেয়, মাপটা এখন জে, স্ট্র্যাপটা আগের শেখা .. মাপ দিতে রেখে যাওয়া পাট করা ব্লাউজগুলোর পাট ভেঙ্গে সুগন্ধি খুঁজি ...

    পাট না ভাঙ্গা
    জারিনা বিবি
    পাট না ভাঙ্গা - ব্রা-এর
    স্ট্র্যাপ দেখানো সুন্দর সোলেমানের স্ত্রী ...

    সোলেমানের পাট ভাঙ্গার, পাটকাঠি ভাঙ্গার, পাট ছাড়ানের ক্ষমতা ছিল কিনা জানা নেই, তবে জারিনা বিবি পাট ভাঙ্গায় অভ্যস্ত ছিল। আমার নিজের অভিজ্ঞতা।

    (সাত)

    আজ পূর্ণিমা কাটাবে তুমি কার সাথে?
    হাসি গড়িয়ে পড়বে ওই মুখ বেয়ে
    গড়িয়ে পড়বে একশত ভাগ আলো
    আজ পূর্ণিমা কাটাবে তুমি কার সাথে?

    আমাকে এ প্রশ্ন করলে উত্তর মিলত না। পূর্ণিমা রাতের আলোকেই কি চন্দ্রিমা বলা হয়? সেই চন্দ্রিমার সাথে মধুর কি সম্পর্ক ঠাওর করতে পারতাম না। আমাদের ছোটবেলায় অনেককে হানিমুনে যেতে দেখলেও মধুচন্দ্রিমায় কাউকেই দেখিনি। তবে হানিমুনের মধ্যে যে পাঞ্চটা আছে সেটা মধুচন্দ্রিমার মধ্যে নেই। মধুচন্দ্রিমা যদি সন্ধ্যায় ঘুরতে বেরিয়ে ডিনার পর্যন্ত হয় তবে হানিমুন হল বাকি রাতটা।

    স্যান্ডেল জানে না কোন বিরহ
    হাসতে চাইলে হয়ত যায় না হাসা
    মুখে এসে লাগে আর্দ্র ঝাপট
    হয়ত তুমি মুখ কুঁচকে নেবে
    সত্যি বলছি বিরহ আমি জানি না।

    আমি ও দুলাল কেউই বিরহ জানতাম না তবে স্যান্ডেলের সাথে বিলক্ষণ পরিচয় ছিল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে। কেন বিরহ নেই, এর উত্তর আমি খুঁজেছি --- সদ্য জয়েন্ট পাশ করে নীলরতনে ঢোকা বলেছিল মানসিক রোগীরা বিরহের উর্দ্ধে। আমার ব্যাপারটা অন্যেরা ভাল জাজ করতে পারবে, তবে দুলাল আগাগোড়াই মানসীর প্রতি সিক্‌ ছিল ।

    -- দেখেছিস ওর গায়ে লাল জামাটা, কালকে মানসীর মায়ের সাথে গিয়ে পছন্দ করে দিলাম। লাল জামা থেকে সাদা পেটিকোট সবই নাকি ও পছন্দ করে দিয়েছে। আমরা যখন জামা কাপড় ছাড়াতে ভালোবাসতাম ও তখন চড়াতে!

    বাসস্টপে একে একে সময়েরা এসে থামে
    সময় আসে না
    বড় তাড়াতাড়ি শীতের শহর
    শুষে নেয় বিকেলের শেষ
    রাস্তার আলো বলেছিল ভরা সন্ধ্যায়
    কোনোদিন বাসস্টপে আসে না সময়

    সেই দুলাল এখন আসানসোল লাইনে মিনিবাসের কন্ডাক্টর। এবারেও দেখা হতে এক হলুদ শাড়ি পরা মহিলাকে দেখিয়ে বলল অপর্ণাদির শাড়িটা আমিই পছন্দ করে দিলাম সেদিন। যখন কুইজ করতাম তখন বিভিন্ন ফোবিয়া মুখস্ত রাখতে হত। যেমন উঁচুতে ওঠার ভয়, বিবাহের ভয়, বিড়ালের লোমের ভয় ইত্যাদি। দুলালের কোনো ফোবিয়া ছিল না, কিন্তু দুলালের থেকে ভয়কে ঠিক কোন ক্যাটাগরিতে ফেলব এখনো জানি না।

    প্ল্যাটফর্মের কিনারে
    ইটলাল সালোয়ারে ভিজে গেলে
    ষোড়শী চিবুকে নেমে আসে স্পর্ধা
    মুছে ফেলা আলতো রুমাল ...

    স্টেশনে ওভারব্রীজ হবার পর সুবিধা হয়েছিল আমাদের রাতের বেলা মদ, গাঁজা খাবার আর দিনের বেলা দুলালের। আগে স্টেশনে পায়চারী করতে হত ষোড়শীদের জন্য এখন ব্রিজ থেকেই পুরো প্ল্যান ভিউ দেখা যায়। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ইটলাল সালোয়ার দেখা যদি এলিভেশন হয় তাহলে ওভারব্রীজের ভিউটা প্ল্যান। আমার ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িংয়ের হাতেখড়িও দুলালের কাছে। শালা আজব চীজ্‌।

    বায়োলজির আনোয়ার স্যার আমাদের বলতেন স্পিসিস আর ভুগোলোর লক্ষ্মীবাবু চিজ্‌। ব্যাকরণ এবং অঙ্কের সূত্র মেনে তাহলে দাঁড়ালো স্পিসিস এবং চীজ্‌ একই জিনিস। বায়োলজির স্যার হিসাবে "অরিজিন অব স্পিসিস' - এর প্রতি ঝোঁক থাকা আনোয়ার স্যারের স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু লক্ষ্মীবাবুর চীজের প্রতি আকর্ষণ আজ পর্যন্ত বুঝতে পারি নি। মনে রাখতে হবে "তু চীজ বড়ি হ্যায়' থেকে আমরা তখনও ছয় বছর এবং সে চীজ থেকে আরো ছয়। এরপর যেটা বাকি থাকে সেটা হল "বাই মিনস অব ন্যাচারাল সিলেকশন'। আমরা যেভাবে সেভেন থেকে এইট, এইট থেকে নাইন (দেবু ও হালিম সহ) এগুচ্ছিলাম তাতে ন্যাচারাল সিলেকশন' সম্পর্কে কোন সন্দেহ পোষণের অবকাশই দেখিনি পরবর্তি জীবনে। আনোয়ার স্যার বললেন যে কুকুরে কামড়ালে প্রতিবারে ভ্যাকসিন দিতে হয় পাঁচ থেকে ছয় সিসি। দেবু উঠে দাঁড়িয়ে বলল, স্যার পাঁচ - ছয় শিশি!! সেই দেবুর বাপ তিনকড়ি পাল আমাদের চোদ্দ টাকার পিওর আখের গুড় সাড়ে বারো টাকায় খাইয়ে এসেছে আর আমি ইংরাজী পরীক্ষায় দেবুকে AABACDDE , যেখানে E = none of the above। শেষোক্ত জিনিসটি হল মাল চয়েস্‌। আমরা যারা কেষ্টবাবুর কাছে টিউশনি পড়তাম তারা মালটিপল চয়েসটা শুনে থাকলেও দেবুর কাছে এখনও ওটা মাল চয়েস্‌ই। এই কদিন আগে দোকানের সামনে ফিটফাট দেবু বাইক নিয়ে বেরোবার সময় বলল মাল চয়েসে যাচ্ছি, ভেতর থেকে তিনকড়ি পাল বলল মেয়ে দেখতে যাচ্ছে গো!

    "আপনি ভালোবাসা জানেন না' - আমি সেখানে মিটিমিটি হেসে রোদের মত করে শালটাকে গায়ে জড়িয়ে নেব।

    দেবুকে কোন বিয়েবাড়িতে নাকি এক লাল টুকটুক বলেছিল ভালোবাসা জানেন না। লাল টুকটুক বলেই খালাস, বিয়ে বাড়ি শেষ হল, শ্রাদ্ধ শুরু আমার। ইংরাজির সাথে বাংলা নিয়েও ধস্তাধস্তি। তখনো ডাল কার্ণেগীর বইগুলো আমাদের ওখানো না পৌঁছনোর জন্য আমার কাজ বেড়ে গেল। আমি থিওরীতে জোর দিই, দেবু প্র্যাকটিক্যালে। আমার যেমন চশমা ওর তেমনি ছিল টোলের প্রতি ঝোঁক।

    হাসলে টোল পড়ে
    জন্ম থেকে টোল পড়ে -- সুন্দর টোল পড়ে কাঁদলেও
    টোল পড়ে যায়।

    আমরা টোল বুঝতে হাসি হাসি জানলেও আমাদের বাপেরা কান্নাটাই জানত। টোল আমার বিলকুল না পসন্দ। আমাদের ভাগ্য ভালো যে বাপেদের মত আমাদের টোলে না পড়ে প্রাইমারী ইস্কুলে পড়তে হয়েছে সেই দেবু সাই ক্যাম্পে গেল খেলতে। ফিরে এলে সাবি জানতে চায় কি দেখলি রে দেবু? শালা কলকাতায় মাটি বিক্রি হয়। ব্যাপারটা পুরো ফোবিয়া টাইপ হয়ে গেল - গঙ্গা ময়রার দোকানে বিকেলে চপ খাচ্ছি - এমন সময়, দেবু কলকাতায় কী দেখলি? শালা কোলকাতায় ... কোলকাতা যে আজব জায়গা সেই বিষয়ে প্রথমে সন্দেহ থাকলেও এখন আর নেই। ওখানেই খালি সুস্থ লোকেদেরও নার্সের দরকার হয়। এই দুপায়ে হেঁটে বেড়ানো আমাকেও ফ্রী স্কুল স্ট্রীটে অনেকবার জানতে চাওয়া হয়েছিল নার্স লাগবে কিনা!

    যাই হোক কোলকাতায় অভাব থাকলেও আমাদের ওখানে মাটির মানুষের অভাব ছিল না। হালিম ও হালিমের আইসক্রীম কলমালিক দুজনেই মাটির মানুষ। আমরা দেদার আইস চুষেছি টিফিন বেলা - ভাবতাম কোনোদিন হয়ত ক্রীমও পাব। ক্লাশ সেভেন থেকেই হালিম বলে আসছিলো আমরা আর একটু বড় হলে এক জায়গায় নিয়ে যাবে। সময় আর কাটে না - অবশেষে নাইনে আমাদের নিয়ে গেল স্কুলের সামনে গ্রামীণ হাসপাতালের লেবার রুমের জানলায়। প্রাক বিশ্বায়ন যুগে জানালায় চট ঝুলানোটাই ফ্যাশনেবল এবং সুলভ ছিল। এর ফলে আনোয়ার স্যার নিজের আগ্রহে রেচনতন্ত্রটা পড়াতে থাকলেও আমরা নিজ নিজ আগ্রহে জননতন্ত্র সম্পর্কে গ্র্যাজুয়েট সুলভ জ্ঞান লাভ করলাম। মাধ্যমিকে জীবনবিজ্ঞানে গোটা অষ্টআশি পাবার পেছনে হালিমের অবদান ঠিক ততটাই যতটা ছিল মোগল সাম্রাজ্যের পতনের পিছনে শাহজাহানের সৌন্দর্য্যপ্রিয়তা।

    আরবিতে জ্ঞান না থাকার জন্য চিঠি লেখাতে হালিমকে কোন সাহায্য করতে না পারলেও ক্লাশের বাকি ছেলেদের জন্য দুহাতে চিঠি লিখে গেছি। আমি যাদের কথা ভেবে পাতার পর পাতা ভরাচ্ছিলাম তারা তখন পায়ের চটি খুলে দিঘির ধারে বেড়াচ্ছে। বাঁদিকে কখনও বা ডানদিকে সাইকেল।

    আমরও তো বৃষ্টি আছে
    তার আগে হাওয়া এসে ভরে ফেলে খাতা
    কবিতা লিখিনা আমি
    হাওয়া ভরে তুলি সহস্র লাইন
    তুমি কিসের কথা ভাবো?
    আমি দেখি, অনেক দূর দিয়ে হেঁটে যায়
    প্রেমিক, প্রেমিকারা

    অসম্ভব থিওরিভিত্তিক জ্ঞান সঞ্চয় করে ফেলেছিলাম বিশেষ কোনো প্র্যাকটিক্যাল ছাড়াই। এটা দেখেই অনেকে আমাকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার পরামর্শ দেয়। তারা শুধু জানত না ধাতুবিদ্যায় মেয়ে খুঁজে বার করা আর মিডিল ইষ্টে হরপ্পা মহেঞ্জেদারো সভ্যতার তল্লাশি চালানো একই ব্যাপার। সে যাই হোক এই বিষয়ে পড়ে দু চার কথা বলার অধিকার আমার জন্মেছে, পরে আসা যাবে। মেয়েরা ধাতুবিদ্যায় পারদর্শী হলে কী প্রলয় হবার সম্ভাবনা থাকে সেটা জানানোর একটা নৈতিক দায়িত্ব থেকেই যায়।

    আসলেই ...

    জীবনকে তুমি যত টেনে ধরবে তত খটখটে হয়ে যাবে উঠোন - চারপাশ চারাগাছ চারাগাছ - তলা বেয়ে বেয়ে ভালোবাসা ভুলে যাও ...

    আমি তাই জীবনকে টেনে ধরিনি। জীবন দেদার লাইন লাগিয়েছে তার সাইকেল বেয়ে গাছ আর সুড়কির পথ বেয়ে। আমরা জীবনের কাছে শুনেছি আর হেসেছি আবার শুনেছি দেবুর টোল আর আমার চশমা

    রাঙানো নখ দিয়ে তাই দস্তানা ভালোবাসে পারমিতা

    আমি তখন কাঠের গোলায় টিফিনবেলা
    কমলা ফিতে, কমলা শাড়ি, গার্লস ইস্কুল কমলাবালা ...

    (উপরে ব্যবহৃত কবিতার অংশগুলি যথাক্রমে: রাদ , রাদ , সাগরনীল , অমিত , রাদ , অর্ঘ্য , অর্ঘ্য , রাদ ও আমার)

    ছবি: সুমেরু মুখোপাধ্যায়
  • গপ্পো | ০২ অক্টোবর ২০১১ | ৭৩৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন