• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • এক লহমার টুকিটাকি || পর্ব – ৪ || ফাউ

    একলহমা লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৫ আগস্ট ২০২০ | ৩২১ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • আমার ছোটবেলার প্রথম স্কুলে আমার সবচেয়ে প্রিয় দিনটি ছিল ১৫-ই আগস্ট। সকালবেলায় স্কুলে যাওয়া হত। কিন্তু তারপর কোন ক্লাস হত না। ছোট ছোট পতাকা হাতে নিয়ে ছেলে-মেয়ে সবাই মিলে-মিশে বেড়িয়ে পড়তাম মিছিল করে। প্রভাতফেরী। আশপাশের আরো নানা স্কুল-এর ছেলেমেয়েরাও একই ভাবে বেড়িয়ে পড়ত। এ-রাস্তা ও-রাস্তা ঘুরে আমরা যখন আবার স্কুলে ফিরে এসে লাইন করে দাঁড়িয়ে পড়তাম, তখন আসত সেই শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত - আমাদের প্রত্যেককে দেওয়া হত দুটি করে জিলিপি। কি যে অপূর্ব স্বাদ সেই জিলিপির - অমন আর কোথ্বাও খাইনি, হ্যাঁ- অ্যা - অ্যা - অ্যা!

    আমার ভাই-রা তখনো স্কুলে ভর্তি হয় নি। কিন্তু আমাদের কনিষ্ঠতমটি কাউকে না জানিয়ে এক পনের-ই আগস্টে হাজির হয়ে গেল আমার স্কুলে আর বাড়ি ফিরে এসে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিল - তার দু হাতে দু-টি জিলিপি! ছোট্ট একেকটি হাতে একটির বেশী আঁটে নি। আমি নিশ্চিত - জিলিপি দিচ্ছিলেন যে দিদিমণি তিনি এই অছাত্রটিকেও জিলিপি দিতে একটুও দ্বিধা করেন নি। তখনকার মানুষগুলি এমনই ছিলেন। তবে হ্যাঁ, আমরা গলে জল হয়ে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে চলে না গেলে আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে, আমার ভাইরাও আমার স্কুলেই যাবে। ফাউ জিলিপির শক্তিকে খাটো করে দেখার কোন কারণ নেই।

    যত বড় হলাম, দেখলাম দুনিয়া জুড়ে ফাউয়ের ছড়াছড়ি! এক ১৫-ই আগস্টে শাসকের কমনওয়েলথে, শাসকের-ই সেনাপতির অধীনে থেকে যাওয়া স্বাধীনতার সাথে দেশভাগ ফাউ। পাশের দেশে আরেক ১৫ই অগাস্টে সে দেশের স্বাধীনতার রূপকারকে হত্যা করে মৌলবাদের হাতে দেশকে তুলে দিতে পারলে মসনদ লাভের পাশাপাশি সংখ্যালঘু বিতাড়ন ফাউ। দেশকে উদারনীতির পথ থেকে ফিরিয়ে মধুযুগের দিকে ঠেলে দিতে পারলে অবশ্য সব দেশেই, সংখ্যালঘু বিতাড়নের আর নিষ্পেষণের আনন্দটা ফাউ পাওয়া যায়।

    ফাউয়ের গল্প চলতেই থাকে, সর্বাধিনায়ক মনের মত পাওয়া গেলে বিচারব্যবস্থাকে নিজের মত করে সাজিয়ে তোলাটা ফ্রী, হাতে গরম ফাউ। কত রকমের ফাউ! যাদের যাদের পছন্দ নয়, সব দূর করে দেব দেশ থেকে, লকআপে ঢুকিয়ে দেব, চেপে রেখে দেব হাঁটুর নীচে, জনতার হাতে মৃত্যু, পালাতে গিয়ে মৃত্যু। একেক দেশে একেক রকম। সব পয়ে যাবেন, মুফত, ফাউ, শুধু ভোটটা আমাকে দেবেন, আমার দলকে দেবেন। আমার দিকে থাকবেন। যেমন খুশী প্রবল হৈ হৈ উল্লাস-এর সাথে থাকবেন। সাথে ফাউ পেয়ে যাবেন – অনাহারে কি মারী-মড়কে সামান্য কিছু মৃত্যু।

    ফাউয়ের ঢেউয়ে ঢেউয়ে একসময় নিজের-ই ফাউ হয়ে যাওয়া।
  • বিভাগ : ব্লগ | ১৫ আগস্ট ২০২০ | ৩২১ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আরও পড়ুন
কাঠাম - Rumela Saha
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ১৫ আগস্ট ২০২০ ১৮:১৪96287
  • হুম্ম। মানুষই ফাউ হয়ে গেছে এই ফাউয়ের ঢেউয়ে।
  • সুকি | 49.207.203.64 | ১৫ আগস্ট ২০২০ ১৮:৪১96290
  • বড় কম হল এই পর্ব 

  • একলহমা | ১৫ আগস্ট ২০২০ ২০:২০96297
  • সেইটাই। ধন্যবাদ দমুদি। 

    সুকি, আজ একটা গল্পও নামিয়েছি আমার ফেবু পাতায়। সময় পেলে পড়বার অনুরোধ রইল। 

  • dc | 103.195.203.193 | ১৬ আগস্ট ২০২০ ০৮:৪৮96344
  • ছোটবেলার থেকে ২৬ জানুয়ারি আর ১৫ আগস্ট, এই দুটো দিনকে আমি সবচেয়ে ভয় পেতাম। কারন ছোটেবেলায় বড়োরা মাঝে মাঝেই জিগ্যেস করতেন, বলো তো খোকা, ২৬ এ জানুয়ারি কি হয়? আর ১৫ অগাস্ট কি হয়? বা, বলো তো আমাদের প্রজাতন্ত্র দিবস কবে? আর স্বাধীনতা দিবস কবে? আর আমি ইনভ্যারিয়েবলি এই দুটো দিন গুলিয়ে ফেলতাম। (দুটো আলাদা দিনের মানে তো বুঝতামই না)। আরও একটু বড়ো হয়ে অবশ্য ২৩ এ জানুয়ারি এসে বাঁচিয়েছিল, ওই দিন নেতাজির জন্ম না মৃত্যু না তিরোধান কি একটা দিবস ছিল, সেটার সাথে মনে মনে ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস এরকম একটা কানেকশান করে নিয়েছিলাম। অবশ্য তাতেও উত্তর দিতে কয়েক সেকেন্ড দেরি হতো, কারন কেউ যদি জিগ্যেস করতো স্বাধীনতা দিবস কবে, তো মনে মনে আউড়াতে হতো ২৩ এ সুভাষ, তাহলে ২৬ এ প্রজাতন্ত্র, তাহলে ১৫ স্বাধীনতা। ততোক্ষনে ফাউ হিসেবে একটা কানমলা জুটে যেত।
  • Atoz | 151.141.85.8 | ১৬ আগস্ট ২০২০ ০৯:৫৮96348
  • প্রাইমারি স্কুল থেকে বড় স্কুলে যাবার পর এইসব দিনে আমাদের স্কুলে আবার ছাত্রীদেরই বক্তৃতা টক্তৃতা দিতে হত। ১৫ই আগস্টের আগে হত ৯ই আগস্ট, শহীদ দিবস(এটা যে কোথা থেকে পাওয়া গেল, খোদায় মালুম)।কিন্তু আমাদের খুবই সুবিধা হত। স্টেজ রিহার্সাল মতন একটা হয়ে যেত সেটায়, স্টেজও সাজানো হয়ে থাকত। পরে ১৫ই আগস্টে সুবিধে হত। আমাদের ক্লাসে খুব বলিয়ে কইয়ে একজন তুখোড়মতন ছাত্রী ছিল, বামপন্থী নেতার বাড়ির মেয়ে, বাইরে ডিবেটেও যেত। এইসব দিনে তাকেই এগিয়ে দেওয়া হত বক্তৃতার জন্য। সে ফাটিয়ে বক্তৃতা দিত। দিদিমণিরা আবেগাপ্লুত হয়ে বলতেন, ওরে তোরা পাশ করে বেরিয়ে গেলে কার বক্তৃতা শুনব আমরা? এক দিদিমণি ছিলেন খুবই তুখোড়। বলতেন, তাতে কী হয়েছে? তখন আমরা টিভিতে শুনবো ওর বক্তৃতা।
    ঃ-)
  • একলহমা | ১৬ আগস্ট ২০২০ ১০:৩২96349
  • বিপ্লবদা, জানি, খুব-ই অল্প হয়েছে। একটু ঘেঁটে আছি। পরের বার এত ছোট হবে না। 

    ডিসি, ২৩শে জানুয়ারি সুভাষ বোসের জন্মদিন। ইতিহাসের দিন গোণায় কানমলার ফাউ প্রাপ্তি অনেকের ক্ষেত্রেই জুটেছে। 

    আতোজ, ১৯৪২-এর ৯-ই অগাস্ট ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরু হয়েছিল। একটা পর্যায়ে গিয়ে শহীদ হলেন মাতঙ্গিনী হাজরা। ৪২-এর আন্দোলন নিয়ে তৈরী চলচ্ছিত্র '৪২' বাংলা চলচ্চিত্রে সবচেয়ে বেশীবার দেখা চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে জায়গা করে নিয়েছিল। হতে পারে, সেখান থেকেই ৯-অগাস্ট শহীদ দিবসের রূপ নেয়, বিশেষ করে মেদিনীপুর এবং সংলগ্ন অঞ্চলে। অগ্রসর চিন্তা বামপন্থীরা করবে, আমাদের ছোটবেলায় অন্ততঃ এটাই স্বাভাবিক ছিল। 

  • Atoz | 151.141.85.8 | ১৬ আগস্ট ২০২০ ১১:০১96351
  • এইগুলোকে বেশি বেশি প্রচার করার দরকার। মাতঙ্গিনীর নামই দেখি তেমন বেশি বলে না। আরও কতজন ছিলেন। ওখানে তো রীতিমতন একটা তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার অবধি তৈরী হয়ে গিয়েছিল।
    আজকের স্বঘোষিত "সর্বভারতীয়" নেতারা আমাদের এই সব ভুলিয়ে দিতে চায়। এক গাদা হিন্দি সিনেমার নাম দিয়ে দিয়েছে, স্বাধীনতাদিবসে দেখার জন্য। লোকে শেয়ার করে যাচ্ছে।
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত