• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • নেটফ্লিক্সের বুলবুল -- এক অনুপম অশ্বডিম্ব

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভাগ : আলোচনা | ২৮ জুন ২০২০ | ৬১৭৭ বার পঠিত
  • নেটফ্লিক্সে বুলবুল বলে এক সিনেমা নাকি আলোড়ন ফেলেছে। অনুরাগ কাশ্যপ বলেছেন এই শতকের সেরা সিনেমা। উনবিংশ শতকের বাঙালির গপ্পো বলে উৎসাহিত হয়ে দেখে ফেলা গেল। কিন্তু খুলে যা দেখা গেল, তা হল প্রচন্ড পলিটিকালি কারেক্ট একটি অশ্বডিম্ব। ইদানিং কালে বিন্দুমাত্র চিন্তাভাবনা পড়াশুনো বা সৃষ্টিশীলতার চূড়ান্ত অভাবকে ঢাকতে একটা চড়া দাগের যাহোক 'সঠিক' কথাকে হাঁইমাই করে তীব্র চিৎকার সহকারে জোর গলায় বলতে পারাকেই 'শিল্প' বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এই উচ্চমার্গের 'প্রগতিশীলতা'র বেশ কিছু খদ্দেরও আছেন, ফলে চলছেও ভালই, ব্যবসাপাতিও নিশ্চয়ই ভালই হচ্ছে। সেই ঘরনার একটি নিখুঁত উদাহরণ হল এই সিনেমা।

    সেই কারণেই কলম বাগিয়ে এটা লিখতে বসা। নইলে এই সিনেমার রিভিউ করা পন্ডশ্রম। ইতিহাস, ভূগোল সবকিছুকে গোল্লায় পাঠিয়েও কীকরে 'প্রগতিশীল' এবং হিট ছবি বানানো হয় এবং হয়েছে, সেইটুকুই এখানে দেখা হয়েছে। আর অন্য কিছু এই লেখার উদ্দেশ্য নয়।

    তো, কাজের কথায় আসা যাক। সিনেমার পটভূমি ১৮৮১ সালের। গোড়াতেই জ্বলজ্বল করে লেখা আছে বলে জানা গেল। একদম গোড়া থেকে শেষ পর্যন্ত দেখা গেল কোনো এক অজ জঙ্গলের জমিদারবাড়ি। সেখানে উনবিংশ শতকের বাঙালি জমিদার কলার দেওয়া পাঞ্জাবি পরে ঘুরছেন। সেই ১৮৮১ সালে। রবীন্দ্রনাথের তখন সবে দাড়ি গজিয়েছে, বছর কুড়ি বয়স, বিদ্যেসাগর তখনও বেঁচে। সেই আমলে কলার দেওয়া পাঞ্জাবি? সেসব তখনও আবিষ্কার হয়নি, বঙ্গীয় পুংদের আটপৌরে পোশাক ছিল ঊর্ধ্বাঙ্গে উড়নি (বিদ্যাসাগরের বিখ্যাত পোট্রেটটি মনে করুন), আর জমকালো পোশাক বলতে ছিল চোগা-চাপকান (এবার বঙ্কিমচন্দ্রের বিখ্যাত পোট্রেটটি স্মরণ করুন), শহরে শার্ট-আর-ধুতিও চালু হয়ে গিয়ে থাকতে পারে, কিন্তু কলার দেওয়া পাঞ্জাবি? ওরে বাবা। পরিচালক বা চিত্রনাট্যকার বা শিল্পনির্দেশক সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র খবর রাখার প্রয়োজন বোধ করেননি, বোঝা গেল। মেয়েদের পোশাকের খবরটা অন্তত রাখা উচিত ছিল, নারী নিয়েই যখন এত বক্তব্য। কিন্তু সিনেমায় গুষ্টিশুদ্ধ মেয়েদের দিব্যি দেখা গেল হয় ফুলফুল হাতা, কিংবা এমনি ছোটোহাতা ব্লাউজ পরে। যেন চারুলতার দৃশ্য। চারুলতা থেকে সিনেমাটি যে প্রচুর 'অনুপ্রাণিত', সে অবশ্য নায়িকার হাসি, চাউনি দেখেও বোঝা যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল চারুলতা নেহাৎই শহুরে ঘটনা, সত্যজিৎ বাবু সেসময়ের পোশাক নিয়ে বিস্তর রিসার্চ করেছিলেন, কিন্তু দুঃখের বিষয় ১৮৮০-১৮৯০-১৯০০ -- এই সময়কালের গাঁয়ের মেয়েদের পোশাক নিয়ে রিসার্চটা বুলবুলের হয়ে করে দেননি। খুব বেশি রিসার্চ করারও দরকার নেই, বাংলার ইতিহাস যাঁরা একটুও পড়েছেন, তাঁরা বিলক্ষণ জানেন, যে, বাংলায় শাড়ি পরা হত কোনো ব্লাউজ বা সায়া ছাড়া। জ্ঞানদানন্দিনী দেবী ওই দুইয়ের প্রচলন করেন, শেমিজ নামক একটি বস্তু আবিষ্কার করে। তিনি কলকাতায় ফেরেন ওই ১৮৮০ সাল নাগাদ, তারপর প্রাথমিক ভাবে স্রেফ ব্রাহ্মসমাজের মহিলাদের মধ্যে এর চল শুরু হয়। শহুরে আলোকপ্রাপ্ত মহিলারাও পরতে শুরু করেন। তারই ফল চারুলতার পোশাক। কিন্তু সুদূর গ্রামে ১৮৮০-৯০ সালে মহিলারা শাড়ি-ব্লাউজ পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, এ খুবই কষ্টকল্পনা। বস্তুত সেই সময়ের জমিদার মেয়েদের পোশাক নিয়ে আলাদা একটা রিসার্চেরই দরকার, সে এঁয়ারা করেননি, স্রেফ চারুলতা থেকে কপি মেরেছেন, সে বোঝাই যাচ্ছে।

    এর চেয়েও প্রলয়ঙ্কর হল গানের ব্যবহার। সহনায়িকা এখানে গুণগুণ করে গায় রবিবাবুর গান। মোটামুটি ১৮৯৫ সাল নাগাদ। কী গান? সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে। যে গান লেখা হবে এর বছর তিরিশেক পরে। বাঙালি হলেই একটু রবীন্দ্রনাথের পাঞ্চ দিতেই হবে, বাঙালি রবীন্দ্রনাথের জন্মের আগে থেকেই রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়, এ তো জানা কথা। যেকোনো দিন পলাশীর যুদ্ধের দৃশ্যায়নেও সিরাজদৌল্লাকে 'ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে' গুণগুণ করতে দেখা যেতে পারে। বলিউডি ওয়েবসিরিজ/সিনেমার কারবার বলে কথা। এর আগে একটি সিরিজে দেখা গিয়েছিল বাঙালি নায়িকা সঙ্গমকালে 'শেষের কবিতা' থেকে আবৃত্তি করে। বলিউডি প্রযোজক-পরিচালকদের নির্ঘাত ধারণা ওতেই বাঙালির অর্গ্যাজম। একে বলিউডি জিকের পরাকাষ্ঠা বলা যেতে পারে। ওঁদের জিজ্ঞাসা করলে হয়তো এও বলবেন, যে, আশা ভোঁসলেকে উদ্দেশ্য করেই রবিবাবু 'বড় আশা করে' গানটি রচনা করেছিলেন।

    তা, এ তো গেল বলিউডের রবীন্দ্রচর্চা। এছাড়াও আরেকটি দ্বিতীয় গান সিনেমায় ব্যবহৃত। সে হল 'কলঙ্কিনী রাধা'। এর উৎস নিশ্চিত করে জানা যায়না, রাধারমণ দত্তর লেখা হলে পুরোনো, কিন্তু শাহ আবদুল করিমের রচনা হলে অনেক পরে লেখা। সিনেমার সময়কালে ব্যবহার করা যায়না। কিন্তু ওসব নিয়ে কে আর কী ভাববে, একটা পপুলার গান পেয়েছি, লেঃ সালা ব্যবহার করে দি, এই তো অ্যাটিটিউড। তাও রক্ষে, কোনো চরিত্র 'বঙ্গাল কি মিট্টি বাঙ্গাল কি পানি' গেয়ে বসেনি। হ্যাঁ হিন্দিতে। কারণ এই সিনেমা দেখে নিশ্চিত ভাবে জানা গেল গ্রাম বাংলায় ১৮৮০-১৯০০ সালে সব্বাই হিন্দিতে কথা বলত তো বটেই এমনকি গপ্পো টপ্পোও লিখত দেবনাগরীতে। বড় বড় অক্ষরে এই সিনেমার অমল আর চারু দেবনাগরীতে গদ্য লিখেছে, পরিষ্কার ক্যামেরায় দেখা গেল। এরপর যেকোনো দিন জানা যাবে বঙ্কিমচন্দ্র আনন্দামাঠ লিখেছিলেন হিন্দিতে, আর জানাগাণামানার রচয়িতা দেবনাগরী ছাড়া অন্য কিছুতে লিখবেনই বা কীকরে? বাঙালি মানে হল, দু-ইঞ্চি রবীন্দ্রসঙ্গীত, শাড়ি-পাঞ্জাবি, রাসগুল্লা আর দুর্গাপুজা। ব্যস। বাকি সব ইতিহাস বলিউডের। ইতিপূর্বে আমরা সুভাষ বসুকে হরবখৎ হিন্দি বলতে দেখেছি, মাস্টারদা আর গণেশ ঘোষকে চট্টগ্রামে হিন্দিতে বাক্যালাপ করতে শুনেছি, ফলে এ আর নতুন কি। আসল কথা হল পলিটিকাল কারেক্টনেসের পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় এই ফিলিম ২০০ পেয়েছে। অনুরাগ কাশ্যপ ঢেলে প্রশংসা করেছেন। বাঙালিও ঢেলে তালি মেরেছে। কে কবে পাঞ্জাবি পরেছে, রবিবাবু কবে জন্মেছেন, আর বাঙালি বাংলায় কথা বলে না হিন্দিতে, এই তুচ্ছ জিনিসে কার কী এসে যায়? বলিউডে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর। এই হল নেটফ্লিক্সের কামাল। এই হল অনুষ্কা শর্মা প্রযোজনা। যেখানে একবর্ণও রিসার্চ না করে, স্রেফ ঝা চকচকে তিনটে দামী ক্যামেরা এনে শুট করে ফেললেই কম্মো খতম, বাকিটা পোস্ট প্রোডাকশন সামলে দেবে। জয় বাবা বলিউড। জয় মা পলিটিকাল কারেক্টনেস। হিন্দি-হিন্দু-হিন্দিস্তান জিন্দাবাদ।
  • বিভাগ : আলোচনা | ২৮ জুন ২০২০ | ৬১৭৭ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1 | 2
  • sm | 2402:3a80:a37:3c23:0:3e:ff7f:6001 | ২৯ জুন ২০২০ ১৮:২৬94741
  • শক্তি সামন্ত, সেই হিসাবে কলকাতার বাঙালি নন। ইউ পি তে বড় হয়েছেন।ইউ পি র কালচার মজ্জায় ঢুকে ছিলো।

    ভালো হিন্দি জানেন বলে,বিমল রায় কাজ দেন।এই বিমল বাবু যে কতজন কে উঠিয়েছেন,তার হিসাব নেই।

    এনি ওয়েজ,শক্তি বাবু হিন্দি সিনেমায় বাঙালি কালচার প্রমোট করেছেন।রাজেশ খান্না কে ধুতি পরিয়ে একটিং করিয়েছেন।আবার কলকাতার টলিউড এর সিনেমায় টিপিক্যাল হিন্দি ছবির মালমশলা ঢুকিয়েছেন।বিচক্ষণ ডিরেক্টর হিসাবে জানতেন,বাংলা সিনেমা শিল্প ক্ষয়িষ্ণু।টিকে থাকতে গেলে, বোম্বাই আইটেম ঢোকাতে হবে। এখন যেমন সাউথ এর ছবি,রিমেক হচ্ছে। কি করা যাবে?

    বাংলা সিনেমায় এখন না থাকে কোন গপ্পো।না থাকে ভালো কমেডি।না আছে,সিনেমা দেখে যাবার মজা।

    কলা কুশলী দের স্ট্যান্ডার্ড কিন্তু খারাপ নয়।অডিয়েন্স ও ছোট নয়।

  • dc | 103.195.203.5 | ২৯ জুন ২০২০ ১৮:২৮94742
  • কুশানবাবু, আমি ছোটবেলায় অমিতাভের ভক্ত ছিলাম মোটামুটি একটাই কারনে, মারপিট থাকতো বলে। বাস্তব জিনিষ দেখার জন্য আমি কখনো হিন্দি আর বাংলা সিনেমা দেখিনি, এখনো দেখিনা ঃ-) হিন্দি আর বাংলার অধিকাংশ সিনেমাই খাজা হয় বলে এখন প্রায় দেখিইনা। এই টই খোলা না হলে বোধায় বুলবুল এর নামও শুনতাম কিনা সন্দেহ আছে।
  • dc | 103.195.203.5 | ২৯ জুন ২০২০ ১৮:৩৪94744
  • মুস্তাফিজুর রহমান সাহেব, বাংলাদেশের HDI র‌্যাংক ১৩৬ আর ভারতের ১৩০, মানে একেবারে কাছাকাছি। সেদিক দিয়ে আমার মনে হয়না এই দুই দেশের শিক্ষাব্যবস্থার কোন পার্থক্য আছে বলে। তবে বাংলাদেশ এই র‌্যাংকিং এ দ্রুত উন্নতি করছে, কাজেই মনে হয় শিক্ষা আর স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কয়েক বছরেই ভারতের থেকে ভালো অবস্থায় চলে যাবে।
  • কুশান | 103.218.171.207 | ২৯ জুন ২০২০ ১৮:৩৬94745
  • dc ও sm

    আমিও কতকটা আপনাদের মতোই। দু একটা পয়েন্ট তুলেছি মাত্র।
  • মুস্তাফিজুর রহমান | 203.96.189.172 | ২৯ জুন ২০২০ ২১:৩৮94747
  • ওহ, শুনে খুব খুশি লাগছে, দাদা! আশা করি আপনার বক্তব্য সত্য হয়ে উঠবে। অন্যথায় আমাদের কাজের বাজারটি কেবল ভারতীয়, শ্রীলঙ্কান বা পাকিস্তানীরা নয়, নেপালি ও ভুটানীয়রাও জিতেছে। ধন্যবাদ[email protected] dc

  • Subhankar Mukherjee | 47.15.58.241 | ৩০ জুন ২০২০ ২২:১৪94778
  • খুব গভীর একটি লেখা, সকল নির্দেশক ও তার টিমের এইজন্যই কিছু pre production ও research work করা দরকার

  • r2h | 2405:201:8805:37c0:b0d8:1fa3:5489:31c4 | ০২ জুলাই ২০২০ ১৮:২৩94816
  • দেশে দেখলাম খুব গদগদ রিভিউ বেরিয়েছে। উনবিংশ শতকের সমাজ ধর্ম প্রশাসন নাকি খুব যথাযথ দেখিয়েছে সিনেমায়। 'পুরুষতন্ত্র' নিয়ে অনেক কিছু আছে।

    দেবমাল্য চক্রবর্তী নামে একজন লিখেছেন দেখলাম।
    দেশে কোন সম্পাদকীয় রিভিউ হয় না কিনা কে জানে।
  • Guru | 2401:4900:3145:dd44:42ea:9fba:9661:91fb | ০২ জুলাই ২০২০ ২০:৫৩94818
  • নেটফ্লিক্সের এখন যে হিন্দি ভাষার সিনেমা গুলো আসছে আমি খুব বেশি দেখিনি মাত্র দুটি সিনেমা দেখেছি বার্ড অফ ব্লাড এম্রান হাশমি শাহরুখ খানের এবং বেতাল । এর আগে একটি সিনেমা দেখেছিলাম সেটা অবশ্য সরাসরি torrentডাউনলোড করে লায়লা । লায়লা আমার কিন্তু গল্প হিসেবে খুব ভালো লেগেছে। বার্ড অফ ব্লাড কনটেন্ট একেবারে খারাপ লেগেছে আমার মনে হয় এটি আমার দেখা সবচেয়ে নিচু স্তরের সিনেমা সবকিছুই খারাপ হয়েছিল এবং মনে হয়েছে যে পরিচালক যেসব যেসব দর্শকের কথা ভেবে সিনেমাটি তৈরি করেছিলেন তারা একেবারেই পরিণত মনের নয় । তুলনামূলকভাবে  বেতাল এবং লায়লা অনেকটাই বাস্তবোচিত বলে আমার মনে হয়েছে । দুঃখের বিষয় নেটফ্লিক্সের বেশিরভাগ সিনেমায় এখন ওই বার্ড অফ ব্লাড জাতীয় নিম্নস্তরের সিনেমাগুলির যেসব দর্শকদের কথা ভেবে বানানো হয় তারা পরিনত মনের মত নয় এই কারণেই নেটফ্লিক্সের হয়তো এতটা খারাপ আপনারা কি বলেন? 

  • জয়প্রকাশ সারস্বত | 89.163.152.190 | ০৩ জুলাই ২০২০ ১৬:৪২94831
  • বিভ্রান্তিকরভাবে বাউলগান ‘কলঙ্কিনী রাধা’কে ব্যবহার করা হয়েছে অনুষ্কা শর্মা প্রযোজিত ‘বুলবুল’ সিনেমায়। অপমান করা হয়েছে হিন্দুধর্মকে। তাই বয়কট করা হোক নেটফ্লিক্সকে”, এমন রবই তুলেছেন ভারতের হিন্দুত্ববাদীরা।দেশের হিন্দুত্ববাদীদের নিশানায় অনুষ্কা শর্মার (Anushka Sharma) একের পর এক কাজ! উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই ‘পাতাললোক’ নিয়ে প্রযোজক অনুষ্কার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, এমনকী কলকাতা উচ্চ আদালতেও। এবার, ‘বুলবুল’ (Bulbul) সিনেমায় একটি জনপ্রিয় বাংলা লোকগীতি ‘কলঙ্কিনী রাধা’ ব্যবহারের জন্য ফের হিন্দুত্ববাদীদের রোষানলে পড়লেন অনুষ্কা শর্মা।

  • hu | 174.102.66.127 | ০৬ জুলাই ২০২০ ০৩:২৭94901
  • সিনেমাটা দেখলাম। ৮০-৯০ দশকে বলিউডে রিভেঞ্জ ড্রামা যেমন হত সেরকম। যাঁদের সিনেমাটা স্পর্শ করেছে তাঁরা মনে হয় আর্ট-ডিরেকশন এবং স্ক্রিপ্টের অসঙ্গতি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না। ফেসবুকের একটি গ্রুপে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন যা এই সিনেমার নায়িকাটির মার খাওয়ার দৃশ্যের সাথে অক্ষরে অক্ষরে মিলে যায়। মনে রাখতে হবে, সিনেমায় দেখানো সময়কাল এবং আজকের দিনের ব্যবধান একশো বছরেরও বেশি।

    এটা হতেই পারে এই উচ্চকিত আর্ট ডিরেকশন হয়ত বেশি মানুষকে দিয়ে সিনেমাটা দেখিয়ে নেওয়ার একটা চেষ্টা। কো-প্রোডিউসারের জায়গায় মনোজ মিত্রের নাম দেখলাম। উনিশ শতকের শেষের দিকে বাঙালী নারী-পুরুষের সাজপোষাক নিয়ে তাঁর ধারণা নেই এ অসম্ভব। তাই মনে হয় এই জোর করে মেইনস্ট্রিম হতে চাওয়া ইচ্ছাকৃত। যে গল্পটা বলা হয়েছে তার সাথে বহু মেয়েই হয়ত আইডেন্টিফাই করে। তারা সবাই সুচারু আর্ট ডিরেকশনের পরোয়া করে এমন না।
  • Sahasrangshu Guha | 2409:4060:2101:c011:4d70:fc7b:c1d8:3779 | ০৭ জুলাই ২০২০ ১৪:০৯94974
  • আমি আরেকটি ভুলের কথা বলে যাই। সিনেমায় যে রাইফেলটি দেখানো হয়েছে তার আকৃতি মিলছে এনফিল্ড বন্দুকের সাথে অথচ (১) নায়ক দেখলাম গুলির বাক্স থেকে 303 বন্দুকের লম্বাটে গুলি উঠালেন। এনফিল্ডের টোটা গোল হত। (২) সিনেমার শেষ দিকে নায়ক অল্প সময়ের ব্যবধানে দমাদ্দম ফায়ার করলেন এদিকে এনফিল্ড রাইফেল একবার চালানোর পর তার মাজল পরিষ্কার করে গুলি ভরতে এবং গুলি ঠাসতে অন্তত ৪৫ সেেকেন্ড লাাগেতো।

  • রাজর্ষি রায়চৌধুরী | 80.194.86.114 | ০৭ জুলাই ২০২০ ২০:৪৫94985
  • একদম ঠিক কথা। Lee Enfield 303 ব্রিটিশ মিলিটারি প্রথম ব্যবহার করতে শুরু করে ১৮৯৫ সাল থেকে।

    তার আগে (among others) Martini-Henry rifle ব্যবহার হত। এই রাইফেল তার পরেও ব্যবহার হয়েছে, জিম করবেট পশ্য।

    কাজেই ১৮৮১র গল্পে ও বস্তু আবিষ্কার হয়নি! 

  • r2h | 2405:201:8805:37c0:209d:74d:cbf1:1e7b | ০৮ জুলাই ২০২০ ০০:৪৮94987
  • হুচির কথাটা ঠিকঠাক লাগলো; নেহাত মন্দ বাজেটের সিনেমা তো নয়, এত ভিএক্সপত্র আছে - এরা জানে না সেটা একটু কঠিন।

    জেনে এই জিনিসগুলো করা যদিও সংস্কৃতির প্রতি অশ্রদ্ধাও প্রকট করে, তবে কীসে কী প্রায়রিটি দিচ্ছে সেসবও কথা; আবার এরকম হলে বেঙ্গল প্রভিন্স বাংলা গান এসব না করে একেবারেই কাল্পনিক দেশকাল হতে পারতো হয়তো।
  • বিপ্লব রহমান | 119.30.39.39 | ০৮ জুলাই ২০২০ ০৭:৫৫94992
  • যেমন লেখা,  তেমনই আলোচনা।  একটি ফাও ডাউনলোড লিংক পেলেই ছবিটি দেখে ফেলবো :))     

  • রঞ্জন রায় | 182.69.83.205 | ০৮ জুলাই ২০২০ ১৫:০৩94995
  • একটা কথা । সিনেমার গল্পটিতে বাংগলার গ্রাম দেখালেও হিন্দি ছবিটায় সবাই হিন্দিতে কথা বলবে এটাই কি স্বাভাবিক নয়?  ? এতে 'বাঙালী' কোন ব্যতিক্রমী চরিত্র তো নয় , সবাই যে বাঙালী । " লা দলচে ভিতা" বা " বাইসাইকেল থিফ' এর ইংরেজি ভার্সানে  সবাই ইংরেজিই বলে, ইতালিয়ান নয় ।


    এর আগে একটি সিরিজে দেখা গিয়েছিল বাঙালি নায়িকা সঙ্গমকালে 'শেষের কবিতা' থেকে আবৃত্তি করে। ওটা চার অধ্যায় নয় ? "প্রহরশেষের আলোয় রাঙা" ইত্যাদি? বলিউডের বাঙালি ইমেজ নির্মাণ নিয়ে লেখার বাকি অংশের সাথে একমত।

  • Prativa Sarker | 115.96.157.141 | ০৯ জুলাই ২০২০ ১৮:৪২95030
  • সবচেয়ে আপত্তিজনক লেগেছে অলৌকিকের পরিবেশনা। একেবারে যা ইচ্ছে তাই, মানে যাচ্ছেতাই করে ছেড়েছে। পায়ের পাতা উল্টোনোর ওপর অনুষ্কার বিশেষ প্রীতি আছে। পরীতেও পাতা উল্টানো। সেই ওল্টানো পাতা নিয়েই গাছে গাছে মেয়ে টার্জান (পোশাকও তখন সেইরকম) হয়ে লম্ফঝম্ফ, ডালে পা আটকে হেটমুন্ডে ঝুলে পড়া ইত্যাদি চলেছে। অলৌকিকের পরিবেশনা এমন অভিভূত হবে যেন মানুষ প্রশ্ন করতে ভুলে যায়। এখানে আরো চোদ্দ রকম প্রশ্ন উঠে যায়। আসলে বাস্তব না পরাবাস্তব কোনটায় মন দেবে ঠিক করতে না পেরে একখানা জগাখিচুড়ি পাতে ঢেলে দেওয়া হয়েছে। 

  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1 | 2
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত