• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • তিব্বতে তথাগত (পর্ব - ১)

    সৈকত ভট্টাচার্য
    বিভাগ : ধারাবাহিক | ২৩ এপ্রিল ২০২০ | ৫৭৯ বার পঠিত
  • ।লকডাউনের অলস দুপুর এবং ।

    "গরম লাগে তো তিব্বত গেলেই পার!" বিরক্ত মুখে কথাটা বলে পাশ ফিরল শুভ।
    চেন্নাইএর গরমে ঘরে বসে সিদ্ধ হচ্ছি সবাই। অবিশ্যি সিদ্ধ বললে কম বলা হয়। বেশ বেকড ভেটকি বা পমফ্রেট জাতীয় কিছু বললে হয়ত আমাদের অবস্থার প্রতি সুবিচার হত। এই এপ্রিল-মে মাস জুড়ে এখানে যে 'অগ্নিনক্ষত্রম' অর্থাৎ সূয্যিমামার চোখ রাঙানি সহ্য করতে হয়, তার থেকে পরিত্রাণের রাস্তা ছিল আমাদের আপিস। সূয্যিদেবের ওয়ার্ম আপ করার সময়ের মধ্যে আপিসের ঠান্ডায় সুড়ুৎ করে ঢুকে পড়, আর একেবারে অন্ধকার হয়ে ফুরফুর করে সমুদ্রের বাতাস বইতে যখন শুরু করবে তখন বের হও। এই পলিসি নিয়ে ভালই কেটেছে এই কটা বছর। এই বছরটাও এর থেকে কিছু আলাদা হওয়ার কারণ ছিল না যদি না 'করোনা' এসে হামলা করত।
    লকডাউনের চক্করে সবাই পিজি-বন্দী। ব্যাচেলর জীবনের বেসিক নিড হিসাবে দুবেলার খাবার, খান দুই কালো-কুত্তা বা শিক্ষকের খাম্বা আর ল্যাপটপ - এসব তো মজুত আছেই। সমস্যা হল গরম নিয়ে। দিন দুয়েক হল ওভারটাইম খেটে খেটে আমাদের ঘরের এয়ারকন্ডিশন যন্ত্রটি দেহ রেখেছেন। অভ্যাস না থাকলে যা হয়। এখন লকডাউনের বাজারে মেকানিক পেতে গেলে সাথে ফ্রিতে দু এক পিস পুলিশের মার অথবা করোনার মারী কিছু একটা জুটেই যাবে। তাই আমরা কৃচ্ছসাধনের কঠিন পথই বেছে নিয়েছি। এই ঘরে আমরা তিনজনই বাঙালী। তিন খানা খাটের একটায় আমি, পাশেরটায় আমার কোম্পানিরই আইটিতুতো ভাইটি, শুভ আর অন্যটায় জয়দা। বয়েসে খান চারেক বছরের বড় মনেহয়। যদিও মনের বয়স অনেকখানিই বেশী তাতে সন্দেহ নেই। আপিসের বাইরে ওনার একমাত্র এন্টারটেইনমেন্ট হল বই। বাকিসব ইচ্ছে অনিচ্ছেকে জয়দা কী করে জয় করেছেন সেসব নিয়ে উপন্যাস হয়ে যাবে। প্রয়োজন নেই এখানে।
    সেই অকৃতদার ইন্দ্রিয়বিজয়ী মিতভাষী অপারজ্ঞানময় জয়দা উঠে বসে হাতের বইটি বিছানার উপর রেখে পাশে খুলে রাখা স্যান্ডো গেঞ্জি দিয়ে কপাল মুছে যখন বললেন, "বাপরে! কী গরম রে!" তখন শুভর মুখ থেকে ভেসে এল ওই উক্তি - "গরম লাগে তো তিব্বত গেলেই পার!"
    জয়দা এমনিতে মিতভাষী। ঘরে আছেন না নেই সেটা মালুম হয় না। কিন্তু যদি জয়দার সাবজেক্টের মধ্যে কিছু এসে যায় তাহলে সেই বিষয়ের সমস্ত অর্জিত জ্ঞানরাশির বর্ষণ শুরু হয়। বলা বাহুল্য, সেই বর্ষণে ভিজি আমরাই, সর্দিও লাগে আমাদের।
    শুভ যেই 'তিব্বত'এর নাম নিল - আমি প্রমাদ গুনলাম। গত দুদিন ধরে জয়দা যে বইটার সাথে উঠছে, শুচ্ছে, মাঝে মধ্যে বাথরুমেও সহগমন করছে, সেটির প্রচ্ছদে বড় বড় করে 'Tibet' কথাটা আমি লক্ষ্য করেছি। সুতরাং এবার তিব্বত নিয়ে যে অনেক জ্ঞান লাভ হবে তাতে সন্দেহ নেই। যবনের হাতে যখন পড়েইছি আর আমার হাতে মোবাইল ছাড়া কিছু নেই, তখন বালিশে হেলান দিয়ে তৈরী হয়ে নিলাম। এবং ঠিক তখনই আমাকে নির্ভুল প্রমাণ করে শুভর দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে জয়দা বলল, "খুব কথা হয়েছে দেখছি! তীব্বত সম্পর্কে কী জানিস?"
    "হ য ব র ল সম্পর্কে জানি।" শুভর নির্লিপ্ত উত্তর।
    "স্রোংচান গামপোর নাম শুনেছিস? বা তোনি সম্ভোতা? অথবা ত্রিসোং দেচেন? কিংবা গুরু রিংপোচে?" জয়দা নাছোড়। নামের তোড়ে শুভ উঠে বসেছে।
    "এরা কারা? ম্যাক্সিমাম লাসা আর ব্রহ্মপুত্রের নাম জানি... আর সুকুমার রায়।"
    "আর ফস করে তিব্বত চলে যেতে বললি? জানিস লাসা একসময় নিষিদ্ধ নগরী ছিল?"
    শুভ ফটাফট মাথা নেড়ে সারেন্ডার করে দেয়।
    "আচার্য শান্তরক্ষিত বাহাত্তর বছর বয়সে পায়ে হেঁটে হিমালয় পার হয়ে লাসা পৌঁছেছিলেন। জানিস সে কথা?"
    শুভ মাথা নেড়ে নেড়ে ক্লান্ত হয়ে সারেন্ডার করল, "আরে জানিনা তো... কতবার বলব? কী বলতে চাও বল খোলসা করে..."
    জয়দা একটা আত্মপ্রসাদের হাসি হেসে বলল,"তবে শোন, শান্তরক্ষিতের তিব্বতযাত্রার গল্প শোনাই তোদের। অবিশ্যি শান্তরক্ষিতের কথা শুধু বললে পুরো সময়টাকে ধরতে অসুবিধা হতে পারে। গোড়া থেকেই শুরু করি। মানে ধর ২০০ থেকে ১০০ খ্রীস্টপূর্বাব্দের মধ্যে। ভারতবর্ষে তখন কে রাজত্ব করছে?"
    জয়দার প্রশ্নের সামনে আমাদের এক গাল মাছি। শুভ ভেবেটেবে বলল,"হরিশ্চন্দ্র?" জয়দা কেমন ভস্মাসুরের মত দৃষ্টি হানলেন। আমি মিন মিন করে বললাম, "মৌর্যরা?" মাধ্যমিকে ইতিহাসে আশির ঘরে পেয়েছিলাম। জয়দা একটু খুশিই হলেন। বললেন,"কাছাকাছি। মৌর্যবংশের শেষ রাজা বৃহদ্রথকে হত্যা করে মগধের সিংহাসনে বসেছেন পুষ্যমিত্র শুঙ্গ। শুরু হয়েছে শুঙ্গ সাম্রাজ্যের। আমাদের গল্পর শুরুও সেই সময়..."
    "শুঙ্গ শুনে কেমন একটা শুঁড়ওলা আরশোলা মনে হচ্ছে না?" শুভ আমার দিকে তাকিয়ে বলল।
    "আহ! খালি বাজে কথা!" জয়দা একটা ছোট হুংকার ছাড়লেন। "পুষ্যমিত্র ছিলেন বৃহদ্রথের সেনাপতি। বৃহদ্রথ বছর সাতেক রাজত্ব করেছিলেন। তারপর একদিন মিলিটারির প্যারেড দেখছিলেন যখন, সেনাপতি পুষ্যমিত্র এসে ঘচাং ফু করে দেয়।"
    "এ কি! ঘচাং ফু করলেই হল? রাজার সিক্রেট সার্ভিস ছিল না?" শুভ উত্তেজিত।
    "কে জানে, ছিল হয়ত। তারাও হয়ত পুষ্যমিত্রর পুষ্যি ছিল। এসব রাজা গজার তো শত্রুর অভাব নেই! ক্ষমতার লোভ! পুষ্যমিত্র হলেন মগধের সিংহাসনে প্রথম ব্রাহ্মণ রাজা। মৌর্যরা বৌদ্ধ ছিলেন। বৌদ্ধরাই এতদিন রাজার পৃষ্ঠপোষকতায় নানারকম সুবিধা পেয়ে এসেছিল। এ ব্যাটা শুঙ্গ সিংহাসনে বসেই বৌদ্ধধর্মকে নির্মূল করে ব্রাহ্মণ্যধর্মের প্রতিষ্ঠার জন্য মোনাস্ট্রি ফোনাস্ট্রি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করতে শুরু করে দেন.... পাটলিপুত্রতেই এক সংঘারামকে জ্বালিয়ে দিয়ে তার সব বৌদ্ধ সন্নাসীদের হত্যা করে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছিলেন.... আমরা আবার বখতিয়ার খিলজিকে খিস্তি করি! হুহ..."
    "আচ্ছা, তিব্বতের রাজারাও তো বৌদ্ধ ছিলেন? তাহলে এখান থেকেই কি কেউ তিব্বতে গিয়ে..." প্রশ্ন করি আমি।
    "প্রথম প্রশ্নের উত্তর পার্শিয়ালি হ্যাঁ এবং না। দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ।" জয়দা জবাব দেয়।
    "মানে?" বুঝলাম না কিছুই।
    "মানে তীব্বতি রাজারা বৌদ্ধ ছিলেন। কিন্তু অনেক পরে সেটা। আরো ছশো সাতশো বছর পরের কথা। তার আগে না। আর দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হয়তো হ্যাঁ। আসলে, মজার কথা জানিস, অন্ততঃ সাতশো খ্রীস্টাব্দের আগে অবধি তিব্বতের লিখিত ইতিহাসই নেই।"
    আমরা সমস্বরে বলি, "কেন?"
    "শুধু ইতিহাস কেন লিখিত কিছুই পাবিনা। কেন বলত?" জয়দা বেশ ফেলুদার ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলেন।
    আমরা খচখচিয়ে মাথা চুলকোচ্ছি, এমন সময় ওড়িয়া ঠাকুর রবি এসে ঢুকলো। রবির ভাল নাম রবি দাস। আমরা রবি ঠাকুর বলেই ডাকি। এসে দাঁত বের করে বলল, "ভাইনা, খানা লাগা দিয়া।"
    শুভ মাথা চুলকোবার আগে গেঞ্জির তলায় হাত ঢুকিয়ে পেটও চুলকোচ্ছিল। খাবারের নাম শুনে তড়াক করে লাফিয়ে উঠল। আমারও যে খিদে পায়নি একেবারে তা নয়। জয়দা শুধু অপার নিস্পৃহতার সাথে বলল, "কাল তো থোড় বড়ি খাড়া হয়েছিল... আজ কি খাড়া বড়ি থোড়?"
    রবি বালাসোরের লোক হওয়ায় বাংলাটা বুঝে যায়। বলতে পারেনা ভাল। জয়দার প্রশ্ন শুনে বুক ফুলিয়ে পুষ্যমিত্র শুঙ্গ মার্কা মুখ করে বলল, 'কাতলা মাছের ঝোল'....
    ঘ্যাঁট আর ভাত খাওয়া মুখ মাছের নাম শুনে এমন হাঁ হয়ে গেল যে একটা মাছি দুবার গোঁত্তা মেরে বোঁ করে গিয়ে বন্ধ এসির ফাঁকে গিয়ে সেঁধোল।
    "চেন্নাইএর মাছওয়ালাদের সমস্যা হল এরা মাছ কাটতে পারে না। এগুলো মাছের পিস?" ইঞ্চি খানেক লম্বা আর বোধহয় কয়েক মাইক্রন চওড়া একটা গাদা দু আঙুলে তুলে দেখিয়ে বলল শুভ। বলাবাহুল্য আমার থালাতেও মাছের যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলি পড়েছে, সেগুলিকে দেখে মৃত মাছশাবকের প্রতি করুণা আর যে কেটেছে তার প্রিসিশনের প্রতি সম্ভ্রম ব্যতীত আর কিছু মনে আসছিল না। জয়দা থালাখানেক ভাত শুধু ওই দিয়েই সাপটে দিয়ে একটা আলু মুখে পুরে অর্ধনিমীলিত চোখে সেটাকে চিবচ্ছিল।
    "আমার প্রশ্নের উত্তরটা কিন্তু এখনো পাইনি।" সেই অবস্থাতেই আলুটাকে সম্ভবতঃ গলায় চালান করে দিয়ে কথাটা বলল জয়দা। এই এক সমস্যা লোকটার। কিছু একটা মুখ থেকে বেরলো তো জবাব না পেলে শান্তি নেই। দু হাজার বছর আগে তিব্বতে কেন মানুষ লেখাপড়া করেনি - আমি কী করে জানব বলুন তো? আমাদের পাড়ার পিন্টুও তো এক বর্ণ লিখতে জানে না - হরিতলায় চুল কাটে - কিন্তু কেন জানেনা, তা কি কোনদিন ওকে জিজ্ঞেস করতে গেছি?
    "কী করে জানব?" বেজার মুখে বলি।
    "ভাব, ভাব। ভাবা প্র্যাকটিস কর। লক্ষণ সেনের মত অমন সারেন্ডার করাটা প্র্যাকটিস কোরো না।" বলে জয়দা মুখে কেমন একটা দিব্য ভাব এনে বেসিনে গিয়ে ফুচুৎ ফুচুৎ করে কুলকুচি করতে লাগল।
    আমি আর শুভ মুখ চাওয়াচায়ি করছি জয়দা তোয়ালে দিয়ে মুখটা মুছে ঘ্রাউৎ করে একটা পেল্লায় ঢেকুর তুলে বললেন,"লেখার জন্য কী প্রয়োজন?"
    আমি বললাম,"কালি।"
    শুভ বলল,"মানুষ।"
    জয়দা বলল,"আরও বেসিকে যা। কী না হলে লেখা হবেই না? কালি ছাড়া পাথরে কুঁদেও লেখা যায়... আর মানুষ ছাড়া কি তোর মত উল্লুক এসে লিখবে?" বলে শুভকে ধ্যাতানি দিল।
    আমরা আবার গুগলি আর ধ্যাতানি একসাথে খেয়ে কনফিউজড! জয়দা আমাদের বুদ্ধির উপর ভরসা ছেড়ে নিজেই বললেন,"অক্ষর। লিপি। স্ক্রিপ্ট। অক্ষর না থাকলে লিখবে কী করে? তিব্বতি ভাষার কোন লিপি ছিল না। শুধু কথ্য ভাষা। তাই শুধু ইতিহাস কেন, কিছুই লেখা হয়নি হাজার হাজার বছর ধরে। ফলে দেশটার ইতিহাস পুরো অন্ধকারে ঢাকা। পরে রাজা স্রোংচান গামপোর সময় লিপি তৈরী হয়। সে গল্প যথা সময়ে বলব। কিন্তু তারপরেও যা ইতিহাস লেখা হয়েছে, সবই প্রায় ধর্মীয় ইতিহাস। তার মধ্যে ধর্মীয় উপকথা, গল্প এত মিলে মিশে গেছে যে আসল ঘটনা খুঁজে পাওয়াই চাপ!"
    "লিপি কেমন করে তৈরী হয়?" প্রশ্ন করলাম আমি।
    "রহু ধৈর্যং। আগের কথা আগে বলি।"
    "বেশ।" আমরা মুখে 'আনার দানা' ফেলে চুষতে চুষতে আবার ঘরে ফিরে গ্যাঁট হয়ে বসে গল্পের আশায়।
    জয়দা পাশের বালিশটা কোলে টেনে নিয়ে গুছিয়ে বসে বলে চলেন, "এদিকে পুষ্যমিত্র শুঙ্গ যখন কেলোর কীর্তি করে বেড়াচ্ছেন, তখন তিব্বতের প্রথম রাজা 'ঞাট্রি চানপো'র আবির্ভাব।"
    "আবির্ভাব? ভগবান নাকি?" শুভ হ্যা হ্যা করে হেসে নিলো খানিক।
    "ইয়েস। ভগবান। অন্ততঃ তিব্বতিরা সেরকমই ভেবেছিল। আসলে উনি তিব্বতি ছিলেন না। সম্ভবতঃ উত্তরভারতের কোনও রাজ্য থেকে হিমালয় পার হয়ে তিব্বতে পৌঁছন উনি। পায়ে হেঁটে।"
    "পায়ে হেঁটে এভারেস্ট পার হয়ে গেল? তাহলে তো তেনজিঙের আগে... " শুভ অবাক।
    "এভারেস্ট কেন পার হতে যাবে?”
    "তাহলে? তিব্বত যাবে কী করে?"
    "কেন? কলকেতা, ডায়মণ্ডহারবার, রানাঘাট, তিব্বত, ব্যাস্! সিধে রাস্তা, সওয়া ঘণ্টার পথ, গেলেই হল।" বলে জয়দা একটু খ্যাঁকখ্যাঁকিয়ে হেসে নিলো। ভাবখানা এই যে শুভর উপর ভাল শোধ নেওয়া গেছে। হাসি টাসি শেষ হলে আবার গম্ভীর ভাবে বলল,"অনেক গিরিপথ আছে। তবে অত বছর আগে কীভাবে কোন পথে গেছিল এখন বলা যাবে না। হিমালয়ের মত নবীন পর্বত - রোজই ভাঙছে গড়ছে। মনে নেই, সেই যে বলেছিলাম সেবার গোমুখে গিয়ে দুর্যোগে আটকে গেলাম। তারপর তো গোমুখ যাওয়ার রাস্তাই বদলে গেল। তাই দুহাজার বছর আগে সে ভদ্রলোক কোন রাস্তায় যে ওখানে গিয়ে পৌঁছেছিলেন তা এখন বলা মুশকিল। কিন্তু উনি গেছিলেন। কেন গেছিলেন - সে ব্যাপারে নানা মুণির নানা মত আছে। অনেকে বলেন এখানের কোন রাজ্যের রাজা ছিলেন - শত্রুর হাত থেকে পালানর জন্য এক রমণীর ছদ্মবেশ নিয়ে পাহাড় টপকে হাজির হন ওপারে। আবার অনেকে পুরাণের সাথে মিলিয়ে ফেলেছেন ইতিহাসকে। বলেন উনি নাকি কোশলরাজ প্রসেনজিতের কোনও এক উত্তরসূরি। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে হাত মিলিয়েছিলেন কৌরবপক্ষে। শেষে পাণ্ডবরা জিতে যাওয়ায় তাদের হাত থেকে পালানর জন্য একেবারে তিব্বত। মোদ্দা কথা হল, উনি যেই হন না কেন, শত্রুর হাত থেকে চাচা আপন প্রাণ বাঁচা বলে হাজির হয়েছিলেন হিমালয় টপকে সেই 'বোদরাজ্যে'।"
    "কী? বোদরাজ্য? সে আবার কী? এই যে বললে তিব্বত!" আমি নাক কুঁচকে বলি।
    জয়দা টেনিদার মত একটা হাইক্লাস হাসি হেসে বলল,"যাহা বাহান্ন, তাহা তিপ্পান্ন! আচ্ছা, ক্যুইজ - ভারতবর্ষের আগে কী নাম ছিল?"
    শুভ তাড়াহুড়োয় 'জম্বুদ্বীপ' বলতে গিয়ে বলে ফেলল, "জাম্বুবান।"
    আমি খোঁচা দিয়ে বললাম,"তোর না - ভারতবর্ষের নাম জিজ্ঞেস করেছে!"
    ও কেমন একটা হৃদয়-ভাঙা দৃষ্টি নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,"এৎ তু ব্রুতে!"

    (ক্রমশঃ)
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২৩ এপ্রিল ২০২০ | ৫৭৯ বার পঠিত
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • গবু | 162.158.165.11 | ২৩ এপ্রিল ২০২০ ১০:২৫92629
  • জমে গেছে!

    ডি লা গ্র্যান্ডি মেফিস্টফিলিস ইয়াক ২!

  • dc | 162.158.50.254 | ২৩ এপ্রিল ২০২০ ১১:০০92630
  • ব্যাপক হয়েছে ঃ-)

    তবে কিনা চেন্নাইতে অগ্নিনক্ষত্রম সামলানোর আসল দাওয়াই হলো রসম। কয়েক বাটি গরম গরম আর ঝাল ঝাল রসম খেয়ে নিলেই শরীরের ভেতরের আর বাইরের তাপমাত্রা ইকুইলিব্রিয়ামে পৌঁছে যাবে। কালো কুত্তা বা শিক্ষক, কিছুই দরকার পড়বে না।
  • b | 162.158.50.219 | ২৩ এপ্রিল ২০২০ ১২:৩৭92632
  • চালিয়ে লিখুন। তবে "তী" নয়।
  • | 162.158.50.241 | ২৩ এপ্রিল ২০২০ ১৬:৫৭92635
  • হ্যা হ্যা ব্যাপ্পক। 

  • যতি শংকর | 172.69.134.26 | ২৩ এপ্রিল ২০২০ ১৯:৪৭92638
  • শুরুটা ভালই হল। পরের পর্বের অপেক্ষায় আছি। 

  • একলহমা | 162.158.187.12 | ২৪ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫৩92645
  • চমৎকার হচ্ছে।

  • kaktarua | 162.158.107.158 | ২৪ এপ্রিল ২০২০ ২৩:৫৯92652
  • দারুন!!
  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • গুরুর মোবাইল অ্যাপ চান? খুব সহজ, অ্যাপ ডাউনলোড/ইনস্টল কিস্যু করার দরকার নেই । ফোনের ব্রাউজারে সাইট খুলুন, Add to Home Screen করুন, ইন্সট্রাকশন ফলো করুন, অ্যাপ-এর আইকন তৈরী হবে । খেয়াল রাখবেন, গুরুর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে গুরুতে লগইন করা বাঞ্ছনীয়।
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত