• বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

    Share
  • কোভিড-১৯ – বায়োলজি ছাড়িয়ে নিওলিবারাল পুঁজি ও রাজনীতির ভূমিতে

    ডঃ জয়ন্ত ভট্টাচার্য লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ২২ এপ্রিল ২০২০ | ৩১২৩ বার পঠিত | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • এ যেন এক সীমাহীন মৃত্যু মিছিল চলছে। ২০.০৪.২০২০-র হিসেব অনুযায়ী বিশ্বে করোনা (শুদ্ধ করে বললে সার্স-কোভিড-২) ২৪ লক্ষের বেশি। মৃতের সংখ্যা ১,৬5,০০০। শুধু আমেরিকাতে মৃতের সংখ্যা ৪০,০০০-এর বেশি। একমাত্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ভিয়েতনামের যুদ্ধ ছাড়া এত মৃত্যু আমেরিকা কখনো দেখেনি। নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন (NEJM)-এ (১৭.০৪.২০২) প্রকাশিত প্রবন্ধ অনুযায়ী (The Untold Toll) – “As the pandemic focuses medical attention on treating affected patients and protecting others form infection, how do we best care for people with non-Covid disease?”

    নিতান্ত বাস্তব প্রশ্ন। প্রতিটি দেশে, এমনকি আমেরিকার হাসপাতালগুলোতেও, রোগীর সংখ্যা সামাল দেওয়া যাচ্ছেনা। আর সমস্ত চিকিৎসক, চিকিৎসাকর্মী এবং চিকিৎসার সমস্ত রিসোর্স যদি করোনা রোগীদের জন্যই ব্যয়িত হয় তাহলে ভারতবর্ষ সহ পৃথিবীর করোনা-আক্রান্ত প্রতিটি দেশে ক্রনিক অসুখে যেসব রোগীরা, বিশেষ করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা-শিশুরা, তাদের কে চিকিৎসা করবে?

    NEJM-এ (১৭.০৪.২০২০) লেখা হচ্ছে (Covid-19 and the Need for Health Care Reform) যে আমরা এতদিন ধরে জোড়াতালি দিয়ে যেভাবে স্বাস্থ্যব্যবস্থা চালিয়ে এসেছি তার থেকে দ্রুত, সমন্বয়যুক্ত রাজনৈতিক অ্যাকশন নিতে হবে। হুবহু ইংরেজিতে এরকম – The patchwork way we govern and pay for health care in the United States is unravelling in this time of crisis, leaving millions of people vulnerable and requiring swift, coordinated political action to ensure access to affordable care.

    কাম্যু তাঁর সুবিখ্যাত প্লেগ উপন্যাসে লিখেছিলেন – “The word ‘plague’ had just been uttered for the first time ... doctor’s uncertainty and surprise – since, with very slight differences, his reaction was the same as that of the great majority of our townsfolk.” উপন্যাসের নায়ক ডঃ রু (Rieux)-র উপলব্ধি ছিল – “The thing was to do your job as it should be done.” এ যেন বর্তমান করোনা সময়ের এক দূর প্রতিচ্ছবি। এবং, হ্যাঁ, ডঃ রু-র মতো আমাদের এখানেও চিকিৎসক-চিকিৎসাকর্মীরা তাদের কাজটিই করে যাচ্ছেন, যতোই অপ্রতুল থাকনা কেন প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষার সরবরাহ এবং সুরক্ষা নিজেই।

    PLoS One পত্রিকায় (৩১.০৩.২০২০) “Forecasting the novel coronavirus COVID-19” গবেষণাপত্রে বলা হচ্ছে আগামী বছরে বিশ্ববাসীর ৪০-৭০% জন আক্রান্ত হতে পারে। CNN সংবাদসংস্থা সতর্কবাণী করেছে বিশ্ব অর্থনীতির মন্দার ব্যাপারে - A new World Bank report warns the spread of Covid-19 could bring recession to countries in East Asia and the Pacific and push 11 million people into poverty. অস্যার্থ, পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মন্দার ফলে ১ কোটির বেশি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়ে পড়বে। প্রশ্ন হল কেন এমনটা হল? এতটাই অপ্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশেরা?

    আরও কিছু বিষয় এবার আমরা বিবেচনায় রাখবো।

    প্রথম, সোভিয়েত শক্তির পতনের পরে একমেরু বিশ্বের অধীশ্বর হবার যে দর্প এবং ঔদ্ধত্য আমেরিকা এতদিন দেখিয়েছে সেখানে বোধহয় একটু চিড় ধরেছে। এমনকি ইয়ুভাল হারারির মতো রাষ্ট্রপন্থী লেখক তথা ইতিহাসকারও তাঁর টাইম পত্রিকায় প্রকাশিত (১৫.০৩.২০২০) প্রবন্ধের শিরোনাম লিখছেন – In the Battle Against Coronavirus, Humanity Lacks Leadership. এর কদিন বাদেই (২০.০৩.২০২০) ফিনান্সিয়াল টাইমস পত্রিকায় আরেকটি বহু আলোচিত প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল – The World After Coronavirus. এখানে তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানালেন – In previous global crises – such as the 2008 financial crisis and the 2014 Ebola epidemic – the US assumed the role of global leader. But the current US administration has abdicated the job of leader. বিবিসি নিউজ-এর (২৪.০৩২০২০) “Coronavirus: What this reveal about US – and its president” প্রতিবেদনে বলা হল – America’s claim to global pre-eminence looks less convincing by the day. While in previous crises, the world’s most powerful superpower might have mobilised a global response, nobody expects that of the United States anymore.

    দ্বিতীয়, বিজ্ঞান এবং রাষ্ট্রের মধ্যে এমন নিবিড় ও নির্লজ্জ সখ্য (যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ছাড়া) যেখানে আন্তর্জাতিক স্তরে বিজ্ঞানীরা বরণ করে নিচ্ছেন রাজনৈতিক নেতাদের এমনটা খুব সুলভ ঘটনা ছিলনা।

    তৃতীয়, চিন যাতে কোনভাবেই বিশ্বের সামরিক এবং রাজনৈতিক কর্তৃত্বে ভাগ বসাতে না পারে সেজন্যও করোনা ভাইরাস একটি হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

    এবং, চতুর্থ, এই ভাইরাসের উৎস যে কর্পোরেট পুঁজির মুনাফা এবং প্রভুত্বের উদগ্র লালসা যেখানে মানুষ থেকে জীবজগৎ, বনাঞ্চল থেকে প্রতিটি প্রাকৃতিক সম্ভার কেবলমাত্র পণ্যায়িত হয় – এ সত্যকে আড়াল করার হাতিয়ারও বর্তমান সময়ের এই ভাইরাস। এজন্য আমাদের এবার একটু পেছনে ফিরে দেখতে হবে।
     

    পেছন ফিরে দেখা
    আমরা ১৯৩০-৩১ সাল অবধি নোবেল প্রাইজের তালিকা দেখলে বুঝবো যে ৩০%-এর বেশি নোবেলজয়ী ইহুদি বংশোদ্ভুত। সেসময়ে মৌলিক বিজ্ঞানের জগতে প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য ইউরোপের। আমেরিকার হাতে রয়েছে অর্থ এবং বেশ কিছু প্রযুক্তি। কিন্তু বিজ্ঞানের মেধা রয়েছে ইউরোপে। এসময় দিয়েই নাৎসী অভ্যুত্থান শুরু হল। বিজ্ঞানীরা দেশান্তরী হতে শুরু করলেন। ১৯৩৩-এ গ্রেট ডিপ্রেসন থেকে বেঁচে ওঠার জন্য আমেরিকার New Deal অর্থনৈতিক পলিসিও এ সময়ে নেওয়া হয়। সবমিলিয়ে বিজ্ঞান-বিজ্ঞানী ও মেধা এবং বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতির এক অদ্ভুত সমাপতন হল। আমেরিকার বিপুল অর্থের সাথে যুক্ত হল অপরিমেয় বৈজ্ঞানিক মেধা এবং অত্যুন্নত প্রযুক্তি। এক নতুন যুগের সূচনা হল। একে আমরা বলতে পারি military-industrial-scientific complex. এ ত্রিভুজ থেকে মিলিটারি সাময়িকভাবে সরে গেলেও রয়ে যাবে industrial-scientific complex।

    প্রসঙ্গত আমরা স্মরণ করবো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে পারমাণবিক বিস্ফোরণের প্রয়োজনে নতুন নতুন প্রযুক্তির জন্ম হয়েছিলো (যেমন নিউক্লিয়ার অ্যাক্সিলেরটর, যার ফলিত চেহারা সিটি স্ক্যানার, এমআরআই ইত্যাদি) এবং এর জন্য স্বাভাবিকভাবেই বিপুল অর্থের বিনিয়োগ হয়েছিলো। যুদ্ধোত্তর সময়ে এই বিনিয়োগের পরবর্তী দীর্ঘকালীন মুনাফা ধরে রাখার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে এ সমস্ত প্রযুক্তি রফতানি নিতান্ত জরুরী হয়ে পড়লো। মেডিসিনের জগৎ এক্ষেত্রে সবচেয়ে সফল ও কার্যকরী অবস্থা তৈরি করতে পেরেছিল। কারণ সহজেই অনুমেয়। পৃথিবীতে মানুষের আবির্ভাব মুহূর্ত থেকে সবসময়েই মানুষের স্বাস্থ্য ও অসুস্থতা একসাথে সহাবস্থান করে। ফলে অসুস্থ মানুষ মেডিসিনের ও চিকিৎসকের ওপরে নির্ভর করবেই এবং এর সাথে সমগ্র চিকিৎসা ব্যবস্থাকে যদি প্রযুক্তি নির্ভর করে তোলা যায় তাহলে অসুস্থতা থেকে আহরণ করা অবাধ মুনাফা নিয়ে দুশ্চিন্তা কমে যায়। এর পূর্বশর্ত দুটি – (১) চিকিৎসাকে মুক্ত বাজারের অর্থনীতির আওতায় আনতে হবে এবং সাধারণ জনসমাজকে এই অর্থনৈতিক দর্শনে বিশ্বাসী করে তুলতে হবে, (২) স্বাস্থ্য-র এবং “সংহত প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা”-র (comprehensive primary health care) ধারণাকে স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং “বেছে নেওয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা”-র (selective primary health care) ধারণা দিয়ে ধীরে ধীরে প্রতিস্থাপিত করতে হবে। একই সাথে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থেকে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে পূর্ণত মুক্ত করে ফেলতে হবে। গবেষকেরা দেখিয়েছেন কিভাবে ১৯৭০ পরবর্তী সময়ে নয়া-উদারবাদী স্বাস্থ্যনীতি “have shifted resources from the public to the private sector, reduced benefits to recipients, and affected the lives of clients and workers alike.” (Mimi Abramovitz, Jennifer Zelnick, “Double Jeopardy: The Impact of Neoliberalism on Care Workers in the United States and South Africa”, International Journal of Health Services 2010, 40 (1): 97-117)

    সাম্প্রতিক সময়ের একটি প্রবন্ধে মন্তব্য করা হয়েছে যে আমেরিকা ইরাকে যুদ্ধের জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে প্রস্তুত, কিন্তু এইডস, যক্ষা এবং ম্যালেরিয়ার মোকাবিলার জন্য তৈরী Global Fund-এ মাত্র ১০০ মিলিয়ন ডলার দেয়। (John H Hall, Richard Taylor, “Health for all beyond 2000: the demise of of the Alma-Ata Declaration and primary health care in developing countries”, Medical Journal of Australia 178 (2003): 17-20) এর হাতে গরম উদাহরণ হচ্ছে করোনা অতিমারির এই ভয়ংকর সংকটের সময়েও টাইমস অব ইন্ডিয়া-র খবরের (14.04.2020) শিরোনাম – US approves sale of missile, torpedoes worth million $155 to India. “জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি”-র মতো ব্যাপার আর কি!

    প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় বিশযুদ্ধেরও আগের প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার মুখে ১৯১৭ সালে এক নতুন ধরনের দেশ তৈরি হল – রাজনৈতিক চরিত্রে, অর্থনৈতিক পরিচালনায়, সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গীতে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জগতে, নারীর মানুষ হিসেবে উন্মেষে, এবং, সর্বোপরি, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-জনস্বাস্থ্য-গণবন্টন ব্যবস্থায়। বিশ্বে এই নতুন জায়মান দেশের পরিচিতি ছিল সোভিয়েত সমাজতন্ত্র হিসেবে। কিন্তু আমাদের আলোচনায় শুধু এটুকু বুঝতে চাইবো – Another World is Possible. হ্যাঁ, অন্য এক পৃথিবীর স্বপ্নসম্ভব জীবনের মহাকাব্য রচনা হচ্ছিল মানুষের স্বপ্নে, বুদ্ধিজৈবিক সৃষ্টিতে। এসব ইতিহাস আমরা সবাই জানি – কেউ মানি, কেউ মানিনা। এরপরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে স্তালিনগ্রাদের যুদ্ধে হিটলারের চূড়ান্ত পরাজয় নিশ্চিত হবার পরে আমেরিকা-ইংল্যান্ড-ফ্রান্স-জাপানের অর্থনৈতিক মডেলের বাইরে, সাংস্কৃতিক চেতনার বাইরে যে আরেকভাবে পৃথিবীকে দেখা যায়, পৃথিবীতে বিচরণ করা সম্ভব সেটা মূর্ত হয়ে উঠলো। ১৯৪৯-এ আরেকটি বিশাল দেশ চিন একই ধরনের রাজনৈতিক পরিচালনা, একই ধরনের মতাদর্শগত বিশ্বাস নিয়ে মুক্ত হল। আরেকবার এক গভীর প্রত্যয় সমাজের উচ্চকোটি বুদ্ধিজীবী সমাজ থেকে মধ্যবিত্ত, গ্রামের চাষাভুসো মানুষ থেকে কারখানার মজুর সবার মাঝে উপ্ত হল, সামাজিক বাস্তব হল – Another World is Possible. অর্থাৎ, বিশ্ব তখন আজকের মতো একমেরু নয়। সেদিন পৃথিবীতে ছিল দ্বিমেরু বিশ্বের শক্তিময় উপস্থিতি। আর এর ফলে বিশ্বের দুর্বল দেশগুলোর দর কষাকষি করার ক্ষমতা বেশি ছিল।

    স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এর প্রতিফলন দেখা গেল - এক বড়ো সংখ্যক দেশে নীতি হিসেবে গৃহীত হল কমিউনিটি-কেন্দ্রিক বা horizontal programs। এর বিপরীতে ইন্সিউরেন্স কোম্পানি এবং কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে প্রয়োজন রোগ-কেন্দ্রিক বা vertical programs। করোনা অতিমারি আজ একমেরু বিশ্বে দানবীয় ফার্মা কোম্পানি এবং নিওলিবারাল পুঁজির বাহক রাষ্ট্রগুলোর সামনে নতুন করে রোগ-কেন্দ্রিক বা vertical programs-কে একমাত্র স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং প্রোগ্রাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং বাস্তবায়িত করার সুবর্ণ মুহূর্ত তৈরি করেছে। মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্য চুলোয় যাক। চাই আইসিইউ আর ভেন্টিলেটর। পরবর্তীতে এই হাই-টেক চিকিৎসার ধরন আরও বেশি জনগ্রাহ্যতা অর্জন করার সম্ভাবনা রইলো। স্বাস্থ্য-র সংজ্ঞা রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে (আরও বেশি করে যাবে) বহুমুল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবাতে। সাধারণ মানুষের কাছে দুটোই একরম মনে হবে – ম্যাকডোনাল্ড বা কেএফসি-র মতো।

    দ্বিমেরু বিশ্বে যে ধারণা জনমানসে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিলো একটা সময়ে তা হল আমেরিকা-ইংল্যান্ড-ফ্রান্স-জাপান এতদিন ধরে (প্রায় ২০০ বছর) সার্বজনীন শিক্ষা-স্বাস্থ্য-জনস্বাস্থ্য-কাজের অধিকার-খাদ্যের অধিকার-বাসস্থানের অধিকার নিয়ে যে পথে চলে এসেছে তার বিকল্প আরেকটা রাস্তা আছে। এ রাস্তায় কার্টেলের (কর্পোরেটদের পিতৃপুরুষ) বদলে সমবায়ের ভাবনা আছে। এ রাস্তায় ব্যক্তির লাভালাভ একমাত্র বিষয় না হয়ে সমাজ ও সমষ্টির প্রাধান্য আছে। রবীন্দ্রনাথের বলা (যদিও একুশ শতকের পৃথিবীতে তার কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক এবং মতদ্বৈধ প্রত্যাশিত) গ্রামসভার কথা, গ্রামের সমূহকে ব্যবহার করে গ্রামে পুকুর খোঁড়া, গ্রামকে পরিচ্ছন্ন রাখা, গ্রামের সিদ্ধান্ত প্রাথমিকভাবে গ্রামে নেওয়া (প্রসঙ্গত সমধর্মী ধারণা গান্ধীজিরও ছিলো) এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মানুষের বোধে জারিত হতে শুরু করেছিলো। অন্য একটা প্রসঙ্গও যারা ভাবনাচিন্তা করে তাদের চিন্তায় এল – জনস্বাস্থ্যের (পাবলিক হেলথ) এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের (ক্লিনিক্যাল হেলথ) মধ্যেকার সম্পর্ক কি হবে? কিভাবেই বা এ’দুয়ের মধ্যেকার পারস্পরিক সম্পর্ক ও টানাপোড়েন মেটানো হবে? স্থানীয় উদ্যোগকে কিভাবে সংগঠিত করা হবে? রাষ্ট্রের পরিকল্পনার সাথে একে সম্পর্কযুক্ত করা হবে কি পদ্ধতিতে? আমরা চিকিৎসক-চিকিৎসাকর্মী এবং চিকিৎসাপ্রার্থী সাধারণ মানুষ যদি রাষ্ট্রের শেখানো, কর্পোরেটদের বোঝানো আর পুঁজি-অনুগামী মিডিয়া উৎপাদিত তথ্যকেই (জ্ঞানও কি?) একমাত্র ও অভ্রান্ত বলে ধরে না নিই তাহলে আমাদের বড়ো প্রিয়, আমাদের একান্ত আশ্রয় এই পৃথিবীতে অন্য কি কি সম্ভাবনা খুলেছিল সেগুলো আমাদের আরেকবার বুঝে নেওয়া দরকার – Overton window-র বাইরে এসে।

    এ ব্যাপারে উন্নত পুঁজিবাদী তথা সাম্রাজ্যগর্বী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ড সবচেয়ে বেশি সমাজবদ্ধতা দেখিয়েছিল। আমেরিকান পরিভাষায় “সমাজতান্ত্রিক” কাঠামো চালু করেছিল। উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে এড্যুইন চ্যাডুইক, জন স্নো এবং সাহিত্যিক চার্লস ডিকেন্সের সক্রিয় অংশগ্রহণে ভিক্টোরীয় ইংল্যান্ডে পরিচ্ছন্ন পানীয় জলের সরবরাহ কলেরা প্রতিরোধ এবং সাধারণ জলবাহিত অসুখের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। এরপরের ইতিহাস এখন আমাদের বর্তমান আলোচনার জন্য খুব প্রয়োজনীয় নয়। শুধু এটুকু উল্লেখ করি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরেই ইংল্যান্ডে National Health Service (NHS) তৈরি হল। উল্লেখ করার মতো হল ১৯৪৮-এর জুন মাসে প্রতিটি বাড়িতে একটি লিফলেট বিলি করা হয়েছিল। তাতে লেখা ছিল – It will provide you with all medical, dental and nursing care. Everyone- rich and poor, man, woman or child – can use it or any part of it. There are no charges, except for a few special items. There are no insurance qualifications. But it is not a “charity”. You are all paying for it, mainly as tax payers, will relieve your money worries in time of illness.
     

    ২০২০-র করোনা-আক্রান্ত পৃথিবী
    ল্যান্সেটে (২৬ মার্চ, ২০২০) প্রকাশিত একটি রিপোর্টের শিরোনাম – “COVID-19 gives the lie to global health expertise”। সে রিপোর্টে খুব তীক্ষ্ণ ভাষায় বলা হয়েছে - The US and UK Governments have provided among the world’s worst responses to the pandemic, with sheer lies and incompetence from the former, and near-criminal delays and obfuscation from the latter. শুধু এটুকু নয়, বলা হয়েছে - Neither country has widespread testing available, as strongly recommended by WHO, alongside treatment and robust contact tracing. দুটি দেশের কোনটিতেই স্বাস্থ্যকর্মী এবং ডাক্তারদের জন্য যথেষ্ট সংখ্যক পিপিই (personal protective equipment) নেই। পৃথিবীর স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং ডাক্তারির ধরন হয়তো কোভিড-১৯ পরবর্তী পৃথিবীতে চিরকালের জন্য বদলে গেলো - Global health will never be the same after COVID-19—it cannot be.

    এতদিনে আমরা সবাই জেনে গেছি চারপাশে সূর্যের ছটার মতো প্রোটিনের গঠন থাকার জন্য এর নাম করোনাভাইরাস। খুবই সাদামাটা এর গঠন। একটি আরএনএ স্ট্রিং থাকে তার একটি জেনোমের দৈর্ঘ্য ৩০,০০০ “letters”-এর চেয়ে কম।

    এর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল ভাইরাসের শরীরের ওপরে এক বিশেষ চরিত্রের “স্পাইক প্রোটিন” থাকে। এই প্রোটিনের সাহায্যে মানুষের কোষের রিসেপ্টরের ওপরে ভালোভাবে গেঁথে গুছিয়ে বসতে পারে। এবং ভাইরাসটি এর নিজের ইচ্ছেমতো কোষের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে যার ফলে যে যে উপসর্গ মানুষের শরীরে দেখা যায় (জ্বর, শুকনো কাশি, গলা এবং শরীরে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি) সেগুলো তৈরি হয়। সেলুলার অ্যন্ড মলিক্যুলার ইমিউনোলজি জার্নালে প্রকাশিত (৩১.০৩.২০২০) “COVID-19: a new challenge for human beings” গবেষণাপত্র অনুযায়ী করোনাভাইরাস ৮০* সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কয়েকবছর স্টোর করে রাখা যায়। নিষ্ক্রিয় হয় ৫৬* সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। নেচার মেডিসিন পত্রিকায় (১৫.০৪.২০২০) প্রকাশিত “Temporal dynamics in viral shedding and transmissibility of COVID-19” গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে যে একজন রোগীর শরীরে সবচেয়ে বেশি “viral load” দেখা গেছে যখন উপসর্গ শুরু হয়। এ পর্যবেক্ষণ থেকে এদের অভিমত – infectiousness peaked on or before symptom onset। এও আরেক বিপত্তির কথা। উপসর্গ শুরু হবার আগে আক্রান্ত মানুষটি আরও অনেক মানুষকে সংক্রামিত করে ফেললো।
    আমেরিকার Proceedings of the National Academy of Sciences (৩০.০৩২০২০) “Phylogenetic network analysis of SARS-COV-2 genomes” শিরোনামে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। এতে ভাইরাসটির ১৬০টি জেনোম বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিডের অবস্থানের ভিন্নতার জন্য A, B এবং C টাইপে এদের ভাগ করা যায়। A এবং C টাইপ দেখা যাচ্ছে ইউরোপ এবং আমেরিকাতে। B টাইপ চিন এবং পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে দেখা যাচ্ছে। এর এপিডেমিওলজিকাল ফলাফল নির্ধারিত হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।


    (স্পাইক প্রোটিনের চেহারা)

    নেচার মেডিসিনের মতো গ্রাহ্য পত্রিকায় (১৭.০৩.২০২০) একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপ্রসূত চিঠি প্রকাশিত হয় “The proximal origin of SARS-CoV-2” শিরোনামে। সে চিঠিতে স্পষ্ট করে জানানো হয় - Our analyses clearly show that SARS-CoV-2 is not a laboratory construct or a purposefully manipulated virus. মূল কথা, এ ভাইরাসটি কোন ল্যাবরেটরিতে তৈরি হয়নি। তার কারণও নিহিত আছে স্পাইক প্রোটিনের বৈশিষ্ট্যের মাঝে। গবেষকদের বক্তব্য - the high-affinity binding of the SARS-CoV-2 spike protein to human ACE2 is most likely the result of natural selection on a human or human-like ACE2 that permits another optimal binding solution to arise. This is strong evidence that SARS-CoV-2 is not the product of purposeful manipulation. এর বাংলা করা প্রায় দুঃসাধ্য। সংক্ষেপে সহজভাবে বললে এটুকু বলা যায় স্পাইক প্রোটিন যে পদ্ধতিতে প্রবল আসক্তি নিয়ে কোষের রিসেপ্টরের সাথে লেগে যায় (ACE2 রিসেপ্টর যা আমাদের কিডনি, ফুসুফুস ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে থাকে, সেসব অঙ্গের কার্যকলাপকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং কিছু উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ এই রিসেপ্টরগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তৈরি করা হয়) তাতে দৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হয় এটা ভাইরাসের বিবর্তনের ফলে তৈরি হয়েছে। কোন জিন প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে নয়।

    ফলে মহাশক্তিধর ট্রাম্পের বলা “Chinese virus”-কে কেন্দ্র করে যেসব কন্সপিরেসি থিওরি বাজারে গুজব হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে এ ভাইরাস সেরকম কল্পবিজ্ঞানের মতো ল্যাবরেটরিতে তৈরি একেবারেই নয়। প্রাকৃতিক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া একটি অসীম শক্তিশালী, ক্ষতিকর ভাইরাস যে এখন প্রাণীদের শরীরের বদলে মানুষের শরীর পেয়ে গেছে নিজের অসম্ভব সব কাণ্ড ঘটানোর জন্য।

    শুধু নেচার পত্রিকা নয়, আমেরিকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথ (NIH)-এর Director’s Blog-এ (২৬.০৩২০২০) বলা হয়েছে – “Genomic Study Points to Natural Origin of COVID-19”। এদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী – এখনো অবধি আমাদের সাধ্যে থাকা কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের যে চেহারা ও চরিত্র পাওয়া গেছে তাতে “Researchers said this provides strong evidence that that new virus was not the product of purposeful manipulation in a lab.”

    প্রশ্ন হচ্ছে এতদিন বাদুড়ের দেহে বাস করা ভাইরাস (সম্ভবত মধ্যবর্তী আরেকটি প্রাণী প্যাঙ্গোলিনকে পেয়েছিল নিজের জিনের চরিত্র বদলের জন্য) মানুষের শরীরে এলো কি করে? এর কোন সরল, একরৈখিক, একমাত্রিক উত্তর নেই। এখানেই আমাদের ভাবতে হবে নিওলিবারাল অর্থনীতি, পুঁজির সর্বময় অস্তিত্ব এবং কর্পোরেট পুঁজির প্রয়োজনে কিভাবে বছরের পর বছর ধরে প্রাকৃতিক অঞ্চলগুলো মুনাফার লীলাক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এবং তার ফলে বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিক ভারসাম্য ভেঙ্গেচুড়ে গেছে, প্রকৃতির নিজস্ব বাসিন্দারা মানুষের দেহে এদের নতুন বাসস্থান খুঁজে নিয়েছে। আমরা নিত্য নতুন মারণ রোগে আক্রান্ত হচ্ছি।

    বাস্তবক্ষেত্রে এমনটা হবার কথা ছিলনা। ২০০২-৩-এ সার্স-কোভ-১-এর অতিমারির পরে ২০০৯ সালে Predict Project বলে একটি প্রোজেক্ট তৈরি করা হয় প্রাণী জগৎ থেকে কি পরিমাণ নতুন ভাইরাস মানুষের দেহে এবং বসবাসের অঞ্চলে প্রবেশ করছে সেটা দেখার জন্য। মানুষ-প্রকৃতি-জীব জগৎ এই স্বাভাবিক ভারসাম্য অপূরণীয়ভাবে ভেঙ্গে যাবার ফলাফল হচ্ছে এই ভাইরাসদের মনুষ্য জগতে প্রবেশ। কিন্তু লস এঞ্জেলস টাইমস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী (২.০৪.২০২০) এই প্রোজেক্ট ট্রাম্প প্রশাসন বন্ধ করে দেয় – Trump administration ended pandemic early-warning programs to detect coronaviruses। য়ুহানে করোনার ভয়াবহতা শুরু হবার মুখে “the Trump administration ended a $200-million pandemic early-warning program aimed at training scientists in China and other countries to detect and respond to such a threat.” বন্ধ করে দেবার আগে USAID-এর সাহায্যপুষ্ট এই প্রোগ্রাম ১,২০০ বিভিন্ন ভাইরাসকে চিহ্নিত করে যার মধ্যে ১৬০টি নোভেল করোনাভাইরাস ছিল। য়ুহান সহ পৃথিবীর ৬০টি ল্যাবরেটরিতে বিজ্ঞানী এবং টেকনিশিয়ানদের ট্রেইনিং দেওয়াও শুরু করেছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন “শিব ঠাকুরের আপন দেশে / আইন কানুন সর্বনেশে”-র মতো কলমের এক আঁচড়ে এরকম একটি মূল্যবান প্রোজেক্ট বন্ধ করে দিল। বিজ্ঞানের ক্ষতি হল, ক্ষতি হল মানুষের।

    ২০১৪ সালে কয়েকজন গবেষক EcoHealth জার্নালে (২৩.০৫.২০১৪) এক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছিলেন “Anthropogenic Land Use Change and Infectious Diseases: A Review of the Evidence” শিরোনামে। এখানে দেখানো হয়েছে – “Land use change has the potential to impact disease dynamics directly and indirectly by changing the abundance, demography, behavior, movement, immune response, and contact between host species and vectors, as well as altering host community composition.”

    জমির ব্যবহারে পরিবর্তন (ল্যান্ড ইউজ চেঞ্জ) কারা করলো? কি উদ্দেশ্যে? যে উদ্দেশ্যে (খনিজ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের সম্পদের জন্য) ব্রাজিলের রেন ফরেস্টের ২৫% পুড়িয়ে দেওয়া হয় সে উদ্দেশ্যে। প্রকৃতির উপরে প্রভুত্ব এবং পুঁজির প্রয়োজনে যথেচ্ছ ব্যবহারের বিষময় ফল আমরা ভোগ করছি।

    করোনার চিকিৎসা
    কি আছে আমাদের হাতে? ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা (যেমন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা), মুখে মাস্ক ব্যবহার করা, পারস্পরিক দূরত্ব রক্ষা করে চলা এবং হাঁচি-কাশির “এটিকেট” রক্ষা করা। এর মধ্যে ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট কাপড়ের তৈরি ফেস মাস্ক ব্যবহার করতে নিরুৎসাহিত করছে। জার্নাল অব আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-এ “Pharmacologic Treatments for Coronavirus Disease 2019 (COVID-19) - A Review” (১৩.০৪.২০২০) গবেষণাপত্রে বলা হচ্ছে – “Currently, there is no evidence from randomized clinical trials (RCTs) that any potential therapy improves outcomes in patients with either suspected or confirmed COVID-19. There are no clinical trial data supporting any prophylactic therapy. More than 300 active clinical treatment trials are underway.”

    ২০ মার্চ, ২০২০-র নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টের শিরোনাম – Covert coronavirus infections could be seeding new outbreaks। একজন আপাত-উপসর্গহীন মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে অথচ এই বিপজ্জনক ভাইরাস তার শরীর দিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে সমাজে। নেচার-এর মন্তব্য - As coronavirus outbreaks surge worldwide, research teams are racing to understand a crucial epidemiological puzzle — what proportion of infected people have mild or no symptoms and might be passing the virus on to others. Some of the first detailed estimates of these covert cases suggest that they could represent some 60% of all infections. অর্থাৎ, প্রাথমিক যে হিসেব পাওয়া যাচ্ছে তাতে অনুমান করা যায় জনসমাজের ৬০% সংক্রমণ এভাবে ঘটতে পারে। জাপানের এক জাহাজ থেকে উদ্ধার করা টেস্ট-পজিটিভ ১৩ জনের মধ্যে ৪ জনের অর্থাৎ ৩১%-এর কোন উপসর্গ ছিলনা। ভারতে ICMR-এর হিসেব অনুসারে উপসর্গহীন আক্রান্তের সংখ্যা ৮০% পর্যন্ত হতে পারে।

    ভাইরাসের প্রজনন সংখ্যা (রিপ্রোডাকশন নাম্বার) দিয়ে এর গতিপ্রকৃতি এবং সংক্রামিত করার ক্ষমতা মাপা হয়। একে বলা হয় R0 – যা দিয়ে বোঝা যায় একজন সংক্রমিত মানুষ ক’জনের মাঝে এই ভাইরাসকে পৌঁছে দিতে পারে। সংক্রমণের সময় সাধারণভাবে এ সংখ্যা ২-২.৫। চিনের য়ুহানে একসময়ে এটা ৪ অব্দি পৌঁছেছিল। এখন এ সংখ্যা ০.৩২-এ এসে পৌঁছেছে। এপিডেমিওলোজির ভাষায় সংখ্যাটি ১-এর নীচে গেলে সংক্রমণমুক্ত বলা যেতে পারে।

    এখনো অবধি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কোন ধাপেই কোন নির্দিষ্ট চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয়নি। অতি মারাত্মক ক্ষেত্রে কিছু ক্ষেত্রে শোনা যাচ্ছে সার্স, এইচআইভি-তে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ভাইরাল ড্রাগ এবং ক্লোরোকুইন বা ক্লোরামফেনিকলের মতো অ্যান্টিবায়োটিকের সম্মিলিত প্রয়োগ ফল দিচ্ছে। অসহায় মানুষ অনেকসময় গোমূত্র পানেও উৎসাহ দেখাতে পারে বৈকি! আমাদের এখানেই দেখেছি যে।

    কিন্তু এটাই শেষ কথা নয়। NEJM-এ “Compassionate Use of Remdesivir for Patients with Severe Covid-19” ট্রায়ালে দেখা গেছে “for severe Covid-19 who were treated with compassionate-use remdesivir, clinical improvement was observed in 36 of 53 patients (68%).” এরকম চরম সংকটের মুখে এরকম এক ওষুধের সন্ধান পাওয়া খুব আশাব্যঞ্জক বৈকি। এছাড়া সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের রক্তের একটা অংশ প্লাজমা দিয়ে চিকিৎসার ট্রায়াল শুরু হয়েছে পৃথিবী জুড়ে। কিছু সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। ভারতেও ICMR এ ট্রায়াল শুরু করার মুখে। MedicalXpress-এ প্রকাশিত (১৮.০৪.২০২০) রিপোর্ট অনুযায়ী ভাইরাস সংক্রমণের চূড়ান্ত অবস্থায় cytokine storm বলে একটি অবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে শরীরের ইমিউন সিস্টেম পূর্ণত এলোপাথারি আচরণ করতে শুরু করে এবং রোগীর মৃত্যু হয়। এক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এক ধরনের বিশেষ প্রোটিন তৈরির চেষ্টা করছেন যেগুলি সাইটোকাইনের সাথে জোড় বেঁধে cytokine storm হওয়া আটকে দেবে। এটাও আরেকটা আশার কথা। এছাড়াও আরও অনেকধরনের ওষুধ নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে “antiviral medication lopinavir–ritonavir, interferon-1β, the RNA polymerase inhibitor remdesivir, chloroquine, and a variety of traditional Chinese medicine products.”

    কিন্তু বিপরীত চিত্রও আছে। এবং দুশ্চিন্তার – রোগীদের জন্য, বিজ্ঞানীদের জন্য। NEJM-এ (১৪.০৪.২০২০) প্রকাশিত “Drug Evaluation during the Covid-19 Pandemic” প্রবন্ধে বলা হল যে “President Donald Trump quickly began celebrating the promise of their widespread use, stating on national television that he had a “hunch” that such therapy was effective and that the drugs could be a “game changer” in addressing the pandemic.” শুধু তাই নয় ট্রাম্প প্রকাশ্যে রোগীদের উৎসাহিত করলেন এ ওষুধ ব্যবহারের জন্য।

    করোনা আমাদের সচকিত করে এ কঠোর সত্যের সামনেও দাঁড় করিয়ে দিল – তথাকথিত গণতান্ত্রিক এবং এক-পার্টি ব্যবস্থার দেশের মধ্যে সত্যিই কি কার্যত কোন ফারাক আছে? ধরে নিচ্ছি চিন করোনার তথ্য গোপন করেছে। স্পষ্টতই আমি য়ুহান ভাইরাসের মতো অবান্তর বিষয় নিয়ে কিছু বলছিনা। নেচার মেডিসিনের মতো পত্রিকায় প্রকাশিত “The proximal origin of SARS-CoV-2” প্রবন্ধটি দেখে নিতে অনুরোধ করছি। আরেকদিকে পৃথিবীর “গণতান্ত্রিক” বড়দা আমেরিকার অধীশ্বর ট্রাম্প সাহেব ১৯ মার্চ ঘোষণা করে দিলেন হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন হল “game changer’ – খেলা ঘুরিয়ে দেবার মতো ওষুধ। কি সব্বোনাশ! পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন Anthony Fauci-র মতো আন্তর্জাতিকভাবে মান্য চিকিৎসক – যিনি নিউ ইংল্যান্ড জার্নালে আমন্ত্রিত সম্পাদকীয় লেখেন, হ্যারিসনের টেক্সট বুকের অন্যতম সম্পাদক এবং ৪০ বছরের বেশি সংক্রামক ব্যাধি নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। তাঁকে সর্বসমক্ষে দম্ভভরে স্রেফ চুপ করিয়ে দিলেন। কোন কথাই ফসি বলতে পারলেন না। এমনটাতো হিটলারের বা অন্য কোন একনায়কের আমলে হয়ে থাকে। ভারতেও বোধহয় একথা ভাবা যায়না।

    ট্রাম্পের হঠাৎ করে এরকম হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন প্রীতির কারণ কী? জার্মানির চ্যান্সেলর মার্কল একজন ট্রেইনড বিজ্ঞানী। ট্রাম্প একজন অতি বিত্তশালী ধুরন্ধর ব্যবসায়ী। তিনি ওষুধ নিয়ে এত জানলেন কি করে? ২১ মার্চ টুইট অব্দি করে ফেললেন - HYDROXYCHLOROQUINE & AZITHROMYCIN, taken together, have a real chance to be one of the biggest game changers in the history of medicine. The FDA has moved mountains - Thank You! Hopefully they will BOTH (H works better with A, International Journal of Antimicrobial Agents)। এর পেছনে কাজ করছে অতি সরল বাণিজ্যিক লাভের প্রশ্ন। এবং ট্রাম্পের টুইটের পরে আমেরিকার স্বশাসিত মান্য সংস্থা এফডিএ ব্যতিক্রমীভাবে Emergency Use Authorization (EUA) এ ওষুধগুলোর সীমাবদ্ধ ব্যবহারকে অনুমোদন দিল। আমেরিকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথ ট্রায়াল শুরু করে দিল। এগুলোকে ঠিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতি বলা যাবে কি? নাকি একটি একদলীয় শাসনের আরেকটি রকমফের?

    পূর্বোল্লেখিত Drug Evaluation during the Covid-19 Pandemic প্রবন্ধে মন্তব্য করা হচ্ছে – “distributing unproven drugs under expanded access or EUAs may detract from the resources needed to carry out clinical trials, including the patient base and necessary funds.” কোভিড-১৯-এ ব্যবহারের জন্য অন্তত ২৫টি ওষুধের ট্রায়াল চলছে, এর মধ্যে ১০টির সক্রিয় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে।

    এসমস্তকিছুকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে EUA দিয়ে যদি অপ্রমাণিত ওষুধ এবং পরীক্ষাপদ্ধতি বাজারে আসে সেটা বিজ্ঞান এবং রোগী কারও জন্যই সুখকর নয়। মানুষের শ্রদ্ধা হারাবে বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান। জয় হবে science-politics-state-industry complex-এর।

    Vox News-এর সংবাদ অনুযায়ী (৭.০৪.২০২০) – “the report of Trumpworld’s connections to the pharmaceutical industry caused many to believe something more sinister was afoot — namely, that Trump hoped to use the coronavirus pandemic to enrich himself and his allies.” Mylan ট্রাম্পের স্নেহধন্য একটি কোম্পানি হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন বিক্রি থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলার লাভের আশা দেখছে।

    নিউ ইয়র্কার পত্রিকায় (২০.০৪.২০২০) ট্রাম্প সম্পর্কে মন্তব্য করা হচ্ছে – “In an election year, he was watching the stock market collapse, unemployment spike, and the national mood devolve into collective anxiety.” একইসাথে আমেরিকায় জাতি বৈরিতা, বিশেষ করে এশিয়ান এবং আফ্রো-আমেরিকানদের ক্ষেত্রে, বেড়ে চলেছে। নেচার পত্রিকায় (৭.০৪.২০২০) সম্পাদকীয় লেখা হচ্ছে – Stop the coronavirus stigma now। বলা হচ্ছে - It’s clear that since the outbreak was first reported, people of Asian descent around the world have been subjected to racist attacks, with untold human costs — for example, on their health and livelihoods ... more than 700,000 Many have returned home while their institutions are closed owing to lockdowns, and many might not return.

    করোনা ভ্যাক্সিন এবং তারপর
    মোট ৪টি কোম্পানি করোনা ভ্যাক্সিন তৈরির দৌড়ে প্রথম সারিতে রয়েছে। দুটি আমেরিকান (তার মধ্যে মডার্না কোম্পানি ফেজ-১ হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করে দিয়েছে), একটি চিনের এবং আরেকটি ইংল্যান্ডের কোম্পানি। যে নতুন পদ্ধতিতে “প্যানডেমিক”-এর মতো দ্রুত গতিতে ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে তাকে বলা হচ্ছে মাইক্রোনিডল অ্যারে (microneedle array – MRA) পদ্ধতি। সহজ করে বললে একজন মানুষের আঙ্গুলের ডগায় একটি প্যাচ (ছোট ব্যান্ডএইডের টুকরোর সাথে তুলনীয়) লাগিয়ে দেওয়া হবে। এতে ৪০০টি ছোট ছোট স্পাইক প্রোটিনের নিডল বা সূঁচ থাকবে। এই সূঁচগুলো ত্বকের উপরিস্তরে দ্রবীভূত হবে – কারণ আমাদের চামড়ায় ইমিউন রিঅ্যাকশন সবচাইতে শক্তিশালী। এই সূঁচগুলো সবকটাই শুগার এবং প্রোটিন দিয়ে তৈরি। ফলে সহজেই ত্বকে দ্রবীভূত হয়ে যায়। নীচের ছবিটি দেখুন।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল একবার তৈরি হলে “MNA-embedded vaccines have the potential to remain stable for an extended period of time without expensive “cold chain” requirements” অর্থাৎ “কোল্ড চেইন” রক্ষা করার কোন প্রয়োজন নেই, ঘরের তাপমাত্রায় থাকতে পারবে। এবং, দ্বিতীয়, “previous animal and clinical studies suggest that MNAs could provide a safe and well-tolerated delivery platform for efficacious immunization strategies”। আশ্চর্য লাগতে পারে শুনতে যে এই পদ্ধতিতে তৈরি ভ্যাক্সিন গামা রশ্মি দিয়ে স্টেরিলাইজ করা হলেও এর শক্তিহ্রাস ঘটেনা।

    কিন্তু সবচেয়ে অনুধাবনযোগ্য কথাটি বোধহয় বলেছেন লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গ্লোবাল ডিজিজেস-এর অধ্যাপক ডেভিড নাবারো। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী মানবজাতিকে করোনাভাইরাসের আতঙ্ককে নিয়ে বাঁচতে শিখতে হবে। এই রোগ বা এরকম কোন রোগ পৃথিবীতে বারেবারে আসতেই থাকবে। আমাদের আলোচনার শুরুতে আমরা এ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছি। গার্ডিয়ান পত্রিকা (১৮.০৪-২০২০) একটি সংবাদের শিরোনাম করেছে – Don’t bet on vaccine to protect us from from Covid-19, says world health expert।

    ভ্যাক্সিন বাজারে আসা মানেই (যদিও আরও অন্তত ১২-১৮ মাস লাগবে) আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ এসে যাওয়া নয়। ভ্যাক্সিনের দাম কত হবে আমরা জানিনা। তবে এটা জানি জার্মানির ভ্যাক্সিন প্রস্তুতকারক বায়োটেক কোম্পানি CureVac-কে ট্রাম্প ১ বিলিয়ন ডলার দিতে চেয়েছিল তাদের তৈরি ভ্যাক্সিন কিনে শুধুমাত্র আমেরিকায় ব্যবহার করবে বলে – America Firstism-এর আরেক প্রকাশ। জার্মান সরকার সপাটে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

    ভাইরাসকে নিয়ে সহবাস করা মানবজাতিকে শিখে নিতে হবে। কোথাও herd immunity তথা গোষ্ঠী ইমিউনিটি তৈরি হবে, কোথাও হবেনা। এমনটাই স্বাভাবিক। হাতে গোণা কয়েকজন কর্পোরেটের এবং কয়েকটি দেশের লাভের, লোভের খিদে মেটাতে গিয়ে শিকার হচ্ছে সমগ্র মানবজাতি।

    NEJM-এ (২.০৪.২০২০) প্রকাশিত “Escaping Pandora’s Box – Another Novel Coronavirus”-এ মন্তব্য করা হয়েছে - We have reached this point because of continuing increases in the human population, crowding, human movement, environmental alteration, and ecosystemic complexity related to human activities and creations.
    প্যান্ডোরার বাক্সে (হেসিওডের ভার্সন) প্যান্ডোরা তার আশার আরেকবার পালিয়ে যাওয়াকে শেষ অবধি আটকে দিতে পেরেছিল। তখন বাক্সের মধ্যে “কেবলমাত্র আশা পড়েছিল। বাক্সের ঢাকনার নীচে সে পড়ে রইলো, এবং আর উড়ে যেতে পারলোনা।”

    এই আশায় বুক বেঁধে এরকম আর্ত সংকট মুহূর্তে আমাদের বেঁচে থাকা!

     

  • বিভাগ : আলোচনা | ২২ এপ্রিল ২০২০ | ৩১২৩ বার পঠিত | | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
    Share
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • ফলস কিট সার্কাস | 162.158.165.173 | ২২ এপ্রিল ২০২০ ০৮:০০92601
  • এসব নিয়েও লিখুন জয়ন্তবাবু?
    আমেরিকার রিসার্চ কি এখন ভরসার অযোগ্য ? ট্রাম্প আমলে কি বাজেট কাট হয়েছিল? নাকি এসব টাকা পয়সা মারার নতুন কল? একের পর এক ফল্টি কিট। চায়নার সাপ্লাই করা কিট ইউ কেও দেখল ফল্টি, কিন্তু তারা অন্তত নিজেরা টেস্ট করে দেখে নিয়েছে আগে।

    FDA র আপ্রুভাল পাওয়া আন্টিবডি কিট কাজ করেনা ( সে চাইনিজ কিট হলেও আপ্রুভাল পায় কিকরে আর ইন্ডিয়ার ও শিক্ষা হওয়া উচিত, FDA র আপ্রুভাল দেখে নিজেরা পরীক্ষাই করল না!),

    "The ICMR-NICED authorities said it could be possible because the kits have not been standardised and it is
    considering the matter “very seriously”. These materials (kits) had the approval of the US Food and Drug Administration, but it was learnt that these kits show error results when kept above 20 degrees Celsius."

    https://www.financialexpress.com/lifestyle/health/icmr-niced-withdraws-defective-covid-19-test-kits-from-west-bengal-labs/1935213/

    নিজেদের ফাস্ট PCR abbott এত ফলস নেগেটিভ রেজাল্ট দেয়।
    The fastest test being used to diagnose people infected with the coronavirus appears to be the least accurate test now in common use, according to new research obtained by NPR.

    Researchers at the Cleveland Clinic tested 239 specimens known to contain the coronavirus using five of the most commonly used coronavirus tests, including the Abbott ID NOW. The ID NOW has generated widespread excitement because it can produce results in less than 15 minutes.

    But the ID NOW only detected the virus in 85.2% of the samples, meaning it had a false-negative rate of 14.8 percent, according to Dr. Gary Procop, who heads COVID-19 testing at the Cleveland Clinic and led the study.

    https://www.npr.org/sections/health-shots/2020/04/21/838794281/study-raises-questions-about-false-negatives-from-quick-covid-19-test

    নিজেদের প্রথম টেস্ট কিট বানাতে দুই মাস ধরে ন্যাজে গোবরে হয়ে গাদা গাদা ভুল কিট বানিয়ে শুরুর দিকের টেস্টিং প্রায় হতেই দেয়নি, এতবড় ডিজাস্টার। ট্রাম্প আডমিনিস্ট্রেশন তো সুগ্রীব দোসর।
    এখানে পড়ে দেখুন, বিস্তারিত আছে, প্রথম দিন থেকে কী হয়েছে। লজ্জাজনক বললেও তো কম। অনেকটাই প্রিভেন্টেবল ছিল।
    https://www.nytimes.com/2020/03/28/us/testing-coronavirus-pandemic.html
  • হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন | 172.69.134.182 | ২২ এপ্রিল ২০২০ ০৮:২৪92603
  • এই প্রিরিভিয় পেপার রিভিউয়ের ছাড়পত্র পেলে জানাবেন জয়ন্তবাবু।
    Coronavirus patients taking hydroxychloroquine, a treatment touted by President Trump, were no less likely to need mechanical ventilation and had higher deaths rates compared to those who did not take the drug, according to a study of hundreds of patients at US Veterans Health Administration medical centers.

    The study, which reviewed veterans' medical charts, was posted Tuesday on medrxiv.org, a pre-print server, meaning it was not peer reviewed or published in a medical journal. The research was funded by the National Institutes of Health and the University of Virginia.

    আপনি অনেক তথ্য দিয়েছেন, বিশ্লেষণ করেছেন, ধন্যবাদ।
    কিন্তু ধারাভিতে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন মাস আডমিনিস্ট্রেশনের মত খবর নিয়ে লিখলেন না?

    https://m.economictimes.com/industry/healthcare/biotech/healthcare/trump-backed-drug-to-be-tested-on-thousands-in-mumbai-slums/articleshow/75215947.cms

    https://www.telegraph.co.uk/global-health/science-and-disease/using-poor-guinea-pigs-mumbai-test-controversial-coronavirus/amp/

    ইন্ডিয়ার এই ওষুধ নিয়ে গাইডলাইন নিয়েও এত প্রশ্ন উঠেছে, সেসব নিয়ে পড়তে পাব ভেবেছিলাম
    https://science.thewire.in/health/covid-19-hydroxychloroquine-policy-raman-gangakhedkar-icmr-observational-study/

    আরো প্রশ্ন হল, এই ড্রাগ নিয়ে এত ছাড়পত্র দিয়ে ট্রাম্পে কী লাভ হল?
  • জয়ন্ত ভট্টাচার্য | 162.158.107.220 | ২২ এপ্রিল ২০২০ ০৯:৪৪92604
  • আপনাদের ধন্যবাদ!  ভেবে পড়ে মতামত দিয়েছেন। কিন্তু একটা লেখায় কি সব তথ্য ধরা সম্ভব? ভবিষ্যতের লেখায় মাথায় রাখবো অবশ্যই। 

  • কলম | 162.158.158.220 | ২২ এপ্রিল ২০২০ ১৭:১৫92615
  • mRNA ভ্যাকসিন এর ক্লিনিকাল টেস্ট জার্মানি শুরু করলো 
    ---------------------------------------------------------------------
    Germany বায়োটেক কোম্পানি Paul-Ehrlich-Institut করোনার বিরুদ্ধে mRNA ভ্যাকসিন এর ক্লিনিকাল টেস্ট করার ২২.০৪.২০২০ অনুমতি পেলো!প্রথম দফায় ১৮-৫৫ বছর বয়সী ২০০ জনের উপর, তার পরের স্টেপে ৫০০ জনের উপর পরীক্ষা করে দেখবে, কোন ডোজে কেনোম এন্টিবডি সৃষ্টি হয়!  এ বছরের জুনের মধ্যে রিপোর্ট আশা করছে!৩-৫ মাসের মধ্যে এরা সব ধরণের পরীক্ষা শেষ করে সাধারণ মানুষের জন্য প্রোডাকশন করতে চাইছে! ভ্যাকসিন অনেক পদ্ধতিতে তৈরী হয়!

  • | 162.158.166.124 | ২৭ এপ্রিল ২০২০ ০৭:৫০92732
  • কিছুটা হলেও মূখ' দশা ঘুচলো।

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত