• বুলবুলভাজা  আলোচনা  স্বাস্থ্য

  • মৃত্যুর মূল্য, কোভিড-১৯ - ভিন্নতর পথের সন্ধান

    ডঃ জয়ন্ত ভট্টাচার্য
    আলোচনা | স্বাস্থ্য | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১৬৫৮ বার পঠিত
  • ৫/৫ ( ১ জন)
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • সপ্তাহ দু’য়েক আগে কলকাতা শহরে এক করোনা রোগীর চিকিৎসার বিল হয়েছিল প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। সুমনের সাথে ঘন্টাখানেক থেকে টানা ক’দিন ধরে আমরা মজে ছিলাম, বুঁদ হয়েছিলাম এরকম অমানুষিক ঘটনায়। পুণে থেকে প্রকাশিত পুকার সংবাদপত্রে ২৬.০৭.২০২০-তে খবর হয়েছে – “After Audit COVID Treatment Bills Reduced by Rs 50 Lakh in Pune and Pimpiri Chinchwad”। ওখানকার ঘটনা কলকাতার চেয়ে আরও “মনোগ্রাহী”। সংবাদপত্রটির রিপোর্ট অনুযায়ী ৬৫টি পেমেন্টের ক্ষেত্রে রোগীদের ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা দিতে হয়েছিল। অডিট করার পরে ৩৮ লাখ টাকা কমে যায়। আরেকটি ক্ষেত্রে ৩১টি ক্ষেত্রে ৫১ লাখ ৮৪ হাজার টাকার থেকে অডিটের পরে ১২ লাখ ৬ হাজার টাকা কম দিতে হয়। দুটো মিলে ৫০ লাখ টাকা। ব্যাঙ্গালোরের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় জানা যায় ৭ দিন হাসপাতালে থাকার বিল হয়েছিল ৯৩ লাখ টাকা। বিদেশে, একমাত্র আমেরিকা ছাড়া, ইউরোপের দেশগুলোতে এরকম বিলের কথা ভাবা যায়না। নিউজিল্যান্ড সহ অধিকাংশ দেশেই স্বাস্থ্যব্যবস্থা সরকারের পরিচালনায়। ফলে এ্ররকম ঘটনা ঘটেনা বললেই চলে। পুণেতে তাও সরকারি একটা অডিট হয়েছে, বিলের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। পশ্চিমবঙ্গে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর’স ফোরামের মতো সংগঠনের তরফে বারংবার চিঠি দেওয়া এবং হস্তক্ষেপের পরেও অবস্থার খুব কিছু ইতরবিশেষ হয়নি।

    প্রসঙ্গত মনে রাখতে হবে, এরকম খবরের পরেও মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ এবং ক্রোধ থাকা সত্ত্বেও মানুষ আবার এই প্রতিষ্ঠানগুলোরই দ্বারস্থ হবে। ঘটিবাটি খুইয়ে একটি প্রাণ বাঁচানোর জন্য সর্বস্ব ঢেলে দেবে। এরপরে রোগীর মৃত্যু হলে চোখের সামনে যে নরম টার্গেট ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীদের পাওয়া যাবে তাদেরকে পেটাবে। এ এক অদ্ভুত সোশ্যাল সাইকি। মিডিয়া, কর্পোরেট বিজ্ঞাপন এবং লোকশ্রুতির গুণে কর্পোরেট হাসপাতাল যে সেরা এটা গণমানসিকতায় দৃঢ়প্রোথিত। আবার উল্টোদিকে ক্রমাগত সরকারী স্বাস্থ্যব্যবস্থা, এবং বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা আজ প্রান্তে বিলীন হবার মতো অবস্থায়। কেবল একটি কাঠামো, কিছু স্টাফ এবং কিছু রুটিন প্রোগ্রাম পড়ে রয়েছে। কোভিডের আক্রমণে আজ সেগুলোও বিধ্বস্ত। মানুষ যাবে কোথায়? প্রায় অবধারিত যাত্রা কর্পোরেট হাসপাতালে, লক্ষ লক্ষ টাকার বিল হবার পরে কয়েকদিন প্রবল হুল্লোড় হবে, কদিন বাদে থিতিয়ে যাবে। আমাদের রাষ্ট্রিক ব্যবস্থা এবং কয়েক দশক ধরে নির্মিত সামাজিক ব্যবস্থা সবকিছুকে হজম করে নেবে। আমরা আবার স্থিতাবস্থায় ফিরে যাবো।

    কিন্তু কেন এরকম হয়? ঐতিহাসিকভাবে এরকম এক পরিস্থিতির উদ্ভব হল কিভাবে? আমরা ঘটনা ও ইতিহাসের সে অংশ খুঁজে দেখার একটা চেষ্টা করি।

    ল্যান্সেট জার্নালে (১৪.০৭.২০২০) একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় “COVID-19 outbreak and decreased hospitalization of pregnant women in labour” শিরোনামে। সেখানে পরিসংখ্যান দিয়ে দেখানো হয়েছে ভারতে ১৯৯৫ থেকে ২০১৫-১৭ সালের মধ্যে মায়েদের প্রসবকালীন মৃত্যুহার ৭৮% হ্রাস পেয়েছে। ১৯৯৫ সালে যে সংখ্যা ছিল প্রতি ১০০,০০০ জীবিত শিশু্র ক্ষেত্রে ৫৫৬ জন মায়ের মৃত্যু, ২০১৫-১৭ সালে সে সংখ্যা কমে দাঁড়ায় প্রতি ১০০,০০০ জীবিত শিশুর ক্ষেত্রে ১২২ জন। এর প্রধান কারণ তিনটি – (১) বাড়িতে প্রসব না হয়ে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসব হওয়া। এর ফলে প্রসবকালীন যে জটিলতা তৈরি হতে পারে সেগুলো সামাল দেবার জন্য প্রশিক্ষিত চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী আছে। (২) বাড়ি থেকে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাবার জন্য সুগম যোগাযোগের ব্যবস্থা, এবং (৩) প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্রিয় উপস্থিতি। কারণ প্রসবকালীন মৃত্যু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রামীণ এলাকায় ঘটে এবং সেখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী থাকলে এরকম মৃত্যুকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এড়ানো যায়।

    ল্যান্সেট-এর আরেকটি প্রতিবেদন (৫.০৫.২০২০) “Has COVID-19 subverted global health?”-এ বলা হয়েছে করোনা অতিমারির ক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ (যেমন দীর্ঘকালীন কড়া লকডাউন) সমগ্র বিশ্বে নেওয়া হয়েছে সেগুলো মূলত পশ্চিমী দেশগুলোকে অনুসরণ করে – “one-size-fits-all message (সবার জন্য একই মাপ কাজ করবে এরকম একটি বার্তা)। আরেকটি অনুধাবনযোগ্য বিষয় আছে এ প্রবন্ধে – মে মাসের প্রথম দিকে সমগ্র পৃথিবীর কোভিড-১৯ কেসের ৯০% মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে সবচেয়ে ধনী দেশগুলো থেকে। অথচ ঐতিহাসিকভাবে এই ধনী দেশগুলো পৃথিবীর বাকী দেশগুলোকে পৃথিবীর সমস্ত মহামারি ও রোগের আধার (reservoir of pestilence and disease) মনে করতো। শুধু তাই নয়, কিভাবে এদের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে থাকা যায় সে ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকতো। বাকী দেশগুলো এ দেশগুলোর এবং সাহায্যকারী সংস্থাদের কাছ থেকে উদারহস্তে উপদেশ  আর যৎসামান্য সাহায্য পেতো। এই যে পূবের দেশগুলোকে “reservoir of pestilence and disease” বলে ঠাওরানো এর একটি প্রতিনিধিস্থানীয় ছড়া প্রকাশিত হয়েছিল সেসময়ের বেঙ্গল গেজেট-এ (১২.০৮.১৭৮০)। ছড়ায় রসিয়ে বলা হয়েছিল –

    Where insects settle on your meat,
    where scorpions crawl beneath your fee,
    and deadly snakes infest;
    mosquitos’ (sick) ceaseless teasing sound
    and jackals’ direful howl confound
    destroy your balmy rest

    এগুলো ততো গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা অনেক পথ পেরিয়ে এসেছি। কিন্তু চিন্তার একটা লিগেসি বা পারম্পরিকতা তো থাকেই। আমরা এই অতিমারির সময়ে দেখেছি কিভাবে “অপর” তথা “other”-এর নির্মাণ চলছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকা-য় (২৩ এপ্রিল, ২০২০) তুরস্কের নোবেলজয়ী সাহিত্যিক ওরহান পামুক একটি বিশেষ প্রবন্ধ লিখেছিলেন – “What the Great Pandemic Novels Teach Us”। শিক্ষাগুলোর মধ্যে একটি ছিল যে কোন সংকটের সময়েই মানুষ, বিশেষ করে রাষ্ট্র, একটি অপর বা other খোঁজে। নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল-এর অন্য একটি প্রবন্ধে (“History in a Crisis — Lessons for Covid-19” – ৩০.0৪.২০২০) মন্তব্য করা হয়েছে – “মহামারি নিয়ে প্রতিক্রিয়ার একটি নাটকীয় উপাদান হল অন্য কারো ঘাড়ে দায় ঠেলে দেওয়া। মধ্যযুগের ইউরোপে এটা ইহুদিদের দিয়ে শুরু হয়েছিল আর এখন হল চিনারা যারা বিভিন্ন ধরনের মাংস খায় তারা (এর সহজ অর্থ অর্থ চিনারা), কাউকে একটা সবসময়েই দোষারোপ করতে হবে। দোষারোপের এই ডিসকোর্সটি সমাজে বিদ্যমান ধর্মীয়, জাতিগত, আদি জন্মগত (ethnicity), শ্রেণীগত অথবা লিঙ্গ বৈষম্যগত সামাজিক বিভাজনকে নিজের কাজে ব্যবহার করে।” আমাদের এখানে এই “অপর” কখনো “চিনা ভাইরাস”, কখনো তবলিঘি জমায়েত (যদিও মহারাষ্ট্রে কোন জমায়েত ছাড়াই সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে এখনো পর্যন্ত), আবার কখনো সমাজের “আপদ” স্থানান্তরী অসংগঠিত শ্রমিকেরা। একটি অপর পেলে রাষ্ট্র তার নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী এবং জনসাধারণের কাছে গ্রাহ্য ও মান্য করে তুলতে পারে “অপর”-কে দমনের অজুহাতে।

    যাহোক, আমরা অতিমারিকালে কোটি কোটি জনতার স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং তার জন্য কি কি উপাদান আমাদের ভাঁড়ারে তা আরেকবার ফিরে দেখি। এই দেখার সময়ে আমরা স্পষ্ট করে মনে রাখতে চেষ্টা করবো আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যের জগতে দু-তিনটি অপরিহার্য উপাদান রয়েছে – (১) প্রেক্ষিত বা কনটেক্সট (উদাহরণ হিসেবে বলা যায় আমেরিকার মারাত্মক রকমের ইন্সিউরেন্স-নির্ভর, অতি উচ্চমূল্যের স্বাস্থ্যের কাঠামো আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, ভারত বা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে প্রযোজ্য নয়, যদিনা মানুষগুলোকে আমরা কর্পোরেটদের হাতে ছেড়ে দারিদ্র্যের অতল খাদে নিয়ে যেতে না চাই)। এমনিতেই জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির (২০১৫, ২০১৭) হিসেব বছরে ৬৩ থেকে ৬৫ লক্ষ ভারতবাসী চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে “মেডিল্যাল পভার্টি ট্র্যাপ”-এ বাঁধা পড়ে এবং দারিদ্র্যসীমার নীচে চলে যায়। এত সংখ্যক মানুষ প্রায় ইংল্যান্ডের জনসংখ্যার সমান। আগ্রহী পাঠকেরা জনস্বাস্থ্যের জগতে মান্য ব্যক্তিত্ব শ্রীনাথ রেড্ডির লেখা “India’s Aspirations for Universal Health Coverage” (নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন, জুলাই ২, ২০১৫) দেখে নিতে পারেন। এখানে রেড্ডি বলেছেন ভারত প্রথমে (১৯৪৭-এর পরে) সমস্ত ভারতবাসীর জন্য বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে যেহেতু পাবলিক-সেক্টর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাগুলো শুকিয়ে যেতে লাগলো এবং মানুষের ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনে আর সাড়া দেবার সামর্থ্য ছিলনা ফলে প্রাইভেট সেক্টর বেড়ে উঠতে লাগলো।” শুধু তাই নয়, রেড্ডির বিশ্লেষণে, “১৯৯০-এর দশক থেকে অর্থনীতিকে খুলে দেবার জন্য বৃহৎ কর্পোরেট হাসপাতালগুলো এই ফাঁকা জায়গা অধিকার করলো। এখন প্রায় ৯০% বহির্বিভাগে রোগীর চিকিৎসা হয় প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে, আর হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা ৬০%। অথচ বড়ো এই হাসপাতালগুলো গ্রামীণ জনসংখ্যার বৃহদংশের কাছে কোন বুনিয়াদি স্বাস্থ্যের সুযোগ পৌঁছে দেয়না, যেমনটা দেয়না শহরের গরীব জনসমষ্টির কাছেও।” 

    এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যের অন্য দুটো উপাদান নিয়ে কথা বলবো - (২) সামাজিক ন্যায় এবং (৩) স্বাস্থ্যের ন্যায্যতা বা equity। 

    লেখার শুরুতে আর্ত মানুষের ওপরে চেপে বসা পাহাড়ের মতো মেডিক্যাল বিলের আলোচনা করেছি সেগুলো গত অন্তত ৩০ বছর ধরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ক্রমবিলুপ্তি এবং কর্পোরেট হাসপাতালের প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্যের একটি খণ্ড চিত্র। মনে রাখবো এ সময়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য এবং “সামাজিক ন্যায়” ও “স্বাস্থ্যের সাম্য”-র জন্য একটিও সর্বব্যাপী গণআন্দোলনের জন্ম হয়নি – বিক্ষিপ্ত, স্থানীয় স্তরে সীমাবদ্ধ কিছু উদ্যোগ ছাড়া। কোন নির্বাচনী দলের কর্মসূচীতে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোন দাবী বা পর্যালোচনা থাকেনা। কিন্তু পৃথিবীর “উন্নত” বা ধনী দেশগুলোতে স্বাস্থ্যের কার্যক্রম কি হবে বা তাকে বাস্তবে রূপায়িত করার কি কি পরবর্তী কর্মসূচী নেওয়া হবে সেগুলো একটা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাজেন্ডা হয়ে থাকে।

     

    কোভিড-উত্তর ভারতের চিত্র

    বিমলা কুমারী, কল্পনা মেহতা এবং রাহুল চৌধুরী এই তিনজন চিকিৎসক পশ্চিম ভারতের ৪টি হাসপাতালে (যেখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সাথে টারশিয়ারি কেয়ার যুক্ত) লকডাউনের প্রথম ১০ সপ্তাহের (মার্চ ২৫ থেকে জুন ২, ২০২০) গর্ভবতী মায়েদের অবস্থা নিয়ে লকডাউন পূর্ববর্তী ১০ সপ্তাহের সাথে (জানুয়ারি ১৫-মার্চ ২৪, ২০২০) একটি “retrospective analysis” করেন। এঁদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে লকডাউন পুর্ববর্তী সময়ের তুলনায় পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হবার সংখ্যা কমেছে ৪৩.২%, এবং ২০১৯-এর তুলনায় ৪৯.৮%। প্রসূতিকালীন ইমার্জেন্সি রেফার হবার সংখ্যা কমেছে ৬৬.৪%। রোগীরা বহু ক্ষেত্রেই আগাম আতঙ্কে হাসপাতালমুখী হচ্ছেনা। কারণ সরকারের তরফে চিকিৎসার সমস্ত সুযোগসুবিধে সরে গেছে কোভিড-১৯ রোগীদের ক্ষেত্রে, এমনকি হাসপাতালের চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরাও সাধারণ রোগীর চিকিৎসা করতে অনেক ক্ষেত্রেই অস্বীকার করছে। লকডাউনের সময়ে প্রসূতি মায়েদের ক্ষেত্রে সিজারিয়ান সেকশন করে প্রসব করানো ৩৭.০৩%-এ পৌঁছেছে, এ চিত্র প্রাক-লকডাউন পর্বে ৩৩% ছিল। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, হাসপাতালে ভর্তি থাকা গর্ভিনী মায়েদের মৃত্যুর হার। এরসাথে যুক্ত করতে হবে দেহাভ্যন্তরে শিশুর মৃত্যু এবং মৃত শিশু প্রসব হওয়া – লকডাউন পরবর্তী সময়ে এই দুই ক্ষেত্রেই সংখ্যা বেড়ে গেছে। সমীক্ষক চিকিৎসকদের মন্তব্য – “This current study showed a substantial rise in late intrauterine fetal death and stillbirth, along with in-hospital maternal mortality, which might be because of the delayed presentation of women requiring emergency obstetric care... Also, government and public health officials should ensure separate and secure treatment pathways for the care of pregnant women, along with the provision of an adequate number of emergency ambulances at primary and secondary health-care facilities for patients in emergency obstetric care requiring urgent referral.”

    ল্যান্সেট-এর “Has COVID-19 subverted global health?”-এ ভারতের ন্যাশনাল হেলথ মিশন-এর দেওয়া তথ্য উল্লেখ করে দেখানো হয়েছে – মার্চ ২০২০-তে (২০১৯-এর তুলনায়) হাম, মাম্পস এবং রুবেলার জন্য শিশুদের টীকাকরণ ৬৯% হ্রাস পেয়েছে, বিসিজি টীকাকরণ ৫০% হ্রাস পেয়েছে, হাসপাতালে প্রসবের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে ২১%, হার্টের অ্যাকিউট সমস্যায় হাসসপাতালে চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসার জন্য আসার সংখ্যা ৫০% কমে গেছে, এবং শ্বাসকষ্টের রোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হওয়া কমেছে ৩২%। একইসাথে, আরেকটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হাসপাতালে ক্যান্সার রোগী আসার সংখ্যা কমেছে ৫০%। ভারতের মতো দেশে যেখানে প্রতিবছর ২ কোটি ৬০ লক্ষ শিশু (প্রতিদিন ৭০,০০০ শিশু) জন্মগ্রহণ করে সেখানে শিশুদের ইমিউনাইজেশন বন্ধ বা স্থগিত হয়ে যাওয়া কি মারাত্মক পরিণতির জন্ম দিতে পারে তা ভাবলে আতঙ্কিত হতে হয়। হারিয়ে যাওয়া মারণান্তক রোগগুলো আবার ফিরে আসতে পারে।

    Wire.in-এ প্রকাশিত (৫.০৬.২০২০) একটি খবরের শিরোনাম “Rajasthan” TB Services Hit as Staff, Diagnosis Machines Diverted to COVID-19”। এই খবর অনুযায়ী ২০১৭ সালে রাজস্থানে সরকারী হিসেব অনুযায়ী টিবি রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৮ হাজার। ২০১৮-তে সে সংখ্যা বেড়ে ১ লক্ষ ৫৬ হাজার, ২০১৮-তে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার। ২০১৯-এর হিসেব পাওয়া যায়নি।

    এখানে কতকগুলো ডায়াগ্রাম দিচ্ছি। আমাদের বুঝে নিতে সুবিধে হবে।


    ----

    ----


    এরকম সময়ে আমাদের মনে পড়তে পারে হু-র তৎকালীন ডিরেক্টর জেনারেল হ্যাফডান ম্যালারের নেতৃত্বে ১৯৭৮ সালে আলমা-আটা-য় গ্রহণ করা “Declaration of Alma-Ata – International Conference on Primary Health Care”-এর কথা যেখানে প্রথমবারের জন্য আক্ষরিক অর্থে একটি বিশাল আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে ঘোষণা করা হল বিশ্ববাসীর সংহত প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা (comprehensive primary health care) সুনিশ্চিত করার কথা এবং সে লক্ষ্যে আন্তর্জাতিকভাবে “২০০০ সালের মধ্যে সকলের জন্য স্বাস্থ্য”-র শ্লোগান গৃহীত হয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণভাবে, আলমা-আটা সনদের ১০ নম্বর ধারায় যা বলা হয়েছিল তার মূল কথা ছিল – পৃথিবীর দূরতম প্রান্তের স্বাস্থ্যের সুযোগহীন মানুষটির জন্যও প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা সুরক্ষিত করতে হবে। এবং এজন্য যুদ্ধ ও যুদ্ধাস্ত্রের পরিবর্তে স্বাধীনতা, শান্তি, দ্বিপাক্ষিক আলাপ-আলোচনা এবং নিরস্ত্রীকরণের নীতি গ্রহণ করতে হবে যার মধ্য দিয়ে একটি দেশের সুষম বিকাশের জন্য আরো বেশি মানবসম্পদ সৃষ্টি হতে পারে।

    ১৯৫০-৭০-র দশক জুড়ে বিশ্বরাজনীতিতে দ্বিমেরু বিশ্বের জীবন্ত উপস্থিতি ছিল। প্রবল পরাক্রান্ত, আগ্রাসী ও মুক্ত পুঁজি এবং সাম্রাজ্যবাদের মুখোমুখি দাঁড়ানোর মতো ভিন্ন একটি আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার অস্তিত্ব – সমাজতান্ত্রিক বলে যার উপস্থিতি ছিল জনমানসে। দ্বিমেরু বিশ্বের উপস্থিতির জন্য রাজনৈতিক এবং সামাজিক একটি পরিসর তৈরি হয়েছিল যাকে বলতে পারি “তৃতীয় পরিসর”। বিশ্বের মানুষের স্বাভাবিক আশা-আকাঞ্খা এবং দাবী নিয়ে দর কষাকষির ক্ষমতা বেশি ছিল। পরবর্তীতে একমেরু বিশ্বের উদ্ভব এসবকিছুকে পরিপূর্ণভাবে বিনষ্ট করে দেয় – আজকের ভারত এর একটি প্রোজ্জ্বলন্ত উদাহরণ। এ সময়েই পৃথিবী জুড়ে শ্লোগান উঠেছিল – স্বাস্থ্য আমার অধিকার।

    এরকম একটা প্রেক্ষাপট মাথায় রাখলে আজকের করোনা অতিমারি যে বিশ্ব পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে তা বুঝতে সুবিধে হবে।  ল্যান্সেট-এ প্রকাশিত (জুন ১৫, ২০২০) একটি প্রবন্ধে (“COVID-19: rethinking risk”) যা বলা হল তার মূল কথা – করোনা অতিমারিতেও সবাই একইরকমভাবে আক্রান্ত হবেনা। যাদের ক্ষেত্রে রোগের সামাজিকভাবে নির্ধারক শক্তিগুলো (social determinants) সঠিকভাবে ফলপ্রসূ হয়না – যেমন, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বলতর শ্রেণী বা যারা চাকরি, বাসস্থান, খাদ্য এধরনের সামাজিক সুযোগ-সুবিধের ক্ষেত্রে বঞ্চিত – তাদের মধ্যে এ রোগের আক্রমণ বেশি দেখা যাবে। পৃথিবী জুড়ে হয়েছেও তাই। আমেরিকা, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকার মতো দেশগুলোতে সর্বত্র একই চিত্র।

    করোনা অতিমারির সময়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা মানুষের দৃষ্টিপথ (visibility), শ্রুতি (discernibility) এবং ভাবনার (cognition) ক্ষেত্রপথের একেবারে বাইরে চলে যাচ্ছে। অতি উচ্চ মুল্যের আইসিইউ পরিষেবা, উচ্চচাপের অক্সিজেনের ব্যবস্থা, ECMO ইত্যাদি জন মানসিকতায় ক্রমশ গ্রাহ্য হয়ে উঠছে, মান্যতা পাচ্ছে। মনে ক্ষোভ পুষে রেখেও সাধারণভাবে মানুষ চাইছে বেশি দামের রেমডেসিভিরের চিকিৎসা – নিতান্ত কমদামের এবং একমাত্র “improved survival” ঘটাতে পারে ডেক্সোমেথাসোনের চিকিৎসা নয়। চিকিৎসকেরাও এই সোশ্যাল সাইকি বা গণমানসিকতার বশে থাকছেন। বাজারের, মিডিয়ার এবং বিজ্ঞাপনের দুর্দমনীয় শক্তি উভয়কেই নিয়ন্ত্রিত এবং প্রভাবিত করছে। ফলে চিকিৎসা আরও বেশি করে হাই-টেক হয়ে উঠছে, ভার্টিকাল প্রোগ্রামের দিকে ঝুঁকছে। এবং ক্রমাগত ঝুঁকবে কেবলমাত্র রোগ-কেন্দ্রিক প্রোগ্রামের দিকে, সামাজিক স্বাস্থ্য বা পাব্লিক হেলথের দিকে নয়।

    নেচার-এর মতো পত্রিকায় (১৩.০৮.২০২০) বিশেষ প্রবন্ধ প্রকাশিত হচ্ছে “এইডস, ম্যালেরিয়া অ্যন্ড টিউবারকিউলোসিস আর সার্জিং”, অর্থাৎ এইডস, ম্যালেরিয়া এবং টিউবারকিউলোসিস প্রবল গতিতে বাড়ছে। নেচার-এর আলোচিত প্রবন্ধের পর্যবেক্ষণে – “তিন মাসের বেশি সময় ধরে লকডাউন অসংখ্য মানুষকে নন-কোভিড বা  কোভিড নয় এমন রোগীরা সাধারণ চিকিৎসার কাছে পৌঁছুতে পারেনি, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। একইসাথে নতুন রোগীদের উপসর্গ চিহ্নিতই হয়নি। ফলে চিকিৎসার প্রসঙ্গ আসেনা।” এদের হিসেবে চিন, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকা জুড়ে ২০২০ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে ২০০,০০০ অতিরিক্ত মৃত্যু ঘটবে, সাব-সাহারা আফ্রিকায় ২০২০-তে ৭৭৯,০০০ জন মানুষের মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে।”

    এদেরকে কে বাঁচাবে? একমাত্র সক্রিয় ও জীবন্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা এদের বাঁচাতে পারে। যদি এক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করা না যায় তাহলে কোভিডে যত মানুষের মৃত্যু হবে তার চেয়ে বেশি মৃত্যু হবে এ রোগগুলোর জন্য। নেচার-এর উল্লেখিত প্রবন্ধের শেষে মন্তব্য করা হয়েছে – “কোভিড-১৯ সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই আমাদের রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঘড়ির কাঁটা ঘুরিয়ে দিয়েছে কয়েক বছরের জন্য তো বটেই, এমনকি কয়েক দশকও হতে পারে।” বলা হয়েছে – “একটি সংক্রামক ব্যাধির হাত থেকে (পড়ুন কোভিড) মানুষকে রক্ষা করতে গিয়ে আরেক সংক্রামক ব্যাধিতে মানুষ মারা যাচ্ছে সেটা হল এমন এক শেষ হিসেব যা মানুষ কখনো চায়না।”

    অথচ মানুষের চাহিদায় কখনই খুব বেশি কিছু ছিলনা – সামাজিক ন্যায় এবং স্বাস্থ্যের ন্যায্যতা ছাড়া। সরকারের তরফে প্রয়োজন ছিল স্বচ্ছতার, তাহলে মানুষের আস্থা অর্জন করা খুব শক্ত বিষয় কিছু নয়। সামাজিক ন্যায় এবং স্বাস্থ্যের ন্যায্যতাকে ভিত্তি করে যেগুলো নীতি নির্ধারকেরা ভেবে দেখতে পারতেন সেগুলো হল – (১) কি করা সম্ভব, (২) মানুষের কাছে কোনটা গ্রহণীয়, (৩) ন্যায়, এবং (৪) কোনটা sustainable।

    এখানে ভিন্ন একটি বিষয় আমরা ভেবে দেখবো। ১৯৭৪-৭৫-এ প্রধানত জয়প্রকাশ নারায়নের নেতৃত্বে ভারতবর্ষের প্রতিটি প্রান্ত ছুঁয়ে যে ঐতিহাসিক গণ আন্দোলন হয়েছিল এবং ফলশ্রুতিতে জরুরী অবস্থার ঘোষণা আর পরবর্তী নির্বাচনে দোর্দন্ডপ্রতাপ ইন্দিরা গান্ধির পরাজয় – সেরকম কোন ঐতিহাসিক মুহূর্ত কি আমরা বর্তমান অবস্থায় ভাবতে পারি? বোধ করি না। একাধিক বিষয় রয়েছে এখানে। প্রথমত, রাষ্ট্র প্রতিমুহূর্তে “অতিরাষ্ট্র” হয়ে উঠছে – স্বশাসিত গণতান্ত্রিক এবং স্বাধীন সংগঠনগুলো রাষ্ট্রের প্রসারিত শাখা হয়ে যাচ্ছে হয়তো বা প্রতিদিন। দ্বিতীয়ত, সেসময়ের আন্দোলনে মানুষ মানুষের সাথে একসাথে বসে কথা বলতো, একজন মানুষ আরেকজন মানুষের শরীরী ভাষা, প্রতিটি অভিব্যক্তি বুঝতে পারতো, একজন মানুষের উষ্ণতা স্পর্শ করতো আরেকটি মানুষকে। কিন্তু আজকের এই ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ায় আমরা মুখহীন, মানুষের স্পর্শহীন। ফলে পুরনো ক্ল্যান বা গোষঠী ভিত্তিক সমাজের মতো আমরা প্রত্যেকেই একেকজন ভার্চ্যুয়াল গোষ্ঠীপতি। ফলে প্রত্যেকে নিজেদের মত এবং ভার্চ্যুয়াল জগৎ অতি যত্ন নিয়ে রক্ষা করি। এরকম কনটেক্সটে কিভাবে গড়ে উঠবে স্বাস্থ্য নিয়ে দেশব্যাপী গণআন্দোলন? আর এটাতো কোন বিশেষ রাজ্য বা অঞ্চলের সমস্যা নয় – সমস্যা সমগ্র ভারতভূমির। তৃতীয়ত, শিক্ষকেরা এখন “এডুকেশনাল ম্যানেজার” – শিক্ষা থেকে দ্রুত বিলীন হয়ে যাচ্ছে “কেন” প্রশ্নের অস্তিত্ব। “কেন” প্রশ্নের অস্তিত্ব বিলীন হওয়া নিওলিবারাল অর্থনীতির সাথে বিশেষ সঙ্গতিপূর্ণ, পুঁজির পক্ষে অনুকূল।

    সায়ান্স-এর মতো বিশ্ববন্দিত জার্নালের সম্পাদকীয়তে (৮.০৫.২০২০) এরকম এক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে শুধুমাত্র কিছু ব্যবহারিক ওষুধ তৈরির পরিবর্তে আমাদের গবেষণার অভিমুখ হওয়া উচিৎ - “’কেন’ এই প্রশ্নকে জিজ্ঞাসা করা (উদাহরণ হিসেবে, এ রোগের প্যাথোফিজিওলজি বোঝার জন্য বুনিয়াদি গবেষণা) এবং কেবলমাত্র “গাদা করে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত” (shovel ready) ওষুধের আবিষ্কারের প্রোজেক্ট বাড়িয়ে চলা নয়।” আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যবেক্ষণ হল – “কোভিড-১৯ পৃথিবীর কাছে নিয়ে এসেছে একটি পাশবিক পছন্দ (brutal choice) – অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য এবং পাব্লিক হেলথের মধ্যে বেছে নেওয়া।” পৃথিবীর আগামী যাত্রাপথে প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কেবলমাত্র একটি অধরা আশা হয়ে পড়ে থাকবে হয়তো আমাদের সবার কাছে। 

    কে দেবে এর উত্তর? রাষ্ট্র, রাজনৈতিক নেতারা কিংবা আক্রান্ত জনসাধারণ? হিপোক্রেটিসের কাছ থেকে চিকিৎসকেরা শিখেছেন “primum no nocure” অর্থাৎ কোন ক্ষতি করবেনা। এ কথা রাষ্ট্রের পরিচালকেরা শিখলে আর্ত মানুষের খানিকটা সুরাহা হত, উপকার হত!

  • বিভাগ : আলোচনা | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১৬৫৮ বার পঠিত
  • ৫/৫ ( ১ জন)
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • দীপঙ্কর ঘোষা | 2409:4060:206:4f33::67c:a0ad | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৮:৪৬97004
  • ভালো লেগেছে । 

  • Soumya | 202.142.99.77 | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৮:৫০97005
  • Beautifully presented sir

  • জাতীশ্বর | 2401:4900:3a17:d72c:9a74:30af:9a7e:4811 | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১০:৩৭97008
  • ঠিক কথাই লিখেছ।

  • বরুণ ভট্টাচার্য | 223.191.3.72 | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১১:৫৬97011
  • অসাধারণ লেখা!

  • সুকুমার ভট্টাচার্য্য | 117.226.128.226 | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৩:০৭97014
  • লেখায় যে তথ্য, যুক্তি ও মতামত ডঃ জয়ন্ত ভট্টাচার্য পেশ করেছেন তা সম্পূর্ণভাবে গ্রহণযোগ্য আমার কাছে। সংখাতত্ত্ব যেটা ব্যবহার করা হয়েছে তা বছর দুয়েক আগের নিলে দেখা যাবে স্বাস্থ্যে খরচ মোট বাজেটের চার শতাংশও পৌঁছুবে না।

    গ্রামীণ স্বাস্থ্য কর্মসূচীগুলি অর্থাভাবে অচল হওয়ার মুখে।

    বেসরকারী চিকিৎসাকেন্দ্রগুলি ক্রমশঃ স্বাস্থ্যবান হচ্ছে। চিকিৎসার বিল রোগ নয়, রোগীর মানিব্যাগের স্বাস্থ্য ও মালিকের লক্ষ্যমাত্রার ওপর নির্ভর করে।

    জনগণের রোষ সামলানোর দায়িত্ব ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর। ভাল বেতন পেতে গেলে এইটুকু তো সইতে হবেই।

    ডঃ জয়ন্তকে নমস্কার লেখাটির জন্য।

  • অরিন | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৪:৩৪97017
  • অতি প্রয়োজনীয় লেখা। 

  • ডাঃ দেবব্রত রায় | 202.142.99.245 | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৮:২২97019
  • কর্পোরেট স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে চিকিৎসা খরচের নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের যে অংশটুকু আমাদের নজরে আসে বা শুনতে পাই তার বাইরেও অনেক কাহিনী থাকে যা আমরা বুঝতে পারি কিন্তু ধরতে পারিনা। আর ধরতে পারলেও প্রকাশ্যে বলতে পারি না। বোধকরি এই সচেতন দুর্বোধ্যতা কেবল আমাদের নয়, কমবেশি সব দেশেই আছে। 

    স্বাস্থ্যক্ষেত্রে  বিমার অনুপ্রবেশ অন্য আরেকটি সমস্যার জায়গায় নিয়ে যাবে আমাদের । রাষ্ট্রীয় মদৎ এবং পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এটিও সম্ভব নয়। 

    ডাঃ দেবব্রত রায় 

  • কিরীটি | 202.8.112.126 | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২০:৫৪97021
  • কোভিড থেকে রাজনীতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রিক স্বাস্থ্যনীতিতে স্বচ্ছন্দ কিন্তু যুক্তিনিষ্ঠ চলন ও বলনের জন্য ধন্যবাদ। 

  • Dr Kanchan Mukherjee | 45.123.161.153 | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২২:২৫97024
  • এ ধরণের লেখা চিকিৎসা পেশায় যুক্ত মানুষজনের কাছ থেকে আজকাল প্রায়ই দেখতে পাই।  সমাজের বাকি অংশ ভুক্তভোগী কিন্তু সচরাচর মুখ খোলেন না। সাধারণ মানুষ যতক্ষণ না স্বাস্থ্যের অধিকারের দাবিতে সোচ্চার হচ্ছেন, সরকার এদিকে কান দেবেন না। 

  • অমরদীপ | 2401:4900:122a:410a:4304:6b10:30c1:bb00 | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২৩:২২97028
  • খুব সুন্দর ব্যাখ্যা কাকু

    আজকের দিনে স্বাস্থ্য আর আমার অধিকারে নাই 

  • সাত্বিকা ব্যানার্জী | 103.87.140.187 | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৯:৫৮97044
  • ভালো লাগলো পড়ে, অনেক নতুন তথ্য জানতে পারলাম।

  • রিনা সরকার | 45.112.242.164 | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৪:১২97052
  • অনেক তথ্য জানতে পারলাম। 

  • Dr Mrinal Jha | 223.191.56.1 | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৮:২৪97062
  • It's an awesome summary of socioeconomic impact of Covid world wide. I may add that during this time there is a fall in the death rate probably due to less intervention of the patients by doctors also the sale of medicine has reduced. The cause remains the same, patients are not going to doctor. 

  • জয়ন্ত ভট্টাচার্য | 59.93.173.17 | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৮:৫৬97063
  • যাঁরা  মূল্যবান মতামত দিয়েছেন তাঁদেরকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ!

  • মৌলিক | 2409:4066:21b:4173::1942:78ac | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২২:৫৭97072
  • অসম্ভব সমৃদ্ধ আলোচনা

  • -তুহিন কুমার চন্দ | 2409:4061:2c8e:2cd:d94:ab6:f7cb:3ba7 | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৯:৪৫97139
  • ডাঃ জয়ন্ত ভট্টাচার্য একজন জনপ্রিয় ডাক্তার ।আমরা জনসেবামূলক ডাক্তার বলতে যা বুঝি ডাঃ ভট্টাচার্য তাই।অর্থের জন্য তিনি ডাক্তারি করেননা,মানুষের সেবা যার প্রথম লক্ষ্য তার প্রতিটি লেখাই মানুষের হীতে রচিত।আগেও দেখেছি এখনো দেখছি ওঁর সব লেখাই সমাজকে ঋদ্ধ করে,মানুষকে সচেতন করে তোলে।আমি ওঁর একটি মূল্যবান বই প্রকাশ করেছিলাম। ডাঃ ভট্টাচার্য সমাজের বন্ধু আমি তাকে কুর্নিশ করি।

  • Badal Singha. | 2409:4061:395:f067::1990:10ad | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১২:৩৯97143
  • can't any other arrangements be made except government system ? 

  • অনুপ | 103.87.140.197 | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৯:৩৩97156
  • কভিড 19 আমাদের ভাবনা চিন্তারও বিকাশ

    কমিয়েছে।

    আমরা সবই মেনে নিচ্ছি।

  • অনুপ | 103.87.140.197 | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৯:৩৩97157
  • কভিড 19 আমাদের ভাবনা চিন্তারও বিকাশ

    কমিয়েছে।

    আমরা সবই মেনে নিচ্ছি।

  • মিথুন পোদ্দার | 112.79.112.204 | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১০:৩৯97199
  • ডাঃ ভট্টাচাৰ্য  কে অশংখ্য ধন্যবাদ এই ধরণের একটি সময় উপযোগী লেখা আমাদের সবার সাথে শেয়ার করবার জন্য I

    বিগত দুই দশক ধরে পেশাগত কারণে পরিচিতি হবার সুবাদে ডাঃ ভট্টাচাৰ্য র জনসেবামূলক কাজের পরিচিতির পরিধি আমার সুপরিচিত I অর্থের বাইরে গিয়ে আর্তের সেবায় নিয়োজিত প্রাণ I

    ভালো থাকুন ডাক্তার বাবু.... আর চলুক আপনার সাবলীল লেখা.... আর সমৃদ্ধ হই আমরা I

  • GoutamGuha | 42.110.136.114 | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৬:১৭97479
  • সুন্দর  লেখা 

    সরকারি হাসপাতালে যথেষ্ট গুণী চিকিৎসক আছেন . তাদের ঠিকমতো বাবহার করা হয় না। 

  • GoutamGuha | 42.110.136.114 | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৬:১৭97480
  • সুন্দর  লেখা 

    সরকারি হাসপাতালে যথেষ্ট গুণী চিকিৎসক আছেন . তাদের ঠিকমতো বাবহার করা হয় না। 

  • GoutamGuha | 42.110.136.114 | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৬:১৭97481
  • সুন্দর  লেখা 

    সরকারি হাসপাতালে যথেষ্ট গুণী চিকিৎসক আছেন . তাদের ঠিকমতো বাবহার করা হয় না। 

  • Pinaki | 136.228.209.53 | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২০:৪০97528
  • ডুবে গিয়েছিল, তুললাম। 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত