• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  গপ্পো

  • বাঙালবাড়ির কিস্‌সা : পর্ব ৭

    রঞ্জন রায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | গপ্পো | ২৮ নভেম্বর ২০১০ | ১১৪ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার

  • এলেম আমি কোথা থেকে

    ""---ইহা গচ্ছ, ইহা তিষ্ঠ,মম পাদ্যার্ঘংগ্রহণং কুরু''। স্থান: দক্ষিণ কলিকাতার গৌড়ীয় মঠের কার্য্যালয় ভবনের তৃতীয়তল । কাল: মে মাসের পূর্বাহ্ন, বেলা ১১ ঘটিকা। তাপমান: ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    একটা বিশাল হলঘরের মধ্যে হাঁটু গেড়ে ন্যাড়া মাথায় বসে আছে হরিদাস পাল রন্‌জন, ঘরের অন্যকোণায় দুজন সাদা কাপড় পরা ব্রহ্মচারী নীচুগলায় কিছু পাঠ করে চলেছেন। রনজন জানে একটি গীতা, আরেকটি কী? সম্ভবত: চৈতন্যচরিতামৃত ।

    -যাই পড়ুক না, তোর বাবার কী, তুই তো নাস্তিক!

    -- আমার বাবার অনেক কিছু!না হলে এলাম কেন?

    ---কেন এলি?

    ---- ন্যাকা! কেন এলাম সেটা তো ভালই জানা আছে।

    যখন বাবা গেলেন মা স্মৃতিকণা চেহারায় ইতস্তত: ভাব ফুটিয়ে তিন নাস্তিক ছেলের সামনে দাঁড়ালেন। এরা কি ওনার শ্রাদ্ধশান্তি কিছু করবে না? মুখাগ্নিটুকু করেছে, শ্মশানবন্ধুদের মিষ্টি খাইয়েছে, কিন্তু শ্রাদ্ধের ভোজ দেবে না বলে দিয়েছে, কারণ রবিঠাকুর নাকি গোরা না কোন উপন্যাসে হিন্দুর মৃত্যুভোজের বিরুদ্ধে বলে গেছেন। গোরা উপন্যাস তো উনি পড়েছেন। ললিতা-সুচরিতা ও ব্রাহ্মসমাজের আধুনিকা মেয়েদের খুনসুটি ভালই লেগেছিল। কিন্তু শ্রাদ্ধবাসরে লোকজনকে খাওয়ানো খারাপ এমন কথা রবিবাবু কোথায় বলেছেন! সত্যিই বলেছেন নাকি? আর নভেল লিখতে গিয়ে ওসব কথা বলবেনই বা কেন?

    স্মৃতিকণার মনে সন্দেহ হল । উনি জানেন তিনটে ছেলেই পাজির পাঝাড়া। নিজেদের মতলবের কথা হলেই " ব্যাদে আছে' ভঙ্গিতে মার্ক্স ও রবীন্দ্রনাথ নামে দুই দাড়িওলা বলে গেছেন বলে চালিয়ে দেয়। আচ্ছা, মার্ক্স ঠাকুরের জটাজুট-গোঁপদাড়ি। লেনিন ঠাকুরের ছেঁটে রাখা গোঁপ দাড়ি। স্তালিন দেবতার খালি গোঁফ, কিন্তু মাওয়ের বেলায় সব উধাও, একেবারে মাকুন্দ চেহারা। এর পরে যিনি আসবেন তাঁর ভেক কেমনটি হবে? হটাৎ স্মৃতিকণার চেহারা উজ্বল হয়ে ওঠে। এদের আগামী পয়গম্বর নিশ্‌চই কোন নারী হবেন! সিস্টার নিবেদিতার মত কেউ? ধেত্তেরি! সে যখন হবার তখন হবে। এখন তো সামনে ছেলে তিনটে ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না ভাব করে এ ওর মুখের দিকে তাকাচ্ছে।

    ওদের চোখে চোখে কিছু কথা হয়। বড়ছেলে গলা খাঁকারি দেয়। --- মা, চিন্তা কইরো না। আমি মাথার চুল ফালাইয়াম। শ্রাদ্ধ করবাম, কিন্তু হেরা দুইজন কিসু করবো না। আমি বড়দাদা,আমি করলেই সবার করা হইবো।

    স্মৃতিকণা মনে মনে হাসেন। এই ছেলেটা সব সময় শহীদ হওয়ার জন্যে তৈরি হয়ে আছে।--আমি বড়দাদা!

    সেই পঁচিশ বছর আগে যখন বিহারের হাজারিবাগ জেলার বোকারোয় ছিলেন তখনও জিভ বার করে কালীসাজা বহুরুপী দেখে খাটের তলায় সেঁদিয়ে সেখান থেকে চেঁচিয়ে অভয়বাণী দিত--- ভাই, আমি আছি, বড়দাদা। ভয় পাইস না।

    এখন গত হয়েছেন কণাকাকা। অপুত্রক। এই তিনটেকেই ছেলের মত স্নেহ দিয়েছেন। এবার কী করা? কাকিমা বলেছেন-- কোন চাপ নিসনে! তোদের যা মনে হয় করবি। কিছু করতেই হবে এমন নয়।

    এখন ভাইগুলো নিজেদের মধ্যে কথা বলবে। গুলো? তিনটের মধ্যে ছোটটি তো পাঁচ বছর আগে গেছে, ক্যান্সারে। এই কাকা-কাকিমাই তো নিজের ঘরে রেখে চিকিচ্ছে করালেন। এবার কাকা ও গেছেন ব্লাড ক্যান্সারে। কিম্‌ কর্তব্যম্‌?

    --- দেখ দাদা, কাকিমা যাই কউক, মনে তো ভাববেই যে যদি নিজের ছেলে হইতো, তাইলে কি বাপের প্রেতযোনি থেইক্যা মুক্তির লেইগ্যা কিছু করতো না?

    হরিদাস পাল হাসে, বোঝে ও আরেকবার শহীদ হওয়ার জন্যে তৈরি। মাথার মধ্যে কিছু স্মৃতির কোলাজ ঘুরে বেড়ায়।

    (কোলাজ নং -১ বরানগর রামকৃষ্ণ মিশনের হোস্টেলের খেলার মাঠের সামনে ধবধবে সাদা গিলে করা পাঞ্জাবী পরে এক ভদ্রলোক,একটি গেঞ্জির কারখানার মালিক,তাঁর হোস্টেলে নতুন ভর্তি করা দুই বাচ্চাছেলেকে বলছেন- স্বামী বিবেকানন্দ বলে গেছেন ""জন্ম হইতেই তুমি মায়ের জন্য বলিপ্রদত্ত। ''

    উনি তখন কি জানতেন যে দুই ছেলেই বলি হবে, বলি হবে এক ব্রহ্মচারীর ও আর এক সিনিয়র ছাত্রের বিকৃত যৌনকামনার? যাকে উনি অনুরোধ করেছিলেন-- আমার এই দুই ছেলেকে একটু দেখো, বাবা। কথা না শুনলে বকতে পার।

    তা সে সিনিয়র দাদাটি দেখেছিল,ভাল করেই দেখেছিল। বছর দুই পড়ে যখন জানতে পেরে ছেলেদের ফেরৎ নিতে এলেন তখন তাঁর চেহারার দিশাহারা ভাব হরিদাস পালের হার্ডডিস্কে সেভ হয়ে আছে।

    কোলাজ নং-২ ক্লাস ফোরে পড়ার সময় ফ্ল্যাট্‌ বাড়ির ছাদে এক ঝাঁঝাঁ গরমের দুপুরেএকটু বড় পাড়াতুতো দিদিটি নানা অছিলায় ওর হাত নিজের বুকের উপত্যকায় পৌঁছে দেয়। ও চমকে ওঠে, ভয় পায়, কিন্তু ভাল লাগে। তারপর কোন গোপন অপরাধ বোধে হাত সরিয়ে নেয়। এবার সেই দিদিটি হেসে ফেলে। তারপর বলে-- শোন, আমার কথা না শুনলে তোর মাকে বলে দেব যে তুই ইচ্ছে করে আমার বুকে হাত দিয়েছিলি!

    মায়ের কানে এমনি কথা! ফল কল্পনা করে ওর হাফপ্যান্ট ভিজে যায়। এবার ও দিদির ইচ্ছের হাঁড়িকাঠে বলি চড়ে যায়।

    ক'দিন ধরে ছাদে যায় না। মা ডাকলে বা কড়া করে তাকালেই মনে হয়--- মা কি জেনে ফেলেছে!

    একটু বড় হয়ে পড়ে এক বর্ষীয়ান কবির লেখায় পড়ে-"" স্বর্গ থেকে স্তন আসে, মেয়েরা বুকের উপর লাগিয়ে নেয়।'' ওরইচ্ছে হয় কবিটিকে উদোম ক্যালাতে!

    কোলাজ নং -৩- "অ্যাই! তুই কি বাংলাবাজারে পড়াশুনো করতে এসেছিস? তালে প্রেসিডেন্সি - মৌলানা আজাদ চত্বরে ঘোরাফেরা না করে ডায়মন্ড হারবার ফকিরচাঁদ কলেজে যা! "প্রেসি'র বারান্দায় এক বড় বিপ্লবীর ফরমান।

    -- ""ওখানে ভাল না লাগলে খাগড়ায় দুখুলাল নিবারণচন্দ্র কলেজেও চেষ্টা করতে পারিস্‌।'' সঙ্গের ছোট বিপ্লবী ফুট কাটে।

    --- কেন?

    ---- কেন কী রে বোকা---! ""এই ব্যবস্থায় যে যতপড়ে সে তত মুর্খ হয়'', চেয়ারম্যান বলেছেন। তুই কি মুর্খ হতে চাস্‌?

    না,না, ও মুর্খ হবে কেন, ও যে বুদ্ধিমান হতে চায়। কিন্তু আজও স্বপ্নে দেখে কোন পরীক্ষার হলে বসে আছে। প্রশ্নের উত্তর সব জানা, কিন্তু লিখতে পারছে না। কারণ, ও একটা গেঞ্জি গায়ে বসে আছে, আর ইনভিজিলেটর ও অন্য ছেলেমেয়েরা ওর দিকে তাকাচ্ছে।)

    -- গোত্রনাম বলুন, ভরদ্বাজ,আচ্ছা- আদি নিবাস বলুন। ময়মনসিং? কিশোরগঞ্জ সাব-ডিভিসন? আমার বাড়ি নেত্রকোণা,শৈলজারনজন মজুমদারের জন্মস্থান। তা বেশ, এবার কাকার নাম বলুন। এবার কল্পনা করুন উনি আপনার বাড়িতে এসেচেন, আপনি কাকাকে পাদ্য-অর্ঘ্য দিয়ে যত্ন করে বসিয়েছেন। এবার কাকাকে ওনার প্রিয় খাবার বেড়ে দিয়ে খেতে বলবেন।

    ( কাকা কী খেতে ভাল বাসতেন? হরিদাস পাল কী করে জানবে, ওকে তো বরাবর কাকা খাইয়েই এসেছেন। )

    উনি কী খেতে ভাল বাসতেন! কানের কাছে অনুষ্ঠান করাতে থাকা ব্রহ্মচারীর প্রম্পটিংয়েও আবার বর্তমানে ফেরে। উনি সবই খেতে ভালবাসতেন। কিন্তু সবচেয়ে বেশি কোনটাকে?

    --- সবচেয়ে বেশি? আমার ছোট ভাই অমিতকে। ভিলাইয়ের হিন্দি মিডিয়াম স্কুলে ক্লাস ফোর অব্দি পড়ে যখন ও কোলকাতায় মিশনে ভর্তির জন্যে এল, তখন ওকে নিজের কাছে রেখে এক বছর বাংলা-ইংরেজি পড়িয়ে (ফার্স্ট বুক অফ প্যারিচর্ন সিরকার!) কোলকাতা স্কুলের লায়েক করে তুল্লেন! হস্টেলে অমিত ভর্তি হলে প্রতি মাসে দেখা করতে যেতেন, ওর সব আব্দার শুনতেন। আর-- আর ও ক্যান্সারে ভুগে ইলেকট্রিক চুল্লিতে ছাই হওয়া অব্দি নিজের খাটে শুইয়ে একবছর ধরে চিকিৎসা করিয়েছেন।

    ( ওরে কৃতঘ্ন! তোকে ভালবাসতো না! ছোটবেলা থেকে প্রতি বছর দেব সাহিত্য কুটিরের পূজোবার্ষিকী কে এনে দিত? আর মাসে মাসে শুকতারা, শিশুসাথী! ওই পূর্ব পাকিস্তান থেকে রিফিউজি হয়ে এসে তিনকামরার দাদুর দস্তানায় মাথা গোঁজা পার্কসার্কাসের ভাড়াবাড়িতে বাইশজনের এজমালি সংসার। তাতে এই ভদ্রলোক প্রত্যেক ঋতুতে তোদের ফল খাওয়ায়নি? অন্তত: প্রত্যেক ফল একবার করে? আর তোরা ,অর্বাচীন অপোগন্ডের দল! ইংরেজি গ্রামারের শৌখিন, প্রতিদিন কবিতা পড়ার মত করে স্টেটস্‌ম্যানের এডিটোরিয়াল পড়া, ফেবার অ্যান্ড ফেবারের নিয়মিত বই কেনা, টি এস এলিয়ট ভক্ত এই ভদ্রলোককে নিয়ে মুচকি মুচকি হাসতিস্‌, পেটি বুর্জোয়া টেস্ট, তাই না? আসলে ওনার ভালোবাসার ক্ষমতা ছিল বিশাল। ভালবেসে ক্ষতি স্বীকার করতেও উনি কুন্ঠিত হতেন না। তোরা ভালবাসিস শুধু নিজেকে।)

    -- কী হল? ঠিক করে ভেবে বলুন। সবচেয়ে বেশি কী খেতে ভালবাসতেন?

    ময়মনসিংহের বাঙাল কী খেতে ভালবাসে? কী আবার! মাছ। ওরা নেমন্তন্ন বাড়ির খাওয়ার চিরাচরিত ফরম্যাট ( অর্থাৎ, শুক্তো-ভাজা-ডাল-তরকারি--মাছ-মাংস-চাটনি-পাঁপড়-দই-মিষ্টি) মানে না। অন্তত: নিজের বাড়িতে না। ওসব ঘটিদের তৈরি ট্র্যাডিশন।

    মৈমনসিংহের বাঙাল সবচেয়ে আগে মাছ খাবে, পরে মাছ খাবে। অন্য সব ইচ্ছে হলে খাবে, নইলে নয়। তবু এর মধ্যে কণাকাকা স্পেশ্যাল। রনজনের ছেলেবেলায় ব্যাচেলর কাকা অফিস ফেরৎ রাত্তিরে খেতে বসেছেন। সেদিন বাড়িতে গুলসা মাছ ( ট্যাংরা মাছের বড়ভাই) রান্না হয়েছে, বেশ তেল-কাঁচালংকা- সরু লম্বাটে পেঁয়াজকুচি দিয়ে মাখোমাখো করে। পরিবেশন করছে ভ্রমর নামের একটি নতুন কাজের লোক। সে বেচারা আগে ডাল আর সুক্তো দিয়েছে, কি কণাকাকা রাগে অগ্নিশর্মা। আমার সাথে ফাজলামো! মাছ্‌ থাকতে আগে ডাল শুক্তো? এ তো আমাকে অপমান করা। কাজের লোক হয়ে ইয়ে গুস্তাখি! বেরিয়ে যাও, এক্ষুণি! অল্পবয়েসি ওড়িয়া ছেলেটি চোখের জল মুছতে মুছতে পরের দিন ভোরবেলা চলে গেল।

    এই কর্মটির অপরাধবোধ সম্রাট অশোকের মত কণাকাকাকে পীড়া দেয়। ফলে বাকি জীবন উনি বাড়ির কাজের লোকের সম্মান ও সুখসুবিধার প্রতি বিশেষসতর্ক ও সংবেদনশীল থাকতেন। অপোগন্ড ভাইপোগুলোকেও শেখাতেন গায়েগতরে খেটে খাওয়া লোকজনের সঙ্গে মানবিক ব্যবহার করতে। আচ্ছা, কণাকাকা সম্বোধন কেন? ওনার অমন সুন্দর নাম মৃণালকান্তি, ডাকনাম মণি,---তাহলে মৃণালকাকা বা মণিকাকা নয় কেন? ওরে বাবা! এই কথা জিগাইয়া রনজনের কপালে জুটেছিলো কানে আড়াই পাক। সঙ্গে লেকচার-- তাইলে যা, তর বাপরে গিয়া সলিলবাপ আর মায়েরে স্মৃতিমা কইয়া ডাক। আপন কাকারেকেউ নাম ধইর‌্যা কয়, এত স্যাক্রিলেজ! নাম ধইরা কইলে মনে হয় পাড়ার কাকারে ডাকতে আছে।

    এলিয়্‌টভক্ত এই কাকার ছিল অতীতের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা। ময়মনসিংহ ছেড়ে এসেও উনি সারাজীবন ধুতি পাঞ্জাবী-পাম্পশু পড়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অডিটস্‌ অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস্‌এর অফিসে চাকরি করলেন। ময়মনসিংহ সম্মিলনীতে যেতেন আর গাঁয়ের পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে কোলকাতার ব্যস্ত জীবনেও মাঝে মাধ্যে আড্ডা দিতেন।

    দাদুর ও এই কাকার কাছেই ভাইপোরা শুনেছে ময়মনসিংহের গ্রাম্য ভাষায় হেল্‌থ ক্যাম্পেন এর ছড়াগুলো।

    "" আঁত অ তিতা, দাঁত অ নুন,
    পেটের ভরিস তিন কুন।
    কানে কচু, চৌখ্যে ত্যাল,
    তার বাড়িত বইদ্যি না গ্যাল।''

    ( অন্ত্রে তেতো, অর্থাৎ নিম/করলা/ সুক্তোআর খেয়ে ওঠার সময় পাতের নুন দিয়ে একটু দাঁত মেজে নেওয়া; ঠেসে না খেয়ে তিন কোণা ভরে খাওয়া আর এক কোণা জল খাওয়ার জন্যে খালি রাখা; কচুর লতির ডগা দিয়ে কান চুলকোনো, স্নানের আগে চোখে একটু সরষের তেল ছোঁয়ানো--- এগুলো যে করে তার বাড়িতে কোন দিন ডাক্তার-বদ্যি যাবে না।)

    "" চিৎ হইয়া শুইয়ো বাবা,
    ত্যাল মাইখ্যো থাবা থাবা।
    সক্কাল সক্কাল জাইগ্যো,
    যেখানে সেখানে হাইগ্যো,''

    বাকিটা তো বুঝলাম, কিন্তু যেখানে সেখানে হাইগ্যো ? এর মানে কী? ময়মনসিংহের গাঁয়ের বাড়িতে বাড়ির পেছনে কলাগাছে ঘেরা যে পায়খানা তা হল শুধু মহিলা ও ছোটবাচ্চাদের জন্যে। পুরুষেরা যাবে ক্ষেতেখামারে মাঠে ঘাটে, বর্ষাকালে নৌকোয় করে নদীতে। তাৎপর্য্য এই যে মলমুত্রের বেগ ধারণ না করিয়া শীঘ্র যত্রতত্র পরিত্যাগ করা কর্তব্য।

    কোলকাতায় জন্মানো হরিদাস পালের নাগরিক রুচিতে এবম্বিধ প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য মনে হয় না। ফলে সে একটু সাহস করে জিগায়-- আর বাতকর্ম! তাহাও কি ধারণ না করিয়া যত্রতত্র পরিত্যাগ করা কর্তব্য? খুল্লতাত বিন্দুমাত্র বিচলিত না হইয়া বলেন---- "" বাতকর্ম, শরীরের ধর্ম।
    যে না করে, তার বৃথাই জন্ম।
    পুত্রের বিবাহ শতকন্যা দান,
    তাহাতেও না হয় এক বাতকর্মের সমান।''

    ---- মাছ খেতে সবচেয়ে ভালবাসতেন?

    গৌড়ীয় বৈষ্ণব মঠের ব্রহ্মচারী বল্লেন--"" তাহলে কল্পনা করুন---- কাকাকে ওনার প্রিয় মাছগুলি রান্নাকরে বাটিতে করে সাজিয়ে দিয়ে বলছেন,-কাকা তুমি খাও। আমার এই নিবেদন গ্রহণ কর।

    রনজনের গলা কেউ চেপে ধরেছে। কী করে বলব! বেঁচে থাকতে কখনও বলিনি, বলার কথা মনেই হয় নি। উনিই আমাদের খাওয়াবেন এটাই তো স্বত:সিদ্ধ ছিল। স্নেহ যে নিম্নগামী। সর্বদা কুশল মঙ্গল তো উনিই নিতেন, চিঠিতেটেলিফোনে। উত্তর না পেলে অভিমান করে ইংরেজিতে চিঠি লিখতেন।

    ( ভিক্তর উগোর ফরাসী বিপ্লব নিয়ে লেখা উপন্যাস ""তিরানব্বুই''য়েযুদ্ধক্ষেত্রে নায়ককে নিজের জীবন বিপন্ন করে বাঁচায় এক অশ্বারোহী। মশালের আলোয় আহত ব্যক্তিকে দেখে চমকে উঠে বিপ্লবী নায়ক বলেন-- " সিমোর্দ্যে! আমার পিতৃতুল্য শিক্ষক!'' মরণাপন্ন ব্যক্তি অস্ফুট স্বরে বলে---""পিতৃতুল্য নয়, পিতৃতুল্য নয়। বল--পিতা''।)


  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২৮ নভেম্বর ২০১০ | ১১৪ বার পঠিত
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন