• বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  গপ্পো

  • বাঙালবাড়ির কিস্‌সা - নবম কিস্তি

    রঞ্জন রায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | গপ্পো | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১১ | ১২৪ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • এলেম আমি কোথা থেকে


    না:, হরিদাস পালের মনের ধন্ধ মেটে না। ইন্দ্র আবার কেমন পদবী। বাবা সলিলকুমার বলছেন বটে-- আমরা ভরদ্বাজ গোত্র, কায়স্থ। কিন্তু পদবী যে ইন্দ্র, রায় তো মুসলমান নবাবদের আমল থেকে ভূমধ্যাধিকারীদের টাইটেল। যত্ত মজুমদার, রায়, চৌধুরি, রায়চৌধুরি ইত্যাদি।
    ( তাহলে চারু মজুমদার, সুশীতল রায়চৌধুরি ইত্যাদি যাঁরা"" জোতদারের জমি কৃষকের মধ্যে বিলি করে দাও"" কেত্তনে আখর দিয়েছিলেন সবাই ভুস্বামীশ্রেণী থেকেই এয়েচেন! ধক্‌ আছে মানতে হবে। দুস্‌ শালা! কার্ল মার্ক্স এর শেষজীবনে চরম আর্থিক কষ্টের সময় বন্ধু এংগেলস্‌ তাঁর কাপড়ের কলের শেয়ারের থেকে পাওয়া ডিভিডেন্ড থেকে সাহায্য করে ওনার পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখেন নি? তবে না ভদ্রলোক "" দাস কাপিটাল"" লিখতে পেরেছিলেন। সেই ডিভিডেন্ডের মধ্যে কতটুকু"" সারপ্লাস ভ্যালু'' ছিল? এসব জিগ্যেস করলে খেলবো না।)
    হু-ঁহুঁ বাওয়া! খালি পেটে বিপ্লবী হয় না,ভিখিরি হয়। বিশ্বেস না হয় বরানগরের মাণিক বাঁড়ুজ্জের "" ছিনিয়ে খায় নি কেন'' গপ্পোটা দেখ। এবার তো পেত্যয় হল?
    আচ্ছা, কম্যুনিস্ট মানিকের কথা ছাড়ান দেও। উনি তো শেষজীবনে কালীভক্তও হয়েছিলেন। তাতে কি? ইদানীংকালের প্রয়াত কমরেড সুভাষ চক্কোত্তি কালীমূর্তিতে পূজো চড়ান নি? তারপর ডংকে কী চোট সে নিজেকে আগে ব্রাহ্মণ, পরে বাঙালী, সবশেষে কমিউনিস্ট -- এমনি কিছু বলেন নি!
    ধেত্তেরি! আজাইর‌্যা প্যাচাল! বাঙাল কারে কয়! এর থেকে কি প্রমাণ হয়?
    প্রমাণ হয়-- নগ্নিকা লোলজিহ্বা খর্পরধারিণী কালীমাঈ আসল প্রোলেতারিয়েত আইকন। তাই বাঙালী সমাজতন্ত্রীরা সহজেই কালীভক্ত হয়ে যান। আজকের মাওবাদীদের দেখুন না! কেমন কথায় কথায় শ্রেণীশত্রুদের ছিন্নমুন্ড নিয়ে গেন্ডুয়া খেলছে! এরাই হল আজকের সাচ্চা কালীভক্ত। আচ্ছা, আরেক কালীভক্তের কথা ধরা যাক। স্বামী বিবেকানন্দ! উনিও তো বলেছেন যে ক্ষুধিতের সামনে ভগবান রুটি রূপে আবির্ভূত হন। তবে?
    আরও পেছনে যাওয়া যাক। উপনিষদে জনকসভায় যা'বল্ক্য কূটপ্রশ্নের কম্পিটিশন জিতে একহাজার স্বর্ণমন্ডিত শৃঙ্গবিশিষ্ট গাভী নিয়ে যাওয়ার সময় বলেছিলেন কি না--- ব্রহ্ম®'র চরণে প্রণাম। আমার গোধনের প্রয়োজন ছিল।
    কি অকপট স্বীকারোক্তি! কোন শাক দিয়ে মাছঢাকা নয়। আর আজকাল? সে রামও নেই, সে অযোধ্যাও নেই।
    আবার! মোদ্‌দা কথাটা কি হল একটু বলবে?
    বলার কি আছে? মোদ্‌দা¡কথাটা হল অন্নই ব্রহ্ম, আর কতবার বলবো? যুগে যুগে বিভিন্ন জনগোষ্ঠি অন্নের অনটন হওয়ায় এক বাসস্থান ছেড়ে নতুন জনপদের সন্ধানে ঘটিবাটি-বোঁচকাবুঁচকি বেঁধে বেরিয়ে পড়েছে। আবার নতুন করে আস্তানা গেড়েছে হয় কোন নদীর তীরে, নয় কোন পাহাড়ের নীচে। তোমাদের খানদানের ব্যাপারটাও ঠিক তাই। তোমারা আদতে বাঙাল নও। ছিলে রাঢ় বাংলার ইন্দ্র। ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় অন্নচিন্তা চমৎকারা হলে লং মার্চ করে গঙ্গা পেরিয়ে গারোপাহাড়ের নীচে ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ সাবডিভিসনের মেঘনা নদীর পাড়ে আঠারবাড়িয়া গ্রামে জঙ্গল সাফ করে বাঘ মেরে বসতি স্থাপন করলে। ইন্দ্র থেকে ক্রমশ: রায় হলে। ছিরু পাল থেকে শ্রীহরি ঘোষ:)))))
    এইসব গালগল্প কোত্থেকে ঝাড়ছো?
    আ®' না স্যার! আমার সোর্স ওয়েল ডকুমেন্টেড। ম্যাকরো পিকচার পাওয়া গেছে হান্টার সায়েবের "" অ্যানালস্‌ অফ রুরাল বেঙ্গল"" থেকে। আর তোমাদের পরিবারের মাইক্‌রো পিকচার পাওয়া গেছে হরিদাস পালের ঠাকুর্দার বাবা, অর্থাৎ প্রপিতামহের হাতে লেখা পুঁথি থেকে। ওনার আত্মজীবনী।
    আচ্ছা, তখন বীরভূমে ব্রাহ্মণ ছাড়া ভূস্বামী কোথায়? কায়স্থ কোথায়? বেশির ভাগ তো আগুরি মানে উগ্রক্ষত্রিয় বা পৌন্‌ড্র্‌ক্ষত্রিয়।
    --- শালা! কি বলতে চাস্‌? আমরা হয় আগুরি , নয় পোঁদ? ওই ""হারাধন পোঁদ ক্ষেতে লাঙল দিতেছে'' গোছের ব্যাপার? ফোট্‌!
    --আহাহা, রাগ করছো কেন? তার চেয়ে তোমার প্রপিতামহ গগনচন্দ্র রায়ের হাতে লেখা আত্মজীবনী থেকে দু'পাতা পড় না ক্যানে?
    --বেশ, এই শুরু করলাম।
    আত্মকথা অর্থাৎ নিজবংশ বিবরণী।
    শ্রীগগন চন্দ্র রায় প্রণীত। সা ডি: কিশোরগঞ্জ, জেলা ময়মনসিংহ।
    শ্রীবৃন্দাবনধামে গ্রন্থ প্রণীতকরা হইল

    উৎসর্গপত্র।
    ভক্তবীর স্বর্গীয় খুল্লপিতামহ ঈশ্বর জয়গোবিন্দ রায়মহাশয়ের
    শ্রীচরণে ভক্তি ও প্রীতির নিদর্শনস্বরূপ এই গ্রন্থ উৎসর্গীকৃত হইল।
    সেবকাধম
    শ্রীগগনচন্দ্র রায়, ১৩৩১ সাল।

    সালটা দেখেছ? বঙ্গাব্দ ১৩৩১ মানে ইংরেজি ১৯২৪ সাল। ভদ্রলোক জন্মেছিলেন বাংলা ১২৬৪ , অর্থাৎ ১৮৫৭ সালে। মানে সিপাহী বিদ্রোহের বছরে। প্রথম লেখা শুরু করেন ১৩ই ভাদ্র, ১৩০৩ সনে,অর্থাৎ ২৮/৮/১৮৯৬ সালে। নিজের ৩৯ বছর বয়সে লেখা শুরু করেন, শেষ করতে পারেন নি। শেষ করলেন ৬৭ বছর বয়সে, সন্ন্যাসী হয়ে। এই দেখ:
    "" বৃন্দাবনে অন্ধকোঠরীতে বসিয়া প্রদীপের আলোয় লিখিতেছি--''।
    -কেন? প্রদীপের আলো বুঝলাম, কিন্তু বৃন্দাবনের অন্ধকোঠরী!
    আরে আগে বলেছি না, উনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। ছাত্রাবস্থায় একটি ব্রাহ্মপরিবারে যাতায়াত ছিল। সেই দেখে আঠারবাড়িয়ার পন্ডিতেরা মায়ের অসুখের মিথ্যে টেলিগ্রাম পাঠিয়ে ওকে ডেকে এনে শাস্ত্রবিচারে বসালেন। এই দেখ ব্রাহ্মধর্মের প্রভাব নিয়ে কি লিখেছেন:
    "" মহারথী কেশববাবুর রণজয়বাদ্যরূপ বক্তৃতা যদিও ময়মনসিংহ পর্য্যন্ত ধ্বনিত হইয়াছিল, কিন্তু কিশোরগঞ্জে অনেক মনস্বীও স্বত:পরত: সে ধ্বনির মর্ম অবগত হইয়া নূতন কননাদিনী ধর্মস্রোতে গা ভাসাইয়া ছিলেন।''
    তারপর পাকাচুল পন্ডিতদের সঙ্গে স্কুলের পড়ুয়া ছেলের শাস্ত্রবিচার? ফলাফল তো জানাই ছিল। সাউথ আফ্রিকার পিচে বাংলাদেশ খেলতে নামলে যা হয়! বিতর্কের পূর্বশর্ত অনুযায়ী উনি হেরোপার্টি হওয়ায় আজীবন নিষ্ঠাবান সনাতনী হিন্দু হয়ে চতুরাশ্রম পালন করলেন; যথারীতি প'¡শবছর বয়সে জমিজিরেত ছেলেকে বুঝিয়ে দিয়ে রমরমা ওকালতি ছেড়ে বাণপ্রস্থে গেলেন। তারপর সন্ন্যাস নিয়ে বৃন্দাবনে গিয়ে ওই কুঠিয়ায় থাকা, রোজ মাধুকরী করে যা চালডাল পাওয়া গেল তা' সন্ধ্যেয় ফুটিয়ে নিয়ে খাওয়া। তাই রাত্তিরে "'অন্ধকোঠরীতে বসিয়া"" লেখা।
    ( সে কি? মাধুকরী কাকে বলে জান না? খালি মাধুরী দীক্ষিত চিনেছ! "" মাধুকরী''বৃত্তি মানে মৌমাছির মত ঘুরে ঘুরে আহার সংগ্রহ। গোদাবাংলায় দরজায় দরজায় " ভিক্ষে দাও গো ব্রজবাসী' বলে একমুঠো চালের জন্যে ঝোলা এগিয়ে দেয়া।)
    আচ্ছা, সন্ন্যাস নিয়ে উনি অতদূরে বৃন্দাবনে গেলেন কেন? এর উত্তর ওনার লেখায় নেই?
    আছে, এঁরা বংশপরম্পরায় ত্রিপুরার পত্তন জনপদের গোস্বামীপরিবারের মন্ত্রনেয়া যজমান। এঁর পূর্বপুরুষ বৃন্দাবন থেকে শালগ্রাম শিলা এনে বাড়িতে নাটমন্দির করে স্থাপন করেন। আসতে প্রায় একমাস লেগেছিল। বেশির ভাগ পথ গরুর গাড়িতে যেতে হত কি না। আরে সে সব তো অনেক আগের কথা, কোম্পানীর আমলের। ইনি তো মহারাণী ভিক্টোরিয়ার জমানার বাংলাদেশে জন্মেছিলেন। তখন কোলকাতায় স্যার রাসবিহারী ঘোষের জুনিয়র হয়ে দীঘাপাতিয়া এস্টেটের মামলা জিতিয়ে একটি দামী শাল উপহার পেয়েছিলেন। তা তখন কোলকাতা যাতায়াত শুরু হয়েছিল নিশ্‌চয়ই।
    ---- শুরু হলেও ময়মনসিংহ থেকে কোলকাতা যাতায়াত সহজ ছিল না।
    "" কলিকাতা যাতায়াত তখন দুর্গম ছিল। শিয়ালদহ গোয়ালন্দ লাইন সে সময়ে হয় নাই।'' তার মানে উনি যখন লিখছেন, সেই ১৯২৪ এ শেয়াল্‌দা' লাইন খুলে গেছে।
    ---- আর বৈষ্ণবধর্মের কথাটা? পরিবারের রীতিরেওয়াজ?
    "" এই পরিবারে মাংসভক্ষণ পুরুষানুক্রমেই নিষিদ্ধ। কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষাগ্রহণ ও মহাপ্রভূর পন্থায় বৈষ্ণবধর্মের আচারাদি পালন এই পরিবারের কুলধর্ম।''
    হায় হরিদাস পাল! তোমাদের অমন পরিবারে দাদুর সময়ে পাঁঠার মাংস রান্নাঘরে ঢুকল, আর তোমার বাবার সময়ে রামপাখি। তোমার সময়ে তো নিষিদ্ধ মাংস বলে কিছুই রইল না।
    অমন হায়-হায় করার কিছু নেই। কঠোর এবং শুকনো বৈষ্ণব আচারবিধির সঙ্গে বাস্তব জীবনে কিছু ব্যতয় ঘটে। তাই ওনার জ্যেঠা রাজকৃষ্ণ রায়ের সময়ে---
    "" ছেলেমেয়েদিগের কর্ণভেদ ও চূড়াকরণ ব্যাপার খুব ধুমধাম ও সমারোহে সুসম্পন্ন হয়। তাহাতে প্রসিদ্ধা স্বরূপাবাইজির নাচ্‌ ও গান বিশেষ উল্লেখযোগ্য।''
    হরে মুরারে! নিষ্ঠাবান ধার্মিক মানুষের কাছেও নামকরা বাইজি ডেকে নাচগান পরিবারের ইতিহাসে বিশেষ উল্লেখযোগ্য? কেমন যেন "জলসাঘর' এর বিশ্বম্ভর রায়েদের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে!
    তা পেতেই পার। হান্টার সায়েবের অ্যানালস্‌ অফ রুরাল বেঙ্গলে বীরভূম - বাঁকুড়া-পুরুলিয়া এলাকার ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময়ের বর্গি-পিন্ডারিদের লুটপাট , কলেক্টরদের রাজধর্ম পালন না করার যে ছবি পাওয়া যায় তা বঙ্কিমচন্দ্রের আনন্দমঠ ও দেবী চৌধুরাণীতে দেয়া বর্ণনার সঙ্গে বেশ মেলে। কে জানে উনি হান্টার সায়েবের থেকে টুকেছিলেন কি না!
    গগনচন্দ্রের কথা অনুযায়ী বাঙ্গলা ১১০০ শতাব্দির মধ্যভাগে ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সময় ইন্দ্রবংশের আদিপুরুষের পুত্র গন্ধর্বনারায়ণ ইন্দ্র ময়মনসিংহ জেলার দক্ষিণপূর্বে মেঘনানদীর পাড়ে হাজরাদি পরগণার মৌজা আয়রন জঙ্গলবাড়ির দেওয়ানসাহেব সরকার হইতে তালুকী সনদ গ্রহণে তালুক হাসিল করেন। তারপর ওই প্রাকৃত নাম আয়রন বদলে আঠারবাড়িয়া করেন।
    "" সেই ছিয়াত্তরের মন্বন্তর যখন করালবদন বিস্তার করত: পূর্ব্ব ময়মনসিংহ আক্রমণ করিল তখন বানপ্লাবনে বহুলোকের গৃহাদি ও গরু বাছুর জলে ভাসিয়া গেল।''
    ---না: এবার বোর লাগছে। তা তোমার সেই প্রপিতামহের আত্মজীবনীতে সাবাল্টার্ন লাইফের কোন তথ্য আছে? যেমন জমির খাজনা কত ? বাজার-হাটের বর্ণনা? খালি স্বরূপাবাইজির কথা বললে চলবে?
    -- উনি কি জানতেন যে বিংশ শতাব্দীতে রণজিৎ গুহ- গায়ত্রী স্পিভাক চক্রবর্তিরা মিলে একটা অন্যরকমের ইতিহাস, ধোপা-নাপিত-কামার-কুমোরের ইতিহাস লেখার জন্যে গজল্লা করবেন? তবে এইটা লিখেছেন যে জ্যেঠা রাজকৃষ্ণ অত্যন্ত ধার্মিক ও ""নামে রুচি,জীবে দয়া, ভক্তি ভগবানে'' গোছের লোক ছিলেন। খরা-বন্যা-মহামারীর সময় প্রজাদের জন্যে ধানের গোলা খুলে দিতেন, যে যা চাইত ধার দিতেন, হিসেব রাখতেন না। দিয়ে খুশি হতেন। একেবারে টিমন অফ এথেন্স! ফলটাও হাতে হাতে পেলেন। লোকে ধার শোধ করতে ভুলে গেল। আস্তে আস্তে ওনার তালুকদারীর নৌকোয় ফুটো হতে লাগল। ফলে দশবছর বয়সে পিতৃহীন গগনচন্দ্রকে ইংরেজি স্কুলে পড়ার জন্যে দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে রেঁধে বেড়ে খেয়ে থাকার শর্তে নওয়া-যশোদল যেতে হল। সেখানে আবার স্কুলে স্ট্রাইক ও হয়েছিল, ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে, স্কুল বন্ধ হল, তার ব্যাপক গল্প আছে।
    হে-হে, বংশের ধারা যাবে কোথায়? আম্মো না নাকতলা স্কুলে ১৯৬৬তে স্ট্রাইক করিয়েছিলাম।
    --ঢের হয়েছে। এবার একটা চুটকি গল্প বলে শেষ কর, খালি প্যারাবলের মত শেষে কোন মর‌্যালিস্ট লেকচার দিও না।
    আচ্ছা, তবে শোন। ওনার বিবরণ অনুযায়ী ওনার জ্যাঠতুতো ভাই কৃষ্ণচন্দ্র রায় অতীব সুপুরুষ তরুণ যুবা। সেকন্দের দরগার ফকীরের শাপে রাতারাতি বদ্ধ উন্মাদ হয়ে গিয়েছিলেন। তারপর থেকেই পারিবারিক দুর্দিনের শুরু।
    --এর মধ্যে একটি আসরজমানো গল্প কোথায়?
    সে গল্প গগনচন্দ্রের লেখায় নেই, আছে ওনার ছেলে সতীশচন্দ্রের নাতিদের কাছে গল্পটি বলার ভঙ্গীতে।
    (সেই গল্প থাকছে পরের কিস্তির কিস্যায? )
  • বিভাগ : ধারাবাহিক | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১১ | ১২৪ বার পঠিত
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন