ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • সলিল চৌধুরী ও রাহুল দেব বর্মণ

    ন্যাড়া লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২০ জানুয়ারি ২০১৪ | ১০৫২ বার পঠিত
  • [ লেখাটা অন্যত্র শুরু করেছিলাম ]

    সলিল চৌধুরী আর রাহুল দেব বর্মন - মেলোডির দুই রাজা । দুজনেই কমার্শিয়াল গানের জগতে নিজেদের পেশাদার জীবন গড়ে তুলেছিলেন । অথচ সঙ্গীতের অপ্রোচে দুজনে দু পথের পথিক । সলিল চৌধুরীর আকর্ষণ জটিল সঙ্গীতিক নির্মাণে, অন্যদিকে রাহুল দেব বর্মন সুরের সহজ চলনে বিশ্বাসী । অ্যারেঞ্জমেন্টে সলিল প্রথম জীবনে ধ্রুপদী - বিশেষতঃ পশ্চিমী আঙ্গিকে, শেষের জীবনে তৎকলীন পশ্চিমী রক-পপ ঘরানার অনুসারী । রাহুল প্রথম থেকেই নিজের মতন পাঁচমিশেলি আঙ্গিক তৈরি করে নিয়েছেন । সলিল চৌধুরী যেখানে ঘন স্ট্রিংস আর বাঁশির বুনিয়াদে সঙ্গীতের প্রাসাদ গড়ছেন, রাহুল দেব বর্মনের সাঙ্গীতিক ইমারত সেখানে পার্কাশান আর গিটার ভিত্তিক ।

    কিন্তু সলিল ও রাহুল দুজনেরই কিন্তু সাঙ্গীতিক রসদের ভাঁড়ার লোকসঙ্গীত । দুজনের সঙ্গীতের মূল কিন্তু সেখানেই । তার সঙ্গে ছেলেবেলা থেকেই মিশেছে পশ্চিমি সঙ্গীতের শ্রবণাভ্যাস । সলিলের ক্ষেত্রে পশ্চিমি ধ্রূপদী সঙ্গীত, রাহুলের ক্ষেত্রে জ্যাজ, পপ ও পরে রক । তার মানে এ অবশ্যই নয় যে দুজনেই সব ধরণের গানে অসামান্য জ্ঞানভান্ডার গড়ে তোলেন নি । সুমন চট্টোপাধ্যায়ের লেখায় জানতে পারি নিউ ইয়র্কের কোন এক জ্যাজ ক্লাবে এক জ্যাজ সঙ্গীতকারকে সলিল জ্যাজের কর্ড প্রোগ্রেশন নিয়ে এমন ফান্ডা দিয়েছিলেন যে সেই সঙ্গীতকার স্বীকার করেন এমন ফান্ডাবাজ সঙ্গীতজ্ঞ তিনি আর দেখেননি ।

    যদি ধরে নিই যে সঙ্গীতনির্মাণ কোন গভীর মনোবৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া, যেখানে চেতনের থেকে অবচেতনের প্রভাব বেশি - তাহলে অবশ্যই সঙ্গীতের বাইরে আর কী কী এলিমেন্ট এই দুই ধুরন্ধর সঙ্গীত ব্যক্তিত্বর বেড়ে-ওঠা-সময়ে জীবনে প্রভাব ফেলেছিল সেটা জানা এনাদের সঙ্গীত বিশ্লেষনে প্রয়োজন হবে। অথচ এই দিকে গালগল্প যত চলে, ঠিকঠাক তথ্যের চালান তত নেই । সলিল চৌধুরীর তাও অর্ধসমাপ্ত একটি আত্মজীবনী আছে, রাহুলের তো তাও নেই ।

    এনাদের গানের একটা তুলনামূলক আলোচনা শুরু করার একটা ভাল জায়গা হল এনাদের এমন কোন গান বেছে নেওয়া যেখানে কোথাও একটা সাধারণ সূত্র আছে । সেরকম একটা গান হল সলিলের "পল্লবিনী গো সঞ্চারিণী" আর রাহুলের "তুম মেরি জিন্দগীমে কুছ এইসি তরাহ সে আয়ে"। দুটি সুরই একই সুর থেকে অনুপ্রাণিত ।

    প্রথমে শুনুন সলিলের "পল্লবিনী" । গানের প্রিলিউড থেকেই অ্যাকোর্ডিয়ান আর বঙ্গোর সঙ্গত গানের উচ্ছল মেজাজ তৈরি করে দেয় ।

    http://www.youtube.com/watch?feature=player_embedded&v=HQaitde3dyY

    রাহুল তাঁর গানটি ব্যবহার করলেন "বম্বে টু গোয়া" ছবির জন্যে । গানের শুরু হচ্ছে লতার হাল্কা হামিং দিয়ে । তৈরি করছে - যাকে বলে - "সফট রোমান্টিক" মেজাজ । (যে রেকর্ডিং শুনছেন, তার প্রথম গিটার লীড পরে যোগ করা ।)

    http://www.youtube.com/watch?feature=player_embedded&v=s3gGoYM5b2A

    প্রথম থেকেই গান দুটির মেজাজের তফাত স্পষ্ট । খুব তৈরি কান ছাড়া মিল খুঁজে পাওয়া দুরূহ । কিন্তু মূল সুর শুনলে মিল পরিষ্কার হয়ে যাবে । (একবার মূল সুরের সঙ্গে 'পল্লবিনী' গুনগুন করুন, দ্বিতীয়বার 'তুম মেরে' গুনগুন করুন । দুবারই খাপে খাপ মিলে যাবে ।) মূল সুরটি চার্লি চ্যাপলিনের লাইমলাইট ছবিতে ব্যবহার করা হয়, সম্ভবতঃ চ্যাপলিনের নিজের কম্পোজিশন । এবার শুনুন মূল সুরটি -

    http://www.youtube.com/watch?feature=player_embedded&v=3S_9wiT67gs

    মুক্তছন্দের মূল সুরকে সলিল ফেললেন ৪/৪ ছন্দে, ষোলমাত্রায় । রাহুল ফেললেন ৩/৪ ছন্দে পশ্চিমি ওয়াল্টজের চলন - যা গানটির সফট রোমান্টিক মেজাজ আনতে সাহায্য করছে । সুরকারদের এটা একটা প্রচলিত কায়দা - মূলের সুর মোটামুটি এক রেখে তাল-লয় বদলে গানের অবয়ব বদলে দেওয়া। আপাতভাবে সলিল সুরের বেশি কাছাকাছি মনে হবে। যদিও হয়তো তা নয়। সলিল বিদেশী পিসের প্রথম অংশকেই নিজের গানের প্রথম লাইনে ব্যবহার করেছেন। রাহুল ডালপালা ছেঁটে সেই সুরই ব্যবহার করলেন। এটও লক্ষ্যণীয় যে, সুরের চলনে যেটুকু বিদেশী গন্ধ আছে, যেমন কিছু অ্যাক্সিডেন্টাল নোটসের ব্যবহার, সেগুলো সলিল-রাহুল দুজনেই পরিহার করলেন।

    আসলে এই দুই সুরকারই যখনই যেখানে নেবার মতন কোন মিউজিকাল এলিমেন্ট পেয়েছেন, তা সচ্ছন্দে গ্রহণ করেছেন। কিন্তু নির্বিচারে নয়। নিজেদের মতন গড়ে-পিঠে নিয়ে ব্যবহার করেছেন। রাহুলের ক্ষেত্রে অভিযোগ যে বহু বিদেশি সুর তিনি "চুরি" করেছেন। এ অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই রাহুল প্রথম কয়েকটি বারের বেশি নেননি। এবং যে অংশ নিয়েছেন তাকেও নিজের মতন বদলে নিয়েছেন। সলিলও যখন মোৎজার্টের সিম্ফনির সুর ব্যবহার করছেন, তখনও কিন্ত ২/৪ কে পাঁচমাত্রা ফেলে এবং লয়ের পরিবর্তন করে অন্য রূপ দেবার চেষ্টা করছেন।

    +++++++++++++++++++++++++++++++++

    সলিল বা রাহুল কেউই খুব কড়া রাগভিত্তিক গান বানাতে পছন্দ করতেন বলে মনে হয়না । তবে যেহেতু দুজনেই মূলতঃ ছবির জন্যে গান বানাতেন, বিভিন্ন সিচুয়েশনে রাগনির্ভর গান বানাতে হয়েছে । এর বাইরে বেসিক গানে দুজনেই রাগ ব্যবহার করেছেন খুবই নিয়ন্ত্রিতভাবে, এবং প্রায় সব সময়েই রাগরূপকে প্রকট না করে ।

    রাগ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সলিল কিন্তু রাগের চলন বা পকড় প্রতিষ্ঠা করে দিতেন প্রথমেই। রাহুল আনতেন এক দু লাইন পরে। অবশ্যই ব্যতিক্রম আছে। এমনকি এমনও বলতে পারি যে ব্যতিক্রমের সংখ্যা এত বেশি যে আগের মন্তব্য হয়ত করা ঠিকই নয়। তবু সেই মন্তব্যের স্বপক্ষে কয়েকটা উদাহরণ দিই।

    কলাবতী রাগকে ভিত্তি করে সলিল চৌধুরীর বেশ গুটিকয়েক গান আছে । এর মধ্যে ধরা যাক ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের গলায় "ঝনন ঝনন বাজে" গানটি । পঞ্চাশের দ্শকে তৈরি গান। প্রথম লাইনেই কলাবতী পরিষ্কার। অন্তরাতে গিয়ে গানের চলন বদলে যাচ্ছে।

    ঝনন ঝনন -


    আরেকটা কলাবতীভিত্তিক গান, "লাল পাথর" ছবিতে সবিতা চৌধুরী আর শ্যামল মিত্রর যৌথ - "ডেকোনা মোরে ডেকোনা গো আর"। এখানেও প্রথম লাইন থেকেই রাগ চিনতে অসুবিধে হয়না।

    ডেকোনা মোরে -


    অথচ এই কলাবতী (বা মিশ্র কলাবতী) রাগে রাহুলের গান - "বল কী আছে গো" নিজের গলায়, যার হিন্দি গেয়েছিলেন মান্না দে ও লতা মঙ্গেসকর জুরমানা ছবিতে, "এ সখী, রাখিকে"। কলাবতীর চলন প্রতিষ্ঠিত হয় কিন্তু, গানের আভোগে নয়, অন্তরায় গিয়ে - "চকিত চাহনী যেন দেখেও না দেখা"। আভোগ বা মুখড়ার দু-লাইনে রাহুল রাগকে আস্তিনের তলায় লুকিয়ে রাখেন।

    বল কী আছে গো -


    এ সখী -


    এরকম আরেকটা উদাহরণ শিবরঞ্জনী রাগে। সলিল করলেন "ধরণীর পথে পথে আমিও পৌঁছে যাব"। গাইলেন একবার সুবীর সেন, একবার লতা মঙ্গেশকর। প্রথম থেকে শিবরঞ্জনী প্রতিষ্ঠিত। এবং সলিলের যা রীতি, অন্তরাতে গিয়ে রাগ গৌণ, সলিলের সুর মুখ্য হয়ে পড়ল।

    ধরণীর পথে পথে - সুবীর সেন


    রাহুল মিশ্র শিবরঞ্জনীতে করলেন "মেরে নয়না সাওন ভাদো" - মেহেবুবা ছবির জন্যে কিশোরকুমার আর লতা মঙ্গেশকর আলাদা দুটি গান গাইলেন। এখানে পকড়ের ছবি পাওয়া যাচ্ছে, পাশ্চাত্য রক-পপে যাকে গানের হুক বলে সেই অংশে, দ্বিতীয় "ফির ভি মেরা মন পেয়াসা" উচ্চারণে। গানের প্রথমেই নয়।

    মেরে নয়না - কিশোরকুমার


    এবার উল্টোদিকে - শেষ জীবনে (১৯৯০ সালে) করা গান, নন্দ বা আনন্দী কল্যাণ রাগে হৈমন্তী শুক্লা গাইলেন, "মন বন পাখী চন্দনা"। প্রথম লাইনের নন্দবাবুকে চিনে নেওয়া গেল।



    রাহুল মিশ্র নন্দ রাগে করলেন "যেতে দাও আমায় ডেকোনা"। এখানে বরং প্রথম লাইনে নন্দবাবুকে ধরা যায় কিছুটা।

    যেতে দাও আমায় -


    সলিল চৌধুরী করলেন অন্তরা চৌধুরীর জন্যে বেহাগ-আশ্রিত "না দির দির দা, তুম না তুম, নাচ তো দেখি আমার পুতুলসোনা", প্রথম লাইন থেকে বেহাগ খুলে পড়া যায়।

    না দির দির দা -


    যেমন যায় প্রায় একই সময়ে করা - সত্তরের দশকের প্রথম দিকে - "আপ কি কসম" ছবির জন্যে রাহুলের সুরে কিশোরকুমারের "জিন্দেগীকে সফর মেঁ গুজর যাতে হ্যায়" গানে।

    জিন্দগীকে সফর মেঁ -


    আগেই যে বললাম, খুব কড়া রাগভিত্তিক গান তৈরি করতে কি সলিল, কি রাহুল, কেউই পছন্দ করতেন না। কিন্তু ছবির সিচুয়েশন অনেক সময়ই রাগভিত্তিক গানে চেয়েছে। সেরকম ক্ষেত্রে এনারা রাগের পরিসীমার মধ্যে থেকেই যতটা সম্ভব নিজেদের সাঙ্গীতিক উদ্ভাবনী দেখিয়েছেন। এমনই একটি গান - সলিলের বিখ্যাত হংসধ্বনী, "যা তোসে নহি বলুঁ কানহাইয়া"। একদম রাগদারী গান, প্রথম লাইন থেকেই।



    এ গানেরই বাংলা করলেন শেষ জীবনে, গাওয়ালেন হৈমন্তী শুক্লাকে দিয়ে -



    রাহুল এমতাবস্থায় বহুবার বাবার খজানায় হাত বাড়িয়েছেন - যেমন কিনারা ছবিতে "মিঠে বোলে বোলে" শচীনের বিখ্যাত বাংলা ভৈরবী "মধুবৃন্দাবনে দোলে রাধা"-কে ফিরিয়ে আনে।

    মিঠে বোলে বোলে -


    মধুবৃন্দাবনে -


    অথবা ইজাজত ছবির "খালি হাত শাম আয়ি হ্যায়" গানে ফিরিয়ে আনলেন কর্তার "মালাখানি ছিল হাতে" গানের বন্দিশ।

    খালি হাত -


    মালাখানি -


    অথচ এমনটা নয় যে বাবার খজানা ছাড়া এই ধরণের সিচুয়েশনে রাহুলের কোনরকম অসুবিধে হত। অমর প্রেম ছবিতে "রহনা বীত যায়" কি "কুছ তো লোগ কহেঙ্গে" অথবা "বড়া নটখট হ্যায় ইয়ে" গানেই তার প্রমাণ। অথবা পরিচয় ছবির "বিতি না বিতায়ি রহনা"।

    বিতি না বিতায়ি -


    "বড়া নটখট" সম্বন্ধে গল্প চলে যে সাধাসিধেভাবে রাগের চালু বন্দিশে ফেলে কাজ সারতে চেয়েছিলেন রাহুল। বাবা বর্মন নাকি ছেলে বর্মনকে কড়কানি দেন এই বলে যে, এই গানে তুমি কী যোগ করলে? যে কোন সঙ্গীত পরিচালকই তো রাগে ফেলে এই গান বানাতে পারে। এই ধাঁতানির পরে শোনা যায় রাহুল গানটিকে খাম্বাজে রেখে নতুন করে সাজান। শেষ পর্যন্ত যে গানটি দাঁড়ায় সেটি এই -

    বড়া নটখট -


    +++++++++++++++++++++++

    আগেই বলেছি সলিলের আকর্ষণ সুরের জটিল বিন্যাসে। রাহুল সে তুলনায় অনেক সহজপন্থী। "ফুলে গন্ধ নেই" কিংবা "পেয়ার দিওয়ানা হোতা হ্যায়" (বাংলা - গুণ গুণ গুণ কুঞ্জে
    আমার) সহজ মেজর কর্ডের নোট প্যাটার্ন দিয়ে শুরু হয়। বলছি না যে রাহুলের সব, এমনকি বহু সুরই, এমন সরল। কিন্তু সহজ গাণিতিক সুর করতে রাহুল পেছপা হতেন না। সলিলও অনেক ক্ষেত্রে গাণিতিক - কিন্তু সে হায়ার ম্যাথেমেটিক্স। গাণিতিক সুর বলতে কী বলতে চাইছি সেটা পরিস্কার করে দিই। যদি সুরের ফ্রেজগুলো মূলতঃ চালু কর্ডের (মেজর, মাইনর ইত্যাদি) নোট ফলো করে, ফ্রেজগুলো যদি চালু কর্ড প্রগ্রেশন মেনে ট্রানসপোজড হয়ে (এক, চার, পাঁচ - যেমন সি মেজর, এফ মেজর, জি মেজর ইত্যাদি), তাহলে তাকে গাণিতিক সুর বলছি। সহজ গাণিতিক সুরের চালু উদাহরণ - "ইন্দি-বিন্দি-সিন্দি"। সুরের এই চলন, বোঝাই যায়, খুবই পশ্চিমি।

    সলিলের সুরের আরেক বৈশিষ্ট্য নোটেদের লাফালাফি। এই রয়েছে তার সপ্তকের সা-তে, এই লাফ দিয়ে নেবে এল মধ্য সপ্তকের রে-তে। নীচু থেকে উঁচু নোটে লাফ দিয়ে যাবার উদাহরণ তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য। উল্টোদিকের উদাহরণ, উঁচু থেকে নীচে লাফ দিয়ে নাবা - সে বরং অনেক কম। রবীন্দ্রনাথে পাই, "যেতে যেতে একলা পথে" গানে "ঝড়কে পেলেম সাথী" লাইনে সা-থী শব্দের সুরে। একেই চার-পাঁচ দিয়ে গুণ করলে পাবেন সলিলের "ও ঝর ঝর ঝরণা, ও রূপালী
    বর্ণা" বা "ও বাঁশি কেন গায়, আমারে কাঁদায়" ধরণের গান। লাফ দিয়ে চলা সুর খুব পশ্চিমি ব্যাপার। অনেকদিন আগে দ্বিজেন্দ্রলাল তাঁর গানে দার্ঢ্য আনতে শৈল্পিকভাবে ব্যবহার করতে পেরেছিলেন সুরের এই উল্লম্ফনকে।

    সলিল-রাহুল এই দুজনের সুরেই তাই পশ্চিমি ছায়া স্পষ্ট। দীর্ঘদিন আগে, গণনাট্য সঙ্ঘ যুগে, ঠিক এই নিয়ে হেমাঙ্গ বিশ্বাসের সঙ্গে সলিল চৌধুরীর এক বিখ্যাত তর্ক হয়েছিল।
    হেমাঙ্গ বিশ্বাস বলেছিলেন যে সংস্কৃতির ক্ষেত্রে স্তালিনের বক্তব্য "নতিওনল ইন ফোর্ম, সোিঅলিস্ত ইন োন্তেন্ত" হতে হবে। এই গান যারা শুনবে, শুনে উদ্বুদ্ধ হবে তারা
    মাটির কাছের মানুষ। তাদের কাছে দেশজ সুরের মাধ্যমে মেসেজ পৌঁছবে তাড়াতাড়ি। গানের সুরের এই পশ্চিমি চলন তাঁর একেবারেই না-পসন্দ ছিল। সলিল চৌধুরীর বক্তব্য ছিল যে তাঁরা যাদের বিরুদ্ধে লড়ছেন, তারা ফর্মের দিক থেকে অন্ত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে পড়েছেন। যেমন আধুনিক কামান-বন্দুকের মতন যুদ্ধাস্ত্রের বিরুদ্ধে টাঙি-বল্লমের মতন দেশজ
    অস্ত্র দিয়ে লড়াই চালান যায় না, তেমনি গানের লড়াইও করতে হবে যেখানে যেরকম আধুনিক উপায় আছে - সে সব ব্যবহার করে। পশ্চিমি চলনে বাঁধা গান সুন্দরবনের প্রত্যন্তে
    মানুষ শুনছেন, উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

    এই তর্কের মধ্যে রাজনীতির অংশ ছেড়ে দিলেও দেখব যে এই পশ্চিমি অনুপ্রেরণা, পশ্চিমি চলন, পশ্চিমি নকলনবিশির ভূত তাড়া করে বেরিয়েছে সলিল-রাহুল - দুজনকেই। অবস্থা এমনই হয়েছিল যে "সুরসিঙার" নামে একটি বিখ্যাত সংস্থার অতি নামী পুরস্কার যখন রাহুল দেব বর্মন তাঁর "ও গঙ্গা মাইয়া" গানের জন্যে প্রায় পেয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সংস্থার কর্ণধারদের মাথায় হাত পড়ে যায়। কেননা, ঐ সংস্থা ও পুরস্কার ভারতীয় বনেদী সঙ্গীতের জন্যে উৎসর্গীত। রাহুল দেবের মতন একজন পশ্চিমি লারেলাপ্পাপন্থী কী করে সেই পুরস্কার পেতে পারেন, সে তাঁর একটি গান যতই ভাল হোক না কেন। এ তো গরহিত অপরাধ। সে যাত্রায় অব্শ্য ভারতীয় সংস্কৃতির অতলস্পর্শী পতন শেষ মুহুর্ত্যে রক্ষা করা গিয়েছিল রাহুলের বদলে অন্য এক সঙ্গীত পরিচালককে পুরস্কার দিয়ে।

    তো যা বলছিলাম - যেহেতু সলিলের সুরে জটিলতা, সলিলের প্রয়োজন ছিল অনুশীলিত গলার।বম্বে যাবার পরে, এবং লতা মঙ্গেশকর নামের গান্ধর্বীর সঙ্গে কাজ শুরু করার পরে সলিল
    হাত খুলে সুর করতে পারলেন। যদিও সলিল বহু আনট্রেন্ড গলার সঙ্গে কাজ করেছেন। সলিল-হেমন্ত জুটি তো কিংবদন্তী। অবশ্য সলিল জনান্তিকে মন্তব্য করেছেন হেমন্তর জন্যে নিজের বহু সুরকে সরল করতে হয়েছিল। এ বক্তব্যে হালকা আক্ষেপ থাকলেও মনে রাখতে হবে হেমন্তর কন্ঠমাধুর্যের - গলার টিম্বারের - খুব ভক্ত ছিলেন সলিল। বলেছিলেন ঈশ্বরের
    গান গাইতে ইচ্ছে হলে তিনি হেমন্তর গলায় গান করেন। এছাড়াও সময়ে সময়ে চিত্রতারকা বিশ্বজিৎ থেকে তৎকালীন মাচার উঠতি জুটি কার্তিককুমার-বসন্তকুমারকে দিয়ে গান করিয়েছেন সলিল। তা সত্বেও দেখছি জীবনের প্রথম দিকে সলিলের গান গাইছেন ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য, উৎপলা সেনরা। মৃণাল চক্রবর্তীর লেখায় আক্ষেপ দেখি পয়সার জন্যে "উজ্জ্বল এক ঝাঁক পায়রা" মৃণাল না পেয়ে পেলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। এ কথা যদি সত্যিও হয় (মিথ্যে ভাবার কোন কারণ নেই), তাহলেও বলতে হয় সন্ধ্যার ট্রেনড ভয়েস গানটিকে যে উচ্চতায় নিয়ে যায়, মৃণালের গলায় গানটা সে উচ্চতায় উঠত কিনা জানা নেই। যদিও মৃণালেরও যথেষ্ট ট্রেন্ড গলা, কিন্তু সন্ধ্যার অনুশীলন সেখানে নেই।

    রাহুলের প্রয়োজন ছিল ভোকাল ক্যালিস্থেনিকসের। যা তিনি পেয়ে গেছিলেন কিশোরকুমার আর আশা ভোঁশলের গলায়। এবং ষাটের দশকের মান্না দে-তে। এমনকি এও শোনা যায় রাহুলের যুগান্তকারী "মেহবুবা মেহবুবা" গানটি আদতে মান্নাবাবুর গাইবার কথা ছিল। মান্না দে-র বম্বেতে নাম ও পসার রাগগন্ধী ভারী গান গেয়ে। রাহুল মান্নাকে দিয়ে যেমন "বুডঢা মিল গয়া" ছবিতে খাম্বাজে "আয়ো কহাঁসে ঘনশ্যাম" গাইয়েছেন, তেমনি - বরং তার অনেক আগে মেহমুদের "ভূত-বাংলা"-র জন্যে গাইয়েছেন "আও টুইস্ট করে" - যাতে
    মান্না দেখিয়েছিলেন ভোকাল ক্যালিস্থেনিক্সে তিনিও কম যান না। বোধহয় এই ভোকাল ক্যালেস্থেনিক্সের কারসাজি না দেখাতে পারার কারণে রফি সাহেব রাহুলের গানে বঞ্চিত
    হন জীবনের শেষের বছর দশেক। রাহুলের দলে যিনি গিটার বাজাতেন, ভূপিন্দর সিং গাইয়ে হিসেবে শুধু আবির্ভূতই হন না, "বিতি না বিতায়ি"-র মতন গানে লতাবাঈয়ের সঙ্গে প্রায় রফি-সম টক্কর দিয়ে যান। এর বাইরে রাহুলের সব রকম
    পুরুষকন্ঠের প্রয়োজনে কিশোরকুমার প্রায় ওয়াইল্ড কার্ডের - বা মাস্টারকার্ডের - মতন ব্যবহৃত হন। ফর এভরিথিং এলস দেয়ার ইজ কিশোরকুমার।
  • | বিভাগ : ব্লগ | ২০ জানুয়ারি ২০১৪ | ১০৫২ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    আয়না - ন্যাড়া
    আরও পড়ুন
    মা  - রজত দাস
    আরও পড়ুন
    চিঠি - Shomita Banerjee
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • PM | 71.90.51.225 (*) | ৩০ জানুয়ারি ২০১৪ ০৯:৫২74151


  • এটাও থাক
  • কল্লোল | 125.242.151.62 (*) | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ০১:৩৩74154
  • উপরের ঠন্ডি হাওয়ায়েঁ আর রহে ন রহে হম এর একই মিটারে ছোট কত্তাও একখানি সুপার হিট দিয়েছেন
  • Asit Kumar De | 125.115.136.194 (*) | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ০৮:৪০74152
  • ন্যাড়া-দা র লেখা খুব ভালো লাগলো। লেখার শৈলী দেখে মনে হয় ন্যাড়া-দা আমাদের সকলের খুব পরিচিত কবীর সুমন-দা। যদি আমার অনুমান সঠিক হয় তাহলে বলি ছদ্মনাম নির্বাচন ভালো হয়েছে।
  • b | 135.20.82.164 (*) | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ০৯:২২74153
  • আপনার অনুমান ঠিক নয়।
  • কল্লোল | 125.242.130.10 (*) | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ১১:৩৩74155
  • এরকম একই মিটরে আরও দুটো গান পেলাম।
    রুক যা ও দিলো দিওয়ানে (ডিডিএলজে)
    আর
    বচনা অ্যায় হসিনো (হম কিসিসে কম নহি)
  • siki | 132.177.65.85 (*) | ২৭ জুন ২০১৪ ০৪:৩০74156
  • হ্যাবাড্ডি আর ডি।
  • PM | 121.223.100.50 (*) | ২৯ জুন ২০১৪ ০৮:৫১74157
  • ওপি নাইয়ার কে নিয়ে শিবাংশুবাবুর প্রতিশ্রুত লেখা কই?
  • nina | 78.37.233.36 (*) | ৩০ জুন ২০১৪ ০৩:০৬74158
  • ঠিক ঠিক---কই ও পি নাইয়ার কে নিয়ে শিবাজির লেখা---আম্মো কতদিন ধরে বসে আছি পথ চেয়ে-----সেই ২৯ শে জানুয়ারী থেকে আর আজ ২৯ শে জুন --
  • শিবাংশু | 127.201.153.127 (*) | ৩০ জুন ২০১৪ ০৫:০৬74159
  • @PM, নিনা,

    এখন আমি ছোটোকত্তার কারিকুরি নিয়ে এক্কেরে মস্ত আছি । নিশ্চয় ফিরবো ওঙ্কার প্রসাদকে নিয়ে । লয়, তাল আর স্ফূর্তির রাজা....
  • Amiya Bhusan Sarkar | 113.242.198.37 (*) | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০৫:০৪74160
  • Superb!
  • কল্লোল | 233.227.227.31 (*) | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০২:১৫74161
  • এটা শুনুন। অবশ্যই ন্যাড়াকে কৃতজ্ঞ্তা।
    Salil Chowdhury Explains the Grammar of Orchestration in Indian Music
  • কল্লোল | 233.227.227.31 (*) | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০২:১৭74162

  • এই লিংকটা।
  • ঈশান | 214.54.36.245 (*) | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০৩:০৬74163
  • মূল লেখাটা নিয়ে কিছু বক্তব্য নেই (মানে, বক্তব্য আছে, কিন্তু এখানে রাখবনা)। কিন্তু সলিল চৌধুরির ভিডিওটা নিয়ে কিছু আছে। পুরোটা শুনিনি, ঘন্টাখানেকের ভিডিও, সময় লাগবে। কিন্তু মিনিট দশেক শুনে একটা গুরুতর ভ্রান্তি কানে এল। সেটা না বললেই নয়।

    ভিডিওতে বক্তা, বেটোফেনকে সম্পূর্ণতই ক্লাসিকাল পিরিয়ডের অন্তর্গত করে দিয়েছেন শুনলাম। রোমান্টিক পিরিয়ডকে কার্যত বিটোফেনোত্তর বলা হয়েছে। কিন্তু সেটা সঠিক না। বস্তুত বিটোফেন হলেন রোমান্টিক পিরিয়ডের পুরোধা। ক্লাসিকাল পিরিয়ড থেকে রোমান্টিক পিরিয়ডে উত্তরণের সেতু। ক্লাসিকাল পিরিয়ডে তিনি যাত্রা শুরু করেন, তারপর ভগীরথের মতো সঙ্গীতকে রোমান্টিক উর্বর সমতলে এনে ফেলেন, অনেকটাই একার দায়িত্বে। এবং রোমান্টিক জমানার সূচনা হয়। বেট্প্ফেনকে সেজন্য কখনই ক্লাসিকাল জমানায় আটকে ফেলা যায়না। বস্তুত বেটোফেনের যে সৃষ্টিগুলি জনসমাজে প্রচন্ড পপুলার, তার প্রায় সবই রোমান্টিক জমানার সম্পত্তি। নাইনথ সিম্ফনি, ফারেলিস, মুনলাইট সোনাটা। এবং ফিফথ সিম্ফনি (যদিও এটা তর্কাতীতভাবে নয়)।

    আলাদা করে লিখলাম, কারণ, বক্তার নাম সলিল চৌধুরি। তাঁর কথার একটা মূল্য আছে, ফলে অনেকেই ভুলটা জানবেন, হয়তো রেফারও করবেন। সেটা কাম্য না। কেউ যদি ভিডিওটা অন্যত্র শেয়ার করেন, আমার নোটটুকু জনহিতার্থে যোগ করে দিলে, পাবলিকের উপকার করবেন। এ নিয়ে অন্তত যে মতবিরোধ আছে, সেটুকু প্রকাশিত হলেই যথেষ্ট।
  • Bratin | 11.39.37.220 (*) | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০৭:১৬74164
  • ন্যাড়া দা আগে পড়েছি।আবার পড়লাম।খুব ভালো লাগলো।

    আমার মতো যারা গান শুনতে ভালোবাসি অথচ গানের ব্যকরণ তেমম জানি না তাদের জন্যে খুব উপোযোগী লেখা।

    একটা কথা বলো। সলিল চৌধুরী র কি তত বিখ্যাত নয় অথচ সম্ভাবনাময় এমন শিল্পী দের দিয়ে গান করাতে ভালোবাসতেন? উদাহরণ হিসাবে পিন্টু
    ভাট্টচার্য্য কে দিয়ে গাওয়ানো " আমিব্চলতে চলতেভ্থেমে গেছি" র উল্লেখ করতে চাই। খুব সম্ভবতঃ লতা একই সুরে হিন্দী গান টা পরে গান
  • PT | 213.110.242.23 (*) | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০৯:০৯74165
  • ১৯৮৪/৮৫ সালে এক ফরাসী বন্ধুকে "পল্লবিনী গো সঞ্চারিণী"-র সুর শোনাতে সে গম্ভীর হয়ে বলেছিলো যে এটা তার পরিচিত সুর। সে কি একটা যেন ফরাসী গানের কথা বলেছিল সেটা মনে নেই। আমি অবিশ্যি তখনো চ্যাপলিনের ছবিটি দেখিনি।
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। না ঘাবড়ে মতামত দিন