• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • উদারচরিতানাম

    লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৪ অক্টোবর ২০১৫ | ৭১ বার পঠিত | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • ১)
    বন্ধুমহলে চন্দনের বেশ দরাজদিল বলে নাম আছে৷ যে কোনও সামান্য উপলক্ষ্যেই বন্ধুদের খাইয়ে দেয়, কেউ সাহায্য চাইলে তো কথাই নেই, প্রাণপণে সাহায্য করে৷ চিন্তাভাবনায়ও বেশ উদার প্রকৃতির বলে পরিচিত৷ ওদের গোঁড়া ব্রাহ্মণবাড়ীর কোনও সংস্কারই সে মানে না৷ অহেতুক আচারসর্বস্বতা যে তার দু চক্ষের বিষ এ কথা সে প্রথম আলাপের মিনিট পনেরোর মধ্যেই জানিয়ে দেয় লোককে৷ দুটো এন জি ওর সাথে যুক্ত চন্দন৷ এছাড়াও একটি আধা সরকারি অনাথ আশ্রমেও তার যাওয়া আসা আছে, তাদের বিভিন্ন উদ্যোগের সাথে সক্রিয়ভাবেই জড়িত থাকে৷ চন্দনের দাদা রঞ্জনও অনেকটা এই ধরণেরই, তবে সে কথা অনেক কম বলে৷

    অনিতা দেবী যখন মাত্র পঁয়ত্রিশ বছরে বিধবা হন, তখন রঞ্জন দশ আর চন্দন সাত৷ তপোধনবাবু খুবই খরুচে প্রকৃতির ছিলেন, ফলে হার্ট অ্যাটাকে আচমকা তাঁর মৃত্যুর পর ওরা খুবই আতান্তরে পড়ে যায়৷ তবে অনিতা দেবীর কলেজে লাইব্রেরিয়ানের চাকরিটা ছিল বলে দুবেলা দুমুঠো খাওয়ার অভাব হয় নি৷ তপোধনবাবুর দূরসম্পর্কের এক বয়স্ক দু:স্থ দাদা তাঁদের আশ্রিত ছিলেন৷ তপোধনবাবুর মৃত্যুর পর অনিতা দেবী তাঁকে জানিয়ে দেন তাঁর পক্ষে আর ওঁর দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব হবে না৷ এরপরে তিনি দুই ছেলে ও তাঁর নিজস্ব জিনিষপত্র নিয়ে বাপের বাড়ী চলে আসেন৷

    বাপের বাড়ীতে এমনিতে তাঁদের কোনও অসুবিধে হয় নি। চন্দনরা দুই ভাইই পড়াশোনায় মোটামুটি ছিল৷ দারুণ কিছু চমকদার রেজাল্ট না করলেও দুজনেই মোটামুটি ভাল নম্বর নিয়ে গ্রাজুয়েশান শেষ করে৷ রঞ্জন বিভিন্ন সরকারী ও আধা সরকারী পরীক্ষা দিতে দিতে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ায় অফিসার পদে যোগ দেয়৷ চন্দনের অত লেগেবেঁধে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দেওয়া ঠিক ধাতে পোষাত না বলে স্পোকেন ইংলিশ আর কম্পিউটার শিখতে শুরু করে৷ বছর তিনেক বাদে সেও একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে কাজ পেয়ে পুণে চলে আসে৷ শান্তশিষ্ট ছোট শহরটা চন্দনের বেশ পছন্দ হয়ে যায়৷ মাঝে কিছুদিন অন্য একটা কোম্পানির চেন্নাই ব্র্যাঞ্চে কিছুদিন কাজ করেছে৷ কিন্তু পাহাড়ঘেরা ঠান্ডা ঠান্ডা আবহাওয়ার পুণের আকর্ষণে চাকরী বদলিয়ে আবার ফেরত চলে আসে৷

    ২)
    এই শহরটা গত দুই তিন বছরে হঠাৎ ফুলেফেঁপে উঠেছে মুলত: সফটওয়্যার কর্মীদের জন্য৷ আউটসোর্সিঙের ধাক্কায় ভারতের বড়, মেজ, ছোট কোম্পানিগুলো যখন ক্রমশ: হাত পা ছড়াতে শুরু করে, ব্যাঙ্গালোর, বোম্বাইয়ে এক চিলতে অফিসেরও আকাশছোঁয়া দাম হয়ে যায়, তখনই কোম্পানিগুলোর চোখ পড়ে এই ছোট শহরটার দিকে৷ বেশ কিছু ভাল কলেজ, ইউনিভার্সিটি ইত্যাদি থাকায় বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগও এখানে তেমন কঠিন নয়, আর এদিকে জমিটমিও শস্তাই বলতে হবে৷ ইনফোসিস, উইপ্রো, কগনিজেন্টের মত কোম্পানিগুলো একবারে অনেকটা করে জমি নিয়ে ৩৫০০-৪০০০ লোক বসতে পারে এরকম বেশ দু তিনটে করে অফিস শুরু করে৷ ফলে শহরে বেড়ে যায় প্রচুর লোকের আনগোণা৷ প্রয়োজন হয় অজস্র আবাসিক বাড়ী, হোটেল, খাবারদাবারের জায়গা ইত্যাদির৷ দেখতে দেখতে ফ্ল্যাটের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যায়৷ পুণে-ব্যাঙ্গালোর হাইওয়ের ধারের পাহাড়ী বস্তিগুলো উচ্ছেদ করে করে পাহাড় কেটে কেটে তৈরী হতে শুরু করে ছোট বড় হাউসিং কমপ্লেক্স৷ শহরে বাড়ীভাড়াও হয়ে যায় প্রচন্ড চড়া৷

    চন্দন এইসময়ই হাইওয়ের ধারে 'আদিত্য গার্ডেন সিটি' নামের এক লাক্সারি হাউসিং কমপ্লেক্সে ১১০০ স্কোয়্যার ফিটের একটা ফ্ল্যাট কেনে৷ এই কমপ্লেক্সটা পাহাড়ের গায়েই বানানো৷ ফেজ-১'এর ৫০০ ফ্ল্যাট একদম সমতলে, ফেজ-২'এর ফ্ল্যাটাগুলো অল্প উঁচুতে৷ কমপ্লেক্সের ভেতরে হাঁটতে গেলে বোঝা যায় রাস্তা আস্তে আস্তে ঢালু হয়ে ওপরে উঠছে৷ প্রতিটা ফ্ল্যাটে তিনটে করে ব্যালকনি থাকায় আলো হাওয়া প্রচুর পাওয়া যায়৷ চন্দন সারাদিন এবং রাতেরও বেশ খানিকটা অফিসে থাকে, ওর বৌও একটা স্কুলে পড়ায়৷ সাড়ে চার বছরের তানিকাকে ক্রেশে রাখাটা ওদের কারও পছন্দ নয়৷ চন্দন তাই মা'কে ওর কাছে নিয়ে আসে৷ রিটায়ার করার পর অনিতা দেবী বাড়ীতে একাই কারণ দাদু দিদিমা মারা যাওয়ার পর মামারাও আর কেউ ওখানে থাকে না আর রঞ্জনেরও পোস্টিং হয়েছে মাথাভাঙায়৷ সেও বছরে বার দুই আসে৷

    অনিতা দেবী প্রথমে চেনা পরিবেশ ছেড়ে এতদূরে আসতে চান নি৷ পুণেতে একে তো অচেনা অজানা পরিবেশ, তায় আবার ভাষাটাও জানেন না৷ এদিকে ছেলের কাছে মাঝেমধ্যে শুনেছেন মারাঠীরা সহজে অন্য কোনও ভাষা বলতে চায় না৷ সব মিলিয়ে তাঁর একেবারেই পছন্দ হয় না পুণে যাওয়ার প্রস্তাব৷ কিন্তু চন্দন বুঝিয়ে বলে ওদের আদিত্য গার্ডেনে প্রায় ৩০টা বাঙালী ফ্যামিলি আছে৷ ওরা এবার সেখানে দুর্গাপুজোও শুরু করছে৷ আর বাংলা বই পত্তরও যথেষ্ট পাওয়া যায়৷ সবচেয়ে বড় কথা ক্রেশে থাকলে তানিকাও মারাঠী ভাবধারাই বেশী করে শিখবে, এমনিতেই স্কুলে যথেষ্ট শেখে৷ শেষ পর্যন্ত নাতনীর কথা ভেবেই অনিতা দেবী রাজী হন৷ এসে অবশ্য তাঁর ভালই লেগেছিল জায়গাটা, চন্দনের বাড়ী, চন্দন তনুশ্রীর ব্যবহার, নাতনীর প্রাণোচ্ছলতা৷ অল্প কিছুদিন যেতেই শান্ত নিরুপদ্রব জায়গাটা আর তার না ঠান্ডা না গরম আবহাওয়া তাঁর বড্ড পছন্দ হয়ে যায়৷ ফলত: তিনি যে এখানেই থাকবেন সেটা নিশ্চিত হওয়ায় চন্দন তনুশ্রীও ভারী নিশ্চিন্ত৷

    ৩)
    আদিত্য গার্ডেনে দুর্গাপুজোর এবারে প্রথম বছর৷ বাঙালী পরিবারগুলো ছাড়াও আবাসিক সকলকেই প্রথম মিটিঙের দিন ডাকা হয়েছিল৷ এই দায়িত্বটা মেনটেন্যান্সের সুমন গোড়বোলেকে দেওয়া হয়েছিল৷ ছোকরা বেশ চালাকচতুর, কাজেকর্মে চটপটে৷ ওকেই মৃত্যুঞ্জয়বাবু আর চন্দন গিয়ে বলে এসেছিল সব ফ্ল্যাটেই যেন আমন্ত্রণ জানিয়ে আসা হয়৷ এমনিতে কমিউনিটি হলটা বেশ বড়৷ প্রত্যেক বছর গণেশ পুজো এখানেই হয়৷ দেওয়ালীর সকালেও এখানেই পুজো হয়৷ চন্দনরা এই সব অনুষ্ঠানগুলোতেই সাগ্রহে অংশ নেয়, তবে কর্তৃত্বের ভার থাকে মনীশ কুলশ্রেষ্ঠ আর অমিত কুলকার্নির হাতেই৷ বাঙালী পরিবাররা সেখানে শুধুই অনুষ্ঠানের দিন আমন্ত্রিত৷ এ নিয়ে বাঙালী পরিবারগুলোর মধ্যে অল্পস্বল্প ক্ষোভ, গুজগুজানি চলেই৷ তাই দুর্গাপুজো করা হবে এটা ঠিক হওয়ামাত্র চন্দন সবাইকে বলে যে বাঙালীরা যেহেতু অনেক বেশী উদার তাই প্রথম থেকে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হোক৷ রঞ্জিত চৌধুরি খুব আপত্তি করেছিলেন এই প্রস্তাবে৷ তাঁর মতে বাঙালীরা বড্ড বেশী বেশী উদারতা দেখায় বলেই অন্যরা এত বেশী পেয়ে বসে৷ সবাইকে ডাকলে মারাঠীরাই শেষে কমিটি দখল করে নেবে৷ দুই পক্ষেই বেশ কিছু মতামত বিনিময়ের পর যখন ব্যপারটা বাদানুবাদের দিকে গড়াতে শুরু করে তখন মৃত্যুঞ্জয়বাবু প্রস্তাব দেন আগেই কমিটি তৈরী করে, সভ্যদের নাম দিয়ে সবাইকে সাধারণ সভায় ডাকা হোক৷ এতে কমিটি দখল হওয়ারও সম্ভাবনা থাকবে না আবার সবাইকে আমন্ত্রণ জানানোও হবে৷

    প্রথম সাধারণ সভায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান নিয়ে আলোচনার মাঝে প্রস্তাব হয় একটা ঢাক বাজান প্রতিযোগীতার আয়োজন করলে কেমন হয়৷ কমপ্লেক্সের ছেলে ছোকরারা তো নাম দেবেই তর সাথে গোটা পুণে শহরে কিছু পোস্টার লাগিয়ে জানানো হবে যাতে বাইরের লোকও নাম দিতে পারে৷ তুমুল হর্ষধ্বনির মধ্যে প্রস্তাব গৃহীত হয়ে যায়৷ এইসময় ডানদিকের কোণ থেকে এক বৃদ্ধ উঠে দাঁড়িয়ে ধীর স্বরে জানান তাঁরও একটি প্রস্তাব আছে৷ পুজোর সময়েই এবারে ঈদ পড়েছে৷ সেইদিন যেন সকল সভ্য তাঁর আতিথ্যে দুপুরের খাবারটা খান৷ সভাটা হঠাত্ই খুব চুপচাপ হয়ে যায়৷ জোড়া জোড়া চোখ বৃদ্ধের আপাদমস্তক মাপতে শুরু করে৷ প্রায় ৩০ সেকেন্ড পরে মনীশ কুলশ্রেষ্ঠ বলে ওঠেন 'জনাব আপকা নাম বাতায়েঙ্গে জারা'৷ বৃদ্ধ ছোট্ট একটি বাও করে বলেন 'খলিল বদরুদ্দিন আহমদ' ৷

    প্রথম সভার দিন সভাভঙ্গের পরেও বড় ছোটদলে ভাগ হয়ে বহুক্ষণ আলোচনা চলেছে বিভিন্ন বিষয়ে৷ এর পরেও আরও দুটি সভা হয়েছে, কমিটির লোকজন ছাড়াও কিছু বিশিষ্ট লোককে নিয়ে৷ কী কী প্রতিযোগীতা হবে, চারদিনের খাওয়ার মেনু কী হবে এইসব বিষয়ের সাথে সাথে এখানে একটি মুসলমান পরিবার কবে এবং কীভাবে ফ্ল্যাট কিনল এটাও অন্যতম আলোচ্য ছিল৷ অমিত কুলকার্নি গোঁড়া মারাঠী ব্রাহ্মণ, কোনও মুসলমানকে পুজোর অনুষ্ঠানে দেখতে নারাজ৷ সাফ জানিয়ে দেন খলিল সাহেব মন্ডপে পা রাখলে তাঁর পক্ষে সেখানে যাওয়া সম্ভব নয; বাঙালীরা তাদের দেবীকে চাইলে অপমান করতে পারে, কিন্তু তিনি ভগবান গণপতির মায়ের এই অপমান করতে পারবেন না৷ চন্দন, পুস্কর, অনির্বানরা পড়ে মহা ফাঁপরে৷ প্রথমে ডেকে এনে খলিল সাহেবকে পরে আসতে না করতে তাদের লজ্জা করে অথচ অমিত তাউএর কথাও ঠিক, পুজোমন্ডপে ওঁর উপস্থিতির ব্যপারটায় ওদেরও মন সায় দিচ্ছে না৷

    ৪)
    সপ্তমীর দিন সকাল থেকে অনিতা দেবীর ব্যস্ততার শেষ নেই৷ পুজোর চারদিন যদিও বাড়ীতে জলখাবারের পাট নেই, তবু তানিকার জন্য কিছু করতেই হয়৷ ও বেচারি বেলা সাড়ে ন'টা, দশটা অবধি না খেয়ে বসে থাকতে পারে না, এদিকে পুজোর ওখানে জলখাবার তার আগে হয়েও ওঠে না৷ তাই নাতনীকে খাইয়েই ছুটতে হয় ঠাকুরের ফল কাটাতে, নৈবেদ্য সাজাতে৷ তনুশ্রীদের বয়সী মেয়েরা কেউই নৈবেদ্য সাজানোর নিয়মকানুন জানে না, তাই ওঁরা ছয় বুড়ি এই কাজটা করেন৷ ফল কাটায় অবশ্য অল্পবয়সী মেয়েরাও সাহায্য করে৷ সকলের জলখাবার বানানোর জন্য ঠাকুর আনা হয়েছে, তারাই লুচি আলুরদম করে দেয় আর রাধিকা স্যুইটসের রসগোল্লা তো আছেই৷ রান্নার ঠাকুররা উত্তরপ্রদেশের লোক৷ লুচি বলতে তারা মোটামোটা পুরীই বোঝে৷ চন্দন, পুস্কর, অনির্বানরা ঐদিকটায় নজর রাখে, যতটা সম্ভব বাঙালী ধরণে রাঁধানোর চেষ্টা করে৷ তবে তাদেরও তো আরও কাজ আছে৷ বিকেলে এক একদিন এক একটা প্রতিযোগীতা, তার ব্যবস্থাপনা, রিহার্সাল দেওয়ানো হঠাৎ দরকারে দোকান থেকে জিনিষপত্র আনা৷ একটু বয়স্ক লোকেরা, যেমন মৃত্যুঞ্জয়বাবু, বিজন সরকার, রঞ্জিতবাবু পুরুতমশাইয়ের কাছাকাছি বসে পুজো দেখেন আর নানা বিষয় আলোচনা করেন৷

    আজ ঈদ, সকাল থেকে খলিল সাহেবেরও ব্যস্ততার শেষ নেই৷ ঈদের নামাজ পড়তে ছেলেকে নিয়ে গিয়েছিলেন এম জি রোড অঞ্চলে৷ ওখানেই নামাজ সেরে সকলের সাথে কোলাকুলি করে তাড়াতাড়ি বাড়ী ফিরেছেন৷ আজ তাঁর বাড়ীতে কমপ্লেক্সের সকলের মধ্যাহ্ণ ভোজনের নেমন্তন্ন৷ আত্মীয় বন্ধুরাও আসবেন প্রথামতই৷ ছেলে আমিনের বন্ধুরাও আসবে৷ এবারে একটা দুম্বা এনেছেন তিনি কোরবানির জন্য৷ রহমতবিবি দুম্বার মাংস আলাদা করে কেটে কেটে রাখছেন বিরিয়ানি আর কোর্মার জন্য৷ দুটোয় তো আর একরকম পিস হবে না৷ এছাড়া কাছাকাছি আত্মীয়দের বাড়ীতেও একটু করে মাংস দিয়ে আসবেন খলিল সাহেব গিয়ে৷ নাশতা শেষ হতে না হতেই আমিনের বন্ধুরা এসে যায়৷ ওদের সাথে আমিন বেরিয়ে যায় দুপুরের পর ফিরবে জানিয়ে৷ শোলাপুরের কাছে ধারওয়ার গ্রামে খলিল সাহেবদের পাঁচ পুরুষের বাড়ী৷ সেখানে এখন আর কেউ থাকে না৷ কিন্তু ঈদ এলে গ্রামের কথা মনে পড়বেই৷ সেখানকার সেই পুরো গ্রামের প্রায় একটা আস্ত পরিবারের মত ঈদ পালন ---- অনিচ্ছাসত্ত্বেও বুক ঠেলে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে খলিল সাহেবের৷ হরেকরকম ব্যস্ততায় বেলা বাড়তে থাকে, বেশকিছু বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন এসে গেছেন৷ কেউ কেউ অন্য জায়গায় যেতে হবে বলে চলেও গেছেন৷ খলিল সাহেবের একটু অস্বস্তি লাগে, কমপ্লেক্সের কেউ এখনও পর্যন্ত একবারও আসে নি৷ আবার ভাবেন দুর্গামাঈকি পুজা নিয়ে সবাই খুব ব্যস্ত হয়ত, প্রথমবার করছে, কত হয়ত অসুবিধে হচ্ছে৷ মনে মনে ঠিক করেন সন্ধ্যেবেলা গিয়ে মন্ডপে বসবেন, দেখবেন যদি ওদের কোনও সাহায্য লাগে৷ হয়ত ওঁরা ওর সাহায্য নেবে না ---- অতীতের কিছু অভিজ্ঞতা মনের কোণে উঁকিঝুঁকি মারে ---- সেসব জোর করে দূরে সরিয়ে দেন৷ মনকে বলেন, বুড়োরা হয়ত নেবে না কিন্তু এই চন্দন, পুস্কর এরা অন্যরকম৷ চন্দন তো বিশেষ করে খুবই ভাল ছেলে, একদম সাফ দিল৷

    বেলা সাড়ে তিনটে নাগাদ চন্দন আর পুস্করকে আসতে দেখে খুশী হয়ে ওঠেন খলিল সাহেব৷কমন করিডরে এগিয়ে যান৷ ওরা কিন্তু আর এগোয় না৷ চন্দন দ্রুতস্বরে জানায় খলিল সাহেবদের আজ নিশ্চয় আজ অনেক পরিশ্রম গেছে, ওরা ওঁদের খাবারটা এখানে দিয়ে যাবে, ওঁদের আর কষ্টকরে মন্ডপে যেতে হবে না৷ এক সেকেন্ডের জন্য হতভম্ব হয়ে গেলেও ষাটোর্ধ মানুষটি তার পরেই বুঝে যান৷ সামলে নিয়ে ওদের দুজনকে ভেতরে এসে কিছু খেয়ে যেতে বলেন৷ আবারও পুস্কর চুপচাপ, চন্দন তড়বড়িয়ে বলে ওঠে ওদের আজ উপোস, রাত নটার পর দেবীর ভোগ খাবে৷ খলিল সাহেব আর কিছু বলেন না, খুব আবছা একটু হাসেন৷ সকালে ফেরার সময়ে তিনি এই ছেলেগুলোকে কমিউনিটি হলের পাশের রান্নার জায়গায় দাঁড়িয়ে পুরী আর রসগোল্লা খেতে দেখেছেন৷ চন্দন বেরিয়ে এসে পুস্করকে বলে 'যাক ভালোয় ভালোয় মিটেছে ব্যপারটা'৷ অমিত তাউর হুমকীতে সবাই যখন চক্ষুলজ্জা আর উচিত-অনুচিতের টানাপোড়েনে দিশেহারা, তখন বুদ্ধিটা ওরই মাথায় এসেছিল৷ প্রতিদিন ওরা গিয়ে ওঁদের বাড়ী কিছু খাবারদাবার পৌঁছে দিয়ে বলে আসবে ওঁদের যাতে কষ্ট করে না যেতে হয় তাই এই ব্যবস্থা৷

    সন্ধ্যেবেলা রীতেশ আর অনির্বান কিছু ভোগ নিয়ে ওঁদের বাড়ী গিয়ে দেখল ফ্ল্যাট তালাবন্ধ করে ওঁরা কোথায় বেরিয়েছেন৷ এর পরের দুইদিনও ওঁদের ফ্ল্যাট সকাল থেকেই তালাবন্ধ দেখা যেত৷ ওঁরা কখনই বা আসতেন আর কখন বেরোতেন কেউই টের পেত না৷ শুধু পার্কিঙে স্করপিওটা দেখা যেত না৷

    দশমীর দিন চন্দন খুব খুশী৷ ওর অনেকদিনের একটা ইচ্ছে আজ পূরণ হয়েছে৷ বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে অনিতা দেবী কখনও দশমীর দিন মা দূর্গাকে বরণ করতে যান নি৷ ওঁর বাপের বাড়ীতে নিয়মকানুনের খুব কড়াকড়ি ছিল৷ দশমীর সিঁদুরখেলার সময় বিধবা মানুষের সেখানে থাকতে নেই - এই অজুহাতে চন্দনের দিদিমা কোনওদিন অনিতাদেবীকে যেতে দেন নি৷ ফলে দিদিমা গত হওয়ার পরও এক অদৃশ্য বাধা অনিতা দেবীকে দশমীর দিন ঘরে আটকে রাখত৷ অথচ চন্দন কতবার বুঝিয়ে বলেছে এইরকম গোঁড়ামীর কোনও অর্থ নেই, উনি সিঁদুর খেলবেন না ঠিক আছে, কিন্তু ঠাকুর বরণ করতে কি দোষ৷ পাপের ভয়েই হোক কি সংস্কার পালনের দীর্ঘ অভ্যেসের ফলেই হোক অনিতা দেবী কিন্তু যান নি৷ আজ এই আদিত্য গার্ডেনের পুজোর দশমীতে চন্দনের মা'ও বেরোন অন্যদের সাথে ঠাকুর বরণ করতে৷ মিষ্টি, টাকা, পান, সিঁদুর দিয়ে বরণ করেন৷ তনুশ্রী ঠাকুর বরণ করে ওঁকে প্রণাম করলে উনি থালা থেকে সিঁদুর তুলে তনুশ্রীর সিঁথিতে, কপালে পরিয়ে হাতের শাঁখায়ও ছুঁইয়ে দেন৷ পরে আরও এয়ো মেয়ে বউদেরও দেন৷ আনন্দে চন্দনের চোখে জল এসে যায়, পেরেছে ও পেরেছে৷ এতদিনের অন্ধ সংস্কার ও বুঝিয়ে সুঝিয়ে ভাঙতে পেরেছে৷ আরে ওরা বাঙালী --- স্বভাবতই উদার, এ কি আর গোঁড়া মারাঠী নাকি! আর পুজো মানে তো শুধুই ঠাকুর পুজো নয়, একটা মিলনমেলা, সবাইকে নিয়ে আনন্দ উৎসব৷

    দশমীর দিনই চন্দনকে দুর্গাপুজো কমিটির স্থায়ী সেক্রেটারি হিসাবে ঘোষণা করা হয়৷ দুদিন পরে বিকেলে খলিল সাহেব মেইনটেন্যান্স অফিসে গিয়ে সুমনকে জানান তিনি এই ফ্ল্যাটটা ভাড়া দিতে চান, সম্ভব হলে আগামী মাস থেকেই৷ সুমন এইসব ভাড়া, কেনাবেচা লেনদেন করিয়ে দিয়ে কমিশান নেয়৷ সে প্রচন্ড অবাক হয়ে জানতে চায় 'আপলোগঁ কাঁহা জায়েঙ্গে?' খলিল সাহেব উত্তর না দিয়ে অল্প হাসেন৷ জিগ্যেস করেন কামওয়ালি বাঈ আজকাল কমন করিডরটা নিয়মিত ঝাঁট দেয় না কেন? সুমন আমতা আমতা করে বলে বড্ড কামাই করছে কদিন৷ খলিল সাহেব আবারও একটু হেসে বলেন 'গোড়বোলেসাব নীচেকা অউর উপরকা করিডর লেকিন সাফই হ্যায়'৷ সুমন প্রচন্ড অপ্রস্তুত হয়ে বলে ও কাল থেকে নিজেই নজর রাখবে -- কিন্তু খলিল সাহেব ততক্ষণে বেরিয়ে গেছেন৷
  • বিভাগ : ব্লগ | ০৪ অক্টোবর ২০১৫ | ৭১ বার পঠিত | | জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | 24.97.132.31 (*) | ০৪ অক্টোবর ২০১৫ ০১:০৮69735
  • এই গল্পটা দুই তিন বছর আগে অন্য একটা ওয়েবজিনে বেরিয়েছিল। গত কয়মাসের ঘটনাক্রম দেখে গল্পটা আবার ঝেড়েমুছে এখানে তুলে রাখলাম।
  • dd | 116.51.29.1 (*) | ০৪ অক্টোবর ২০১৫ ০২:৩৩69736
  • খুব সময়োপযোগী লেখা।

    এ তো অ্যানেকডোট ভিত্তিক লেখা তাই সকলেরই অভিজ্ঞতা আলাদা আলাদা। তাও ও মনে হয়, লুরুতে এটা কম দেখেছি। ফ্ল্যাট বাড়ীতে ক্রিশ্চিয়ান ও মুসলিম অহরহ থাকেন হিন্দুদের সাথে। দু একটা যায়গা ছাড়া সেরকম মুসলিম ঘেটো নেই। স্কুলে,কলেজে, আপিসে অহিন্দু প্রচুর। প্রফেশনাল ফীল্ডে মানে ডাক্তার,উকিল ইঃ সেখানেও প্রচুর অহিন্দু।

    যতো নগরায়ন বাড়বে, ততই এইসব প্রেজুডিস কমবে।
  • Div0 | 132.171.170.144 (*) | ০৪ অক্টোবর ২০১৫ ০৪:৪১69737
  • লেখাটা পড়তে পড়তে এটাই ভাবছিলাম। লুরুতে নন-হাউজিং গ্যাদারিংগুলোতেও মানে রাস্তার মোড়ে গণপতি অর্কেস্ট্রায়, হোটেলে, আপিস-কাছারিতে, মাঠে-হট্টমেলায় অ-হিন্দুদের সম্পর্কে এরকম অসন্তোষ চোখে পড়ে না। উগাদির সময় বিজয়নগরের ভীড় বাজারে দোকানে সাজানো পুতুল কিনে দিচ্ছিল এক মা তার মেয়েকে। ঈদের বিরিয়ানি খেতে কোল্‌স রোডে বন্ধুর বাড়িতে তো পুরো ঢল নামে। আর আমাদের হাউজিং ভারতবর্ষের ক্ষুদ্র সংস্করণ। ওনাম-হোলি-বকরি ঈদ-দুগ্‌গাপূজো কোনওটাই বাদ যায় না। দুই ঘর ব্রিটিশও আছে। ক্রীসমাসের প্লাম কেক আর রেড ওয়াইনটাই বা আর বাকি থাকে কেন।

    ডিডিদার লাস্ট সেন্টেন্সে বড়ো করে ক।
  • b | 24.139.196.6 (*) | ০৪ অক্টোবর ২০১৫ ০৪:৪৩69738
  • আর্য্যাবর্ত আর দাক্ষিণাত্যের তফাৎ?
  • sinfaut | 127.195.56.31 (*) | ০৪ অক্টোবর ২০১৫ ০৫:৩০69739
  • লাস্ট সেন্টেন্সে ক দিতে পারলাম না। নিজের অভিজ্ঞতা ক দিতে দিল না।
  • তা হবে | 218.87.237.201 (*) | ০৫ অক্টোবর ২০১৫ ০২:৩৩69744
  • ডিডিদার লাস্ট সেন্টেন্সে চন্দ্রবিন্দুও দেওয়া যায়। নগরায়ন বাড়ার সাথে সাথে এইসব - প্রেজুডিস বললে প্রেজুডিস, অন্ধ গাঁটামো বললে তাই, আরও বাড়ছে ভারতেরই অন্যত্র। সমানুপাতিক হারে। এ-ও অ্যানেকডোট, সে-ও অ্যানেকডোট।
  • | 24.97.16.22 (*) | ০৫ অক্টোবর ২০১৫ ০৩:১৯69740
  • গল্পের লাস্ট সেন্টেন্স সিঁফোঁ? ওর আর ক খ কী?
  • pi | 24.139.209.3 (*) | ০৫ অক্টোবর ২০১৫ ০৩:৩৫69741
  • ডিডিদার লাস্ট সেন্টেন্স বোধহয়।

    এখন কি এগুলো বাড়তে দেখছো, দমদি ? নাকি, একই ?
  • | 24.97.16.22 (*) | ০৫ অক্টোবর ২০১৫ ০৩:৪২69742
  • এখন অন্য একটা এলাকায় থাকি, তো সেখানের ব্যপারটা একটু অন্য। তবে ওভারঅল ব্যপারটা মিক্সড। বছরখানেক আগেও এই 'ওদের বড় বাড় বেড়েছে' জাতীয় বাক্য বেশী শোনা যেত। এখন এই গত ধর মাসখানেক ধরে একটু উল্টোসুর ও শোনা যাচ্ছে।
  • sinfaut | 11.39.62.107 (*) | ০৫ অক্টোবর ২০১৫ ০৩:৪৬69743
  • ডিডিদার লাস্ট সেন্টেন্স।
  • ranjan roy | 132.162.184.152 (*) | ০৫ অক্টোবর ২০১৫ ০৪:০৩69745
  • আগে ডিডির মতই ভাবতাম, নগরায়নে কমে যাবে জাতপাত/হিন্দু-,মুসলিম বিভেদের বোধ। শুধু বিয়েশাদিতে চোখে পড়বে।
    হয়ত নর্মাল সময়ে এমনটিই হয়, বা হওয়ার কথা ছিল।
    কিন্তু এখন যেভাবে নতুন করে ঘৃণার বাষ্প ছড়াচ্ছে, লোকজনকে জাত ও ধর্মভিত্তিক আইডেন্টিটি নিয়ে সচেতন করার ক্যাম্পেন চলছে-- আর ভরসা পাই না, ভয় পাই।
  • নির | 212.78.26.26 (*) | ০৬ অক্টোবর ২০১৫ ০৪:২৪69746
  • ডিডিদার লাস্ট সেনটেন্স-এ ক। যত নগরায়ন বাড়বে, যত কাজের সুযোগ বাড়বে, ততই intermixing বাড়বে ।
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত