• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • ইতিহাসের সঙ্কলন, সঙ্কলনের ইতিহাস - একটি বইয়ের প্রেক্ষাপট, উপক্রমণিকা

    Bishan Basu লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪৮৩ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন পুনঃপ্রচার
  • ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের তরফ থেকে, বেশ কিছু লেখালিখি একসাথে সাজিয়ে, একটা সঙ্কলন প্রকাশিত হলো।

    নাম, ইতিহাসের সঙ্কলন, সঙ্কলনের ইতিহাস।

    একটা উদবেগজনক আর দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতিতে আমরা এই বই প্রকাশ করেছি। সত্যি বলতে কি, এই বইয়ের জন্মের কারণই আমাদের উদবেগ, বিরক্তি, ক্রোধ, কিছুটা হতাশাও।

    গত দেড়-দুবছরে, এই রাজ্যে, চিকিৎসকদের উপর হামলা বেড়ে গিয়েছে বহুগুণ। তথ্য হিসেব করলে, সংখ্যাটা দাঁড়ায়, গড়ে, প্রতি সাড়ে তিন দিনে, রাজ্যের কোনো না কোনো প্রান্তে, চিকিৎসকেরা আক্রান্ত হচ্ছেন। একটি-দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদ দিলে, অপরাধীরা হয় গ্রেফতার হনই নি, অথবা লঘু ধারার সুবাদে তাঁরা জামিনে মুক্ত হয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

    সাম্প্রতিক খাস কলকাতার বুকেই, একজন পুলিশ অফিসার, কর্তব্যরত ডাক্তারের গায়ে হাত তুলে, নতুন নজির সৃষ্টি করেছেন।

    এই অবস্থায়, চিকিৎসকেরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন, এইটা নেহাতই আন্ডারস্টেটমেন্ট। অনেকেই সরকারি চাকরি ছাড়ছেন, আরো অনেকেই রাজ্য বা দেশ ছাড়ছেন। কিছু ডাক্তার চিকিৎসা ছেড়ে বিকল্প নিরাপদ পেশার সন্ধানে। যখন রাজ্য সরকার বারবার বিজ্ঞাপন দিয়ে ডাক্তার পাচ্ছেন না, সেই সময়ে এই অবস্থা আরো বেশী করে উদবেগজনক।

    কিন্তু, একটু ভাবুন, ডাক্তারদের এই উদবেগ কি আপনাদেরও দুশ্চিন্তার কারণ নয়?

    চিকিৎসকেরা রাস্তায় নামছেন, প্রতিবাদে বসছেন। সেই চলার পথের ভাবনার কিছু খন্ডিত মুহূর্ত ধরা রইলো এই দুই মলাটের মধ্যে। অসম্পূর্ণ, কিন্তু ধারাবাহিক একটা ছবিও পাওয়া যেতে পারে, এই সঙ্কলনে।

    এই অস্থির অবস্থা, অবশ্যই, একদিনে আসেনি।

    জাতীয় বা রাজ্য, দুই জায়গাতেই, নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকেই আস্তে আস্তে সরকার জনস্বাস্থ্য, প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে হাত গোটানো শুরু করলেন। প্রায় একই সময়, গজিয়ে উঠতে শুরু করলো পাঁচতারা হাসপাতাল। স্বাস্থ্যকে মুনাফা আদায়ের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হতে দিলে, যা হয়, বিভিন্ন দুর্নীতি প্রায় প্রাতিষ্ঠানিক হয়ে গেল। এই শতকের শুরু থেকেই, রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা, নিজেদের চিকিৎসার জন্যে দ্বারস্থ হতে থাকলেন বেসরকারী হাসপাতালের। এর অভিঘাত সুদূরপ্রসারী। কর্পোরেট হাসপাতালই যে ভালো চিকিৎসা করে, এই প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণাতে সরকারি শীলমোহর পড়লো। আর, সরকারি হাসপাতালে, এরপরেও যাঁরা যেতে থাকলেন, তাঁদের সেই যাওয়ার মধ্যে মিশে রইলো অশ্রদ্ধা বা একরাশ অবিশ্বাস। এই সব মিলেই, ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবে, চিকিৎসক-রোগীর চিরন্তন বিশ্বাসের সম্পর্কটি ধ্বংস হয়ে গেল।

    কাজেই, যাঁরা ভাবছেন, এই অবস্থা শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার অবনতি, আমি সেই দলে নই। এই অবস্থা, একদিনে আসেনি, সমাধানও সহজ নয়।

    আমরা নিজেদের নিয়ে বড্ডো ব্যস্ত ছিলাম। তাই, ফাটলগুলো চোখে পড়ে নি। আজ ছাদ থেকে চাঙ্গর খসে আসার পরিস্থিতি হয়েছে, তাই পাশ ফিরে শুচ্ছি।

    জনস্বাস্থ্যে সরকারের বর্ধিত বিনিয়োগ, সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতি, সবার জন্যে সবার সামর্থ্যের মধ্যে স্বাস্থ্য ছাড়া চটজলদি সমাধান আসবে, এমন আশা, অন্তত আমার নেই।

    প্রথম বিশ্ব বা চীনের কথা ছেড়ে দিন, ঘরের পাশে শ্রীলঙ্কার তুলনায়ও, আমাদের স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ কম। কাজেই, স্বাস্থ্যসূচকের প্রতিটি মাপকাঠিতেই, আমরা পিছিয়ে। এমনকি, তুলনায় অনগ্রসর বাংলাদেশের চাইতেও।

    সমাধান কোথায়?

    আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যাটাকে আমরা দেখেছি। তাই এই বই।

    তবে, পড়ে দেখতে পারেন, এই দৃষ্টিকোণ আপনারও নয় কি?

    বিশ্বপুঁজির অবাধ চারণভূমিতে, আপনি আর আপনার চিকিৎসক কি একই পক্ষে নন? আর, বিপক্ষে বেসরকারী স্বাস্থ্যব্যবসায়ী আর তাঁদের স্বার্থবাহী সরকার?

    নাকি, লাগাতার অপপ্রচার আর গোলপোস্ট সরানোর খেলায়, পুরো ছবিটাই ঝাপসা হয়ে ঘেঁটে গিয়েছে? বইটা পড়ে দেখুন। কিছুটা স্পষ্ট চিনতে পারবেন এই স্বাস্থ্য-অব্যবস্থাকে।

    সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ভেঙে পড়তে দিলে, সরকারি চাকরিতে যোগদান বিষয়ে নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের নিরুৎসাহ করা গেলে, লাভ কার? ক্ষতিটাই বা কার?

    সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়লে মানুষ চিকিৎসার প্রয়োজনে কোথায় যেতে পারেন? কোথায় যাচ্ছেন? লাভবান হচ্ছেন কাঁরা??

    কোন ধাঁচের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ব্যবসা যোগানোর জন্যে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে লাটে তোলা হচ্ছে? আপনার করের টাকায়, কোন স্বাস্থ্যব্যবসাকে ভর্তুকি যোগানোর জন্যে চালু হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত?

    প্রশ্নগুলো এখনও করবেন না??

    বিশ্বের কোনো প্রান্তে, আক্রান্ত চিকিৎসকেরা তাঁদের কথা এমনভাবে লিপিবদ্ধ বা সঙ্কলিত করেছেন, এমন আমার জানা নেই।

    ভারতের কোনো প্রান্তে, আক্রান্ত কোনো জনগোষ্ঠী, নিজেদের যন্ত্রণা এমন করে লিখে রেখেছেন, এমনও আমার জানা নেই।

    সাধ্যমত, উত্তরণের পথও খোঁজা হয়েছে।

    আপনারা পড়ে দেখুন। ভালো লাগলে, অন্যান্যদেরও পড়ান।

    সমস্যামুক্তির পথের দিশা পেলে এই সঙ্কলেনের উদ্দেশ্য সার্থক হবে।

    পাওয়া যাচ্ছে, ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম অফিসে। অনলাইন বিক্রির ব্যবস্থাও হচ্ছে।

    যোগাযোগ করলে, ডাকযোগেও বই পাঠানো হবে।

    আপাতত, প্রাপ্তিস্থল,
    ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম
    JC 24, Broadway Road,
    Sector 3
    Salt Lake
    Kolkata 700 016

    Please click the following link to buy it online.

    https://www.boichoi.com/Itihaser_sankalan_%20sankalaner_itihas
  • বিভাগ : ব্লগ | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪৮৩ বার পঠিত
  • পছন্দ
    জমিয়ে রাখুন গ্রাহক পুনঃপ্রচার
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Bishan Basu | 7845.15.781223.43 (*) | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৪:৪৪61946
  • ডাকযোগে কিভাবে বইটি পাওয়া সম্ভব
  • Bishan Basu | 2345.110.9005612.121 (*) | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৫:১৭61947
  • Can be procured online from...
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন