• হরিদাস পাল  আলোচনা  বিবিধ

  • মোমবাতি নিভেছে, আর প্রশ্নগুলো?

    Bishan Basu লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | বিবিধ | ০৭ এপ্রিল ২০২০ | ১৩৪০ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • কয়েকটা কথা বুঝে নেওয়া যাক -

    একনায়কের ফাঁপিয়ে তোলা ইমেজ আর আপাত-দুর্ভেদ্য বর্মের নীচে লুকিয়ে থাকেন একজন মানুষ - যিনি চূড়ান্ত ইনসিকিওর, যিনি অনিশ্চয়তায় ভোগেন নিজের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে - সামরিক অভ্যুত্থানের পথে উঠে আসা একনায়কের চাইতে এই অনিশ্চয়তা আরো বেশী গণতন্ত্রের পথে নির্বাচিত একনায়কের - যিনি সর্বদাই অনিশ্চিত থাকেন, তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটার টান আসছে না তো!! অতএব, জনপ্রিয়তা অটুট আছে কিনা, তিনি বাজিয়ে দেখতে চান - মাঝেমধ্যেই চান আনুগত্যের প্রমাণ।

    দ্বিতীয়ত, একটা শব্দ - রেইফিকেশন (reification) - যার বাংলা প্রতিশব্দ ঠিক জানা নেই - শব্দটির একটা অর্থ, বিমূর্ত কোনো মানবিক বোধকে বস্তু দিয়ে প্রকাশ করা - যেমন ধরুন, ভালোবাসার প্রমাণ হিসেবে বাগদান বা বিবাহের আংটি।

    দেশপ্রেম বা বিপদের মুখে দেশের সংহতির রেইফিকেশন হিসেবে যে মোমবাতি জ্বালালেন দেশের মধ্যবিত্ত-উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণীর একটা বড় অংশ - তাঁরা বুঝেছেন কিনা জানি না, তা ছিল আদতে মোদিজির প্রতি আনুগত্যের রেইফিকেশন। মাথায় রাখুন, একনায়ক আনুগত্যের প্রমাণ চান - কিন্তু, সরাসরি আনুগত্যের প্রমাণ চেয়ে বসলে গণতান্ত্রিক কাঠামোয় অনেক প্রশ্ন উঠে যায় - তার চাইতে মহৎ কোনো ভাবকে উপলক্ষ্য করে প্রমাণটা বুঝে নেওয়া গেলে সাপও মরে, লাঠিও অক্ষত থাকে। অনস্বীকার্য, তাঁর মূল শক্তি যে শ্রেণী, তাঁদের মধ্যে তাঁর প্রতি আনুগত্য যে অটুট, মোদিজি একথা যাচাই করে নিতে পেরেছেন সফলভাবে।

    বাজার অর্থনীতির বাড়বাড়ন্তের সাথে সাথে আমাদের সমাজজীবনে এবং সমাজভাবনায় একটা বড়সড় বদল এসেছে - আত্মকেন্দ্রিকতার সাথে সাথে আর্থিক সাফল্যকেই উৎকর্ষের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে মেনে নেওয়া। অতএব, আগেকার সময়ে শিক্ষিত মানুষ যেকোনো বিষয়কে একটু খতিয়ে দেখে বা বিচার করে বিশ্বাস করতেন বা নিজের মতো করে বুঝতে চাইতেন - সে গভীরতাও অতীত। উল্টে বড় চাকরি করে গাড়িবাড়ি হাঁকানো লোকজন চূড়ান্ত অগভীর - সোশ্যাল মিডিয়ায় যা-ই পান, তা-ই খান - এবং নিজের সেই অগভীর ভাবনাকে চূড়ান্ত বিচার বলে বিশ্বাস করেন - বিপরীত মত, সে যেমনই হোক না কেন, শুনে দেখা ও সে নিয়ে তলিয়ে ভাবার অভ্যেস আর নেই - তাঁদের মধ্যে মোদিজীর প্রভাব অনস্বীকার্য - এবং মোদিজীর পরোক্ষ প্রচারযন্ত্র তাঁরাই।

    এই যাচাই করে নেওয়ার সাথে সাথেই মোদিজীর রাজনীতির যে মূল অস্ত্র - মেরুকরণ - ধর্মভিত্তিক, জাতিভিত্তিক ও শ্রেণীভিত্তিক মেরুকরণ - সেকাজেও তিনি প্রশ্নাতীতভাবে সফল - মোমবাতি জ্বালানোর যুক্তি জানতে চেয়ে যাঁরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাঁদের প্রায় দেশের শত্রু এবং দেশের ঐক্যের পক্ষে বিপজ্জনক বলে দাগিয়ে দেওয়া গিয়েছে - তবলিঘি জামাতের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণকে সামনে রেখে মুসলমান সমাজকে বদমাইশ প্রমাণ করে দেওয়া গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্মের ভিত্তিতে গালিগালাজ চলতে পারছে নিয়ন্ত্রণহীন এবং রাজধানীতে বসে প্রশাসনের নাকের ডগায় জমায়েতের ক্ষেত্রে যে প্রশাসনিক অপদার্থতার প্রশ্নগুলো থাকে, সেগুলোকে একেবারেই ভুলিয়ে দেওয়া গিয়েছে।

    অতএব, দেশের ঘোর বিপদ কিনা সেবিষয়ে যতোটুকুই সংশয় থাক - মোদিজি যে সেই সুযোগে নিজের প্রতি আনুগত্য বেশ বাড়িয়ে নিতে, এবং আনুগত্যের ভিত্তিটি মজবুত করে নিতে সক্ষম হয়েছেন, সে নিয়ে সংশয় না রাখাই ভালো।

    অথচ, প্রশ্ন ছিল অনেক। প্রশ্নগুলো যেভাবে এবং যতোখানি জোরের সাথে উঠে আসার কথা ছিল, সবই পটকার আওয়াজে ধামাচাপা পড়ে গিয়েছে।

    যেমন, দেশে প্রথম করোনা রোগীর খোঁজ পাওয়ার পরেও সরকার হাত গুটিয়ে বসেছিলেন কেন? যেমন, প্রথমদিকের সব আক্রান্তই বিলেতফেরত জেনেও, আন্তর্জাতিক উড়ান বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি কেন? যেমন, খবর পাওয়ার পরেও আন্তর্জাতিক উড়ান থেকে যাঁরা নামলেন, তাঁদের নজরে রাখা এবং পরীক্ষার বন্দোবস্ত হল না কেন? যেমন, সারা বিশ্ব যখন করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত, তখনও স্বাস্থ্যদপ্তর কোন আক্কেলে জানালেন, যে, করোনা কোনো এমার্জেন্সি পরিস্থিতি নয়?

    কিন্তু, সেসব এখন অতীত। যা ঘটে গিয়েছে, সে নিয়ে দোষারোপ করে গায়ের ঝাল মেটানো যেতে পারে - পরিস্থিতির মোকাবিলায় এগোনো যাবেনা তেমন।

    অতএব, মোমবাতি জ্বালানোর যুক্তি ছিল কি ছিল না, অত্যুৎসাহীর দল পটকা ফাটিয়ে বিপর্যয়ের মুখে অশ্লীল আমোদ প্রকাশ করেছে কি করেনি - এসব প্রশ্ন ছেড়ে আসল প্রশ্নগুলোর কথা বলা যাক।

    যেকোনো বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় - প্রস্তুতি। আর এই প্রস্তুতির জন্যে জরুরী - তথ্য। সেই তথ্যগুলো ঠিক কী?

    ১. যে অসুখটা নিয়ে আমরা এত চিন্তিত, আদতে সেই বিপদটা কতোখানি বড়? ধরুন, ইতালিতে এই অসুখে মারা যাচ্ছেন সবচেয়ে বেশী সংখ্যক মানুষ - অসুস্থের অনুপাতে মৃত্যুহার সর্বাধিক - সেদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় বিপর্যস্ত। কিন্তু, মাথায় রাখা যাক, সেদেশে এই অসুখে মৃতদের নব্বই শতাংশেরই বয়স সত্তরের চেয়ে বেশী - পঁচানব্বই শতাংশেরও বেশী পঁয়ষট্টির উর্দ্ধে।

    ইতালির জনসংখ্যার তেইশ শতাংশের বয়স পঁয়ষট্টির বেশী - এদেশে সংখ্যাটা ছয় শতাংশ। করোনা এদেশেও একইভাবে ছড়িয়ে গেলে ভয়াবহতা ও মৃত্যুহার একই থাকার সম্ভাবনা কতখানি?

    করোনার বিরুদ্ধে সতর্কতা জরুরী নিঃসন্দেহে - সরকারি তৎপরতা অতীব প্রয়োজনীয় - কিন্তু, ইতালির গ্রাফের সাথে মিলিয়ে প্রায় প্যানিকের পরিস্থিতি তৈরী করা কতখানি যুক্তিগ্রাহ্য?

    প্রথম থেকেই বিভিন্ন গ্রাফ দেখিয়ে আসন্ন বিপদ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে - সচেতনতার সাথে সাথে আতঙ্ক বেড়েছে বহুগুণ। করোনার বেশ কয়েকটি সপ্তাহ পার হলাম আমরা - গ্রাফগুলোর ভবিষ্যৎ প্রোজেকশনের সাথে সাথে এতাবৎ পাওয়া তথ্যের সাথে আগের পূর্বাভাস মিলল কিনা, সে বিশ্লেষণও তো সমান জরুরী - তাই না?

    ২. অসুখটা ঠিক কতোখানি ছোঁয়াচে? অনুমান করা হচ্ছে, কোভিড-উনিশ আক্রান্ত একজন মানুষের থেকে ছড়াতে পারে দুই কি তিনজনের মধ্যে (হামের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটা ষোল কি আঠেরো) - কিন্তু, এই তথ্য আমাদের দেশে একই থাকার সম্ভাবনা কম, কেননা এদেশে জনঘনত্ব অনেক বেশী এবং একজন মানুষ অনেক বেশী মানুষের সংস্পর্শে আসতে পারেন - কাজেই, সংখ্যাটা বাড়ার সম্ভাবনা। এদেশে আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শে যাঁরাই আসছেন, অনেককেই কোয়ার‍্যান্টাইন করার চেষ্টা হচ্ছে - অথচ, সবার পরীক্ষা করা হচ্ছে না। এভাবে তো হিসেবটা গুলিয়ে যেতে পারে এবং একটা কৃত্রিম নিরাপত্তার বোধ জন্ম নিতে পারে - তাই না? আতঙ্ক-প্যানিক কিম্বা কৃত্রিম নিরাপত্তার বোধ - দুইই তো সমান বিপজ্জনক।

    ৩. তৃতীয়ত, অসুখটা বাস্তবিক কতখানি বিপজ্জনক? মৃত্যুহার কত? ছোঁয়াচে অসুখে মৃত্যুহারের হিসেব কষতে গেলে মৃতের সংখ্যাকে সংক্রামিত মানুষের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করার নিয়ম। কিন্তু, এদেশে গুরুতর অসুস্থ বাদে অধিকাংশের মধ্যেই পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। অতএব, পরীক্ষায় রেজাল্ট পজিটিভ যাঁরা, তাঁদের দিয়ে কতজন আক্রান্ত বা সংক্রামিত, তার দিশা মিলছে না। আর, বিভাজ্য (অর্থাৎ মৃতের সংখ্যা) নিশ্চিত, কিন্তু বিভাজক (সংক্রামিত ব্যক্তির সংখ্যা) ত্রুটিপূর্ণভাবে কম - এদেশে মৃত্যুহার বাড়াবাড়িরকমের বেশী বলে বোধ হওয়ার সম্ভাবনা। পাশাপাশি, বিদেশে করোনা-আক্রান্তের যেকোনো মৃত্যুই করোনায় মৃত্যু বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে - এদেশে সবক্ষেত্রে সেরকম হচ্ছে না। একটা যুক্তিগ্রাহ্য প্রোটোকল তো জরুরী বিপদের পরিসরটুকু বুঝতে - তাই না?

    ৪. এতদিনে, যা-ই বলুন, ছোঁয়াচে অসুখ সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়েনি - এত আক্রান্ত মানুষ ট্রেনেবাসে করে এলেন, ঘুরে বেড়ালেন আর কমিউনিটি স্প্রেড হয় নি - হয় নাকি!! কিন্তু, সেটা কতখানি? প্রস্তুতির জন্যে বিপদের একটা আন্দাজ পাওয়া তো জরুরী - তাই না??

    না, এদেশে এই বিপুল জনসংখ্যায় নড়বড়ে পরিকাঠামোয় বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিটি আপাতসুস্থ মানুষের পরীক্ষা করা সম্ভব নয়, নিঃসন্দেহে। কিন্তু, ধরুন, জনসংখ্যার কত শতাংশ বাচ্চা ভ্যাক্সিন নিয়েছে, সেটা জানতে হলে সবসময় বাড়ি বাড়ি যেতে হয়, এমন তো নয় - ক্লাস্টার স্যাম্পলিং তার পরীক্ষিত ও কার্যকরী পদ্ধতি। এক্ষেত্রেও, জনসংখ্যার মধ্যে কিছু ক্লাস্টার-কে র‍্যান্ডমলি বেছে নিয়ে তার মধ্যেও কয়েকজনের আচমকা পরীক্ষা করলেই একটা আন্দাজ পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে যদি পরীক্ষার সামগ্রী বা কিট কম পড়ে, তাহলে জার্মানির পথটা ভাবা যেতে পারে। সেদেশে দশ কি কুড়িজনের লালারস আলাদা আলাদা করে পরীক্ষা না করে, সবার লালারস একসাথে মিলিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে - রিপোর্ট নেগেটিভ হলে সবাই নেগেটিভ - পজিটিভ হলে সবার আলাদা আলাদা করে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

    মোদ্দা কথা, বিপদের পরিমাণ, বিস্তার আর গভীরতার আঁচ না পাওয়া গেলে বিপদ মোকাবিলার প্রস্তুতি ঠিকভাবে নেওয়া যায় না। লকডাউন নিজে নিজেই কোনো সমাধান নয় - এ শুধু বিপদকে মেপে নিয়ে প্রস্তুতির সময় মাত্র। লকডাউন চলছে - সংহতি দেখানোর জন্যে মোমবাতিও জ্বলছে - কিন্তু, প্রস্তুতি জারি আছে তো?

    করোনার বিপদের আরেকপিঠে অনাহার আর ক্ষুধা আর দেশজোড়া আগামী অর্থনৈতিক বিপদ - সে নিয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে কি? ক্ষুধার্ত মানুষের সামনে সম্ভাব্য অসুখের অজানা ভয়ের বহুগুণ সেই মুহূর্তে ক্ষিদেটুকু - সেই খিদের জ্বালার আশু সমাধান না করলে লকডাউন চালানো যাবে কতোদিন?

    আর, করোনার বিরুদ্ধে লড়াইটা দেশবাসীর হলেও সৈন্যসামন্ত বলতে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী - তাঁরা অসুরক্ষিত থাকলে দেশবাসী বাঁচবেন কি? সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হল কতটুকু? একজন আক্রান্তের চিকিৎসা করতে গিয়ে পঞ্চাশজন স্বাস্থ্যকর্মী কোয়ার‍্যান্টাইনে - যেদেশে এমনিতেই চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীর আকাল, সেদেশে তো এমন সঙ্কটকালে তাঁদের জন্যে বাড়তি সুরক্ষা প্রায়োরিটি পাওয়া উচিত - তাই না? সে ব্যবস্থা কতোদূর?

    প্রশ্নগুলো জরুরী - এই সঙ্কট থেকে মুক্তি পেতে প্রশ্নগুলো অনিবার্য - থালা-কাঁসর-ঘণ্টা-মোমবাতির হুজুগে প্রশ্নগুলো ভুলে গেলে বিপদ - বড় বিপদ সামনেই।

    (আজকের "গণশক্তি--তে প্রকাশিত লেখার বিস্তারিত রূপ)
  • বিভাগ : আলোচনা | ০৭ এপ্রিল ২০২০ | ১৩৪০ বার পঠিত
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • ধীমান মন্ডল | ১৩ এপ্রিল ২০২০ ০৩:০৩92250
  • লকডাউন দেরীতে করা হল কেন? ভারতে প্রথম করোনা রুগী পাওয়া যায় জানুয়ারিতে। ১৬ মার্চের মধ‍্যে দশ'টার বেশী দেশ লকডাউন করা হয়। কিন্তু ভারতে লকডাউন হয় ঠিক মধ‍্যপ্রদেশের গরু কেনাকাটা শেষ করে তার পরের দিন থেকেই। প্রশ্ন গুলো তোলাই থাক।
  • dc | 172.69.34.67 | ১৩ এপ্রিল ২০২০ ০৮:১৪92253
  • "করোনার বিরুদ্ধে সতর্কতা জরুরী নিঃসন্দেহে - সরকারি তৎপরতা অতীব প্রয়োজনীয় - কিন্তু, ইতালির গ্রাফের সাথে মিলিয়ে প্রায় প্যানিকের পরিস্থিতি তৈরী করা কতখানি যুক্তিগ্রাহ্য"

    অযথা প্যানিক তৈরি করার কোন দরকার নেই, এ ব্যাপারে একদম একমত। তবে ডেমোগ্রাফির দিক দিয়ে দেখলে বোধায় আমাদের দেশের অবস্থা বোধায় ইতালির থেকে নিউ ইয়র্কের সাথে বেশী মেলে। নিউ ইয়র্কে জনঘনত্ব অনেক বেশী, যদিও আমাদের শহরগুলোর জনঘনত্ব তারও দ্বিগুন বেশী। নিউ ইয়র্কের মিডিয়ান এজ 36.9 বছর আর পভার্টি রেট প্রায় কুড়ি শতাংশ। দেখা যাচ্ছে যে গরীব এলকাগুলো, যেমন ব্রংক্স, সবথেকে বেশী এফেক্টেড। কালো আর হিসপ্যানিক এরিয়াগুলো সবথেকে বেশী এফেক্টেড। এবার ভাবুন মুম্বাইয়ের ধারাভিতে এই ভাইরাস ছড়াতে শুরু করলে কি হবে।

    "করোনার বিপদের আরেকপিঠে অনাহার আর ক্ষুধা আর দেশজোড়া আগামী অর্থনৈতিক বিপদ - সে নিয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে কি"

    প্রথমদিকে তো একেবারেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। আচমকা লকডাউন ঘোষনা করে দেবার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভয়ানক বিপদে পড়েছেন। তবে এখন বোধায় আস্তে আস্তে কিছু কিছু রাজ্য সরকার অল্প একটু চেষ্টা করছে। যেমন তামিল নাড়ুতে রেশান ফ্রিতে দেওয়া হচ্ছে। গ্রিন কার্ডে রেশান একেবারে ফ্রি, সাথে হাজার টাকা, আর সাদা কার্ডে শুধু চালের দাম দিতে হচ্ছে, পাঁচ টাকা কিলো। তাছাড়া আম্মা ক্যান্টিনগুলোতে রোজ প্রচুর লোক খাচ্ছেন একদম নামমাত্র মূল্যে। পুরো মিল দশ টাকা, এক প্লেট ইডলি পাঁচ টাকা। সরকার থেকে বেশ কয়েকটা জায়গায় মাইগ্রান্টদের থাকার আর খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, বহু মানুষ সেখানে জায়গা পেয়েছে। (বড়ো করে ডিঃ এগুলো শোনা কথা না, আর আমি এডিএমকে সাপোর্টার নই)।
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে মতামত দিন