• হরিদাস পাল
  • খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে... (হরিদাস পাল কী?)
  • স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা ও সরকারি হাত ধোয়া

    Bishan Basu
    বিভাগ : আলোচনা | ০৫ জুন ২০২০ | ১০০৩ বার পঠিত
  • অনেক অনেএক বছর আগে শহরের রাস্তায় চকচকে রুপোলি টিনের বাস চলত। সিটের উপরে লেখা থাকত চমৎকার কিছু উপদেশ - সদুপদেশ। তেমনই এক উপদেশের কথা মনে পড়ে গেল - মালের দায়িত্ব আরোহীর।

    এতদিনে নিশ্চয়ই এটা বুঝেছেন, যে, স্বাস্থ্য একটি ক্রয়যোগ্য সামগ্রী - কেননা, সরকার উত্তরোত্তর তেমন দিকেই এগোচ্ছেন, যেখানে অসুস্থতা থেকে সুস্থতা কিনে নিতে হবে - সরকারের দায় বলতে, গরীবের ক্ষেত্রে সেই খরচ সরকার বহন করবেন (কদিন করবেন, সেটা বলা মুশকিল)। অর্থাৎ, স্বাস্থ্য যে নাগরিকমাত্রেরই অধিকার, এমন আশ্চর্য কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলাই ভালো। বুঝে নিন, স্বাস্থ্য স্রেফ একটি পণ্য - খরচে পোষালে কিনবেন - না পোষালে...থাক সেসব কুকথা।

    অতএব, স্বাস্থ্য একটি মাল - এবং জানেনই তো, মালের দায়িত্ব আরোহীর।

    স্বাস্থ্যকর্মী-চিকিৎসক তাঁরাও এই নিয়মের ব্যতিক্রম নন। সে যতোই বড় বড় লোকজন বলে থাকুন না কেন, যে, স্বাস্থ্যকর্মী-চিকিৎসক এনারা হলেন গিয়ে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সবচেয়ে মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, এবং এই সঙ্কটকালে তো বটেই, হুঁ হুঁ বাবা, আমাদের সরকার হলেন গিয়ে এক্কেবারে নো ননসেন্স।

    সুপ্রীম কোর্ট যখন জিজ্ঞেস করেছেন, চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সরকার কী ভাবছেন বা কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন, দেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক পষ্টাপষ্টি লিখিত জানিয়েছেন -

    "While the Hospital Infection Control Committee in the health facility is responsible for implementing the Infection Prevention and Control activities, but the final responsibility lies with healthcare workers. It is their responsibility to train themselves and take all measures in preventing the infection."

    মোদ্দা কথা, চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদেরই দায় সংক্রমণ থেকে নিজেদের বাঁচানো - অর্থাৎ, নিজের দায়িত্ব নিজেরই।

    এদিকে, কী গেরো দেখুন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বলছেন -

    "Because occupational hazards arise at the workplace, it is the responsibility of employers to ensure that the working environment is safe and healthy. This means that they must prevent, and protect workers from, occupational risks. But employers’ responsibility goes further, entailing knowledge of occupational hazards and a commitment to ensure that management processes promote safety and health at work….Adequate arrangements should also be made for compensation of work-related injuries and diseases, as well as for rehabilitation and to facilitate a prompt return to work."

    সরকারবাহাদুরকে যদি স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিচালক ও নিয়ামক মানতে হয়, তাহলে তো, অন্তত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার নিয়ম অনুসারে, স্বাস্থ্যকর্মী-চিকিৎসকদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে কিছু দায়িত্ব সরকারের থাকে। তাই না?

    একই বক্তব্যে সরকার এও জানাচ্ছেন, যে, কোভিড পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সংক্রমণের ঝুঁকি আমজনতার চেয়ে বেশী নয়। এবং, প্রোটেক্টিভ পোষাক পরলে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের সংক্রমণের ঝুঁকি তেমন নেই - এবং তাঁদের থেকে তাঁদের পরিজন সংক্রামিত হতে পারেন, এমন সম্ভাবনা স্রেফ কষ্টকল্পনা।

    অথচ, নার্সদের আন্তর্জাতিক কাউন্সিল গতমাসের শুরুতেই জানিয়েছিলেন, তাঁদের হিসেবে বিশ্ব জুড়ে অন্তত নব্বই হাজার স্বাস্থ্যকর্মী সংক্রামিত (আবারও বলি, এই হিসেব মে মাসের শুরুর) - এবং, তাঁদের নিজেদেরই কথায়, এই তথ্য অসম্পূর্ণ - কেননা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও জানিয়েছেন, সদস্য দেশগুলির অধিকাংশই চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে সংক্রমণের হার জানাচ্ছেন না।

    অথচ, একজন সংক্রামিত সাধারণ নাগরিক এবং একজন সংক্রামিত স্বাস্থ্যকর্মী - দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পক্ষে দ্বিতীয়জন অনেক বেশী বিপদ। কেননা, প্রথমত, তিনি অনেক বেশী মানুষকে সংক্রামিত করতে পারেন এবং দ্বিতীয়ত, একসাথে অনেক চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী সংক্রামিত হয়ে ঘরবন্দি হয়ে পড়লে সমগ্র স্বাস্থ্যব্যবস্থাটিই ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি।

    একদিকে লকডাউন আচমকা তুলে দিয়ে সংক্রমণের আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে ফেলা - সবরকম অফিস-কাছাড়িতে হাজিরা বাড়ানোর কথা বলে মানুষকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করা - গণপরিবহন ব্যবস্থা আধাআধি খুলে সেই সীমিত যানবাহনে গাদাগাদি ভিড় নিশ্চিত করা - আর আরেকদিকে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংক্রমণের দায় থেকে হাত ধুয়ে ফেলা - কী কিউট না!!!

    কিন্তু, সেসব কথা থাক। সৎ দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে আমাদের গুরুদায়িত্ব সরকারেরব কথাকে বেদবাক্য বলে মেনে নেওয়া।

    এই পরিস্থিতিতে, নিজের স্বাস্থ্য নিজের সুরক্ষার দায় এক এবং একমাত্র নিজের, এমত সরকারি ঘোষণায় উদবুদ্ধ হয়ে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি বড় অংশ যদি বাড়িতে বসে থাকতে চান, তাহলে নিশ্চয়ই তাঁদের দোষ দেওয়া যায় না। তাই না??

    তাহলে কী করবেন?

    কী আবার!!! সবাই হাত ধুচ্ছেন তো? সরকারও হাত ধুয়ে নিলেন।

    আপনি থালা বাজান। বাতি জ্বালুন।

    কোনো এক শুভদিনে সন্ধ্যা আট ঘটিকায় পরবর্তী ঘোষণার অপেক্ষায় থাকুন।
  • বিভাগ : আলোচনা | ০৫ জুন ২০২০ | ১০০৩ বার পঠিত
আরও পড়ুন
'The market...' - Jhuma Samadder
  • আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • প্রভাস চন্দ্র রায় | 2409:4060:2113:4236::2296:a8b1 | ০৫ জুন ২০২০ ১৪:৫৫94022
  • ইউরোপের অধিকাংশ উন্নত পুঁজিবাদী দেশগুলোর সরকার যেখানে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ব‍্যবস্থার দায় নিজেদের কাঁঁধে বহন করে, সেখানে আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশের সরকার স্বাস্থ্য ব‍্যবস্থা থেকে নিজেদের হাত ধুয়ে ফেলছে। 

    এই প্রসঙ্গে বিভিন্ন ভাবে জন সচেতনতা জাগানোর প্রয়াস সত্বেও মানুষ সে ভাবে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করার মত আন্দোলন নিয়ে নিস্পৃহ থেকেছে। অথচ ভুগতে হচ্ছে তাদেরই বেশি। 

    আর চিকিৎসা কর্মীদের নিরাপত্তা সম্বন্ধে যত কম বলা যায় ততই ভালো।

  • পারমিতা | 2409:4060:383:eb6:aafb:2be6:e8d8:772b | ০৫ জুন ২০২০ ১৬:২২94024
  • স্বাস্থ্যকর্মীদের দায় তার নিজের এই রায় শোনার পরে যদি অনেক স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করতে অস্বীকার করে তাহলে এই সময় কি অবস্থা হবে ভাবা যায়না।
  • আর ভাই | 2409:4065:21b:3723:3485:62f6:7bff:9c4c | ০৫ জুন ২০২০ ১৮:৫৬94030
  • আরে তার জন্য তো এসমা আছে! কিছু রাজ্যে জারিও হয়ে গেছে। সেই প্রথম দিকেই,যখন পিপিই ও আসেনি, তখন সেসব ছাড়াই সব কাজ কর‍তে বাধ্য হয়েছেন! কোন রাজ্য, একটু কান পাতলেই বেরবে।
  • সূয্যি ডাক্তার ও বিমান বুড়ো একসাথে | 178.73.210.105 | ০৬ জুন ২০২০ ১৯:১৮94042
  • শুনলাম নাকি চীন আর কিউবা র পর কেরালা ও নাকি ভ্যাকসিন তৈরী করে ফেলেছে 

    খালি ফেইসবুক থেকে ডাউনলোড করলেই হবে 

  • বিপ্লব রহমান | 119.30.39.53 | ০৮ জুন ২০২০ ০৬:৫৮94111
  • "অতএব, স্বাস্থ্য একটি মাল - এবং জানেনই তো, মালের দায়িত্ব আরোহীর।" 

    অকপট সত্য। এপারেও চিত্র একই,  দেশ বদলায়, শাসক বদলায়,   শোষণ বদলায় না     

  • করোনা ভাইরাস

  • পাতা : 1
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত