• হরিদাস পাল  আলোচনা  রাজনীতি

  • গান্ধীজির চশমা আর আমাদের ঠুলি

    Bishan Basu লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | রাজনীতি | ২৩ আগস্ট ২০২০ | ১৫৪৭ বার পঠিত
  • জমিয়ে রাখুন পুনঃসম্প্রচার
  • গান্ধীজির চশমা আর আমাদের ঠুলি

    বিষাণ বসু

    খাস বিলেতের ঘটনা।

    বিলেতের একটি নীলামঘর। একদিন বাইরে ঝুলিয়ে রাখা লেটারবক্সে পাওয়া গেল একখানি খাম।

    খামের ভেতরে একখানা চশমা। পুরোনো চশমা, সোনালি রিমের। সাথে প্রেরকের নাম-ঠিকানা-সহ ছোট্ট চিঠি।

    চশমাটি খুবই পরিচিত, অন্তত আমাদের চোখে। রোজই হাটেবাজারে দেখতে পাই, টাকার নোটে বা এদিকসেদিক। চিঠিতে লেখা, চশমাখানি গান্ধীর - মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর। প্রেরকের কাকা গত শতকের শুরুর দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় ছিলেন। সেই সময়েই পরিচয় হয়েছিল গান্ধীজির সাথে। পরে বন্ধুত্বও। সেই সুবাদেই চশমাটি গান্ধীজি উপহার দিয়েছিলেন কাকাকে। ক্রমে উত্তরাধিকার-সূত্রে চশমাটি বর্তমান মালিক পেয়েছেন। ব্যাপারটায় আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই, কেননা বন্ধুত্বের চিহ্ন বা স্মারক হিসেবে নিজের চশমাখানি উপহার দেওয়া গান্ধীজির পরিচিত অভ্যেস।

    বর্তমান মালিক অবশ্য চশমাটির তাৎপর্য বিষয়ে তেমন ওয়াকিবহাল নন। কেননা, চিঠিতে আরো লেখা, চশমাটি যদি নীলামঘর কোনোভাবে বিক্রি করতে পারে, সে যেকোনো দামেই হোক না কেন, তাহলে ভালো - নাহলে নীলামঘর স্বচ্ছন্দে চশমাটি ফেলেও দিতে পারে।

    প্রাথমিকভাবে নীলামঘরের মালিক জানান, চশমাটির দাম দাঁড়াতে পারে কমবেশী পাঁচ হাজার পাউন্ড (ভারতীয় মুদ্রায়, পাঁচ লক্ষ টাকা)। মাথায় রাখা যাক, এটি সদবিজ বা ক্রিস্টিজের মত খুব বড় নীলামঘর নয় - কাজেই, অনুমানটি এমন হাস্যকর রকমের কম। যা-ই হোক, এই পাঁচ লাখ শুনেই তো চশমার বর্তমান মালিকের চক্ষুস্থির।

    কদিন পরে নীলামঘর কর্তৃপক্ষ আরেকটু খোঁজখবর নিয়ে জানান, পাঁচ নয়, চশমার দাম দাঁড়াতে পারে পনের লক্ষ পাউন্ড (আমাদের প্রায় পনের লাখ টাকা)। শুনেটুনে তো চশমার মালিকের চেয়ার থেকে প্রায় পড়ে যাওয়ার দশা।

    সে যা-ই হোক, এই দুদিন আগেই সে চশমা উঠল নীলামে। এবং বিক্রি হল। দাম উঠল, ২৬০০০০ পাউন্ড - না, ভুল পড়েননি - দুই লক্ষ ষাট হাজার পাউন্ড - ভারতীয় মুদ্রায় আড়াই কোটি টাকার থেকেও বেশী।

    এই আশ্চর্য দাম থেকে অন্তত একটা ব্যাপার বোঝা গেল। এদেশের বর্তমান বাজারে দাম থাকুক বা না থাকুক, বিশ্বের দরবারে এখনও গান্ধীজি আধুনিক ভারতবর্ষের মুখ - এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্র‍্যান্ডও। এটা অবশ্য নতুন কোনো তথ্য নয় - প্রায় জানা কথাই।

    কিন্তু, এর সাথে আরো কিছু কিছু কথা মনে এলো।

    গান্ধীজি স্বয়ং ধনসম্পদ সঞ্চয় ও খেয়ালখুশিমতো ব্যয়কে কেমন চোখে দেখতেন? তাঁর সহজ বক্তব্য, দৈনন্দিন প্রয়োজনের তুলনায় বেশী ধনসম্পদ আহরণ অনুচিত। এবং, দৈনন্দিন প্রয়োজনও যথাসম্ভব কমিয়ে আনা উচিত। বিশেষত, যে মুহূর্তে সমাজের সকলের সাধারণ দৈনন্দিন চাহিদাটুকু মিটছে না, সে মুহূর্তে প্রচুর টাকার মালিক হয়ে বসে থাকা বা বাকিদের কথা না ভেবে সাধ-আহ্লাদ অনুসারে খরচা করা অহিংসা নীতিরই বিরুদ্ধ।

    না, ব্যক্তি-মালিকানাধীন সম্পত্তি-প্রথারই বিলোপ ঘটিয়ে সার্বিক সাম্যের কথা তিনি বলেননি। তাঁর চোখে ধনীদের দায়িত্ব সমাজের সম্পদের অছি হিসেবে সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করা। এবং, ধনীদের কর্তব্য বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন…

    "As soon as a man looks upon himself as a servant of society, earns for its benefit, then purity enters into his earnings and there is ahimsa in his venture." (Equal Distribution, Harijan 25th August 1940)

    ধনীরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই এই পথে এগোবেন, তাঁর আশা ছিল এমনই। আর যদি সে প্রত্যাশা না পূরণ হয়?

    "If, however, in spite of the utmost effort, the rich do not become guardians of the poor in the true sense of the term and the later are more and more crushed and die of hunger, what is to be done?" (ibid)

    সেক্ষেত্রে, তাঁর মতে, উপায় আইন অমান্য ও অসহযোগ, অবশ্যই অহিংসার পথে। কেননা, "The rich cannot accumulate wealth without the cooperation of the poor in society." (ibid)

    আরো স্পষ্ট করে বলতে হলে,

    "We invite the capitalist to regard himself as trustee for those on whom he depends for the making, the retention and the increase of his capital. Nor need the worker wait for his conversion. If capital is power, so is work. Either power can be used destructively or creatively. Either is dependent on the other. Immediately the worker realizes his strength, he is in a position to become a co-sharer with the capitalist instead of remaining his slave." (Questions & Answers; Young India 26th March, 1931)

    ব্যক্তিগত সম্পত্তির - তাঁর চোখে অবশ্য ধনী মাত্রেই তো তিনি অনেকের সম্পত্তির অছি বা ট্রাস্টি, তবু প্রথাগত অর্থে যা ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পদ - সে সম্পদের ব্যবহার নিয়েও তাঁর ধারণা ছিল খুব স্পষ্ট…

    "Just imagine that I have a crore of rupees in my possession. I can either squander the amount in dissipation or take up the attitude that the money does not belong to me, that I do not own it, that it is a bequest and that only so much of it is mine as is enough for my requirements. My requirements also should be like those of the millions. My requirements cannot be greater because I happen to be the son of a rich man. I cannot spend the money on my pleasures. The man who takes for himself only enough to satisfy the needs customary in his society and sprnfs the rest for social service becomes a trustee." (গান্ধী সেবা সঙ্ঘের পঞ্চম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর)।

    সুতরাং, কয়েকটি কথা বলা যেতে পারে।

    মহাত্মা গান্ধীর চোখে ধনীদের দায় সমাজের সম্পদের অছি বা ট্রাস্টি-স্বরূপ, কেননা যে সম্পদ আপাতদৃষ্টিতে ব্যক্তিমালিকানাধীন, তা বহুজনের শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত ও তাতে অধিকার অনেকের। কারো সম্পত্তির পরিমাণ বেশী, তার মানে এই নয়, তার চাহিদাও বেশী হবে - সকলের ন্যূনতম চাহিদা সমান এবং সেই চাহিদা মেটানোর শেষে সকলের দায়িত্ব অর্জিত সম্পদ সমাজের সকলের প্রয়োজনে ব্যয় করা। পুঁজি ও শ্রম, দুয়ে মিলেই সম্পদ সৃষ্টি হয় - সে সম্পদে অধিকার কোনো একটি পক্ষের নয়। সমাজের বাকি সবার প্রয়োজনের কথা না ভেবে যিনি সম্পদ সঞ্চয় করছেন বা ব্যক্তিগত বিলাস-ব্যসন ও পছন্দ-অপছন্দের অনুসারে সম্পদ ব্যয় করছেন, তিনি অহিংসার পথে চলছেন না।

    অতএব, যিনি আড়াই কোটি টাকার বিনিময়ে গান্ধীজির চশমা কিনলেন, বা কিনতে পারলেন, তিনি ঠিক গান্ধীজির নীতির অনুসারী নন, একথা ধরেই নেওয়া যায়।

    তাহলে তিনি কিনলেন কেন?

    সম্ভবত, গান্ধীজির গৌরব হতে বিচ্ছুরিত আলোকের মোহময় আঁচটুকু পোয়াতে - গত শতকের শ্রেষ্ঠতম কয়েকজন মানুষের মধ্যে একজন, অর্থাৎ মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, সেই গান্ধীজির ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী রয়েছে তাঁর সংগ্রহে, এই প্রতিফলিত মহত্ত্বের স্বাদ পেতে। মূল মানুষটির ভাবধারা বা মহত্ত্বের অনুসরণ অনেক কঠিন কাজ, এবং তেমন আরামপ্রদও নয় - উল্টে আয়েসী যাপনে অপরাধবোধ জেগে উঠতে পারে - সেসব দিকে না এগোনোই ভালো।

    এই যে ব্যক্তিমানুষটির যাপন বা আদর্শকে এড়িয়ে গিয়ে তাঁর লার্জার-দ্যান-লাইফ ইমেজটির অনুষঙ্গ ব্যবহার করে কিঞ্চিৎ গৌরব অর্জন, ব্যাপারটা শুধু নির্দোষ ব্যক্তিগত সংগ্রহের আত্মপ্রসাদ লাভে সীমাবদ্ধ থাকলে অতোখানি সমস্যা হত না।

    কিন্তু, ইদানীং ইমেজের সদব্যবহার বা অপব্যবহার করে নিজেদের অ্যাজেন্ডা গুছিয়ে নেওয়ার ধারাটি পুরোদমে চালু হয়ে গিয়েছে - আর পুরো পরিস্থিতির পাঠটাই খুব সহজেই কেমন গুলিয়ে দেওয়া যাচ্ছে।

    যেমন দেখুন...

    একদিকে গান্ধীজির হত্যাকারীর নামে মন্দির তৈরী হচ্ছে এবং আরেকদিকে গান্ধীহত্যার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত সংগঠনের সক্রিয় সদস্য হিসেবে গৌরবান্বিত প্রধানমন্ত্রী গান্ধীজির স্মৃতিসৌধে মালা দিয়ে থাকেন।

    গান্ধীজির প্রতিস্পর্ধী হিসেবে সর্দার প্যাটেলকে খাড়া করে ফুটেজ খাওয়ার ব্যবস্থা হয় এবং মোদি-শাহ জুটিকে প্রায় বল্লভভাই প্যাটেলের উত্তরসূরী হিসেবে প্রোজেক্ট করা হয়, যদিও প্যাটেল স্বয়ং আরএসএস-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন এবং সাভারকারকে জেলে ঢোকানোর ব্যাপারে বদ্ধপরিকর ছিলেন, যা থেকে তাঁকে নিরস্ত করতে বিস্তর চিঠিচাপাটি লেখেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

    সাভারকার তো মডেল বীর হিসেবে স্বীকৃত হয়েই গেছেন ইদানীং - আবার তাঁকে জেলে ঢোকাতে বদ্ধপরিকর প্যাটেলও হিন্দুত্বের মুখ হয়ে গিয়েছেন সেই কবেই - এবং সাভারকারকে জেল থেকে বাঁচানো শ্যামাপ্রসাদ বিজেপির বাঙালি আবেগকে সুড়সুড়ি দেওয়ার অতি প্রত্যাশিত মুখ।

    আর, তারও পরে, মোহনদাস গান্ধীকে কোনোভাবেই নিজেদের ছাঁচে ঢেলে ফেলা মুশকিল, এই অনিবার্য সত্য উপলব্ধির কারণে - এবং অবশ্যই আরএসএস-এর গান্ধীহত্যার ব্যাগেজের কারণেও - শুধু প্যাটেলের ইমেজের সিলেক্টিভ ব্যবহার যথেষ্ট বোধ না হওয়ায়, নেতাজিও মূলধারার বিজেপির অস্ত্র হয়ে উঠেছেন।

    জীবনের কোনো সময়ই নেতাজি গান্ধীজির প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ করেছিলেন বলে মনে পড়ে না, কিন্তু "স্বাধীন ভারতে নেতাজিকে প্রথমবার সম্মান দেওয়া" দলটি গান্ধীজি-নেতাজির সম্পর্ককে প্রায় সাপেনেউলে-জাতীয় হিসেবে প্রমাণ করে ফেলেছেন এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রবল বিরোধী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকেও হিন্দুত্বের সম্প্রসারণে কাজে লাগানো যাচ্ছে, যদিও এখনও অব্দি কিঞ্চিৎ পরোক্ষে ও ঘুরপথে।

    এবং কী আশ্চর্য, বাঙালী আবেগের সুড়সুড়ির ক্ষেত্রে হিন্দুত্ব রাজনীতির অস্ত্র একদিকে শ্যামাপ্রসাদ ও অন্যদিকে নেতাজি - ইতিহাস সাক্ষী, প্রকাশ্য পরিসরে যাঁদের রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল আদর্শগত ও রীতিমতো আক্রমণাত্মক প্রতিপক্ষের।

    সে হোক গে।

    আপাতত, সুবিধেমত অংশবিশেষ বেছে নিয়ে সেটাকেই আস্ত বলে চালিয়ে দেওয়ার যুগ।

    অতএব, গান্ধী-ভাবাদর্শের সাথে যাপনের ছিঁটেফোঁটা সম্পর্ক না রাখলেও গান্ধীজির ব্যবহৃত জিনিস কেনার পেছনে আড়াই কোটি টাকা খরচ করা যায়।

    আর গান্ধীভক্ত প্যাটেল কিম্বা হিন্দুত্ববিরোধী সুভাষচন্দ্র গান্ধীহত্যাকারী হিন্দুত্ব-রাজনীতির আইকন হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকেন।
  • বিভাগ : আলোচনা | ২৩ আগস্ট ২০২০ | ১৫৪৭ বার পঠিত
আরও পড়ুন
বিভাব - Avi Samaddar
আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • Bishan Basu | ২৫ আগস্ট ২০২০ ১৯:২৪96654
  • @r2h আমারও অম্নি ধারণাই ছিল। কিন্তু, এসব নিয়ে সেভাবে কিছুই পড়া নেই - পুরোটাই শোনা কথা। তাই সাহসে ভর করে কিছু বলতে পারলুম না।

  • একলহমা | ২৫ আগস্ট ২০২০ ২০:০৫96656
  • "সুবিধেমত অংশবিশেষ বেছে নিয়ে সেটাকেই আস্ত বলে চালিয়ে দেওয়ার" - ব্যপারটা মনে হয় সব যুগেই চলে। অনেকেই করে থাকেন। রকমফের হয়। এই সময়ে এটা যেভাবে চলছে চুম্বকে সেটা বোঝানোয় আপনার উপস্থাপনা যথাযথ লেগেছে।  

  • dc | 103.195.203.18 | ২৫ আগস্ট ২০২০ ২০:১০96657
  • r2h, কনজিউম করলে ইকোনমিক অ্যাক্টিভিটি বাড়ে, এটা ট্রিকল ডাউন তত্ব না। বড়োলোকদের ট্যাক্স ব্রেক দিলে (যাতে তারা বেশি বেশি স্পেন্ড করে) গ্রোথ হয়, এটা ট্রিকল ডাউন তত্ব। ট্রিকল ডাউনের একটা ক্রিটিসিজম হলো এর জন্য সরকারের ইন্টারভেনশান লাগে (বড়োলোকদের ট্যাক্স ব্রেক)। তবে এই ট্রিকল ডাউন ছাড়াও, কোন রকম ট্যাক্স ব্রেক ইত্যাদি না দিয়েও, যদি এমনি এমনি স্পেন্ডিং হয় তাতেও সবার উপকার হয়। ইকোনমি এক্সপ্যান্ড করলে সবাই বেশী ভালোভাবে জীবন কাটাতে পারে।

    খুব বড়ো ডিসক্লেমারঃ ভালো ভাবে বাঁচা বলতে আমাদের মতো কনসিউমারিস্টদের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে ভালো ভাবে বাঁচা। আমরা গাড়ি বাড়ি কিনতে ভালোবাসি, এখানে সেখানে ঘুরতে ভালোবাসি, দিনের শেষে একটু হুস্কি নিয়ে বসে হাল্কা করে সোনোস সিস্টেমটা চালিয়ে গান শুনতে ভালোবাসি। যারা কনসিউম করতে চায় তারা বেশী ভালো থাকে। সন্যিসিদের আলাদা পন্থা।

    বিষাণ বাবু, ইকোনমিক্স আমারও জীবিকার লাইন নয়। কাজেই যা চায় প্রাণ খুলে বলতে পারেন।
  • dc | 103.195.203.18 | ২৫ আগস্ট ২০২০ ২০:২২96658
  • কিছুদিন আগে কোন একটা টইতে টমাস সোওয়েলের নাম কেউ বলেছিলেন, সেখানে আমি লিখেছিলাম ওনার লেখা চমত্কার ইকোনমিক্স বইয়ের কথা। সেই বই থেকে কপিপেস্ট করলাম (উনি সাধারনত ফ্রি মার্কেট আর ক্যাপিটালিজম সমর্থন করে থাকেন)ঃ

    There have been many economic theories over the centuries, accompanied by controversies among different schools of economists. But one of the most politically prominent economic theories today is one that has never existed among economists-the "trickle down" theory. People who are politically committed to policies of redistributing income and who tend to emphasize the conflicts between business and labor, rather than their mutual interdependence,
    often accuse those opposed to them of believing that benefits must be given to the wealthy in general or to business in particular, in order that these benefits will eventually "trickle down" to the masses of ordinary people. But no recognized economist of any school of thought has ever had any such theory or made any such proposal. It is a straw man. It cannot be found in even the most voluminous and learned histories of economic theories.

    Proposals to reduce taxes on capital gains, for example, are often opposed politically by saying that those who make such proposals believe in a "trickle down" theory of economics. In reality, economic processes work in the directly opposite way from that depicted by those who
    imagine that profits first benefit business owners and that benefits only belatedly trickle down to workers.
  • Bishan Basu | ২৫ আগস্ট ২০২০ ২১:০৪96659
  • এই লেখাটা দেখবেন তো, প্লীজ।

    আবারও বলি, অর্থনীতির তত্ত্ব নিয়ে আমার কোনোরকম পড়াশোনা নেই। লেখাটার সবটার তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা আমার মাথার ওপর দিয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা।

    https://www.newyorker.com/magazine/2020/02/10/can-we-have-prosperity-without-growth

  • Bishan Basu | ২৫ আগস্ট ২০২০ ২১:১৩96661
  • "There are two ideas of government. There are those who believe that if you just legislaতe to make the well-to-do prosperous, that their prosperity will leak through on those below. The Democratic idea has been that if you legislate to make the masses prosperous their prosperity will find its way up and through every class that rests upon it."

    উইলিয়াম জেনিংস ব্রায়ান আর্থিক গ্রোথ নিয়ে কথাটা বলেছিলেন সোয়াশো বছর আগে।

    কিন্তু, এইসব আলোচনা বোধহয় মূল প্রসঙ্গ থেকে দূরের কথাবার্তা হয়ে যাচ্ছে।  

  • dc | 103.195.203.18 | ২৫ আগস্ট ২০২০ ২১:২২96662
  • পড়লাম, ভালোই তো লাগলো পড়তে, যদিও কিছ্য জায়গায় একমত হলাম না। তবে এই লেখাটা বেশীটাই গ্রোথ নিয়ে, সেখানেও সেই স্পেন্ডিং চলে আসে, আর এখানেও লেখা যে স্পেন্ডিং এর ফলে বহু লোক পভার্টি লাইনের ওপরে উঠে এসেছেন (এটা নিয়ে হানস রসলিং এর ভারি ইন্টারেস্টিং সব ভিডিও আছে য়ুটুবে, তবে রসলিংও ক্যাপিটালিস্ট)।

    যাই হোক, যেটা নিয়ে মন্তব্য করেছিলাম, গান্ধীর এই লাইনটাঃ Just imagine that I have a crore of rupees in my possession. I can either squander the amount in dissipation or take up the attitude that the money does not belong to me। এটা ভুল। এক কোটি টাকা যে কারনেই খরচ করা হোক না কেন, সেটা ইকোনমির কাজে লাগে। সেটা স্কুয়ান্ডারিং না, বরং খরচ করলে সবার কাজে লাগে। তবে গান্ধী বোধায় সোশ্যাল রিফর্মার ছিলেন, মানে উনি ভালো লিডার ছাড়া আর ঠিক কি ছিলেন আমি জানি না, তবে ইকোনমিস্ট ছিলেন না। তাই ইকোনমি নিয়ে ভুল কথা বলে থাকতেই পারেন।
  • dc | 103.195.203.18 | ২৫ আগস্ট ২০২০ ২১:২৬96663
  • The Democratic idea has been that if you legislate to make the masses prosperous their prosperity will find its way up and through every class that rests upon it

    এতে তো কোন ভুল নেই। প্রসপারিটি যতো বাড়বে ততো মার্কেট বাড়বে, ততো স্পেন্ডিং বাড়বে। স্পেন্ডিং বাড়লে ইকোনমিক গ্রোথ হবে। অনেক অনেক লোক মিলে স্পেন্ডিং করাও ভালো, আর দুয়েকজন কোটিপতি অনেক স্পেন্ডিং করাও ভালো। ধরুন এক লাখ লোক বাজারে গিয়ে সব্জি কিনে আনলো, আবার এক জন বাজারে গিয়ে ফেরারি কিনে আনলো। দুটো আলাদা মার্কেট, দুটোতেই স্পেন্ডিং দরকার।
  • দীপাঞ্জন | 2601:647:5600:1820:e972:510b:89f4:6af | ২৬ আগস্ট ২০২০ ১১:৫০96669
  • ব্যক্তি সুভাষের ব্যক্তি গান্ধীর প্রতি অশ্রদ্ধা প্রসঙ্গে নীরদ চৌধুরীর দাই হ্যান্ড এর "গান্ধী-সুভাষ ফিউড" চ্যাপ্টারটা (চাইলে কিছুটা টাইপ করতে পারি) পড়তে পারেন | অশ্রদ্ধা না করাটাই সুভাষের পক্ষে অস্বাভাবিক এবং স্বধর্মচ্যূতি হত | এক শাক্ত-হিন্দু বিপ্লববাদী কেমব্রিজ ফেরত বাঙালী বুদ্ধিজীবী ভদ্রলোকের অন্তরে এক বৈষ্ণব-ক্রিশ্চান "অহিংস" স্বল্পশিক্ষিত গুজ্জু বেনিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা থাকা অসম্ভব, যদি দুজনের ব্যক্তিগত বিশ্বাসে জোর থাকে, যেটা ছিল | অশ্রদ্ধা সুভাষের সব সময় সচেতন না হলেও অবচেতনে ছিলই | সুভাষের ঘনিষ্ঠ মহলে, নীরদবাবু শরৎ বসুর সেক্রেটারি হওয়ায় যে মহলের অংশ ছিলেন, গান্ধীকে নপুংসক এবং তার থেকেও অনেক খারাপ নামে ডাকা হতো | এগুলো তো আর সুভাষ নিজে লিখে রেখে যাবেন না, বিশেষ করে যখন গানগ্রেস বাদ দিয়ে সুভাষের পক্ষে ভারতীয় রাজনীতিতে টিকে থাকা সম্ভব ছিল না |
  • sm | 42.110.130.38 | ২৬ আগস্ট ২০২০ ১৪:১৯96671
  • স্পেন্ডিংয়ে কতো জন অংশ নিচ্ছে,সেটাই ইম্পর্ট্যান্ট। দেশের তিয়াত্তর শতাংশ সম্পদ এক শতাংশের কুক্ষিগত।

    এখন  ধরা যাক,এই এক শতাংশ কোয়েক লাখ কোটি টাকা খরচ করলেন,দামী গাড়ি, প্রাইভেট জেট,প্রমোদ তরী,বিদেশ ভ্রমন,বিদেশে সম্পত্তি কেনা, হীরে জহরত কিনে। কি লাভ হলো?টাকার সিংহভাগ বিদেশে চলে গেলো।

    আর বাকি অংশ দিয়ে যা কেনা হলো,সেটার বিক্রেতাও এক এক শতাংশ এর মধ্যেই ঘোরা ফেরা করেছে। অর্থাৎ আম্বানি, নীরব মোদীর দোকানের হীরে জহরত কিনলো,টাটা র হোটেলে সময় কাটালো, এবং ভাইসে ভা।কটা মধ্যবিত্ত বা নিন্মবিত্তের লোকজন এই চক্রে অংশ গ্রহণ করলো।

    কিন্তু সে,জায়গায় ওই টাকা পয়সা যদি গরীব মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া যায়,তাহলে সে খাবার কিনবে,সস্তার হোটেলে খাবে,মোবাইল কিনবে,দু চাকা কিনবে,সস্তার চার চাকা কিনবে।

    বহু লোকের মধ্যে সম্পদ ঘোরা ফেরা করবে।জীবন যাত্রার মান বাড়বে।চাই কি দেশের সম্পদ এর বেশীর ভাগ দেশেই থাকবে।

    অভিজিৎ বিনয়ক বোধ হয়,এমন কিছু মডেল এর কথাই বলেছেন।

  • | 2601:247:4280:d10:e02b:e815:45:c3b9 | ২৬ আগস্ট ২০২০ ২০:৩৩96673
  • প্রয়োজনমত জীবনযাপন উনি নিজেও করে গেছেন তো। “Do you know how much it costs every day to keep you in poverty?” সরোজিনী নাইডুর এই প্রশ্নটা রীতিমত বিখ্যাত তো।হরিজন পত্রিকায় যাই লিখে থাকুন না কেন:-) নাইডুর এ প্রশ্নের উত্তর উনি দেন নি বা যাপন বদলে ফেলেন নি। একটা দুষ্টু  ছোটপত্রিকা বা বই সেসময় সাধারণ ভারতবাসীর রোজের খরচ আর গান্ধীর খরচের তুলনামূলক আলোচনা করে একটা চার্ট বানিয়ে দেখিয়েছিলো দুটোর মধ্যে কত তফাত:-(

    রজনীশের গল্প মনে পড়ে গেল,আশ্রমে খালি পায়ে হাঁটবেন বলে   বিদেশ থেকে বিশেষ ঘাস আমদানি করেছিলেন। কোনটা মুখ্য সেটা আগে ঠিক করে তারপর সেই মতো যাপন:-)

  • Bishan Basu | ২৭ আগস্ট ২০২০ ০৮:৩২96691
  • এই নিয়ে একটু বিশদে তথ্য দেবেন, প্লীজ? সরোজিনী নাইডুর প্রশ্নটা শুনেছি এদিক-ওদিক  - কিন্তু, ঠিক কী প্রসঙ্গে, সেটা অত মনে নেই।

    যেটুকু জানা আছে, গান্ধীজির জীবনযাপনে ব্যয়বহুল উপাদান সেভাবে ছিল না। হ্যাঁ, বিস্তর হ্যাপা ছিল অবশ্যই - যেমন, যেখানে যাবেন, সেখানে দুগ্ধবতী ছাগলের বন্দোবস্ত করা ইত্যাদি ইত্যাদি..

    কিন্তু, গান্ধীজির দৈনন্দিন যাপন রীতিমতো ব্যয়বহুল ছিল, এমন কিছু পড়িনি। এ বিষয়ে কিছু তথ্য থাকলে দেবেন, প্লীজ। (কোনো ব্যক্তির অবজার্ভেশন বা মতামত নয় - তথ্য চাইছি বা তথ্যভিত্তিক মতামত।)     

      

  • | 2601:247:4280:d10:25f1:f43b:af2e:baba | ২৮ আগস্ট ২০২০ ০৮:৫৫96717
  • বিষাণ, বইটা আমার কাছে নেই, ফলে না দেখে  খরচের হিসেবটা বলতে পারব না। 

  • ~~ | 115.114.47.197 | ২৮ আগস্ট ২০২০ ১১:০১96721
  • বিষাণবাবু ওপরে দেওয়া এবড়োখেবড়ো র লেখাটা একটু সার্চ করে পড়লেই এসমস্ত পেয়ে যাবেন। নতুন করে খুঁজতে হবে না। 

  • Bishan Basu | ২৮ আগস্ট ২০২০ ২১:৩০96728
  • ওই লেখাখানা একটানা পড়ার পরে রীতিমতো কেমন একটা ইয়ে বোধ করছি... 

  • প্রণবেশ | 146.196.45.233 | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৫:৩৯96892
  • অনবদ্য 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক প্রতিক্রিয়া দিন