এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • সংবেদ শিবিরের পাঠ

    পাপাঙ্গুল লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৬ এপ্রিল ২০২৪ | ২৪২ বার পঠিত
  • "আমরা একে অন্যকে সাহায্য করতে পারি, কিন্তু নিজের ক্রুশ নিজেকেই বইতে হয়।"


    সংবেদনশীলতা কি কাউকে আদতে শেখানো যায়? অধুনা আপাত নিউরোডাইভার্স কর্পোরেট সংস্কৃতিতে কথায় কথায় অন্যের জুতোয় পা গলানোর যে প্রবাদ চালু আছে, সেই দুনিয়ায় সম্পূর্ণ অচেনা একজন মানুষের প্রতি সহমর্মী হয়ে ওঠার জন্য কতটা কাজে দিতে পারে আশি বছরের পুরনো টি-গ্রূপ মেথড? এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে, ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ এডভান্সড বিহেভিওরাল সায়েন্সের দুই আবাসিক শিবিরে যোগ দিয়ে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন লেখক। এই পদ্ধতিতে দশজন প্রতিভাগীরা কদিন রোজ আট ঘণ্টা আলাদা ঘরে যেভাবে একে অপরের সঙ্গে যা ব্যবহার করেন, তাই হয়ে ওঠে তাদের নির্জ্ঞান মনের ডেটাবেস। পুরো পদ্ধতি পরিচালনার দায়িত্ত্বে থাকেন কতিপয় ফেসিলিটেটররা। শুরুতেই সবাইকে এক ফর্মে সই করতে হয় এই মর্মে যে এই প্রক্রিয়া মানুষের ব্যক্তিত্ব বদলাতে পারে, তাকে ধ্বংস করতে পারে অথবা ইতিমধ্যেই মানসিক চাপে থাকলে স্কিজোফ্রেনিক করে তুলতে পারে। 

    হিমালয়ের কোলে মুসৌরির কেম্পটি গ্রাম আর মধ্যপ্রদেশের ইটারসির ইগলুর মত দেখতে লাল ইঁটের ক্লাসরুম জুড়ে আড্ডার মেজাজে, দিনলিপির কাঠামোয় লেখা এই বইতে কথক গঙ্গারাম দাস তার সঙ্গে শিবির প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া পূর্ব-অপরিচিত চরিত্রদের মুখে আলো ফেলতে ফেলতে যান। আয়নার মত সেইসব আলোয় প্রতিফলিত হয় কথক গঙ্গারাম দাসের নিজের মনের কানাগলি। 'জামাকাপড়ের নিচে লুকিয়ে রাখা নিষিদ্ধ হাত থেকে পাওয়া আংটির মত' জরুরী অবস্থার সময় সরকারি কলেজে প্রফেসরদের দেওয়া চুল ছোট করে কেটে আসার ফতোয়া বা যক্ষ্মার জন্য 'দুই ফুসফুসেই চাঁদের পাহাড়ের ছবি'র মত মাঝে মাঝে চোখ বুজে দেখে নেওয়া অন্ধকার। 

    গঙ্গারামের ওপর টি গ্রুপের কতটা প্রভাব তা বোঝা যায় না। অর্থাৎ গঙ্গারাম অন্যদের সমস্যাগুলিকে যেভাবে তুলে ধরেছেন, বাকি প্রতিভাগীদের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত অন্ধকার ভাগ করে নেননি। সেজন্য তাকে ফেসিলিটেটরের তোপের মুখেও পড়তে হয়েছে - "আপনার আছে অভিজ্ঞতার ঝুলি। তাতে রং বেরঙের গল্প। ওগুলো ডেইলি লাইফে কাজে আসে না। আপনার বাংলা ওয়েব ম্যাগ গুরুচণ্ডালী না কি বললেন, তাতে লিখলে লোকে দাদ দেবে, ও ইয়া ওয়া করে উঠবে। কিন্তু ওগুলো সর্বরোগহর বিপত্তারিণী বটিকা বলে চালাবেন না। আপনার অনুভবের ওপারেও দুনিয়া আছে।" 

    গঙ্গারাম এই দুই শিবিরে যোগ দিয়ে স্বেচ্ছায় মনের দরজা জানলার গিঁট খুলতে চেয়েছিলেন যাতে নিজের মনের অন্ধকারের মুখোমুখি হতে সুবিধা হতে পারে। তিনি জানতেন দুবার একই নদীতে স্নান করা যায় না। একসময় অন্যদের চোখে 'রং বদলানো গিরগিটি' গঙ্গারাম বুঝতে পারেন তিনি আদতে চাইতেন সবাই তাকে মহান ভাবুক। শিবির শেষে মন হালকা করে ফিরে যাওয়া বাকিদের মত শেষ পর্যন্ত গঙ্গারামও 'বড় বুকনি ছেড়ে নিজের নব্বই ছোঁয়া মাকে, মুখ বুজে খেটে যাওয়া বৌকে সহমর্মিতা দেখানো'র আলোকবর্তিকা নিয়ে ঘরে ফিরে যান বলেই পাঠকও আশা করবেন। সহজভাবে লেখা হলেও বইটি পড়া ওই ফর্মে সই করার মতই এবং নিজের মনের অন্ধকার থেকে পালিয়ে বেড়ানো পাঠকের জন্য নয়। 

    যে আঁধার আলোর অধিক 
    রঞ্জন রায় 
    সৃষ্টিসুখ, বইয়ের প্রকাশকাল ২০১৯ 

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kk | 2607:fb91:14d4:884b:5053:45f8:14de:db12 | ০৬ এপ্রিল ২০২৪ ২১:৪৫530305
  • 'আলো অন্ধকারে যাই' যখন বেরিয়েছিলো তখনই পড়েছিলাম। পরেও পড়েছি। খুবই ভালো লেগেছিলো। অকপট লেখা, গভীর। অনেক কিছু অজানা জিনিষ আলোয় এসেছিলো। সাইকোলজি আমার কাছে বরাবরই খুব ইন্টারেস্টিং বিষয়। তাই খুব উপভোগ করেছিলাম। এই বইটা পড়িনি অবশ্য।
  • পাপাঙ্গুল | ০৬ এপ্রিল ২০২৪ ২২:৩৫530308
  • ও হ্যাঁ মোটের ওপর এই লেখাটাই, পরে পরিমার্জিত হয়ে বেরিয়েছিল তাহলে। বইটা পড়ার পর গুরুতে লেখাটা খুঁজে পেলাম না। ভাবলাম হয়ত গুরুতে বেরোয়নি। লিংকটা এখানে দিয়ে ভালই হল।
  • অমিতাভ চক্রবর্ত্তী | ০৭ এপ্রিল ২০২৪ ১৪:১১530344
  • বই নেই। দমুদি লিঙ্ক দিয়ে খুব ভালো করেছে। রিভিউ পড়ে উৎসুক হয়ে আছি। লেখাটা পড়ে ফেলি।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক প্রতিক্রিয়া দিন