গোগ্রাসে.কম একশ পেরিয়েও তরুণ...তরুণ নিকেতন
ছ্যাড়ানো ছড়া ৫// শীতকাল এসে গেছে // সমীর ঘোষ অবশেষে এসে গেল শীতের পরশশীতকালে কত মজা, মনেতে হরষ
*** পোস্ট করতে একটু ভুল হয়ে গিয়েছিল। তাই আর একবার দিলাম গল্পটা। মাফ করবেন। একটা আয়না দেয়ালের পেরেকে টানানো ছিল। চৌকো ছোটখাটো তিন বিঘতের আয়না। শুধু মুখটুকু দেখা যায়। একটু পিছিয়ে দাঁড়ালে বুকেরও আধখানা দেখা সম্ভব। ওটার সামনে দাঁড়িয়েই দীপিকা চুল আঁচড়ায়, কপালে বিন্দি লাগায়, সিঁথিতে সিঁদুর ঢালে। মাঝে মাঝে চোখে কাজলও টানে।বাদল কসবার একটা বারের বাউন্সার। পয়সাওয়ালা ঘরের উড়নচন্ডী বেপরোয়া ছেলেমেয়েরা যেখানে বেহিসেবী টাকা ছড়ায় উন্মত্ত অবস্থায়। ... ...
আকাশ ফেটে বৃষ্টি পড়ছে। ফোটায় ফোটায় বৃষ্টি পড়ছে গাছের ডালে, টিনের চালে, সবুজ ঘাসে, ধুলিমাখা পথে। ভেসে যাচ্ছে খানা-খন্দ, নর্দমা। কালো পিচের রাস্তায় উঠে এসেছে ময়লা-আবর্জনা, নোংরা পানি। সেই পানি শরীরে লাগিয়ে হেটে যাচ্ছে একদল মানুষ। কই তাদের গায়ে তো পাপ লাগছে না, দাগ লাগছে না। জীবন চালোনার তাগিদে চালাতে হচ্ছে জীবিকা। তারা যদি পারে আমরা কেন পারব না! আমি কেন পারব না! আমাদেরও তো জীবন চালাতে হবে, আমারও চালাতে হবে। ... ...
আজ অফিস থেকে বেরিয়ে দেখি হঠাৎ / নির্গগণ হয়ে গেছে আমাদের আকাশ / একঘেয়ে চা ভাঁড়ে ফুটপাথে আমি / লাথি কষাচ্ছি
বিধর্মী পড়শী মেঘ ভেসে এলো ঘরে / খুনি মন রোজই তার প্রতীক্ষা করে!
কাল গুঁতোগুঁতি করে ট্রেনে উঠে দেখি, জানলার ধারে জিলিপির আসর বসেছে। এক গ্রাম লোক কোলের উপর খবরের কাগজ পেতে তাস পেটাচ্ছে, সঙ্গে চলছে গরম গরম রসে ভেজা জিলিপি। মিষ্টি গন্ধে প্রাণ মাতোয়ারা, ঠেসাঠেসি করে দাঁঁড়িয়ে থাকা সমস্ত মানুষ অবিকল মাছির দৃষ্টিতে লোকগুলোর ঠোঁট থেকে গড়িয়ে পড়া রসের দিকে চেয়ে আছে। জিলিপি গ্যাংয়ের অবশ্য তাতে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই, কচরমচর মুখ চলছে, তোড়ে বেরোচ্ছে কথা। সেই কথার বহর কী! চোখে আবছা দেখবেন, রক্তচাপ বেড়ে যাবে। আমার মতো যদি রিসেন্টলি রুট ক্যানাল হয়ে থাকে, সাবধান! কানে আঙুল দিন। দাঁতের ক্যাপ খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। জানলার ধারে বসে আছে যে ঢ্যাঙা লোকটা, তার কোটার জিলিপি ... ...
A man was inside, a man was outside / There was no shadow.
সিনেমার নাম "The Terminal"। এ সিনেমা বোধকরি অধিকাংশ দর্শকই দেখে ফেলেছেন। ইউরোপের দেশ ক্রাকোজিয়া থেকে আগত এক বিমানে জন এফ কেনেডি (JFK) বিমানবন্দরে নামে ভিক্টর নাভোরস্কি (টম হ্যাঙ্কস) নামের এক মধ্যবয়স্ক লোক। যাবে নিউইয়র্কে, তার বাবার এক অসম্পূর্ণ স্বপ্ন সম্পূর্ণ করতে।
সুভাষবাবু বিকেল বেলায় মুড়ি আর নারকেল খাচ্ছিলেন। সারাদিন রোদ্দুরে অনেক ঘুরেছেন। সেই সকালে বেরিয়েছিলেন পান্তাভাত খেয়ে।গ্রামের ছেলে। গ্রামেই কেটেছে সারাজীবন। পান্তাভাতেই এই শরীর এবং মাথা ঠান্ডা থাকে তার। হৈ হৈ করে ভোটের মেলা এসে পড়েছে। পার্টি এবারেও তাকে টিকিট দিয়েছে। সকলেই জানে সুভাষ গিরির প্রায় অর্ধশতাব্দীর রাজনৈতিক জীবন সম্পূর্ণ কলঙ্কহীন। রাস্তায় বেরোলে এলাকার লোক পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে। আবার তারা এও জানে সুভাষ গিরি ভোটে জিতবেন না। পার্টির সংগঠন বসে গেছে। সংগঠন মজবুত না হলে ভোটে জেতা যায় না। শুধু ভাল লোক হওয়া কোন কাজে আসবে না। ... ...
রিক্ত হতে হতে যখন মমি সিনেমায় মমির দেহ থেকে সবকিছু খসে পড়ার মত, নিজেকে রক্ষা করার মত সবকিছু প্রতিযোগিতায় হেরে যায়, যখন চারপাশের মধ্যে নিজেকে শক্ত ভাবে বসানোর জন্য সব খুঁটি লড়বড়ে হয়ে যায় তখন শেষ রক্ষায় অবতীর্ণ হয় জেদ। গোঁয়াড়তুমি। মানুষ যখন মান সম্মান, অধিকার, পাওনা, ন্যায় সবকিছু থেকে বঞ্চিত হতে থাকে তখন হয়ে যায় রাস্তা জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ষাঁড়। কাছে গেলে গুঁতোবে নয়তো নড়বে না। এরকম বহু উদাহরণ আছে চারপাশে ... ...
চারিদিকে এতো শব্দের সমাহার, আরও কিছু যোগ করতে এখন ভয় হয়। শব্দরা ভেসে বেড়াচ্ছে বাড়িতে, রাস্তায়, পার্কে, হাওয়ায়, কাগজের পাতায়, কম্পিউটার আর মুঠোফোনের স্ক্রিনে, রাস্তার পাশের হোরডিংএ। মুক্তি নেই যেন তাদের হাত থেকে। তাড়া করে চলেছে সেই কোন ছোটবেলা থেকে। নীরবতা, নিঃশব্দ হারিয়ে গেছে কোন সুদূরে, তারাও কখন পরিণত হয়েছে শব্দে।