টিকা না বলা কথার মৃত্যু হয় না / জারজ সময়ে মৃত্যুমেধ যজ্ঞের ঘোড়া, / দূর থেকে কাছে আসে শুধু! / আদ্যিকালের মানুষ জলদগম্ভীর আকাশের দিকে চেয়ে বসে থাকে, / অনেক জন্মের সাধ তাঁরও তো ছিল! / রুক্ষ মাঠে পাতা ট্রাম, / শেষ কামরায় শেষ রাতে প্রভূত কামনায় বিস্ফারিত চোখ শুধু কথা রাখে! ... ...
গুরুর অসীম কৃপায় খেরোর খাতায় আঁকিবুকি কাটা শুরু করছি। শিষ্য তার সাফল্য প্রার্থনা জানাচ্ছে।
বস্তুতঃ, বাইশে শ্রাবণ যে বিষয়টি সর্বাধিক আলোচিত হল তা হচ্ছে 'পরীমণির পর্ন'।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একবার সস্ত্রীক রেল পথে ভ্রমণ করছিলের। এক যুবক অনেকক্ষণ ধরে তাঁর স্ত্রীকে দেখার চেষ্টা করে যাচ্ছিল। বিষয়টা বুঝতে পেরে বঙ্কিমবাবু যুবকটিকে কাছে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, 'কী করা হয়?' ছেলেটি উত্তর দিল যে সে চাকরি করে এবং ত্রিশ টাকা মাইনে৷ বঙ্কিম হেসে বললেন, 'আমি সরকারি চাকরি করি৷ সঙ্গে বইও লিখি৷ হাজার দুয়েক রোজগার৷ সবই স্ত্রীর চরণে দিই। তাও মন পাইনে ভাই৷ ত্রিশ টাকায় সে মন কি তুমি পাবে?' যুবকটি লজ্জিত হয়ে তৎক্ষনাৎ প্রস্থান করে ... ...
প্রায় এক বছর চার মাস লকডাউনের দরুন ট্রেন বন্ধ, যারা গৃহসহকারীর কাজ করতে কলকাতাতে আসতেন রোজ, ওনাদের সবারই আসা বন্ধ, এখন কাজ নেই, ফলে রোজগারও নেই৷৷ তেমনই একজন এসে উপস্থিত, আজ৷হঠাৎই আজ একটি ট্রেন চলেছে, তাতে করেই এসেছেন৷৷ ওনার গল্প শুনছিলাম৷৷ক্লাস ইলেভেনে পড়া ছেলেটির একটি মোবাইলের দরকার ছিল, অনলাইন ক্লাসের জন্য ৷৷ স্কুলের অনলাইন ক্লাস নয়, সে বিষয়ে সরকারী শিক্ষুককুল নেটওয়ার্কের সমস্যার দরুন ভেটো দিয়েছেন পড়ানোতে৷৷প্রয়োজন প্রাইভেট টিচারের অনলাইন ক্লাসের জন্য, প্রাইভেট পড়ানোর সময় ঔ শিক্ষকগন কোন যাদুবলে নেটওয়ার্ক পেয়ে যান সেটা দিদি বলতে পারলেন না অবশ্য৷৷শুধু বললেন—"যা টাকা জমিয়েছিনু দিদি, তাই দি ছেলেকে মোবাইল ফোং কিনে দিছি,পড়তি হবে, মাষ্ঠারে বলেছে, হাতে ... ...
#rebuildbengalleftযাঁরা সংবিধান পূজা করার পরে কৃষকের স্বাধীনতা বড় বিপণনকারী সংস্থার পায়ে লুটিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে, কৃষি আইন আনতে, অর্জিত অধিকার হরণের উদ্দেশ্যে, শ্রম আইনের পরিবর্তন আনতে, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা জাতীয় সম্পদ বিকিয়ে দিতে পিছপা হননা, হতদরিদ্র মানুষের নাগরিকত্ব হরণের জন্য ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করেন, দুই রাজ্যের মধ্যে কার্যত জাতিগোষ্ঠীর যুদ্ধ ঘোষণা করেন, যাঁদের রামরাজ্যে মানুষ বাচ্চাকাচ্চা সহ হেঁটে পাড়ি দেয় হাজার কিলোমিটার, মৃত প্রিয়জনকে নদীতে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হয়, ভ্যাকসিন নেবার জন্য মারামারি করতে বাধ্য হয়, খাদ্য, বস্ত্রে স্বনির্বাচনের অধিকার হারায়, অভিযুক্ত বিচার হবার আগে এনকাউন্টারের সম্মুখীন হয়, ডাক্তার বা দেশের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় ও তার পরিবার আক্রান্ত হন শুধু তাঁদের ... ...
২৫শে বৈশাখ এবং ২২শে শ্রাবণ কি মনে রাখেন ৮ই অক্টোবর কিংবা ৬ই সেপ্টেম্বরের কথা? আলাউদ্দিন খাঁ। যাঁর হাতে তৈরি হয়েছিলেন অগণিত সংগীতশিল্পী। আমি ২৫শে বৈশাখ বা ২২শে শ্রাবণকে একেবারেই ভুলতে বলছি না। বরং মনে রেখেই বলছি– ২২শে শ্রাবণ একটা মিথ্যে দিন, কারণ রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু হয়নি। বরং রবীন্দ্রনাথ প্রতিনিয়ত সমাজের হাতে খুন হন। আজকের সমাজ তো রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির থেকে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বড়ো দুঃশ্চিন্তা করেন। তাঁর বৌদিকে নিয়ে বেশি ভাবেন। তাঁর রচনাগুলো ক’জন পড়েন? রবীন্দ্রনাথের বৌদিকে নিয়ে কে কি লিখলেন সেটায় বিশ্বাসী, সেটাই পড়েন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের রচনাবলী তাঁদের কাছে বদহজম। আলাউদ্দিন খাঁর হাতে তৈরি বাঁশির ঈশ্বর পান্নালাল ঘোষের কথা আমরা মনে রাখি না। অনেক ... ...
গতবছর ধান কাটার মৌসুমের ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধকালে শিক্ষার্থীরা যখন আরাম-আয়েসে দিনাতিপাত করছে, তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ধান তোলার কাজে সাহায্য করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন৷ সেই ডাকে সাড়া দেন আমাদের এলাকার স্থানীয় ছাত্রলীগের এক শীর্ষনেতা। মাথায় গামছা, নিম্নাঙ্গে লুঙ্গি পেঁচিয়ে হাতে একটা কাস্তে নিয়ে নেমে পড়েন ধান গাছ কাটতে৷ ঘন্টাখানেক বাদে ধান কেটে শ দেড়েক ছবি তুলে সাঙ্গপাঙ্গ সমেত ধান ক্ষেত থেকে উঠে আসেন। কিছুক্ষণ পর ফেসবুকেছবিগুলো সংযুক্ত করে শিরোনামে লিখেন হেলাল হাফিজেরভূমিহীন কৃষকের গান কবিতার প্রথম পঙক্তি। "দুই ইঞ্চি জায়গা হবে? / বহুদিন চাষাবাদ করি না সুখের।" ছবির সাথে এই শিরোনাম দেখে আমি রীতিমতো আঁৎকে উঠেছিলাম। আমার জায়গায় কবি হেলাল হাফিজ থাকলেও নির্ঘাত আঁৎকে উঠতেন। ... ...
সময় বয়ে যায়, আর সঙ্গে বদলে দিয়ে যায় মানুষ এবং তার জীবনযাত্রা, সঙ্গে বদলায় বাসস্থান-গ্রাম-শহর। ছোটবেলায় যে শহরের প্রতিটি কোনা ছিল নখদর্পনে আজ কালের ব্যবধানে সেই শহর অচেনা ঠেকে, বদলে যাওয়া শহরের মাঝে দাঁড়িয়ে দিকভ্রান্ত আজ আমি। ছেড়ে আসা শহরের পরিচিত গলি, পরিচিত পাড়া অচেনা চোখে তাকায়, যেন প্রশ্ন করে - "কে তুমি?"। অভিমান বুকে পাথরের মত চেপে বসে, প্রয়োজন আর সময় - এ দুই'এর চাপে পরদেশবাসী আমি ঠোঁট ফুলিয়ে উত্তর দিতে চাই "শহর, তুমি বদলে যাচ্ছো কেন? আমি যে তোমায় চিনতে পারছি না, আমি তোমায় খুব ভালবাসি, তুমি কি আমায় ভুলে গেছ শহর?" — মুচকি হাসে অচেনা শহর ... ...
“যে রাত্রে শমী গিয়েছিল, সে রাত্রে সমস্ত মন দিয়ে বলেছিলুম, বিরাট বিশ্বসত্তার মধ্যে তার অবাধ গতি হোক, আমার শোক তাকে একটুও পিছনে যেন না টানে। ... সেখানে আমাদের সেবা পৌঁছয় না, কিন্তু ভালোবাসা হয়তো বা পৌঁছয় – নইলে ভালোবাসা এখনও টিঁকে থাকে কেন?"
আজকে পুণ্যদিন। ধুতি, শাড়ি, হারমোনিয়াম ইত্যাদি। পিঠেপুলি, পায়েস, পদ্মার ইলিশ…। বাঙালী মতে বানানো বিরিয়ানিও চলবে
অনেক দিন থেকেই বন্ধুবর সন্দীপ বলছে ব্রতীন ধানবাদটা ঘুরে যা। অবশেষে এক গ্রীষ্মের দিনে প্ল্যান করলাম। সকালে উঠতে একটু দেরী হয়ে গিয়েছিল, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় হাওড়া স্টেশনে পৌঁছে দেখি তখনও ইন্টারসিটি হাওড়া ধানবাদ এক্সপ্রেস দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে। চটপট নিজের কামরায় উঠে পরা গেল। পুরো ট্রেনটাই বাতানুকূল। আর খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থাও বেশ ভালো। ক্ষণেক্ষণে চা, কফি, স্যান্ডুইচ, অমলেট এই সব আসতেই থাকছে। আর ইয়ে বলতে নেই খাবার দেখলেই টেনিদার ভাষার আমি একটু "মেফিস্টোফিলিস" "মেফিস্টোফিলিস" হয়ে যাই। ... ...
তুমি কোন কাননের ফুল? কোন গগনের তারা? - তাতে তোর কি ? - আমারই তো সব - পলাশ তুলে এনে না দিলে তখন তো আবার চোখে মুখে নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে - হ্যাঁ তোর পিঠেও কিল চড় পড়বে - তিল ঠাই থাকবে না - অতএব খোয়াইএর পথে -
শান্তিনিকেতন যাতায়াতের পথের জীবন দর্শন আর আমার শেষ হয় না। পাঁচ দশক অতিক্রান্ত। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নবাবহাটের মোড়ে রাজ্য সড়কে পড়লে উত্তরা বাসস্ট্যান্ডের পাশে দিয়ে গুসকরা, ভাতার, ভেদিয়া, বোলপুর, শান্তিনিকেতন আসার রাস্তা আজ অতি পরিচিত ও অতি ব্যবহৃত। অতিবৃষ্টিতে দুপাশের কিছু কিছু জমিতে জল দাঁড়িয়ে। পূর্ব বর্ধমান, দক্ষিণ বীরভূমের দিগন্ত সারা জীবন আমায় মুগ্ধ করেছে আজও করে। কিন্তু কর্মী মানুষের সম্মানের ব্যাপারে উদাসীনতা আমাদের দেশের প্রতি কোণায় এত ব্যাপক, এত পরিচিত, এত দৃশ্যমান আমরা এতই অভ্যস্ত তাতে আমাদের বেদনা, ক্রোধ, লজ্জা, ন্যূনতম অসোয়াস্তি জেগে ওঠাটাই আশ্চর্যের। ... ...