সিঙ্গুর: যৌথ ধ্বংসের রাজনীতি ও শিল্প-ভণ্ডামির পুনরাবৃত্তি অয়ন মুখোপাধ্যায় সিঙ্গুর কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, সিঙ্গুর কোনও দুর্ঘটনাও নয়। সিঙ্গুর হলো পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক মডেল—যেখানে শিল্প ধ্বংসকে আন্দোলনের নামে বৈধ করা হয়, আর সেই ধ্বংসকেই পরে ভোটের পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এখানে ভুল ছিল না, ছিল হিসেব। এখানে আবেগ ছিল না, ছিল কৌশল। এখানে কৃষক ছিল প্রতীক, শিল্প ছিল বলি, আর ক্ষমতা ছিল একমাত্র লক্ষ্য। ২০০৬ থেকে ২০০৮—টাটা ন্যানো কারখানা সিঙ্গুরে আসার কথা ছিল। সেটা কেবল একটি গাড়ির কারখানা নয়, তার সঙ্গে যুক্ত ছিল হাজার হাজার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ... ...
ডিলিট
সিপিএমের দীপ্সিতা ধর, নির্যাতন কমিশনর নোটিস পেয়েছেন। ওঁর বাবার নাম পীযুষ ধর। ২০০২ এর তালিকায় নাম ঠিক বানানে ছিল। ফর্ম ভর্তিতে কোনো গোলমাল হয়নি। কিন্তু ২০২৫ এ এসে নির্যাতন কমিশন জানিয়েছে, ওঁর বাবার নাম গীযুষ ধর। তাই লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি। এবার ওঁকে প্রমাণ করতে হবে, উনিই বাবার মেয়ে।ওঁর নামটাই লিখলাম, কারণ উনি প্রকাশ্যেই পুরোটা বলেছেন। কিন্তু একা তো না, যা শোনা যাচ্ছে, অন্তত দেড় কোটি মানুষের সঙ্গে এরকমই হয়ে চলেছে। অন্য কেউ না, কমিশনই নামে ভুল রাখছে এবং তার ভিত্তিতে ডেকে পাঠাচ্ছে। কমিশন এই তালিকা এআই দিয়ে করছে, গোবলয়ের ট্যাক্সিওয়ালাদের দিয়ে, নাকি বিজেপির পার্টি অফিসের নির্দেশে, আমার জানা নেই। কিন্তু ভুলগুলো ... ...
অধ্যায় ৬: অদৃশ্য সুতো স্ক্রল করতে থাকা। আঙুল উঠানো-নামানো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা। দিনের পর দিন। প্রতিটি নোটিফিকেশন একটা সুতো, অদৃশ্য, পাতলা, মস্তিষ্কের কর্টেক্সের সাথে জুড়ে দেওয়া। টানছে। আমি নামছি। নামতেই থাকছি।ডকুমেন্টটাই কিন্তু বাড়তে থাকছে। "Notes_for_Project.txt"-এর ভিতরে "Faces_1", "Market_1", "Edu_1"... এভাবেই ফোল্ডারের পর ফোল্ডার। একটা গোপন সংগঠন পদ্ধতি। আমার নিজের প্রাইভেট ইন্টারনেট। আমার নিজের ডার্ক ওয়েব, একটা পেনড্রাইভের গভীরে, ধুলো জমা কেসের তলায়। একদিন, রাতের দিকে, স্ক্রলিং করতে করতে হঠাৎ আঙুল থেমে যাওয়া অন্য কিছুর উপর। একটা ফোরাম। লুকানো না, কিন্তু বিশেষ। সাহিত্যের ফোরাম মনে হলো। হেডলাইন: "অসমাপিকা: অসম্পূর্ণ গদ্যের জন্য এক ঠাঁই।" ভিতরে ঢোকা। পোস্টগুলো লম্বা, খণ্ডখণ্ড, প্রথম পুরুষে। জীবনের টুকরো। বিরক্তি, উল্লাস, ... ...
সাঁকো: “তোর মা কোথায়? কোথায়?” তারকা: “নেই তো মা, মায়ের তো এখন ছুটি। ওয়টস্যাপে লিখেছি তোমাকে। দ্যাখো দ্যাখো... দ্যাখোনি?” সাঁকো: “আচ্ছা বলছি, গরম ভাতের সঙ্গে উচ্ছে নাকি পটল ভাজা? কোনটা যাচ্ছে?” তারকা: “জেঠিমা তোমাকে খুঁজছিলেন। পনেরো লক্ষ মতো টাকা দরকার। তুমি দিতে পারবে কিনা সে বিষয়ে যদি...” সাঁকো: “সুনীলদাকে বলেছিলাম জানিস, তোমার নীরা না থাকলে আমার সম্ভবত বেঁচে থাকা হতো না” তারকা: “তোমাকে কিছু একটা বলছিলাম...” সাঁকো: “সমরেশদার সঙ্গে কত আড্ডা দিয়েছি! সমরেশ বসুর কথা বলছি। তুই বড্ড ভাল কবিতা লিখছিস আজকাল... শক্তিদা বেঁচে থাকলে ওঁর কাছে নিয়ে যেতাম তোকে।” তারকা: “বলছি বাবা, তুমি ভাল আছো তো?” সাঁকো: “নইলে তোর সঙ্গে কথা বলতে পারি?” তারকা: “তুমি কী যে বলছ...” সাঁকো: ... ...
জ্যোতি বসু: একজন কমিউনিস্ট যিনি বিপ্লব করলেন না। অয়ন মুখোপাধ্যায় এই লেখায় জ্যোতি বসুর রাজনৈতিক অনুশীলনকে ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের তাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্যে রেখে বোঝার চেষ্টা করেছি জ্যোতি বসু একজন কমিউনিস্ট, যিনি বিপ্লব করলেন না তারই তাত্বিক অনুসন্ধান। প্রশ্নটা ব্যক্তিগত কৌতূহল থেকে আসেনি; এসেছে ইতিহাসের ভেতর থেকেই—একজন কমিউনিস্ট হয়েও তিনি কেন বিপ্লবের পথে হাঁটলেন না। সংসদীয় রাজনীতি, রাষ্ট্রতত্ত্ব, ভূমিসংস্কার, নকশাল আন্দোলন ও শিল্পায়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আলোকে সেই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান ... ...
|| ২ || সূর্য উঠে পড়েছে কিছুক্ষণ আগে। একটি অ্যাম্বাস্যাডর গাড়ির ডিকিতে মালপত্র তুলতে ব্যস্ত ড্রাইভার। ঘরে ক্রমাগত ব্যস্ততার মধ্যে বাতাসকে ভারী করে তুলছে একটি বাচ্চা মেয়ের তীক্ষ্ণ কন্ঠের কান্নার শব্দ। ছোট্ট গোলাপীরঙা ব্যাগটি আঁকড়ে ধরে হাপুসনয়নে কেঁদে চলেছে সে। মাথায় একটি হাতের স্পর্শ অনুভব করতেই বাবার বুকে মুখ গুঁজে দিয়ে আরো জোরে ফুঁপিয়ে ওঠে সে। -- "যাবো না, আমি কিছুতেই যাবো না। এখানেই থাকবো..."একরাশ চুলে ভরা মাথাটা দুহাতে বুকে চেপে ধরে তার বাবা বলে ওঠে,-- "এরকম করতে নেই, সোনা। গুড গার্ল তুমি, কতোকিছু বোঝো, এটা বুঝতে ... ...
'My enemy is Kitsch,not Communism’ she replied,infuriated. ত্রিশ বছর পর আবার পড়লাম মিলান কুন্দেরার ’The Unbearable Lightness of Being’ উপন্যাস। কুন্দেরার এই বইগুলো, এরকম লাইনগুলো,এরকম চিন্তাগুলো নব্বই দশকের মধ্যভাগে আমাদের ভীষণভাবে আত্মস্থ করেছিল। ফলে যেটা হয়,মন আর নিজ নিকেতনে ফিরতে পারে নি। নিকেতন বলে যেটা ভাবা হচ্ছে সেটাও যে ঐ ‘কিচ’ সেটা জেনে গেছিলাম। ফলে ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘদিন বামপন্থীদের সঙ্গে সহযোগী কাজকর্ম করেও কখনও যে তাঁদের অংশ হয়ে উঠতে চাই নি,তার কারণও নিশ্চিত এই পাঠের সঙ্গে সম্পর্কিত। এমন নয় যে আমরা গত শতাব্দীর দমনমূলক সমাজতান্ত্রিক ... ...
বড় পুকুরটার পাশে একটা আড়াই কামরার বাড়ি, শৌচাগার এবং ছোট একটা রান্নাঘর সমেত। গায়ে কোন রঙ চঙ নেই। শুধু সিমেন্টের প্লাস্টার হয়ে পড়ে আছে প্রায় বছর দশেক। অনেকদিনের নি:সঙ্গ অবহেলায় চারপাশে ঘাস এবং আগাছার আলিঙ্গনে সমর্পণ করে আছে। অনাদি কারক ও ঘরখানা তুলছিল। গোবিন্দ কারকের দাদা অনাদি কারক। দুজনেই চাষ আবাদ করা লোক। সে যাই হোক, অনাদি ঘর তুলতে তুলতেই মারা গেল দু বছর আগে শীতকালে বুকে কফ জমে। হাঁফানির রোগ ছিল। খুব বাড়াবাড়ি হতে বাসন্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বাঁচাতে পারেনি তারা। তাই ওই আধা তৈরি পাকা ... ...
দেখুন, কথা খুব পরিষ্কার। কোনো চ্যানেলের কর্মীই হন, কিংবা কর্পোরেশনের, ধরে হাতের সুখ করে নেওয়া অন্যায়। ওতে কোনো ক্ষোভেরই সুরাহা হয়না। কিন্তু সংবাদমাধ্যমগুলোর "আমরা চতুর্থ স্তম্ভ" বলে লাফানোর কোনো অধিকারই নেই। কোনো গরিলা যদি আজ বুক চাপড়ে বলে "আমিই চতুর্থ স্তম্ভ", তাহলেই সে চতুর্থ, পঞ্চম, একবিংশ কোনো স্তম্ভই হয়ে যায়না। সংবাদমাধ্যম হতে গেলে তার কিছু দায়দায়িত্ব পালন করতে হয়। এঁরা তো নিজের সাংবাদিক ঠ্যাঙানি খাওয়াটাকেও বেওসায় পরিণত করেছেন। "বলুন তো, সোমা মাইতি কোথায় মার খেলেন? সঠিক উত্তর দিলে পেতে পারেন বাম্পার প্রাইজ।" রোমের গ্ল্যাডিয়েটরের ব্যবসাতেও কিছু নৈতিকতার জায়গা ছিল, এদের সেটুকুও নেই।এটুকু হলেও একরকম ছিল। কিন্তু বলুন তো গত এক ... ...
সারাদিন গায়ে মেখেছ মাটি, উত্তেজনা, সমুদ্র আমি দূর থেকে দেখে ভেবেছি অন্যায় তারপর হাতে লেগেছে চকের গুঁড়ো, সান্ত্বনার সুর, দৈত্য দানব, রূপকথার ভগবান এখন বাড়ানো হাত শূন্যে বহুদূরে, নিস্তব্ধ রাত্রে, সবার সব কথার ফাঁকে ফাঁকে
বর্তমানে এক কথায় দুর্নীতি বলতে কী বোঝায়?দুর্নীতি বলতে মূলত অর্থনৈতিক দুর্নীতি বা অনৈতিক অর্থ বন্টনকে বোঝায়। অনৈতিক-ভাবে শুধু অর্থই নয় মেধারও বন্টন হয়। এই বন্টন সম্ভব হয় মেধার স্বীকৃতির মাধ্যমে। কয়েকটি সংস্থা যাকে বলবে মেধাবী, সেই ব্যক্তিকেই সবার মেধাবী বলে মানতে হবে। যে বিষয়ে তারা বলবে গবেষণা করতে, কেবল সেই বিষয়েই গবেষণা করতে হবে।অর্থনৈতিক দুর্নীতি অর্থ বন্টনের সাথে জড়িত। অর্থ সঞ্চয় করা যায় এবং পুনর্বিনিয়োগ করা যায়। অর্থ বা ফিনান্সের প্রকৃতি হল পরিমানগত। অপরদিকে মেধার প্রকৃতি হল গুণগত। যেমন একজন উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি মোটা মাইনের চাকরি করে তার উচ্চ মেধার কারনে। অন্য দিকে একজন স্বল্প শিক্ষিত শ্রমিক কম বেতনে কাজ ... ...
|| ১ ||বড়ো রাস্তা পার হয়ে এই মাঝারিমাপের গলিটায় প্রবেশ করা এক বিপদ পথচারীদের কাছে। ঝলমলে হাইওয়ে আর যানবাহনের কলরব থামতে থামতে মুখে মিলিয়ে যাওয়া চকোলেটের টুকরোর মতো হারিয়ে যায়, আর ঝিমধরা অন্ধকার - নৈঃশব্দ জাঁকিয়ে বসে। ইঁটের পাঁজরা বের করা দুটি বাড়ি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। ভেঙেচুরে তাদের উভয়েরই অবয়ব হয়েছে বীভৎস, কার্নিশ খসে পড়ায় ডানদিকের বাড়িটাকে মুখ ফেরানো শক্ত চোয়ালের মনে হয়। যেন দুজনেই যেদিকে দুচোখ যায় চলে যেতে পারলে বাঁচে, নেহাৎ দেওয়াল জোড়া বলেই সে অবকাশ নেই। পড়ন্ত বিকেলে ট্যাক্সিটা এসে থামলো এই জোড়াবাড়ির সম্মুখে। আকাশ তখন আটপৌঢ়ে রোদের শাড়ি গায়ে জড়িয়ে শেষ রক্তিমতাটুকু মুছে নিয়ে বাড়ি ফেরার ... ...
বাসায় ফেরা। দরজার চাবি ঘুরানো। কাচড়ে শব্দ। ভিতরে ঢুকেই নিঃশব্দতা গিলে ফেলা। শুধু ফ্রিজের গুঞ্জন, একটানা ইঁ-ইঁ করা। কম্পিউটারের টাওয়ার চাপ দিতেই ফ্যান ঘুরতে শুরু করা। পুরনো যন্ত্র, ধুলো খাওয়া। হাউইইই- শব্দ। মনিটরে নীল আলো জ্বলা। সাদা পর্দা খোলা। মাইক্রোসফট ওয়ার্ড। ফাঁকা ডকুমেন্ট। কার্সারটা সাদার ওপর ঝিকিমিকি করা, ডগমরুর পোকাটার মতো। কাঁপছে। হার্টবিটের মতো টকটক করা।আঙুল কি-বোর্ডের ওপর রাখা। প্লাস্টিক ঠাণ্ডা। ক্লিক করার শব্দ। প্ৰথম শব্দটা বেরোতে কষ্ট হওয়া। আটকে থাকা গলায় থেকে। তারপর লিখা: "আমি বিরক্ত।"তাড়াতাড়ি ডিলিট করা। আবার লেখা: "আমার এক্কেবারে জিরগিট ধরে গেছে।"হাঁ। এটাই। এটাই ঠিক কথা। আঞ্চলিক শব্দটা গায়ে সটকা মারা। বইপড়া ভাষা না। জীবন্ত ভাষা। ... ...
এই এসআইআরের মধ্যে লেখা হচ্ছেনা, কিন্তু এসএসসি কাণ্ডটাও লেখা দরকার, নইলে কী বিপুল একটা খেলা চলছে বোঝা যাবেনা, একটু লম্বা হবে, কিন্তু পড়লে পুরোটা পড়বেন। ২৬০০০ শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি গিয়েছিল কলমের এক খোঁচায়, ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল হয়েছিল, এটা কিছু নতুন কথা নয়। যেটা বোঝা যাচ্ছিলনা, যে, যোগ্য-অযোগ্যর ভিত্তিতে শাস্তি না হয়ে সব্বার চাকরি গেল কেন। তালিকা তো একটা ছিল। সেটাকে মান্যতা দেওয়া হলনা কেন? আর যদি মান্যতা দেওয়া নাই হয়, তাহলে কীসের ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপে যোগ্য-অযোগ্যর বিভাজন করে দেওয়া হল? এটা খুব সোজা প্রশ্ন। কিন্তু টিভির বাক্যবাগীশরা যথেষ্ট ধোঁয়া তৈরি করতে পেরেছিলেন। তা, দুদিন আগে, নতুন যেটা জানা গেল, সেটা ... ...
“Since the very inception, artists have been engrossed in celebrating art. Yet no artist has sought the innermost chambers of art’s mind. It is there that art keeps the mirror through which life reveals itself.”মুরগির শরীরে যত রক্ত আছে, সবটুকু দিয়ে পৃথিবীর ইতিহাস লিখে ফেলা যাবে। হত্যা যে করে, তার অনুভূতি দিয়ে অভিনয়ের জগতে নাম লেখানো বড্ডসহজ। বাংলাদেশে একসময়ে কাপড়ের ব্যবসা ছিল ঠাকুর্দার, আর বাবা সারাজীবন ধ’রে পাখিদের খাবার খাইয়েই গেল। জানলা বাবার প্রিয়। যে কোনও জানলা দিয়েই বাবা বাংলাদেশে পৌঁছে যেতে পারে, চ’লে যায়ও। সেইদেশে যত গাছপালা, যত খাবার অভাব, যত স্কুল না পালিয়ে মন দিয়ে লেখাপড়া— এসব আমাকে ... ...
নৃশংস হত্যার বিরুদ্ধে কে পথে, আর কে লুকিয়ে খুঁজে নিন আপনি।অয়ন মুখোপাধ্যায়বাংলাদেশের শ্রমিক দিপু দাসকে যেভাবে প্রকাশ্য রাস্তায় পিটিয়ে, অপমান করে, শেষ পর্যন্ত হত্যা করা হয়েছে—তা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ড নয়। এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা। বার্তাটি ভয়াবহ ভাবে স্পষ্ট সংখ্যালঘু শ্রমিকের জীবন এখানে সস্তা, আর ধর্মীয় উন্মাদনার সামনে মানবতা পরাজিত। এই হত্যা কাণ্ডের পর তাই সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটি হলো—এই বর্বরতার বিরুদ্ধে কে দাঁড়াল, আর কে দাঁড়াল না?পশ্চিমবঙ্গে একমাত্র সংগঠিতভাবে, গোটা রাজ্যজুড়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছে সিপিআইএম। মিছিল হয়েছে ... ...
রাষ্ট্র, পরিচয় ও রুটি–রুজির রাজনীতি অয়ন মুখোপাধ্যায় এই সময়ে দাঁড়িয়ে রাজনীতিকে আর শুধু ‘উন্নয়ন বনাম দুর্নীতি’—এই সরল অঙ্কে বোঝা যায় না। মানুষের খিদে আজ শুধু পেটের নয়; খিদে পরিচয়ের, স্বীকৃতির, দৃশ্যমান হওয়ার। অর্থনীতির পরিসংখ্যান আর রাজনীতির স্লোগানের মাঝখানে একটা গভীর ফাঁক তৈরি হয়েছে—যেখানে মানুষ নিজের অস্তিত্বকে খুঁজছে। অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বহু আগেই আমাদের সাবধান করেছিলেন—উন্নয়ন মানে শুধু আয়ের বৃদ্ধি নয়। উন্নয়ন মানে মানুষের সক্ষমতা—সে কী হতে পারে, কী করতে পারে\ ... ...
ডিলিট
ঈশ্বর রেস্ট্রিকটেড অ্যক্সেস অয়ন মুখোপাধ্যায় মন্দিরের দানবাক্সটার সামনে দাঁড়িয়ে লোকটা হঠাৎ বলল —একটা কথা ভাবছেন কখনও? যদি মানুষ সত্যিই বিশ্বাস করত, তাহলে এই বাক্সে তালা লাগাতে হতো? চৌকিদার মুখ না ঘুরিয়েই বলল — তালা না থাকলে সকাল হতেই বাক্স ফাঁকা হয়ে যেত। — তাহলে বিশ্বাসটা কোথায় নেই? লোকটা আবার প্রশ্ন করল। — ঈশ্বরের উপর, না মানুষের উপর? চৌকিদার একটু থেমে বলল — ঈশ্বরের উপর আছে। মানুষের উপর নেই। লোকটা হালকা হাসল। — অদ্ভুত না? যার নামে দান, তাকে বিশ্বাস করা যায়। আর যারা দান করছে, তাদের নয়। ঠিক তখন পাশের মসজিদ থেকে আজানের শব্দ ... ...