কর্ট ভোনেগাটের কিছু কন্সপিরেসি থিওরি উনি যে একটা কথা বলেছে নিজে নিজে একটা কবিতা লিখে ছিড়ে ফেলা - যেটা ভালো হয়েছে কিন্তু কেউ পড়েনি - নিজে নিজে জানা ভালো হয়েছে। ইমেজ রিসাইজ করতে হয় কিভাবে ? ইমেজ তো সব স্পেস নিয়ে নিলো। স্কুলে থাকতে এমন কাজ করেছিলাম - বেশির ভাগই কয়েকজনকে পড়িয়ে ছিড়েছি, কয়েকটা একদম যে পাশে ছিলো তাকে শুধু একটু দেখতে দিয়ে - ছিড়ে ফেলেছিলাম - ও বেশ হতভম্ব হয়েছিলো - তার অন্যতম কারণ যেটুক সে পড়তে পেরেছিলো সেটুক বেশ চিৎকার ছিলো - মানুষ চিৎকার দেখলেই রিয়েল মনে করে, এগুলো আসলে সত্তর আর আশির টেকনিক - সত্তর থেকে পৃথিবী কোথাও একটা বোকাবোকা গা-জোয়ারি মোনোপলি ... ...
এরকম একটা জীবনের বড্ড শখ ছিল। আজীবন এই নির্দ্ধারিত স্বপ্নের জাল বুনতে বুনতেই শেষ হয়ে যাব।
প্রতি বছর আজকের দিনটায় আসতেই হয়। আমার এই ছোট্ট ফ্ল্যাটের বারান্দা, জানালা সর্বত্র আজকের দিনটায় ও প্রদীপ জ্বালিয়ে সাজায়। অন্ধকারে পিছনে দাঁড়িয়ে আমি ওর প্রদীপ জ্বালানো দেখছি।
রাস্তায় নেই তৃণমূল, খোঁচা বিজেপির বন্ধের বিরোধিতায় এ বার কার্যত রাস্তায় নেই তৃণমূল। তা নিয়ে শাসকদলের মিছিল, সমাবেশও তেমন দেখা যায়নি। তৃণমূলের নেতাদের অনেকে জানিয়েছেন, যে সব কারণে বন্ধ ডাকা হয়েছে, সে সব কারণ তাঁরাও সমর্থন করেন। কিন্তু বন্ধ নয়। তৃণমূলের কয়েক জন নেতার বক্তব্য, ভোট-কাটাকুটির অঙ্কে এগিয়ে থাকতে বাম-কংগ্রেস জোটকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে পুরোটা পড়ুনসব ব্যস্ত কাচিয়ে কুচিয়ে নিতে। ..সময় যে নেই। ..ওরে তাড়াতাড়ি আরো এলোমেলো করে দে মা। .লুটে পুটে খাই !! ... ...
ছোট বেলায় বিজয়া দশমীর আগে মা-কাকিমাদের নাড়কেলের নাড়ু, মুড়ির মোয়া, গজা ও নিমকি বানানোর তৎপরতা শুরু হয়ে যেত। পরিচিতরা ও পাড়ার ছোটরা বিজয়া দশমীর পরে এলে তাদেরকে মিস্টি মুখ করাতে হবে না? আর বিজয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টকার্ড মা-মাসিদের জীবনের প্রায় শেষ সময় অব্দি পাঠাতে ও পেতে দেখেছি।
গঙ্গার পশ্চিমপাড়ে জগদ্ধাত্রী পুজোকে ঘিরে বেশ একটা সাজো সাজো ব্যাপার স্যাপার বাংলা বছরের শুরু থেকেই থাকে। চন্দননগর মা জগদ্ধাত্রীর মনোপলি একটা সময় পর্যন্ত নিয়ে ধরে রেখেছিল। গঙ্গার পশ্চিমপাড়ে ঠাকুরণ প্রায় আসতেনই না। শ্রীরামকৃষ্ণ ভাবান্দোলনের প্রভাবে বাঁকুড়ার জয়রামবাটী তে প্রায় একশো বছর ধরে জগদ্ধাত্রীর বেশ জনপ্রিয়তা। তবে এই জনপ্রিয়তার সঙ্গে ধর্মের মাত্রাতিরিক্ত প্রলেপ মিশে, যে সামাজিক সঙ্কট মোকাবিলা করতে সারদামণির গর্ভজননী শ্যামাসুন্দরী দেবী, জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজন করেছিলেন, সেই প্রেক্ষিতটি কিন্তু ঢাকা পড়ে গেছে। ... ...
এই লাইনগুলো প্রয়াত গীতিকার মোহিনী চৌধুরী মহাশয় কবেই লিখে গেছেন।
---
আর একটা বসন্ত গেলো! / কতদিন বলিনা তাকে / মেঘের আড়ালে থাকা / সেই ভালোবাসার কথা। / কতদিন ধরে! / মেঘ বরাবরই খুব প্রিয়। / মেঘের আড়াল ঢাকা দেয় কতস্বপ্ন বাস্তবতা।
মাস খানেক আগে, আমার অল্প জ্বরের দিন, / ও এসেছিল।
গত ৩০ বছরের সময়কে দুভাগে ভাগ করা যায়। যখন লোড শেডিং হোতো ও যখন লোড শেডিং হয় না। এটা সেই হওয়ার সময়। রাণীকুঠি এস্টেটে থাকি। অফিস থেকে ছটা সোয়া ছটায় বাড়ি চলে এসে মুখ হাত ধুয়ে ইভনিং ওয়াকে বেরোতাম। সামনেই বিরাট মাঠ। পাশ দিয়ে রাস্তা।
সন্ধ্যে থেকেই টিপ টিপ বৃষ্টি।বছরের এ সময়টা বেশ মনোরম।না শীত, না গরম। আকাশ মূলতঃ মেঘলা। হাওয়া কম। টুকটাক করে স্থানীয় স্তরে এক আধ পশলা বৃষ্টি হয়ে যায়। দুপুর তিনটে সাড়ে তিনটের সময় বৃষ্টি রোদ গায়ে মেখে বেরোতে দিব্য লাগে। উৎসব শেষ হয়েও কোথাও যেন তার রেশ রেখে গেছে। ছোট্ট একটা ড্রিঙ্ক বানিয়ে মিউজিক সিষ্টেমে একটা নিখিল ব্যানার্জী চালিয়ে, আলোটা একটু কমিয়্ রিক্লাইনিং চেয়ারে শরীরটাকে ছেড়ে দিলাম। এবারে ফিরে যাওয়ার আগে মেয়ে এটা জোর করে কিনে দিয়ে গেছে। তখন আপত্তি করলেও গত কয়েকমাসে এটার প্রতি এক রকমের মায়া পড়ে গেছে। বিশেষতঃ এ রকম গোমড়া মুখো দিনে। ... ...
দত্তবাবুর স্ত্রীরোগ হয়েছে। আমরা বন্ধু বান্ধবেরা কিছুদিন ধরেই টের পাচ্ছি। দত্তবাবুর ব্যাবহারিক, শারীরিক ও বাচিক লক্ষণ ক্রমশঃ সুস্পষ্ট হয়ে উঠছিল। যখন তখন এই রোগের যন্ত্রনায় তার কাতরানি আমাদের কাছেও প্রায় অসহ্য। প্রচুর সহানুভূতি, সৎপরামর্শ, যথোপযুক্ত ডাক্তার দেখাতে বলা সবই বৃথা। বেচারী একা একা মনমরা হয়ে আছে মনে করে তাকে সঙ্গ দিলেও তার অসঙ্গ এবং আসঙ্গলিপ্সার বিন্দুমাত্র কমতি হয়েছে বলে মনে হোলো না। কোনভাবেই তাকে সংযত করা যাচ্ছে না। ... ...
আমি উত্তমকুমারকে দেখিনি। সত্যজিৎ রায়কেও দেখিনি। একজন আমার জন্মের অনেক আগে, আরেকজন কয়েক বছর পরে প্রয়াত হন। আমার ছোটবেলার খুব উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা ছিল সত্যজিতের প্রয়াণ, রাজীব গান্ধীর হত্যা এবং বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা। প্রথম দুটি ঘটনার সময় আমার এক নিকটাত্মীয় প্রয়াত হন, তখন আমি নিতান্তই ছেলেমানুষ। বিশেষ করে রাজীব গান্ধীর ঘটনাটি মনে আছে। তখন সাদাকালো টিভির দৃশ্য মনে বরাবরের মত দাগ কেটে গেছে।সত্যজিতের ছবির সঙ্গে পরিচয় আমার ছোটবেলাতেই ঘটেছিল। কিন্তু তাকে উপলব্ধি করতে পেরেছি নিশ্চিতভাবেই, অনেক পরে। টিভি বস্তুটি যেহেতু আজন্মই দেখার সুযোগ হয়েছে, ... ...