
সত্যিই "কবি' ফিল্মটা আমার বিরাট একটা কিছু লেগেছে। তুলসী চক্রবর্তীর অলৌকিক ঐ অভিনয় নিয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই, সবসময়ই তিনি ঐরকম অভিনয়ই করে এসেছেন। কিন্তু, তার চোখের মুদ্রায়, কদর্য নাচের ভঙ্গীতে, যে ভাবে উঁচু জাতের দম্ভ এবং হিংস্রতাটা এসেছে, সেটা বোধহয় তুলসী চক্রবর্তীর পক্ষেই সম্ভব। নীলিমা দাশের কথা আগেই বললাম। অনুভা গুপ্তা, নীতিশ মুখোপাধ্যায়, হরিধন, এদের সকলেরই অভিনয়, সঙ্গে রবীন মজুমদারের গান, এবং অনিল বাগচীর সঙ্গীত পরিচালনা, এর একটাও যদি সঠিক মানে না-পৌঁছত, "কবি' বোধহয় তার নিজের জায়গায় পৌঁছতে পারত না। নৃত্য পরিচালকের নাম দেখলাম প্রহ্লাদ দাস। তাঁর সম্পর্কে আর কিছুই আমি জানি না, কিন্তু প্রত্যেক বারই তুলসী চক্রবর্তীর ঐ বিকট নাচ দেখতে দেখতে আমার নৃত্যপরিচালকের কথা মাথায় আসে। একজন পঞ্চাশোর্ধ ভারি চেহারার মানুষের শরীরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ঐ নাচের ভঙ্গীর উদ্ভাবন তো সহজ কাজ ছিল না। এই রকম অজস্র টুকরো টুকরো কথা মাথায় আসে আমার। আক্ষরিক অর্থেই এগিয়ে পিছিয়ে এগিয়ে পিছিয়ে "কবি' ফিল্ম আমি অজস্রবার দেখেছি। আপনারা দেখুন, আমার প্রতিক্রিয়া যদি আপনাদের প্রতিক্রিয়ায় স্থানান্তরিত হতে পারে, সেটাই এই কাজের সাফল্য। ... ...

প্রেস ব্রিফিং-এ সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে মাত্র তিনটি প্রশ্ন আসে। প্রশ্নগুলো নির্দিষ্ট কোন তথ্য জানার উদ্দেশ্য থেকে করা হয় না। বরং প্রশ্নগুলো শুনে ধারণা হয় যে এরা উত্তরদাতাদের কাছ থেকে সরকারের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক ও অসহিষ্ণু মন্তব্য কামনা করে। যেমন, একটি প্রশ্ন ছিল সরকার যদি আপনাদের কর্মসূচীতে বাধা দেয় তাহলে আপনারা কি করবেন। আনুষ্ঠানিকভাবে আনু এই প্রশ্নের উত্তরে প্রথমে হাসি দিয়ে প্রশ্নকারীর উত্তেজনা প্রশমন করেন। পরে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে সরকার শুধু জাতীয় কমিটির না তার নিজ দলের সমর্থকদেরও ক্ষতি করছে। তাই সরকারী দলের সমর্থকদেরও উচিত তাড়াতাড়ি লং মার্চে অংশগ্রহণ করা। উল্লেখ্য যে ন দিগন্ত, দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামিক টেলিভিশনের মত সরকার বিরোধী পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিকদের উপস্থিতি লং মার্চের প্রস্তুউতি পর্বে নিয়মিত ছিল। আর জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ পত্রিকায় লীড নিউজ হবার ফাঁদ থেকে সদা সতর্ক ছিলেন। যেমন এই প্রশ্নটি নিয়েই যখন প্রেস ব্রিফিং পরবর্তী চা চক্রে নেতৃবৃন্দ আলোচনা করেন তখন একজন সরস মন্তব্য করেন, প্রশ্নটা শুনে আমার মাথায় তো একটা শ্লোগান এসেছিল। বাধা দিলে বাঁধবে লড়াই, এ লড়াইয়ে জিততে হবে। আরেক জন মন্তব্য করেন, এই সাংবাদিকরা মনে করে এই রকম ঢ়্ৎড়াড়শরহম প্রশ্ন করলে আমরা বুঝি তোফায়েলের (আওয়ামী লীগের একজন নেতা) মত জবাব দেবো। ... ...

এবং শেষপাতে, ভিসি কা ইনসাফ! তিনি জানিয়েছিলেন, ঘটনা নিয়ে তদন্ত হবে| সে তদন্তের টিকিও আজ পর্যন্ত দেখা গ্যালো না| তিনি জানিয়েছিলেন, সব্বাই পরীক্ষা দেবে| কেউ দিলো না| মাসখানেক আগের কথা, বাহান্ন ঘন্টার ঘেরাওয়ের পর, যে রফা হয়েছিল, তাতে অধ্যাপকরা ওনার সাথে কথা বলে এসে জানান যে সিসিটিভি বসানোর সিদ্ধান্তের পুরোটা নিয়েই ফের আলোচনা করা হবে| মিটিং ডাকা হলো, কিন্তু তাতে আলোচনার বিষয় বদলে গ্যালো| এরপরেও ওনার বিশ্বাসযোগ্যতা খুব থাকবে কি? ... ...

মা বলল, চৈতালি তোমার ফ্রেন্ড, না? ফ্রেন্ডদের বিটিং করে না আর ফ্রেন্ডদের সাথে সব শেয়ার করতে হয়। এই বলে মা আমার টিফিনবক্সে দুটো চকলেট দিয়ে দিল। আমি স্কুলে গিয়ে টিফিনবক্স খুলে একটা চকলেট চৈতালিকে দিলাম। চৈতালি খুব হ্যাপি হল আর বলল, সে। আমিও বললাম, সে। ... ...

একটা ছোট সাদা মাউপুষি ছিল। সে সারাদিন বাইরে বাগানে খেলা করত। বিকেল বেলা বাড়ি যেত। এক দিন বাইরে খেলতে খেলতে উঁচু গাছের মাথায় উঠে গেল। সেখান থেকে লাফিয়ে আকাশে চলে গেল। যেই না আকাশে গেছে অমনি আকাশের নীল রংটা তার সারা গায়ে লেগে গেছে। আর সাদা মাউপুষিটা নীল মাউপুষি হয়ে গেছে। বাড়ি আসার পর ওর মামা মাউপুষি, বাবা মাউপুষি, দিদা মাউপুষি সবাই বলছে "আমাদের সাদা মাউপুষি কোথায় গেল? ... ...

একটা পাখি বলেছে "তুমি ভালো করেছ'। কাক বলল ভাল থাকতে হবে। কাক বলল আজ থেকে আমি কুমিরের বন্ধু। কাক খুব খুশি- কুমির আসবে দুটো বাচ্চাকে নিয়ে। ... ...

একটা ছোত্ত বাচ্চা মেয়ে। মেঘের মেয়ে। সে টাইগারকে জিগ্গেস করলো, তোর নাম কী রে? টাইগার বললো, আমার নাম টাইগার ! মেঘবালিকা জিগ্গেস করলো, তুই কী করিস? টাইগার বললো, আমি খুব ঘুরে বেড়াই। মানুষ-টানুষ ধরে খাই। সব জায়গা দেখি। আমি খুব ভালো। মানুষদের খাই না। -সে কী রে? এই যে বল্লি, মানুষ ধরে খায়? -না, না, ও মানুষফানুষ কিছু খায় না। শুধু হরিণের মাংস খায়। ভালো টাইগার। ... ...

একটা লাল চিটি ছিল, একটা কালো চিটি ছিল, আর একটা সাদা চিটি ছিল। কালো চিটি আর সাদা চিটি লাল চিটিটাকে জিজ্ঞেস করল, হ্যাঁরে হ্যাঁরে, তুই এ রকম লাল কেন? তখন লাল চিটিটা বলল, আমি তো রক্ত খেয়েছি মানুষদের, তাই আমি এ রকম লাল। তখন লাল চিটি আর সাদা চিটি কালো চিটিটাকে বলল, হ্যাঁরে হ্যাঁরে তুই এত কালো কেন? তখন কালো চিটিটা বলল, আমি তো খুব রোদ্দুরে ঘুরেছি, তাই আমি কালো হয়ে গেছি। তখন লাল চিটি আর কালো চিটি সাদা চিটিটাকে জিজ্ঞেস করল, হ্যাঁরে হ্যাঁরে তুই এরকম সাদা কেন? তখন সাদা চিটিটা বলল আমি তো রোজ ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি মাখি, তাই আমি এরকম সাদা হয়ে গেছি। ... ...

নতুন একটা 'রাইড' এসেছে, তার নাম হল 'স্যাটার্ণ রাইড'। একটা বিরাট বড় বল আর তার চারপাশে 'রিঙ'। খুবই ভয়ংকর 'রাইড', কারণ সবাইকে ঐ 'রিঙের' ওপর বসতে হয় আর বলটা খুব জোরে ঘুরতে থাকে। শুধু টাক মাথা লোকেরাই এই 'রাইড' চড়তে পারে... ... ...

ওরা ১১ মিনিট ধরে হাসিঠাট্টা করতে লাগলো যতক্ষণ না ওরা একটা কুকুরের ডাক শুনতে পেল। সোমা ভাবল, "এটা কোন আওয়াজ হতে পারে?' অ্যানজেল ও সিলভেরি একসঙ্গে বলে উঠলো, "এটা একটা কুকুরের আওয়াজ কিন্তু এটা বেশ অন্ধকার দেখতে'। তাই ওরা দৌড়ে পালাল আর যে মলটাতে যাবার প্লান ছিলো সেই মলটাতে চলে গেল। ... ...

একদিন ওশানে আগুন লেগে গিয়েছিল। বেশি জল ছিলনা যেটা দিয়ে আগুনটা চলে যেত। ওশানে গাছ আছে। যখনি মশা বা মাছি বসে তখন ঐ গাছটা ওদেরকে খেয়ে নেয়। ওদের গায়ের ভিতরে যেটা থাকে সেটা বের করে দেয়... ... ...

মাকে খুঁজতে ও তখন আরো জোরে দৌড়তে শুরু করলো। ওকে স্টপ করলো একজন সিকিওরিটি। সে জিগেস করল "তোমার নাম কি?' লিলি বললো "আমি লিলি।' সিকিওরিটি বললো "তুমিই লিলি? তোমার মা অনেকক্ষণ ধরে তোমায় খুঁজছে।' লিলি জিগেস করলো "কোথায় মাম্মা?' সিকিওরিটি বললো "সোজা গেলে দেখবে তোমাদের অ্যাপার্টমেন্ট। তার সামনে তোমার মা দাঁড়িয়ে আছে।' লিলি ছুটে গেল। দেখতে পেলো মা দাঁড়িয়ে আছে। মাকে একটা বিগ হাগ দিলো ও। আর কোনোদিনও কিন্তু এরপর লিলি রং বাস স্টপে নামে নি। ... ...

লেখক এবং তাঁর সহকর্মীরা কিছুদিন আগেই একটি ছক্কা মেরে একটি গাড়ির সমূহ ক্ষতিসাধন করেছেন। লেখক এবং তাঁর সহকর্মীদের পরিবারবর্গকে যৎপরোনাস্তি অপমানিত হতে হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। লেখকের মায়ের মতে সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত এই কাহিনীর নাম হওয়া উচিৎ ""খারাপ ছেলের স্বপ্ন''। লেখকের ইচ্ছা এই গল্পের নাম হোক 'দ্য ড্রীম টিম' ... ...

পাশেই একটা জায়গায় একটা জিরাফ একা একা দাঁড়িয়েছিলো। তাকে দেখে রাজের বড় দু:খ হল, কারণ ওই জিরাফটার কোনো বন্ধু ছিলো না। তাই রাজ ওই মাঠে আর একটা জিরাফ এঁকে দিলো আর তার পাশে দুটো গাছ এঁকে দিলো, যাতে ক্ষিদে পেলে ওরা গাছের পাতা খেতে পারে। জেব্রা, সিংহ আর চিতা দেখে কুমীরের দিকে যাওয়ার সময় রাজ দেখলো দুটো ছোট ছেলেমেয়ে উটের পিঠে চড়ে ঘুরছে। কুমীরের পুকুরের সামনে গিয়ে রাজ দেখলো পুকুরে একটুও জল নেই - কুমীরটা ডাঙায় শুয়ে আছে। তাই দেখে রাজ পুকুরে জল এঁকে দিলো। আর কুমীরটাও অমনি সরসর করে জলে নেমে গেলো। ... ...

এক ঝাঁক কচিকাঁচাদের আঁকা সুনিপুণ শিল্পকর্ম, গুরুচন্ডা৯র বিবর্ণ বৃদ্ধদের তরফে একটা অক্ষম প্রচেষ্টা, সেই সব শিল্পকর্মকে একটা পাতায় ধরিয়ে ফেলার। ধরানো গেল কিনা, তা জানাবেন পাঠক। ... ...

অরণ্যের গহীনতা থেকে তুলে আনা কয়েকটি কবিতার লাইন ... ... ...

যেদিন স্কুল থেকে অবসরে গেলেন-তারপর থেকে তিনি বলছেন আর আমি লিখছি চিঠি। মাজেদ - তোমাদের কাছে কখনো গুরু দক্ষিণা চাইনি। কিন্তু কিছু বই চাই। প্রাপক মাজেদ অথবা আলী নূর। কোন এক মোসাব্বির পাঠিয়ে দিচ্ছেন ডাকে কিছু টাকা। আমরা দুজনে মিলে বুক লিস্টি বানাতে লেগে যাই। আর চিঠি লিখি মুক্তধারায়, বাংলা একাডেমীতে-জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনীতে। কাউকে লিখি-ভিক্টর হুগোর অমনিবাস আমাদের দরকার। একদিন লিখতে দেওয়া হল একটি সাইনবোর্ড - সুভদ্রা স্মৃতি গ্রন্থাগার। ... ...

আমি গল্প লিখতে পারিনা, সবার সব কিছু অ্যাটেম্পট নেওয়াও উচিৎ না; ফলে এরপর অনেক প্রাইভেট টিউশন, ইউথ ফর ইকুয়ালিটি, রিসেশন, অনসাইট পেরিয়েও তিতিরকে খেলতে দিচ্ছি সুবাইয়ের সাথে। সুবাইয়ের বাবা শুকদেব আমার বাড়ির নীচের গ্যারাজে থাকতো একসময়, এখন প্লাম্ববিং-এর কাজ খুব ভালই করছে, ইন্দিরা যোজনায় বেশ সুন্দর একটা থাকার জায়গা বানিয়ে নিয়েছে, বিশ্বকর্মাপুজোর দিন ওদের বাড়িতে নেমন্তন্ন করে। তাই, তিতির সুবাইয়ের সঙ্গে বর-বউ খেলছিলো দেখে ওদের কাউকে কিচ্ছু বলিনি। ... ...

প্রথমে দেখতে পাই নি। ছিল হয়তো,খেয়াল করি নি। টিফিনের সময় চোখে পড়ল। বছরের মধ্যিখানে নতুন ছেলেপুলে ভর্তি হওয়া পাড়াগাঁয়ের স্কুলে এমন কিছু বিরল ঘটনা নয়। তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেইও। প্রথম দিন গোবেচারার মতো পেছনের বেঞ্চিতে বসে থাকবে,কেউ লক্ষ্য করবে না। দিদিম২৪৬৭;২৪৯৫; নাম জিজ্ঞেস করবেন, জানতে চাইবেন আগে কোন স্কুলে পড়ত। শহরের স্কুল থেকে এসে থাকলে নরম হেসে বসতে বলবেন। ... ...

পাহাড়ঘেরা সবুজ উপত্যকার মাঝে একফালি হ্রদ। রিশা নামে এক বাচ্চা মেয়ে ঐ উপত্যকায় রোজ তার গরুছাগলের পাল নিয়ে চরাতে যায়, ফিরে আসে সন্ধ্যায়। খুব ছোটবেলাতেই রিশার বাবা-মা মারা যান। ওর আর কোন ভাইবোনও ছিলোনা। তাই সে একাই থাকে। সারাদিন মাঠের ধারের একটা গাছের নিচে রিশা বসে বসে আকাশপাতাল ভাবে। কখনও বা ঘুমিয়েও পড়ে। ঘুমোলেই ওর স্বপ্নে হানা দেয় এক অদ্ভুৎ সুরেলা গান। মানুষের গলায় গাওয়া গান না, যেন বাঁশী আর অজানা আরো কিসের সব মিঠে ধ্বনি মিলেমিশে ঐ অপার্থিব সুর রচনা করেছে। রিশা ঘুম ভেঙে মুষড়ে পড়ে। ঐরকম একটা বাজনা থাকলে সে সারাদিন বসে বসে বাজাতে পারতো। ... ...