
পুরাতন গালিচাটি ---ফুল লতাপাতা, জটিল বিমূর্ত নকশা --- না বলা,বা বলে যাওয়া কথা। কারা কারা মিলেছিলো, কারা কারা করেছিল আড়ি --- কারা কারা ঘরে এলো, কারা কারা ছেড়ে গেল বাড়ি। এখানেই শেষ তবে? কিছু স্থান রয়ে গেছে ফাঁকা। নতুন সুতোর ফোঁড় বলে দেবে কার সাথে কার হবে দেখা। ... ...

বলটা কোমর হাইটে, খগার ডানপাশ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ খগার মাথায় বিদ্যুৎ চমকের মত একটা ছবি মনে পড়ল। কাকার ফেভারিট একটা ছবি, বেঁটেখাটো গাট্টাগোট্টা একটা ঝাঁকড়াচুলো লোক বাঁপায়ে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ডানপায়ে ভলি মারছে। ডানপাটা বাঁ পায়ের সাথে সমকোণে রয়েছে। কাকা খবরের কাগজ থেকে কেটে ছবিটা নিজের বইয়ের আলমারীতে চিপকে রেখেছে। ছবিটা মনে পড়তেই খগা ডান পা তুলে সটান চালিয়ে দিল বলটা লক্ষ্য করে। ... ...

গায়ক, কবি, শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে কিছু কথা। শিল্পীর সাথে তার পাঠক, দর্শক বা শ্রোতার সম্পর্ক কেমন হবে? ব্যক্তিগত না সামাজিক? রাজনৈতিক না বিনোদনী? শিল্পীর শিল্পকে দেখবো একা না অনেকে মিলে? শিল্প না শিল্পী, কে সত্য? হয়তো আমরা এভাবে ভাবিনা সচেতন মনে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো আলাদা করে খুঁজতে যাইনা। আমরা গান শুনি, লেখা পড়ি, ছবি দেখি, নাচ দেখি। কিন্তু আমাদের অবচেতনে এই বিভিন্ন বিপ্রতীপ চেতনাগুলোর দ্বন্দ্ব থাকে। কোনো বিশেষ অবস্থায় এই দ্বন্দগুলো আর অবচেতনে থাকতে পারেনা। বেরিয়ে আসে সচেতন মননে। প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পর তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যে বিতর্ক তাকে ছুঁয়ে দেখা একজন অনুরাগী হিসেবে যে তার রাজনৈতিক চয়েসের সাথে হয়ত একমত নয়। ... ...

১। আগ্রাসী হিন্দুত্বের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ চলছে। ২। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বড়ো পুঁজির হাতে সম্পদ তুলে দেবার সুবন্দোবস্তো চলছে। ৩। গণতন্ত্রের উপর আঘাত চলছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে ইউএপিএ, পিএমএলএ এইসব আইন ব্যবহার বিরোধী নেতাদের জেলে পোরা হচ্ছে। সাংবাদিক, স্বাধীন মিডিয়ার উপরও আক্রমণ চলছে। ৪। রাজ্যের অধিকারের উপর আঘাত চলছে। বিরোধী-শাসিত রাজ্যদের প্রাপ্য দেওয়া হচ্ছেনা। রাজ্যপালকেও ব্যবহার করা হচ্ছে। ৫। অর্থনীতির অবস্থা খুব খারাপ। কর্পোরেট লুট চলছে। অসাম্য ক্রমবর্ধমান। কৃষিক্ষেত্রের অবস্থা খুব খারাপ। শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধি, বেকারি, ক্রমবর্ধমান। হিন্দুত্বকে পদ্ধতিগতভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। স্বৈরতন্ত্র জোরদার হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে খর্ব করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ধ্বংস করা হচ্ছে। শিক্ষার সুযোগ ছোটো হয়ে আসছে। স্বাস্থ্যকে ক্রমশ বেসরকারি দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভারতীয় (মিশ্র) সংস্কৃতির উপর আঘাত হানা হচ্ছে। মিডিয়াগুলোকে দখল করে নেওয়া হচ্ছে। মহিলা, যুব, দলিত, আদিবাসীদের উপর আঘাত নামিয়ে আনা হচ্ছে। পরিবেশগত বিপর্যয় আসন্ন। ... ...

"বাংলাদেশ ২.০", মুক্তিযুদ্ধ ... ...


আমাদের যেদিন থেকে ধর্মানুভুতি খুব স্পর্শকাতর হল সেদিন থেকেই সর্বনাশের শুরু। সত্য হচ্ছে ধর্মীয় অনুভূতিতে কখন যে কার কীভাবে আঘাত লাগবে তা কেউই জানে না। আল্লা ছাড়া আর কেউ জানে না যে কখন কিসে কার ধর্মানুভুতিতে আঘাত লেগে যাবে! এই যে আল্লা লিখছি আল্লাহ্ লেখি নাই, এইটার জন্যও একজন আমাকে ফেসবুকে চার্জ করে বসেছিল, কেন এমন লিখলাম! মোট কথা বাঁচার উপায় নাই। আপনি গল্প লিখবেন, সিনেমা বানাবেন একজন ভণ্ডকে নিয়ে, যে নামাজ পড়ে ঘুষ খায়, মাগিবাজি করে, পারবেন না! নামাজ পড়ে কেউ ঘুষ খাচ্ছে? হতেই পারে না। অথচ টিকিত কালোবাজারির প্রধানকে ধরা হল যখন তখন দেখা গেল তার কপালে কালো দাগ, নামাজ পড়তে পড়তে দাগ করে ফেলেছে কপালে! প্রশ্ন পত্র ফাঁসের জন্য ধরা হল, কী সুন্দর নুরানি চেহারা, সুন্দর দাঁড়ি টুপি পরা আল্লার বান্দা! কিন্তু আপনি এগুলা লিখতে পারবেন না, সাহিত্যে আনতে পারবেন না, সিনেমা বানাইতে পারবেন না, গল্প লিখতে পারবেন না। লিখলে, বানালে ঠিক কারো না কারো অনুভূতিতে আঘাত লেগে যাবে, তারপরের দায়িত্ব পরাক্রমশালী শেখ হাসিনা সরকারও নিতে পারেনি আর এই নড়বড়ে ধ্বজভঙ্গ সরকার নিবে এমন আশা আর কইরেন না! ... ...

আমি মনস্চক্ষে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি ঝাপসাদা ছোটবেলায় খেলনা পুশব্যাক ফর্মুলা ওয়ান গাড়ি নিয়ে মেঝেতে খেলা করছে। কিন্তু সেই খেলনা পুশব্যাকটা যত জোরে যাচ্ছে, তাতে মন উঠছে না, তাই ঝাপসাদা নিজেই সেই ফর্মুলা ওয়ান গাড়িটা নিয়ে ঘরময় ছুটে বেড়াচ্ছে। আর গতিতে বাড়ির দাদু, জেঠু, কাকিমা, বিড়াল, আরশোলা সবাই সন্ত্রস্ত। ঝাপসাদার নির্ঘাত ছোটবেলায় ইচ্ছে ছিল ফর্মুলা ওয়ান ড্রাইভার হওয়ার আর ক্লাস এইটের পরীক্ষায় সেটা নিয়ে রচনাও লিখে ফেলেছিল। কী কারণে কে জানে হওয়া হয়নি, তাই এখন দু চাকার পক্ষীরাজ হাতে পেয়ে খুবসে শখ মিটিয়ে নিচ্ছে। আমার ঠিক মনে হল সামনে ঝাপসাদা নয়, আয়ার্টন সেনা বসে রয়েছে। না আয়ার্টন সেনাকে ভাবা যাবে না, ওঁর তো অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে গিয়েছিল। ভেবেই আমার ঘাম ছুটতে থাকে। শুমাখার চলবে? নাঃ ওরও তো অ্যাক্সিডেন্ট। এখন সেইসব ভাবলে আরও ভয় করবে। শেষমেশ মাথা খাটিয়ে ঝাপসাদা কে সেবাস্তিয়ান ভেটেল এর পদ দেওয়া গেল। যে স্পিডে স্কুটি ছুটছে তার সমতুল্য স্পিডে মাত্র একটা পাবলিক ট্রান্সপোর্টকেই ছুটতে দেখেছি, পরস্পরকে ওভারটেকিত মুহূর্তে পাশাপাশি দৌড়ানো দুটো এল দুশো আটত্রিশ বাস। ... ...

"আয়নাঘরের' অপরাধের প্রমাণাদি লুকানোর বিপুল চেষ্টার পরও যা জানা গেল, যা দেখা গেল, তা ভয়াবহ। 'আয়ানঘর'গুলোকে ভবিষ্যতের মানুষদের জন্য সংরক্ষণ করা উচিত। এই যাদুঘরগুলো ভবিষ্যতে কারও হাসিনা হয়ে ওঠার পরণতি সম্পর্কে শিক্ষা দেবে, নাগরিকদের জোগাবে শক্তি।" ... ...

সেই রাতটা মনে এল ইন্দ্রর। বৃষ্টি পড়ছিল খুব, বাজও পড়ছিল মাঝে মাঝে। তার মধ্যেই অনেক রাতে হাসপাতাল থেকে ফিরে এল সে। সন্ধ্যায় বাড়ি এসেও আবার যেতে হয়েছিল এক রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়াতে। ক্লান্ত শরীরে ঘরে ঢুকে দেখে বাইরের ঘরে সোফায় বসে আছে অঞ্জলি। ঘরে টিউব লাইট নয়, কম পাওয়ারের একটা আলো জ্বলছে। “এ কি! তুমি শোওনি কেন এখনও?” জিজ্ঞাসা করে ইন্দ্রনীল। “এত রাত করে কেউ এই অবস্থায়?” একটু বিরক্ত গলাতেই বলে সে। উত্তর দেয় না অঞ্জলি, অদ্ভুত ভাবে তাকায় স্বামীর দিকে। সে দৃষ্টিতে কী ছিল আজও জানে না ইন্দ্রনীল – ক্ষোভ, দুঃখ, অভিমান, রাগ – সব কিছুই মনে হয় মেশানো ছিল তাতে। তবে বেশিক্ষণের জন্য নয়, ইন্দ্রনীলকে একরকম উপেক্ষা করেই সে উঠে চলে যাচ্ছিল শোবার ঘরের দিকে। ... ...

"জাতিসংঘের রিপোর্ট যত পড়ছি, তত চমক লাগছে। এমনই মহা শক্তিধর এক বিশ্বসংস্থা- যাদের দেখা করার অনুরোধে পাত্তা দেয়নি জামায়াত ও ছাত্রশিবির। সেনাবাহিনী, ডিজিএফআইয়ের সঙ্গেও তারা কথা বলার সুযোগ পায়নি। এমনকি লিখিত প্রতিবেদন চেয়েও পায়নি। আর কারাগারে আটক সাবেক আইজিপির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ চাইলে অন্তর্বর্তী সরকার বলে দিয়েছে- 'হবে না'। শেষপর্যন্ত তারা বিভিন্ন বাহিনীর এমন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছে, যারা কেউ ওই সময়ে বাহিনীর নীতিনির্ধারক পর্যায়ে ছিলেন না। একমাত্র সে সময়ের বিজিবি চিফ কথা বলে কিছুটা মান বাঁচিয়েছেন। এসব আবার রিপোর্টে উল্লেখও করা হয়েছে!!" ... ...

'স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো চারকোটি পরিবার খাড়া রয়েছি তো! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য পারেনি ভাঙতে' ... ...


ওদিকে ফেরার পথে মনটা অশান্ত হয়ে আছে ইন্দ্রনীলের। স্বাভাবিক রাস্তায় না ফিরে এলোমেলো গাড়ি নিয়ে ঘুরতে থাকে সে, তবে শহরের দিকে যায় না। রাস্তার ধারের একটা চায়ের দোকান দেখতে পায় সে। গাড়ি দাঁড় করিয়ে দোকানে যায় সে। ছোট্ট টিনের চালের দোকান, চারপাশে গাছপালা। নড়বড়ে কাঠের বেঞ্চ। ইন্দ্র বেঞ্চে বসে এক গ্লাস চা নিয়ে। তার সামনে চাষের ক্ষেত। তার ওপারে সূর্য ডুবছে। চায়ে চুমুক দিয়ে সে ভাবতে থাকে চার দিন আগে আচমকা রাঁচী ছোটার কথা। শুধু বন্ধু নয়, আরও একজনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল ওই হোটেলে, যার কথা বিনীতাকে বলেনি সে। অন্যমনস্ক হয়ে পড়ার কারণ হলেন তিনি। ... ...


খুব বিখ্যাত একটা উক্তি আছে বঙ্গবন্ধুর, - "মুক্তিযুদ্ধে ধর্ষিতার বাবার নামের পাশে আমার নাম দিও। আর ঠিকানা লিখো ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার বাড়ি" সেই ৩২ নাম্বার নাই হয়ে গেল! কেউ নাই করে দিতে পারল? রাষ্ট্র প্রশাসন তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল? শুধু ৩২ নাম্বার? এক যোগে দেশের সমস্ত জায়গায় যেখানে বঙ্গবন্ধুর নাম ছিল তাতে আঘাত করা হয়েছে। নতুন করে মুরাল ভাঙা হল, যেখানে নাম ছিল সেখানা ভাঙা হল। একজন একটা হিসাব দিল চারশোর উপরে নানা স্থাপনায় আক্রমণ হয়েছে আজকে। সুধা সদনেও আগুন দেওয়া হয়েছে আজকে! আওয়ামীলীগের নেতাদের বাড়ি যে কয়টা আস্ত ছিল সব গুলোর উপরে আবার এই রাতে হামলে পড়েছে ওরা। দেশের নানা জায়গায় তাণ্ডব এখনও চলমান, কালকে হয়ত জানা যাবে কোথায় কোথায় কী ঘটিয়েছে এই পঙ্গপালেরা। প্রশ্ন হচ্ছে রাগটা কই? শেখ হাসিনার সাথে রাগ? শান্তির পায়রার ব্যক্তিগত রোষানলে পড়ল মুজিব? মহান সেনাবাহিনী কই? আজকে সবাই চুপ! নারায়ে তাকবীর আল্লাহ আকবর বলে ঝাঁপিয়ে পড়ল এই ছাগলেরা, পুরো পৃথিবী এই দৃশ্য দেখল না? এখন কে ক্ষমতায়? প্রশাসন কার কাছে? শান্তির দূত এইটা হতে দিল? ... ...


ফলাফল চোখের সামনে। যে শাহবাগ উত্তাল হত তুমি কে আমি কে বাঙালি বাঙালি বলে সেখানেই স্লোগান উঠল তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার! এই কষ্টের কোন মাপজোক আছে? এমন ভয়ংকর একটা প্রজন্ম তৈরি হয়ে গেল চোখের সামনে অথচ কেউ কিছুই বুঝল না! মেটিকুলাস ডিজাইন বলে আর যাই বলি না কেন, এমন একটা প্রজন্ম তৈরির সমস্ত দায় আওয়ামীলীগের, এতে কোন সন্দেহ নাই। আমরা, আমি জেন জি নিয়ে মশকরা করছি, এরা কিছুই শোনে না, পড়ে না, জানে না, জানতে চায়ও না এগুলা বলে গেছি সব সময়। অথচ বিরোধী শক্তি তা বলে বসে থাকেনি, ওরা যেভাবে শুনতে চায়, যেভাবে জানতে চায় সেভাবেই শুনিয়েছে, জানিয়েছে! আমি জানি খুব স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে লিখছি আমি। সমাজ বিজ্ঞানীরা, নৃ তাত্ত্বিকেরা এই সব নিয়ে ভালো বলতে পারবে যে কেন একটা প্রজন্ম সম্পূর্ণ ভুল দিকে চলে গেল! ... ...


ব্যাংকের অনাদায়ী ঋণ মানে সে তো আমার আপনারই টাকা ! এখনো কতদিন নিশ্চিন্তে ঘুমাবেন ! ... ...