
বিনীতা আর গায়ত্রী বাইরের ঘরে এসে দেখে প্রচুর খাবারের প্যাকেট নিয়ে ঘরে ঢুকছে ড্রাইভার বিকাশ, তাকে সাহায্য করছে রঞ্জিত আর সবার পিছনে কেকের বাক্স নিয়ে আসছে অরুণাভ। গায়ত্রী হাসি মুখে বন্ধুর দিকে তাকায়। আর বিনীতা হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে স্বামীর দিকে। রঞ্জিত আর বিকাশ ভেতরে গিয়ে ডাইনিং টেবিলের ওপর প্যাকেটগুলো রাখে। তাদের সাথে রঙিনও গেছে ভেতরে। ওদিকে অরুণাভ স্ত্রীর হাতে কেকের প্যাকেট তুলে দিয়ে বাইরের দরজার দিকে তাকায়। তার ভাব দেখে মনে হয় আরও কেউ আছে বাইরে। আর কে এল? মুহূর্তের মধ্যে আশা আর আশঙ্কা মেশানো একটা মিশ্র অনুভূতি হয় বিনীতার মনে। ডাক্তারবাবু নাকি? ... ...

- ভাই, আমার বাসায় হামলা হতে চলেছে। - সে তো হবেই। পুরোনো রেজিমের ফাশিস্তরা তো এখনও সব মুছে যায়নি। চিহ্ন থেকে গেছে। - পুরোনো রেজিম না ভাই। এরা তো আগেরদিনই স্লোগান দিচ্ছিল। - কী যে বলেন, তারা আপনার বাসায় হামলা করবে কেন। ইন্টারনেটে দেখেননি সবাই হাতে হাত দিয়ে মন্দির রক্ষা করছে, মূর্তি আগলাচ্ছে? আপনার ওখানেও কিছু রক্ষা করতে গেছে মনে হয়। - না ভাই, রক্ষা না, আমারই রক্ষা নাই মনে হচ্ছে। পাশের বাসায় লুটপাট করছে। - আরে হতাশ হবেননা। একটু ধৈর্য ধরেন। আপনার বোঝার ভুল হতে পারে। তাছাড়া বিপ্লবের পর এসব একটু তো হবেই। ফরাসী বিপ্লবের পরও হয়েছিল। হয়নি? অরাজকতা কেটে গেলেই দেখবেন সকালে লাল সূর্য উঠছে। ... ...

এক দল ১৫ বছর ধরে খেয়েছে, তোরাও ১৫ বছর খা। কিন্তু তিনারা এমনই ক্ষুধার্ত যে তর সইছে না। ১৫ বছরের খাবার একবারে খাওয়ার চেষ্টা করছে। দুর্ভিক্ষের গল্প শুনছি অনেক। প্রচণ্ড ক্ষুধায় কাতর কাওকে না কি শুরুতেই খাবার দিতে হয় না। আগে একটু পানি, হালকা কিছু দিয়ে ভারি খাবার দিতে হয়। না হলে তাড়াহুড়ো করে গলায় আটকে মরতে বসে অনেকে। বিএনপির দশা এখন তেমনই। কেউ এদের বলছে না একটু রয়ে সয়ে খাও। না হলে দম আটকে মরবে। সরকার নাই দেশে, পুলিশ নাই, সেনা বাহিনী নামে মাত্র আছে। তারা কেউ সামনে খুন হয়ে গেলে চেয়েও দেখবে না এমন নিয়ত করেই বসে আছে। গতকাল দুপুরে বের হয়েছিলাম আমার শহর দেখার জন্য। সমমনাদের সাথে কথা বলে একটু মনটা হালকা করার ব্যাপারও ছিল। সবই হয়েছে মানে শহর দেখাও হয়েছে, মনটাও হালকা হয়েছে। আবার একই সাথে ভারিও হয়ে গেছে। মানুষ যে কোন পর্যায় যায়, নামতে পারে তার নতুন করে মাপ নির্ধারণ হচ্ছে যেন। ... ...

একজন শিক্ষিত মানুষ কতগুলি শব্দ জানেন আর কতগুলি শব্দ ব্যবহার করেন? ... ...

রক্তের সম্পর্ক ঠিক কতটা জোরালো হয় তা আমার জানা নেই, তবে এটুকু জেনেছি যে তোমাদের কাছে পাওয়া স্নেহ ভালবাসা সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে। ... ...

এই মুহূর্তে, ঠিক বাংলাদেশের মতো আন্দোলন চলছে আরেকটা দেশে। প্রায় অবিকল। কেনিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা খুব খারাপ। আইএমএফএর ঋণে প্রায় আটকে পড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল নানা ভাবে। চিন তাদের উচ্চাকাঙ্খী বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পে বড় বিনোয়োগ করেছিল কেনিয়ায়। এবং চিনের সবসময়ই আইএমফএর বিকল্প একটা ফাইনান্সিং এর ব্যবস্থা থাকে। আর ছিল আইএমএফএর প্রেসক্রিপশন, যে, সরকারি খাতে খরচা কমাও, ভরতুকি বন্ধ কর। এই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী একটা আর্থিক বিল আনা হয় কেনিয়ায়, যেটাতে জনতার বহু সুযোগসুবিধা কাটছাঁট করা হয়। গরীব দেশ, সরকারি দুর্নীতিও প্রচুর। এর পরেই আন্দোলন শুরু হয়, কয়েক মাস আগে। সরকার প্রথমে দমনের চেষ্টা করে। তাতে আন্দোলন বেড়ে যায়। গোটা কেনিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার কিছুদিন পরে পিছু হটে। মাসখানেক আগে প্রেসিডেন্ট রুটো বিলটা বাতিল করে দেন। ... ...

পুরো একটা দিন পার হয়ে গেছে বাংলাদেশের কোন সরকার নেই, সরকার প্রধান নেই। এখন পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোন রূপরেখা তৈরি হয়নি। ডক্টর ইউনুসকে প্রধান উপদেষ্টা বানানো হবে এমন শুনলাম। এর আগে সাবেক বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সালেহ আহমেদের নাম শুনেছিলাম। তবে ইউনুস সম্ভবত হচ্ছে। যদিও বিএনপির আবার ইউনুসে সমস্যা আছে। তবে এখন হয়ত এইটা বড় হয়ে দেখা দিবে না। সেনাবাহিনীর একজনকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে এমন টিভিতে দেখলাম। সেনাবাহিনী এই মন্ত্রণালয় নিজের দখলে রাখতে চাচ্ছে কেন? জানি না। গভীর কোন তাৎপর্য থাকতে পারে। প্রচুর রদবদল হয়েছে সেনাবাহিনীতে। একজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বড় খবর হচ্ছে গোলাম আজমের ছেলে যে সেনাবাহিনীর ভিতরে আটক ছিল সে মুক্তি পেয়েছে। অরিজিনাল বিষ! কোন খাদ নাই। তবে সম্ভবত উনার আর বয়স নাই সেনাবাহিনীতে ঢুকার। ঢুকলে খবর ছিল এবার। জেল থেকে খালেদা জিয়াও ছাড়া পেয়েছেন। পেয়েছে তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস আল মামুন! সর্বশেষ বিএনপি আমলে এই বন্ধু টাকার পাহাড় তৈরি করেছিল। ফখরুদ্দিন সরকার দুর্নীতির দায়ে তাকে ধরে। সেই থেকে জেলেই আছেন। ২০১২/১৩ সালের দিকে এক বিএনপি বন্ধুর কাছে শুনেছিলাম যে জেলে তার সাথে দেখা করতে গিয়েছিল। ওকে মামুন বলেছিল আরে কেবল বুক পকেটের টাকার খোঁজ পাইছে এরা! হাসছিলাম তখন! সরকার নাই লিখলাম, আসলে অনেক কিছুই নাই। আইন নাই, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কোন বাহিনী নাই। লুটপাট চলছে দেদারছে! আইন কানুন ছাড়া এই সময়টুকুর পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করে যাচ্ছে অনেকেই। অনেকই এই সবকে ক্ষোভ বলতে চাচ্ছে। আমার কাছে তা মনে হয় না। ক্ষোভ থাকতে পারে বিএনপির নেতাদের, জামাতের নেতাদের। নানা সময় নিগৃহীত হয়েছে, বহু কষ্টে জীবন যাপন করেছে অনেকে। যদিও বেশির ভাগ ভাজ খেয়ে ঠিকাদারি সহ নানা কাজে ঢুকে গেছিল। যাই হোক, তাদের ক্ষোভের জায়গাটা বুঝা যায়। কিন্তু এখানে তা হচ্ছে না। সুযোগ বুঝে কাজে লাগাচ্ছে! ঝোপ বুঝে কোপ হচ্ছে। আবার আইনের শাসন দেশে ফিরতে ফিরতে যা বাগিয়ে নেওয়া যায় আর কি! ... ...

ঠিক কথা, বিপ্লব বা প্রতিবিপ্লব যাই হোক, তাতে সব সময় সবকিছু নিয়ন্ত্রণে থাকেনা। রাশিয়ায় বিপ্লবে উইন্টার প্যালেস লুঠ হয়েছিল। শ্রীলঙ্কায় রাষ্ট্রপতি ভবন। রোমানিয়ায় চাওসেস্কুর ভবন লুঠ হয়েছিল, তারপর তো ফায়ারিং স্কোয়াড। কিন্তু এগুলো সবই চিহ্নিত শত্রুপক্ষ। তাদের উপর আক্রমনে নিয়ন্ত্রণ থাকেনা। কিন্তু রুমানিয়ার হিংসায় একজন ইহুদির উপর আক্রমণের কথা শুনেছেন? শ্রীলঙ্কায় একটি তামিলও আক্রান্ত হয়েছে বিদ্রোহের সময়? কোনো গায়কের বাড়ি লুঠ হয়েছে রাশিয়ায়? হয়নি, কারণ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও বিপ্লবীরা একটা প্রাধান্যমূলক অবস্থানে অন্তত থাকেন। তাঁদের অ্যাজেন্ডাতেই কাজ হয়। ভাবুন দেখি, লেনিন বিপ্লব করলেন রাশিয়ায় আর কার্নিলভ নিজের মতো লোক মেরে যাচ্ছেন, এটা হলে কীসের ছাতার বিপ্লব হত? ... ...

আমরা এই জীবনে নতুন সূর্যের গল্প কয়েকবার শুনে ফেলছি। ঠিক মনে নাই, কিন্তু বড়দের মুখে শুনছি এরশাদ পতনের পরে খুব করে বলা হয়েছে এই কথা। নতুন সূর্য! এবার বাংলাদেশ সব নতুন করে শুরু করবে। এক ধাপ যেতেই মুখ থুবড়ে পড়ল সব। যিনি উঠেছেন তিনি নামবেন না বলে জিদ করে বসে আছেন! যাক, আবার শুরু হল। এবং ইতিহাসে প্রথমবার কেউ সহজেই ক্ষমতা ছেড়ে দিল, আবার আসল বিএনপি। বিএনপি এসে চালাল দেশ মনের মতো করে। এবং আবার এমন এক পরিকল্পনা করল যে তাদের আর নামতে হবে না! ফলাফল সেনা সমর্থিত সরকার আসল। দুই বছর থাকল। আমরা আবার বললাম এবার নতুন সূর্য উঠেছে, সব নতুন করে শুরু হবে। সব ভুল শুধরে নতুন বাংলাদেশ। এরপরে? ১৬ বছর পরে আবার আমাদেরকে নতুন সূর্যের কথা বলতে হচ্ছে। আমরা আশা করছি এবার সব ঠিক হবে। জামাত দুর্গা পূজায় মণ্ডপ পাহারা দিবে, খালেদা জিয়া ১৫ আগস্টে কেক কাটবে না, বিএনপির ছেলেরা বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিবে, তারেক রহমান ১০% করে খাবে না না। হাওয়া ভবন আতংকের নাম হবে না। এমন নানা অবিশ্বাস্য অলিক আশা নিয়ে বসে আছি, এবার সব ঠিক হবে। আমরা যেই লাউ সেই কদুও বলতে পারব না, দেখব হালার এইটা তো মাক্কাল ফল, এমনও হবে না নিশ্চয়ই! ... ...

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের জোয়ার ভেসে গেল টানা ১৫ বছর ধরে বিনা ভোটে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা আওয়ামী দুঃশাসন। কিন্তু তারপর? ভেতরের খেলা প্রক্সি যুদ্ধের দিক-দর্শন? ... ...

লাখ লাখ ছাত্র- জনতা বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে শাহবাগে জড়ো হয়েছেন। তারা উল্লাস করছেন। শ্লোগানে মুখরিত পুরো চত্বর। গণভবনেও ঢুকে পড়েছে জনতা! ... ...

সরকারের নানা ভুল তো আছেই, কেউ অস্বীকার করছে না। কিন্তু এখন যা হচ্ছে? গতকালের মৃত্যুর সব দায় সরকারের? আন্দোলনকারীরা যখন জানল আগামীকাল আওয়ামীলীগ কর্মসূচি দিয়েছে, কী দরকার ছিল মুখোমুখি হওয়ার? ছাত্ররা তাদের কর্মসূচি দিয়েছিল দেশে এখন থেকে অসহযোগ আন্দোলন চলবে। আমি দেখে খুশি হয়েছিলাম। অসহযোগ আন্দোলন হচ্ছে দুনিয়ায় যত আন্দোলন আছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর, সবচেয়ে নিরাপদ, সবচেয়ে কার্যকারী একটা পন্থা। ছাত্ররা নিজেদের অবস্থান, নিজেদের বক্তব্য এই কয়দিন পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছে, জনগণ তাদের সমর্থনও দিয়েছে। তাহলে নিজেদের উপড়ে বিশ্বাস হারানো কেন? জনগণকে একটা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সবাই নিজের অবস্থান থেকে অসহযোগিতা করবে। কাজে যাবে না, চাকরি করবে না। এইটাকে বলা হয় এমন একটা আন্দোলন যে কোন রক্তপাত ছাড়াই যে কোন সরকার পড়তে বাধ্য। সমস্ত রাজ কর্মচারি, কর্মকর্তা যদি এতে সামিল হয় ওই সরকার দম ফেলার সময় পাবে না, পড়ে যাবে। অবিশ্বাস্য হলেও এইটাই সত্য। কিন্তু আমাদের মহান জেন জি অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে কিন্তু এর অর্থই জানে না। তারা দেখছে আজকে আওয়ামীলীগ রাস্তায় নামছে, এমন অন্যায় সহ্য করবে তারা? এমন অপমান? ঝাঁপিয়ে পড়ল! শুনেন, যখন আপনে মারতে যাবেন আর তখন মার খেয়ে আসবেন তখন এখানে কান্নাকাটি করে লাভ নাই। আপনে মারতে গেছিলেন, মারতে গিয়ে মরলে এই দায় কে নিবে? আপনে মারামারিই করবেন তাহলে আগেরদিন অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিলেন কেন? না ভয় পেয়ে গেছেন যে আন্দোলন আপনাদের হাতে থাকবে না। এতদিন যাদেরকে একটু তুচ্ছ তাচ্ছিল্যই করেছেন, বলেছেন বুড়োদের দিয়ে কিচ্ছু হয় না, এখন অসহযোগ আন্দোলন করতে হলে সেই এদের উপরেই নির্ভর করতে হবে। সাহস পান নাই যে এরা আপনাদের সাথে থাকবে? সেই বিখ্যাত মধ্যবিত্তদের উপরে বিশ্বাস নাই? শুধু মধ্যবিত্ত না, মধ্য বয়স্ক! দুই মিলে ভয়ানক ব্যাপার! এরা যদি সহযোগিতা না করে? যদি জনগণ সাথে না থাকে তাহলে আন্দোলন করতেছেন কোন যুক্তিতে ... ...

হৃদ গগনের বুকে দণ্ডনীতি খুঁজে নেয় মানে। অশ্রুহীন বিচারক অনিকেত হন সবখানে! বেঁচে থাক সুখে থাক যাপিত এ হর্ষ বিষাদ। ছোট ছোট চুপ কথা,অযাচিত দায়িত্বের স্বাদ! ... ...

বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশে আজ ঘোর দুর্যোগের ঘনঘটা! যেন প্রচণ্ড এক হ্যারিকেন হামলে পড়ার পূর্বাভাস!... অসহযোগ আন্দোলনকে ঘিরে এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, গুলি, অনেক হতাহতের খবর আসছে। এতো সব মৃত্যুর দায় কার? ... ...

কোলকাতার রাস্তায় মোটর চালিত গাড়ি কেবল যে যাত্রী পরিবহণে অন্য মাত্রা যোগ করেছিল তাই নয়, পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও নূতন দিগন্ত উন্মচিত করেছিল। লরি, ট্রাক, স্টেশন ওয়াগন, টেম্পো ইত্যাদি নানা আকৃতি এবং আয়তনের পণ্যবাহী যানের আবির্ভাবের ফলে পালটে গিয়েছিল শহরের পণ্য পরিবহণের সামগ্রিক চেহারা। যানবাহনের বিবর্তনের প্রতিটি স্তরেই এসেছে কিছু পরিবর্তন, যার অনেকটাই গতি কেন্দ্রিক। পেশি শক্তির স্থলে যান্ত্রিক শক্তির আগমন, সেই গতিকেই আরো ত্বরান্বিত করেছিল। যত দিন গেছে শহরে নতুন নতুন গতিশীল যানবাহন এসেছে, তবু যাতায়াতের দুর্গতি মেটেনি। কারণ, যানবাহনের সাথে টেক্কা দিয়ে বেড়েছে শহরে যাতায়াত করা মানুষ। এছাড়া রাস্তার অনুপাতে গাড়ি বেশি হয়ে যাওয়ায় বেড়েছে যানজট। পাতাল রেল এবং সার্কুলার রেল, প্রথম দিকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল। আজ সেখানেও রীতিমত যুদ্ধ করে উঠতে হয়। যানবাহনে ব্যাপক পরিবর্তন এবং পরিবর্ধনের পরেও শহরে নিত্যযাত্রীদের দুর্ভোগ আজও রয়ে গেছে। আগামী দিনে আরো উন্নত কিছু প্রকল্প এই ক্লেশ থেকে মুক্তি দিতে পারবে কিনা তা ভবিষ্যতই বলবে। ... ...

"একা বেড়ানোর আনন্দে" - এই সিরিজে আসবে ভারতের কিছু জায়গায় একাকী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এটি পর্ব - ২৯…।করোনাকালে দুরে না হোক, কাছেপিঠে কোথাও, ঘর হতে শুধু তিন পা ফেলিয়া মোডে মৃদুমন্দ ভ্রমণ তো হতেই পারে। ২০২১ এর মার্চে কর্ণাটকের মনিপাল থেকে কলকাতায় আসার আগে তেমন একটা ব্যবস্থা করে এসেছিলাম। এটা ঠিক একাকী ভ্রমণ বৃত্তান্ত নয়, ফোনালাপ ও হোয়াচ্যাটের মাধ্যমে অদেখা কিন্তু বিশেষ পরিচিত সুজনবাবুর সুবাদে সম্পূর্ণ অচেনা কিছু মানুষের সাথে বাস্তবে আলাপ, আশপাশে টুকুন ঘোরাফেরা, এই সবের আলুনী পাঁচালী। তবু, কলকাতায় এসে যেহেতু ঘর থেকে বেরিয়েছিলাম একাই, আলাপ যা তা হয়েছিল পথে, তাই এটাও রাখলাম এই সিরিজে ... ...

"বাংলাদেশে এখন যে পরিস্থিতি, এরকম নিষ্ঠুর ঘটনা কোথাও ঘটেনি। ব্রিটিশ পাকিস্তানেও ঘটেনি, একাত্তর ছাড়া বাংলাদেশেও ঘটেনি!" ... ...

বর্তমান সময়ে যা হচ্ছে তা মেনে নেওয়ার মতো না। সমাধানের পথে যাওয়ার পরে সমাধান না হলে এক কথা। যারা বিপ্লবের ভূত মাথায় নিয়ে ঘুরছে তাঁকে আপনি ফিরাবেন গুলি মেরে? প্রবল জলোচ্ছ্বাস হয়ে আসবে না? কী সেই সমাধান তা আমি জানি না। এইটা আপনাদেরই বের করতে হবে যারা এইটা সৃষ্টি করেছেন। আপনারা আমাদেরকে ফেলেছেন উভয়সংকটে। এই আন্দোলনের চালিকা শক্তি ধীরে ধীরে জামাত বিএনপির হাতে চলে যাচ্ছে। আমাদের পক্ষে তাদের সাথে গলা মেলানো সম্ভব না। আমাদের পক্ষে আবার দৈনিক নিয়ম করে লাশ পড়বে আমাদের অর্ধেক বয়সই কোন একজনের, এইটাও মেনে নেওয়া সম্ভব না। জামাত বিএনপির প্ররোচনায়ই হোক বা এই প্রজন্মের দেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধাবোধ নাই দেখেই হোক, এখনই আগস্টের শোক নিয়ে মজা নেওয়া শুরু হয়ে গেছে। ১৫ আগস্ট এইটা আরও ভয়ংকর হয়ে যাবে নিশ্চিত। সব ছাত্ররা মিলে যদি কেক কাটে আমি আশ্চর্য হব না। এখন কেউ আমাকে যুক্তি দিয়ে বুঝাক কেন আমার এরপরে তাদের সাথে থাকতে হবে? ... ...


‘বলেন স্যার, এইডা হয়? চলে কোথাও?’ ম্যানেজারের দরাজায় দাঁড়িয়ে শুনতে পেল ডেইজি, তেমনি মিহি গলায় যেন কুঠার ঠুকে যাচ্ছে লোকটা। অথচ সে আর তার ইনচার্জই শুধু জানত ব্যাপারটা, ম্যানেজারকে এসব ছোটখাট বিষয় কখনো জানায় না তারা। সে যে বকা শুনার ভয়ে, তা নয়। আসলে এমন দৈনন্দিন খুঁটিনাটিগুলো নিয়ে ম্যানেজারের মনোযোগ ভঙ্গ করার রেওয়াজ নেই ব্যাংকে। ... ...