
আজকাল ওরা খুব কথা বলে। রাতদিন। বড় স্টকপটটা,কালচিটে তেলের দাগ ধরা উনুন,ধার কমে আসা সব্জিকাটা ছুরি,আপেল আঁকা ময়লা ভ্যালেন্স যেটা মমি লাগিয়েছিলো গতবছর জানলায় ..... সব্বাই কথা বলে। ... ...

ভারতের মাওবাদীদের মোকাবিলা করতে হলে এই মৌলিক তত্ত্বগত পার্থক্যটা বুঝতে হবে। ওদের পথটা কেন ভুল সেটা মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে। ... ...

ভায়োলেন্স, মানে হিংস্রতা/হিংসা বেশ গোলমেলে ব্যাপার; মনে হয় আপাতত: অনিবার্যও বটে। আপ্তবাক্যসুলভ ঠেকলে আরও একটু খোলসা করা যায় - হিংসা নিয়ে আমাদের গড়পড়তা চিন্তাধারার মধ্যেই একটা জটিল ধাঁধাঁ রয়ে গেছে। ... ...

ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে আর আইএসআই-এর ছাত্রদের ওপরে নানা জায়গায় জনতার অগাধ বিশ্বাস দেখে আমার এই গল্পটি স্মরণ হল। একবার ভেবেছিলুম টইতে কিছু একটা বলি। ... ...

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির গত আড়াই বছরের গতিবিধি থেকে এটা স্পষ্ট যে জনসমর্থনের ভরকেন্দ্রটি সিপিআইএমের হাত থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে নিশ্চিতভাবে প্রতিসৃত হয়েছে। ... ...

অনেকে এসেছিলেন সেদিন। ভোপালের বেগম একইসঙ্গে বোরখা এবং টেনিস শু পরেছিলেন। সাদা চামড়ার লোকজন ভিড় করে দাঁড়িয়েছিল রাস্তার দুধারে। গান স্যালুট আর কামানের তোপধ্বনিতে চঞ্চল হয়ে উঠেছিল হাতি আর ঘোড়ার দল। তাদের ইতস্তত দাপাদাপিতে মারা গেছিল অনেক লোক। অবশ্যই, তারা কালা নেটিভ আদমির দল। ... ...

যে দেশে জন্মেছি, বড় হয়েছি, যে দেশকে ভালবেসেছি (বা বলা ভাল, ভালবাসার প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে চলেছি) এবং যে দেশ আমায় কদিন আগেই ভোটাধিকার দিয়েছে, সেই দেশের শাসনযন্ত্রের সাম্প্রতিক অপরূপ উদ্যোগগুলোর তারিফ না করে কি থাকা যায়? সুনাগরিক হতে গেলে রাষ্ট্রের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের কর্তব্যটা আছে না, সেই তাগিদেই কিছু লিখতে বসা। কেউ আবার হুট করে দেশদ্রোহী বললে খুব খারাপ লাগবে কিন্তু! ... ...

আমি একটু ৩০০০০ ফুট ওপর থেকে ভারতের অবস্থা দেখতে চাই যাতে প্রতিটি গাছে চোখ না পড়ে পুরো বনভুমিতে চোখ পড়ে। যদি তাই দেখি তো বলব স্বাধীনতার পর থেকে, বিশেষত: ১৯৯১ এর পরে ভারতের উন্নতি হয়েছে স্পেকট্যাকুলার। এটা বলছি পৃথিবীর অন্য উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে তুলনা করে। ভারতের গণতন্ত্র সম্বন্ধে গুচর কিছু মানুষের সন্দেহ থাকলেও পৃথিবীর ছয় বিলিয়ন মানুষের কোন সন্দেহ নেই। তবে আমেরিকা, ব্রিটেন সহ কোন দেশেই গণতন্ত্র পারফেক্ট নয়। আর ১৯৯১ এর পর ১৫ বছরে ভারতে যা গ্রোথ হয়েছে তা চীনের ১৯৭৯ থেকে প্রথম ১৫ বছরের গ্রোথের সঙ্গে তুলনীয়। এটা হয়েছে ভারত গণতন্ত্র হওয়া সত্বেও। ... ...

শিলিগুড়ি পুর নিগম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বিগত ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৯। ১৫ সেপ্টেম্বর ফলাফল ঘোষিত হলে দেখা যায় ৪৭টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট ৩০টি আসনে জয়লাভ করে নির্ধারক বহুমত হাসিল করেছে। অন্যদিকে, সিপিএম ১৫টি এবং আর এস পি ও ফরোয়ার্ড ব্লক ১ টি করে আসন পেয়ে শোচনীয়ভাবে পর্যুদস্ত হয়। ২০০৪-এ বামফ্রন্টের মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩৬। কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস আলাদাভাবে লড়ে ১১টি আসন পেয়েছিল। বামফ্রন্টের জয়যাত্রা অব্যাহত ছিল বিগত ২৭ বছর ধরে। ... ...

অবস্থা উদ্বেগজনক, সন্দেহ নেই। ছত্রধর মাহাতো দিয়ে শুরু। তারপর রোজই ধরপাকড় চলছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, যে, এখন থেকে মাওবাদী বলতে শুধু জঙ্গী কার্যকলাপ নয়, জঙ্গীদের প্রতি মতাদর্শগত সমর্থনও বোঝাবে। ফলে যে সমস্ত বুদ্ধিজীবীরা মাওবাদীদের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন যুগিয়ে চলেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও একই ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর কয়েকদিনের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব এবং পুলিশ অফিসাররা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, যে, মাওবাদী বা জনসাধারণের কমিটির মধ্যে বিশেষ পার্থক্য তাঁরা দেখছেন না। গ্রেপ্তারের পর ছত্রধর মাহাতোকে জেরা করে জনসাধারণের কমিটিকে সাহায্য করেছেন এরকম বহু মানুষের নাম পাওয়া গেছে। এবং সহায়তাকারী এই সমস্ত যেকোনো লোকের বিরুদ্ধেই কেন্দ্রীয় বে আইনী কার্যকলাপ নিরোধক আইন (ইউএপিএ) মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। শুধু ঘোষণাতেই ব্যাপারটা থেমে নেই। গ্রেপ্তার চলছে। বন্ধ করা হচ্ছে ছাপাখানা। এই লেখা লিখতে লিখতেও আরও কিছু গ্রেপ্তার হয়ে যাবে, সন্দেহ নেই। ... ...

লার্স ভন ত্রীয়েরের নতুন ছবি, অ্যান্টিক্রাইস্ট নিয়ে অনেকদিন ধরেই বাজারে নানান গুজব ভেসে বেড়াচ্ছিলো। সেইসব ভাসমান গুজবের অধিকাংশই একমত যে সিনেমাটা অত্যন্ত দগদগে রগরগে ধরণের হয়েছে। যেন পাড়ার উঠতি ছোঁড়া এসে হাত নাড়িয়ে বলছে - পাগলা খাবি কি রে, ঝাঁঝেই মরে যাবি। এ ধরণের গুজব, শহুরে রূপকথা, যেমন - এক্সরসিস্ট দেখতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা বিবরের মতো সাহসী সাহিত্য গত একশো বছরে হয় নি, এগুলি আসবে ও যাবে। কিন্তু গুজবটা এক্ষেত্রে বেশ বড়ো করেই পৃথিবীতে ছড়ালো, কান চলচ্চিত্র উৎসবে বহু দর্শক ছি ছি করে বেরিয়ে গেলেন, অথচ সেই সিনেমার হিরোইন পেলেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার। ... ...

৫ই নভেম্বর ২০০৮, আমেরিকার ঐতিহাসিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক পরেই, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কার্জাই বারাক ওবামাকে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেই বার্তার সারমর্ম ছিল - সাধারণ মানুষ মারা বন্ধ হোক। "This is my first demand of the new president of the United States - to put an end to civilian casualties" । হামিদ কার্জাইয়ের সেই বার্তার কোন উত্তর দেওয়া হয় নি। কিন্তু বেড়ে গেছে মৃত্যু সংখ্যা। ইউনাইটেড নেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০০৯ সালের প্রথম ৬ মাসে মারা গেছে ১,০১৩ জন সাধারণ মানুষ, ২০০৮ সালের থেকে প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ন্যাটোর সৈন্য বাহিনীর প্রখর পাহারায় সদ্য শেষ হল আফগানিস্তানের দ্বিতীয় নির্বাচন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে কিছু ত্যাগ তো স্বীকার করতেই হবে। এই যুদ্ধ কতটা প্রয়োজনীয়, কেন এই যুদ্ধ স্বেচ্ছায় নয় বরং বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে, আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি সেই দেশের ও মানব সভ্যতার জন্য কতটা খারাপ, যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে সে দেশের গণতন্ত্র, দেশ বিদেশের মিডিয়ায় চোখ রাখলেই বোঝা যায় সেসব কথা। হয় কনসেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং নয়ত নিরবচ্ছিন্ন নীরবতা। প্রচলিত এই দুই প্রান্তিক অক্ষের মাঝে দাঁড়িয়ে কিছু তথ্যে ও তত্ত্বে চোখ বুলিয়ে দেখাই যাক না মেলে কিনা এই ধাঁধা। ... ...

যৌনতার সঙ্গে রাষ্ট্রের (বা, বলা ভালো, ক্ষমতার) সম্পর্কটা সবসময়েই জটিল এবং, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, এরা একে অপরকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে ও নিজেও ব্যবহৃত হয়, বুঝে বা না-বুঝে। আবার সেই যৌনতা যদি প্রথাবিরুদ্ধ হয়, যদি তা হয় সমকামিতার মতো একদা-অপরাধ, তাহলে রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে। কিন্তু শুধুই কি সংঘাত? আর সেই সংঘাতও কি কেবল দক্ষিণপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল ক্ষমতার সঙ্গেই? তথাকথিত বামপন্থী উদারতাও কি বেমালুম হজম করে নিতে পারে যৌনতার ব্যতিক্রম বা ব্যতিক্রমী যৌনতা? না কি তাকেও ঢোঁক গিলতে হয়, যুঝতে হয় নিজের অন্তর্গত স্ববিরোধগুলির সঙ্গে? ... ...

ধনতন্ত্র বনাম সমাজতন্ত্রের কূটকচালি পেরিয়ে যদি সহজ চোখে গত শতাব্দীর দিকে তাকানো যায়, তাহলে উন্নত এবং অনুন্নত দেশগুলোর মধ্যে একটা বড় ফারাক দেখা যাবে। প্রাক্তন সোভিয়েত রাশিয়াই বলুন আর আমেরিকা-ইংল্যান্ডই বলুন, অর্থনীতির পরিসরে রাষ্ট্রের ভূমিকার প্রভূত পার্থক্য সঙ্কেÄও প্রায় সব উন্নত দেশেই সামাজিক বা ভৌগোলিক পরিসরে রাষ্ট্রের উপস্থিতি সর্বব্যাপী এবং সুদৃঢ়। সোজা কথায়, উন্নত দেশের সরকারের হাত অনেক লম্বা - পরিষেবার বরাভয় আর প্রশাসনের খড়্গহস্ত দুটোই।আমেরিকা-রাশিয়াতে গভর্নমেন্টের খাতায় সক্কলের নাম আছে। আমাদের দেশেও কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি একটি প্রকল্প নিয়েছেন প্রত্যেক নাগরিককে (এবং বাসরত অনাগরিককে) আলাদা করে চেনবার, প্রত্যেককে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার। সরকারি কম্পিউটারে ধরা থাকবে প্রত্যেকের নাম, ধাম, বৃত্তি, মায় আঙুলের ছাপ পর্যন্ত। প্রকল্পের আনুমানিক খরচ চল্লিশ হাজার কোটি। গত মাসে এই প্রকল্পের কর্ণধার নিযুক্ত হলেন ইনফোসিসের প্রাক্তন সিইও নন্দন নিলেকানি। সার্থক নির্বাচন, নি:সন্দেহ। এই নিয়োগের সাথে সাথে বিষয়টি সংবাদের শিরোনামে এসেছে, এবং স্বাভাবিকভাবেই, প্রতিবাদের ঝড় না উঠুক, বিতর্কের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ... ...

পুণেতে সোয়াইন ফ্লু "আসছে-আসছে', "এই এসে গেল' চলছে সেই মে' মাস থেকে। ৫ই মে সকালের কাগজ খুলে আমরা জানলাম যে এয়ারপোর্টে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে, বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের সম্পর্কে। আন্তর্জাতিক বিমানের যাত্রীদের নেমে একটা বড়সড় প্রশ্নপত্রের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে, তারপর মেডিক্যাল অফিসাররা সেই উত্তর খতিয়ে দেখে যাত্রীদের ছাড়ছেন এয়ারপোর্ট থেকে। সাথে ছবি ছিল, সমস্ত পুলিশকর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নাকে মুখে রুমাল বাঁধা তিনকোণা করে। একই খবরের নীচের দিকে ছিল ভোপালের কাছে জলনাতে একসাথে ২০টি শুয়োর মারা গেছে, কিছু বাচ্চা শুয়োর খুব অসুস্থ। স্বাস্থ্যদপ্তর তাদের ওপর কড়া নজর রাখছেন। খবরটা অধিকাংশ লোক খেয়াল করে পড়েনই নি। যাঁরা পড়েছিলেন, তাঁরাও কেউ তেমন গুরুত্ব দেন নি। গোটা মে মাসটা এরকমই চলে গেল তা-না-না-না করে। জুনও প্রায় যাই যাই, তখনই হ্ঠাৎ প্রথম সোয়াইন ফ্লু আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গেল। ... ...

ছত্তিসগড় বিশেষ জনসুরক্ষা অধিনিয়ম ২০০৫ এর অধীÝন শুধু ¢বনায়ক সেন নন গত দ¥বছরে ব¢¸দ হয়েছেন বহু মানুষ। ¢ব¢ভন্ন চেহারার ¢ব¢ভন্ন জী¢বকার মান¥ষ। তাদের মধ্যে ১৮০ জনের নাম প¥¢লশের খাতায় পাওয়া যায়। বা¢ক আরো ৫০ ¢ট ক্র¢মক সংখ্যা ¢কছু মানুষকে ¢ন¢র্দষ্ট করে যাদের নাম নেই, ধাম নেই, জী¢বকা নেই। মজার ব্যাপার হলো প¥¢লশের খাতায় ডাক্তার ¢বনায়ক সেনের জী¢বকা কু¢রয়ার। কারন উ¢ন না¢ক জেল থেকে নারায়ণ সান্যালের ¢চ¢ঠ ¢পযূষ হর কাছে ¢নয়ে যেতেন। কিন্তু জেলার সাহেবের বয়ান অনুসারে ¢ত¢ন সর্বদা খাড়া হয়ে দাঁ¢ড়য়ে থাকতেন দুজনের কথোপকথনের সময়। য¢দ কোনো কারনে অন্যত্র যেতে হতো তো ওঁর অধعন কর্মচারীকে দাঁড় ক¢রয়ে তবেই যেতেন। সেখানে কোনো ¢চ¢ঠ আদান পÊদান ঘটত না। ... ...

শুভ্রাংশু চৌধরি ছত্তিসগড়ে Citizens Journalism Initiative ও CGnet-এর প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য। ছত্তিসগড়ের একটি সংবাদপত্রে এক সময় নিয়মিত কলাম লিখতেন। একবার রাজ্যের চাষিদের আত্মহত্যার খবর নিয়ে লেখেন। চাপ দিয়ে, মিথ্যেপ্রচারের অভিযোগে তাঁর কলাম বন্ধ করে দেওয়া হয়(১)। শুভ্রাংশু দন্ডকারণ্যের কাছের বালিমেলা জলাশয় ও নিয়ামগিরি পাহাড় অঞ্চলে সাংবাদিকতার সূত্রে গেছিলেন(২)। বালিমেলা জলাশয় নেহরুর আমলের বৃহ্ৎ বাঁধ প্রকল্পের একটি নিদর্শন। অঞ্চলের আদিবাসীদের বহু গ্রাম এর ফলে ডুবে যায়, উচ্ছিন্ন লোকেরা যেখানে গিয়ে নতুন ঘর বাঁধেন সেগুলূ জলস্তর বাড়ার পর বাকি দুনিয়ার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সব থেকে কাছের হাসপাতালে যেতে হলে তিন ঘন্টা লঞ্চ, যা দিনে একটা চলে, ও তারপর দুঞ্চঘন্টা হন্টন। অর্থাৎ মোট ৫ ঘন্টা। স্কুল ৩+৪ = ৭ ঘন্টা। বাঁধের উৎপাদিত বিদ্যুৎ এই গ্রামগুলোতে চার দশক পরেও পৌঁছোয় নি, ওড়িসার বড় শহরগুলোতে চলে যাচ্ছে তারে তারে। জল বয়ে চলেছে হিন্দু উঁচু জাতের চাষিদের জমিসেচের জন্য। উচ্ছিন্ন আদিবাসীদের হাতে যে অনুর্বর জমি আছে তাতে এত কম খাদ্যশস্য হয় যে অধিক অরতথকরী কিন্তু বেআইনি গাঁজার চাষ করে পেট চালাতে হয়। অথচ যে জমিতে তারা মাথা গুঁজেছে বা ফসল ফলাচ্ছে তার কাগজও কিন্তু সরকার তাদের দেয়নি, ক্ষতিপূরণ তো দূর অস্ত। ... ...

শারীরিক নির্যাতনের সাহায্যে বিচারাধীন কয়েদীদের পছন্দমত "স্বীকারোক্তি" দিতে বাধ্য করার বিষয়টি গত এক বছরে বহুল প্রচারিত - মার্কিন প্রশাসন, প্রচারমাধ্যম ও সংসদের কল্যাণে। মার্কিন দেশে অবশ্য, গ্রেপ্তার করার আগে বা পরে, বিচারাধীন বন্দীদের উপর শারীরিক নির্যাতনের ব্যাপারে বেশ কড়া নিষেধাজ্ঞা আছে, যা নেহাতই "ব্যতিক্রমী' ব্যাপারস্যাপার ছাড়া, সাধারণভাবে মেনেও চলা হয়। এই কয়েকমাস আগে আটলান্টার এক গাড়িচালক কয়েকজন পুলিশকে চাপা দিয়ে চলে যাবার চেষ্টা করে। তাকে তাড়া করে ধরে ফেলার পর, ঐ পুলিশরা লোকটির উপরে শারীরিক আঘাত করে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সেই আঘাতগুলি মোটেই ঠান্ডা মাথার পুলিশী মার নয়, বরং রক্তমাংসের সাধারণ মানুষের মতই। কোনো ক্রমে প্রাণে বেঁচে যাবার পর সাধারণ মানুষের পক্ষে এই ধরণের আচরণই প্রত্যাশিত। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কাছে এই অজুহাত ধোপে টেকেনি, বরং অ-পুলিশী আচরণের অভিযোগে তিনজন পুলিশ অফিসারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত হতে হয়। ... ...

শ্রী হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের "বঙ্গীয় শব্দকোষ' গ্রন্থটিতে "তীর্থ' শব্দের প্রায় ২৫টি মানে পাওয়া যায়। "ছাত্রদের অভিধান' তার থেকে ৮টি কমিয়ে ১৬টি মানে দিয়ে গেছে। কলকাতার "সংসদ বাংলা অভিধান' ও ঢাকার "ব্যবহারিক বাংলা অভিধান' তার থেকে আরও ৯টি বাদ দিয়ে মাত্র ৭টি মানে নিয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিধানে এই সংখ্যা আরও কমেছে এবং শেষমেষ শব্দটির একটিমাত্র মানে দাঁড়িয়েছে ... ...

সুধী, ইন্টারনেটের গলিঘুঁজি দিয়ে যখন এতখানি এসেছেন তখন কোথাও না কোথাও, বড়রাস্তায়, নিশ্চয়ই দেখেছেন নেদাকে। নেদা আগা সোলতান। মেয়েটা বিক্ষুব্ধ তেহরানের রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল। হয়ত প্রতিবাদে যোগ দিতে, হয়ত নয়। হঠাৎ এক মোটরবাইক তাকে উপহার দিয়ে যায় একটি বুলেট। ইউটিউবে, ব্লগে, টুইটারে ছড়িয়ে পড়েছে তার বুলেটবিদ্ধ, মুখ-দিয়ে-রক্ত-ওঠা, শেষ কয়েকটি মুহূর্তের দৃশ্য। ইরানের "সবুজ বিপ্লবের" প্রতীকী দৃশ্য। বিপ্লব!! ... ...