এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  কৃষি

  • খাদ্য এবং খাদ্য ফসলের দূষণ একটি নীরব ঘাতক - সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ ও সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ন সমাধান

    শ্যামল অধিকারী
    আলোচনা | কৃষি | ১২ জুন ২০২৪ | ৪৫৩ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • কৃষিকাজে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার একদিকে যেমন অনেক সমস্যার সমাধান করছে, অন্যদিকে তার অপব্যবহার নতুন নতুন সমস্যা তৈরি করছে। এই সব সমস্যার প্রতিরোধে, নিয়ন্ত্রণে বা প্রতিকারে সরকারের যে বিভিন্ন বিভাগগুলি এই সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের দেখভালের দায়িত্বে থাকে তারা তাদের ভূমিকা ঠিক মত পালন করছে কি? ভোটরঙ্গের টান টান উত্তেজনার শেষে কেন-কোথায়-কি, এবার কি ইত্যাদির হিসাব-নিকাশ চলছে। এদিকে ভোট যতটাই শর্ট টার্মে গুরুত্বপূর্ণ হয়, লং টার্মের জন্য কিন্তু পরিবেশ, খাদ্য উৎপাদন বা তার প্রক্রিয়াকরণ ইত্যাদি আরো অনেক বিষয় ততটাই গুরুত্বের ও ভাবনার বিষয়। তাই যতই ভোটের গল্প ছেড়ে অন্য দিকে মন দিতে ইচ্ছে না করুক, এই বিষয়গুলোও তোলা জরুরী।

    অলংকরণ: রমিত চট্টোপাধ্যায়


    বায়ু দূষনের মতোই খাদ্য এবং খাদ্য ফসলের দূষণ একটি নীরব ঘাতক - সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ ও সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ন সমাধান

    FSSAI (ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া) এর চরম ব্যর্থতা। খাদ্যদ্রব্যের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং রাসায়নিক পেস্টিসাইড নিয়ন্ত্রণ করতে FSSAI সম্পূর্ণ ব্যর্থ। দায়ের করা একটি পিটিশনে বলা হয়েছে যে কীটনাশক যুক্ত খাবারের ব্যবহার সারাদেশে ক্যান্সার রোগের প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে এবং তাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। কীটনাশক এবং ক্যান্সারের মধ্যে একটি সরাসরি বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে কীটনাশক যুক্ত খাবার, তার ব্যবহার, অতিব্যবহার এক বিরাট চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবেদনকারী সারা দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন যা দেখায় যে কীটনাশকের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হচ্ছে। সিনিয়র আইনজীবী অনিথা শেনয়, আবেদনকারী অ্যাডভোকেট আকাশ বশিষ্ঠের পক্ষে উপস্থিত হয়ে সুপ্রিম কোর্টকে জানালেন।

    পাশাপাশি পিটিশনে ক্যালসিয়াম কার্বাইড এর মতো রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে ফল কৃত্রিমভাবে পাকানো, আপেলের মত ফলগুলির রং বা আবরণ প্যারাফিন, শেলাক এবং পলিথিনের মত উপাদান দিয়ে তৈরি মোম দিয়ে পলিশিংয়ের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ডাল এবং খাদ্যশস্যে কৃত্রিম রং ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়।

    ভারতের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের এক বেঞ্চ 17 মে, 2024 পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা ও মান অথরিটি অফ ইন্ডিয়াকে (FSSAI) নোটিশ জারি করেছে এবং তাদের প্রতিক্রিয়া চেয়েছে।

    FSSAI - এর ভূমিকা এবং ফাংশন জানা যাক:

    FSSAI হল ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের প্রশাসনের অধীনে একটি স্টাটিউটরি সংস্থা। এটি খাদ্য সামগ্রীর উৎপাদন, সঞ্চয়, বিতরণ, বিক্রয়, আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মান প্রতিষ্টা করে।
    FSSAI কে তৈরি করা হয়েছে খাদ্য সামগ্রীর বিজ্ঞান ভিত্তিক মান নির্ধারণের জন্য, এবং মানুষের ব্যবহারের জন্য নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য।

    FSSAI - কে FSS আইন, 2006 দ্বারা নিম্নলিখিত কার্য সম্পাদনের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    ১. খাদ্যের মান (standards) ও নির্দেশিকা (guidelines) কাঠামো তৈরি করা এবং বিভিন্ন মান কার্যকর করার উপযুক্ত ব্যবস্থা উল্লেখ করা।

    ২. খাদ্য ব্যবসায়ে খাদ্য নিরাপত্তা সার্টিফিকেশনে নিযুক্ত সংস্থাগুলির স্বীকৃতির জন্য প্রক্রিয়া এবং নির্দেশিকা নির্ধারণ করা।

    ৩. পরীক্ষাগারগুলির স্বীকৃতির জন্য পদ্ধতি এবং নির্দেশিকা নির্ধারণ করা।

    ৪. খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টির প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে, এমন ক্ষেত্রে নীতি ও নিয়ম প্রণয়নের ক্ষেত্রে, কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারগুলিকে বিজ্ঞানসম্মত পরামর্শ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা।

    ৫. খাদ্যে দূষিত পদার্থ, বিভিন্ন পদার্থের অবশিষ্টাংশ, জৈবিক ঝুঁকির (biological risk) ঘটনা চিহ্নিতকরণ এবং দ্রুত সতর্ক ব্যবস্থা অবলম্বন করা।

    ৬. সারা দেশে একটি তথ্য নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যাতে জনসাধারণ, ভোক্তা, পঞ্চায়েত ইত্যাদি খাদ্য নিরাপত্তা এবং উদ্বেগের বিষয়গুলির দ্রুত তথ্য পায়।

    ৭. খাদ্য ব্যবসায়ে যারা জড়িত বা ইচ্ছুক তাদের জন্য প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম প্রদান করা।

    ৮. খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্যমান সম্পর্কে সাধারণ সচেতনতা প্রচার করা।

    ৯. ফুড সেফটি রিসার্চ : FSSAI - এর Research and Development Division খাদ্য নিরাপত্তার মানের ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য দায়ী। তারা ক্রমাগত আন্তর্জাতিক খাদ্যমান গ্রহণ করার চেষ্টা করবে।

    কীটনাশক, বিষক্রিয়া এবং আইন:

    কীটনাশক হল এমন একটি রাসায়নিক বা জৈবিক পদার্থ যা কীটপতঙ্গ থেকে ক্ষতি প্রতিরোধ, ধ্বংশ বা নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে কৃষি এবং অ - কৃষি উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়।
    এগুলি মানবস্বাস্থ এবং পরিবেশের জন্যও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে, বিশেষ করে যখন তাদের অপব্যবহার করা হয়, অতিরিক্ত ব্যবহার করা হয় বা অবৈধভাবে বিক্রি করা হয়।
    ভারতে কীটনাশকগুলি, কীটনাশক আইন, 1968 এবং কীটনাশক বিধি, 1971 এর অধীনে নিয়ন্ত্রিত হয়। আইনটি কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রণালয় দ্বারা পরিচালিত হয়।

    পেস্টিসাইডের অতিরিক্ত ও অপব্যবহার কী?

    অতিরিক্ত পেস্টিসাইড ব্যবহার তাকেই বলা হয় যখন লেবেলগুলিতে উল্লেখ করা স্ট্যান্ডার্ড ডোজ অতিক্রম করে। অপব্যবহার বলা হয় যখন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ অর্জন করতে ভুল করে ব্যাবহার করা হয়।

    পেস্টিসাইড এবং অজৈব রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার এবং অত্যধিক ব্যবহার ( যায় মধ্যে আগাছানাশক, ছত্রাকনাশক, ইঁদুরনাশক, ভেষজনাশক) খাদ্যশস্য এবং খাদ্য সামগ্রীতে ক্যান্সার এবং অন্যান্য মারাত্মক রোগ সৃষ্টির প্রাথমিক এবং প্রধান কারন হিসাবে জানা যায়।

    কীটনাশক এক্সপোজার মানেই কি ক্যান্সারের ঝুঁকি?

    একটি পেস্টিসাইড থেকে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি নির্ভর করে বেশ কয়েকটি কারণে যেমন - পেস্টিসাইডটি কার্সিনোজেনিক কিনা, কিভাবে পেস্টিসাইডটির এক্সপোজার, কতটা এক্সপোজার হল, তার ওপর। একটি কারসিনোজেনিক পেষ্টিসাইডের সামনে এক্সপোজার হওয়া মানে এই নয় যে আপনার অতি অবশ্যই ক্যানসার হবে। এটা শুধু মাত্র ব্যক্ত করে যে, আপনার ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বা ঝুঁকি অনেকটা বেড়ে গেল যদি আপনার এক্সপোজার না হতো, তার থেকে।

    গবেষণায় দেখা যায় যে শিশুরা বিশেষ করে, কীটনাশক এক্সপোজার থেকে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে এবং শৈশবকালে ক্যান্সারের হার বাড়তে থাকে। এটাও দেখা গেছে যে গর্ভাবস্থায় এবং শৈশবকালে কীটনাশকের এক্সপোজার শিশুদের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

    গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাক্টিস ( GAPs) - এর প্রয়োজনীয়তা:

    GAP হল কৃষি উৎপাদন (production), প্রক্রিয়াকরণ (processing), এবং খাদ্য পরিবহনের (transport) জন্য প্রযোজ্য নীতি, প্রবিধান (regulations) এবং প্রযুক্তিগত সুপারিশগুলির একত্রিত একটি সেট। এটি মানব স্বাস্থের যত্ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং কর্মীদের ও তাদের পরিবারের অবস্থার উন্নতির জন্য তৈরি। GAP বাস্তবায়ন, টেকসই (sustainable) কৃষিকে উন্নত করতে, এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিবেশগত এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্দেশ্যগুলি পূরণ করতে সাহায্য করে।

    নথিভুক্ত করে বলা হয়েছে যে , GAP বাস্তবায়ন - কীটনাশক, সার এবং জলের মতো সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং পরিবেশ বান্ধব কৃষিকে উৎসাহিত করবে। এর সামাজিক উদ্দেশ্য হল, রাসায়নিক ও কীটনাশকের অনুপযুক্ত ব্যবহার থেকে কৃষি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য রক্ষা করা।

    একই মাসে সংবাদে দুটো বিস্ফোরণ - এক বিতর্কের ঝড় তুলেছে:

    5 ই মে 2024, FSSAI - এর আদেশে মশলা ও ভেষজগুলিতে ১০ গুন বেশি
    কীটনাশকের মাত্রা বাড়ানোর অনুমতি, আর 17 ই মে 2024 অতিরিক্ত কীটনাশক যুক্ত খাবার ব্যবহারে ক্যান্সারে মৃত্যু ও সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ - এই দুটি সংবাদই সাধারণ ও বিজ্ঞানী মহলে বেশ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    FSSAI মশলা ও ভেষজগুলিতে উচ্চ কীটনাশকের অবশিষ্টাংশের (MRLs) বিষয়টির জন্য ৩ টে আদেশ জারি করে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে।

    ১. 21April 2022 - এর আদেশে,
    (ক) কর্তৃপক্ষ বেশিরভাগ ভারতীয় কীটনাশকের ক্ষেত্রে, ফিল্ড ট্রায়াল ডেটার অভাব স্বীকার করে এবং কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সর্বোচ্চ অবশিষ্টাংশের সীমা (MRLs) ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়।

    (খ) বলা হয়েছে যে, মশলা এবং রন্ধনসম্পর্কীয় ভেষজ সহ খাদ্য এবং
    পণ্যগুলির জন্য কীটনাশকের সর্বাধিক অবশিষ্টাংশের সীমা (MRL), FSSAI কেন্দ্রীয় কীটনাশক বোর্ড (CIB) এবং রেজিস্ট্রেশন কমিটির (RC) মাধ্যমে প্রাপ্ত ফিল্ড ট্রায়াল ডেটার উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট করে। এই গবেষণাগুলি কীটনাশক প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি থেকে আসে।

    ২. 30 August 2022 - এর আদেশে বলা হয়
    (ক) যদি পেষ্টিসাইডগুলি CIB & RC সাথে রেজিষ্টার হয় তাহলে মশলা এবং
    রন্ধনশীল সম্পর্কীয় ভেষজ - এর ক্ষেত্রে Codex / EU / USA / Japan / FSANZ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত MRLs ব্যবহার হবে।

    (খ) আর যদি পেস্টিসাইডগুলি CIB & RC সাথে রেজিষ্টার না হয় তবে ডিফল্ট কোডেক্স MRL 0.01 mg/kg (অথবা Below Detection Limit) ব্যবহার হবে।

    ৩. 8 April 2024 - এর আদেশে বলা হয় যে
    (ক) মশলা ও রন্ধন সম্পর্কীয় ভেষজ সহ খাদ্য পণ্যগুলির MRL, CIB & RC মাধ্যমে প্রাপ্ত ডেটার উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট করা হয়। এটাও বলা হয়েছে যে যতক্ষণ না ফিল্ড ট্রায়াল ডেটা পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষন পর্যন্ত মশলার MRLs, মনিটরিং অফ পেস্টিসাইড রেসিডিউস এট নেশনাল লেভেল (MPRNL) স্কিম প্রদত্ত ডেটার উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট করা হবে।

    (খ) কৃষি মন্ত্রকের সাথে রেজিষ্টার করা আছে কিন্তু মশলার জন্য ভারতীয় নিয়ন্ত্রণের অধীনে MRL নেই , সেক্ষেত্রে কোডেক্স ( কোডেক্স গ্লোবাল অ্যালিমেন্টারিউস কমিশন) এর মান ব্যবহার করা হবে। যদি এটি কোডেক্স - এ উল্লেখ না থাকে, তাহলে 0.1 mg/ kg এর MRL অনুসরণ করা হবে।
    যে কীটনাশকগুলি কৃষি মন্ত্রকের (CIB & RC) সাথে মোটেও রেজিষ্টার নয়, তাদের জন্য 0.1 mg/kg MRL প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ দশগুণ বেশি প্রযোজ্য হবে।

    FSSAI মশলা , ভেষজগুলিতে ১০ গুন বেশি কীটনাশকের অনুমতি দেয়:

    ভারতীয় ভেষজ , মশলাগুলিতে উচ্চ কীটনাশকের (MRLs) দাবি করা প্রতিবেদনগুলো " মিথ্যা এবং দূষিত" - বলেছে FSSAI ।

    FSSAI দ্ব্যর্থহীন ভাবে ভারতীয় ভেষজ এবং মশলাগুলিতে উচ্চতর কীট নাশকের অভিযোক সাম্প্রতিক মিডিয়া রিপোর্টগুলিকে " মিথ্যা এবং দূষিত" হিসাবে চিহ্নিত করেছে।

    একটি প্রেস রিলিজে , খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক স্পষ্ট করেছে যে ভারত কীটনাশকের জন্য সর্বাধিক অবশিষ্টাংশের সীমা (MRLs) বিশ্বব্যাপী কিছু কঠোর মানের সঙ্গে সমানভাবে বজায় রাখে , তার সঙ্গে বজায় রাখে খাদ্য পণ্যের ঝুঁকি মূল্যায়নের ( risk assessment) জন্য রেগুলেশনসগুলি । FSSAI - এর MRLs বৈজ্ঞানিক প্যানেল CIB & RC দ্বারা প্রদত্ত ডেটা মূল্যায়ন করে। পাশাপাশি রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট পরিচালনা করে যেটা ভারতীয় জনসংখ্যার খাদ্যাভ্যাস এবং সমস্ত বয়সের গোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত উদ্বেগ বিবেচনা করে, তারপরে সেই অনুযায়ী MRL সুপারিশ করে।

    ভারতে বর্তমানে 293 টিরও বেশি কীটনাশক রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে, 139 টি বিশেষভাবে মশলা ব্যবহারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। কোডেক্স একটি আন্তর্জাতিক মান সংস্থা 243 টি কীটনাশক গ্রহণ করেছে যার মধ্যে 75 টি মশলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

    প্রতিটি কীটনাশক, ঝুঁকি মূল্যায়ন ডেটার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন MRL সহ একাধিক খাদ্য পণ্যে রেজিস্টার্ড হয়। উদাহরনস্বরূপ, Monocrotophos, একটি সাধারণ কীটনাশক, অন্যদের মধ্যে চাল, সাইট্রাস ফল , কফিবিন এবং এলাচের জন্য বিভিন্ন MRL - এ অনুমোদিত।

    MRL প্রতিষ্ঠিত হয়নি এমন ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে 0.01 mg/ kg সীমা প্রয়োগ করা হয়েছিল। এটা পরবর্তীতে 0.1 mg/ kg তে বাড়ানো হয়েছিল শুধুমাত্র মশলার কীটনাশকগুলির জন্য যা CIB & RC দ্বারা রেজিস্ট্রেশন হয়নি।

    CIB & RC দ্বারা রেজিস্ট্রেশন না হওয়া কীটনাশক সম্পর্কিত উদ্বেগগুলির মোকাবিলা করার জন্য , FSSAI কোডেক্স এর মত সংস্থাগুলির দ্বারা নির্ধারিত ও আন্তর্জাতিক মানগুলির সাথে সমানভাবে MRL গুলি গ্রহণ করেছে।

    FSSAI আদেশ সংক্রান্ত সমস্যা:

    ১. FSSAI - এর আদেশ পূর্ববর্তী অবস্থানের অসঙ্গতি এবং পূর্বের অবস্থনের সাথে সাংঘর্ষিক।

    ২. ফিল্ড ট্রায়াল ডেটার গবেষণাগুলির প্রায়শই কীটনাশক প্রস্তুতকারকদের থেকে আসে। অতএব স্বার্থ থাকার সম্ভাবনা বেশি।

    ৩. সাধারনত FSSAI , CIB & RC - র মাধ্যমে ফিল্ড ট্রায়াল ডেটা সংগ্রহ করে কিন্তু MRL ১০ গুন বৃদ্ধি করার সময় MPRNL - এর প্রদত্ত ডেটা নেওয়া হল কেন ? MPRNL আমাদের খাবারে কীটনাশকের পরিমাণ পরীক্ষা করে, কিন্তু এটি মশলা পরীক্ষা করে না। তাই ব্যাপক তথ্যের অভাব থাকতে পারে।

    ৪. যে সমস্ত পেস্টিসাইড CIB & RC - র সাথে রেজিষ্টার থাকে না ফলে FSSAI দ্বারা MRL নির্ধারিত হয় না।, তাহলে মশলার ক্ষেত্রে 0.1 mg/kg অর্থাৎ ১০ গুন বাড়লো কেন ? পূর্বে এই সমস্ত পেষ্টিসাইড এর ক্ষেত্রে ডিফল্ট MRL 0.01 mg/kg ছিল। এমন কি মশলার MRLs যেখানে গ্লোবাল কোডেক্স এবং FSSAI উভয়ই নির্দিষ্ট করে নি সেক্ষেত্রে ১০ গুন অর্থাৎ MRL 0.1 mg/ kg করা হল কেন এবং অত্যাবশ্যক হল কেন। প্রশ্ন উঠতেই পারে যে, ফুড সেফটি রেগুলেটরের উচিত ছিল শূন্য MRLs হতে দেওয়া যেখানে কোডেক্স এবং FSSAI MRLs নির্দিষ্ট করেই নি।

    ৫. MRL দশগুণ বেড়ে যাওয়া অর্থাৎ 0.1 mg/kg হওয়াটাকে অনেকেই লিমিট রিল্যাক্সড হল বলে মনে করছেন। ফলে গুরুতর স্বাস্থের উপর প্রভাব পড়তে পারে।

    ৬. পেস্টিসাইড যদি কর্সিনোজেনিক হয় তাহলে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে । এক্ষেত্রে ট্রায়াল ডেটা সংগ্রহ করার সাথে সাথে যে সমস্ত টক্সিকলজিকাল এবং রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট স্টাডি করা হয় তার সাথে ক্যানসার রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট ও গবেষণা কিভাবে এবং কতটা গুরুত্বের সঙ্গে হয় তা জনসমক্ষে আনা দরকার। এই সমস্ত স্টাডি FSSAI , পেষ্টিসাইড প্রস্তুতকারকদের উপর নির্ভর না করে, দেশের প্রতিষ্ঠিত গবেষণাগুলিতে, কম করে ৩ টে গবেষণাগারে, নিজ দায়িত্বে করা উচিত।

    কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার সমাধানে গুরুত্বপূর্ন পদক্ষেপ:

    ফসল এবং খাদ্য আইটেমগুলিতে কীটনাশক এবং অন্যান্য রাসায়নিকের ব্যাপক ব্যবহার সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নোটিশ নিঃশন্দেহে উল্লেখযোগ্য।

    পিটিশনটি কীটনাশকের অত্যধিক ব্যবহারের গুরুতর প্রভাব এবং FSSAI এর নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির নিরাপত্তা মান কার্যকর করতে ব্যর্থতার কথা সামনে এনেছে।

    কীটনাশকগুলি কীটপতঙ্গ এবং রোগ থেকে ফসল রক্ষা করতে এবং কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। কিন্তু তাদের অত্যধিক ব্যবহার এবং অপব্যবহার গুরুতর স্বাস্থের ক্ষতির কারণ হয়।

    পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে যে কীটনাশক যুক্ত খাবার গ্রহণ ক্যানসার এবং অন্যান্য মারাত্মক রোগের একটি প্রধান কারণ।

    ১. কীটনাশক সমস্যা সমাধানের জন্য বহুমুখী পদ্ধতির প্রয়োজন। বর্তমান নিয়মাবলীর কঠোর প্রয়োগ থাকতে হবে।

    ২. এর মধ্যে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশের জন্য খাদ্যের নমুনাগুলির নিয়মিত এবং রান্ডম (random) পরীক্ষা, এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য ফলাফলগুলিকে সার্বজনীনভাবে অ্যাকসেসযোগ্য করতে হবে। অধিকন্তু, সাসটেইনেবল কৃষি অনুশীলনের প্রচারের জন্য একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা থাকা উচিত।

    ৩. ইন্টিগ্রেটেড পেস্ট ম্যানেজমেন্ট (IPM) কৌশলগুলি প্রয়োগ করতে হবে যাতে জৈব চাষের উপর জোর দেয় এবং রাসায়নিক কীটনাশকের উপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে। এই রূপান্তরকে সহজতর করার জন্য উদ্দীপনা অপরিহার্য।

    ৪. কৃষি প্রযুক্তির অগ্রগতি , কীটনাশক ব্যবহার কমাতে প্রতিশ্রুতিশীল সমাধান প্রদান করে। নির্ভুল চাষের কৌশল এবং কীটনাশক আরও দক্ষতার সাথে প্রয়োগ করার জন্য গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাক্টিস (GAP) এবং তার অডিট অত্যন্ত প্রয়োজন।

    ৫. গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে অবশ্যই এই জাতীয় প্রযুক্তির বিকাশকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং তাদের ব্যাপক গ্রহণ নিশ্চিত করতে নীতিনির্ধারক এবং শিল্প স্টেকহোল্ডারদের সাথে সহযোগিতা করতে হবে। গবেষণায় সরকারী এবং বেসরকারী বিনিয়োগ, এই উদ্ভাবনগুলিকে ত্বরান্বিত করতে এবং কৃষকদের কাছে তাদের এক্সেসযোগ্য করে তোলার জন্য গুরত্বপূর্ন।

    ৬. সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ, ভারতে কীটনাশকের অত্যধিক ব্যবহারের সমস্যা এবং সমাধানের জন্য, একটি সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

    ৭. এই আবেদনের প্রতি সরকারের প্রতিক্রিয়া দ্রুত এবং সিদ্ধান্তমূলক হওয়া উচিত। ব্যাপক সংস্কারের গতি আনতে হবে যাতে জাতির স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং কৃষিখাতের টেকসইতা (sustainability) নিশ্চিত করে।

    References:

    1. Food Safety Standards Authority of India, Ministry of Health and Family Welfare, Govt. of India.

    2. ScienceDirect , Current opinion in Environmental Science & Health, vol.4, August 2018.

    3. Daily Excelsior.com, 24 May, 2024.

    4. Can pesticides cause cancer ?, National Pesticide Information Center, [email protected]

    5. Pesticide and Cancer, Pesticide Action Network, North America, https://www.panna.org

    6. Good Agricultural Practices, Indian Council of Agricultural Research, Govt. of India,
    https://IIsrindor.icar.govt.in

    7. What is Good Agricultural Practices (GAP) ?, Safety Culture,
    https://safety culture.com

    8. GMP/GAP Audit, equinox labs,
    https://eqinoxlab.com

    9. FSSAI, Maxmum Residue Limits (MRLs) of Pesticides for Spices and Culinary Herbs.
    https://fssai.gov.in

    10. News : Drishti IAS, The Financial Express, DD News and National Herald.


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • আলোচনা | ১২ জুন ২০২৪ | ৪৫৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • অরিন | 2404:4404:1732:e000:c53a:843f:7f92:917e | ১২ জুন ২০২৪ ১১:২৭533054
  • লেখাটি সময়োচিত এবং  গুরুত্বপূর্ণ, তবে কতগুলো ব্যাপার বলার ছিল:
     
    ১) "পেস্টিসাইড যদি কর্সিনোজেনিক হয় তাহলে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে । এক্ষেত্রে ট্রায়াল ডেটা সংগ্রহ করার সাথে সাথে যে সমস্ত টক্সিকলজিকাল এবং রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট স্টাডি করা হয় তার সাথে ক্যানসার রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট ও গবেষণা কিভাবে এবং কতটা গুরুত্বের সঙ্গে হয় তা জনসমক্ষে আনা দরকার। এই সমস্ত স্টাডি FSSAI , পেষ্টিসাইড প্রস্তুতকারকদের উপর নির্ভর না করে, দেশের প্রতিষ্ঠিত গবেষণাগুলিতে, কম করে ৩ টে গবেষণাগারে, নিজ দায়িত্বে করা উচিত।"
     
     এই ধরণের স্টাডি মানুষের ওপর করা যাবে না, তার নীতিগত কারন রয়েছে কারণ, কিছু মানুষকে পেস্টিসাইড দিয়ে দেখা তাদের মধ্যে ক্যান্সার হয় কি না এরকম ধরণের গবেষণা তো করা যাবে না, সেক্ষেত্রে প্রাণীদের ওপর করতে  হবে, তবে সব প্রাণীতে  যে মানুষের সব অসুখ হবে তও নয়, এবং পশুর ক্যান্সার হচ্ছে মানে যে মানুষের ক্যান্সার হবে তাও নয় । বিশেষ করে যেহেতু কোন সময়ে ক্যান্সার শুরু হয়েছে শরীরে ও কত ডোজে ক্যান্সার এর প্রথম সূত্রপাত সে সমস্ত বিষয় জানা সম্ভব নয়, তাই ক্যান্সার এর ক্ষেত্রে যেটা ধরা হয়, তাকে বলে slope factor , এবং সেই slope  factor  এর সঙ্গে এখন কতটা পেস্টিসাইড শরীরে প্রবেশ করছে তার নিরিখে মাপা হয়, এবং এক্ষেত্রে ধরা যাক দীর্ঘ দিন ধরে পেস্টিসাইড গ্রহণ করা হয়েছে ধরে নিতে হবে । ব্যাপারটা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও জটিল। আমরা যতটুকু জানি, ভারতে চাল বা গমে chlorpyrios নাম একটি কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, যার থেকে ক্যান্সার হোক না হোক, নানারকম স্নায়ুতন্ত্রগত অসুখ হতে পারে, এবং শিশু জন্মগত অসুখ হতে পারে। এ বিষয়ে জনমত জাগরুক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে ।
     
    ২) "MRL দশগুণ বেড়ে যাওয়া অর্থাৎ 0.1 mg/kg হওয়াটাকে অনেকেই লিমিট রিল্যাক্সড হল বলে মনে করছেন। ফলে গুরুতর স্বাস্থের উপর প্রভাব পড়তে পারে"
     
    ব্যাপারটা হয়তো ঠিক ঐরকম নয়, যেটা হতে পারে খাদ্য ওজনপ্রতি রেসিডিউ ১০ গুণ বাড়িয়ে দিলে যে সমস্যাটা হতে পারে, সেটা কে কতটা খাবারের সূত্রে কীটনাশক গ্রহণ করছে তার পরিমাপ এবং dose - response ডাটা থেকে প্রাপ্ত সংখ্যা থেকে প্রাপ্ত রেফারেন্স dose (Rfd ) বাড়িয়ে দিলে যেটা হতে পারে মানুষের অসুখের সম্ভাবনা কে লঘু করে দেখা হয় । প্রভাব স্বাস্থ্যের ওপর যত না, তার থেকেও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পলিসির ওপর পড়বে  তো বটেই । কেন বাড়ানো হলো তাই নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবশ্যই উচিত । 
  • শ্যামল দা | 106.215.91.167 | ১২ জুন ২০২৪ ২৩:৩১533080
  • Correction : " নীরব দর্শক" হবে না, হবে " নীরব ঘাতক"। দুঃখিত।
  • Kishore Ghosal | ১৩ জুন ২০২৪ ১১:২১533103
  • তথ্যভিত্তিক সুন্দর নিবন্ধ। 
     
    আমার অনুরোধ এরকম আরো কিছু লিখুন না - যেমন নানারকম health supplement /drinks   এবং junk foods  নিয়ে। কোন বিশেষ ব্র্যাণ্ডনেম না দেওয়াই ভাল - তবে Overall একটা ধারণা।
     
    আজকাল গুগ্ল-বাবার মাধ্যমে অনেক তথ্য পাওয়া যায় - কিন্তু সেগুলো এতই বিভ্রান্তিজনক - কে সত্যি বলছে বা কে মিথ্যে বলছে বুঝে ওঠা দায়। 
      
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন