এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  প্রবন্ধ

  • ‘আমরা আর তোমরা’র গল্পঃ একটি মিঠেকড়া আলাপন

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    প্রবন্ধ | ২৯ জানুয়ারি ২০২৪ | ১৯৫৯ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (৬ জন)
  • ‘আমরা আর তোমরা’র গল্পঃ একটি মিঠেকড়া আলাপন
     ওরা থাকে ওধারে
    আমরা-ওরা এই শব্দযুগলের ধারণাটি অনেক পুরনো। ছোটবেলা থেকেই শিখে ফেলি--ওরা খারাপ, ওদের সঙ্গে খেলতে যাবি না। হ্যাঁ, বড়রা শিখিয়ে দেয়। এখন বড় হয়ে গিয়েও রেহাই নেই। আমার থেকে আরও বড়রা শেখাচ্ছেনঃ
    ‘আমরা ভাল লক্ষী ছেলে,  
    তোমরা ভারি বিশ্রী,
    তোমরা খাবে নিমের পাঁচন,
    আমরা খাব মিশ্রী।
     খেয়াল হয়, বুড়ো হয়েছি। তাই মাথায় নানান চিন্তা।
      বিদেশ থেকে আসা এক ছোটবেলার বন্ধুকে ধরলাম।
       আচ্ছা, আমরা মানে কী? আমরা বলতে ঠিক কাদের বোঝায়?  
    -এটা কোন কথা হল? আমরা মানে আমরা। মানে যারা একইরকম। আর ওরা মানে যারা আমাদের মত নয়, অন্যরকম।
       কোন মাপকাঠিতে এক? লম্বায়, গায়ের রঙে? নাকি ভাষায়? অথবা ধর্মে?
    --সবগুলোই মাপার একক হতে পারে, অবস্থা বুঝে।
    বুঝলাম না।
    --যখন যে মাপকাঠিতে যাদের সঙ্গে মেলে, তারা হবে ‘আমরা’। যেমন, স্বদেশ আর বিদেশ। স্বদেশের লোকজন আমার জন্যে ‘আমরা’। আর বিদেশের লোকজন আমার চোখে ‘ওরা’। বিদেশ যাত্রার জন্যে ইমিগ্রেশন লাইনে দাঁড়ালে যাদের একই দেশের পাসপোর্ট আছে তারা হল ‘আমরা’। যারা ‘আমরা’ নয়, তারা সবাই ‘ওরা’।  
    আবার যাদের আমেরিকান ভিসা আছে , তারা একধরণের ‘আমরা’। আবার যাদের শেনগেন ভিসা, তারা অন্যধরণের ‘আমরা’। যেমন আমেরিকানদের জন্যে সমস্ত আমেরিকান নাগরিক ‘আমরা’ আর বাকি সবাই ‘ওরা’।  
    তাই ? তাহলে ওদের দেশে সাদা মানুষ কালো মানুষ সবাই ওদের জন্যে ‘আমরা’, একই আইন, একই ব্যবহার।
    --সে আর বলতে!
    তাহলে মাঝে মধ্যেই কালোদের প্রতি আমেরিকান পুলিশের ব্যবহার আইন না মেনে বর্বরতার মাত্রা ছাড়ায় কেন? ‘ব্ল্যাক লাইভস্‌ ম্যাটার’ আন্দোলনে লাখে লাখে কালো মানুষদের পথে নামতে হয় কেন?
    --সেটাই তো কথা। তখন বুঝতে হবে অবস্থা বিশেষে আমেরিকান পুলিশের চোখে সমস্ত সাদা আমেরিকান ‘আমরা’ হয়ে গেছল, আর ‘কালো’রা ‘ওরা’।
      তাই বলে কালো আমেরিকানকে অমন করে মেরে ফেলতে হবে? ও যে বারবার বলছিল—শ্বাস নিতে পারছি না!  
    --সেটাই স্বাভাবিক। কারণ, ‘আমাদের’ জন্যে আছে আদর ভালোবাসা প্রাণের টান। আর ‘ওদের’ জন্যে বিরক্তি, তাচ্ছিল্য ও ঘৃণা।
    দেখ, রবীন্দ্রনাথ তাঁর বাংলা ব্যাকরণের বইয়ে দুটো প্রত্যয়ের – টি এবং টা—ফারাক বোঝাতে গিয়ে উদাহরণ দিয়েছেন। ধর, দুটো বাচ্চা উঠোনে খেলছে। কিন্তু আমাদের চোখেঃ
    মোদের বাড়ির ছেলেটি,
    নাচে যেন ঠাকুরটি।
    ওদের বাড়ির ছেলেটা,
    লাফায় যেন বাঁদরটা।
    বুঝলাম, কিন্তু এই একরকম আমরা ভেঙে অন্যরকম আমরা হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা ঠিক কেমন যেন লাগছে। চীনের বিরুদ্ধে আমেরিকার সব নাগরিক ছিল ‘আমরা’। আবার ঘরের মধ্যে সাদা আমেরিকান ‘আমরা’  থাকল, কিন্তু ‘কালো’ আমেরিকান হঠাৎ ‘ওরা’ হয়ে গেল। আবার গত শতাব্দীর সত্তরের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রতিবাদে একই আমেরিকার নাগরিক সমাজের  ভেতর ‘আমরা’ ‘ওরা’ গজিয়ে উঠল!
    - না বোঝার কী আছে। যেমন বোম্বাই বা কর্ণাটকের বিরুদ্ধে রণজি ক্রিকেটে সব বাঙালী এককাট্টা। তখন ‘আমরা বাঙালী’। কিন্তু ডার্বি ম্যাচে বাঙালদের জন্যে ইস্টবেঙ্গল হল ‘আমরা’ আর মোহনবাগান হল ‘ওরা’। আর ঘটিদের জন্যে ‘মোহনবাগান’ হল ‘আমরা’, ইস্টবেঙ্গল  ‘ওরা’। নিজেদের ঘরের মধ্যে বাপের বাড়ির লোকজন হল আমরা আর শ্বশুরবাড়ির সবাই ‘ওরা’ বা অপর। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় এতদিন ধরে পাশাপাশি থাকা ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক এক পলকে ‘আমরা’ থেকে ‘ওরা’ হয়ে পরস্পর বিষাক্ত নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করে।
    আরে অন্যে পরে কা কথা, সাম্যবাদের আদর্শে দীক্ষিত নেতাও একসময় "আমরা ওরা"র কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন।বলে ওঠেন, "আমরা ২৩৫, ওরা ৩০।
     
    বুঝেছি, এই বিভেদের ব্যাপারটা আবহমান কাল থেকে রয়েছে।  ঋগবেদের সময়ে বহিরাগত বিজয়ী আর্যরা এদেশের স্থানীয় অধিবাসীদের অনার্য, দাস, দস্যু বলে নাক সিঁটকেছেন। এমনকি পণি বলে তৎকালীন বণিক গোষ্ঠীও এই ঘৃণার আক্রমণ থেকে বাদ পড়েন নি।
    --সমগ্র খৃষ্টান ইউরোপে ইহুদীরা ব্রাত্য, এবং নির্যাতন ও নির্বাসনের শিকার।
    ওদের বিরুদ্ধে এই জাতক্রোধের কারণ --আরে, ওরাই তো আমাদের যীশুখৃষ্টকে ক্রুশে চড়িয়েছিল—গোছের ভাবনা।      
     
    সে তো কোন যুগে; তার জন্যে দু’হাজার বছর ধরে তাদের প্রায়শ্চিত্ত করে যেতে হবে? এটা কোন কথা হল!
    --আচ্ছা! এতে আশ্চর্য হওয়ার কী আছে?  আমাদের দেশেও কি মুসলমানেরা ‘অপর’ নয়? ওদেরও কি বাইরে থেকে আসা বিদেশি বর্বর আক্রমণকারী বলা হয় না?
    বটেই তো। কয়েকশ’ বছর আগে মোগল পাঠানের দল মন্দির ভেঙেছে, লুঠতরাজ করেছে এবং হত্যা ও ধর্ষণ করেছে বলে আজ সব মুসলমানকে সন্দেহের চোখে দেখা হয় না? ওদের থেকে প্রতিপদে  দেশের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার প্রমাণ চাওয়া হয় না? কথায় কথায় – ‘মিঞা তুই পাকিস্তানে যা’—বলা হয় না!
     
    --কথাটা পুরোপুরি সত্যি নয়। আসলে ওরা ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ করালো এবং যার ফলে প্রচুর মানুষ প্রাণ, সম্মান এবং ভিটেমাটি হারিয়ে পথে নামল। কাজেই সাধু সাবধান!
    এরা যেখানে সংখ্যালঘু সেখানে মাথা নীচু করে থাকে। কিন্তু কোন এলাকায় বা জেলায় ঘেট্টো বানাতে পারলেই ওদের হাবভাব বদলে গিয়ে সিঙ্ঘি অবতার হয়ে ওঠে। ওদের বাড়তে দিলে ফের দেশভাগ হবে, সেটা কি ভাল কথা? তুমি সেকুলার সেকুলার বলে গলা ফাটাও আর এদিকে ধর্মীয় উন্মাদদের দেশ ভাগ করাকে জনগণের ইচ্ছে বলে সমর্থন কর!  

    আর এরা কি বহিরাগত? লুটেরা?  
    --অবশ্যই। ওরা কি বাইরে থেকে আসেনি? মহম্মদ বিন কাসিম অষ্টম শতাব্দীতে সিন্ধু নদের ওপার থেকে এসে হিন্দু রাজা দাহিরকে পরাজিত করে ভারতে ঢোকেনি? আর পঞ্চদশ শতাব্দীতে বাবর? ও কি উজবেকিস্তানের ফরগণা উপত্যকার লোক নয়?

    তাহলে আমার একটা প্রশ্ন; এই যে তুমি ভারতের আই আই টি থেকে যোগ্যতার সঙ্গে পাশ করে আমেরিকায় গিয়ে সিলিকন ভ্যালিতে ভাল চাকরি করছ, ওদেশে বাড়ি গাড়ি হয়েছে, সম্মানের সংগে সপরিবারে দিব্যি আছ— তুমি কি বহিরাগত লুটেরা?
     কেন নও? তুমি তো আমেরিকার বাইরে থেকে এসে ক্যালিফোর্ণিয়া থেকে ডলার কামিয়ে ভারতের ব্যাংকে পাচার করে আমেরিকার তুলনায় বেশি ইন্টারেস্ট কামাচ্ছ? তোমারও লাভ, ভারতেরও লাভ। এদেশের বিদেশি মুদ্রা ভান্ডার তোমার মত লোকেদের জন্যে ই ফুলে ফেঁপে উঠছে।
    কিন্তু একজন নিম্নবিত্ত আমেরিকানের জায়গা থেকে দেখ। সে দেখছে তুমি তার রোজগারে ভাগ বসিয়েছ। কোম্পানি কম টাকায় তোমাকে আউটসোর্সিং করে একজন পড়াশুনো করা আমেরিকান যুবকের পাতে জল ঢেলে দিয়েছে।  

    --বাজে কথা। আমি এখন ওদেশের নাগরিক, রীতিমত ট্যাক্স দিই। আমার এবং আমাদের মত অনেক প্রবাসী  ভারতীয়র টাকায়, সে যত ভগ্নাংশই হোক, ওদেশের রাষ্ট্র পরিচালিত হয়; অনেক সামাজিক কল্যাণের কাজ হয়। আর আমার কারিগরি দক্ষতা আজ আমেরিকার মত দেশের উন্নয়ন এবং সম্পদ বৃদ্ধিতে সহায়ক। আমি কেন লুটেরা হব? লুটেরা হল ওরা যারা একদেশের সম্পদ ছলেবলে কৌশলে, বিশেষ করে রাষ্ট্র ক্ষমতার পেশিবলে, নিজের দেশে নিয়ে যায়।
      তাহলে দুটো কথা।  
    এক, তোমার  সংজ্ঞা মানলে বলতে হয়--  লুটেরা হল ইংরেজ; মুসলমান বা তুর্কিরা নয়। বাবর হোক বা ইব্রাহিম লোদী, এদেশ থেকে সোনাদানা, ধনসম্পদ, ময়ুর সিংহাসন ইংল্যান্ডে কে নিয়ে গেছে? ক্লাইভের সময়  থেকে প্রতি বছর ইংল্যাণ্ডে কর আদায়ের কত বড় হিস্যা ব্রিটেনে গেছে এবং ভারতের হস্তশিল্প ধ্বংস করে ওদেশের শিল্প বিপ্লবে সহায়ক হয়েছে। আর চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে দেশে দুর্ভিক্ষ ও প্রাণহানির খতিয়ান?
    --থামো, থামো। গজনীর সুলতানের সতেরোবার সোমনাথ আক্রমণ এবং সোনাদানা লুঠ করে নিজের দেশে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা ভুলে গেলে?

      দেখ, মহম্মদ ঘোরী নিশ্চয়ই লুঠেরা,  ও তো এদেশের ক্ষমতা দখল বা সাম্রাজ্য বিস্তার করতে আসেনি। কিন্তু কয়েকশ’ বছর ধরে যে সুলতানি এবং মোগল শাসন—তারা এদেশেই  রয়েছে। সম্পদ নিয়ে উজবেকিস্তান বা তুর্কমেনিস্তান চলে যায় নি তো!
    ওরা বরং এদেশের সম্পদ বৃদ্ধি করেছে। ভারতে মুঘল শাসনকালে (১৫২৬-১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দ) বিদেশি বাণিজ্য, কৃষির ও কর ব্যবস্থার উন্নতির ফলে দেশের জিডিপি বা গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট ছিল বিশ্বের অর্থনীতির ২৫.১% । সুবে বাংলা ছিল সাম্রাজ্যের  উন্নত কৃষি, জাহাজ নির্মাণ, রপ্তানি বাণিজ্যের সমন্বয়ে সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।[1] আর মুঘলেরা আকবরের সময় থেকে কৃষির উপর  ফসলের প্রায় ৫০% কর ধার্য করে এবং বাণিজ্যের জন্যে ব্যাপক যাতায়াত ব্যবস্থা, দেশজুড়ে বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে একই রৌপ্যমুদ্রার প্রচলন করে। তৎকালীন ভারতের  পেশোয়ার থেকে কলকাতা অবধি বিস্তৃত গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড দিল্লির মুসলিম শাসনের সময়ই ভাল ভাবে সংস্কার করা হয়[2]।  
    কিন্তু বৃটিশ সাম্রাজ্যের সময় ঔপনিবেশিক লুঠের ফলে ভারতে শিল্পের ভ্রুণ অবস্থা মার খায় এবং ওরা দেশের অর্থনীতিকে এমন ছিবড়ে করে দেয় যে ১৯৫২ নাগাদ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ভারতের জিডিপি ৩% হয়ে যায়। এই বিষয়ে অর্থনীতির কেম্ব্রিজ ইতিহাসবিদ অ্যাঙ্গাস ম্যাডিসনের গবেষণার সঙ্গে মনমোহন সিং সহমত।[3]
    --আরে জিডিপি  বেড়েছিল তো কি হয়েছে, ভারতের কৃষকদের অবস্থা কি ভাল হয়েছিল? ফসলের ৫০% খাজনা দিয়ে চাষির হাতে কী থাকে? মোগল সম্রাটরা বিলাসব্যসনে দিন কাটাতেন, স্মৃতিসৌধ, প্রাসাদ বানাতেন। তাজমহল বা লালকেল্লা দেখে কেউ তখনকার কৃষকদের অবস্থা বুঝতে পারবে?
     
    তাহলে ফের দুটো কথা বলতে হচ্ছে।
    এক, তখন চাষ করতে খরচ খুব কম হত, পরিশ্রমটাই ছিল আসল। কোন কেমিক্যাল সার বা পোকা মারার ওষুধ দেয়া হত না। বীজধান কিনতে হত না। তাই ৫০% খাজনা দিয়েও যা থাকত সেটা খুব কম নয়। আজকের সঙ্গে তুলনা কর।  
    এখন চাষের উপর আয়কর নেই। কিন্তু সমস্ত ইনপুট-- উচ্চফলনশীল বীজ, কেমিক্যাল সার, কীটনাশক কিনতে গেলে অপ্রত্যক্ষ কর বা জিএসটি,  সেচ কর, মজুরি, বাজারে বিক্রি করতে গাড়িভাড়া সব জুড়ে দেখলে চাষির মাঝে মধ্যে আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় নেই। তাই প্রতি বছর ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের দাবিতে বিভিন্ন রাজ্যের চাষিরা পথে নামে, একবছর ধরে পঞ্জাব, পশ্চিম উত্তর প্রদেশ ও রাজস্থানের চাষিরা রাজপথে ধর্নায় বসে।
    চাষির আয় দ্বিগুণ হওয়ার প্রতিশ্রুতি এখন আরেকটি জুমলা হয়ে গেছে।

    দুই, মানছি সম্রাটদের বিলাসব্যসন বা উঁচু মিনার দেখে চাষিদের অবস্থা বোঝা যাবে না। কিন্তু দিল্লীশ্বরদের ব্যাপারটাই ওই রকম-- স্মৃতিস্তম্ভ বানাবেই।
    এখন যে ১৮২ মিটার উঁচু স্ট্যাচু অফ ইউনিটি এবং নতুন সংসদ ভবনের সেন্ট্রাল ভিস্তা তৈরি হয়েছে তা দেখে কি কেউ আন্দাজ করতে পারবে যে আমাদের দেশের গত এক দশকে (২০১২-২১) তৈরি সম্পদের ৪০% মাত্র ১% লোকের কুক্ষিগত, ৫% ভারতীয়ের হাতে দেশের ৬০% সম্পদ;  আর সম্পদের মাত্র ৩% চুঁইয়ে চুঁইয়ে তলার ৫০% জনতার কাছে পৌঁছয়?[4]

       --বেশ, তুমি বলতে চাইছ যে আমাদের পুরনো দুর্দশার জন্যে দায়ী বৃটিশ, আমাদের রাগ মোগলদের ছেড়ে ওদের উপরই বেশি হওয়া উচিত।

    ঠিক তাই। অথচ, তোমাদের সাদা চামড়ার সায়েবদের নিয়ে কোন কথা নেই। কবে মোগল শাসন শেষ হয়ে গেছে। তারপর দুশো বছরের বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসন। যাতে ভালোর চেয়ে খারাপ বেশি হয়েছে। কিন্তু তোমরা ইতিহাসের চাকা পেছনে ঘুরিয়ে খামোখা প্রলাপ বকছ।
    --- আমরা তো জিডিপি নিয়েই খুশি। বলতে থাকি – ভারতের জিডিপি ৩ ট্রিলিয়ন হয়ে গেছে। শীগগিরই বিশ্বে চার নম্বর থেকে তিন নম্বর (জিডিপির হিসেবে) স্থান দখল করবে!
     
    হ্যাঁ,  তোমরা এখন গত এক দশকে ভারতের জিডিপি বৈশ্বিক জিডিপি’র ৮.৭% হয়ে গেছে বলে খুশিতে ডগমগ, যদিও চিনের ও আমেরিকার অনুপাত ১৮.২% এবং ১২.৪%।[5]
    কিন্তু যে কথাগুলো এড়িয়ে যাও তা হল--এত দশক পরেও আমাদের দেশের বেকারত্বের সূচক 7.33% [6] আর বিশ্ব ব্যাংকের রিপোর্ট বলছে গত এক দশক ধরে গড় সূচক হচ্ছে 7.83% ; অর্থাৎ কর্মক্ষম এবং কাজ করতে ইচ্ছুক জনসংখ্যার প্রায় সাড়ে সাত প্রতিশত লোক কাজের অভাবে বসে রয়েছে।
     শুধু এই নয়, গরীবের জন্যে এত ভাল ভাল কথা এত সব যোজনা সত্ত্বেও ২২.৯ কোটি গরীব মানুষ  আজ ভারতে  বাস করে। এই একটা ব্যাপারে আমরা এগিয়ে। বিশ্বের কোন দেশে এত বেশি গরীব থাকে না। কোভিড মহামারীর প্রকোপ কমার পরও একবছর ৮০ কোটি মানুষকে বিনে পয়সায় র‍্যাশন দেওয়া হয়েছে। মানে সরকার মেনে নিয়েছে যে ১৪০ কোটির ভারতবর্ষে ৫৬% লোক নিজের জন্যে দু’বেলা পেটভরে খাওয়ার জোগাড় করতে অক্ষম!
    এসব নিয়ে কোন চিন্তা নেই, খালি একে পাকিস্তান পাঠাও, তাকে পাকিস্তান পাঠাও! আর দেশের এই অবস্থার জন্যে নেহেরুকে দায়ী করা, ইংরেজকে নয়।

    --কিছুই বোঝ নি। ইংরেজ তো চলে গেছে। ওদের সঙ্গে ঝগড়া করতে কি ইংল্যাণ্ডে দৌড়তে থাকব? কিন্তু মুসলমানরা রয়ে গেছে। একশ’ ঊনচল্লিশ কোটি লোকের দেশে ১৯.৭ কোটি মুসলিম,  জনসংখ্যার ১৪.২%[7] , ভাবা যায়!  
      এটা আমার মুখের কথা নয়, সংসদে শ্রীমতী স্মৃতি ইরানী, অল্পসংখ্যক বিষয়ের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী একটি প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন।

    তাতে কী হল? ওদের এদেশের নাগরিক বলে মেনে নিতে বাধা কোথায়? তুমি যদি আজ আমেরিকায় গিয়ে গ্রীন কার্ড, পরে নাগরিকত্ব পেয়ে যেতে পার, তাহলে যারা দুই প্রজন্ম ধরে এই দেশে আছে, ভোট দিচ্ছে, চাকরি করছে, ব্যবসা করছে—ওদের মন থেকে স্বীকার করতে পারছ না কেন?
     

    --মূল প্রশ্নে ফিরে এস। আমরা এবং ওরা। ধর্মের ভিত্তিতে একটু চোখ খুলে দেখ। আমাদের ভারত তিন টুকরো হল—দুপাশে দুই পাকিস্তান, মাঝখানে ভারত। ওদের ধর্ম আরবের মরুভূমির। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আলাদা।  আমাদের সিন্ধু -গঙ্গা-যমুনার তীরে গড়ে ওঠা সভ্যতা। তেলে-জলে মিশ খায় না।

    উঃ এত বাজে বকতেও পারে। তোমার সিন্ধু নদ ও তার অববাহিকার বেশির ভাগটাই এখন পাকিস্তানের অংশ। মহাভারতের গান্ধার এখন কান্দাহার, পুরুষপুর আজ পেশোয়ার। এমনকি মহেঞ্জোদারো-হরপ্পা-কালিবংগান ভারতে নয়, পাকিস্তানে।
    তাহলে সেই ঐতিহ্য রক্ষার খাতিরে মিলেমিশে থাকা যায় না? মারামারি করতেই হবে?

    --তাই তো বলছি। যদি ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হয়ে ভারত -পাকিস্তান হল তাহলে এপারের বৃহৎ অংশের নাম হিন্দুস্থান হবে না কেন? আশি প্রতিশত বড়,  নাকি ১৪% ? বহুসংখ্যকের মত গুরুত্ব পাবে না – এটা  কেমন গণতন্ত্র?

    উফ, এবার একটু আমার কথাটা শোন।
    বর্তমানের পাকিস্তান, অর্থাৎ পশ্চিম পাকিস্তানের মুসলিম জনসংখ্যা ১৯৪৭ সালে ছিল ৩.২৫ কোটি আর ২০০৬-০৭ সালে সেটা হয়েছে ১৫.৭ কোটি। আর ২০১৭ সালে ২০ কোটি (৯৬.৫%) এবং হিন্দু ৪৪ লক্ষ (২.১৪%)  (সূত্রঃ উইকিপিডিয়া)  
    ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ১৯৫১ সালের জনগণনা অনুয়ায়ী ছিল ৩.৫৪ কোটি (১০%), ২০১১ সালে ১৭.২ কোটি, এখন ২০২৩ সালে অনুমানিত ১৯.৭ কোটি (১৪%)।
    মানে যে মুসলমানেরা ভারতে রয়ে গেল তারা পশ্চিম পাকিস্তানের মুসলিম জনতার চেয়ে সংখ্যায় কম ছিল না। আর এখনও প্রায় সমান সমান।
    অর্থাৎ যারা  স্বেচ্ছায় দাঙ্গার আতংকের মাঝেও সাহস করে ভারতে রয়ে গেলেন, তারা জিন্নার দ্বিজাতিতত্ত্বকে অস্বীকার করলেন এবং এই দেশের মাটিকে ভালবাসার প্রমাণ দিলেন। এঁদের একাংশ বিজ্ঞান সাহিত্য সঙ্গীত ও শিল্পকলার চর্চায় ভারতের মুখোজ্বল করলেন। ক্রিকেট, ফুটবল, হকির কথা ছেড়েই দিলাম। তারপরেও অবিশ্বাস?
    যে মেষপালক কারগিল এলাকায় পাকিস্তানি অনুপ্রবেশের খবর দিল তার ধর্মীয় পরিচয় কী ছিল? ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানের প্যাটন ট্যাংকের ঢাকনা খুলে ভেতরে গ্রেনেড ফেলে আত্মঘাতী প্রতিরোধে রুখে যে সৈনিক রুখে দাঁড়ালেন তার নাম হামিদ।  

    --দূর! ওসব বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রমী উদাহরণ দিয়ে কোন লাভ নেই। ‘ওরা’ ওরাই থাকবে, ‘আমরা’ হবে না। আমরা পূবমুখো, সুর্য তো পূবে ওঠে, ওরা নামাজ পড়ে পশ্চিমে মুখ করে। আমরা কীভাবে হাত ধুই আর ওরা কীভাবে ‘ওজু’ করার সময় হাত ধোয় দেখেছ? একেবারে উলটো।
     মাইকেল ঠিক বুঝেছিলেন। তাই ‘বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকে ভক্তপ্রসাদের মুখ দিয়ে বলিয়েছেন—তেঁতুল নয় মিষ্টি, নেড়ে নয় ইষ্টি!
    তাই বলছি, যদি জনসংখ্যা অদলাবদলি হত, তাহলে সব মুসলমান ওপারে, সব হিন্দু এপারে। ব্যস, কোন দাঙ্গা হত না। কেমন? ঠিক বলেছি না?

    দেখছি, তোমার মাথাটা একেবারে গেছে। যদি ধরেও নেই যে ওদের সঙ্গে আমাদের ফারাকটা খুব বেশি তাহলেও কি পাশাপাশি থাকা যায় না? ওরা ওদের মত করে থাকবে আর আমরা আমাদের মত ?
    অনেকক্ষেত্রেই তো আমরা আজকাল ফ্ল্যাট বাড়িতে একে অন্যের ঘরে উঁকি মারি না,  অনেক ক্ষেত্রে নাম পরিচয়ও জানি না।
    না হয় ওদের ঘরে ঈদের দিন বিরিয়ানি বা ফিরনি খেতে গেলাম না, কোলাকুলি করলাম না। ওরাও বিজয়াদশমীর দিন বা দোলের দিন আমাদের বাড়ি এল না। তাতেও পাশাপাশি বা এক পাড়ায় কেন থাকা যাবে না? ওদের বাড়ি ভাড়া দেওয়া যাবে না? ওদের দোকান থেকে জিনিসপত্তর কেনা চলবে না? ড্রাইভার বা কাজের মাসি রাখার সময় তার ধর্ম পরিচয় বড় হয়ে উঠবে!

    --উপায় নেই। একটু গৈরিক রাষ্ট্রবাদ বোঝার চেষ্টা কর। ভারতে শিক্ষার অভাব এবং আর্থিক পশ্চাদপদতার বিচারে  সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায় কোনটি সে নিয়ে কারও সন্দেহ নেই। সবচেয়ে বেশি বেকার সবচেয়ে বেশি গরীব কোন সম্প্রদায়ে?  সাচ্চার কমিটির রিপোর্ট যথেষ্ট সোচ্চার।  তাই তারা যদি এদেশ ছেড়ে চলে যায় তাহলে এক ঝটকায় আমাদের দেশ দারিদ্র্যের সূচকে বেশ কিছুটা ওপরে উঠবে এবং আমাদের মাথা পিছু জিডিপির হারও অনেক বেশি হয়ে যাবে।  তারপর ভারত নিজে নিজেই হিন্দুরাষ্ট্র হয়ে যাবে। প্রায় হয়েই গেছে, তোমাদের মতন কয়েকজনকে বোঝানো বাকি, আর হাতে গোণা ক’জন না বুঝলেও কিছু আসে যায় না।
    আর মানছি, সব মুসলমান টেররিস্ট নয়, কিন্তু গোটা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি টেররিস্ট কোন ধর্মের লোক? বোকো -হারাম এবং আইসিস কাদের সংগঠন? কাজেই যে কাজটা অসমাপ্ত রয়ে গেছে, সেটা আমাদের পুরো করতে হবে।

    সেই কাজটা কী?
    --“আর্য সনাতন বঙ্গভূমিতে রাখিব না আর যবন চিহ্ন”।

    তাই বাবরি মসসজিদের পর ভারতে আরও পাঁচশ মসজিদ ভাঙা হয়েছে?[8] এত ঘৃণা কেন?
    -- মানুষ যুক্তি মেনে বিশ্লেষণ করে কাজ করে না। সে প্রেরণা পায় তার  মানস জগতে মৌলিক আবেগের (basic emotion) তাড়নায়।  যেমন, প্রেম, ভয়, আনন্দ, ঘৃণা এইসব।
    তোমরা ঘৃণার শক্তি চেন না। প্রেম-ভালবাসা নয়, ঘৃণাই মানুষকে শক্তি যোগায় লড়াইয়ের ময়দানে শত্রুর মাথাটা ধড় থেকে এক কোপে নামিয়ে দিতে। সামনের লোকটাকে তুমি যদি মানুষ ভাব, তাহলে মারতে পারবে না, হাত কাঁপবে। আর যদি ওকে ইঁদুর, আরশোলা, কেঁচো বা সাপ ভাবতে পার তবে অনায়াসে মারবে। নিজের বাঁচার তাগিদে অপরকে মেরে ফেলবে।

     হ্যাঁ, বোকো-হারাম, আইসিস বা তালিবানের মত সংগঠনের মানস জগতেও ঘৃণা স্বরাট।  ঠিকই বলেছ, তীব্র ঘৃণা মস্তিষ্কের কোষে কোষে শরীরের প্রতিটি রক্তকণায় দৌড়ে না বেড়ালে কোন বানু’র তিন বছরের বাচ্চাকে আছড়ে মেরে ফেলা যায় না, সেই গর্ভবতী নারীর সামনে তার পরিবারের অধিকাংশকে হত্যা করে তাকে গণধর্ষণ করা যায় না। ঠিক বললাম?   
    তা’ তোমার কল্পনার হিন্দুরাষ্ট্রে মুসলমানের জায়গা হবে না?

    --মুসলমানেরা থাকতে পারে, যদি তারা পোশাকে আশাকে চলা ফেরায়, খাওয়াদাওয়ায় আচরণে বেশি মুসলমানপনা না দেখায়। অর্থাৎ ওদের মুসলমান বলে সহজে চেনা না যায়। ওরা থাকবে আমাদের দয়া ও শুভেচ্ছার ভরসায়।

    বুঝতে পেরেছি, কানহাইয়া কুমারেরা জামিন পেয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে, কিন্তু উমর খালিদেরা বিনা বিচারে জেলের ভেতর থাকবে। মায়া কোদনানি, বাবু বজরঙ্গী, বিট্টু বজরঙ্গীরা প্রথমে জামিন তারপর প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে যাবে, কিন্তু ৮৩ বছরের ফাদার স্ট্যান স্বামী জেলের ভেতর মারা পড়বে।
    কিন্তু এখনও বুঝলাম না এত বছর পরেও ভারতে ‘হিন্দু বিপন্ন’ শ্লোগানের মানে কী?

    --দুটো মানে। ভেতরের সত্যি হল ‘আমরা’ যদি ‘বিপন্ন’ না হই, তাহলে ‘ওরা’ আমাদের শত্রু ভাবব কেন? ওদের ঘৃণা করব কী করে?
    আর আপাতদৃষ্টিতে ওরা জনসংখ্যায় আমাদের ছাড়িয়ে গিয়ে একদিন আমাদের ‘অপর’ করে দিতে পারে এই আশংকা কী নেই? এবার তোমাদের মত মানুষজনকেও বেছে নিতে হবে তুমি কাদের সঙ্গে, কী বল।
    --একটাই কথা। ঘৃণা শেষ কথা নয়, কিন্তু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অ্যাসিডের মত, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তোমরা ঘৃণা দিয়ে শুরু করেছ, কিন্তু শেষ অন্য কেউ করবে,--এখনও মণিপুর জ্বলছে।
    ======================================================

     

    [1] Sanjay Subrahmanyam (1998). Money and the Market in India, 1100–1700. Oxford University Press.  এবং Roy, Tirthankar (2012). "Consumption of Cotton Cloth in India, 1795–1940". Australian Economic History Review52 (1):  

    [2] Roy, Tirthankar (2012). "Consumption of Cotton Cloth in India, 1795–1940". Australian Economic History Review52 (1): 61–84. 

    [3] Manmohan Singh, Of Oxford, economics, empire, and freedom , The Hindu, July 2005.

    [4] The Indian Express, 7 April, 2023.

    [5] https://www.worldeconomics.com London.

    [6] Global Economy.com

    [7] ইকনমিক টাইমস্‌, ২১ জুলাই , ২০২৩।

    [8] The Siasat Daily, 6 December, 2020

     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • প্রবন্ধ | ২৯ জানুয়ারি ২০২৪ | ১৯৫৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২২:৩৩528203
  • হা হা আরে অরিন, রঞ্জনদা ঠিকই বুঝবেন। smiley
    এটা সম্ভবত অটোকারেক্ট। কিন্তু হয়েছে তো হয়েছে 'মহাবজ্জাত' কোম্পানির নামই। laugh
    আপনি চাপ নেবেন না। 
  • Ranjan Roy | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২২:৩৫528204
  • ডিসি
    আপেলের উদাহরণ একটা প্লেস হোল্ডার মাত্র। 
    পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকলেও ফীচার ও ক্যারেক্টার পরিবর্তন!
    যদি tn সময়ে ব্রহ্মাণ্ডের ক্যারেক্টার C 2 হয়, এবং মানুষের জ্ঞানের পরিধি C 1 থাকে,  তাহলে যদি ভবিষ্যতের কোন t(n+1) সময়বিন্দুতে মানুষের জ্ঞান C 2 হতেই পারে, কিন্তু ব্রহ্মাণ্ড তো dynamic ,  তাই তার character  C 3 হয়ে যাবে.  এই  খুড়োর কলের সঙ্গে দৌড়োতে থাকা চলতেই থাকবে।
     
    উদাহরণ,  ভাইরাসের ভ্যাকসিন। প্রতিনিয়ত তার  নতুন মিউটেশন হবে আর ভ্যাকসিনও বদলাবে।
    ইনফ্লুয়েঞ্জার influvac !
    ক্লু হচ্ছে dynamic universe concept. 
    প্রকৃতির পরিবর্তন আগে হবে, তবে তো মানুষ  সেই পরিবর্তন টের পেয়ে তারপর তাকে কব্জা করার চেষ্টা করবে।
    যদি এমন একটা অবস্থা ধরা হয় যে মানুষ প্রকৃতির সব রহস্য জেনে গেছে, কিছুই আর অজানা নেই, তাহলে মানতে হবে ব্রহ্মাণ্ড স্থির,  গতিশীল নয়।
    অর্থাত,  আমরা ফার্স্ট প্রেমিসটাই বদলে দিলাম।
    অতএব, ওই বিতর্কিত স্টেটমেন্টটি AXIOMATIC. 
  • Arindam Basu | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২৩:১০528205
  • "এটা সম্ভবত অটোকারেক্ট। কিন্তু হয়েছে তো হয়েছে 'মহাবজ্জাত' কোম্পানির নামই। laugh
    আপনি চাপ নেবেন না"
     
    জানি তো । চাপের কোন প্রশ্নই নেই। 
    Gnu আর মাইক্রোসফটের সহাবস্থান দেখে মনে হল, :-)
     
     
  • Arindam Basu | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২৩:৩৪528206
  • "আপেলের উদাহরণ একটা প্লেস হোল্ডার মাত্র। "
     
    এক্ষেত্রে যেটা হচ্ছে X আপেলের 'বাইরে' থেকে আপেলটাকে খেতে চাইছে। কিন্তু ধরা যাক X সে আপেলের একটা অংশবিশেষ, সেক্ষেত্রে সে কখনোই আপেলটিকে পুরোপুরি খেয়ে উঠতে পারবে না, আপেলটা স্থাবর হলেও পারবে না।
     
    এ সেই Zeno's paradox এর কেস, 
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:e577:3824:9947:d3a7 | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২৩:৪০528207
  • রঞ্জনদা, আপেল প্লেসহোল্ডার, সে তো বুঝেছি! আমি বলছি যে ইউনিভার্সের টোটাল কোয়ান্টাম ইনফর্মেশান কন্স্ট্যান্ট। ইউনিভার্স যতোই বড়ো হোক না কেন, সেটা সমানই থাকবে। (অবশ্যই, এটা একটা হাইপোথিসিস)। 
  • Arindam Basu | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২৩:৫৭528208
  • ডিসি, আমি যতটুকু বুঝলাম (অবশ্য ভুল হতে পারে, সেক্ষেত্রে শুধরে দিলে বাধিত হব, রঞ্জনবাবু, ডিসি, পলিটিশিয়ান, তিনজনকেই অনুরোধ), রঞ্জনবাবুর বক্তব্যটি সম্ভবত entropy (?Shannon Entropy) কেন্দ্রিক, ইউনিভারসের knowledge এর state নিয়ে হয়ত নয়। 
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:e577:3824:9947:d3a7 | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০০:০৮528209
  • এনট্রোপি নিয়ে যদি হয় তাহলে বোধায় মানেটা খুব একটা পরিষ্কার হচ্ছে না :-) ইউনিভার্সের এনট্রোপি সবসময়েই বাড়ে। 
     
    তবে যাই হোক, আমরা আবার আগের আলোচনায় ফিরে যেতে পারি। বিশেষ করে, ডুয়ালিজম আর ফিজিকালিজম এর আলোচনায় একটা গুরুত্বপূর্ণ আমরা আর ওরা বাদ পড়ে গেছে, ফ্রি উইল আর ডিটারমিনিজম। সাধারনত, ডুয়ালিজম এর সাথে ফ্রি উইল আর ফিজিকালিজম এর সাথে ডিটারমিনিজম এর অ্যাসোসিয়েশান দেখা যায়। এটা নিয়ে অরিন্দমবাবু, পলিটিশিয়ান, রঞ্জনদা আর অন্যান্যরা কিছু লিখতে পারেন।
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:e577:3824:9947:d3a7 | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০০:১৬528210
  • ডিটারমিনিজম নিয়ে একটা ভিডিওঃ 
     
  • Arindam Basu | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০২:৫৫528212
  • ডিটারমিনিজম বলতে গেলে আবার সেই হীরেনবাবু আর রঞ্জনবাবুর ঈশ্বর ছক্কা নিয়ে খেলেন না র কথায় ফেরত আসতে হয়। ছক্কা নিয়ে না খেললে প্রোবাবিলিস্টিক ধ্যান ধারণা বাতিল করে ডিটারমিনিসটিক হতে হয়, মানে আপনার আজকের বা কালকের যাবতীয় কিছু ১৩ বিলিয়ন বছর আগে ঘটে গেছে, ঐ গীতার সারার্থ, মানুষ নিমিত্তমাত্র, :-)
    সে না হয় হল, তাহলেও কার্য এবং কারণের পারস্পরিকতার একটা ব্যাপার থাকে কিনা। 
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:ccfb:6dd5:7a6d:4c7 | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৩:১৭528213
  • প্রব্যাবিলিটি দিয়েও সমস্যার সমাধান হয় না। একটা স্টেটের বদলে প্রব্যাবিলিটি অনুযায়ী একাধিক স্টেট আসে। কর্মফল নাস্তি।
  • Ranjan Roy | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৪:৫৬528214
  • অবশ্যই খানিকটা Zenoর motion নিয়ে paradox এর মতো. কিন্তু অরিন্ যেটা বললেন -- মানুষ বিশ্বের বাইরে নয়  , ভেতরে  অবস্থান করছে এবং entropy.
     
    আমি যোগ করতে চাইছি বিশ্ব प्रकृति নিয়ে মানুষের জ্ঞানের সীমা, যা সময়ের সঙ্গে প্রসারিত হতে থাকবে,  মানুষের অস্তিত্ব যতদিন থাকবে ততদিন.  কিন্তু যখনই মানুষ ভাববে সব জেনেছি তখনই সে প্রকৃতির রূপের নতুন রহস্যের মুখোমুখি হবে। 
     
    Determinism  and Free Will:
    আমার অবস্থান হোল দুটোর কোনটাই absolute নয়. 
    মানুষ তার সময় এবং প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত.  কিন্তু অন্ধ  হয়ে অসহায় আত্মসমর্পণ করার বদলে যতোটুকু প্রকৃতির নিয়ম বুঝতে পারবে, আবিষ্কার করবে, ততই সে স্বাধীন হবে। 
    কেননা সে প্রকৃতির নিয়মকে  জেনে তার সাহায্য নিয়েই প্রকৃতিকে আংশিক নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, নতুন সৃষ্টির ক্ষমতা অর্জন করবে। যেমন জলের ধর্মকে জেনে বাঁধ দিয়ে  বন্যা রোধ করা।
     
    তাহলে Determinism ও  free will এর মধ্যে সম্পর্ক কী? এদের সীমানা কী?
     
    ধরুন খুঁটিতে বাঁধা এক গোরু ঘাস খাচ্ছে। তার চরে বেড়ানোর এলাকা কতটা? 
    সেটা ওই খুঁটিকে কেন্দ্র আর দড়ির দৈর্ঘ্যকে ব্যাসার্ধ করে বৃত্ত আঁকলে তার ক্ষেত্রফল যতো ,  ওইটুকু Determinism.
     
    কিন্তু ওই নির্ধারিত বৃত্তের মধ্যেই ঘুরতে ফিরতে গোরু তার চলার কতরকম নকশা আঁকতে পারে? অসীম সংখ্যক। 
    ওইটুকু তার free will.
    অর্থাৎ,  দুটোই আপেক্ষিক।
    অন্ধ Determinism মানলে, অরিনদা যেমন বলেছেন, গীতার অর্জুনের আত্মসমর্পণ হবে-- ,
    ত্বয়া হৃষিকেশ হৃদিস্থিতেন, যথা নিযুক্তোস্মি  তথা করোমি।
    তুমি আমার হৃদয়ে রয়েছ, আমাকে দিয়ে যা করাবে তাই হবে।
     
     
     
  • Arindam Basu | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১০:০৭528218
  • রঞ্জনের জ্ঞানের সীমা আর মানুষের ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে থাকার কমেন্ট্টা পড়তে গিয়ে বহুকাল আগে ডেভিড ফস্টার ওয়ালেস মশাইয়ের কিনিয়ন কলেজে দেওয়া একটা বক্তৃতার কথা মনে পড়ে গেল। এ বক্তৃতা আপনারা অনেকেই হয়ত জানেন, এমনকি DFW পরে বক্তৃতাটি একটি পুস্তকের আকারে বারশকরেন। তা সেই বক্তৃতাটি শুরু করেছিলেন একটি গল্প দিয়ে, গল্পটা এই রকম, 
     
    There are these two young fish swimming along, and they happen to meet an older fish swimming the other way, who nods at them and says, “Morning, boys. How’s the water?” And the two young fish swim on for a bit, and then eventually one of them looks over at the other and goes, “What the hell is water?”
     
    আমাদেরও ঐ অবস্থা। 
  • Ranjan Roy | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৩:৫৫528222
  • তথৈবচ।
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:e2b:7db0:dc1c:d722 | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৯:২৫528250
  • পারফেক্ট ডিটার্মিনিজাম মানলে ওই ফ্রি উইলের বৃত্তটুকুও প্রিডিটারমিনড, সময়ের ফাঙ্কশন হিসেবে। শুধু তাই নয়, ওই বৃত্তের মধ্যে কে কখন কোন পথে চলবে তাও পূর্বনির্ধারিত। ডিটারমিনিজম আর ফ্রি উইলের মধ্যে কোন সমঝোতা করার রাস্তা আমরা জানি না।
  • Arindam Basu | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১১:১২528251
  • পলিটিশিয়ন, আপনি যা লিখেছেন, বিষযটা এইভাবে নিশ্চয় দেখা যায়, তব অন্য প্রেক্ষিতও আছে। যেমন রঞ্জনবাবুর বক্তব্যের সমর্থনে বলা যেতে পারে ওনার অবস্থান এ বাবদে  compatibilism এর,, determinist আর free will এর মেলবন্ধন করার চেষ্টা compatibility's রা বহুযুগ ধরে করে এসেছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ডেভিড হিউম এবং পরবর্তী কালে ভিড লুইসের counterfactual বা causal decision theory, যাকে কেন্দ্র করে Miguel Hernan এবং Judea Pearl এর অনবদ্য কাজ আছে। আমার হাতের কাজগুলো সেরে একটু সময় করে এ নিয়ে লেখার ইচ্ছে রইল। 
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:e2b:7db0:dc1c:d722 | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১১:৪৩528253
  • প্লিজ লিখুন।
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:71a9:aa0d:aa1b:1213 | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১২:০৭528254
  • কাজের চাপে লিখতে পারছিনা :-( ডিটারমিনিজম আর ফ্রি উইলের তর্কও কয়েক হাজার বছরের পুরনো, আর প্রোবাবিলিটি দিয়ে এর মীমাংসা করতে গেলে দুরকম প্রোবাবিলিটির মধ্যে তফাত করতে হয় - এপিস্টেমিক আর অনটিক, যা কিনা কান্টের ফেনমেনন আর নুমেনন এর সাথে রিলেট করা যায়, অর্থাত এপিস্টেমিক প্রোবাবিলিটি ফেনমেনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আর ontic প্রোবাবিলিটি noumenon এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
     
    এবার দার্শনিকরা জোর তর্ক বাঁধিয়েছেন যে অনটিক প্রোবাবিলিটিকে কোন কোন ক্ষেত্রে এপিস্টেমিক এ রিডিউস করা যায় কিনা আর ভাইসি ভার্সা। যেমন হলো, মনে করা হয় কোয়ান্টাম মেকানিক্স ইনহারেন্টলি প্রোবাবিলিস্টিক, কারন হাইসেনবার্গ। যার ফলে রেডিওঅ্যাক্টিভ ডিকের একেকটা ইন্ডিভিজুয়াল ইভেন্টও ইনহারেন্টলি প্রোবাবিলিস্টিক। কাজেই ভগবানের কাছে যদি ইনিশিয়াল স্টেটের কমপ্লিট ইনফর্মেশান থাকে, তাহলেও তিনি পরের মুহূর্তটা প্রেডিক্ট করতে পারবেন না। কিন্তু সত্যিই কি তাই, নাকি কোন হিডেন ভেরিয়েবল আছে যা দিয়ে একটা সিস্টেমের ওয়েভ ইকুয়েশানের ইভোলিউশান প্রেডিক্ট করা যেতে পারে? 
     
    উল্টোদিকে, একটা ননলিনিয়ার ডায়নামিক সিস্টেমে (যেটা ডিটার্মিনিস্টিক) যখন কেয়টিক প্রোগ্রেশান হয়, তখন মনে করা হয় যে আমাদের কম্পিউটিং পাওয়ারের সীমাবদ্ধতার জন্য আমরা সিস্টেমটাকে প্রেডিক্ট করতে পারিনা (ওয়েদারের কথা মনে করুন)। কিন্তু সত্যিই কি তাই, নাকি কেয়টিক সিস্টেম ইনহারেন্টলি আনপ্রেডিক্টেবল, অর্থাত অনটিক? এরকম নানান সব ব্যাপার, যার মধ্যে অবশ্যই ডিটারমিনিজম আর ফ্রি উইল জড়িয়ে আছে। সময় পেলে আরেকটু লিখবো।  
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:71a9:aa0d:aa1b:1213 | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১২:১০528255
  • এই পেপারটা পড়ে দেখতে পারেন, সৌভিক চক্রবর্তির লেখাঃ 
     
  • Ranjan Roy | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২০:০৯528275
  • পলিটিশিয়ানকে বলেছিলাম-- "মেটেরিয়ালিজম অ্যান্ড এম্পিরিও ক্রিটিসিজম" বইটা নিয়ে কিছু লিখব। তাই লিখছি। আর এই শেষ, কারণ টই মূল জায়গা থেকে সরে শুধু কয়েকজনের কুটকচালিতে পর্যবসিত হয়েছে। 
    -------
     হাতের কাছে বইটা নেই, তাই অর্ধশতাব্দী আগে পড়া বইয়ের যতটুকু নির্যাস মনে আছে তার থেকে লিখছি। কিছু ভুল হতে পারে।
    ভিয়েনার ফিজিসিস্ট এবং দার্শনিক এর্ন্সট মাখ যিনিটনের বয়সে ভিয়েনার দর্শনের বিশেষ চেয়ার হোল্ড করেছিলেন ১৯০১ সাল পর্য্যন্ত এবং যাঁর প্রভাব বিখ্যাত ভিয়েনা স্কুলের সদস্যদের চিন্তাতেও পড়েছিল। 
    উনি নিউটনের সরল একমাত্রিক গতিসূত্রের কড়া সমালোচনা করে গতির আপেক্ষিকতার তত্ত্ব প্রচার করলেন। আইনস্টাইন পরে বললেন যে মাখের ওই তত্ত্ব ওনার জেনারেল থিওরি অফ রিলেটিভিটির জন্মদাতা, বা এমনি কিছু। 
    যদিও মাখের অন্য সব তত্ত্ব আইনস্টাইন মানেন নি এবং মাখও শেষ বয়সে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্বের সমালোচনা করেছিলেন।
    এখন এই মাখ ভদ্রলোক এবং তাঁর গুরু জার্মান দার্শনিক আভেনারিয়াস  একধরণের অভিজ্ঞতাবাদী  তত্ত্ব দাঁড় করালেন যে আমরা আমাদের সেন্সরি অর্গানের মাধ্যমে কিছু সেন্সেশন বা ইন্দ্রিয়সংবেদনা পেতে পারি, তার বেশি কিছু নয়। অর্থাৎ কোন বস্তু বলতে যা বর্ণনা করি বা সংজ্ঞায়িত করি তা কিছু শব্দ, স্পর্শ, গন্ধ এবং রঙের সমাহার মাত্র। এর পেছনে কোন বস্তু আছে কিনা তা বলা অসম্ভব।
    আমরা যদি বলি একটি বেড়ালকে দেখছি, তা আসলে  'বেড়ালত্ব' (ক্যাটনেস) বলে কিছু গুণের সমাহার মাত্র যা আমরা অনুভব করি-- সাদা রঙ, গোঁফ, থাবা, লোম, ম্যাঁও ইত্যাদির। কিন্তু সত্যি বেড়াল বলে কিছু আছে কিনা তা বলা অসম্ভব।
    অর্থাৎ এঁরা চ্যালেঞ্জ করলেন যে আমাদের মনের বা স্মৃতির বাইরে কোন বস্তুজগত আদৌ আছে কি?
    এঁদের সঙ্গে দাঁড়ালেন এক রুশী মার্ক্সবাদী দার্শনিক--বগদানভ।
     
    লেনিন ওই তিনজনের তত্ত্বকে আক্রমণ করে ১৯০৮ সালে লিখলেন "মেটেরিয়ালিজম অ্যান্ড এম্পিরিও ক্রিটিসিজম"।
     লেনিনের আপত্তিগুলো, যতদূর মনে আছে, মোটামুটি এইরকমঃ
    ১ এগুলো শব্দের খেলা। যদি আমার অস্তিত্বের বাইরে কোন বস্তুর অস্তিত্বই না থাকে তাহলে আমি কার রঙ, শব্দ, গন্ধ, স্পর্শ অনুভব করছি? কার শরীরে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমার চোখের রেটিনায় আসছে? আমি কার শরীরের স্পর্শ অনুভব করছি?
    ২ এমন যুক্তি পরম্পরায় চললে শেষমেশ আমাদের অবস্থান হবে যে শুধু আমিই আছি এইটুকুই নিশ্চিত করে বলা যায়, চারপাশের লোকজন, বিশ্ব প্রকৃতি কিছুই নেই-- এক এক্সট্রিম সলিপসিজম!
    ৩ এই অবস্থান বিশপ ব্র্যাডলির সাবজেক্টিভ আইডিয়ালিজম থেকে খুব আলাদা কিছু নয়। 
    ৪  বস্তুর গতির ফলে তার ভর কমে শূন্য হতে পারে, তার মানে এই নয় যে বস্তু (ম্যাটার) গায়েব। শুধু তার সূক্ষ্মগতির সঙ্গে আমরা পরিচিত হচ্ছি। আগামী দিনে ইলেক্ট্রন, প্রোটন থেকেও আর মৌলিক কণার আবিষ্কার হবে। 
    ৫ কান্টের প্রশংসা করে লেনিন বললেন যে উনি এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জড়জগতের স্বতন্ত্র ব্যক্তিনিরপেক্ষ অস্তিত্ব স্বীকার করছেন।
    ৬ কিন্তু কান্টের নিন্দা করলেন এই জন্যে যে কান্ট মনে করছেন সেই স্বতন্ত্র বস্তুর (থিং ইন ইটসেলফ) প্রকৃত স্বরূপ কোনদিন জানা যাবে না।
    লেনিনের মতে মানবসমাজের জ্ঞান একটি টাইম সিরিজে অনন্ত আপেক্ষিক সত্যের সিরিজ। আজ যা জানা নেই, কাল তা জানা যাবে। মেডিক্যাল সায়েন্সের উন্নতি তার প্রমাণ।
    ব্যস, আর কিছুই মনে নেই। 
  • Arindam Basu | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৬:১০528281
  • অসাধারণ finale রঞ্জনবাবু, লা জবাব!
    আমার মনে হয়, শুধু এই অংশটি থেকে একটি নতুন টই এর জন্ম হতে পারে। এর পরের গল্পটা আরো জমজমাট, যেখানে বস্তুকে দেখার একটা পারস্পেকটিভ আসবে (predictive processing ও active inference) । এবং কার্যকারণ সম্পর্ক। 
    আপনার মূল টইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে এগুলোর সম্পর্ক নেই, কাজেই ও আলোচনা এখানে করা ঠিক নয়। 
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:40a:5adc:fb07:2533 | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৭:৩৮528282
  • রঞ্জনবাবু, আপনার রিফ্রেশারটি খুব সময়মত এল। আমার বন্ধুটি খুব উৎসাহভরে আমাকে ইনকম্পলিটনেস থিওরেম শেখানোর চেষ্টা করছিল। খুব যে কিছু শিখেছি বলা যাবেনা। কিন্তু যেটুকু মাথায় ঢুকেছে সেটুকু ওই লেনিনের বলা 'শব্দের খেলা' ধারণার সাথে সাযুজ্য রাখে।
     
    বলে রাখি, আমি গোডেলের পেপারগুলো পড়িনি। নিজেও ইনটেলেকচুয়ালি ইমপেয়ার্ড। কাছেই হতেই পারে আসলে কিছুই বুঝিনি। এখানে পন্ডিতরা আমার বোঝার ভুল ধরিয়ে দিলে বাধিত হব।
     
    যা বুঝেছি।
     
    এক, গোডেলের তত্ত্ব সব ফর্মাল সিস্টেমের জন্য নয়। ট্রিভিয়াল সিস্টেমগুলো বাদ, আর ইনকনসিস্টেন্ট সিস্টেমগুলো বাদ।
     
    ট্রিভিয়াল মানে কি? গোডেল পিয়ানোর স্বতঃসিদ্ধগুলোর একটা সাবসেট নিয়েছেন। পিয়ানোর স্বতঃসিদ্ধ হল পূর্ণ সংখ্যাগুলির ফরম্যাল থিওরি। গোডেল বলেছেন কোন ফর্মাল সিস্টেমে যদি পিয়ানোর স্বতঃসিদ্ধের ওই সাবসেটটি ইনক্লুডেড না হয় তো সেটি ট্রিভিয়াল। অর্থাৎ, সিস্টেমটির মধ্যে পাটিগণিত থাকতে হবে।
     
    ইনকনসিস্টেন্ট মানে কি? যদি কোন সিস্টেমে একটি স্বতঃসিদ্ধ ও তার নিগেশন ও স্বতঃসিদ্ধ হয় তো সেটি ইনকনসিস্টেন্ট। গোডেল এগুলোকেও বাদ দিয়েছেন।
     
    এবারে প্রমান। এই রকম সিস্টেমে ইনটিজারগুলো ইনক্লুডেড। এবং যে কোন ইনটিজার আসলে ওই থিওরির একটি স্টেটমেন্ট। ইনটুইটিভলি এটা বোঝা খুব কঠিন নয়। এই যেমন আমাদের ভাষায় সব কথাই আসলে আসকি কোড, অর্থাৎ ইনটিজার। তার মানে হল গোডেলের ফর্মাল সিস্টেমগুলো সবই সেলফ রেফারেন্সিয়াল। সেলফ রেফারেন্সিয়াল সিস্টেমে স্টেটমেন্ট থাকেই যার ট্রুথ ভ্যালু ঠিক করা যাবে না। রাসেল প্যারাডক্স মনে করুন। গোডেল যেটা করেছিলেন সেটা হল একটা পদ্ধতি দিয়েছিলেন যা অনুসরণ করে এই সিস্টেমগুলির প্রতিটির জন্যই ওই রকম ট্রুথ ভ্যালু ঠিক করা যাবে না এমন স্টেটমেন্ট কনস্ট্রাক্ট করা যাবে। কিন্তু সেই কনস্ট্রাকশন পদ্ধতিটা বুঝিনি।
     
    এক অর্থে গোডেলের থিওরেম আমাদের ভাষার সীমাবদ্ধতা দেখিয়ে দেয়। অংক বা পাটিগণিতও তো ভাষাই। ওই অর্থেই বলছিলাম শব্দের খেলা।
  • dc | 2401:4900:6329:f8bd:bd21:875a:6ac3:d585 | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৮:১১528283
  • কিন্তু রঞ্জনদা কি আমার পোস্টগুলোকে কূটকচালি বললেন? এটা ঠিকই যে আমার পরের দিকের পোস্টগুলো মূল টই এর থেকে কিছুটা সরে গেছে। তাহলে দুঃখিত :-(
  • Ranjan Roy | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৫:০৮528288
  • ডিসি
     আরে না না। আপনি আমায় ভুল বুঝছেন। 
    আমার কথাটা অরিনদা ঠিক বুঝেছেন।
     আসলে আমি আপনি অরিনদা এবং পলিটিশিয়ান যে আলোচনায় মেতে উঠেছি তা একটা স্বতন্ত্র টইয়ে হলে ভালো হয়। অনেক উৎসাহী এখন আলোচনা থেকে সরে গেছেন।
     কেউ কেউ আমায় ফোনে জানিয়েছেন। 
    দর্শনের কূটকচালিতে ( আমি পোলেমিক্স অর্থে বলছি) সবার আগ্রহ না থাকাটাই স্বাভাবিক। ফলে এটা এখন আমাদের চারজনের আলোচনার একটা সাবসেট হয়ে গেছে।
     
    আপনি গোডেল নিয়ে একটা আলাদা টই খুলুন না, অরিনদা এবং পলিটিশিয়ান যুক্ত হবেন। আমি গোডেল পড়ি নি, আপনাদের থেকে শুনে ঋদ্ধ হব।
  • dc | 2401:4900:632b:1d0d:984d:5cee:869e:fd2c | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৮:৩৯528292
  • আচ্ছা। তাহলে অন্য টইতে আলোচনা হোক। 
  • যদুবাবু | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৮:৫০528293
  • হ্যাঁ হ্যাঁ গোদেল নিয়ে টই হোক। 
     
    আমারও এই নিয়ে দু পয়সা দেওয়ার জন্য হাত নিশপিশ করছে কিন্তু এত জঘন্য কাজের প্রেসার যে দুমিনিট সময় বের করতে পারছি না। crying
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত প্রতিক্রিয়া দিন