এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  প্রবন্ধ

  • ‘আমরা আর তোমরা’র গল্পঃ একটি মিঠেকড়া আলাপন

    Ranjan Roy লেখকের গ্রাহক হোন
    প্রবন্ধ | ২৯ জানুয়ারি ২০২৪ | ১৯৪১ বার পঠিত | রেটিং ৪.৫ (৬ জন)
  • ‘আমরা আর তোমরা’র গল্পঃ একটি মিঠেকড়া আলাপন
     ওরা থাকে ওধারে
    আমরা-ওরা এই শব্দযুগলের ধারণাটি অনেক পুরনো। ছোটবেলা থেকেই শিখে ফেলি--ওরা খারাপ, ওদের সঙ্গে খেলতে যাবি না। হ্যাঁ, বড়রা শিখিয়ে দেয়। এখন বড় হয়ে গিয়েও রেহাই নেই। আমার থেকে আরও বড়রা শেখাচ্ছেনঃ
    ‘আমরা ভাল লক্ষী ছেলে,  
    তোমরা ভারি বিশ্রী,
    তোমরা খাবে নিমের পাঁচন,
    আমরা খাব মিশ্রী।
     খেয়াল হয়, বুড়ো হয়েছি। তাই মাথায় নানান চিন্তা।
      বিদেশ থেকে আসা এক ছোটবেলার বন্ধুকে ধরলাম।
       আচ্ছা, আমরা মানে কী? আমরা বলতে ঠিক কাদের বোঝায়?  
    -এটা কোন কথা হল? আমরা মানে আমরা। মানে যারা একইরকম। আর ওরা মানে যারা আমাদের মত নয়, অন্যরকম।
       কোন মাপকাঠিতে এক? লম্বায়, গায়ের রঙে? নাকি ভাষায়? অথবা ধর্মে?
    --সবগুলোই মাপার একক হতে পারে, অবস্থা বুঝে।
    বুঝলাম না।
    --যখন যে মাপকাঠিতে যাদের সঙ্গে মেলে, তারা হবে ‘আমরা’। যেমন, স্বদেশ আর বিদেশ। স্বদেশের লোকজন আমার জন্যে ‘আমরা’। আর বিদেশের লোকজন আমার চোখে ‘ওরা’। বিদেশ যাত্রার জন্যে ইমিগ্রেশন লাইনে দাঁড়ালে যাদের একই দেশের পাসপোর্ট আছে তারা হল ‘আমরা’। যারা ‘আমরা’ নয়, তারা সবাই ‘ওরা’।  
    আবার যাদের আমেরিকান ভিসা আছে , তারা একধরণের ‘আমরা’। আবার যাদের শেনগেন ভিসা, তারা অন্যধরণের ‘আমরা’। যেমন আমেরিকানদের জন্যে সমস্ত আমেরিকান নাগরিক ‘আমরা’ আর বাকি সবাই ‘ওরা’।  
    তাই ? তাহলে ওদের দেশে সাদা মানুষ কালো মানুষ সবাই ওদের জন্যে ‘আমরা’, একই আইন, একই ব্যবহার।
    --সে আর বলতে!
    তাহলে মাঝে মধ্যেই কালোদের প্রতি আমেরিকান পুলিশের ব্যবহার আইন না মেনে বর্বরতার মাত্রা ছাড়ায় কেন? ‘ব্ল্যাক লাইভস্‌ ম্যাটার’ আন্দোলনে লাখে লাখে কালো মানুষদের পথে নামতে হয় কেন?
    --সেটাই তো কথা। তখন বুঝতে হবে অবস্থা বিশেষে আমেরিকান পুলিশের চোখে সমস্ত সাদা আমেরিকান ‘আমরা’ হয়ে গেছল, আর ‘কালো’রা ‘ওরা’।
      তাই বলে কালো আমেরিকানকে অমন করে মেরে ফেলতে হবে? ও যে বারবার বলছিল—শ্বাস নিতে পারছি না!  
    --সেটাই স্বাভাবিক। কারণ, ‘আমাদের’ জন্যে আছে আদর ভালোবাসা প্রাণের টান। আর ‘ওদের’ জন্যে বিরক্তি, তাচ্ছিল্য ও ঘৃণা।
    দেখ, রবীন্দ্রনাথ তাঁর বাংলা ব্যাকরণের বইয়ে দুটো প্রত্যয়ের – টি এবং টা—ফারাক বোঝাতে গিয়ে উদাহরণ দিয়েছেন। ধর, দুটো বাচ্চা উঠোনে খেলছে। কিন্তু আমাদের চোখেঃ
    মোদের বাড়ির ছেলেটি,
    নাচে যেন ঠাকুরটি।
    ওদের বাড়ির ছেলেটা,
    লাফায় যেন বাঁদরটা।
    বুঝলাম, কিন্তু এই একরকম আমরা ভেঙে অন্যরকম আমরা হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা ঠিক কেমন যেন লাগছে। চীনের বিরুদ্ধে আমেরিকার সব নাগরিক ছিল ‘আমরা’। আবার ঘরের মধ্যে সাদা আমেরিকান ‘আমরা’  থাকল, কিন্তু ‘কালো’ আমেরিকান হঠাৎ ‘ওরা’ হয়ে গেল। আবার গত শতাব্দীর সত্তরের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রতিবাদে একই আমেরিকার নাগরিক সমাজের  ভেতর ‘আমরা’ ‘ওরা’ গজিয়ে উঠল!
    - না বোঝার কী আছে। যেমন বোম্বাই বা কর্ণাটকের বিরুদ্ধে রণজি ক্রিকেটে সব বাঙালী এককাট্টা। তখন ‘আমরা বাঙালী’। কিন্তু ডার্বি ম্যাচে বাঙালদের জন্যে ইস্টবেঙ্গল হল ‘আমরা’ আর মোহনবাগান হল ‘ওরা’। আর ঘটিদের জন্যে ‘মোহনবাগান’ হল ‘আমরা’, ইস্টবেঙ্গল  ‘ওরা’। নিজেদের ঘরের মধ্যে বাপের বাড়ির লোকজন হল আমরা আর শ্বশুরবাড়ির সবাই ‘ওরা’ বা অপর। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় এতদিন ধরে পাশাপাশি থাকা ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক এক পলকে ‘আমরা’ থেকে ‘ওরা’ হয়ে পরস্পর বিষাক্ত নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করে।
    আরে অন্যে পরে কা কথা, সাম্যবাদের আদর্শে দীক্ষিত নেতাও একসময় "আমরা ওরা"র কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন।বলে ওঠেন, "আমরা ২৩৫, ওরা ৩০।
     
    বুঝেছি, এই বিভেদের ব্যাপারটা আবহমান কাল থেকে রয়েছে।  ঋগবেদের সময়ে বহিরাগত বিজয়ী আর্যরা এদেশের স্থানীয় অধিবাসীদের অনার্য, দাস, দস্যু বলে নাক সিঁটকেছেন। এমনকি পণি বলে তৎকালীন বণিক গোষ্ঠীও এই ঘৃণার আক্রমণ থেকে বাদ পড়েন নি।
    --সমগ্র খৃষ্টান ইউরোপে ইহুদীরা ব্রাত্য, এবং নির্যাতন ও নির্বাসনের শিকার।
    ওদের বিরুদ্ধে এই জাতক্রোধের কারণ --আরে, ওরাই তো আমাদের যীশুখৃষ্টকে ক্রুশে চড়িয়েছিল—গোছের ভাবনা।      
     
    সে তো কোন যুগে; তার জন্যে দু’হাজার বছর ধরে তাদের প্রায়শ্চিত্ত করে যেতে হবে? এটা কোন কথা হল!
    --আচ্ছা! এতে আশ্চর্য হওয়ার কী আছে?  আমাদের দেশেও কি মুসলমানেরা ‘অপর’ নয়? ওদেরও কি বাইরে থেকে আসা বিদেশি বর্বর আক্রমণকারী বলা হয় না?
    বটেই তো। কয়েকশ’ বছর আগে মোগল পাঠানের দল মন্দির ভেঙেছে, লুঠতরাজ করেছে এবং হত্যা ও ধর্ষণ করেছে বলে আজ সব মুসলমানকে সন্দেহের চোখে দেখা হয় না? ওদের থেকে প্রতিপদে  দেশের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার প্রমাণ চাওয়া হয় না? কথায় কথায় – ‘মিঞা তুই পাকিস্তানে যা’—বলা হয় না!
     
    --কথাটা পুরোপুরি সত্যি নয়। আসলে ওরা ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ করালো এবং যার ফলে প্রচুর মানুষ প্রাণ, সম্মান এবং ভিটেমাটি হারিয়ে পথে নামল। কাজেই সাধু সাবধান!
    এরা যেখানে সংখ্যালঘু সেখানে মাথা নীচু করে থাকে। কিন্তু কোন এলাকায় বা জেলায় ঘেট্টো বানাতে পারলেই ওদের হাবভাব বদলে গিয়ে সিঙ্ঘি অবতার হয়ে ওঠে। ওদের বাড়তে দিলে ফের দেশভাগ হবে, সেটা কি ভাল কথা? তুমি সেকুলার সেকুলার বলে গলা ফাটাও আর এদিকে ধর্মীয় উন্মাদদের দেশ ভাগ করাকে জনগণের ইচ্ছে বলে সমর্থন কর!  

    আর এরা কি বহিরাগত? লুটেরা?  
    --অবশ্যই। ওরা কি বাইরে থেকে আসেনি? মহম্মদ বিন কাসিম অষ্টম শতাব্দীতে সিন্ধু নদের ওপার থেকে এসে হিন্দু রাজা দাহিরকে পরাজিত করে ভারতে ঢোকেনি? আর পঞ্চদশ শতাব্দীতে বাবর? ও কি উজবেকিস্তানের ফরগণা উপত্যকার লোক নয়?

    তাহলে আমার একটা প্রশ্ন; এই যে তুমি ভারতের আই আই টি থেকে যোগ্যতার সঙ্গে পাশ করে আমেরিকায় গিয়ে সিলিকন ভ্যালিতে ভাল চাকরি করছ, ওদেশে বাড়ি গাড়ি হয়েছে, সম্মানের সংগে সপরিবারে দিব্যি আছ— তুমি কি বহিরাগত লুটেরা?
     কেন নও? তুমি তো আমেরিকার বাইরে থেকে এসে ক্যালিফোর্ণিয়া থেকে ডলার কামিয়ে ভারতের ব্যাংকে পাচার করে আমেরিকার তুলনায় বেশি ইন্টারেস্ট কামাচ্ছ? তোমারও লাভ, ভারতেরও লাভ। এদেশের বিদেশি মুদ্রা ভান্ডার তোমার মত লোকেদের জন্যে ই ফুলে ফেঁপে উঠছে।
    কিন্তু একজন নিম্নবিত্ত আমেরিকানের জায়গা থেকে দেখ। সে দেখছে তুমি তার রোজগারে ভাগ বসিয়েছ। কোম্পানি কম টাকায় তোমাকে আউটসোর্সিং করে একজন পড়াশুনো করা আমেরিকান যুবকের পাতে জল ঢেলে দিয়েছে।  

    --বাজে কথা। আমি এখন ওদেশের নাগরিক, রীতিমত ট্যাক্স দিই। আমার এবং আমাদের মত অনেক প্রবাসী  ভারতীয়র টাকায়, সে যত ভগ্নাংশই হোক, ওদেশের রাষ্ট্র পরিচালিত হয়; অনেক সামাজিক কল্যাণের কাজ হয়। আর আমার কারিগরি দক্ষতা আজ আমেরিকার মত দেশের উন্নয়ন এবং সম্পদ বৃদ্ধিতে সহায়ক। আমি কেন লুটেরা হব? লুটেরা হল ওরা যারা একদেশের সম্পদ ছলেবলে কৌশলে, বিশেষ করে রাষ্ট্র ক্ষমতার পেশিবলে, নিজের দেশে নিয়ে যায়।
      তাহলে দুটো কথা।  
    এক, তোমার  সংজ্ঞা মানলে বলতে হয়--  লুটেরা হল ইংরেজ; মুসলমান বা তুর্কিরা নয়। বাবর হোক বা ইব্রাহিম লোদী, এদেশ থেকে সোনাদানা, ধনসম্পদ, ময়ুর সিংহাসন ইংল্যান্ডে কে নিয়ে গেছে? ক্লাইভের সময়  থেকে প্রতি বছর ইংল্যাণ্ডে কর আদায়ের কত বড় হিস্যা ব্রিটেনে গেছে এবং ভারতের হস্তশিল্প ধ্বংস করে ওদেশের শিল্প বিপ্লবে সহায়ক হয়েছে। আর চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে দেশে দুর্ভিক্ষ ও প্রাণহানির খতিয়ান?
    --থামো, থামো। গজনীর সুলতানের সতেরোবার সোমনাথ আক্রমণ এবং সোনাদানা লুঠ করে নিজের দেশে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা ভুলে গেলে?

      দেখ, মহম্মদ ঘোরী নিশ্চয়ই লুঠেরা,  ও তো এদেশের ক্ষমতা দখল বা সাম্রাজ্য বিস্তার করতে আসেনি। কিন্তু কয়েকশ’ বছর ধরে যে সুলতানি এবং মোগল শাসন—তারা এদেশেই  রয়েছে। সম্পদ নিয়ে উজবেকিস্তান বা তুর্কমেনিস্তান চলে যায় নি তো!
    ওরা বরং এদেশের সম্পদ বৃদ্ধি করেছে। ভারতে মুঘল শাসনকালে (১৫২৬-১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দ) বিদেশি বাণিজ্য, কৃষির ও কর ব্যবস্থার উন্নতির ফলে দেশের জিডিপি বা গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট ছিল বিশ্বের অর্থনীতির ২৫.১% । সুবে বাংলা ছিল সাম্রাজ্যের  উন্নত কৃষি, জাহাজ নির্মাণ, রপ্তানি বাণিজ্যের সমন্বয়ে সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।[1] আর মুঘলেরা আকবরের সময় থেকে কৃষির উপর  ফসলের প্রায় ৫০% কর ধার্য করে এবং বাণিজ্যের জন্যে ব্যাপক যাতায়াত ব্যবস্থা, দেশজুড়ে বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে একই রৌপ্যমুদ্রার প্রচলন করে। তৎকালীন ভারতের  পেশোয়ার থেকে কলকাতা অবধি বিস্তৃত গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড দিল্লির মুসলিম শাসনের সময়ই ভাল ভাবে সংস্কার করা হয়[2]।  
    কিন্তু বৃটিশ সাম্রাজ্যের সময় ঔপনিবেশিক লুঠের ফলে ভারতে শিল্পের ভ্রুণ অবস্থা মার খায় এবং ওরা দেশের অর্থনীতিকে এমন ছিবড়ে করে দেয় যে ১৯৫২ নাগাদ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ভারতের জিডিপি ৩% হয়ে যায়। এই বিষয়ে অর্থনীতির কেম্ব্রিজ ইতিহাসবিদ অ্যাঙ্গাস ম্যাডিসনের গবেষণার সঙ্গে মনমোহন সিং সহমত।[3]
    --আরে জিডিপি  বেড়েছিল তো কি হয়েছে, ভারতের কৃষকদের অবস্থা কি ভাল হয়েছিল? ফসলের ৫০% খাজনা দিয়ে চাষির হাতে কী থাকে? মোগল সম্রাটরা বিলাসব্যসনে দিন কাটাতেন, স্মৃতিসৌধ, প্রাসাদ বানাতেন। তাজমহল বা লালকেল্লা দেখে কেউ তখনকার কৃষকদের অবস্থা বুঝতে পারবে?
     
    তাহলে ফের দুটো কথা বলতে হচ্ছে।
    এক, তখন চাষ করতে খরচ খুব কম হত, পরিশ্রমটাই ছিল আসল। কোন কেমিক্যাল সার বা পোকা মারার ওষুধ দেয়া হত না। বীজধান কিনতে হত না। তাই ৫০% খাজনা দিয়েও যা থাকত সেটা খুব কম নয়। আজকের সঙ্গে তুলনা কর।  
    এখন চাষের উপর আয়কর নেই। কিন্তু সমস্ত ইনপুট-- উচ্চফলনশীল বীজ, কেমিক্যাল সার, কীটনাশক কিনতে গেলে অপ্রত্যক্ষ কর বা জিএসটি,  সেচ কর, মজুরি, বাজারে বিক্রি করতে গাড়িভাড়া সব জুড়ে দেখলে চাষির মাঝে মধ্যে আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় নেই। তাই প্রতি বছর ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের দাবিতে বিভিন্ন রাজ্যের চাষিরা পথে নামে, একবছর ধরে পঞ্জাব, পশ্চিম উত্তর প্রদেশ ও রাজস্থানের চাষিরা রাজপথে ধর্নায় বসে।
    চাষির আয় দ্বিগুণ হওয়ার প্রতিশ্রুতি এখন আরেকটি জুমলা হয়ে গেছে।

    দুই, মানছি সম্রাটদের বিলাসব্যসন বা উঁচু মিনার দেখে চাষিদের অবস্থা বোঝা যাবে না। কিন্তু দিল্লীশ্বরদের ব্যাপারটাই ওই রকম-- স্মৃতিস্তম্ভ বানাবেই।
    এখন যে ১৮২ মিটার উঁচু স্ট্যাচু অফ ইউনিটি এবং নতুন সংসদ ভবনের সেন্ট্রাল ভিস্তা তৈরি হয়েছে তা দেখে কি কেউ আন্দাজ করতে পারবে যে আমাদের দেশের গত এক দশকে (২০১২-২১) তৈরি সম্পদের ৪০% মাত্র ১% লোকের কুক্ষিগত, ৫% ভারতীয়ের হাতে দেশের ৬০% সম্পদ;  আর সম্পদের মাত্র ৩% চুঁইয়ে চুঁইয়ে তলার ৫০% জনতার কাছে পৌঁছয়?[4]

       --বেশ, তুমি বলতে চাইছ যে আমাদের পুরনো দুর্দশার জন্যে দায়ী বৃটিশ, আমাদের রাগ মোগলদের ছেড়ে ওদের উপরই বেশি হওয়া উচিত।

    ঠিক তাই। অথচ, তোমাদের সাদা চামড়ার সায়েবদের নিয়ে কোন কথা নেই। কবে মোগল শাসন শেষ হয়ে গেছে। তারপর দুশো বছরের বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসন। যাতে ভালোর চেয়ে খারাপ বেশি হয়েছে। কিন্তু তোমরা ইতিহাসের চাকা পেছনে ঘুরিয়ে খামোখা প্রলাপ বকছ।
    --- আমরা তো জিডিপি নিয়েই খুশি। বলতে থাকি – ভারতের জিডিপি ৩ ট্রিলিয়ন হয়ে গেছে। শীগগিরই বিশ্বে চার নম্বর থেকে তিন নম্বর (জিডিপির হিসেবে) স্থান দখল করবে!
     
    হ্যাঁ,  তোমরা এখন গত এক দশকে ভারতের জিডিপি বৈশ্বিক জিডিপি’র ৮.৭% হয়ে গেছে বলে খুশিতে ডগমগ, যদিও চিনের ও আমেরিকার অনুপাত ১৮.২% এবং ১২.৪%।[5]
    কিন্তু যে কথাগুলো এড়িয়ে যাও তা হল--এত দশক পরেও আমাদের দেশের বেকারত্বের সূচক 7.33% [6] আর বিশ্ব ব্যাংকের রিপোর্ট বলছে গত এক দশক ধরে গড় সূচক হচ্ছে 7.83% ; অর্থাৎ কর্মক্ষম এবং কাজ করতে ইচ্ছুক জনসংখ্যার প্রায় সাড়ে সাত প্রতিশত লোক কাজের অভাবে বসে রয়েছে।
     শুধু এই নয়, গরীবের জন্যে এত ভাল ভাল কথা এত সব যোজনা সত্ত্বেও ২২.৯ কোটি গরীব মানুষ  আজ ভারতে  বাস করে। এই একটা ব্যাপারে আমরা এগিয়ে। বিশ্বের কোন দেশে এত বেশি গরীব থাকে না। কোভিড মহামারীর প্রকোপ কমার পরও একবছর ৮০ কোটি মানুষকে বিনে পয়সায় র‍্যাশন দেওয়া হয়েছে। মানে সরকার মেনে নিয়েছে যে ১৪০ কোটির ভারতবর্ষে ৫৬% লোক নিজের জন্যে দু’বেলা পেটভরে খাওয়ার জোগাড় করতে অক্ষম!
    এসব নিয়ে কোন চিন্তা নেই, খালি একে পাকিস্তান পাঠাও, তাকে পাকিস্তান পাঠাও! আর দেশের এই অবস্থার জন্যে নেহেরুকে দায়ী করা, ইংরেজকে নয়।

    --কিছুই বোঝ নি। ইংরেজ তো চলে গেছে। ওদের সঙ্গে ঝগড়া করতে কি ইংল্যাণ্ডে দৌড়তে থাকব? কিন্তু মুসলমানরা রয়ে গেছে। একশ’ ঊনচল্লিশ কোটি লোকের দেশে ১৯.৭ কোটি মুসলিম,  জনসংখ্যার ১৪.২%[7] , ভাবা যায়!  
      এটা আমার মুখের কথা নয়, সংসদে শ্রীমতী স্মৃতি ইরানী, অল্পসংখ্যক বিষয়ের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী একটি প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন।

    তাতে কী হল? ওদের এদেশের নাগরিক বলে মেনে নিতে বাধা কোথায়? তুমি যদি আজ আমেরিকায় গিয়ে গ্রীন কার্ড, পরে নাগরিকত্ব পেয়ে যেতে পার, তাহলে যারা দুই প্রজন্ম ধরে এই দেশে আছে, ভোট দিচ্ছে, চাকরি করছে, ব্যবসা করছে—ওদের মন থেকে স্বীকার করতে পারছ না কেন?
     

    --মূল প্রশ্নে ফিরে এস। আমরা এবং ওরা। ধর্মের ভিত্তিতে একটু চোখ খুলে দেখ। আমাদের ভারত তিন টুকরো হল—দুপাশে দুই পাকিস্তান, মাঝখানে ভারত। ওদের ধর্ম আরবের মরুভূমির। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আলাদা।  আমাদের সিন্ধু -গঙ্গা-যমুনার তীরে গড়ে ওঠা সভ্যতা। তেলে-জলে মিশ খায় না।

    উঃ এত বাজে বকতেও পারে। তোমার সিন্ধু নদ ও তার অববাহিকার বেশির ভাগটাই এখন পাকিস্তানের অংশ। মহাভারতের গান্ধার এখন কান্দাহার, পুরুষপুর আজ পেশোয়ার। এমনকি মহেঞ্জোদারো-হরপ্পা-কালিবংগান ভারতে নয়, পাকিস্তানে।
    তাহলে সেই ঐতিহ্য রক্ষার খাতিরে মিলেমিশে থাকা যায় না? মারামারি করতেই হবে?

    --তাই তো বলছি। যদি ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হয়ে ভারত -পাকিস্তান হল তাহলে এপারের বৃহৎ অংশের নাম হিন্দুস্থান হবে না কেন? আশি প্রতিশত বড়,  নাকি ১৪% ? বহুসংখ্যকের মত গুরুত্ব পাবে না – এটা  কেমন গণতন্ত্র?

    উফ, এবার একটু আমার কথাটা শোন।
    বর্তমানের পাকিস্তান, অর্থাৎ পশ্চিম পাকিস্তানের মুসলিম জনসংখ্যা ১৯৪৭ সালে ছিল ৩.২৫ কোটি আর ২০০৬-০৭ সালে সেটা হয়েছে ১৫.৭ কোটি। আর ২০১৭ সালে ২০ কোটি (৯৬.৫%) এবং হিন্দু ৪৪ লক্ষ (২.১৪%)  (সূত্রঃ উইকিপিডিয়া)  
    ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ১৯৫১ সালের জনগণনা অনুয়ায়ী ছিল ৩.৫৪ কোটি (১০%), ২০১১ সালে ১৭.২ কোটি, এখন ২০২৩ সালে অনুমানিত ১৯.৭ কোটি (১৪%)।
    মানে যে মুসলমানেরা ভারতে রয়ে গেল তারা পশ্চিম পাকিস্তানের মুসলিম জনতার চেয়ে সংখ্যায় কম ছিল না। আর এখনও প্রায় সমান সমান।
    অর্থাৎ যারা  স্বেচ্ছায় দাঙ্গার আতংকের মাঝেও সাহস করে ভারতে রয়ে গেলেন, তারা জিন্নার দ্বিজাতিতত্ত্বকে অস্বীকার করলেন এবং এই দেশের মাটিকে ভালবাসার প্রমাণ দিলেন। এঁদের একাংশ বিজ্ঞান সাহিত্য সঙ্গীত ও শিল্পকলার চর্চায় ভারতের মুখোজ্বল করলেন। ক্রিকেট, ফুটবল, হকির কথা ছেড়েই দিলাম। তারপরেও অবিশ্বাস?
    যে মেষপালক কারগিল এলাকায় পাকিস্তানি অনুপ্রবেশের খবর দিল তার ধর্মীয় পরিচয় কী ছিল? ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানের প্যাটন ট্যাংকের ঢাকনা খুলে ভেতরে গ্রেনেড ফেলে আত্মঘাতী প্রতিরোধে রুখে যে সৈনিক রুখে দাঁড়ালেন তার নাম হামিদ।  

    --দূর! ওসব বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রমী উদাহরণ দিয়ে কোন লাভ নেই। ‘ওরা’ ওরাই থাকবে, ‘আমরা’ হবে না। আমরা পূবমুখো, সুর্য তো পূবে ওঠে, ওরা নামাজ পড়ে পশ্চিমে মুখ করে। আমরা কীভাবে হাত ধুই আর ওরা কীভাবে ‘ওজু’ করার সময় হাত ধোয় দেখেছ? একেবারে উলটো।
     মাইকেল ঠিক বুঝেছিলেন। তাই ‘বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকে ভক্তপ্রসাদের মুখ দিয়ে বলিয়েছেন—তেঁতুল নয় মিষ্টি, নেড়ে নয় ইষ্টি!
    তাই বলছি, যদি জনসংখ্যা অদলাবদলি হত, তাহলে সব মুসলমান ওপারে, সব হিন্দু এপারে। ব্যস, কোন দাঙ্গা হত না। কেমন? ঠিক বলেছি না?

    দেখছি, তোমার মাথাটা একেবারে গেছে। যদি ধরেও নেই যে ওদের সঙ্গে আমাদের ফারাকটা খুব বেশি তাহলেও কি পাশাপাশি থাকা যায় না? ওরা ওদের মত করে থাকবে আর আমরা আমাদের মত ?
    অনেকক্ষেত্রেই তো আমরা আজকাল ফ্ল্যাট বাড়িতে একে অন্যের ঘরে উঁকি মারি না,  অনেক ক্ষেত্রে নাম পরিচয়ও জানি না।
    না হয় ওদের ঘরে ঈদের দিন বিরিয়ানি বা ফিরনি খেতে গেলাম না, কোলাকুলি করলাম না। ওরাও বিজয়াদশমীর দিন বা দোলের দিন আমাদের বাড়ি এল না। তাতেও পাশাপাশি বা এক পাড়ায় কেন থাকা যাবে না? ওদের বাড়ি ভাড়া দেওয়া যাবে না? ওদের দোকান থেকে জিনিসপত্তর কেনা চলবে না? ড্রাইভার বা কাজের মাসি রাখার সময় তার ধর্ম পরিচয় বড় হয়ে উঠবে!

    --উপায় নেই। একটু গৈরিক রাষ্ট্রবাদ বোঝার চেষ্টা কর। ভারতে শিক্ষার অভাব এবং আর্থিক পশ্চাদপদতার বিচারে  সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায় কোনটি সে নিয়ে কারও সন্দেহ নেই। সবচেয়ে বেশি বেকার সবচেয়ে বেশি গরীব কোন সম্প্রদায়ে?  সাচ্চার কমিটির রিপোর্ট যথেষ্ট সোচ্চার।  তাই তারা যদি এদেশ ছেড়ে চলে যায় তাহলে এক ঝটকায় আমাদের দেশ দারিদ্র্যের সূচকে বেশ কিছুটা ওপরে উঠবে এবং আমাদের মাথা পিছু জিডিপির হারও অনেক বেশি হয়ে যাবে।  তারপর ভারত নিজে নিজেই হিন্দুরাষ্ট্র হয়ে যাবে। প্রায় হয়েই গেছে, তোমাদের মতন কয়েকজনকে বোঝানো বাকি, আর হাতে গোণা ক’জন না বুঝলেও কিছু আসে যায় না।
    আর মানছি, সব মুসলমান টেররিস্ট নয়, কিন্তু গোটা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি টেররিস্ট কোন ধর্মের লোক? বোকো -হারাম এবং আইসিস কাদের সংগঠন? কাজেই যে কাজটা অসমাপ্ত রয়ে গেছে, সেটা আমাদের পুরো করতে হবে।

    সেই কাজটা কী?
    --“আর্য সনাতন বঙ্গভূমিতে রাখিব না আর যবন চিহ্ন”।

    তাই বাবরি মসসজিদের পর ভারতে আরও পাঁচশ মসজিদ ভাঙা হয়েছে?[8] এত ঘৃণা কেন?
    -- মানুষ যুক্তি মেনে বিশ্লেষণ করে কাজ করে না। সে প্রেরণা পায় তার  মানস জগতে মৌলিক আবেগের (basic emotion) তাড়নায়।  যেমন, প্রেম, ভয়, আনন্দ, ঘৃণা এইসব।
    তোমরা ঘৃণার শক্তি চেন না। প্রেম-ভালবাসা নয়, ঘৃণাই মানুষকে শক্তি যোগায় লড়াইয়ের ময়দানে শত্রুর মাথাটা ধড় থেকে এক কোপে নামিয়ে দিতে। সামনের লোকটাকে তুমি যদি মানুষ ভাব, তাহলে মারতে পারবে না, হাত কাঁপবে। আর যদি ওকে ইঁদুর, আরশোলা, কেঁচো বা সাপ ভাবতে পার তবে অনায়াসে মারবে। নিজের বাঁচার তাগিদে অপরকে মেরে ফেলবে।

     হ্যাঁ, বোকো-হারাম, আইসিস বা তালিবানের মত সংগঠনের মানস জগতেও ঘৃণা স্বরাট।  ঠিকই বলেছ, তীব্র ঘৃণা মস্তিষ্কের কোষে কোষে শরীরের প্রতিটি রক্তকণায় দৌড়ে না বেড়ালে কোন বানু’র তিন বছরের বাচ্চাকে আছড়ে মেরে ফেলা যায় না, সেই গর্ভবতী নারীর সামনে তার পরিবারের অধিকাংশকে হত্যা করে তাকে গণধর্ষণ করা যায় না। ঠিক বললাম?   
    তা’ তোমার কল্পনার হিন্দুরাষ্ট্রে মুসলমানের জায়গা হবে না?

    --মুসলমানেরা থাকতে পারে, যদি তারা পোশাকে আশাকে চলা ফেরায়, খাওয়াদাওয়ায় আচরণে বেশি মুসলমানপনা না দেখায়। অর্থাৎ ওদের মুসলমান বলে সহজে চেনা না যায়। ওরা থাকবে আমাদের দয়া ও শুভেচ্ছার ভরসায়।

    বুঝতে পেরেছি, কানহাইয়া কুমারেরা জামিন পেয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে, কিন্তু উমর খালিদেরা বিনা বিচারে জেলের ভেতর থাকবে। মায়া কোদনানি, বাবু বজরঙ্গী, বিট্টু বজরঙ্গীরা প্রথমে জামিন তারপর প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে যাবে, কিন্তু ৮৩ বছরের ফাদার স্ট্যান স্বামী জেলের ভেতর মারা পড়বে।
    কিন্তু এখনও বুঝলাম না এত বছর পরেও ভারতে ‘হিন্দু বিপন্ন’ শ্লোগানের মানে কী?

    --দুটো মানে। ভেতরের সত্যি হল ‘আমরা’ যদি ‘বিপন্ন’ না হই, তাহলে ‘ওরা’ আমাদের শত্রু ভাবব কেন? ওদের ঘৃণা করব কী করে?
    আর আপাতদৃষ্টিতে ওরা জনসংখ্যায় আমাদের ছাড়িয়ে গিয়ে একদিন আমাদের ‘অপর’ করে দিতে পারে এই আশংকা কী নেই? এবার তোমাদের মত মানুষজনকেও বেছে নিতে হবে তুমি কাদের সঙ্গে, কী বল।
    --একটাই কথা। ঘৃণা শেষ কথা নয়, কিন্তু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অ্যাসিডের মত, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তোমরা ঘৃণা দিয়ে শুরু করেছ, কিন্তু শেষ অন্য কেউ করবে,--এখনও মণিপুর জ্বলছে।
    ======================================================

     

    [1] Sanjay Subrahmanyam (1998). Money and the Market in India, 1100–1700. Oxford University Press.  এবং Roy, Tirthankar (2012). "Consumption of Cotton Cloth in India, 1795–1940". Australian Economic History Review52 (1):  

    [2] Roy, Tirthankar (2012). "Consumption of Cotton Cloth in India, 1795–1940". Australian Economic History Review52 (1): 61–84. 

    [3] Manmohan Singh, Of Oxford, economics, empire, and freedom , The Hindu, July 2005.

    [4] The Indian Express, 7 April, 2023.

    [5] https://www.worldeconomics.com London.

    [6] Global Economy.com

    [7] ইকনমিক টাইমস্‌, ২১ জুলাই , ২০২৩।

    [8] The Siasat Daily, 6 December, 2020

     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • প্রবন্ধ | ২৯ জানুয়ারি ২০২৪ | ১৯৪১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:75da:1d42:33c1:172d | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৩:৫৯528166
  • অরিন্দমবাবু, স্টেটমেন্টটা এক্সিয়ম। কাজেই সত্যি। মানে ওই ফর্মাল সিস্টেমের মধ্যে। 
  • Arindam Basu | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৪:৩৩528167
  • তাই তো।
    এটা নিয়ে আপনি আরেকটু লিখুন। 
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:75da:1d42:33c1:172d | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৪:৪১528168
  • আমি জানতে চাইছি তো।
  • Arindam Basu | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৫:৩৯528169
  • পলিটিশিয়ান, "আমি জানতে চাইছি তো|"
     
    হুঁ, সুনরু সুজুকি হলে হয়ত বলতেন, "It is wisdom which is seeking for wisdom"
    :-)
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:75da:1d42:33c1:172d | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৭:৩১528170
  • না না আসলেই জানতে চাইছি।
  • dc | 2401:4900:632d:90ab:4cf8:71b3:bfdf:a5c2 | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৭:৫০528171
  • "একটা ফর্মাল সিস্টেম ধরা যাক যেটায় একটাই এক্সিয়ম।
     
    আমার নাম পলিটিশিয়ান।"
     
    শুধু এটুকু তো ফর্মাল সিস্টেম নয়! ফর্মাল সিস্টেমে তো একটা সেট অফ সিম্বলিক রুলস আর ফর্মাল গ্রামারও থাকতে হবে! আর সেট মানে নাল সেট নয় cheeky
  • Ranjan Roy | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৭:৫৩528172
  • "আমার নাম পলিটিশিয়ান"
    এটা axiomatic truth.
    প্রমাণের অপেক্ষা রাখে না। 
    কারণ, "নাম" শব্দটি।
    কিন্তু প্রশ্ন উঠবে যদি এর থেকে যদি আমরা নিচের কোন একটি সিদ্ধান্ত বাক্যে পৌঁছতে চাই।
     
    1 আর কারো নাম পলিটিশিয়ান নয় ।
    2 সবার নাম পলিটিশিয়ান 
    3 পলিটিশিয়ান একটি পদবী বা জাতিসূচক নাম।
    4 আমার পেশা পলিটিক্স।
     
     
    এগুলো তো  ফর্মাল লজিকের আঙিনা।
    আমি ফিরতে চাইছি দর্শনের  মেটাফিজিক্সের আঙিনায়।
     
    আইনস্টাইন ও রবীন্দ্রনাথের অমীমাংসিত বিতর্ক মনে করুন।
    রবীন্দ্রনাথের সেই "আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ" অবস্থান।  দর্শনের ভাষায় subjective idealism. ব্যক্তিসাপেক্ষ ভাববাদ।
    বিশপ বার্লিন এবং শংকরাচার্যের অবস্থান।  জগতের অস্তিত্ব শুধু জীবের 'অবিদ্যা' জনিত আদিল চেতনায়। চোখে মায়ার কাজল পরানো। তাই জগত মিথ্যা, অর্থাত তার স্বতন্ত্র  অস্তিত্ব  নেই।
    ( এখানে বলে রাখি, "অবিদ্যা" শব্দটি শংকর তার কয়েক শতাব্দী আগের শূন্যবাদী বৌদ্ধ দার্শনিক নাগার্জুনের মাধ্যমিক দর্শন থেকে টুকেছেন। উপনিষদে "মায়া" আছে অবিদ্যা নেই।)
     
     
    আইনস্টাইনের দৃঢ় অবস্থান: বস্তুর অস্তিত্ব কোন দ্রষ্টার perception নির্ভর নয়। তার স্বতন্ত্র অস্তিত্ব আছে।
    একটা খালি ঘরে একটা টেবিল পড়ে আছে। কেউ দেখছে না।
    তাহলে কি তার অস্তিত্ব নেই ?
    আমার ব্যক্তিগত ভোট আইনস্টাইনের দিকে।
    কিন্তু রবীন্দ্রনাথকে ফেলে দেওয়া  যায় না। কারণ, সেই টেবিলের দেখতে কীরকম? সেটা তো আবার সেই যে দেখছে তার চোখের পাওয়ার নির্ভর। বেড়াল  কি পান্নার রঙ  সবুজ দেখে?
     
     
    এইখানেই কান্টের চোখে জড়জগত বা thing-- in -- itself exists, but  unknowable. 
  • dc | 2401:4900:632d:90ab:4cf8:71b3:bfdf:a5c2 | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৭:৫৪528173
  • এই যে গুগলদাদু একটা সাইটের খোঁজ দিলো, যেখানে ফর্মাল সিস্টেমে কি কি থাকে তার একটা লিস্টি আছেঃ 
     
     
    In mathematical logic, a formal system is a “set-up” to study the syntactic structures of statements that we see in everyday mathematics. Thus, instead of looking at the meaning of the statement 1+1=21+1=2, one looks at the expression made up of symbols 1,+,1,=1,+,1,=, and 22.
    Formally, a formal system S consists of the following:
    1. 1. 
      the language of S, which is formed by
      1. (a) 
        a set ΣΣ of symbols; finite sequences of these symbols are called words or expressions over ΣΣ;
      2. (b) 
        a set of expressions called well-formed formulas, or simply formulas;
      3. (c) 
        a set of rules that specify how these words are generated; the set is called the syntax of the language; typically, the rules are

        • certain expressions are singled out, which are called atoms, or atomic formulas

        • a set of rules (inductive in nature) showing how formulas can be formed from other formulas that have already been formed
    2. 2. 
      deductive system (or proof system) associated with S, which consists of
      1. (a) 
        a set of axioms; each axiom is usually (but not always) a formula;
      2. (b) 
        a set of rules called rules of inference on S; the rules of inferences are used to generate formulas, which are known as theorems of S; typically,

        • an axiom is a theorem,

        • a formula that can be formed (or deduced) from other theorems by a rule of inference is a theorem.
  • Arindam Basu | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৮:০৮528174
  • ডিসি , রঞ্জন , দুটো পয়েন্টই খুব জোরালো, তবে পলিটিশিয়ান যেহেতু ইনকমপ্লিটনেসের কথা তুলেছিলেন, আমি Godel এর সূত্রের (https://plato.stanford.edu/entries/goedel-incompleteness/ ) প্রেক্ষিতে ভাবছিলাম, অনেকট রঞ্জন যেমন লিখেছেন, তবে রঞ্জনের ইনফারেনসগুলো ডিরাইভড | এখানে আরেকটা প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উঠবে "আমি" কে? self-reference?
     
     
  • dc | 2401:4900:632d:90ab:4cf8:71b3:bfdf:a5c2 | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৮:১১528175
  • "আইনস্টাইনের দৃঢ় অবস্থান: বস্তুর অস্তিত্ব কোন দ্রষ্টার perception নির্ভর নয়। তার স্বতন্ত্র অস্তিত্ব আছে।
    একটা খালি ঘরে একটা টেবিল পড়ে আছে। কেউ দেখছে না।
    তাহলে কি তার অস্তিত্ব নেই ?"
     
    এটা সেই আইনস্টাইন-বোর বিতর্ক, যা পরে শ্রডিংগারের বেড়ালের মাধ্যমে বিখ্যাত হয়েছিল :-) কোয়ান্টাম মেকানিক্সের প্রথম দিকে দ্রষ্টা বা অবসার্ভারের ভূমিকা নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল, অর্থাত অবসার্ভার বলতে ঠিক কি বোঝায়, সেটা কি একটা ক্যামেরাও হতে পারে, বা এনভায়রনমেন্ট হতে পারে, নাকি তাকে বিশেষত কনশাস অবসার্ভার হতে হবে, যে বলতে পারবে যে তারই চেতনার রঙে পান্না সবুজ হয়েছে। তবে এখন কোপেনহেগেন ইন্টারপ্রেটেশান (যা বোরের তৈরি করা) অনুযায়ী, অবসার্ভার মানে স্রেফ একটা ফিজিকাল প্রসেস, যা কিনা শ্রডিংগারের ওয়েভ ইকুয়েশানে হ্যামিল্টোনিয়ান অপারেটর দিয়ে বোঝানো হয়। আর অবজার্ভারের দরকার নেই, এরকম ইন্টারপ্রেটেশানও বেরিয়েছে, এমনকি অবসার্ভার ফ্রি মেজারমেন্টও করা গেছে (ইন্টারঅ্যাকশান ফ্রি মেজারমেন্ট)। 
  • dc | 2401:4900:632d:90ab:4cf8:71b3:bfdf:a5c2 | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৮:১৭528177
  • যাঃ, আগের পোস্টে লাস্ট লাইনটা মিসিং হয়ে গেলঃ 
     
    হ্যাঁ, এখন মূলধারার ফিজিসিস্টরা প্রায় সবাই মেনে নিয়েছেন যে "বস্তুর অস্তিত্ব কোন দ্রষ্টার perception নির্ভর নয়। তার স্বতন্ত্র অস্তিত্ব আছে"। 
     
    "পলিটিশিয়ান যেহেতু ইনকমপ্লিটনেসের কথা তুলেছিলেন, আমি Godel এর সূত্রের (https://plato.stanford.edu/entries/goedel-incompleteness/ ) প্রেক্ষিতে ভাবছিলাম, অনেকট রঞ্জন যেমন লিখেছেন, তবে রঞ্জনের ইনফারেনসগুলো ডিরাইভড | এখানে আরেকটা প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উঠবে "আমি" কে? self-reference?"
     
    সেইজন্যই, পলিটিশিয়ানকে আগে ওই ফর্মাল ল্যাঙ্গুয়েজ আর সেট অফ রুলস বানাতে হবে, তারপর অ্যাক্সিয়ম :-)
  • Arindam Basu | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৮:১৮528178
  • বেজায় ভাল আলোচনাটা জমে উঠেছে |
    ডিসির লেখাটা পড়ে জর্জ গ্যামোর টমপকিনস সিরিজের গল্পের পিডিএফটা শেয়ার করার লোভ সংবরণ করা গেল না, :-)
     
  • dc | 2401:4900:632d:90ab:4cf8:71b3:bfdf:a5c2 | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৮:১৯528179
  • ওহ, টম্পকিন আমার ছোটবেলার ফেভারিট ক্যারেক্টারদের মধ্যে একজন ছিল। গোলপার্কে রামকৃষ্ণ মিশনের লাইব্রেরিতে পুরো সিরিজটা ছিল :-)
  • dc | 2401:4900:632d:90ab:4cf8:71b3:bfdf:a5c2 | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ০৮:২৪528180
  • তবে কিনা, আজ হলো রোব্বারের বাজার, আর আজকে গুলাশ বানাবো ভেবে রেখেছি। তাই বাজারে গিয়ে মাংসের দোকানে একটু অবজার্ভারের ভূমিকা পালন করতে হবে। দুপুরে আবার লিখবো। 
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:75da:1d42:33c1:172d | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১০:০৯528182
  • ধরা যাক একটা ট্রিভিয়াল ফর্মাল সিস্টেম। তিনটে ওয়ার্ড, আমার, নাম, পলিটিশিয়ান। একটাই সেন্টেন্স, একটাই এক্সিয়ম, একটাই ফর্মুলা। অতএব অন্য কোন সেন্টেন্স তৈরি করা যাবে না। ইনফারেন্স রুল সেট নাল।
     
    এটা চলবে?
  • Ranjan Roy | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১১:৩৮528183
  • পনের বছর আগে Coursera  থেকে অনলাইনে লজিকের একটা চমৎকার কোর্স করেছিলাম।  তাতে চারটে ভাগ ছিল । 
    কমনসেন্স ও লজিক, ডিডাকটিভ ও ইনডাকটিভ লজিক, লজিক্যাল ফ্যালাসি এবং ট্রুথ ফলস্ টেস্ট। 
    তাতে ছিল কী কী কন্ডিশনে একটা স্টেটমেন্ট বা প্রপোজিশন ভুল হলেও ফর্মালি করেক্ট হতে পারে এবং ভাইস ভার্সা। 
    এখন সব ভুলে গেছি।
    তাই পলিটিশিয়ানের ইন্টারেস্টিং প্রশ্নে অংশগ্রহণ করতে পারছি না।
    বরং জানা-অজানা জ্ঞেয়-অজ্ঞেয় প্রশ্নে কিছু ইন্টারেস্টিং তথ্য আড্ডায় পেশ করছি।
    জনৈক দার্শনিকের কান্টের তোলা প্রশ্নে 115 বছর আগের কিছু বক্তব্য:
    Absoute Truth
    অসম্ভব।  জ্ঞান স্থান কালের উর্ধ্বে বা স্থান কাল নিরপেক্ষ কোন সত্য হতে পারে না। তাই আমরা ব্রহ্মাণ্ডের বিষয়ে যা জানি তা হল Relative Truth.
    মানবজাতির জ্ঞান ভাণ্ডার হল একটা নিরন্তর চলমান প্রক্রিয়া। An infinite series of summation of many relative Truth. 
    কারণ, বিশ্ব গতিশীল ও পরিবর্তনশীল। তাই পদার্থের নতুন নতুন  বৈশিষ্ট্য আবিষ্কার হতে থাকবে। অণু পরমাণুর স্থান নিয়েছে ইলেকট্রন প্রোটন। ভবিষ্যতে আরো মৌলিক আরো সূক্ষ্ম কণার খোঁজ পাওয়ার সম্ভাবনা।
    আজ যা অজানা কাল তা জানা যাবে। বিজ্ঞান কখনও শেষ বা অন্তিম সত্য  জানার দম্ভ করবে না।
    কাজেই Absolute unknowable and absolute or permanent Truth দুটোই ভুল ধারণা।
    2  Objective Truth
    কথাটা গুরুত্বহীন। ধরুন, Paris is the capital of France.  Objective Truth. এটা একটা অবহেলিত স্টেটমেন্ট বটে, কিন্ত   Ultimate বা absolute নয়। 
    কারণ,  আগামী দিনে রাজধানী অন্য শহরে যেতে পারে অথবা ফ্রান্স নামে কোন  দেশ না ও থাকতে পারে।
    3  ultimate knowledge of cosmos/ universe
     মানবজাতি কোনদিনই সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের স্বরূপ জানতে পারবে না।
    (এই অর্থে কান্ট নির্ভুল?)
    কারণ,মানুষ বিশাল ব্রহ্মাণ্ডের অংশ। অংশ কখনও সমগ্রকে ছাড়িয়ে যেতে পারে না। গতিশীল বিশ্ব পরিবর্তিত হতে থাকবে। মানব নিত্য নতুন রহস্যের মুখোমুখি  হয়ে তার জট খুলবে। এই প্রক্রিয়া নিরন্তর।  
    কারণ গতিই জড়বিশ্বের অস্তিত্বের স্বরূপ।
     
     
    এ নিয়ে সবার মন্তব্য চাইছি। দার্শনিকের নাম আপাতত  গোপন রাখছি।
  • Ranjan Roy | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১১:৪৪528184
  • অরিনদা
     মাইক্রোসফট/ মতিভ্রম প্রসঙ্গ 
    ====================
    দ বা দময়ন্তী আমার গুরুচন্ডালি সূত্রের বহু পুরনো বন্ধু। সেই সুবাদে একটু চিমটি কাটল আর কি! 
    এইটুকুই।
  • Arindam Basu | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১১:৫৮528185
  • বুঝেছি।
    তা আমিও একটু বদ রসিকতা করার সুযোগ ছাড়তে পারলাম না, :-)
  • Arindam Basu | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১২:০২528186
  • " মানবজাতি কোনদিনই সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের স্বরূপ জানতে পারবে না।"
    এবং মানুষ ঐ একই কারণে চেতনার স্বরূপও পুরোপুরি অবধান করে উঠতে পারবে না।‌
     
     
  • Ranjan Roy | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৫:৩৩528189
  • একদম।
    চেতনার তো ব্রহ্মাণ্ডের constituent part..
  • Ranjan Roy | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৫:৩৪528190
  • * চেতনা ও  তো 
  • Ranjan Roy | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৫:৩৬528191
  • অরিনদা ও পলিটিশিয়ান, 
     
    ওই তিনটে বক্তব্য কার?  Any guess?
  • হীরেন সিংহরায় | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৭:১৯528193
  • রঞ্জন 
     
    আপনার লেখা থেকে মনে হলো তাই কি আইনস্টাইন মাক্স 
    প্লাংককে লেখেন
     
    ঈশ্বর নিজেও জুয়া খেলেন না ( God dies not play dice)
     
    কোট 
     

    আইনস্টাইনের দৃঢ় অবস্থান: বস্তুর অস্তিত্ব কোন দ্রষ্টার perception নির্ভর নয়। তার স্বতন্ত্র অস্তিত্ব আছে।
    একটা খালি ঘরে একটা টেবিল পড়ে আছে। কেউ দেখছে না।
    তাহলে কি তার অস্তিত্ব নেই ?
    আমার ব্যক্তিগত ভোট আইনস্টাইনের দিকে।
    কিন্তু রবীন্দ্রনাথকে ফেলে দেওয়া  যায় না। কারণ, সেই টেবিলের দেখতে কীরকম? সেটা তো আবার সেই যে দেখছে তার চোখের পাওয়ার নির্ভর। বেড়াল  কি পান্নার রঙ  সবুজ দেখে?
     
    আনকোট 
     
    নিলস বোর খুশি হন নি। তিনি পাল্টা বলেন
     
    আইনস্টাইন , ঈশ্বরকে জ্ঞান দেবেন না !
     
     
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:da24:7744:ff37:ee3e | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৮:৪০528194
  • রঞ্জনবাবু, জানিনা।
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:e577:3824:9947:d3a7 | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৯:১৬528195
  • "মানবজাতি কোনদিনই সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের স্বরূপ জানতে পারবে না"
     
    রঞ্জনদা, এটা নিজেও একটা অ্যাবসোলিউট স্টেটমেন্ট না? 
     
    "একটাই সেন্টেন্স, একটাই এক্সিয়ম, একটাই ফর্মুলা। অতএব অন্য কোন সেন্টেন্স তৈরি করা যাবে না।"
     
    পলিটিশিয়ান, এই জায়গাটা বুঝলাম না। মানে একই সাথে সেন্টেন্স, অ্যাক্সিয়ম, আর ফর্মুলা কি করে হয়? এগুলো আলাদা না? 
  • Ranjan Roy | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৯:৫৫528196
  • হীরেনদা,
    হেব্বি  দিলেন।
    গত বইমেলায়  জয়ঢাক প্রকাশক থেকে একটি চমৎকার  বই বেরিয়েছিল--"ঈশ্বরের পাশা"। তাতে বিজ্ঞান ও দর্শনের বিকাশ নিয়ে সরল বাংলায সহজ করে স্বাদু আলোচনা আছে। লিখেছেন জনৈক পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক। 
     
    পলিটিশিয়ান, 
    সেই দার্শনিকের নাম ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন।
    মূল বইটি Materialism & Emperio Criticism (1909) 
    এবং
    Philosophical Notebook.
     এনিয়ে রাতে বড় করে লিখব।
     
    ডিসি
    বক্তব্যটি  ঢেলে সাজালে এই রকম:
    ব্রহ্মাণ্ড সদা বিকাশমান ও গতিশীল। 
    মানুষের জ্ঞানও সদা বর্ধমান ও গতিশীল। 
    কিন্ত মানুষ ব্রহ্মাণ্ডের ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। 
    অংশ সমগ্রের চেয়ে কখনই বড় নয়।
    কাজেই মানুষের জ্ঞান কোন কালবিন্দুতেই ব্রহ্মাণ্ডের চেয়ে অধিক হতে পারে না।
     
    আমার ব্যাখ্যা:
    ধরুন, একটি পেল্লায় সাইজের আপেল। আমার খেতে হয়ত সাত দিন লাগবে। এটা সম্ভব। 
    কারণ, আপেল সাইজ স্থির , static, বদলাচ্ছে না। ফলে যত বিশাল সাইজের হোক আমি একদিন ঠিক ওটাকে পেটে পুরে ফেলব।
    কিন্তু আপেল যদি প্রতি মুহূর্তেই বড় হয় এবং তার বৃদ্ধির হার আমার খাবার ক্ষমতার সমান  বা সামান্য  বেশি হয়?
    তাহলে গোটা আপেল কোনদিনই পেটে পুরতে পারব না।
     
    শেষ নাহি  যে, শেষ কথা কে বলবে!
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:da24:7744:ff37:ee3e | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৯:৫৭528197
  • আলাদা হতেই হবে এমন কোন কথা আছে কিনা সেটা জানিনা। আপনার রেফারেন্সে সেরকম কথা দেখলাম না।
     
    আমি যেটা বুঝতে চাইছি ইনকমপ্লিটনেস কি সব ফরম্যাল সিস্টেমের জন্যই? নাকি কিছু কিছু সিস্টেমের জন্য।
     
    আমার এক বন্ধু বলেছে আমাকে পড়াবে। কিন্তু সে বিশাল পন্ডিত। তার কাছে পড়তে বসলে কানমলা খাবার চান্স আছে।
  • পলিটিশিয়ান | 2603:8001:b102:14fa:da24:7744:ff37:ee3e | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৯:৫৯528198
  • লিখুন রঞ্জনবাবু। এমপিরিও ক্রিটিসিজম বহুদিন খুলিনি।
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:e577:3824:9947:d3a7 | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২০:১২528199
  • পলিটোশিয়ান, লজিকের ব্যপারে আমিও খুব কম জানি, যদিও গোডেলের পেপার দুটো পড়েছি। আমি যদ্দুর জানি, যেকোন ফর্মাল সিস্টেমের জন্যই গোডেলের ইনকমপ্লিটনেস থিওরেম খাটে। তবে আপনি "ফর্মাল সিস্টেম" বলে যেটা প্রোপোজ করলেন, ওটা হয়তো সঠিক ফর্মাল সিস্টেম না, যদিও আমার ভুলও হতে পারে। 
     
    "ব্রহ্মাণ্ড সদা বিকাশমান ও গতিশীল। 
    মানুষের জ্ঞানও সদা বর্ধমান ও গতিশীল। 
    কিন্ত মানুষ ব্রহ্মাণ্ডের ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। 
    অংশ সমগ্রের চেয়ে কখনই বড় নয়।
    কাজেই মানুষের জ্ঞান কোন কালবিন্দুতেই ব্রহ্মাণ্ডের চেয়ে অধিক হতে পারে না।"
     
    রঞ্জনদা, জ্ঞানের কথা এলে ইনফর্মেশান থিওরি চলে আসবে, আর কোয়ান্টাম মেকানিক্সে বলা হয় কোয়ান্টাম ইনফর্মেশান কনসার্ভড, অর্থাত টোটাল কোয়ান্টাম ইনফর্মেশান বাড়েও না, কমেও না। ইউনিভার্স এক্সপ্যান্ড করলেও তার মধ্যের কোয়ান্টাম ইনফর্মেশান বাড়ে বা কমে না। ব্ল্যাক হোল ইনফর্মেশান প্যারাডক্স নিয়ে প্রচুর কাজ হয়েছে আর এখনও হয়ে চলেছে। কাজেই "মানুষের" বা কোন কনশাস অবসার্ভারের জ্ঞান কোন একটা সময়ে পুরো ইউনিভার্সের ইনফরমেশানের সমান হতেও পারে। 
     
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:e577:3824:9947:d3a7 | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ২০:১৩528200
  • মানে এটা বলতে চাইছি যে, "মানবজাতি কোনদিনই সমগ্র বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের স্বরূপ জানতে পারবে না", এটা একটা অ্যাবসোলিউট অ্যাসার্শান মনে হচ্ছে। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে প্রতিক্রিয়া দিন