এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ভ্রমণ  পথ ও রেখা

  • শীতল মরুভূমিতে সাড়ে তিনদিন - অবশেষে চন্দ্রতাল 

    লেখকের গ্রাহক হোন
    ভ্রমণ | পথ ও রেখা | ১৮ নভেম্বর ২০২৩ | ৭৬৫ বার পঠিত | রেটিং ৪.৩ (৩ জন)

  • টেথিসের ইশারা দিয়ে এ পথ গেছে চন্দ্রতালের দিকে 
     
    রবিবার ২৪শে সেপ্টেম্বর, আজকে ভাল করে স্নান করে বেরোতে হবে। আজ বিকেল বা কাল সকালে স্নান তো দূর, হাত মুখ ধোয়াও সম্ভব নাও হতে পারে এ কথা আগেই বার বার করে বলে দিয়েছেন সংগঠকরা। চন্দ্রতালে আমরা থাকবো লেক থেকে দুই কি আড়াই কিমি দূরে স্যুইস টেন্টে। সুর্যাস্তের পর সেখানকার তাপমাত্রা অতি দ্রুত নামে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে চন্দ্রতালের উচ্চতা ১৪১০০ ফিট, কাজা থেকে হাজার তিনেক ফিটের মত ওঠা, ওই কালকের মতই। দুদিনে আশা করি কিছুটা অ্যাক্লিমেটাইজড হয়েছি। রাতের তাপমাত্রা এই সেপ্টেম্বরের শেষে শুন্যের নীচেই যাচ্ছে, টেন্টের যাবতীয় পাইপের জল জমেই যায়। ফলে প্র্যাকটিকালি আগামীকাল বিকেলে মানালি ফেরার পরেই আবার হাত মুখ ধোয়া বা স্নান করার কথা ভাবা ভাল। 
     

    কী-মনাস্টারির পথে 

    কর্পুর, ডাউন জ্যাকেট, চ্যুইং গাম হাতের কাছের ব্যাগে ভরি। মাফলার আর হেড টর্চ ভুল করে পুণেতেই ফেলে এসেছি। ঠান্ডা থেকে বাঁচার জন্য চার স্তরে জামাকাপড় পরে আটটার মধ্যে তৈরী হয়ে দেখি যথারীতি আজও  গাড়ি ছাড়তে দেরী আছে। আর্টিগার ভেতরে ছয় জন লোক এবং প্রচুর ব্যাগপত্তর থাকায় খানিক চাপাচাপি হয়। সেটা থেকে বাঁচতে নিজের ৫০ লিটারের ব্যাকপ্যাকটা আমি গাড়ির ছাদে দিয়ে দিচ্ছিলাম। কিন্তু এই সময় আজ  একটা ভুল করলাম। হাইকিং স্টিকটাকে ব্যাকপ্যাকে ভরে গাড়ির ছাদে দিয়ে দিলাম। আসলে আগে বলা হয়েছিল আমরা বিকেলে চন্দ্রতালে যাবার চেষ্টা করব, তবে পরেরদিন সকালেই ভাল করে দেখতে যাবো। কিন্তু পরে এই পরেরদিনের যাওয়াটা ক্যান্সেল হয় যেটা মাঝরাস্তায় গিয়ে জানতে পারি।

    স্টিক না থাকায় ভালই ভুগেছি, যাই হোক সেকথা পরে। প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ বেরিয়ে আমাদের প্রথম গন্তব্য কি-গোম্পা। স্পিতি নদীর ধার ঘেঁষে পাহাড়ের উপরে ১৩৬৮৮ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত কি-গোম্পা বা কি-মনাস্টারি স্পিতি ভ্যালির সবচেয়ে বড় গোম্পা। এখানে লামাদের শিক্ষার জন্য বৌদ্ধ ধর্মশাস্ত্র শিক্ষার কেন্দ্র আছে। অতীশ দীপঙ্করের প্রধান শিষ্য দ্রোমতোন বা দ্রোমতংপা ১০৫৭ খ্রীস্টাব্দে এই গোম্পা গড়ে তোলেন। এই গোম্পায় অতি প্রাচীন দেওয়ালচিত্র, থাংকা, পুঁথি, অস্ত্রশস্ত্র এবং দুর্লভ বাদ্যযন্ত্রের সংগ্রহ আছে। সময় নিয়ে গেলে এই সংগ্রহের অনেকটাই দেখাও যায়, লামারা যত্ন করেই দেখান বলে পড়েছিলাম। আমাদের সংগঠক অবশ্য নামতেই জানিয়ে দেন এখানে আধঘন্টা বরাদ্দ, তার মধ্যেই দেখেশুনে নিতে হবে।


    কী-গোম্পা 

    গাড়ি গিয়ে দাঁড়ায় সোজা মনাস্টারির পার্কিঙে, মাঝে যে একটা ভিস্তা পয়েন্ট আছে যেখান থেকে স্পিতি নদী আর পাশের গোটা পাহাড়সহ কী-গোম্পা দেখতে পাওয়া যায়, সেখানেও দাঁড়ায় না নীরজ। ওর উপরে নির্দেশ আছে কোথাও না দাঁড়ানোর। অগত্যা! পার্কিঙ থেকে মনাস্টারির মূল দরজা বেশ খাড়া ঢাল। হাতে কর্পুর নিয়ে আস্তে আস্তে চড়তে শুরু করি গোম্পার উদ্দেশ্যে। এইবারে  অল্পস্বল্প শ্বাসকষ্ট টের পাই। তবে ধীরে ধীরে ওঠায় খুব কিছু মনে হয় না। গোম্পার মূল দরজায় পৌঁছে দুজন স্থানীয় মহিলাকে ধরে কীভাবে কী দেখা যেতে পারে জিগ্যেস করে জানতে পারি গোম্পার ভেতরে ফোটোগ্রাফি মানা। ব্যস্ত হয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন তাঁরা, একদম উপরের মন্দিরের রাস্তা দেখিয়ে, কিচেনের রাস্তা বলে দিয়ে দ্রুত চলে যান।

     

    কী-গোম্পা মূল ফটক 

    মূল গোম্পা তিনতলা। এর সর্বোচ্চ তলায় চড়ার পাথরের সিঁড়ি একদম খাড়া, সরু, এবড়খেবড়ো এবং দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে জায়গায় জায়গায় অতি মসৃণ ও পিচ্ছিল। অজন্তা ইলোরাতেও খ্রীষ্টিয় প্রথম শতকে তৈরী সিঁড়ি মোটামুটি এরকমই। এরকম সব জায়গায় আমি চার হাতপায়ে হামাগুড়ি দিয়ে উঠে যাই, তাতে হঠাৎ পড়ে যাবার সম্ভাবনা এড়ানো যায়। মূল ফটক দিয়ে ঢুকেই প্রথম স্তরে একটা বড় হলঘরের একপ্রান্তে বুদ্ধের একটি মস্ত মূর্তি আছে ধ্যানমগ্ন ভঙ্গীমায়। সেই হলের বাকী তিনপাশের দেওয়ালে পরপর সাজানো কিছু থাংকা। অতঃপর হামাগুড়ি দিয়ে তিনতলায় উঠি, সেখানে ছোট্ট মন্দির, বুদ্ধমূর্তি, পাশে খোলা ছাদ। ছাদে দাঁড়িয়ে দম নিতে না নিতেই শুনতে পাই নীচ থেকে তীব্র হুইসল বাজিয়ে গাড়িতে যাওয়ার আহবান।

    গোম্পার ভেতরে ছোট ছোট প্রার্থনাকক্ষগুলোও অসাধারণ দেখতে বলে পড়েছি। অতি সরু প্যাঁচালো বারান্দা ধরে এক একটা কক্ষে যাওয়াই নাকি এক আলাদা অভিজ্ঞতা। তা সেসব কিছুই আধঘন্টায় দেখা সম্ভব নয়। কী-গোম্পা মোটামুটি দেখার জন্যও তিন থেকে চার ঘন্টা সময় হাতে নিয়ে আসা ভাল। কাজা থেকে দূরত্ব ১৪ কিমি, গাড়িতে আসতে সময় লাগে আধঘন্টা থেকে চল্লিশ মিনিটের মত। আগ্রহীরা কাজা থেকে এসে একটা বেলা অন্তত এখানে কাটাতে পারেন। জুলাইমাসে  এই মনাস্টারিতে চাম উৎসব হয়। সেসময় লামারা মনাস্টারির সংগ্রহে থাকা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নানা মুখোশ পরে নৃত্যগীতের অনুষ্ঠান করেন। শীতের সময় গোম্পায় গেলে প্রথমেই ওঁরা ওঁদের রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে নুন মাখনের চা দিয়ে আপ্যায়ন করেন বলে শুনেছি।

    তো সেসব অভিজ্ঞতা হবে হয়ত কখনো। আপাতত বসে বসে সেই খাড়া সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসি। এখানে বলে রাখি  গোম্পার চত্বরের বাইরে পরিস্কার বাথরুমও আছে। এরপরে চন্দ্রতালের ক্যাম্পে পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত আর কোথাও পাওয়া যাবে না, কাজেই ব্যবহার করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আজকেও আমরা চোদ্দ হাজার ফুটের উপরে যাবো এবং থাকবো কাজেই চার থেকে পাঁচ লিটার জল খাওয়া দরকার। পরবর্তী গন্তব্য চিচম ব্রিজ, এশিয়ার সর্বোচ্চ সাসপেনশান ব্রিজ। ১০০০ ফুট গভীর গিরিখাতের মধ্যে বয়ে যাওয়া স্পিতির উপনদী সাম্বা-লাম্বা নালার উপরে প্রায় ১১৪ মিটার লম্বা এই ব্রিজের উদ্বোধন হয় ২০১৭ সালে। চিচম ব্রিজ লোসার আর কিব্বের গ্রামের মধ্যে যাতায়াত সহজ করেছে, দূরত্ব কমিয়েছে প্রায় ৪০ কিলোমিটারের মত।      
     

    চিচম ব্রিজ  
     

    হাজার ফিট গভীর গিরিখাতের উপরে 
    পরিস্কার দিনে কুঞ্জুম পাস থেকে বড়াশিগ্রি হিমবাহের ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ পাওয়া যায়। ঠিক কুঞ্জুমে পৌঁছোবার আগের বাঁকে একটা খাড়াই চড়তে গিয়ে আজও  আমাদের গাড়ি গেল আটকে। মাঝের সিটের বাঁদিকের দরজার পাশে ছিলাম আমি, নামলাম অভি আর অর্ণাদির সাথে। বেশ কিছুক্ষণ কসরত করে নীরজ তুলল খাড়াইতে, কিন্তু তুলে বেশ খানিক টেনে এগিয়ে গেল। এইবারে চলতে গিয়ে টের পেলাম অক্সিজেনের অভাব। যত আস্তেই চলি না কেন দম তো আর পাইই না। মিনিট ছয়েকের চেষ্টায় পৌঁছালাম গাড়ি পর্যন্ত আর বুঝলাম এতদিনে হাই অলটিচ্যুড সত্যিই কবজা করতে শুরু করেছে। কুঞ্জুমপাসে পৌঁছে অধিকাংশ সহযাত্রীই দৌড়ালেন কুঞ্জুমমাতার মন্দিরের দিকে। এ ছাড়াও এখানে একটা বৌদ্ধমন্দির আর একটা বৌদ্ধ স্তুপও আছে। 


    বড়াশিগ্রি হিমবাহ 


    হু হু কি ঠান্ডা  বরফিলা হাওয়া 

    কুঞ্জুমমাতার কাছে কয়েন দেবার প্রথা আছে, কয়েন যদি আটকে থাকে তাহলে মনোষ্কামনা পূর্ণ হবে বলে বিশ্বাস করেন অনেকে। কাজেই একবারে কয়েন না আটকালে বারেবারে দিতে থাকেন যতক্ষণ না আটকায়। কুঞ্জুমপাস মোটামুটি জুনের মাঝামাঝি কি তৃতীয় সপ্তাহে খোলে অক্টোবরের শেষ অবধি খোলা থাকে। কোনও কোনওবার আগেই বেশী তুষারপাত শুরু হয়ে গেলে অক্টোবরের মাঝামাঝিই পাস বন্ধ হয়ে যায়। শীতল এই মরুভূমি তখন বিচ্ছিন্ন বাকী পৃথিবী থেকে। এখান থেকে চন্দ্রতালের দূরত্ব ২১ কিলোমিটার, কুঞ্জুম বাতাল মেন রোড NH505 থেকে চন্দ্রতালের দিকে রাস্তা বেরিয়ে গেছে। কুঞ্জুম থেকে চন্দ্রতালের একটা শর্টকাট (৭ কিমি) ট্রেক রুটও আছে। তবে  অভিজ্ঞ স্থানীয় গাইড ছাড়া সেই রুটে যাওয়া একেবারেই উচিৎ নয়। 


    কুঞ্জুমপাসের মন্দির 

    আমরা পৌঁছোবার অল্পক্ষণের মধ্যেই বেশ খানিক মেঘ করে এলো আর ঠান্ডার ভোল্টেজও টুক করে একটু বেড়ে গেল। বড়াশিগ্রি হিমবাহ ও তার থেকে নেমে আসা বরফ নদী ছুঁয়ে দৌড়ে আসা হু হু ঠান্ডা হাওয়া জমিয়ে দিতে হাত। বাধ্য হয়ে মোবাইলে ভিডিও করা ছেড়ে উলের দস্তানায় হাত মুড়ে ক্যামেরা নিই। তাও ঠান্ডায় কোনরকম সেটিংস বদলানো প্রায় অসম্ভব। কুঞ্জুম থেকে রওনা হতে হতে সওয়া চারটে বেজে গেল। চন্দ্রতাল পৌঁছাতে বাজল সাড়ে পাঁচটা। লেকের পাশে এখন আর তাঁবু খাটাতে দেয় না, এমনকি  দিনের আলো ফুরোবার আগেই লেক এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয়। লেকের এক কিলোমিটার আগে পার্কিং লট, সেখানেই একটা ছোট পুলিশ চৌকি। প্রত্যেকের নাম ফোন নম্বর লিখিয়ে তবেই লেকের দিকে রওনা দেওয়া।

     
     

    এনএইচ৫০৫ থেকে বাঁক নিয়ে একটু পরেই 

    চন্দ্রতাল ক্যাম্পসাইটে না দাঁড়িয়ে আমরা সোজা চললাম লেকের দিকে। গাড়ির সারথিরা যতক্ষণে নামটাম এন্ট্রি করাচ্ছে ততক্ষণে আমরা পায়ে পায়ে হাঁটা দিলাম। ১৪১০০ফিট উচ্চতায় অবস্থিত অর্ধচন্দ্রাকৃতি এই হ্রদ চন্দ্রানদীর অন্যতম উৎস। গোটা স্পিতি উপত্যকা মরুভূমির মত রুক্ষ শুষ্ক হলেও চন্দ্রতালের আশেপাশের এলাকা কিন্তু রীতিমত সবুজ ঘাসে ঢাকা, লেকের কাছাকাছি খুব ছোট ছোট ঘাসফুলও দেখা যায়। জুন জুলাইতে নাকি ফুলের সংখ্যা অনেক বেশী থাকে, এখন প্রায় শীত আসি আসি করছে তাই ফুলও বেশীরভাগ ঝরে গেছে। বরলাচা-লাএর দক্ষিণ পশ্চিম দিকে থেকে চন্দ্রা নদী আর উত্তর পশ্চিম দিকের সূর্যতাল থেকে ভাগা নদী উৎপন্ন হয়ে খানিকদূর এগিয়ে তান্ডিতে মিলিত হয়ে পঞ্চনদের অন্যতম চন্দ্রভাগা নদীর সৃষ্টি করেছে।

    এখানে ম্যাপ দেখতে গিয়ে একটা জিনিষ খেয়াল করেছিলাম, বরলাচা পাসের দক্ষিণ পশ্চিমে একটা বড়সড় হিমবাহ থেকে চন্দ্রা নদী বেরিয়ে এসেছে আবার মাঝে বেশ খানিকটা গ্যাপের পরে চন্দ্রতাল থেকে বেরিয়ে চন্দ্রা চলেছে টানা যতক্ষণ না তান্ডিতে ভাগার সাথে মিলিত হয়। মাঝে মাঝে বড়াশিগ্রি, ছোটাশিগ্রি ইত্যাদি হিমবাহ থেকে ছোট ছোট উপনদী এসে মিশেছে চন্দ্রায়। চন্দ্রতাল লেকের জলের উৎস আরেকটা অমীমাংসিত রহস্য। লেকের জল বরফগলা জলে পুষ্ট কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে কোন হিমবাহ এর উৎস নয়। তাহলে একমাত্র হতে পারে মাটির গভীর থেকে যদি জল ওঠে। কিন্তু সেটাও এখানকার ভূপ্রকৃতির জন্য নাকি সম্ভব নয়। তাহলে হয়ত ওই বরলাচা-লাএর হিমবাহটার সাথে পাহাড়ের অভ্যন্তরে কোথাও যোগাযোগ আছে, কে জানে! কোন ভূগোলবিদ যদি এই ব্লগ পড়ে বিস্তারিত জানান তাহলে উপকৃত হব।


    এনএইচ ৫০৫ - এ রীতিমত ন্যাশনাল হাইওয়ে বাবা!

    চন্দ্রতাল লেককে ঘিরে  একাধিক উপকথা, লোককথা প্রচলিত। পুর্নিমার রাতে নাকি পরীরা নামে স্নান করতে। একটা গল্প চন্দ্রদেবের কন্যা চন্দ্রা আর সূর্যদেবের পুত্র ভাগা একে অপরের প্রেমে পড়ে, কিন্তু অভিভাবকরা নারাজ বিয়েতে। তাদের দেখা হয়েছিল বরলাচা-লায়, সেখান থেকে পালিয়ে বিয়ে করতে গিয়ে বিস্তর বাধাবিঘ্নের পরে তান্ডিতে গিয়ে মিলন হয়। তো লুকিয়ে থাকার জন্য দুজনে দুটো হ্রদ বানিয়ে নেয়, চন্দ্রতাল আর সুরজতাল। দেবদেবীদের ছেলেপুলেরা কি পরিমাণ প্রিভিলেজড দেখুন, হুট বলতেই দুখানা কাকচক্ষু জলের হিমবাহী হ্রদ(গ্লেসিয়াল লেক) বানিয়ে ফেলল। আরেকটা গল্প প্রচলিত যে একে একে সব ভাই ও দ্রৌপদী মারা যাবার পরে ইন্দ্র তার রথ নিয়ে এসে যুধিষ্ঠিরকে চন্দ্রতাল হ্রদ থেকেই সরাসরি স্বর্গে নিয়ে গেছিল।

    কিন্তু মহাপ্রস্থানের পথ বলতে তো জানি মানাগ্রাম পেছনে ফেলে সতোপন্থ তাল পৌঁছালে তালের ডানদিকের কোণায় স্বর্গারোহিণী হিমবাহ, যা বেয়েই নাকি যুধিষ্ঠির স্বর্গে গিয়েছিল। স্বর্গারোহিণীতে তো অনেকে আবার সিঁড়ির মত ধাপ কাটাও দেখতে পায়। তা স্বর্গারোহিণী দিয়ে উঠে কীভাবে চন্দ্রতাল পৌঁছাল কে জানে! বইপত্র খুঁজে দেখতে হবে কোন পুরানো ট্রেক্ রুট আছে বা আগে ছিল কিনা। পার্কিং থেকে চন্দ্রতালের দিকে যাওয়ার রাস্তাটা খানিক উপরে, পাথর বসিয়ে দুই তিনধাপ সিঁড়ি করা। আগে লেকের পাশেই তাঁবু খাটিয়ে থাকা যেত, কিন্তু লেকের পাশের পরিবেশ ক্রমশ দূষিত হয়ে ওঠায় ও রাতে জলে ডুবে মৃত্যুর বেশ কটি ঘটনা ঘটায় গত বছর থেকে অন্ধকার হয়ে যাওয়ার পর লেকের পাশে থাকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    লেকের পথে দুই পা হেঁটেই বুঝলাম কাহিল অবস্থা, তাড়াতাড়ি ফিরে ক্যামেরার ব্যাগ নীরজকে দিয়ে গাড়িতে ফেরত পাঠিয়ে আবার চলা শুরু। প্রথম একশো মিটার কি তার একটু কম মোটামুটি চলা গেল, যদিও বেশ ধীরে। এদিকে কী-গোম্পা থেকে ফিরে কর্পুরের পুঁটলি কোথায় ফেলেছি কে জানে। ওদিকে হাইকিং স্টিক  হাতে না থাকার অসুবিধে অনুভব করছি প্রতি পদক্ষেপে। অর্ণাদি হাত বাড়াল ভাগ্যিস। দলের এক দাদা বৌদিও চলছিলেন ধীরে ধীরে, বৌদির কাছে অনেকটা কর্পুর ছিল। দিলেন আমাকে খানিকটা, দাদা দিলেন জল। খানিক এগোই একটু দাঁড়াই, হ্যা হ্যা করে খানিক হাঁপিয়ে একটু দম পেলে আবার হাঁটা। ততক্ষণে দলের বাকীরা লেকের পাশে পৌঁছে গেছে কখনই।

    মাঠের মধ্যে দিয়ে অল্প চড়াই তারপর উৎরাই আবার একটু চড়াই। এমনিতে খুব কঠিন কিছু না,বরং অতি সহজ, পুণেতে গাছ লাগাতে গিয়েও আমরা এর চেয়ে বেশী চড়াই ভাঙি। কিন্তু এখানে ক্রমশই শ্বাসকষ্ট বাড়ছে। ইতিমধ্যে ঘাসের মাঠের মধ্যে সরু পিরপিরে ধারায় চন্দ্রার দেখা মিলেছে, যত সামনে এগোচ্ছি ধারায় জল ক্রমে বাড়ছে, চওড়াতেও পরিমাণেও। মাঝে মাঝে দুই তিন জায়গায় পাথর জড়ো করে সাজিয়ে এপার থেকে ওপার যাবার ব্যবস্থা করা আছে। ওপারে গেলে তবেই নেমে গিয়ে লেকের চওড়া অংশের পাশে পৌঁছানো যাবে। অর্ণাদি পেরোবে, হাত বাড়ালো। কিন্তু আমার  যে খানিক ভার্টিগো আছে সেটা বেমালুম ভুলেই গিয়েছিলাম। এই মোক্ষম মুহূর্তে তিনি এসে গুছিয়ে বসলেন মাথার মাঝমধ্যিখানে আর দিলেন মাথাটাকে লাট্টু পাক ঘুরিয়ে।  


    আলগা পাথরের ব্রিজ 

    এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশে মনে হল দড়াম করে পড়ে যাচ্ছি ওই জলের মধ্যেই। কিন্তু নাহ ‘ব্যালেন্সটা কখনো হারাস না কমল’, ‘ফাইট কোনি ফাইট’ ইত্যাকার কালো সাদা অক্ষরেরা বইয়ের পাতা থেকে ফুরফুরিয়ে উড়ে এসে কোনমতে সামলে দিল। অর্ণাদিকে যেতে বলে আমি পায়ে পায়ে পিছিয়ে পাথরে ঠেসান দিয়ে দাঁড়াই। চন্দ্রার ধারার ওপাশে ডানদিকে বিস্তীর্ণ সমতলভূমি নেমে গেছে লেক পর্যন্ত, বাঁদিকে কিন্তু আস্তে আস্তে পাথর থেকে টিলা হয়ে পাহাড় উঠছে। বাঁদিকেও একটা পায়ে চলা সরু রাস্তা আছে। লেক পুরোটাই প্রদক্ষিণ করা যায়। এদিক দিয়ে এগিয়ে গেলে হয়ত জলধারা না পেরিয়েই পুরোটা ঘুরে ওপাশে যাওয়া যাবে। খানিক বসে বিশ্রাম নিয়ে পায়ে পায়ে এগোই। কিছুটা সামনে গিয়ে আবারো একটা অমন নড়বড়ে পাথর সাজিয়ে ব্রিজ বানানো।


    প্রথম দর্শন 

    নীরজ ওইপার থেকে আমাকে দেখে ব্রিজ পেরিয়ে আসে আমাকে নিয়ে যেতে। কিন্তু আমি আর সাহস পাই না, তখনো অল্প অল্প ঘুরছে মাথা, খুব সাবধানে পা টিপে টিপে এগোচ্ছি যাতে হঠাৎ পড়ে টরে না যাই। নীরজ বারেবারে বলে ‘আরে চন্দ্রতাল দেখার জন্যই তো এসেছ, দেখা হবে না শুনে অত রাগ করছিলে আর এত কাছে এসে না দেখে চলে যাবে?’ আমি বলি ‘না দেখে কেন, এই তো দেখতে পাচ্ছি প্রায় পুরো লেকটাই’। নীরজ ওপাশে ফেরত গেলে আবার এগোই আর একটু একটু করে  চন্দ্রতালের রূপ ফুটে ওঠে চোখের সামনে। তালকে ঘিরে রাখা বেগনে-বাদামী পাহাড়গুলোর মাথা সোনার পাতে মুড়ে দিয়ে সূর্য ক্রমশই ওদিকের পাহাড়টার পেছনে নেমে যাচ্ছে। লেকের পাশের হইচই কমে আসছে, ট্যুরিস্টরা ফেরার পথে রওনা দিচ্ছে একে একে।


    পুর্নিমার রাতে এখানে পরীরা নামে স্নান করতে 

    আমিও ফেরার পথ ধরি। ইচ্ছে ছিল আরো এগোনর, পুরোটাই ঘুরে আসার। কিন্তু তার জন্য সময় লাগবে, অন্তত ঘন্টাখানেক তো বটেই। তত সময় তো নেই। ফেরার পথ দেখি যাবার চেয়েও কঠিন। প্রতি পাঁচ কি দশ পদক্ষেপে একবার করে দাঁড়ানো। অভি আর মৌমিতা এগিয়ে আসে, মৌমিতা ন্যাপথালিন বের করে দিয়ে বলে ‘এটা কর্পুরের চেয়ে ভাল, শুঁকে দেখো।‘ সত্যিই যেন একটু বেশী দম পাই। সেই দাদা বৌদিও ফিরছেন। বৌদি হাত ধরেন। খানিক এগিয়ে দাদা দুই হাতে আমার আর বৌদির হাত ধরেন। সমৃক, অভিষেক মেঘা আর গীতিও সঙ্গে সঙ্গে চলে। বলে ‘তুমি চল না একদম আস্তে আস্তে, আমরা আছি তো সাথে।‘ বিদ্যাদাদা এগিয়ে আসেন এইবারে, দাদাকে বলেন আপনারা যান আমি নিয়ে যাচ্ছি।


    অস্ত যাবার আগে চুড়োগুলোকে সোনার পাতে মুড়িয়ে দিচ্ছে সুজ্জিমামা 

    বিদ্যাদাদা এগিয়ে গিয়েছিলেন অনেকটা, আবার পিছিয়ে এসেছেন স্রেফ আমাকে নিয়ে যাবেন বলে। শক্ত মুঠোয় পাকড়ে ধরেন হাত আর টুকটাক গল্প করতে থাকেন। সমৃক শেখান নিঃশ্বাস নেওয়ার কায়দা। মুখ দিয়ে নেওয়া চলবে না এ তো জানিই, এখন জানলাম নাক দিয়ে যতটা নেওয়া মুখ দিয়ে ছাড়তে হবে তার অর্ধেক বা তার সামান্য কিছু বেশী। ফুসফুস পুরো খালি করা চলবে না। সেই যে হাফলঙে শুবোজিৎকে বলেছিলাম রাস্তায় বেরিয়ে হাত বাড়ালে ধরে এগিয়ে দেবার লোক ঠিক জুটে যায়, এখানেও তাইই হল। এ অবশ্য আমি বার বারই দেখেছি। এঁদের সাথে এতদিন ঘুরছি, ওই খাওয়ার সময় কি বেরোনর আগে টুকটাক দু’একটা কথা। অথচ এই খিটকেল অবস্থায় দিব্বি সবাই চারদিক থেকে ঘিরে রইলেন।


    চন্দ্রা নদী (আসার পথে নেওয়া) 

    বিদ্যাদাদার সুনামীর সময় চেন্নাইতে লোকজন উদ্ধারের গল্প শুনতে শুনতে এসে পৌঁছাই পার্কিঙে। ততক্ষণে একটা গাড়ি বেরিয়ে গেছে। নীরজ গিয়ে রিপোর্ট করে সবাই ফিরেছে, আমরা রওনা হই টেন্টের দিকে। চন্দ্রতাল ভালভাবে উপভোগ করতে  অন্তত দুই থেকে তিনঘন্টা সময় নিয়ে আসা উচিৎ। এখন ক্যাম্পিং সাইট সরিয়ে আনা হয়েছে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। একটু উপরের দিকের রঙচঙে তাঁবুগুলোর দিকে ট্র্যাভেলারটা চলে যায় আর আমাদের গাড়ি নেমে আসে খানিক নীচের অপেক্ষাকৃত ম্যাটম্যাটে তাঁবুগুলোর সামনে। শোবার ঘর, বাথরুম আর বসার জায়গা নিয়ে এক একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ তাঁবু। সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে আলো জ্বলে রাত ন’টা পর্যন্ত।  শরীর এখনো বেশ খারাপ। বিদ্যাদাদাকে ভাল করে চেনা হল না এই দুঃখ রয়ে গেল।
     
    #নিজের অপারগতাটুকু বিস্তারিত লিখে রাখলাম। যেদিন কাটিয়ে উঠে আবার যাবো সেদিন ফিরে দেখবো।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ভ্রমণ | ১৮ নভেম্বর ২০২৩ | ৭৬৫ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    ও নাম! - Suvasri Roy
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Arindam Basu | ১৮ নভেম্বর ২০২৩ ০২:৩০526198
  • অসাধারণ! 
  • Arindam Basu | ১৮ নভেম্বর ২০২৩ ০২:৩৪526199
  • কিছু লেখা প্রাণভরে পড়ার আর চোখ জুড়িয়ে শুধু দেখার, অন্তরের সমস্ত কথাকে চুপ করিয়ে, স্তব্ধ করিয়ে রাখে। এই লেখাটা সেইরকম!
  • যোষিতা | ১৮ নভেম্বর ২০২৩ ০৩:৫১526202
  • বেঁচে থাকলে একবার যেতে হবে। মঙ্গোলিয়ার গোবি মরুভূমিও শীতল, তবে তাশ রূপ অন্য। উঁচু নীচু পাহাড় আগ্নেয়গিরি নদী লেক বালিয়াড়ি সবই আছে, তবে হিমালয়ের সঙ্গে অনেক পার্থক্য।
    আমার চেয়ে বয়সে অনেক ছোট এক ভায়ের সঙ্গে পায়ে হেঁটে পৃথিবীর যত দেশ ঘোরা সম্ভব ততটা হাঁটাহাঁটির একটা প্ল্যান আছে। একসময়ে ইচ্ছে ছিল পায়ে হেঁটে গোটা দুনিয়া ঘুরব। আমার মনে হয়, হিমালয় পায়ে হেঁটে ঘুরলে হয়ত শ্বাসকষ্টের সমস্যা কম হতে পারে। 
  • প্রতিভা | 2401:4900:7088:b055:a179:ef43:dcb2:19d8 | ১৮ নভেম্বর ২০২৩ ০৭:২১526204
  • অসাধারণ!  কিন্তু মনে হয়, দমের দম ফুরিয়ে যাওয়া জায়গায় আমি যেতে পারব না কোনদিনই। সেটা খুব কষ্ট। 
  • dc | 2401:4900:1f2b:c5d2:d09c:e1da:e244:1a63 | ১৮ নভেম্বর ২০২৩ ০৮:৩১526205
  • চন্দ্রতাল তো অসাধারন! এরকম জায়গায় ঘুরতে না যেতে পারলে জীবনটাই বৃথা :-)
  • r2h | 134.238.165.73 | ১৮ নভেম্বর ২০২৩ ০৯:২৩526207
  • কী অসম্ভব সুন্দর!
    আর কী সুন্দর বর্ণনা আর ছবি।
    সব কটা পর্ব এক সঙ্গে পড়তে হবে এবার।
  • সুদীপ্ত | ১৮ নভেম্বর ২০২৩ ১২:১৬526210
  • দুর্দান্ত , দুর্দান্ত!  অসাধারণ সব ছবি! 
    জীবনের সব কঠিণ সময়েই বই-এর পাতারা বেশ ফুরফুরে করে দেয় - বইয়ের এ এক বড় ঋণ , শোধ হওয়ার নয়। 
    হাইকিং স্টিক বা ট্রেকিং পোল খুব কাজের জিনিস। ওটা না থাকাতেই মনে হয় এতটা অসুবিধে হয়েছে।  
    পান্ডবদের মহাপ্রস্থানের গল্পটা সতোপন্থের সাথেই খাপ খায় বেশী , প্রত্যেকের কোথায় কোথায় মৃত্যু হয়েছিল মানা থেকে স্বর্গারোহিণী যাওয়ার পথে সেসব-ও গল্প আছে;    
    আমরা মানালি থেকে লে যাওয়ার পথে কেলং এর কাছে চন্দ্র (বা চন্দ্রা) আর ভাগা দুই নদীকে আলাদা দেখেছিলাম ,আবার তাদের সঙ্গম-ও দেখেছিলাম যেখানে এসে চন্দ্রভাগা (বা চেনাব) হয়ে গেল। নদীর ছবিগুলো পাহাড় নিয়ে খুব সুন্দর উঠেছে। 
  • | ১৮ নভেম্বর ২০২৩ ২১:১৭526221
  • অরিন, 
    আপনার মন্তব্যটা খুবই ভাল লাগল।  ধন্যবাদ জানবেন। 
     
    যোষিতা, 
    পায়ে হেঁটে গেলে অ্যাক্লিমেটাইজেশান খুব ভালভাবে হয় কাজেই এএমএস এর চান্স কম থাকে।  কিন্তু লাংস আর হার্ট তেমন তাগড়া না হলে শ্বাসকষ্ট কিছু হবেই। সুদীপ্ত ওর ব্লগে কিছু ডেইলি কার্ডিও একসারসাইজের কথা বলেছিল। ওইগুলো করে করে হার্ট আর লাংস্কে ট্রেইন করে নিলে  তেমন সমস্যা হয় না। 
    কিন্তু এএমএস এক মারাত্মক জিনিষ।  ওইজন্য ১০হাজার ফিটের উপরে গেলেই  খুব সতর্ক থাকা দরকার।
    মঙ্গোলিয়ার গল্পটা ঝপাঝপ লিখে ফেলুন। 
     
    প্রতিভা,
    অসম্ভব বলে ত কিছু তেমন হয় না। ডাক্তারের সাথে কথা বলে দেখো। তবে হার্টের সমস্যা থাকলে ডাক্তাররা না করেন। 
     
    ডিসি, 
    চলে যান। একটা ৪হুইল ড্রাইভ নিতে যাবেন ব্যাসস :-) 
     
    হুতো,  থ্যাঙ্কু থ্যাঙ্কু।
     
    সুদীপ্ত, 
    হ্যাঁ বইয়ের মত বন্ধু আর কে। হাইকিং পোল লাগেজে ভরাটা খুব বাজে ভুল। আরে তুই ট্যুর প্ল্যানারে আছিস তো। ওখানে কে একজন লিখেছিল পান্ডবদের মরু পেরোন আসলে ঠান্ডা মরুভূমি। স্পিতি। সে বেশ  বড়সড় ব্যাখ্যাও  দিয়েছিল। 
  • kk | 2607:fb90:ea0c:cd31:3513:7c3e:3494:5e2 | ১৮ নভেম্বর ২০২৩ ২১:৩৭526222
  • হিমবাহ আর কুঞ্জুমপাসের ছবিগুলো ভীষণ ভালো লাগলো। কুঞ্জুমপাসের ছবিটা দেখতে দেখতে তো মনে হচ্ছে ঐ হু হু হাওয়া গায়ে এসে লাগছে। আর তালের ছবিগুলো নিয়ে কোনো কথাই হবেনা। ঐখানে পূর্নিমা রাত্রে একবার গিয়ে বসে থাকতে পারলে বেশ হতো (জানি সম্ভব নয়। তবু ইচ্ছে তো করে মানুষের অনেক কিছু)। খুব মন ভরানো এই সিরিজটা।
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:b556:de5e:c75a:461a | ১৮ নভেম্বর ২০২৩ ২২:৪৫526228
  • সামনের বছর আমার মেয়ে কলেজে ঢুকবে। আমি আর বৌ প্ল্যান করছি আমরা দুজন নানান জায়গায় ঘুরে বেড়াবো, তার মধ্যে চেন্নাই- অমৃতসর-লাদাখ রোড ট্রিপের কথাও ভেবেছি। দেখা যাক। 
  • দীমু | 182.69.178.92 | ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ০০:৩৬526232
  • ট্যুর অপারেটরদের তাড়ায় খুবই রসভঙ্গ হচ্ছে। পড়তে আর দেখতে খুবই ভাল লাগছিল কারণ লাদাখ আর স্পিতি কোনোদিন শ্বাসকষ্টের কারণে যাওয়া হবে না। 
    কিন্তু সিরিজটা কি এখানে শেষ হয়ে গেল ? 
  • | ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ০০:৪৭526233
  • আর একটা পর্ব হবে। ওই সাড়ে আর ফেরা। 
  • দীমু | 182.69.178.92 | ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ০০:৫১526234
  • আচ্ছা yes
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন