এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  শিক্ষা

  • হর হর ট্যাবলেট

    অম্লানকুসুম চক্রবর্তী
    আলোচনা | শিক্ষা | ১৯ ডিসেম্বর ২০২২ | ৭২৫ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)

  • বাড়িতে ঘর মোছা বাসন মাজার কাজে সাহায্য করেন যে মধ্য চল্লিশের ঝুমাদিদি, তিনি চুপিচুপি আমার ঘরে এলেন। শারদ ঢাক বাজতে বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। কথাবার্তা হয়েছিল অনেকটা এ রকম।

    -দাদা, এ বছর আমার বোনাসের টাকা চাই না। একটা আবদার আছে।
    -এ আবার কেমন কথা! সারাবছর কাজ করেছো। বোনাস হিসেবে এক মাসের মাইনে তো তোমার প্রাপ্য।
    -মূল্য ধরে অন্য জিনিস দেন।
    -বুঝলাম মা ঝুমাদিদি। একটু সহজ করে বলো।
    -দেড়শো দু'শো টাকা করে আমায় একটা নেটফিলিকের প্যাক ভরে দেন না..। ছেলেটার বড় বায়না জানেন।
    -নেটফ্লিক্স! তোমার ছেলের তো উচ্চমাধ্যমিক সামনের বছরে। এখন এ সব করবে? আচ্ছা ভরে না হয় দিলাম। দেখবে কিসে?
    -সরকার থেকে একটা বিরাট মোবাইল দিয়েছে দাদা। এর নাম নাকি ট্যাব। ওতেই দেখবে। এর নাম তরুণের স্বপ্ন। ভরে দেন না দাদা, প্লিজ।

    শারদ আবদার ফেলতে পারিনি। এক বছরের প্যাক ভরে দিয়েছিলাম একসঙ্গে। বার্ষিক সাবস্ক্রিপশন হলে কিছু টাকা বেঁচে যায়। দিন কয়েক পরে শুনলাম, আঠারো বছরের ছেলে একেবারে ডুবে রয়েছে ট্যাবলেটে। নাওয়া নেই, খাওয়া নেই, পড়াশোনার সঙ্গে সম্পর্কটাও, যাকে বলে পাড়ি দিয়েছে দিকশূন্যপুরে। ঝুমাদিদি চোখ মুছতে মুছতে বলছিলেন, ‘তরুণের এ কেমন স্বপ্ন গো দাদাভাই! পড়াশোনায় এমনিই লবডঙ্কা। যতটুকু করত, সব গিয়েছে। ওই ট্যাবলেট এসে বরং আমাদের স্বপ্নটাকে বানের জলে ধুয়ে দিয়েছে। ওটা বড় অভিশপ্ত যন্তর গো দাদা। ট্যাবলেট না, ওইটাকে আমি আয়লা বলে ডাকি।’ একটু থেমে, গলার স্বর অনেকটা নামিয়ে ফের বললেন, ‘ওই যন্তরে কি করে পড়াশোনা করতে হয় জানেন? ছেলেকে তো তা করতে দেখলাম না কোনোদিন। কি সব পাকা পাকা সিনেমা দেখে কানে ছিপি গুঁজে। তার নাম নাকি ওটিটি।’

    সমাজ চিত্র বলে, ট্যাবলেট তার কাজ করে গিয়েছে নীরবে নিভৃতে। গায়ের মধ্যে সামান্য যে আঁচড় পড়েছিল, তা এখন ঘা হয়ে গিয়েছে অনেকক্ষেত্রেই। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের টেস্টের খাতা দেখে শিক্ষকদের চোখ কপালে উঠেছে। বিদ্যায়-বুদ্ধিতে-জ্ঞানে এমন বহু পরীক্ষার্থী হার মানিয়েছে বেসরকারি স্কুলে পড়া পঞ্চম-ষষ্ঠ শ্রেণীর পড়ুয়াদেরও। টেস্টের ফলাফল দেখে আক্ষরিক অর্থেই ভীত ও সন্ত্রস্ত শিক্ষক শিক্ষিকারা বলছেন, ‘টেস্টেই যদি এমন হাল হয়, ধারাবাহিক পড়াশোনার এই যদি নমুনা হয়, বোর্ডের পরীক্ষায় যে ভরাডুবি হবে।’ জানতে পারলাম, কল্পতরুর মতো নম্বর দিয়েও নাকি পাশ করানো যাচ্ছে না বহু পড়ুয়াকে। ফেল করা ছাত্রছাত্রীর অভিভাবকরা আসছেন। আসছেন না বলে চড়াও হচ্ছেন বললেই হয়তো যথাযথ হবে। অনুরোধ করছেন, নম্বর বাড়িয়ে দিতে হবে। করাতেই হবে পাশ। আর শিক্ষকরা বলছেন, ‘এ যাত্রায় না হয় হল। বোর্ডের পরীক্ষায়, আসল সমরে তাদের নিয়তি কি?’ সরকারি প্রসাদে বোর্ডের পরীক্ষাটাও উতরে গেলে বিরাট বড় ফন্টে পরের প্রশ্নটা ধেয়ে এসে গলা পেঁচিয়ে ধরে। তার পর? এমন আলোচনা কিছুক্ষণ করার পরে পরিচিত এক শিক্ষিকা মুচকি হেসে গেয়ে উঠেছিলেন, ‘তার আর পর নেই নেই কোন ঠিকানা, যা কিছু গিয়েছে থেমে যাক থেমে যাক না।’ বললেন, ‘মন মজেছে ট্যাবলেটে। পড়াশোনা করতে কি আর ইচ্ছে করে!’

    প্রান্তিক ক্লাসের বেশ কয়েকজন স্কুল পড়ুয়ার কাছে ট্যাবলেটের উপকারিতা সম্পর্কে জানতে চেয়ে বিভিন্ন উত্তর পেয়ে ঋদ্ধ হয়েছি। ‘ইহাতে দারুণ গেম খেলা যায়’, ‘ঝিনচ্যাক ফটো ওঠে’, ‘গার্লফ্রেন্ডকে এগারো ইঞ্চি স্ক্রিনে পুরো তাপসী পান্নুর মতো লাগে’, ‘সরকার জিন্দাবাদ, ভিডিও কল লা জবাব’, ‘রাত্তিরবেলা ঘরের আলো অফ করে দেওয়ার পরে দারুণ মস্তি’—এমন হাজারো গুণগান শুনেছি ট্যাবলেট প্রসঙ্গে। কবিতাপ্রেমী এক ছাত্রীর থেকে শুনেছিলেম, ‘ইউটিউবেই জন্ম আমার, যেন ইউটিউবেই মরি।’ শুনেছি, ‘এত লেট করলে কেন, ট্যাবলেট?’ জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘পড়াশোনা করো না এই গ্যাজেটে?’ একটা উত্তর মনে আছে এখনও। ট্যাবে চুমু খেয়ে বলেছিল, ‘গুরু, পড়াশোনা কারে কয়? সে যে কেবলই যাতনাময়।’

    সাবেকি পড়াশোনার পাশে ট্যাবলেটকে বন্ধু হিসেবে রাখার বিষয়ে অনেক শিক্ষাবিদই প্রবল কপাল কুঁচকচ্ছেন। তাঁরা ক্রমাগত প্রশ্ন তুলছেন, ‘স্বপ্ন দেখিয়ে ট্যাবলেট না হয় দিয়ে দেওয়া হল। কিন্তু তাতে কাজের কাজ বলতে যা হওয়ার কথা, তা আদৌ হয়েছে কি?’ প্রশ্নটা খুব স্বাভাবিক। কারণ, বাস্তব পরিস্থিতি চোখে আঙুল দিয়ে হেরে যাওয়ার কথাই জানান দেয়। ট্যাবলেট পেয়ে উঁচু ক্লাসের ছাত্রছাত্রীরা কিভাবে এর ব্যবহার করছে, তা দেখার জন্য আদৌ কোনও পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারিনি আমরা। পড়াশোনার পরিপূরক হিসেবে যা ভাবা হয়েছিল, তা পরিপূরক হওয়ার বদলে আখেরে ক্ষতি করেছে বেশি। সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে।

    করোনাকালে ট্যাব বিলি করার মূলে ছিল অনলাইন ক্লাসে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি বাড়ানো। বহুদিন স্কুল বন্ধ থাকলে স্কুল ছুটের সংখ্যাও বাড়ে। অতিমারিমাখা দিনগুলোতে বেশ কিছু শিক্ষককে দেখেছি, প্রতিদিন সকালে ছাত্রছাত্রীদের মুখ থেকে ভার্চুয়ালি ‘প্রেজেন্ট প্লিজ’ শোনার জন্য তাঁরা মুখিয়ে থাকতেন। নোট তৈরি করতেন। আপলোড করতেন। পড়ুয়াদের হোমটাস্ক দিতেন নিয়ম করে। বাইনারি খাতা দেখতেন। পড়াশোনা না করলে স্ক্রিনের মধ্যেই উড়ে আসত ধমক। ছাত্র-পাগল বেশ কিছু শিক্ষক খবরের কাগজের শিরোনামে এসেছিলেন তখন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পড়ুয়াদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনা পয়সায় পড়িয়ে এসেছেন অনেক শিক্ষক। অনেকে আবার অকাতরে ছাত্রছাত্রীদের ডেটাপ্যাক ভরিয়ে দিয়েছেন। তবে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সব মহলের মানুষরাই এক সুরে বলেছেন, ‘স্কুলের চার দেওয়াল অর্থাৎ অফলাইন ক্লাসের মধ্যে যেভাবে সার্বিক শিক্ষাদান করা যায়, ভার্চুয়াল দুনিয়ায় পড়াশোনার ধরণ তার থেকে বহু যোজন দূরে থাকে।’ এই দূরত্বটাই স্বাভাবিক। শিক্ষাবিদদের একটা বড় অংশেরই মত হল, অতিমারি কাটিয়ে আমরা যখন আগের জীবনে ফিরে আসতে পেরেছি, তখন এই ট্যাব বিলির প্রকল্প আর একটুও দেরি না করে বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

    হোয়্যাটসঅ্যাপে আসা একটি মিমের কথা মনে পড়ে। কোনও এক দেওয়াললিখনের ছবি। লেখা ছিল, ‘মদ, গাঁজা, ট্যাবলেটের (তরুণের স্বপ্ন গ্যাজেট) নেশা ছাড়ান।’ ফটোশপে কারিকুরি করে বানানো ছবি, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। পরিচিত এক মনোবিদকে এটা পাঠানোর পরে ভেবেছিলাম স্মাইলি উড়ে আসবে ফুলঝুরির আলোর মতো। তা তো হলই না। বরং উনি ফোন করলেন আমায়, পত্রপাঠ। বেশ রাগী গলায় বললেন, ‘এই ছবির থেকে বড় সত্যি এখন আর দুটো নেই। পেশেন্টের সংখ্যা কত বেড়ে গিয়েছে জানো? অদ্ভুত রোগ এসেছে এখন—ট্যাব প্রীতি, গ্যাজেটপ্রীতি। বাপমায়েরা মুখ চুন করে বসে থাকছেন। আর কাউন্সেলিংয়ের সময় ছেলেটা আমার সঙ্গে কথা বলতে বলতেও আঙুল দিয়ে খুটখুট করে যাচ্ছে মোবাইলে, থুড়ি, ট্যাবলেটে। প্রবল রেগে এমন এক অ্যাডিক্টকে বলেছিলাম, তোমার এই ট্যাবটা না আমি গুঁড়িয়ে দেব মাটিতে। ছেলেটা হিমচোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিল, সাহস থাকলে করে দেখুন না স্যার। আপনাকেও গুঁড়িয়ে দেবো। বুঝলেন?’

    এই যন্ত্রটা কিন্তু ছেলেমেয়েদের নিওন আলোর হাতছানি না দেখিয়ে কাঁধে হাত রাখতে পারত সহজেই। তৈরি করা যেত পারত এক বিরাট তথ্যভাণ্ডার, নিজেদের মতো করে। অন্তর্জলের রাক্ষসসম সার্ভারে তুলে রাখা যেতো অজস্র লেকচার। প্রতিটি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা নিজেদের মতো করে পড়িয়ে সেই ভিডিও আপলোড করে রাখতে পারতেন এই সার্ভারে। তা থেকে যেত অমলিন। একটা কাল্পনিক সংলাপ ভাবা যেতেই পারে। সালটা ২০২২ ভেবে নিলেও ক্ষতি নেই কোনও।

    -কাল ক্লাসে আসতে পারিনি স্যার। বাবার শরীর খারাপ ছিল খুব।
    -ঠিক আছে। পড়াটা মিস্ করনি তো?
    -না না স্যার। ওই চ্যাপ্টারের ভিডিও তো আপনি করেই রেখেছিলেন করোনা টাইমে। দেখে নিয়েছি।
    -বেশ। ওই চ্যাপ্টারটা নিয়ে আরও অ্যাড করেছি কিছু। তাহলে আর অন্যের ক্লাসনোট জেরক্স করো না। কোনও প্রশ্ন থাকলে জানিও।

    পরিকাঠামো তৈরি থাকলে এমনটা আজ হতেই পারতো। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোনও স্কুলের ছাত্র দেখে নিতে পারত নামজাদা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা কিভাবে পড়ান। হতে পারতো উল্টোটাও। প্রান্তিক স্কুলগুলিতেও নিয়মিত কাজ করে চলেছেন বহু উজ্জ্বল, দীপ্তিময় শিক্ষক। তাঁদের ক্লাস লেকচার ঋদ্ধ করতে পারত অনেক শহুরে পড়ুয়াকেও। প্রতিটি স্কুলের প্রথম সারির ছাত্রদের উত্তরপত্র স্ক্যান করে, জমিয়ে রাখা যেত কোনও সেন্ট্রাল সার্ভারে, সবার জন্য। বাংলার কোনও শিক্ষক ভাল রচনা পড়লে তা শেয়ার করে নিতে পারতেন লক্ষাধিক পড়ুয়ার সঙ্গে। এই ইচ্ছে তালিকা অন্তহীন। আক্ষরিক অর্থে পৃথিবীকে ছোট করে দিতে পারতাম আমরা। হতেই পারত। এই ম্যাজিক বিক্রিয়ায় প্রয়োজন ছিল শুধু সদিচ্ছার ক্যাটালিস্ট। তা আমরা করতে পারিনি।

    গুরুজনদের থেকে শুনেছি, শুভকাজের দেরি বলে কিছু হয় না। ট্যাব বিলি নিয়ে বিশাল কর্মযজ্ঞ হয়তো চলতে থাকবে ফি বছর। এই ট্যাব সত্যিই যেন উপকারে লাগে, তা নিয়ে ভাবনাটা শুরু করা জরুরি।

    ওষুধ-ট্যাবলেটের গায়ে ছাপা থাকে, খেতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো। এই লাইনটা এগারো ইঞ্চির পর্দাওয়ালা ট্যাবলেটের গায়ে ছাপিয়ে দিলেও বেশ হয়! গ্যাজেট-ট্যাবলেট ব্যবহারের চিকিৎসক হতে গেলে স্টেথোস্কোপ ব্যবহারের মেধা লাগে না। সবাই হতে পারি, বৃহত্তর স্বার্থে, আগামী দিনের কথা ভেবে।

  • আলোচনা | ১৯ ডিসেম্বর ২০২২ | ৭২৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | 2401:4900:1f2a:1fd9:686f:4777:6fc2:78ba | ২০ ডিসেম্বর ২০২২ ০৮:১৪514736
  • "তৈরি করা যেত পারত এক বিরাট তথ্যভাণ্ডার, নিজেদের মতো করে। অন্তর্জলের রাক্ষসসম সার্ভারে তুলে রাখা যেতো অজস্র লেকচার। প্রতিটি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা নিজেদের মতো করে পড়িয়ে সেই ভিডিও আপলোড করে রাখতে পারতেন এই সার্ভারে"
     
    এটা তো অলরেডি হয়েছে! প্রায় সমস্ত সাবজেক্টের প্রচুর লেকচার, সলভড এক্সাম্পল ইত্যাদি য়ুটুবে আছে। এমন কোন বিষয় নেই যা খুব ভালো ভাবে কোন না কোন শিক্ষক বুঝিয়েছেন। সারা পৃথিবীর অসংখ্য স্কুল, কলেজ, ইউনির শিক্ষকরা, কোচিং ইনস্টির শিক্ষকরা, ছাত্ররাও অগুন্তি ভিডিও আপলোড করে রেখেছেন। 
  • dc | 2401:4900:1f2a:1fd9:686f:4777:6fc2:78ba | ২০ ডিসেম্বর ২০২২ ০৮:১৭514737
  • একটা উদাহরন দিলাম। স্কেলার, ভেক্টর আর টেন্সর এর থেকে সহজ ভাবে কেউ বুঝিয়েছেন বলে মনে হয় না। একবার দেখলেই বিষয়টা জলের মতো সোজা হয়ে যাবে, এতো সুন্দর ভাবে বোঝানো হয়েছেঃ 
     
  • একক | ২০ ডিসেম্বর ২০২২ ১৬:০৭514743
  • ঠিক ওপরের এই ভিডিওটাই কদিন আগে সাজেস্ট করলুম একজন কে ঃ) 
     
    এটা ঘটনা,  হাজারে হাজারে ভালো কোয়ালিটির টীচিং মাটেরিয়াল আচে ইন্টারনেট এ। সে বিজ্ঞান হোক কি হিউম্যানিটিজ। এমাইটির একটা ব্যাপক ভালো লেকচার আচে,  শুধু ডিভাইন কমেডির উপর। গোডেল এশার বাখ পড়ে যদি কারো শিশি বোতল লাগে, শুনে নিন লেকচার। কী নেই!!  ক্লাস নাইন টেন লেভেলেও প্রচুর লেকচার।
     
    সমস্যা অন্য। স্টুডেন্ট স্পেসিফিক ডিভাইস নেই, সেরকম ফোকাসড সারচ প্ল্যাটফর্ম ও নেই যেখানে শুধু একাডেমিক এক্সেস টুকুই হবে। কাজেই পাব্লিক ইনফরমেশনের জঙ্গলে ঘুরে মরে বিরক্ত হয়ে একটু বাদে সিনেমা দেখে নয় গেম খেলে। স্টুডেন্ট দের জন্যে সেরকম শিক্ষামূলক গেমস ও নেই। 
  • হজবরল | 185.220.101.8 | ২০ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:৪২514745
  • কিন্ডেলের মত একটা স্টুডেন্ট স্পেসিফিক ডিভাইস হলে ভালোই হত। কিন্তু বিগ টেকরা এখনো সেরম কিছু বানায়নি মানে ধরে নিতে হবে মার্কেট রিসার্চ করে দেখা গেছে জিনিসটার ডিমান্ড নেই, লোকেরা মাল্টি পারপাস ডিভাইসই চাইছে। 

    ভালো কোয়ালিটির মেটিরিয়াল খুঁজে বার করতে গিয়ে বড়দেরই নালেঝোলে হতে হয়, ছোটদের কথা বাদই দিচ্ছি। আসলে এই সব ট্যাব মেনলি লার্নিং অ্যাপের জন্য পড়ায় ব্যবহার করা যায় । সরকারও লার্নিং অ্যাপ বানিয়ে তার থ্রু স্টুডেন্টদের স্ক্রিন টাইম ট্র্যাক করলেই পারে।

    পবতে তো ট্যাব কেনার নামে ডিরেক্ট টাকা দেওয়া হয়, ভোটের সাপও মরে লাঠিও ভাঙে ।
  • dc | 2401:4900:1f2a:1fd9:686f:4777:6fc2:78ba | ২০ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:৪৫514746
  • স্টুডেন্ট স্পেসিফিক ডিভাইস মানে কি সেটায় শুধু কোন বিশেষ ইন্স্টিটিউট বা কলেজের কনটেন্ট দেখতে পাওয়া যাবে? সেরকম করলে আবার ওয়ালড গার্ডেন ইত্যাদি নিয়ে হৈচৈ শুরু হতে পারে (ফেবু ওয়ানের বিতর্ক খেয়াল করো)। আমার মনে হয় তার থেকে স্টুডেন্টদের এমনি ডিভাইসই দেওয়া হোক, তাতে প্যারেন্টাল ফিল্টার লাগিয়ে দেওয়া যেতে পারে। তবে ছাত্রদের সেসব করে আটকানো ভারি মুশকিল। আমাদের সময়ে নেট ছিল না, তাও আমরা পানু বই পড়ে সময় কাটাতাম। ছাত্ররা সবই দেখবে, তার ফাঁকে সময় করে ইন্টারেস্টিং লেকচারও দেখবে, এই বিশ্বাস রাখা ছাড়া মনে হয় উপায় নেই। সেজন্যই তো কবি বলেছেন, ছাত্রদের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ। 
  • অমিতাভ চক্রবর্ত্তী | ২১ ডিসেম্বর ২০২২ ১০:২৭514748
  • ডিসির সাথে সহমত। শিক্ষকরা আমাদের সময়েও বিস্তর হাহুতাশ করেছেন আর আগেকার দিন আরো কত ভাল ছিল এবং উচ্ছন্নে যাওয়ার পথ এখন যে কত সহজ ও বিস্তারিত হয়েছে  ্তাই নিয়ে সুনিশ্চিত মত দিয়েছেন। বলাই বাহুল্য, বড়রা তাদের সাথে একমত হয়েছেন এবং পত্র-পত্রিকা-ইত্যাদি সেই হুতাশের হুতাশনে মহোৎসাহে বাতাস দিয়েছেন। আমি নিজে নম্বর তোলায় কাজে লাগবে এমন পাতা যা পড়েছি তার থেকে বেশি (অনেক বেশি) পড়েছি  কাজে লাগবে না এমন সব পাতা। ওস্তাদ দোস্তোরা পয়সা জুটলে বা জুটিয়ে নিয়ে সিনেমা-নাটক-যাত্রা-নাচ এই সবেও বিস্তর সময় দিয়েছেন। আবার একেবারেই সে'সব করেননি এমন পাব্লিকও ছিলেন। দুদিক থেকেই অল্প কিছু জন বাকি সকলের তুলনায় যশে-ধনে-ক্ষমতায় সফল হয়েছেন। 
  • a | 61.68.244.161 | ২১ ডিসেম্বর ২০২২ ১২:২৪514751
  • দেখুন ছাত্র ছাত্রীদের দোষী ঠাউরানো ভারি সোজা। আসল প্রশ্ন হলঃ 
    ১। ইন্টারেস্টিন কন্টেন্ট দিতে হবে। ভাল লাগার মত 
     
    ২। ইন্স্টান্ট গ্রাটিফিকেশনের যুগে টিকে থাকার উপায় বার করতে হবে। রিল, শর্ট্স, গেমিফিকেশন বা অন্য কিছু। 
     
    ৩। কমুনিটি বানাতে হবে। ইন্টারেস্ট বেসড। 
     
    এখন এসব নিয়ে কাজ কর্ম তো ভালৈ হচ্ছে শুনি। বিশেষত অতিমারীর বাজারে শিক্ষামূলক আয়্প প্রচুর এসেছে। ইন্ডিয়াতে বৈজুস বা খান আকাডেমি তো বিখ্যাত - আরো বহু বহু এরকম আছে। 
    শুধু স্টুডেন্টদের দোষ দিলে চলবে না, বাড়ি আর স্কুল কিভাবে সদর্থক ভূমিকা পালন করতে পারে সেটাও ভাবা দরকার 
  • Swati Ray | 117.194.37.101 | ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:৩২514875
  • দোষ কি শুধু  ছাত্রের নাকি ঝুমাদিদির ও  ? তিনি নিজে বোঝেন নি যে ছেলের হাতে নেটফ্লিক্সের প্যাক তুলে দিলে কী হবে ? এটা বোঝার জন্য  নিজে শিক্ষিত হতে লাগে তা কিন্তু নয়  তবে ছেলের  ব্যাপারে ইনভেস্টেড  হতে লাগে। আমি অনেক তথাকথিত অশিক্ষিত লোক কে দেখেছি ছেলে মেয়ে কে ঠিক মত বুঝতে  বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে । আবার শিক্ষিত অশিক্ষিত নির্বিশেষে দেখেছি যে যা করছে করুক গে বলে  একেবাৰে  ছেড়ে দিতে।    
     
    স্কুল আর বাড়ির অভিভাবকের ভূমিকা কি একেবারে  সঠিক? 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে মতামত দিন