ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  সমাজ

  • আমিই_হৃদয়_মণ্ডল 

    Muhammad Sadequzzaman Sharif লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | সমাজ | ০৯ এপ্রিল ২০২২ | ৬৯৮ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • যে অবস্থা চলছে তাতে এখন বাংলাদেশে একজন সংখ্যাগুরু বেশ সহজেই কিছু আজ করে ফেলতে পারে। ধরুন জমি সংক্রান্ত সমস্যা, অফিসে কর্পোরেট রাজনীতি, ব্যবসা সংক্রান্ত রেষারেষি, আপনার রিপু সংক্রান্ত কোন আকাম, কিংবা নিছক আপনার কাওকে সহ্য হয় না, দেখলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায় এমন যে কোন পরিস্থিতিতে যদি আপনি সৌভাগ্যের অধিকারী হওন মানে প্রতিপক্ষ যদি সংখ্যালঘু কেউ হয় তাহলেই কেল্লাফতে। আপনি সহজেই ধর্মীয় আবারনে ঢেকে ফেলতে পারবেন পুরো ব্যাপারটা। আপনার এরপরে শুধু লাভ আর লাভ। সারা দেশ জুড়ে পরিচিতি পাবেন, প্রতিপক্ষ ঘায়েল, বড় করে ঘোট পাকাতে পারলে টাকা পয়সারও ব্যবস্থা হয়ে যাবে! আর চিন্তা কী!

    টিপ পরা নিয়ে একটা কাণ্ড হল। যথারীতি একটা অংশ কোন হিসাব নিকাশ ছাড়াই পুলিশের পক্ষ নিয়ে ফেলল। কেন? কারণ তিনি ধর্মীয় (?) উপদেশ দিয়েছেন বলে এই অংশ মনে করেছে। এখানে ঘিলুর কোন ব্যবহার নাই। কেউ কাওকে এমন বলতে পারে কী না তা দেখার সময় নাই। কল্পিত স্ত্রীর গল্প নিজ দায়িত্বে প্রচার করল, করে বেকুব হল এবং তারপরে সুবর্ণা মোস্তাফার পিছনে লাগল, তিনি কত টাকা বেতন পান, এমপি হিসেবে কী কী সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন, এবং এই সব পাওয়া একজন কেন টিপ নিয়ে কথা বললেন সংসদে এইটা হচ্ছে তাদের আপত্তি। দ্রব মূল্য আকাশে এই সময়ে কেন কেউ টিপ নিয়ে কথা বলবে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম আকাশে তার জন্য অবশ্য এ আর রহমানের কনসার্টের টিকেট পড়ে থাকে নাই, সিনেমা হলে ভিড় কমে নাই, সিগারেটের বাজারে ধস নামে নাই, এসির বাজারের লোকজন মাথায় হাত দিয়ে বসে নাই, বসুন্ধরা সিটিতে ভিড় কমে যায় নাই এবং এগুলা নিয়ে কারো কোন আপত্তিও নাই কিন্তু টিপ নিয়ে কথা বলা যাবে না, একটা অন্যায় হয়েছে তার প্রতিবাদ করা যাবে না। এই ক্ষেত্রে আপনাকে ঝিম মেরে বসে যেতে হবে কারণ তেলের দাম আকাশে!

    হৃদয় মণ্ডল বিজ্ঞান ক্লাসে বিজ্ঞান পড়াচ্ছিলেন। জোর করে বিজ্ঞান ক্লাসে ধর্মীয় প্রশ্ন করে যাচ্ছিল আর তিনি বিজ্ঞান দিয়েই উত্তর দিচ্ছিলেন। আমি আমার কথা বলতে পারি, আমার জীবনে এমন করে আমাদের কোন শিক্ষক বিজ্ঞান আর ধর্মের পার্থক্য বুঝায় নাই। তিনি হিন্দু, তিনি নিজের ধর্মের কুসংস্কার নিয়ে কথা বলেছেন, বলেছেন হনুমানের কানে সূর্য থাকা সম্ভব না, যারা এইটা বিশ্বাস করে তারা ভুল করে। এতে হিন্দু ধর্মের লোকজনের বলতে পারত তাদের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। কিন্তু সংখ্যালঘুর কোন অনুভূতি থাকতে নাই। তাকে ইচ্ছা করে ফাঁসানো হল, তিনি এখনও জেলে! কিচ্ছু না, এখানেও দেখা যাচ্ছে কেউ একজন ইচ্ছা করে তাকে ফাঁসানোর জন্য এই আয়োজন করেছিল। একজন বিজ্ঞান শিক্ষক কী করতে পারতেন আমার জানা নাই। তিনি একজন হিন্দু শিক্ষক, তাকে কেন ইসলাম ধর্ম শ্রেষ্ঠ বলে মেনে নিয়ে বিজ্ঞান পড়াতে হবে? সুকৌশলে তাকে ফাঁদে ফেলে কেউ ফায়দা লুটছে। আমরা তামশা দেখছি। সবাই জানে সবাই বুঝে কিন্তু লাভ কিচ্ছু নাই, হৃদয় মণ্ডল এখনও জেলে! আজকে ডক্টর মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছে হৃদয় মণ্ডলকে মুক্তি না দিলে তাঁকেও যেন জেলে নেওয়া হয়। আমার মনে হয় আমাদের সকলেরই জেলে যাওয়া উচিত।

    হৃদয় মণ্ডল জেলে থাকা অবস্থায়ই আবার আরেক কাণ্ড। হিজাব পরার অপরাধে ছাত্রীদের ধরে ধরে বেত দিয়ে মেরেছে একজন হিন্দু শিক্ষিকা! সংবাদ মাধ্যম নিজেদের প্রচারের জন্য, বিক্রির জন্য যা ইচ্ছা তাই করে এমন নজির আগে অনেক দেখা গেছে, এবার নতুন করে এক নমুনা তৈরি হল। প্রথম আলোর মত পত্রিকা এডিট করে ভোটের লাইনের এক মহিলার কপালে টিপ পরিয়ে দিয়েছিল শুধু এইটা প্রমাণ করতে যে যে ভোট হচ্ছে তাতে আওয়ামীলীগের পক্ষের গোষ্ঠী হিন্দুরাই ভোট দিচ্ছে। এমন ন্যাকারজনক কাজ করে দিব্বি প্রতিনিয়ত জ্ঞান বিতরণ করে প্রথম আলো, প্রায়ই গণতন্ত্রের ক্লাস নেয় তারা! এবার বেশ কিছু গণমাধ্যম সব কিছু ছাপিয়ে গিয়ে হিজাব পরার জন্য শিক্ষিকা ধরে ধরে মারছে এমন আজগুবি সংবাদ প্রকাশ করে দিল! আর যথারীতি কোন চিন্তা ভাবনা না করেই গরম ফেসবুক মমিনেরা। একবারের জন্যও মনে হল না এইটা কীভাবে সম্ভব? যে দেশে কিছু না করেই অল টাইম দৌড়ের উপরে থাকতে হয় হিন্দুদের, যে দেশে তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবে পরিকল্পিত ভাবে ম্যাসাকার করা হয় এবং যার কোন বিচার হয় না ,যে দেশে নিয়ম করে প্রতিমা ভাঙা হয়, যে দেশে গুজবের উপরে ভর করে পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয় কোন বিচার হয় না, সেই দেশে কেউ হিজাব পরার অপরাধে মারছে! কোন মাপের মগজহীন মানুষ হলে এইটা বিশ্বাস করা সম্ভব?

    যথারীতি এখানেও দেখা গেল কাহিনী উল্টো। স্কুল ড্রেস না পরে আসার জন্য দুইজন শিক্ষক ছাত্র ছাত্রীদের মারছেন। পুরুষ শিক্ষক ছাত্রদের মেরেছেন, তা নিয়ে কোন আলাপ আলোচনা নাই। নারী শিক্ষক মেরেছে ছাত্রীদের আর তিনি হচ্ছেন হিন্দু!  তাঁকে ঘায়েল করতেই আনা হল হিজাব তত্ত্ব। বলা হল হিজাব পরার অপরাধে মারা হয়েছে। মার খাওয়াদের মধ্যে হিন্দু ছাত্রীও ছিল সে কোথাও কেউ লিখল না। ফলাফল দেশ জুড়ে উত্তাল ফেসবুকে পয়েন্ট কামানোর ধান্দায় বসে থাকা মমিনকুল। এত বড় অনাচার, মুসলিমদের রক্ত কী ঠাণ্ডা হয়ে গেছে? এখন কই সুবর্ণা মোস্তফা? এই প্রতিবাদের সময় কেউ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে আপত্তি করেছে বলে শোনা যায় নাই! অথচ টিপ নিয়ে কথা বলার সময় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল অনেকের সামনে।

    এই যখন পরিস্থিতি তখন যদি আমি বলি সংখ্যাগুরুরা প্রতিপক্ষ হিসেবে সংখ্যালঘু কাওকে পেলেই তার কেল্লাফতে তাহলে ভুল বলা হবে? জাস্ট ফাঁসিয়ে দিন, আজগুবি কিছু দিয়ে হলেও ফাঁসিয়ে দিন। কেউ কিচ্ছুটি বলবে না। আমাদের মত তব্দা মারা কেউ কেউ চিল্লাফাল্লা করব, জাফর ইকবাল জেলে যেতে চাইবে, বাকিরা ঠিকই তো বলে মেনে নিবে। আপনে জয়ী, আপনি জয়ী, আপনে জিতে গেছেন এই দেশে সংখ্যাগুরু হয়ে জন্ম নিয়ে! 
  • আলোচনা | ০৯ এপ্রিল ২০২২ | ৬৯৮ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    নাইটো - একক
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Joshita Ghoshal | ০৯ এপ্রিল ২০২২ ০২:৪২506153
  • আমি একজন মেয়েকে জানতাম যাকে তুলে নিয়ে গিয়ে কয়েকদিন ধরে অত্যাচার করা হয়েছিল। পরে মেয়েটি জার্মানিতে আশ্রয় পায়। এরপর মেয়েটি মারা যায়। মেয়েটির মৃত্যুর পর তার মৃতদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল এবং তখনও স্থানীয় গুন্ডারা মেয়েটির বাবাকে বাধ্য করে কফিন খুলে সেই মৃতদেহ সকলকে দেখাতে। মাত্র তিন বছর আগের ঘটনা। মেয়েটি হিন্দু।
  • Joshita Ghoshal | ০৯ এপ্রিল ২০২২ ০২:৪২506154
  • নেত্রকোণার ঘটনা
  • | ০৯ এপ্রিল ২০২২ ১৫:৪৫506162
  • হৃদয় মন্ডলের মতই জাফর ইকবালকেও বিবর্তন নিয়ে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন করেছে একজন এরকম একটা ভিডিও দেখলাম কালকে।  বক্তার ধুর্ত  চাহনি আর জিজ্ঞাসার ধরণ দেখেই কিরকম একটা লাগল। জাফর ইকবাল কি শান্তভাবে সস্নেহে বোঝালেন। উনি জাফর ইকবাল বলে এবং সংখ্যাগুরু মুসলমান নামের অধিকারি বলে ওঁকে গ্রেপ্তার করা হয় নি। নাহলে একই ভাগ্য হয়ত তাঁর জন্যও থাকত। 
     
    কিছুদিন আগে ফেসবুকে দেখেছিলাম কিছু লোক 'আমি শেখ হাসিনার লোক বলে ট্যাগ দিয়ে রচনা লিখছিলেন। ইন্টারেস্টিংলি টিপ কিম্বা হৃদয় মন্ডল কোনোটা নিয়েই তাঁদের কোন হেলদোল দেখলাম না। 
     
    ওই হিজাবের গল্পটা আমার ধারণা ভারতে হিজাব নিয়ে চাড্ডিকুল যে নষ্টামী করেছে তারই ছাগুকূল ভার্সান হিসেবে ওইটে বানিয়েছে।
  • aranya | 2601:84:4600:5410:f10d:63c7:3aed:3360 | ০৯ এপ্রিল ২০২২ ২৩:৫৩506175
  • বেঁচে থাকুন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক জাফর ইকবাল, বেঁচে থাক আমাদের বন্ধু সাদেক। এদের মত মানুষ যতদিন বাংলাদেশে আছেন, তারা সংখ্যায় যত কমই হোক, আশাও বেঁচে থাকবে 
    জাফর ইকবাল বিবর্তন তত্ব-কে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ  থেকে কিভাবে ব্যাখা করেছেন, জানার ইচ্ছে রইল। দ, লিখবেন কখনো, সম্ভব হলে 
  • Muhammad Sadequzzaman Sharif | ১০ এপ্রিল ২০২২ ০১:৩০506177
  • দ, হিজাবের ব্যাপারটা বাণিজ্যিক। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে ঝামেলা ছিল, এই শিক্ষিকাকে ফাঁসায় দিছে পরিকল্পিত ভাবে। 
    aranya, জাফর ইকবাল বিবর্তনকে ধর্মীয় দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা করেন নাই। উনি বলছেন ধর্ম হচ্ছে বিশ্বাস। বিজ্ঞান হচ্ছে পরীক্ষা নিরীক্ষা। তিনি বলছেন এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রসিদ্ধ বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব। লিংক দিচ্ছি, দেখতে পারেন - https://www.facebook.com/100028905722076/videos/170198977286959/
     
  • aranya | 2601:84:4600:5410:ac85:ecb8:1217:9f43 | ১০ এপ্রিল ২০২২ ০১:৫৪506178
  • ধন্যবাদ, সাদেক। আমিও তাই ভাবছিলাম, ধর্ম আর বিবর্তন বাদ - কে মেলানো কঠিন। লিংক টা দেখব 
  • aranya | 2601:84:4600:5410:ec97:b4f0:8471:32f5 | ১০ এপ্রিল ২০২২ ০৩:৪৪506180
  • জাফর ইকবাল-এর কথা শুনলাম। এই একটি মানুষ সম্বন্ধে মুগ্ধতা, শ্রদ্ধা কিছুতেই কমে না। কী সুন্দর ভাবেই না বোঝালেন সন্তান সম ছাত্র ছাত্রীদের 
  • Muhammad Sadequzzaman Sharif | ১০ এপ্রিল ২০২২ ২৩:৫৫506193
  • এই জায়গায়ই জাফর ইকবাল অনন্য! আমরা উনার যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারছি বলে মনে হয় না। হারানোর পরে হয়ত বুঝতে পারব কী হারাইছি আমরা। 
  • &/ | 151.141.85.8 | ১১ এপ্রিল ২০২২ ০১:৫৪506195
  • জাফর ইকবালের ব্যাপারে আমার মুগ্ধতা কোনোদিনই কমবে না। ওঁর প্রায় প্রতিটি লেখা পেলেই আগ্রহ নিয়ে পড়ি। এক অসাধারণ মুক্ত আর শুদ্ধ সতেজ মানসিকতা লেখার পরতে পরতে জড়িয়ে থাকে। ঠিক এমনটি আর কোথাও পাই নি।
  • Kishore Ghosal | ১২ এপ্রিল ২০২২ ১৩:১৩506235
  • ধর্ম শব্দের ব্যুৎপত্তিগত দুটি অর্থ মহাভারতে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি হল, ধন পূর্বক ঋ ধাতুতে মক প্রত্যয় দিলে ধর্ম হয়। এই অর্থে ধরলে ধর্ম মানে যা থেকে ধন লাভ ঘটে। এই ধন পার্থিব টাকা-পয়সা, জমি-জায়গা হতে পারে, আবার অপার্থিব আধ্যাত্মিক চৈতন্যও হতে পারে। আবার ধৃঞ্‌ ধাতুর সঙ্গে মন্‌ প্রত্যয় যুক্ত হয়েও ধর্ম শব্দ নিষ্পত্তি হয়। ধৃঞ্‌ ধাতুর অর্থ ধারণ করা, অর্থাৎ যা সকলকে ধরে রাখে। ধর্ম শব্দের অর্থ যে ভাবেই ধরা হোক না, ধর্ম হল, এমন একটা বিষয়, যা দিয়ে সামাজিক মানুষ, নিজ নিজ সাধ্য অনুযায়ী জীবিকা অর্জন করে সমাজের অন্য সকলের সঙ্গে মিলেমিশে থাকবে। সমাজে সকলের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে গেলেই ধর্ম বিষয়টা ব্যাপ্ত হয়ে ওঠে। যেমন একই মানুষকে তার পারিবারিক বা কুলধর্ম, সমাজধর্ম, বর্ণাশ্রমধর্ম, লৌকিক ধর্ম এবং রাজধর্মও পালন করতে হয়। রাজধর্মের দুটো দিক আছে, যিনি রাজা তাঁকে যেমন রাজ্য শাসন করতে অনেক নিয়ম-প্রথা মেনে চলতে হয়, তেমনি তাঁর প্রজাদেরও রাজার (সে রাজা গ্রামের জমিদার হোক বা গণতন্ত্রে নির্বাচিত শাসক দলই হোক) গড়ে দেওয়া নিয়ম-কানুন মানতে হয়, সেটাকেই প্রজাধর্ম বলা যায়। 
     
    বিভিন্ন কালে, বিভিন্ন সমাজে এইভাবেই তাদের নিজস্ব সামাজিক আচার-ব্যবহারকে ধর্ম বলা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী কালে মানুষ যত সভ্য হতে লাগল, তারা ততই আগ্রাসী অহংকারের মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে লাগল। তখন সকল সমাজই মনে করতে শুরু করল, তারা এবং তাদের বিশ্বাস সর্বকালের সেরা। আর  অন্য সমাজের ধর্মীয় আচরণ ও বিশ্বাসগুলি কদর্য। তারা প্রত্যকেই মনে করল অন্য সমাজের বিশ্বাসগুলিকে ভুলিয়ে হয় নিজেদের বিশ্বাসের ছাঁচে তাদের পা ফেলতে বাধ্য করতে হবে। আর তা না করতে পারলে, তাদের নিকেশ করে ফেলতে হবে।
     
    ভারতবর্ষ, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ অর্ধাহারে অপুষ্টিতে অশিক্ষায় অবহেলায় বেঁচে  আছে তা থাক, কারণ তাদের কাছে এই বিশ্বাসের থেকে বেঁচে থাকাটাই এক সাংঘাতিক লড়াই। কিন্তু শহরের রাজনৈতিক মদতপুষ্ট স্বচ্ছল মধ্যবিত্তদের একাংশর কাছে  ধর্ম নিয়ে এই  তাসের তুরুপ ফেলাটা হয়ে উটছে একটি নিয়মিত পেশা। আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের মানুষদের জীবন নানান সমস্যায় জর্জরিত, তার সমাধান করা এক কথায় অসম্ভব। কিন্তু এই ধর্মের খেলায় দেশের লোককে ব্যস্ত রাখতে পারলে, তারা মূল সমস্যাগুলো ভুলে থাকবে। তাদের বোঝানো হবে, সংখ্যালঘুগুলোকে উৎসন্নে দিতে পারলেই, আমাদের সুখের দিন আসবে, কারণ ওরাই  আমাদের পবিত্র সাফল্যের পথের কাঁটা। 
     
    যতদিন মানুষের ক্ষুদ্র ও বৃহত্তর স্বার্থ আছে, আমার মনে হয় না, এর থেকে তারা কোনদিন পরিত্রাণ পাবে।  
     
     
    এভাবেই নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি করে, আমরা একদিন ( হয়তো একশ/দুশ বছরে) সক্কলেই নিঃশেষ হবো, সেদিন স্বস্তির শ্বাস ফেলে বাঁচবে আমাদের সকলের বিশ্বাস। 
     
     
  • aranya | 2601:84:4600:5410:2ded:32cf:f69b:f4de | ১৪ এপ্রিল ২০২২ ২৩:০৩506388
  • গান-টা খুব সুন্দর, সাদেক। এই ছেলে মেয়ে গুলো ই আমাদের ভরসা 
    মৌলবাদ বাড়ছে, কিন্তু প্রতিরোধ- ও থাকবে 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে প্রতিক্রিয়া দিন