এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • লতা মঙ্গেশকর (১৯২৯-২০২২) 

    Partha Banerjee লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ৪০০১ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • লতা মঙ্গেশকর (১৯২৯-২০২২)
    ___________________

    বিশাল মাপের এক শিল্পী চলে গেলেন। তাঁকে শেষ বিদায় ও শ্রদ্ধা জানালাম। এবং তার পরে কয়েকটা "শাস্তিযোগ্য" কথা লিখলাম।
     
    লতা মঙ্গেশকর সত্যিই বিশাল মাপের গায়িকা ছিলেন। আরো অনেকেই ছিলেন, কিন্তু তাঁদের কথা মিডিয়া ও শাসকশ্রেণী বলেনি তেমন করে, তাই আমরা তেমন জানতেও পারিনি। আমরা তো সেই শৈশব থেকেই তাঁর বাংলা ও হিন্দি গান শুনে বড় হয়েছি।
     
    আমি একটু আধটু গান বুঝি। আমার মতে, তাঁর নিজের বোন আশা ভোঁসলে তো বটেই, গীতা দত্ত, সুমন কল্যাণপুর, বাণী জয়রাম, আমাদের বাংলার আরতি মুখোপাধ্যায়, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, সবিতা চৌধুরী, নির্মলা মিশ্র এঁরাও বিশাল মাপের শিল্পী ছিলেন। অনুচ্চারিত নামের মধ্যে চন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়, ললিতা ধর চৌধুরী, আল্পনা ব্যানার্জী, রাণু মুখার্জী -- আরো অনেকে। কিন্তু বলিউড ইন্ডাস্ট্রি তাঁদের প্রতি সুবিচার করেনি। এমন কী, একথাও বলা হয়, লতা মঙ্গেশকর নিজেই তাঁদের প্রতি সুবিচার করেননি তেমন করে। এছাড়া, আসাম থেকে পাঞ্জাব, গুজরাট থেকে তামিলনাডু থেকে বাংলাদেশ থেকে ব্যাঙ্গালোর -- বহু প্রতিভা শেষ হয়ে গেছে বলিউড নামক দানবীয় মেশিনের নিষ্পেষণে। ব্র্যান্ড তৈরীর মুনাফাবাজিতে।
     
    আমাদের মতো সামান্য মানুষের জীবনে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, মান্না দে, লতা মঙ্গেশকর কিংবা আশা ভোঁসলের প্রভাব অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। যেমন নেই দেবব্রত বিশ্বাস, সুচিত্রা মিত্র, সলিল চৌধুরী, আরতি মুখোপাধ্যায়, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায় এঁদের প্রভাব।
     
    কিন্তু তার পরেও যে কথাটা আজকে কেউ বলবে না (বলতেই যে হবে এমন কোনো কথাও নেই), তা হলো -- এন্টারটেনমেন্টের বাইরে তিনি কী দিয়ে গেলেন? বলিউড ফিল্মি গানের বাইরে -- যে গানে কোনো আধুনিকতা নেই, প্রগতিশীলতা নেই, জীবনমুখিতা নেই, এই নিষ্ঠুর ভয়াবহ বৈষম্য, নিপীড়ন, হিংসা, পুরুষতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে কোনোদিন কোনো কথা বলা হয়নি এবং হবেনা -- সেখানে তাঁর অবদান কী? হ্যাঁ, আমি জানি তিনি দেশাত্মবোধক গান কিছু রেখে গেছেন। যুদ্ধের আবহাওয়ায় তৈরী করা কিছু গান।
     
    সে এন্টারটেনমেন্ট -- বিনোদনও -- খুবই লঘু প্রজাতির। স্টিরিওটাইপ এক চটুল, উচ্চবিত্ত বা হতাশাগ্রস্ত নায়িকা, যিনি আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নিয়মমতো এক দ্বিতীয় শ্রেণীর মানুষ যাঁর জীবনের উদ্দেশ্য হলো নায়কের প্রেমে পড়া বা চোখে পড়া, এবং শেষে নিজের সত্তা বিসর্জন দিয়ে পুরুষশাসিত সমাজের কর্তৃত্ব মেনে নেওয়া খুশিমনে, এবং মাঝে মাঝে হিন্দুধর্মকে আশ্রয় করে বেঁচে থাকা (বলাই বাহুল্য, বলিউড ভীষণরকমের ধর্মকেন্দ্রিক এবং হিন্দুধর্মকেন্দ্রিক), সেই নায়িকার বালিকাসুলভ কণ্ঠে পাঁচ বা ছয় দশক ধরে গান। 

    এসব কথা বললে রক্তচক্ষু ভারতীয় ও বাঙালিদের হুমকি শুনতেই হবে। অথবা, নিজের ফ্যামিলি ও বন্ধুমহলেই সম্পূর্ণ বর্জিত হতে হবে। কিন্তু তাও বলছি, কারণ এসব কথা আমাদের প্রজন্মের পরে বলার আর কেউ থাকবে না।
     
    তাঁর দীর্ঘ জীবনে চোখের সামনে তিনি দেখলেন ভারতবর্ষের মতো একটা দেশ দারিদ্র্যে, রোগে, শোকে, অশিক্ষায়, কুসংস্কারে, ধর্মান্ধতায়, মিথ্যায়, দুর্নীতিতে, লোভে, এবং উগ্র অন্ধ দেশপ্রেমে শেষ হয়ে গেলো। কিন্তু তিনি কোনো কথা বললেন না। বরং শাসকশ্রেণীর পাশেই চিরকাল থাকলেন। বলিউড নামক চরম প্রাচীনপন্থী একটা সাংস্কৃতিক জগতের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি একটা প্রাচীনপন্থী সামাজিক ও অর্থনৈতিক সিস্টেমকেই বিরাটভাবে সমর্থন করে গেলেন।
     
    তিনি দেখলেন একসময়ের "বিবিধের মাঝে দেখো মিলন মহান"এর দেশ একটা সস্তা প্রজাতির হিন্দি ভোগবাদী কালচারে সুনামির মতো ভেসে গেলো। লুপ্ত হয়ে গেলো বৈচিত্র্য, রং, ডাইভার্সিটি। বাংলা থেকে পাঞ্জাব, বাংলাদেশ থেকে রাজস্থানের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনপদ্ধতি বলিউড ফিল্মি সংস্কৃতি শেষ করে দিলো। কিন্তু তিনি কোনো কথা বললেন না। শুনেছি, ছত্রিশটি ভাষায় তিনি দশ হাজার গান গেয়েছেন। কিন্তু সে গানের ভাষা আসলে কি আলাদা? না কি, একই জীবনদর্শন বিভিন্ন ভাষায় জোর করে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বিগ মিডিয়া ও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির উৎসাহী মুনাফাবাজির মদতে? 

    ভেবে দেখুন।
     
    এর জন্যে রাজনীতি করতে হয়না। প্রত্যক্ষ রাজনীতি না করেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা যায়। লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে, শাহরুখ খান, অমিতাভ বচ্চন, রেখা, জয়ললিতা, রজনীকান্ত, উত্তমকুমাররা, শচীন ধোনি সৌরভরা তাঁদের বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে যদি মাঝে মাঝে দু একটা কথা বলতেন, দেশের অবস্থা অনেক বদলে যেতো। বলিউডে এই বীভৎস পুরুষতান্ত্রিকতা ও বালখিল্যতার অবসান ঘটতো। বিলিয়ন বিলিয়ন কালো টাকার একটা ব্যবসা একটু সাদা হতো।
     
    কিন্তু তিনি বলেন নি। কখনো বলেন নি। ওই শচীন তেন্ডুলকারের মতোই, বৈজয়ন্তীমালা, কিশোর কুমার কিংবা অমিতাভ বচ্চন বা হেমা মালিনীর মতোই তিনি চিরকাল চুপ করে থেকেছেন।
     
    তারপর শুধু চুপ করেও থাকেন নি। সারাজীবন তিনি ও তাঁর বোন চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদীদের সমর্থন করে এসেছেন প্রকাশ্যে। হিটলারপন্থী সাভারকারকে পিতৃতুল্য বলে পুজো করেছেন, এবং সেই টুইটার লক্ষ কোটি মানুষ বেদবাক্য বলে মেনে নিয়েছে। এই সেদিনও, শোনা যায়, লতা মঙ্গেশকর ভারতের ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনকে বিপথগামী বলেছেন, এবং তার বিরোধিতা করেছেন। এসব কথা আজকের এই সেন্টিমেন্টাল অশ্রুসজল দিনে কেউ বলবে না। 

    আসলে, কখনোই বলবে না। সোশ্যাল মিডিয়াতে ও ব্যক্তিগত জীবনে রোষের মুখে, অশ্লীলতার মুখে কেই বা পড়তে চায়?
     
    মনে আছে, উত্তমকুমারকে দেবতা হিসেবে পুজো করিনা বলেছিলাম বলে আমাকে একটা গ্রুপে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সে হুমকি রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। শোলে সিনেমার বালখিল্যতার সমালোচনা করেছিলাম বলে বিদগ্ধ এক শান্তিনিকেতনী আমাকে সবার সামনে অপমান করেছিলেন। বানিয়ে বলছিনা। সেসব রত্ন সেভ করে রেখে দিয়েছি, যদি কখনো কাজে লাগে।
     
    আজ আমি নিশ্চয়ই এক শ্রেষ্ঠ গায়িকা লতা মঙ্গেশকরের মৃত্যুতে একটু দুঃখ পাবো (যদিও আমার দুঃখ পাওয়াতে কারুরই কিছু আসে যায়না), এবং তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবো, কিন্তু আমি জানিনা তার বাইরে আমার আর কী নিবেদন করার আছে।
     
    অবশ্য আমি অতি সামান্য মানুষ, তাই আমার কথার মূল্যও অতি সামান্য।
     
    ও হ্যাঁ, আমি জীবনে কখনো লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে, কিশোর কুমার এঁদের গান সামনে থেকে শুনিনি, কারণ তাঁদের অনুষ্ঠানের মহার্ঘ্য টিকিট কাটার পয়সা আমাদের ছিলোনা। আমেরিকার দীর্ঘ তিন দশকের জীবনে সে ক্ষমতা হলো, কিন্তু তখন দৃষ্টিভঙ্গী বদলে গেছে। ওসব শুনতে যাওয়ার, দেখতে যাওয়ার আইডল পুজোর মানসিকতা তখন আর নেই।
     
    জিনিয়াস তো বটেই শিল্পী হিসেবে।  অসাধারণ এক জিনিয়াস। কোনো সন্দেহ নেই। তা নিয়ে আমার এই লেখা আমি লিখিনি। আমার লেখা তাঁর গানের বাইরের লতা মঙ্গেশকরকে নিয়ে।
     
    জানি, তিনি জানতে পারলে হয়তো আমাকে উদ্দেশ্য করে বলতেন, "ম্যায়নে ক্যা করু রাম মুঝে বুড্ঢা মিল গ্যায়া।"
     
    ###
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ৪০০১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পাতা :
  • dc | 122.164.64.161 | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২১:২২503788
  • রঞ্জনদা, এমার্জেন্সির ব্যপারটা এতো ডিটেলে জানতাম না। ধন্যবাদ। আর পলিটিকাল কারেক্টনেস নিয়েও আপনার সাথে একমত। এমনিতেও আমার মনে হয় কাউকে ইভ্যালুয়েট করা উচিত সে কি করেছে তাই দিয়ে, কি করেনি তাই দিয়ে না। আমি পজিটিভ আর নেগেটিভ, দুরকম হ্যালো এফেক্টই এড়ানোর চেষ্টা করি :-)
  • এলেবেলে | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২১:৫১503789
  • দ-দি, লেখাটা বা তাকে ঘিরে মন্তব্য নিয়ে আমি কোনও কথা বলব না। কিন্তু আপনি যেহেতু 'পুরুষতান্ত্রিক' শব্দটার বদলে 'পিতৃতান্ত্রিক' শব্দটাকে প্রেফার করছেন বা বলা ভালো মান্য করছেন, সে প্রসঙ্গে নির্দিষ্টভাবে আপনার থেকে একটা জিনিস জানতে চাইছি।
     
    'পিতৃতান্ত্রিক' শব্দটা পিতা সম্পর্কিত এবং পিতা পুরুষ হওয়ার দৌলতে তাঁর ওপরেও এই লব্জটি ব্যবহৃত হচ্ছে। এখন সব পিতাই যে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাসম্পন্ন হবেন, সেটা তো নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। প্লাস এমন অনেক পুরুষ আছেন যাঁরা স্বেচ্ছায় পিতা হবেন না কোনও দিন বা হতে পারবেন না। মানে বৈধ বা অবৈধ উপায়ে। তাহলে কি পিতৃতান্ত্রিকতা থেকে তাঁরা বাদ যাবেন? কিন্তু আমি যদি পিতৃতান্ত্রিকের বদলে 'পুরুষতান্ত্রিক' শব্দটা ব্যবহার করি তাহলে তার স্প্যান এবং ব্যঞ্জনা কি অনেক বেশি হবে না? আমি কিন্তু এখানে প্যাটার্নালের অক্ষম অনুবাদের প্রসঙ্গটা টানছিই না। 
     
    আসলে এই কথাটা আপনি আমাকেও বলেছিলেন। এই সুযোগে সেটা বুঝে নিতে চাইছি আর কি।
  • Abhyu | 47.39.151.164 | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ০২:৩৯503792
  •  
    •  Ranjan Roy | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২০:৪০503786
    • কিন্তু গোটা জীবনে ওঁর গানই আমাদের মুখ্য আলোচনার বিষয় হওয়া উচিৎ।
    রঞ্জনদা, যাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল এবং জনপ্রিয়, তাঁদের জনপ্রিয়তার একটা মূল্য আছে। সেই ব্র্যাণ্ডভ্যালু অন্য কাজে ব্যবহার করা হলে সেই নিয়ে কথা তো হবেই। অমিতাভ বচ্চন যখন বলেন ঘড়ি ডিটারজেন্ট খুব ভালো, উনি ব্যবহার করেন তখন বোঝা যায় সেটা অ্যাড, পয়সার জন্যে করছেন। যেমন উনি ভিলেনের চরিত্রে যখন অভিনয় করেন তখন কেউ মনে করে না যে উনি বলছেন লোকের ভিলেন হওয়া উচিত। কিন্তু ২০১৩ সালে উনি টুইটারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অনেক ঠাট্টা তামাশা করলেন অথচ গত কয়েক বছরে অনেক বেশি দাম বাড়লেও সেসব নিয়ে টুঁ শব্দ করলেন না। সে নিয়ে সমালোচনা হতে বাধ্য। তেমনি লতাজী খোলাখুলিভাবে মোদিজীকে সমর্থন করে গেলেন। যেহেতু ওনার একটা বড় ফ্যানবেস আছে, এটা স্বাভাবিক যে তাঁরা ওনার এই এন্ডোর্সমেন্টে প্রভাবিত হবেন। সে জন্যে উনি সমালোচিত হবেনই, কিন্তু তাতে ওনার শিল্পীসত্তাকে অসম্মান করা হয় না। ওনার বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে তাঁর রাজনৈতিক মতামতের একটা বৃহত্তর প্রাসঙ্গিকতা থাকে। উনি RSSএর হিন্দু রাষ্ট্রের প্রকল্পতে বিশ্বাস রেখেছেন, এবং সে কথা প্রচারও করেছেন, তো, তার ভালো মন্দের দায় তাঁকে নিতেই হবে। সদ্য প্রয়াত বলে এই দিকটা এড়িয়ে যেতে হবে সেটা আমি মনে করি না। 
  • উজ্জ্বল | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১৬:২৮503798
  • রঞ্জনবাবু, বদল জায়ে অগর মালী গানটা কিশোরের গাওয়া নয়, গানটা গেয়েছেন মহেন্দ্র কাপুর।
  • | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১৬:৫৭503799
  • এলেবেলে, 
     
    প্যাট্রিয়ার্কি থেকে পিতৃতন্ত্র, নট নেসেসারিলি কোনও পিতা।   ধরুন যে সব শাশুড়িরা বৌদের নানারকম ভার্বাল ও ফিজিকাল অ্যাবিউজ করে তারা তো পিতা নয় পুরুষও নয়, তারা কিন্তু পিতৃতন্ত্রের ধারক ও বাহক। অনেক পিতার চেয়ে এঁরা অনেক বেশী কঠোর রক্ষক পিতৃতন্ত্রের। আবার ধরুন যে সব মা মাসী কাকী জেথি ইত্যাদিরা পোশাক বিবাহিত জীবনের রীতি কেমন কি হওয়া উচিৎ বিধান দেয় তাঁরা পিতৃতন্ত্রের ধারক ও বাহক। 
     
    মোদ্দা কথা হল পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা যারই আছে তিনিই পিতৃতান্ত্রিক, সে পুরুষ, মহিলা বা তৃতীয় লিঙ্গ বা অন্য কোনও ফ্লুইড জেন্ডারের  অধিকারীই হোনা না কেন।  পুরুষতান্ত্রিক ব্যবহার করলে 'নট অল মেন'  জাতীয় ন্যারেটিভ সারজল পেয়ে লাফায়। 
  • সত্যেন্দু সান্যাল | 223.177.8.166 | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১৮:১৬503801
  • রঞ্জন রায় মহাশয়ের কথায় একটু খটকা লাগলো।
    উদ্ধৃত ঐ গানটি ১৯৬৬ সালের সিনেমা "বাহারে ফির ভি আয়েগী"-তে মহেন্দ্র কাপুর এর গাওয়া।
    এই গানটিই কি কিশোর কুমার গেয়েছিলেন? 
    দূরদর্শন স্টুডিও-তে গিয়ে? 
    ঐ অঘোষিত ব্যান অবশ্যই সত্য।
  • কৌশিক সাহা | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২০:৪০503804
  • @সত্যেন্দু সান্যাল
    আমার ঘটনাটি পুরোপুরি মনে আছে।   মহেন্দ্র কাপুরের গানটি আকাশবাণী দিল্লীর বিবিধ ভারতী কেন্দ্র থেকে প্রসারিত হয়েছিল। Live নয়, রেকর্ডের সংস্করণ। 
  • এলেবেলে | 202.142.80.40 | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২১:৫৮503806
  • দ-দি, অনেক অনেক ধন্যবাদ গোটা বিষয়টা এত প্রাঞ্জলভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য।
  • কৌশিক সাহা | ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২২:২৬503808
  • @Ranjan Roy 
    আফনেই হক কথাডা কইসেন। 
    বম্বে চলচ্চিত্র জগতের অগাধ অর্থভাণ্ডার দেশভাগের পর সমগ্র দেশের উচ্চাকাঙ্খী শিল্পীদের চুম্বকের মত আকর্ষণ করে নিয়ে গেছে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সলিল চৌধুরী, উৎপল দত্ত, মায় বাঙালির মহানায়ক অব্দি কেউ সে টান এড়াতে পারেন নি, যদিচ শেষোক্ত জন কল্কে পাননি। প্রথম তিনজন কিন্তু বাম আন্দোলনের সাংস্কৃতিক পুরোধা ছিলেন। 
    হেমন্তবাবুর সিগারেট মুখে ঝুলিয়ে এক হাতে বাঁহাতি Mercedes চালিয়ে সারা বম্বে ঘুরে বেড়ানোর কাহিনি অনেকেই জানেন। লতা মঙ্গেশকরকে পৃথক ভাবে গাল দিলে থুতু নিজের গায়েই পড়ে। পৃথিবীটা কার বশ, তা জ্ঞানপাপী সমেত সকলেই জানে। 
    অপর দিকে, বম্বে সিনেমাকে বাক্যমুষ্ট্যাঘাতে তুলোধনা করেও বাঙালি কিন্তু दिल दिया दर्द लिया, आराधना, शोले, दीवार এর টিকিট ব্ল্যাকে কিনতে  "আগে কেবা প্রাণ করিবেক দান" মনস্থ করে রাধা, রূপবাণী, মিনারের সামনে ঝাঁপ দিয়েছে। হিন্দী ছায়াছবির গান, সংলাপ, চলন-বলন এতটাই আত্মস্থ করেছে যে আজ হিন্দী শব্দ ব্যবহার না করে বাংলা লিখতে অসছন্দ বোধ করছে। ফলস্বরূপ এই মন্তব্যসূত্রেই घिसा-पिटा, रौनक জাতীয় শব্দের ব্যবহার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।  অতএব হিন্দীতেই বলছি - अपना सोना खोटा तो परखिए का क्या गुनाह।
  • dc | 122.178.158.78 | ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ০৭:৫০503826
  • দিল কি গিরহ খোল দো, চুপ না ব্যায়ঠো, কোই গীত গাও 
     
  • dc | 122.183.152.0 | ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১৬:৫১503846
  • হেমন্ত আর লতা, শংকর আর জয়কিষেন এর সুর 
     
  • পাতা :
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। দ্বিধা না করে মতামত দিন