এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  আলোচনা  শিক্ষা

  • মন্ত্রীমশাই এর কথা অমৃত সমান, আনন্দ পত্রিকা কহে শুনে পুণ্যবান

    অমিতাভ সেন
    আলোচনা | শিক্ষা | ২৯ জানুয়ারি ২০২২ | ১৯০৪ বার পঠিত | রেটিং ৪.৪ (৫ জন)

  • ২৫ শে জানুয়ারি, মঙ্গলবারের আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পাতায় স্কুল খোলা সংক্রান্ত বিষয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য পড়ার পর প্রাণে ঠান্ডা বাতাস লাগলো, মনে আনন্দের জোয়ার উঠলো। নিন্দুকেরা অনেক তেরা বেঁকা কথা বলছেন বটে, যেমন তাঁরা বলেই থাকেন। সেই নিন্দুকদের বিরুদ্ধেই এই প্রচেষ্টা। এক এক করে আসি?

    ১। শ্রদ্ধেয় মন্ত্রীমশাই জানিয়েছেন "স্কুল খোলা নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই"। আহা বহুদিন পর মন জুড়িয়ে গেলো।

    সব সার্ভেগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বলছিল প্রান্তিক পরিবারের বাচ্চাদের কোনো কিছু রিডিং পড়ার ক্ষমতাই কমে যাচ্ছে অতি দ্রুত, স্কুলছুট হবার সংখ্যা আকাশ ছোঁয়া, লার্নিং গ্যাপ এত দ্রুত বাড়ছে, যা অনতিক্রম্য অধিকাংশ বাচ্চাদের ক্ষেত্রেই। অনেক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরাও জানাচ্ছেন প্রান্তিক পরিবারের বাচ্চাদের মধ্যে স্কুলছুটদের সংখ্যা বাড়ছে ভয়ঙ্কর ভাবে। পশ্চিমের দেশগুলো, WHO থেকে বৈজ্ঞানিক তথ্য জানাচ্ছে যে স্কুল যেখানে বেশি বন্ধ থেকেছে সেখানকার শিশুদের মানসিক সমস্যা ভয়ঙ্কর। মধ্যবিত্ত বা তার ওপরের স্তরের বাচ্চাদের মধ্যে বাড়ছে digital addiction. তথ্য এটাও দেখায় যে সারা দেশের তুলনায় এই রাজ্যে অনেক কম শতাংশ বাচ্চা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা অব্দি পৌঁছায়। আর এসব কিছুর মধ্যেই বড় উদ্বেগে ছিলাম যখন দেখছিলাম দুনিয়ার বহু দেশে তো বটেই আমাদের দেশেও সব রাজ্যে স্কুল খোলা থাকছে সুদীর্ঘ সময় ধরে, শুধু পশ্চিম বঙ্গ ব্যতিক্রম। আজ খুব নিশ্চিন্ত লাগছে। মন্ত্রী বলে দিয়েছেন উদ্বিগ্ন হবার কারণ নেই, কাজেই যাবতীয় উদ্বেগ এক ঢেঁকুরেই উধাও।

    ২। আনন্দ বাজার জানিয়েছে বরেণ্য শিক্ষামন্ত্রী স্বাস্থ্য দপ্তর আর মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর সাথে স্কুল খোলা নিয়ে নিয়মিত কথা বলছেন। অহ কি আনন্দ কি আনন্দ, নাচো নাচো নিত্যানন্দ। নিন্দুকদের কথা শুনে শুনে আমারও দৃঢ় ধারণা হয়েছিলো যে এ রাজ্যের কর্ণধাররা ভুলেই গেছেন যে শিক্ষা ব্যবস্থা বলে একটা কিছু জিনিষ আছে আর সেটা বন্ধ দু বছর ধরে। এখন দেখছি ওনাদের শুধু মনে আছে তাই নয় এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে মাঝে মধ্যে কথাও বলেন। আহা ...

    ৩। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন বাচ্চাদের ক্ষতি না করে স্কুল খুলতে হবে। এই একটি ছোট্ট কথা বলেই মাননীয় মন্ত্রী এই রাজ্যকে বিশ্বের মধ্যে এক ব্যতিক্রমী উচ্চতায় নিয়ে গেলেন। গোটা দুনিয়াতে আর এদেশের বাকি রাজ্যের বাচ্চাদের ক্ষতি হয় না স্কুল গেলে, শুধু হয় এই রাজ্যে। CDC থেকে WHO সবাই জানিয়েছে বাচ্চাদের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা খুব কম। আর সংক্রমিত হলেও না তারা সংক্রমণ ছড়ায় না হয় গুরুতর অসুস্থ। তার মানে বিশ্ব মাঝারে আমরাই ব্যতিক্রম। জয় বিশ্ব বাংলা।

    ৪। উনি বলেছেন, কোভিড সংক্রমণ না বাড়িয়ে স্কুল খোলা হবে। আচ্ছা বলুনতো আর কতবার এই এক কথা বললে তবে আপনাদের মাথায় ঢুকবে? অফিসে, কারখানায়, বাজারে, রাজনৈতিক দাদাদের মিটিংয়ে, বিভিন্ন ভিড় উপচে পড়া মেলায়, মদের দোকানে, খাবার দোকানে, সিনেমা হলে, যাত্রার আসরে - সংক্রমণ ছড়ায় না ছড়ায় না ছড়ায় না। সংক্রমণ ছড়ায় শুধু স্কুল কলেজে। এবার থেকে সবাই এটা মাথায় রাখবেন আশা করি।

    ৫। মাননীয় মন্ত্রী মহাশয় জানিয়েছেন, প্রতিষেধকের ব্যবস্থা করে তবেই স্কুল কলেজ খোলা হবে। চোখে ছানি পড়েছে, ঠিক দেখতেও পাই না। কলেজের ছেলেমেয়েগুলোর তো কবেই টীকা হয়ে গেছে। তারা তো সব কলেজেই যাচ্ছে মন্ত্রীমশাই তো বলেই দিয়েছেন। আর আমি দেখছি সব ছাত্র ছাত্রী ঘরেই বন্দি। দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। আর ইয়ে ৫ বছর বয়স অব্দি টীকা হতে কত বছর লাগবে কেউ জানে না। কাজেই ততদিন অব্দি ছুটি ছুটি ছুটি .....

    ৬। শ্রদ্ধেয় শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন এমন করে স্কুল খোলা হবে যাতে আর বন্ধ করতে না হয়। একদম পরিষ্কার চাঁছা ছোলা কথা। কোভিড যতদিন আছে ততদিন পশ্চিমবঙ্গের বাচ্চাদের বড় বিপদ হবে স্কুল কলেজ গেলেই। শুধু এই রাজ্যেই এই বিপদটা আছে সেকথা বহুবার বলা হয়েছে, কিন্তু কিছু আকাট মানুষ বুঝতে চায় না। যাই হোক এবার পরিষ্কার হলো তো? কোভিড আগামী ১০০ বছরেও যাবে না, কাজেই বাংলার বাচ্চাদের স্কুল থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকবেই আর ঠিক সেই জন্যই স্কুল খোলা যাবে না, বাস।

    ৭। মাননীয় মন্ত্রী এও জানিয়েছেন যে কয়েকটি স্কুল একত্র করে খোলা জায়গায় একসাথে স্কুল হবে। সেই হট্টমেলায় কি মজা রে ভাই, কি মজা! কম কম করে বাচ্চারা নিজেদের স্কুল বাড়িতে গেলেই করোনা ধরবে কিন্তু অনেকে মিলে একসাথে হুল্লোড় করলে কিছু হবে না। এত আগেই প্রমান হয়ে গেছে কতবার। লোকাল ট্রেনের সংখ্যা কমিয়ে প্রতি ট্রেনে ভিড় বাড়িয়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি তো এই রাজ্যেই আবিষ্কার হয়েছিল। তবে এখন আবার ভুরু কোঁচকান কেনো? আবার প্রশ্ন করছেন একজন মাস্টার মশাই কি করে আই সি এস ই, সি বি এস ই এবং মাধ্যমিক বোর্ডের ক্লাস একসাথে করাবেন? অদ্ভুত প্রশ্ন! বাড়িতে চাল, ডাল, আলু ফুলকপি দিয়ে খিচুড়ি রান্না হয় না? সেটা যদি হয় তাহলে তিন বোর্ডের ক্লাস একসাথে হবে না কেনো? আর আপনি খামোখা এটাই বা ধরে নিচ্ছেন কেনো যে দুয়ারে স্কুল পড়াশোনার জন্য করা হচ্ছে? বলিহারি যাই। আর শুনে নিন কান খুলে, ফালতু প্রশ্ন করবেন না। মন্ত্রীমশাই পরিষ্কার বলে দিয়েছেন প্রশ্ন করার আগে বিধানসভায় যেতে হবে, নইলে আপনার প্রশ্ন করার কোনো অধিকার নেই।

    ৮। প্রায় ৫০ বছর আগে এই রাজ্যের শেষ মহীরুহদের মধ্যে অগ্রগণ্য এক উন্মাদ বলেছিলেন "ভাবো ভাবাটা প্র্যাক্টিস করো"! এইতো ৫ দশক পেরিয়ে আমাদের রাজ্যের কর্ণধাররা ভাবা প্র্যাক্টিস শুরু করেছেন। ধৈর্য রাখি সবাই, আর কয়েক দশকের মধ্যেই ভাবনার পর কাজ শুরু হবে, স্কুল খুলবে।

    আপাতত দুয়ারে স্কুল আর ইয়ে তার সাথেই দুয়ারে মদ। জয়তু বিশ্ব বাংলা।



    মূল ছবি: Rebecca Zaal, Pexels
  • আলোচনা | ২৯ জানুয়ারি ২০২২ | ১৯০৪ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    থ: ! - Bitan Polley
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • santosh banerjee | ৩০ জানুয়ারি ২০২২ ১৪:২০503282
  • যে মহাপুরুষ ঐ অভয় বানী দিয়েছেন তিনি তো একজন বিশিষ্ট "সর্ব ঘটে কাঁঠালি কলা" গোছের নাট্যকার ( নাট্যসূর্য বলা যায় ) । তাই উনি ত বলছেন না, telepromting হচ্ছে সবসময় । দিনে অন্ততঃ ১০ থেকে ২০ বার ....... নেত্রীর নাম নিতে হবে। আর নেত্রী মা বলবেন তার অমোঘ। সুতরাং, ওনার কথা ...…তলা দিয়ে গলিয়ে দিলাম। বাচ্চারা, আরেক টু বড়ো রা, আরেক টু বড়ো যারা যত বেশি স্কুল ছুট, যত বেশি শিক্ষা হীন হয়ে থাকবে তত ই তো এনাদের লাভ। ১৮ বছর হলেই কেল্লা ফতে ! ভোট বাক্স নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না। কারন এরা যত বেশি জানবে তত বেশি বিপদ যে ! তাই , মল , 5 star , মেলা , খেলা , সিনেমা সুটিঙ , মিটিং, নির্বাচন... সব চলুক !! গাধা গুলো গাধাই থাক!! 
  • Swati Chakraborty | ৩০ জানুয়ারি ২০২২ ১৫:৪৮503286
  • একেবারে চাঁছাছোলা।
  • এলেবেলে | ৩১ জানুয়ারি ২০২২ ১৮:৫৮503352
  • মার্চ ২০২০ থেকে জানুয়ারি ২২ পর্যন্ত ক্লাস ফাইভ থেকে ক্লাস এইটের ছাত্রছাত্রীদের জন্য কেন ইস্কুল খোলা হচ্ছে না, সেই বিষয়ে কিছু পরিসংখ্যান দিলাম। 
     
    পয়লা এপ্রিল ২০২০ ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়ুয়াদের মাথাপিছু বরাদ্দ বেড়ে হয় ৪ টাকা ৯৭ পয়সা আর ক্লাস সিক্স থেকে এইট পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের মাথাপিছু বরাদ্দ বেড়ে হয় ৭ টাকা ৪৫ পয়সা। এর মধ্যে রাজ্যের ভাগ যথাক্রমে ১ টাকা ৯৯ পয়সা এবং ২ টাকা ৯৮ পয়সা।
     
    যদি বছরে ২০০ দিন মিড ডে মিল দেওয়া হত, তাহলে এই ২২ মাসের মধ্যে দুটো গরমের ও পুজোর ছুটি বাদ দিয়ে মোট ১৮ মাসে তাদের মাথাপিছু প্রকৃত বরাদ্দ দাঁড়াত প্রায় ৫ টাকা * ৩০০ দিন = ১৫০০ টাকা এবং ৭.৫০ টাকা *৩০০ দিন = ২২৫০ টাকা।

    পরিবর্তে তারা পেল কত? ক্লাস ওয়ান থেকে এইট পর্যন্ত সকলের জন্যে সমান বরাদ্দ ধরে সেই হিসেব দেওয়া হল।

    ২০২০ এপ্রিল ৫৫ 
    মে ---
    জুন ৪৪ 
    জুলাই ৭৩ 
    অগস্ট ৩০ 
    সেপ্টেম্বর ৪৪ 
    অক্টোবর ৪৪ 
    নভেম্বর ৪৪ 
    ডিসেম্বর ১১৩ 
    ২০২১ জানুয়ারি ৩০
    ফেব্রুয়ারি ৭৮
    মার্চ ১৬৪
    এপ্রিল ১৫৫ 
    মে ১৬৯
    জুন ১৬৯
    জুলাই ৭৩ 
    অগস্ট ৭৩ 
    সেপ্টেম্বর ৭৫
    অক্টোবর ৭৯ 
    নভেম্বর ৮২ 
    ডিসেম্বর ৭৯
    ২০২২ জানুয়ারি ৮২
    টাকার অঙ্কটা হিসেব করে নিন। তাও তর্কের খাতিরে মাত্র একমাস বাদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে
    প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ার সংখ্যা ৭২০২৫৯৬। আর ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ার সংখ্যা ৪২৮৯৫৩৪। অর্থাৎ কমবেশি দু'বছরে রাজ্য সরকার প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বাঁচিয়েছে।
     
    তারপরও ইস্কুল খুলবে কেন বলতে পারেন?
     
  • Ranjan Roy | ৩১ জানুয়ারি ২০২২ ২২:৪৫503382
  • এলেবেলে
        এটা হেব্বি দিলেন।ঃ)))
     
  • ঘরকুনো | 61.125.110.103 | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ০৬:২০503410
  • সীমান্তের অন্য পারেও একই অবস্থা। হাটে-মাঠে-বন্দরে, চায়ের দোকানে, বাণিজ্যমেলায় লোক গিজগিজ করছে, কিন্তু শুধু স্কুল-কলেজ খোলার কথা উঠলেই করোনার ভয়। সত্যিই, জয় বিশ্ব বাংলা।
  • | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ০৯:২৪503416
  • লেখার এই লাইনটার সাপোর্টিভ ডেটা পাওয়া যায়? কোন কোন রাজ্যে কবে থেকে খোলা ২০২০ পরবর্তীতে? আমি পুণেতে তো কোনও স্কুলই খোলা দেখি না। মাঝে ২০২১ এর ওক্টোবরে দশেরার পরে খুলেছিল স্কুলগুলো আবার সেই যে শীতের ছুটিতে বন্ধ হয়েছে তো ১৫ই ফেব অবধি বন্ধ থাকার কথা ছিল। সরকার যদিও জানিয়েছিল ২০-২২  জানুয়ারি থেকে খুলতে পারে, কিন্তু প্রায় কোনও স্কুলই খোলে নি, জিলা পরিষদের ​​​​​​​দুই ​​​​​​​একটা ​​​​​​​স্কুল ​​​​​​​ছাড়া। 
     
    "দুনিয়ার বহু দেশে তো বটেই আমাদের দেশেও সব রাজ্যে স্কুল খোলা থাকছে সুদীর্ঘ সময় ধরে, শুধু পশ্চিম বঙ্গ ব্যতিক্রম। "
  • dc | 122.164.68.135 | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ০৯:২৭503417
  • তামিল নাড়ু আর কর্নাটকেও ২০২০ থেকে বেশীর ভাগ সময়টা স্কুল বন্ধ থেকেছে। মাঝে দুয়েক মাসের জন্য খুলেছিল, ওমিক্রনের ধাক্কায় আবার বন্ধ হয়ে গেছিল। তামিল নাড়ুতে কাল, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে আবার স্কুল খুলবে।
  • | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ০৯:৪২503419
  • হ্যাঁ সেই আর কি। লেখক কোথায় অন্য রাজ্যে প্রচুর স্কুল খোলা পেলেন কে জানে! 
     
    যাই হোক এলেবেলের হিসেবটা দেখে বুঝলাম ঐ টাকাটাই বোধহয় গোয়াতে ইনভেস্ট করা হচ্ছিল। তা সেও ডুবে গেল। অতিমারির এটা তৃতীয় বছর কোথাও কোনও সরকারের তরফেই এখনো এই তিন বছরেও কোনও লং টার্ম প্ল্যানিং দেখা যাচ্ছে না। 
  • dc | 122.164.68.135 | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ০৯:৫৩503420
  • তবে স্কুল খোলা ভীষন দরকার, এতে কোন সন্দেহই নেই। প্রাইমারি, সেকেন্ডারি, হায়ার সেকেন্ডারি, সব লেভেলেই পড়াশুনোর ভীষন ক্ষতি হচ্ছে। 
  • santosh banerjee | ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১২:২৮503423
  • না মশাইরা ! ব্যাপার টার মধ্যে অনেক সন্দেহের বীজ বোনা আছে। শুধুই কি করোনা ? আর সারা বিশ্বের পরিসংখ্যান বাদ দিন। সারা বিশ্বে‌ আমাদের এই দেশের মতো সাপ্তাহিক শনি পূজোর মতো ইলেকশন , মেলা, রোড শো, দুয়ারে সরকার তো হয় না ! তা, ওগুলো ‌‌‌তো সব হয়েছে। করোনা কে লবডঙকা দেখিয়ে! ও দিল্লী পার্টির যা চরিত্র,, বঙ্গে ও তাই। কোনো মৌলিক পার্থক্য নাই। উদোম নৃত্য করলেন সাধুবাবা , দিদি , দাদা আর তাদের চ্যালা চামুণ্ডা রা!! দেশের স্বার্থে কিনা!! নাহলে দেশ রসাতলে যাবে যে !! চুলোয় যাক পড়াশোনা, শিক্ষা , সংস্কৃতি,‌‌‌‌‌কলা , বৌদ্ধিক চর্চা। ৫ বছরের জন্য চাকরি পাকা করতে হবে যে ! নাহলে চুরি ডাকাতি করার constitutïonal permit টা পাবোনা যে !!একটা বিরাট চক্রান্ত চলেছে সারা দেশ জুড়ে এই শিশু , কিশোর কিশোরী, তরুণ প্রজন্ম দের নিয়ে!!‌‌‌‌‌আমরা এর নৃশংস ফলাফল দেখতে পাবো আগামী দিনে... রাস্তায়, গলিতে, গ্রামে ,‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌বাস-ট্রেনে !! এক বীভৎস রূপ দেখবে এই প্রজন্মের ...courtesy ... আমাদের দেশের মহান নেতা নেত্রী গণ !!   
  • আমিতাভ সেন | 165.225.125.71 | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ০০:০৪503608
  • সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ কমেন্ট করার জন্য। সাধ্যমত জবাব দেবার একটা প্রচেষ্টাঃ
     
    সন্তোষ ব্যানার্জিঃ আপনার প্রথম বক্তব্য প্রসঙ্গে একটা  কথা শুধু বলার, একান্তই ব্যাক্তিগত মতামত যদিও। শিক্ষামন্ত্রী মহদয়ের নাট্য প্রতিভা এবং তৎসংক্রান্ত পড়াশোনা ও জানা বোঝার প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। আমার ধারণা ভবিষ্যতে বাংলার নাটকের ইতিহাস লেখা হলে অবশ্যই ওনার জায়গা একদম ওপরের দিকেই থাকবে। কিন্তু এ রাজ্যের একজন নাগরিক হিসেবে স্কুল কলেজ খোলা নিয়ে যে অনন্ত গাফিলতি প্রায় দুই বছর ধরে চলছে তা আমার কাছে অসহনীয়।
     
    এলেবেলেঃ দারুন হিসেব করেছেন। এভাবে অন্তত আমি ভাবি নি, একদমই নয়। অনেক ধন্যবাদ।
     
    দ এবং dcঃ এই লেখার চরিত্র ব্যাঙ্গাত্যক বলেই এখানে পরিসংখ্যান এর উল্লেখ করি নি। কিন্তু আপনারা দুজনেই অত্যন্ত সঙ্গত প্রশ্ন করেছেন যে "দুনিয়ার বহু দেশে তো বটেই আমাদের দেশেও সব রাজ্যে স্কুল খোলা থাকছে সুদীর্ঘ সময় ধরে, শুধু পশ্চিম বঙ্গ ব্যতিক্রম" এর তথ্য কোথায়? দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর আমাদের দেশের অন্যান্য প্রদেশে কিভাবে স্কুল কলেজ খুলেছে সেই বিষয়ে ১লা অক্টোবর ২০২১ সালে ফেসবুকে একটি লেখা লিখেছিলাম, এখানে জায়গা নষ্ট না করে সেই লিঙ্কটা দিলাম।
     
     
    এই লেখার তথ্যসুত্র NDTV, The Hindu, Times of India, Hindusthan Times, Indian Express ইত্যাদি। গুগুল করলেই পড়ে নিতে পারবেন। তবে ওই লেখায় যে তারিখ গুলো দেওয়া আছে সেটা প্রথম স্কুল খোলার দিন, সব ক্লাস শুরু হবার দিন নয়। সত্যি কথা বলতে কি প্রথম ঢেউয়ের পর যখন অন্যান্য রাজ্যে স্কুল কলেজ খুলছিল তখন আশায় ছিলাম যে আমাদের রাজ্যেও খুলে যাবে। প্রসঙ্গত আমি সেই সময় আসামে ছিলাম বলে জানি যে ওখানে স্কুল খুলেছিল অক্টোবর ২০২০ তে। এই মুহূর্তে আমি উত্তর প্রদেশে। খোঁজ নিয়ে জানলাম এখানে প্রথম ঢেউ এর পর স্কুল খোলা ছিল অক্টোবর ২০২০ থেকে মার্চ ২০২১ অব্দি, ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী।  তার পর আবার খোলা ছিল আগস্ট ২০২১ থেকে ডিসেম্বর ২০২১ অব্দি। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সব ক্লাস এর ছেলে মেয়েরাই স্কুল গেছে। যাই হোক  যখন দেখলাম এই রাজ্যে স্কুল খোলাটা জোর করে টেনে নিয়ে যাওয়া হল দ্বিতীয় ঢেউ আসা অবধি তখন কানে জল ঢুকল। তাই দ্বিতীয় ঢেউ এর পর থেকে নিয়মিত খবর রেখে গেছি  সব রাজ্যের ব্যাপারে। সেই তথ্যই ওপরের লিঙ্কে পাবেন।  তথ্য এটাও বলে দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর দেশের ৩৩ টি রাজ্য ও কেন্দ্র শাষিত অঞ্চলে অঞ্চলের মধ্যে বাংলার পর স্কুল খুলেছে শুধু মনিপুরে।
     
    তৃতীয় ঢেউ এর পর কোন কোন রাজ্যে স্কুল খুলেছে কার আংশিক আর কার সব ক্লাস সে তো এখন প্রতিদিনকার খবর, কাজেই এখানে আপনাদের সময় নষ্ট করার মানে হয় না। যতদূর কাগজ পড়ে জানলাম যে একমাত্র মহারাষ্ট্র ছাড়া অন্য কোন রাজ্যে মানুষকে আন্দোলন করতে হয় নি স্কুল খোলার জন্য। মহারাষ্ট্র তে করতে হয়েছে  প্রথম শ্রেণী থেকে ক্লাস খোলার জন্য এবং ওই রাজ্যে সরকার সঙ্গে সঙ্গে সেই দাবি মেনে নিয়েছেন। এ রাজ্যে যেটুকু স্কুল খুলছে তাও বোধহয় খুলত না যদি না প্রবল জনমত গড়ে উঠত।
     
    আবার ও সবাইকে ধন্যবাদ
     
    তৃতীয় ঢেউয়ের পর 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন