ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • করোনাকালীন

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৩ জানুয়ারি ২০২২ | ৪১৬ বার পঠিত


  • কাজের বাড়ির বাইরে পা দিয়ে শ্যামা এক সম্পূর্ণ অন্য মানুষ হয়ে যায় । বন্দির দশা কাটলে যেমন হয়। ও জানে বৌদিরা ঠিক কী চায়। তাই কাজের বাড়িতে প্রবেশের আগে শ্যামা গায়ে আঁচল দিয়ে নেয়। সেই সঙ্গে খুলে রাখে পায়জোড়। ছমছম শব্দ করে বাড়ির মধ্যে চলাফেরা করা কোনো বৌদিই পছন্দ করে না। এবং পায়জোড়ের সঙ্গে সঙ্গে ও খুলে রাখে ওর যাবতীয় ছমকছল্লোপন, ছয়ল ছবিলি চলন, ভ্রূভঙ্গিমা, নখরাবাজি। বাসন মাজতে মাজতে ছেলের স্কুলের কথা বলে । ছেলের মাস্টারের কথা বলে। সবজি ধুতে ধুতে শাশুড়ির পিন্ডি চটকায়। ঘর মুছতে মুছতে পাশের বাড়ির বৌদি বা কাকিমার কিপটেমি বা বেহুদা হরকত আলোচিত হয়। ও জানে বৌদিরা ঠিক কোন কোন কথায় পুলকিত বা ক্রুদ্ধ হবে।
    কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে শ্যামা তার সমস্ত অস্ত্র বিকশিত করে পথ চলে। নকল বাটিকের শাড়িতে হলুদ খয়েরি মিশেছে ওর চাপা রঙের দোসর হয়ে । বেরোনোর আগে পায়জোড় পরে নিয়েছে । শব্দ হচ্ছে ছমছম। আগাম ছুটি এবং হাতে আগাম পয়সা, এই সমস্তই ওর চলনকে খুব শ্রীময়ী করে রাখে। মুদির দোকানি সুফল বা সবজি বিক্রেতা দশরথ , মাছের ব্যাপারি সাজিদ এবং অনেকেই শ্যামা এবং শ্যামাদের এই মস্তানি চাল এবং আঁখোকি মস্তির সমঝদার।
    দশরথ এখন সবজি এবং কাপড়ের মাস্ক বিক্রি করে। ফিরতি পথে দুটো বেগুন, মূলো, আলু নেয় শ্যামা। ফ্রি তে একটা মাস্ক।
    - খুব খতরনাক রোগ নাকি গো?
    - চোখে দেখা যায় না ভাইরাস। খবরের কাগজে লিখছে। ই লে। মুখ বেঁধে থাকবি।
    মাস্ক পরে নেয় শ্যামা। মাস্কের ওপর দিয়ে ওর কুচকুচে কালো চোখ চকচক করে। চোখে হাসি।
    -তালে তো হাসি দেখা যাবে না গো। শ্যামার কোমর নাচে।
    - তোর চোখেই কয়ামত আছে । দাঁত দেখে কি হবে। দোকান গোছায় দশরথ।
    করোনা চলছে। জীবনও। এই ভয়ানক অতিমারী কালেও, লাখে লাখে পরিযায়ী শ্রমিকের ঘরে ফেরার দিনেও, অজস্র মৃত্যুমিছিল, অনন্ত লকডাউন, পেরিয়েও চলছে নয়া স্বাভাবিকতা। নিউ নর্মাল। মুখোশ যেখানে অঙ্গভূষণ, কিন্তু থেকে যায় চোখের ইঙ্গিত। সিনেমাহল বন্ধ, প্রেক্ষাগৃহে লালবাতি, কিন্তু কোন অনন্ত সময়ের পিছন থেকে উঁকি দিয়ে যায়, সেই কবে মরে যাওয়া দিব্যা ভারতী।
    বাড়ি থেকে পালিয়েছিল জুহি। তার শরীর ভারি, কিঞ্চিৎ বাতিল হওয়া দিব্যার মতো। হিরোইন হওয়া কপালে নেই, প্রেমিক সটকেছে, কিন্তু ক্লায়েন্ট আছে এই করোনাকালেও। বন্ধ আছে উড়োজাহাজ, রিসর্ট কিন্তু খোলা। এই হোটেলের মালিক নাকি সুনীল শেট্টি। তাকে কখনও দেখা হয়নি, কিন্তু ভাইরাস দেখা হয়ে যায় জুহির। জ্বর আসে ধুম। অসমাপ্ত কনস্ট্রাকশানের নিচে জ্বরে হাত পা কাঁপে। ঘোরের মধ্যে ভাত আর সর্ষের তেলের গন্ধ পায়। কাউকে ফোন করার কথা মনে পড়ে না। শুধু মায়ের গন্ধ পায়। মায়ের চোখদুটো শ্যামাদিদির মত। সুনীল শেট্টি এসে মাথাতে হাত বুলিয়ে দেন। করুণাঘন চোখ তাঁর।
    - হিরোইনকো ইয়ে ক্যা হুয়া?
    - বুখার স্যর। এখন আর সাব বলে না ও।
    - ঠিক হো যাও জলদি। শুট হ্যায় না?
    -বিলকুল স্যর। হিরো কৌন বনেগা স্যর?
    সুনীল শেট্টি পিপিই পরিহিত । ফেস মাস্ক পরে নেন। স্বচ্ছ পলিথিন সদৃশ আবরণ নীল কুয়াশা ছড়ায়।
    নার্স এসে নল খুলে নেয়। শ্রাবণ ঘন গহন মোহে, গোপনে তার চরণ ফেলে, অতি সাধারণ মৃত্যু আসে, মৃত্যু আসে করোনাকালে।
    অনুরাধা কুন্ডা করোনাকালের এই জীবন এবং মৃত্যুকে লিপিবদ্ধ করেছেন। বইটি এসে গেল গুগল স্টোরে। প্রকাশিত হতে চলেছে বইমেলায়ও। যাঁরা বইটি প্রকাশের সঙ্গী হতে চান, আংশিক বা সম্পূর্ণ আর্থিক দায়িত্ব বা দত্তক নিয়ে, মন্তব্যে লিখুন, বা এই লেখার নিচে। ভয় নেই, মন্তব্য করলেই দত্তক নিতে হয়না।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • prabhat ray | ২৩ জানুয়ারি ২০২২ ২২:৫২503040
  • বেশ ভাল লেখা | কিন্তু  দত্তক  নেওয়ার ব্যাপারে টাকা এবং সদিচ্ছা দুটোরই অভাব আছে আমার |
  • | ০৭ মার্চ ২০২২ ২০:০৪504755
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে প্রতিক্রিয়া দিন