• হরিদাস পাল  ব্লগ

  • ব্যক্তিগত

    Subhendu Chattopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১০ জানুয়ারি ২০২২ | ৫৭৩ বার পঠিত | রেটিং ৩ (১ জন)
  • প্রথম পর্ব | প্রথমের অবশিষ্ট


    খুব ছোটবেলার বেশ কিছু কথা আমার মনে আছে, যেমন বছর দেড়-দু বছর বয়েসে আমার পেট পুড়ে গেছলো চাটু লেগে। পেটে হলুদ বার্নল লাগিয়ে আমি দাঁড়িয়ে আছি। তখন আমরা তারাপুকুর কোয়ার্টার-এ থাকতাম। বাবা রাতে আসবে, ইভিনিং ডিউটি সেরে... পরে জিগেস করে দেখেছি সেদিন সত্যি ই বাবার ইভিনিং ডিউটি ছিল। তারাপুকুরের আরো অনেক কথা আমার মনে আছে। যেমন বাবা ফজলি আম এনেছেন। আমি ভাবছি এতো বড় আম, নীল ডুমো মাছি আর আলতার প্যাকেটে সুন্দর দেখতে এক মহিলার ছবি, আমি ভাবছি একে বিয়ে করা যায় কিনা! আরো মনে আছে কাকার সাথে সাইকেল করে কারো বাড়িতে গিয়ে কুমড়ো ভাজা খাওয়া। এমনিতে আমার স্মৃতি ভালো না ! আমি অনায়াস ভুলে যাই। কিন্তু আমার মনে আছে যেদিন হাড়িপাড়ার বাড়ি এলাম সেদিন খুব বৃষ্টি হয়েছিল। বাবা বুকে গুরুদেবের ফটো নিয়ে আগে আগে হেটে যাচ্ছেন, আমি মা আর দাদা রিক্সায়। আমি মার্ কোলে , মা আমায় পাউডার জলে গুলে চন্দনে সাজিয়ে দিয়েছেন । মার্ খুব ইচ্ছা ছিল আমি মেয়ে হই। তাই মেয়ে সাজিয়ে আশ মেটাতো আর আজও আমার মধ্যে এক মহিলা বিরাজ করে। তারাপুকুর থেকে আমরা হাঁড়িপাড়া এলাম দশ মিনিট হাঁটাপথ। মনে আছে বাড়ি যখন তৈরী হচ্ছিলো আমরা তিন ভাই সেই বাড়িতে খেলতে আসতাম। ফাঁকা বাড়ির চৌবাচ্চায় একটা আরশোলা দেখে আমরা ভয় পেয়েছিলাম। নতুন বাড়িতে এসে ঠাকুমা মারা যান, তখন ও আমি স্কুলে ভর্তি হয়নি। বড়রা সবাই গঙ্গা স্নানে গেছেন আমি একা একা ঘুরছি, হঠাৎ দেখলাম একটা নীল বিছে ....স্কুলে ভর্তি হবার কথা বললে মনে পড়ে আমাকে আশ্রমে ভর্তির পরীক্ষা দিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমার দুই দাদা তখন আশ্রমে পড়ে, আশ্রমে না চান্স পাওয়া মানে এক লজ্জার ব্যাপার। মনে আছে একটা প্রশ্ন এসেছিল, গণেশের কটা হাত। পোদ্দার কাকু নিচে বসে ছিলেন, পোদ্দার মানে শ্রীরামপুরের পোদ্দার মেডিকেল স্টোর।আহা সারা জীবন কি স্নেহ পেয়েছি পোদ্দার কাকুর কাছে। কিন্তু সে অন্য গল্প। এদিকে আমাদের পরীক্ষার মাঝে প্রমান সাইজের একটা করে কমলা লেবু দেওয়া হয়েছিলো! আমি লেবু পেয়ে বেজায় খুশি জানতে ছেয়েছিলাম আমায় কি আর লিখতে হবে? কে ছিলেন মনে নেই কিন্তু আমায় না না বলে খাতা নিয়ে বাইরে বের করে দিয়েছিলেন! আমি লাফাতে লাফাতে বাইরে বাবার কাছে এসে বলতেই দেখেছিলাম তার মুখ অন্ধকার হয়ে যেতে। আমার আশ্রমে ভর্তি হওয়া হলো না ! সেই আমার জীবন প্রথম ব্যর্থতা ! তখন আমার বয়স ছয়!



    আশ্রমে ভর্তি না হওয়ার অবশ্যম্ভাবী ফল হলো আমাকে শিশুশিক্ষায়তনে ভর্তি করে দেওয়া হলো। মাঠ , বাগান পুকুর ঘেরা একটা স্কুলের থেকে সোজা একটা তিনতলা বাড়ি। বড়দিমনি সপ্তাহে একদিন আসতেন, ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকা কাকে বলে তা সেদিন তাকে দেখেই বুঝেছিলাম। মনে হয়েছিল হাত পা সব পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলি, এতো ভয় এতো ভয়! রাস্তায় বেরোলে ভয় , স্কুলের সামনে এক ভবঘুরে বসে বসে হাফাতেন, হয়তো এমনি জিরোচ্ছেন। বাবার সাথে ফিরছি, বাবা বললো এই লোকটা একদিন এখানে মারা যাবে এর বাড়ির লোক জানতেও পারবে না, আমার ভয় হতো। বাবা বাইরে গেলে অপেক্ষা করতাম কতক্ষুনে ফিরবে। খালি কুচিন্তা আসত। দেওয়ালে লাগানো শিবের ফটোর দিকে চেয়ে বলতাম তাড়া তাড়ি বাড়ি এনে দাও বাবাকে। কিন্তু শিব আবার স্বল্পে তুষ্ট হয় না। তাকে খুশি করা বেশ হাপার ব্যাপার। বরং মা কালী চট করে কথা শোনে, কিন্তু তার আবার হেব্বি রাগ। তাকে সামলানো মুখের কথা নয়। এসব গল্প আমি তখন একদম জেনে গেছি। আমার অনেক দুপুর এই সব চিন্তাতেই কেটে গেছে। কাকে ডাকলে বাবা তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরে আসবে। কাকে ডাকলে স্কুলের সামনে বসে থাকা ভবঘুরে মারা যাবেনা , ফিরে যাবে বাড়ির লোকের কাছে। শিশুশিক্ষায়তন এ পড়া শুরুর কয়েক দিন আর কিছু দিদিমনির উত্তম মধ্যম ছাড়া এমনি তে খারাপ ছিল না! আমার বেশ কিছু এখন কার বন্ধু ব্রতীন, অমিত, রজত, রাতুল সেই ওখানেই আলাপ। আর বান্ধবী? বার্বি ডলের মতন দেখতে ছিল শ্রাবস্তী আর কি স্মার্ট ছিল সৌমা ! সৌমা ফার্স্ট হতো আর শ্রাবস্তী সেকেন্ড , বুলা থার্ড। এসব ব্যাপারে আমার কোনোদিন-ই হিংসা ছিল না। শুধু একবার এক দিদিমনি কি একটা লিখতে না পারায় কান ধরে অন্য সেকশনে নিয়ে গিয়ে বসিয়ে দিয়েছিলো ! সেখান ও আমার খারাপ লাগেনি তবে কানে খুব ব্যাথা ছিল। আর ছিল উঁচু জানলা দিয়ে পেছনে গুল কয়লা কারখানায় লোকেদের কাজ দেখার নেশা। স্কুলের পেছনে ছিল এই কারখানা টা। আমি মন দিয়ে দেখতাম ওখানে স্বল্পবাস লোক গুলো কাজ করছে। মাঝে মাঝে আমি আর ব্রতীন এদের নিয়ে কল্পনার জগৎ বানাতাম। বন্ধুদের কথা বলতে বলতে একজনের কথা না বললে পাপ হবে। সে ছিল আমার প্রথম বন্ধু। রণজিৎ হেটে আসতো স্কুলে আর রোজ নিয়ে আসত একটা করে লজেন্স , লাল লজেন্স প্লাস্টিকে মোড়া। পাঁচ পয়সা করে দামছিলো। পরে অরুণদাকে (অরুন কুমার চক্রবর্তী) দেখেছি এই লজেন্স দিতে। আমি আর রণজিৎ বাথরুম যাবার নাম করে দেখতাম কিভাবে তাঁত চালায়। তাঁতের মাকুর অদ্ভুত এক ছন্দ , গোটা শরীর দুলছে , টাকটা হুটা টাহুকু টাহু। স্কুলে একটা তাঁত ছিল। এখন উঠে গেছে। বহুদিন পর আমি তখন চাকরি করছি , কাটাপোলের কাছে রণজিৎ কে দেখি ঢুলছে , দেশি মদের গন্ধে ম ম, আমাকে দেখে তার মুখে মৃদু হাসি খেলছে। না আমি চিনতে পারি নি, ঘাড় শক্ত করে এগিয়ে গিয়েছি। রণজিৎ তোর ওই পাঁচ পয়সার লজেন্সের দিব্যি, তোকে আজ খুব দেখতে ইচ্ছা করছে , বলতে ইচ্ছা করছে বন্ধু কি খবর বল



    খুব ছোট বেলা থেকেই দেখেছি বাড়িতে লাল রঙের প্রাধান্য ! আমার বাবা কাকা সবাই সিপিএম করতেন। প্রায় ভগবানের পাশে লেনিনের ছবি আর রবীন্দ্রনাথের পাশে কার্ল মার্ক্স্ ! বাবার কারখানায় একবার স্ট্রাইক হয়েছিল ৮০ দিন। এ গল্প আমরা কতবার শুনেছি। বাড়িতে চাল নেই , মালিক জোর করে স্ট্রাইক ভাঙতে ভয় আর প্রলোভন ঢুকিয়ে দিচ্ছে ঘরের ভেতর। ঠাকুমাকে এসে শাসিয়ে যাচ্চ্ছে কোম্পানির দালাল। আমার ঠাকুমা মেনকা ঠাকরুন (এ নাম নেহাতই তার মেজাজ দেখে দুর্জনের দেওয়া) অনেক কাঁটাতার আর খিদে পেরিয়ে এদেশে এসেছেন। কাস্তে হাতে তার তাড়া করার গল্প বহু বছর তারাপুকুর কোয়ার্টারের লোকেদের সন্ধ্যায় মেগা সিরিয়ালের আনন্দ দিয়েছিলো। এই যে আটঘণ্টা কাজ, মাস গেলে নির্দিষ্ট মাইনে, এ সবি আন্দোলনের ফল। আমিও সেই ছ'সাত বছর বয়েসে পাক্কা কমুনিস্ট হয়ে গেলাম । বেশ বুঝতে পারতাম মালিক পক্ষ বলে এক হারামজাদা গোষ্ঠী আছে আর বেশি পয়সা থাকাটা বেশ খারাপ ব্যাপার। মনে আছে বাবার বসের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে তার ছেলের সাথে বিস্তর ঝগড়া বাঁধিয়েছিলাম , পাক্কা শ্রেণী শত্রু মনে হয়েছিল তাকে। আমাকে কোনোক্রমে সেখান থেকে বের করে আনা হয়। তখন এখন কার মতো সিকিউরিটি ছিলোনা। জ্যোতি বাবু , প্রমোদ বাবু কে বেশ সহজেই সামনে থেকে দেখা যেত। একবার জ্যোতি বাবু শ্রীরামপুর টাউনহল এ এসেছিলেন , সেবারে খুব বন্যা হয়েছিল পশ্চিমবাংলায়। আমি আমার জমানো খুচরো পয়সার (দুই পাঁচ যেমন জুটতো ) পুটলি তার হাতে তুলে দিয়েছিলাম। উনি আমার মাথায় হাত রেখেছিলেন। সে এক বিশাল ব্যাপার। সে সময় আমি বেশ নাম করা শিশু শিল্পী ছিলাম। প্রায় সব পার্টির মিটিং এ আমায় স্টেজ এ তুলে দেওয়া হতো আর আমি মার্শাল টিটোর প্রতি কিংবা বব স্যান্ডার্সের লেখা কবিতা আবৃত্তি করতাম। খুব লোডশেডিং হতো তখন, রাতের অন্ধকারে ধীরে ধীরে বাড়ির সামনে মিছিলের পায়ের শব্দ জেগে উঠত, ভোট দেবেন কিসে কাস্তে ধানের শীষে। দেওয়ালে দেওয়ালে দীনেন ভট্টাচায্। লাল কালি দিয়ে কি অসামান্য দখ্যতায় সাধন কাকু লিখে চলেছেন, পিছনে দাঁড়িয়ে ভারী চশমা, না কাটা দাড়ি , দিলীপ চ্যাটার্জী। পার্টি অফিসে অকৃতদার মহিতোষ নন্দী। যার গোয়া আন্দোলনে গুলি লেগেছিলো। চোখের সামনে দেখছি স্বাধীনতা সগ্রামী , আমার লোম কাটা দিয়ে ওঠা এক সকালে বাবার হাত ধরে প্রভাত ফেরিতে গিয়ে রিষড়া পৌরসভায় গণেশ ঘোষ। এই লোক মাস্টার দার সাথে গুলি চালিয়েছেন। আর দেখেছিলাম এক জন বেঁটে খাটো লোক , হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান গাইছেন , সুদূর সমুদ্দুর আর স্টেজের উপর আছড়ে পড়ছে সাদা পোশাক পড়া শঙ্খচিল, মাইক আর হারমোনিয়ামের পিছনে হারিয়ে যাওয়া লোকটা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে দিচ্ছেন হাতুড়ির শব্দ সমস্ত রবীন্দ্র ভবন জুড়ে মানুষ দুলে উঠছে , বিশ্বাস করছে একটা কালো লোক পাথর ভেঙে হারিয়ে দিচ্ছে মেশিন কে! তার থেমে থাকা হৃদপিন্ড আর রেল ট্র্যাক ছুঁয়ে সিটি দিয়ে ছুটে যাওয়া ইঞ্জিন , হো হো শব্দের ভিতর বাড়ি ফিরে আসছি , মাথার মধ্যে গেয়ে চলেছেন হেমাঙ্গ বিশ্বাস।



    সে আমার গত জন্মের কথা। তখন বৃষ্টি হলে রাস্তায় জল, বৃষ্টির ভারী ফোঁটা হাওয়া বুকে ফুলে উঠতো, হাওয়ার টুপলি গুলো ভেসে বেড়াত। আমি ভাবতাম মাথায় হেলমেট পরে সৈন্যেরা চলেছে। জল উঠতে উঠতে সামনের পৈঠা ছুঁলো। এই সৈন্য সামন্তদের মধ্যে নৌকা ভাসিয়ে দিলাম। এসব গত জন্মের নৌকা এখনো কোথাও হয়ত ভেসে বেড়ায়। বেশির ভাগ সময় বাড়িতেই কাটত। নিতান্ত সাদা মাটা , কেবল মোহনবাগান আর রাজস্থানের খেলার দিন হঠাৎ একটা বল মোহনবাগান গোলের মধ্যে জড়িয়ে যেতে , আমি রেডিওর সামনে দুটো হাত মুঠো করে দাঁড়িয়ে রয়েছি , সমানে গোল নষ্ট করেছে শ্যাম থাপা , এমন কি সুব্রতও উঠে এসেছে , কর্নার কিক থেকে লম্বা মাথা লাগিয়ে ওর অনেক গোল আছে । বাবা বলছে হয়ে যাবে আর বাগানে নিড়ানি দিয়ে মাটি খুঁড়ছে। বিকেলের রোদ এসে পড়ছে বারান্দায়। খেলা শেষ। আমি বল পায়ে ঘরের ভেতর কেবল শোধ দেওয়ার চেষ্টা করছি সুব্রত শ্যাম থাপার না দেওয়া গোলটা। এই সব ছোট ছোট গত জন্মের স্মৃতি। আবছায়া ভোর চারটেয় ঘড়িতে অ্যালার্ম বাজত , ছটার বর্ধমান লোকাল ধরতে হবে। অন্ধকার থাকতে থাকতে আমরা তৈরী হচ্ছি। উত্তেজনায় কাঁপছি। পুরো একবছর পরে আবার আমরা মামার বাড়ি যাবো। কালো ব্যাগটা জামা কাপড়ে ফুলে উঠছে , যেন এবার ফেটে যাবে। একদিকে বাবা হাটু দিয়ে চাপছেন আর মা চেন টানছেন। হালকা শীতেও তার মুখে বিন্দু বিন্দু ঘাম। পটা পট মুখে পাওডার পড়ে যাচ্ছে। ঘুম ঘুম চোখে হালকা শরৎ সকালে পৌঁছে যাচ্ছি ট্রেনের ভিতর। কত দূর মামার বাড়ি। এই ট্রেন প্রথমে বর্ধমান যাবে তার পর সেখান থেকে আসানসোল লোকাল ধরে পৌঁছে যাবে উঁচু নিচু রাস্তা মিনিবাস এ চেপে দুর্গাপুর ! প্রত্যেক পুজোয় আমরা মামার বাড়ি চলে যেতাম। চিঠি পৌঁছত আমাদের আগে। বাস স্ট্যান্ড মামা দাঁড়িয়ে থাকতো আর মামী দরজায়। কতক্ষন? বোধ হয় সকাল থেকেই। দু দিদি ভাই বোন ভরা মামার সংসারে হুটোপাটি লেগে যেত। তার পর সাজুগুজু ঠাকুর দ্যাখা, লটর পটর খাওয়া, কাপ ফোটানো। মাইকের চোঙার পেছনে "আংরেজি মে কাহেতে হয় আই লভ ইউ আর বাঙালিমে আমি তোমাকে ভালোবাসে " , এ গান গাওয়ার সাথে এ ওর গায়ে হি হি হাসি, দিদি দের চোখ পাকানো , কোন ক্লাস তখন বোধ হয় ফোর। টিনাদের বাড়ি ছোট ফ্রিজ ছিল, ঠান্ডা জলের লোভে সব ছেলে সেখানে ছুটতো । টিনা জিনসের প্যান্ট পরে , একদিন কাঁধে হাত রেখে ঠাকুর দেখতে দেখতে দেখতে আমিও ভেবেছি আংরেজি মে। ..

    ছোটো ছোটো কোয়ার্টার , বালি ফাঁকা ফাঁকা রাস্তা মাঠ। রাতে সেখানে পর্দা টাঙিয়ে মিঠুনের তাকদীর। তখন প্রতি বছর আমরা পুজোয় মামার বাড়ি যেতাম। আমাদের রেখে বাবা ফিরে আসতেন। পুজোর ছুটির পর ফিরে এসে ঘরটা খুব অন্য রকম লাগতো। যেন মার অবর্তমানে সব কিছু কেমন অগোছালো অন্যরকম হয়ে গেছে। ধীরে ধীরে আবার ঘরটা ফিরে পেত পুরোন রূপ আর আমরা অপেখ্যা করতাম আবার কখন পরের বছর পুজো আসবে। ..ভোর ভোর উঠে আমরা বেরিয়ে পড়ব , উঁচু নিচু রাস্তায় মিনিবাস চলতে চলে খালি মাথায় একটাই গানের কলি ঘুরবে "কাশ্মীরে নয় , শিলংয়ে নয় আন্দামানকি রাঁচি তে নয় "। পুজোর কটা দিন বাবা একলাই বাড়িতে থাকতেন। হোটেল থেকে খাবার নিয়ে আসতেন। একা একা খেতেন , ঘুমিয়ে পড়তেন। অপেখ্যা করতেন পুজো শেষের।
     


    আমি আর দাদা বেঞ্চিতে বসে পা দুলিয়ে গান গাইছিলাম। আমরা দুটি ভাই শিবের গাজন গাই , ঠাকমা গেছে গয়া কাশি , গানের এই খানে দাদা বেঞ্চি থেকে লাফ দেয় আর তাকে দেখে আমি। ব্যস বেশি না কনুইটা খুলে গেলো। এই প্রথম না ! যতবার বুক ভেঙেছে তার থেকে বেশি বার আমার হাড় ভেঙেছে ! জন্মানোর সময় কলার বোন , হাটতে শিখে পা , এদুটো আমি মার কাছে শুনেছি। তবে হাত ভাঙার কথা আমার মনে আছে। জটের নার্সিং হোম হাতের অপারেশন হলো অজ্ঞান করে। সেই অজ্ঞানের মধ্যে আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম, অনেক পরীর দেশে ঘুরতে গিয়েছি। জ্ঞান ফিরতে হাত ভর্তি প্লাস্টার। তখন আমি স্কুলে পড়ি কিনা মনে নেই। বোধ হয় পড়িনা। যদিও প্রাইভেট টিউটর আসে সকালে। বিশ্বনাথ বাবু। আমাকে পড়ান। তার বিয়ে। গ্রামের বাড়ি আমাদের সবান্ধবে নিমন্ত্রণ। রাতে হ্যাজাকের আলোয় পুকুরের মাছের ঝোল , চারাপোনা ভাজা , মাটিতে বসে আমরা খাচ্ছি , আধো অন্ধকারে আমাদের ছায়া দোল খাচ্ছে। বাড়ি ফেরার পথে পূর্ণিমা চাঁদের আলো। খুব ছোট বেলা থেকেই আমি প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়তাম। আর প্রতিবছরই আমার শিক্ষক পাল্টে যেত। কেউ হয়তো চাকরি পেয়ে চলে যেত বা কারোর পড়ার চাপ বেড়ে যেত। এর মধ্যে আশিস দা আর প্রভাত কাকু কে এখনো মিস করি। প্রভাত কাকুই আমায় প্রথম কবিতা পড়তে সেখান। খুবই কৃশ খর্বকায় মানুষটির চোখে ভারী চশমা কিন্তু গলা ছিল অদ্ভুত ভারী। প্রভাস নগরে একটি সোরা কারখানায় সামান্য চাকরি করতেন আর আমায় আবৃত্তি শেখাতেন। সেবারে স্কুলে আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় একটি মজার কবিতা উনিই শিখিয়েছিলেন। একটা লাইন এখন মনে আছে, "কেমন করে খুলবো ছাতা নতুন ছাতা যে", ভর বৃষ্টির মধ্যে আমি ভিজছি কিন্তু ছাতা খুলতে পারছি না, আহা নতুন ছাতা যে। এমনি সামান্য নতুন নতুন খেলার জিনিস জমিয়ে রাখতাম। একটা চকমকি পাথরে আগুন ছিটকানো বন্দুক ছিল। মা মারা যাবার পর আলমারির ভেতর থেকে বেরোলো, কত যত্নে রাখা ছিল। এখনো চালাতেই ছিটকে পড়লো আলোর টুকরো আমার ছেলে বেলা। বন্ধ ঘরের মধ্যে মনে মনে এই বন্দুক হাতে কত বার নিজেকে ফ্ল্যাশ গর্ডন ভেবেছি ! কি সুন্দরই না দেখতে ছিল ডেল কে। ফ্ল্যাশ এর বান্ধবী। মিং আসত স্পেস শাটলে চেপে মঙ্গো থেকে। ধুন্দুমার যুদ্ধ হতো আমার ঘরে। সে সময় ইন্দ্রজাল কমিক্স আসত। মাসে দুবার। ডায়ানা বন্দি হয়ে আছে তারাকিমোর দেশে , একটা খাঁচার ভিতর ঝুলিয়ে রেখেছে স্বল্পবাস ডায়না পামার কে। বেতাল এসেছে , কিন্তু বাকিটা পরের সংখ্যায়। চোদ্দ দিন অপেখ্যা করে থাকা। রোববার বাড়িতে মাংস হচ্ছে , টিপ্ টিপ্ বৃষ্টির মধ্যে বাবা নিয়ে এলো দ্বিতীয় সংখ্যা। এখন মেগা সিরিয়ালের যুগে সে ছিল আমাদের সিরিয়েল কমিক্স পড়ার দিন। কার্টুন দেখার আগে বেতাল , মানড্রেক আর দেশিও বাহাদুর আমায় বুদ্ করে রাখতো , আর রাখতো তাদের বান্ধবীরা। বই পড়া বাদে আমরা মাঝে মাঝে বেনেটি ঘুরতে যেতাম । সেখানে অনিল কাকু, বাবার বন্ধু বাড়ি করেছিলেন। দিল্লি রোড থেকে নেমে একটু মেঠো পথ ধরে যেতে হতো তাদের বাড়ি। বড় বড় গাছ বাগান ঘেরা। অনেক পরে যখন দিল্লি রোড ধরে ডানকুনি স্কুলে পড়াতে যেতাম মনে হতো রাস্তা কত সরু হয়ে গেছে , গাছ গুলোও কেমন অযত্নে শুকিয়ে গেছে। একবার বেনেটি থেকে ফেরার পথে খুব বৃষ্টি এলো ,আমরা একটা চালার তলায় আশ্রয় নিলাম। সেখানে এক বুড়ি কে দেখে আমি তো ভীষণ ভয় পেয়েছি। বুড়ি আবার আমায় জিগেস করে আম খাবে ? ফেরার পথে বাবা গল্প করেছিল বিভূতি ভূষণের পথের পাঁচালির সেই বুড়ির , " আমি মারতি ও যায়নি ধরতি ও যায়নি "। পরে যতবার পথের পাঁচালি পড়েছি সে দিন ওই বৃষ্টিতে আটকে থাকা সন্ধ্যার কথা মনে পড়ে , মনে পড়ে সেই বুড়িটির কথা , কত স্নেহ ভরা হাতে দুটি কচি আম , সবুজ । দিল্লি রোডের মতন দেশে ফিরে আজকাল সমস্ত রাস্তা ঘাট আমার খুব সরু লাগে। আমার প্রিয় জি টি রোড যেন কত রোগ হয়ে গেছে। ধুলো আর দুদিকে উঁচু উঁচু বাড়ি গিলে ফেলছে আমার শহর। শিশু শিক্ষায়তনের পাশের রাস্তা দিয়ে যাওয়া যেত ক্ষেত্রশা মেলা বাড়ি। প্রতি বছর এখানে মেলা বসে শিবরাত্রির দিন থেকে। মেলায় মা নিয়ম করে কাঁচের বাসন কিনতো। প্রতিটি কাপ হ্যাজাকের আলোয় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখে অবধারিত খুঁজে পেতেন চুলের মতন ফাটল। আমরা বাকি পরিবার দাঁড়িয়ে থাকতাম পেছনে। উৎসাহ নিয়ে তাকিয়ে থাকলাম মাটির পুতুল বাঁশি আর নকল ফোনের দিকে। এই মেলায় আরেকটা আকর্ষণ ছিল বড়ো বড়ো পুতুলে কৃষ্ণের লীলা মূর্তি। অবাক হয়ে দেখতাম স্তন্য দানরত পুতনার বিস্ফারিত চোখ। ঘুমের মধ্যে তার মৃত মুখ আর স্তন বার বার ঘুরে আসত , সে আমার জীবনে প্রথম দেখা হত্যা দৃশ্য।

    ৬ 

    দুপুরে হারুদার জ্বর এলো। হারুদা আমাদের রিক্সা করে স্কুল এ নিয়ে যায়। ছুটির আগে এসে দাঁড়িয়ে থাকে। দিদিমনিরা এক এক করে নাম ডাকে। আমরা ঘরের থেকে সুটকেস হাতে বেরিয়ে আসি। হারু দা কোলে করে রিক্সায় বসায় , বেঞ্চের দড়ি বেঁধে দেয় যাতে কেউ পড়ে না যায়। সেই হারুদার জ্বর এলো। রিকশা থামিয়ে হারুদা কাঁপছে। আমাদের আপনজন যেন মারা যাচ্ছে । তখন ক্লাস ফোর। সামনের বছর নতুন স্কুল। শিশুশিখ্যায়তন ছেড়ে অন্য স্কুল এ যেতে হবে। মানে আমরা বড় হয়ে গেছি , মানে এর পরের স্কুল এ গিয়ে আমরা ছোট হয়ে যাবো। এই ভাবে সারা জীবন আমরা একবার বড় আর একবার ছোট হতে থাকি। প্রতিবার ছোট হবার পর আবার বড় হয়ে যায় , আমাদের চারদিকের দৃশ্যগুলি পাল্টে যায়। একদিন হঠাৎ ই দেখি টকটকে সিঁদুর পরে আরতি দিদিমনি, ফিসফাস , হি হি হাসি , শাড়ির মশমশ শব্দ। যদিও এই দৃশ্যে অভস্ত হতে না হতেই হঠাৎ একদিন হারিয়ে যান দিদিমনি। ফিরে আসেন মাস খানেক বাদে। সাদা ধপধপে কাপড়ের ধার ঘেঁষে সরু কালো পাড়। যেন সমস্ত শোক ধরে রেখেছে সাদা সিঁথি। ঠিক সাদা কি ? সিঁদুরের হালকা ছাপ কি তখন লেগেছিলো না। বাকি স্কুল আমি আরতি দিদিমনির মুখের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দিলাম। কেউ চলে গেলে যে জীবন পড়ে থাকে তা কি দুপুরে ফাঁকা রাস্তার মতন দূরে হালকা কাঁপন । দাদা হাসত। আরে ওসব মরীচিকা , আলোর খেলা। আমি দুপুরের আলোর দিকে তাকিয়ে জ্বর গায়ে হারুদার রিক্সায় প্যাটেলের উপর চাপ দেয়ার ছবি দেখতে পায়। প্রানপন এগিয়ে চলেছে। বেশ বুঝতে পারছিলাম চারদিকে একটা ফিসফাস শুরু হয়ে গেছে। এরপর কি হবে ! আশ্রমে যদি চান্স না পায় ? একাডেমি তেও এডমিশন পরীক্ষা দেওয়া হোক। একাডেমি তেও যদি না পায় ? এর পর আর ভাবতে পারা যায় না। ঠিক কি খেলে মানুষ মারা যায় ? একদিন স্নানের সময় কিছুটা সাবান খেয়ে ফেললাম। ওদিকে আমার মাথায় কিছু ঢুকছে না। ইংরেজি বানান , অংক , সাধারণ জ্ঞান। একতালা বাড়ির এক কোনায় বসে কেবলি পড়ে যাচ্ছি। জ্বর গায়ে হারুদার রিকশা টানার মতন এক ঘোরের মধ্যে আমি পরীক্ষা দিয়ে এলাম। এর কিছুদিন পরে একদিন রাতে কোথা থেকে বেড়িয়ে ফিরছি দেখি রিকশা হাতে এগিয়ে আসছে হারুদা। তার চোখ লাল। সেদিনে জ্বরের মতন তার পা কাঁপছে। আমরা সাবধানে এগিয়ে গেলাম। 
     
     

     

    প্রথম পর্ব | প্রথমের অবশিষ্ট
  • আরও পড়ুন
    আতান্তর  - সে
  • বিভাগ : ব্লগ | ১০ জানুয়ারি ২০২২ | ৫৭৩ বার পঠিত | রেটিং ৩ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সে | 2001:1711:fa42:f421:568:dbe4:163f:9588 | ১০ জানুয়ারি ২০২২ ১৪:৩৫502590
  • সুন্দর লেখা।
  • Ranjan Roy | ১০ জানুয়ারি ২০২২ ১৮:৩০502592
  • পরের কিস্তির অধীর অপেক্ষায়।
  • প্রত্যয় ভুক্ত | ১১ জানুয়ারি ২০২২ ০১:১৮502613
  • শ্রীরামপুরের কোথায় থাকেন?কি সুন্দর রিলেট করতে পারলাম এ লেখা পড়ে!আমিও তো শিশু শিক্ষায়তনে পড়েছি,তারপর আশ্রমে চলে আসি ক্লাস ওয়ান,একেবারে টানা ১২ বছর পড়েছি।আমি থাকি এন.এস অ্যাভিনিউর কাছে।
     
    আমার কিন্ত একটা সন্দেহ হচ্ছে যে,আমি বোধহয় আপনাকে চিনি।আপনি কি  'শব্দনীড়' এর আবৃত্তি শেখান?
  • Subhendu Chattopadhyay | ১১ জানুয়ারি ২০২২ ০২:০৪502614
  • :)না না  আমি আবৃত্তি শেখায় না ! আমি মল্লিক পাড়ায় থাকতাম 
     
    সবাইকে ধন্যবাদ 
  • Tanmoy Ghosh | 2409:4060:e87:56a0:78a0:904b:80ef:6b7c | ১১ জানুয়ারি ২০২২ ১০:৫৯502622
  • দুর্দান্ত চালিয়ে যা, ফাটাফাটি হচ্ছে
  • সাগর কুমার পাঠক | 2409:4060:2012:cccd::d29:b0 | ১১ জানুয়ারি ২০২২ ১১:১১502623
  • অসাধারণ, স্মৃতির সরণি বেয়ে পথ চলার সঙ্গী হতে পেরে ভালো লাগলো। শুনলাম শিশু শিক্ষায়তন স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। যদিও আমি পড়িনি। লেখাটা পড়ে মন্তব্য করলাম!
     
  • Abhyu | 47.39.151.164 | ১১ জানুয়ারি ২০২২ ১১:৪৩502624
  • সুন্দর লেখা
  • kk | 68.184.245.97 | ১১ জানুয়ারি ২০২২ ২১:১১502626
  • ভালো লাগছে পড়তে। সারা জীবন ধরে ছোট আর বড় হবার ফিলোজফিটা খুব ভালো লাগলো।
  • আপনার ফ্যান | 116.193.128.72 | ১২ জানুয়ারি ২০২২ ১৭:৪৮502639
  • সবচে সেরা লেখা, সবচে ভাল লেখা৷ পুরো নস্টালজিয়া গন্ধে ভর্তি। প্রতি লাইনে লুকিয়ে বসে আছে, পড়তে এলেই কখন খপ করে চেপে ধরবে আর তলিয়ে নিয়ে যাবে আমাদের। শ্রীরামপুর নিয়ে এমন লেখা ও অভিজ্ঞতা আরো পড়তে চাই।আপনি যদি দয়া করেন....
     
    ইতি
    আপনার ফ্যান
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে মতামত দিন