এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • হারানো নদীর উপকথা 

    জীৎ ভট্টাচার্য্য লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ০৭ জানুয়ারি ২০২২ | ৫৯৬ বার পঠিত
  • পর্ব - ২
    (৩)
     
    দেখা হলো আবার বছর খানেক পর
    এক টুকরো পাহাড়ের কোলে ঝিরঝিরে
    বৃষ্টি ভেজা দুপুরে, দেখা হলো আবার দুজনে।
    কত জমা হয়েছে কথা , কত দুঃখ ,কত স্মৃতি
    জোৎস্না রাতে ঝরে পড়া সাদা ফুলের গন্ধে
    হয়তো আবার প্রেম ফুটবে আমাদের অঙ্গে।
    "কি ওতো লেখেন বাবু ?", আধা হিন্দি আর আধা নেপালিতে জিজ্ঞেস করলো মনোজ।
    সৈয়দ খাতা থেকে পেনটা তুলে বলল ,"যা প্রাণে চায় ,তাই লিখি "।
    মনোজ বুঝতে পারলো না। খাতায় সে শুধু হিসাবের জিনিস লিখতে জানে। আলু , পেঁয়াজ ,চাল , মাংস কত কিলো কেনা হয়েছে আর কত খরচ হয়েছে। খাতা পেনের ব্যবহার এইটুকুই তার কাছে।
    "প্রাণে কি চায় বাবু ?"
    সৈয়দ হেসে ফেলে। প্রাণ যে ঠিক কি চায় সে নিজেও ভালো করে জানেনা। জানলে কি আমেরিকার ওতো বড় চাকরিটা ছেড়ে চলে আসতে পারতো এই পার্বত্য গ্রামে ? খাতাটা বন্ধ করে সে মনোজকে জিজ্ঞেস করলো ,"আমার কথা ছাড়ো। তোমার প্রাণে কি চায় মনোজ ?"
    মনোজ তার শুকনো ঠোঁট দিয়ে গাঁজার কল্কেতে এক টান মেরে বলল ,"আমার আর কি চাই বাবু ? এই খাবার জল আছে , পেটে ভাত আর রাতে ঘুমোনোর জন্য একটু বিছানা। এর থেকে বেশী জীবনে কোনোদিন চাইনি। "
    সৈয়দ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে মনোজের দিকে। মানুষটার সরলতা দেখে সে অবাক হয়। জীবন নিয়ে এই অশিক্ষিত , মূর্খ মানুষটা একেবারে নিশ্চিত । আর সে এতো বিদেশী ডিগ্রী নিয়েও এখনো স্থীর করতে পারলোনা জীবনের থেকে সে কি চায়। ভালোবাসা ? পেট ভর্তি খাবার ? না, এইসব আগেই পেয়েছিল। সারাদিন না খেয়ে শুধু রামজান এর মাসটাই কাটিয়েছে। এমনিতে কোনোদিন অন্নের অভাব হয়নি। তাহলে কি ভালোবাসা ? না, তাও অনেক পেয়েছে। পাপা আর মাম্মির থেকে অনেক অনেক ভালোবাসা পেয়েছে। এমনকি টেক্সাসের কলেজে পড়ার সময় এপ্রিল ও তাকে খুব ভালোবেসেছিল। কতবছর ধরে বেসেছিল। কিন্তু তাতেও তার মনে হয়েছে জীবনে অনেক কিছু যেন মিসিং। মাঝে মাঝে মনে হয় এই লেখাই যেন তার জীবনে এই ক্রাইসিসের কারণ। ঠিকঠাক মনের মতো না লিখতে পারলে তার সারাদিন মুড্ অফ থাকে। কেন যে পেনটা ধরেছিল কে জানে ?
    সময়টা ঠিক তার মনে নেই। কলেজে থাকতে থাকতেই লেখালেখির এই ভূতটা মাথায় চাপে। প্রথম প্রথম কয়েক লাইন কবিতা ,তারপর গদ্য। যেমনটা হয় আর কি। সবকিছুই ইংলিশে। এপ্রিলও তার লেখা পড়ে খুব প্রশংসা করতো। কলেজের ম্যাগাজিনেও ছেপেছিল বার কয়েক। এরকমভাবেই বেশ চলছিল। দেখতে দেখতে মাস্টার অফ সাইন্স হয়ে গেল। একটা চাকরিও জুটে গেল। বেশ মাইনে। সবুজ ডলারে তার পকেট ভরে থাকতো সব সময়। তবে সেই সঙ্গে ভরে থাকতো মনের ক্রাইসিসটাও । আর কোন এক মহাজ্ঞানী বলেছেন লেখকের যদি মনে ক্রাইসিস না থাকে ,তাহলে সে আর লিখতে পারে না। ব্যাস , কান্ড ঘটিয়ে বসলো। যতো টাকা জমিয়েছিল সব কিছু নিয়ে বেরিয়ে পড়লো। তারপর এক দেশ থেকে অন্য দেশে , ডলারের জায়গায় পাউন্ড ,ইউরো ও আরো কত কি ঠাঁই পেতে লাগলো তার পকেটে । কিন্তু অন্য কিছু এসে জুটলো তার কপালে। সেই পুরানো অদম্য নেশা থেকে যেন সে বঞ্চিত হতে লাগলো। পারছিল না আর, দম বন্ধ হয়ে আসছিল। তাই ফিরে এলো মাম্মি পাপার কাছে। কিন্তু সেখানেও মাস দুয়েক।
    কথায় বলে পথিকের কোন গন্তব্য হয় না। সৈয়দের ক্ষেত্রেও হলো ঠিক তাই। লেখক থেকে পথিক হয়ে দাঁড়ালো। ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়লো। আজ এই পাহাড়ে সূর্যোদয় তো কাল অন্য পাহাড়ে সূর্যাস্ত। কিন্তু কেউ আপন করে রাখলো না। সেইসব পাহাড়ের কোল থেকে অবহেলিত , বঞ্চিত হতে হতে এখন এসে ঠাঁই নিয়েছে এই বিজনবাড়ির হোমস্টে তে।
    এখানে প্রাচীন নদীর জল তার শুকিয়ে যাওয়া পেনে যেন নতুন কালি ভরে দিয়েছে। আবা র চলতে শুরু করেছে তার কলম। সাথে একটা কাজও জুটে গেছে। হোমস্টের ম্যাডাম খুবই ভালো। সৈয়দ ওতো লেখাপড়া জানে শুনতেই তিনি আর না রাজি হয়ে পারলেন না। তাই ম্যানেজারের পোস্টে ঢুকে গেল।
    তাছাড়াও খুব একটা টুরিস্টের ভিড় হয়না এখানে। নিরিবিলি শান্ত পরিবেশ। কলকাতা থেকে আসা বেশিরভাগ টুরিস্ট দার্জিলিং এ গিয়ে ভিড় করে। আর যারা একটু অফবিট জায়গা পছন্দ করে তারা দিন দুয়েকের জন্য এখানে এসে বিশ্রাম নেয়। সৈয়দের দায়িত্বের মধ্যে ঘর গুলো লোক দিয়ে পরিষ্কার করানো , ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে জায়গাটা প্রমোট করা , খাবার ,জল ইত্যাদি বাকি জিনিসের দেখা শুনা করা। তবে সত্যি বলতে এইসব করতে সৈয়দের বেশি সময় লাগেনা। তাই লেখালেখির জন্য অনেক সময় পায়।
    নদীর ধারে ধীকধীক করে আগুন জ্বলছে। দুজনে চুপচাপ বসে আছে সেখানে। আগুনের উপরে একটা চায়ের কেটলি মাঝে মধ্যে গরম বাস্পে ঠক ঠক শব্দ করছে। হোমস্টে টা একটু অন্য রকম ভাবে সাজানো।
    ঢুকতেই যেন পাহাড়ের ঢাল। পাশে বড় একটা কটেজ , সেটাই হচ্ছে রেস্টুরেন্ট আর রিসেপশন। সেটা পার করলে দুটো ঘর। তারপরে ছয়টা কটেজ। কটেজগুলো বেশ সুন্দর করে বানানো। আধুনিকটত্ব আছে ডিজাইনে। মোট সাতটা কটেজ। তার মধ্যে একটাতে ম্যাডাম থাকে। বাকি ছয়টা ভাড়া দেওয়ার জন্য। এই ছয়টার মধ্যে তিনটে কাপল কটেজ , বাকিগুলো ফ্যামিলি। রেস্টুরেন্টের আর ঘর গুলো পেরোলে ম্যাডামের কটেজ পরে প্রথমে। ঠিক তার উল্টো দিকে একটা ঢাল রাস্তা নেমে গেছে নদীর দিকে। সেই রাস্তার দুপাশে তিনটে কটেজ। এগুলোর মধ্যে নদীর ধারের শেষ দুটো কাপল কটেজ। আর উপরের দিকে বামদিকে একটা কাপল কটেজ। ফ্যামিলি কটেজগুলোর জন্য আলাদা রাস্তা ভাগ হয়ে গেছে রেস্টুরেন্টের উল্টদিকে দিক থেকেই।
    নদীটা খুবই হালকা এখানে। প্রায় হেঁটে পার করা যায়। নদীর উল্টোদিকে গম্ভীরভাবে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটা পাহাড়। তবে প্রথম পাহাড়টার পিছনেই আছে একটা ঝর্ণা। সেখান থেকেই জল পাহাড়ের পাস্ কাটিয়ে হোমস্টেকে ছুঁয়ে এগিয়ে চলেছে।
    মনোজ একটা কল্কেতে গাঁজা ভোরে বেশ করে টান দিচ্ছে। হালকা সবজে জল আর ধূসর ধোঁয়াতে বেশ নেশাতুর লাগছিলো সৈয়দের। এই কদিনেই জায়গাটা ভালো করে চিনে গেছে। তবে সবথেকে প্রিয় হল তার ঐ ঝর্না । অবসর সময় তার সামনেই গিয়ে চুপ করে বসে থাকে। কখনো কখনো খাতা ভর্তি করে কল্পনার ছবি তুলে নিয়ে আসে , কখনো বা মন ভরে স্নান করে আসে। পাহাড়ের কাছে আসলে এক অদ্ভুত শান্তি লাগে ।
    মনোজ কল্কেটা এগিয়ে দিল সৈয়দের দিকে। সৈয়দ খাতা বন্ধ করে কল্কেতে দুটো টান মারতে মারতে বলল ,"কত বছর ধরে এখানে আছো মনোজ ?"
    বৃদ্ধ মনোজ ফোগলা দাঁতে একটু হেসে বলল ,"জনম সে "
    "তা তোমার বাড়ি কোথায় ?"
    মনোজ একটা আঙ্গুল তুলে দেখালো কুয়াশা মাখানো পাহাড়ের দিকে।
    "ওখানে গাঁও আছে আমার। "
    সৈয়দ একবার ঘুরে তাকিয়ে বলল ,"তা বাড়ি যেতে তো দেখিনা কখনো ?"
    মনোজ আবার একটু হেসে বলল ,"এটাই আমার বাড়ি। উখানে ছেলেরা মারামারি করে। সম্পত্তি ,মালিকানা নিয়ে টানাটানি। ভালো লাগেনা। তাই এখানেই থাকি। "
    সৈয়দ ভাবলো মনোজকে একটু খোঁচালে হয়তো গল্প বেরোবে। এই মনোরম পরিবেশে গল্প হলে মন্দ হয় না।
    "এখানে কখনো ভূত দেখেছো ?"
    মনোজ কাঠ নাড়াতে নাড়াতে তাকিয়ে দেখলো সৈয়দের দিকে। তার ছোট ছোট চোখের দিকে তাকিয়ে সৈয়দ বুঝতে পারলো লোকটা এবার বলবে কিছু।
    "দেখিনি বাবু। তবে গল্প শুনেছি একটা বাড়ির "
    সৈয়দ একটু কৌতূহলী হয়ে বলল ,"ভুতুড়ে বাড়ি ? "
    মনোজ একটু হেসে বলল ,"না না ভুতুড়ে নয় , মন খারাপের বাড়ি। দেখলেই আপনারও মন খারাপ হয়ে যাবে। "
    সৈয়দ ভাবলো আর একটু খোঁচানো যাক। লোকটার ভেতরে অনেক মশলা আছে। একটু গরম তেল দিলেই গন্ধ বেরোবে।
    "কোথায় সেই বাড়ি ? "
    "এই তো কিছু দূরে। কাঠের তৈরী সেই পুরানো ব্রিটিশ আমলের বাড়ি। তবে এখন অনেকটাই ভেঙে গেছে। শেষবার যখন মাটি কাঁপলো তখুনি চালটা ভেঙে গেল "
    "ইন্টারেস্টিং , একবার গেলে হয়। নিয়ে যাবে আমাকে ?"
    "সে যাওয়া যাবে ", মনোজ আবার চুপ করে বসে রইলো।
    কল্কে টা এগিয়ে দিয়ে সৈয়দ বলল ,"তোমার কখনো একঘেয়ে লাগেনা ? "
    ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে মনোজ বলল ,"লাগে তো। তখন ওই হারানো নদী কাছে যাই। মনের কথা বলি। সবই শোনে আর উপদেশ দেয় "
    "হারানো নদী ?"
    মনোজ হেসে বলল ," আপনি জানেন না ? ম্যাডাম বলে নি ?"
    সৈয়দ একটু ঠিকঠাক ভাবে বসলো। মশলার গন্ধ আসছে তার নাকে,"না , তো "।
    নদী যে পাহাড়ের দিক থেকে প্রবাহিত হয়েছে সেই পাহাড়ের উল্টোদিকে আঙ্গুল তুলে মনোজ বলল ," ওখান দিয়ে অনেককাল আগে নদীর একটা শাখা ছিল। কিছু বছর আগে এমন পাহাড় কাঁপলো যে নদীতে পাথর পরে তার মুখ বন্ধ হয়ে যায়। আর তারপরেই জায়গাটা একেবারে শুকিয়ে যায়। পাথর ছড়ানো এক বিশাল উপত্যকা। ঐদিকে গেলেই দেখতে পারবেন। মনে দুঃখ হলে ওখানে গিয়ে বলি আর ব্যাস মন ভালো হয়ে যায় ?"
    সৈয়দের চোখে মুখে কৌতূহল ফুটে উঠলো। সে বলল,"ঐদিকটায় যাওয়া হয়নি আমার। "
    "এখানে প্রায়ই এরকম হয়। ", মনোজ আবার চুপ।
    এর পরে সৈয়দ আর কিছু বলল না। বেশী খোঁচালে যদি বিরক্ত হয়ে যায়।
    এমন সময় ম্যাডাম ডেকে উঠলেন ,"সৈয়দ !, একবার এদিকে এসো তো "
    মনোজ ম্যাডামের ডাক সুনে বলল ,"বাবু , আপকো ম্যাডাম বুলা রহি হে "
    সৈয়দ একটু হেসে বলল ,"হুম , শুনলাম। "
    হোমস্টের আঁকা বাঁকা রাস্তা দিয়ে উপরে উঠে গেল সৈয়দ। গাঢ় অন্ধকারে আকাশ মহাকাশ যেন মাটির সাথে মিশে গেছে। হোমস্টের ডানদিকে ফ্যামিলি কটেজগুলোকে পিছনে ফেলে সামান্য একটু এগোলেই ঢালটা শেষ হয়ে যায় । ঢালটা একটু গভীর হওয়ায় নদীর জল সেইদিকেই বয়ে গেছে। সেই ঢালের একেবারে শেষের দিকে গিয়ে দেখলে মনে হয় পৃথিবীর একেবারে প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে কেউ আর সামনে বিশাল গাঢ় এক শুন্যতা। এইরকমই শুন্যতার খোঁজে সেই আদিম যুগ থেকে কত মানুষ বাড়িছাড়া ,দেশছাড়া ,পরিবারছাড়া হয়েছে তার কোন অঙ্ক নেই।
    সৈয়দের চোখ জ্বলতে লাগলো। বেশিক্ষন তাকিয়ে থাকলে তার সেই শুন্য খাদে ঝাঁপ দিতে ইচ্ছা হতে পারে। মাথা ঘুরিয়ে এগিয়ে গেল ম্যাডামের কটেজের দিকে।
    ম্যাডামের কটেজটা বেশ করে সাজানো। সামনে দুটো জাপানি সাকুরা গাছ। আর এই সিজনে সাদা সাকুরাগুলো এমনভাবে গাছ ভরিয়ে রেখেছে যেন কোন পাতাই নেই। এই নিকষ কালো অন্ধকারের বুক চিরে সাকুরা গাছগুলো যেন মহাকাশের নক্ষত্রমন্ডলীর মতো রঙ ছড়াচ্ছে।
    সৈয়দ সেই সাকুরা মাখা রাস্তা দিয়ে এগিয়ে গিয়ে কটেজের দরজায় নক করলো।
    "ভেতরে এসো "
    দরজাটা আলতো করে খুলতেই দেখে ম্যাডাম একটা ইজি চেয়ারে বসে আছেন। সামনে রাখা অজস্র বইয়ের সম্ভারের মধ্যে একটা বই গুছিয়ে রাখছিলেন। কিন্তু ওটা বই কম ,এলবাম বেশী লাগছিল সৈয়দের চোখে। এই ঘরে সে আগেও এসেছে। বেশ ছিমছাম। দু কামরার কটেজ। ঢুকতেই যে ঘরটা পরে সেটা বৈঠকখানা ধরণের। একটা নীল রঙের সোফা আছে ঘরের মধ্যে। দরজার ঠিক উল্টোদিকে বেশ বড় একটা ব্যালকনি। সেখান দিয়েই নদী আর পাহাড় দেখা যায়। আর ডানদিকে দুখানা বইয়ের সেল্ফ। সামনে একটা ছোট টেবিল আর চেয়ার। টিভি নেই ঘরে। ম্যাডাম ও তার মতো নীরবতা পছন্দ করেন।
    খোলা ব্যালকনির উপর পাউরুটি আর গাঁজর খাচ্ছিলো একটা রঙিন পাখি। সৈয়দ এই পাখির জাত জানে না। শেষবার ম্যাডামকে জিজ্ঞেস করায় তিনিও ভালো বলতে পারেন নি। খালি বলেছিলেন পরিযায়ী কোন পাখি। নিজের খেয়ালেই আসে আবার নিজের খেয়ালেই উড়ে যায়। আর ম্যাডামও কোনোদিন তাকে ধরে রাখতে চান নি। দরজা সব সময় খোলাই থাকে , তাই যখন খুশি সে আসতে পারে।
    "ও ,সৈয়দ তুমি এসে গেছ ?",
    "হ্যা ম্যাডাম , বলুন "
    ম্যাডাম নিজের হাউসকোটটা ঠিক করে বললেন ,"বলছিলাম যে কালকে একজন বিদেশী কাপল আসবে , আমেরিকা থেকে। তারা একটা ভি লগ ও বানাবে আমাদের হোমস্টের উপর। তাই সকালে এন জী পি তে একটা গাড়ি বলে দাও। তাদের যেন যত্ন করে নিয়ে আসা হয়।"
    সৈয়দ মাথা নেড়ে বলল ,"হ্যা , ঠিক আছে। আমি এখুনি বলে দিচ্ছি "
    "আর দেখো , ওই নদীর ধারের রুমটাই দিয়ো। ওরা দু একদিন থাকবে। তবে তুমি জেনে নিও কিন্তু। টাকা পয়সা দেবে বলে তো মনে হয় না "
    সৈয়দ একটু অবাক হলো। এই ধরণের কাজের জন্যই তো সে আছে। ম্যাডামের তো জানার কথা নয়।
    "আমার কাছে তো আগে খবর আসেনি। আপনাকে কি ডাইরেক্ট যোগাযোগ করেছে ?"
    "হ্যা, তোমার আসার আগে ওর দাদা এসে থেকে গেছিল। সে প্রায় প্রত্যেক বছরই আসে। আমার নাম্বার তার কাছে আছে । ওরই ভাই সারা পৃথিবী ঘুড়ে ঘুড়ে ভিডিও বানায়। বলেছিল যে খুব প্রমোট করে দেবে আমার এই হোমস্টে । প্রথমে তো আমি রাজি হইনি। তুমি তো জানো বেশী ভিড় আমার পছন্দ নয়। কিন্তু সে একেবারে নাছোড়বান্দা। তাই রাজি হতেই হলো। এমনিতে খুব ভালো ছেলে। আমার ঘরে এই গ্রামোফোন টা দেখে কয়েকটা ডিস্কও পাঠিয়েছে। "
    " ওহ আচ্ছা ঠিক আছে। আমি বলে দেব। আর কিছু ?"
    "না। এইটুকুই "
    সৈয়দ গুডনাইট জানিয়ে বেরিয়ে পড়লো ঘরটা থেকে। শেষবার কল্কেটাতে টান দেওয়া ঠিক হয়নি। বেশ ধরেছে এবার। অজস্র নক্ষত্রদের তলায় একটা অন্য অনুভূতি এসে ঘিরে ধরেছে সৈয়দকে । হাতটা কেমন যেন কেঁপে কেঁপে উঠছে তার। কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু কি লিখবে ? হিজিবিজি ? না , একটা প্লট মাথায় আসছে।
    (৪)
     
    ঠিক বিকেল চারটে বাজতেই অরুনিমা সেন্ট্রাল পার্কে হাঁটতে যায়। আর সন্ধে হওয়ার পর বেরিয়ে আসে। দিনের বেশিরভাগ সময়ই কাজে ব্যস্ত থাকায় এই সময়টাই বেছে নিয়েছে একটু হাঁটাহাঁটি করার। সেন্ট্রাল পার্কের আবহাওয়াটা তার বেশ ভালো লাগে। সারি সারি গাছপালার মধ্যে দিয়ে একাকী হাটতে থাকে। কখনো আবার সেই কচুরিপানা ভরা পুকুরটার মধ্যে রাজঁহাস গুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে। একটা নুইয়ে পড়া তালগাছের নিচে নগ্ন ঘাসের উপর দু দন্ড বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে বেশ ভালোই লাগে। একটু নিস্তব্ধতা খোঁজে সে।
    পার্কের ভেতরে কেউ একটু জোরে কথা বললে মনে মনেই গালাগালি দেয় ,"চুপ কর। চুপ কর "
    একাকিত্বের প্রয়োজন তার। এই ব্যস্ত শহরে ভগবান পাওয়া গেলেও একাকীত্ত্ব পাওয়া যায় না। প্রথম প্রথম তার এখানে আসাতে খুব অনীহা ছিল। আসলে এতো স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই পার্কের সাথে যে পা বাড়ালেই মনে হতো অতীত মাথায় ছাতা নিয়ে পোড়া ইটের পুরানো রাস্তা দিয়ে হেটে বেড়াচ্ছে। এমন করেই তো তারা আসতো , ঘুরে বেড়াতো। কিছুদিন আগে অব্দি এসেছিল। এসে সেই নুইয়ে পড়া তালগাছটার পাশে বসে থাকতো। ঘন্টার পর ঘন্টা। বেশী কথা ছিল না ওর আর রাজর্ষীর মধ্যে। সম্পর্ক যখন দীর্ঘদিনের হয়ে যায় তখন বেশী কথা বলার দরকার পরে না। দরকার পরে না একে ওপরের দিকে তাকিয়ে রোমান্স করার। রোমান্সটা তখন বাতাসে বয়ে কোন এক ফুলের গন্ধের মতো। একটা অভ্যাস তৈরী হয়ে যায়। পরিচিত মানুষের গন্ধ নাকে না লাগলে মনটা উসখুস করে।
    প্রথম প্রথম মা আসতেন তার সাথে। কিন্তু এখন বাতের ব্যথায় আর বেরোতে পারেন না বাড়ি থেকে। সল্ট লেকের এতো বড় বাড়িতে এখন শুধু মা আর মেয়ে। দুজন পরিচারিকা আছে। সুতপা বলে একজন চব্বিশ ঘন্টা মায়ের জন্য আর একজন সকালবেলা এসে বাসন মাজা আর ঘর পরিষ্কার করার জন্য।
    সারাদিনের একটিভিটি বলতে সকাল ছটায় উঠে অফিস আর চারটে বাজতেই কাজ শেষ। এইভাবেই গত দুইমাস চলছে। কাজে মন বসেনা , কিন্তু উপায়ও কিছু নেই। একটা কিছুতে তো মন বসাতে হবে। সাইক্রিয়াটিস্ট বলেছে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে। যেকোন কাজ করতে। বই পড়তে , গান শুনতে , মাঝে মাঝে চকলেট খেতে।
    যেভাবেই হোক উঠে দাঁড়াতে হবে তাকে। তাই বিকেলবেলায় একটু হাওয়া পরিবর্তনের জন্য বেরিয়ে পরে। মনটা একেবারে ভেঙে পড়েছে। ছয়মাস আগে সেই ঘটনাটা না ঘটলেই পারতো। ভালোই তো চলছিল সব কিছু।
    মেন্ গেটের ভিতর দিয়ে ঢুকে গেল অরুনিমা। রাস্তার ধার ঘেসে ছোট ছোট ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। . এমনিতে দু পাশে নানা ধরণের গাছ দিয়ে সাজানো। সেই সমস্ত গাছের পাতার ফাক দিয়ে উঁকি মারছে পড়ন্ত বিকেলের রোদ্দুর। বামদিকে খোলামেলা মাঠ। ঐদিকটা প্রেমিক প্রেমিকাদের জন্যই রক্ষিত। একসময় অরুনিমাও সেই দিকে যেত , একটু গোপনে থাকবে বলে। লজ্জার ছাতা মাথার উপর দিয়ে একটু ভালোভাবে কাছের মানুষটাকে দেখবে বলে। কিন্তু এখন সে ভুল করেও ওই পথে যায়না।
    আকাশের দিকে তাকাতেই দেখে একটা প্লেন মেঘেদের বুক চিড়ে এগিয়ে যাচ্ছে। পিছনে দীর্ঘ ছায়াপথ। গাছের ডালে দু একটা পাখি নিজেদের মধ্যে ঝগড়া শুরু করেছে। অরুনিমা এই সব দেখতে দেখতে এগিয়ে গেল পুকুরের ধারে। সেই হেলে পড়া তালগাছটার কাছে।
    কিন্তু আজ তার জায়গা দখল হয়ে গেছে। তালগাছের কান্ডটাতে হেলান দিয়ে একটা স্কুলের ড্রেস পড়া ছেলে বসে আছে। অরুণিমার তাকে দেখেই গা জ্বলে গেল। এতো জায়গা থাকতে বেছে বেছে তার জায়গাটাই দখল করতে হলো এই ছেলেটাকে ? কি করা যায় ? পাবলিক প্লেস। বকা দিয়ে ওঠানো যাবেনা।
    অরুনিমা তার পাশে আর একটা গাছের তলায় গিয়ে বসলো। সামনে পুকুরটাতে দুটো হাঁস খেলা করছে। অরুনিমা সেই দিকেই তাকিয়ে রইলো। কিন্তু তার মনটা খুব উসখুশ করছে। কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না এই ছেলেটাকে। নিজের মনের মধ্যেই বারবার বলে উঠছে ,"নিশ্চয়ই স্কুল পালিয়ে এসেছে প্রেমিকার সাথে দেখা করার জন্য "।
    আকাশের রঙ একটু একটু করে লালচে হচ্ছে। কোলাহল কিছু নেই। প্রকৃতি নিজের খেয়ালেই তার এই বিশাল ক্যানভাস নতুন ভাবে সাজিয়ে তুলছে রাত্রির অপেক্ষায়। এমন রূপ ধরেছে যেন রাত্রি কতদিন বাড়ি ফেরে না। হালকা হলদেটে ঘাসের উপর দু হাত রেখে অরুনিমা পা ছড়িয়ে বসলো। পার্ক বন্ধ হওয়ার সময় হয়ে এসেছে আর এইদিকে এই স্কুল পালানো ছেলেটার বান্ধবী এসে পৌঁছয়নি। আজ শুকনো মুখেই হয়তো ছেলেটা বাড়ি ফিরবে। যেমন শুকনো মুখে সে নিজে রোজ ফেরে।
    কিন্তু ছেলেটার মধ্যে কোন ব্যাকুলতা লক্ষ্য করলোনা অরুনিমা। কোন ব্যস্ততাও নেই ,নেই কোন চিন্তার রেখা। সে চুপচাপ সামনের পুকুরের দিকে তাকিয়ে আছে।
    কি ভাবছে ছেলেটা ? অরুনিমা নিজেকে বারবার একই প্রশ্ন করে চলেছে। কিন্তু কোন উত্তর পেলোনা। সে আড়চোখে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে আছে। এমনসময় ছেলেটা ঘাড় ঘুড়িয়ে অরুণিমার দিকে তাকাতেই অরুনিমা নিজের চোখ ঘুরিয়ে নিলো। মনে মনে এক অন্য কোলাহল সৃষ্টি হয়েছে তার। ছেলেটা কি তাকে জাজ করছে ? বুঝতে পারছেনা আবার করে তাকানোটা কি ঠিক হবে ?
    কিছুক্ষন সে সামনের দিকেই তাকিয়ে রইলো। কচুরিপানার গুলোর উপর দু একটা জল ফড়িং ভিন ভিন করছে। ছোটবেলায় এই জল ফড়িং ধরে লেজে চুল বাধার ফিতে বেঁধে ছেড়ে দিতো। বাতাসের সাথে ফড়ফড়িয়ে উড়তো তার রঙিন ফিতে। তখন মনে হতো এই ফড়িং এর মতো যদি তার ডানা হতো , কি মজাই না হতো। সেও উড়ে যেতে পারতো দিগ্দিগন্তে। যেই ফুল দেখতো সেই ফুলে গিয়ে মধু খেত। তার এই পুরোনো স্মৃতির রোমনন্থনের মাঝেই কখন যেন নীল আকাশ আসতে আসতে কালো হয়ে এসেছে। পাখিরাও যে যার মতো ঘরে ফিরেছে। তাদের কিচিরমিচির শুনে অরুনিমা মোবাইল বার করে সময়টা দেখলো। সাড়ে ছয়টা বেজে গেছে। পাখিদের মতো তাকেও ফিরতে হবে। রুটিনবদ্ধ জীবন তার। দেরী হলে মা চিন্তা করবে। তাই ঘাসের বিছানা ছেড়ে উঠে পড়লো। ভাবলো একবার তাকিয়ে দেখাই যাক ছেলেটা সেখানে আছে কিনা।
    সাহস করে মাথা ঘুরিয়ে দেখলো ছেলেটা সেখানে নেই। হয়তো বাড়ি ফিরে গেছে , হয়তো বা অন্য কোথাও চলে গেছে। অরুনিমা মুখে মাস্কটা পরে নিয়ে হাটতে শুরু করলো মেন্ গেটের দিকে। তার মন আজকে অনেক বেশী প্রশ্ন করেছে, অনেক কোলাহলের জন্ম দিয়েছে , অনেক কথা বলছে। শেষে না পেরে সে মনের উপর রাগ করে ধমক দিয়ে উঠলো ,"চুপ কর ,চুপ কর " ।
     
    পর্ব - ২
  • ধারাবাহিক | ০৭ জানুয়ারি ২০২২ | ৫৯৬ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    নীল  - Jeet Bhattachariya
    আরও পড়ুন
    সবুজ - Jeet Bhattachariya
    আরও পড়ুন
    লাল - Jeet Bhattachariya
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লাজুক না হয়ে মতামত দিন