ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  গপ্পো  শনিবারবেলা

  • নুড়িতলার বাঁকে - পর্ব ১২

    কেকে
    ধারাবাহিক | গপ্পো | ১১ ডিসেম্বর ২০২১ | ৮২৪ বার পঠিত
  • ছবি - র২হ


    নুড়ি - ১২

    এই পৃথিবীটার মধ্যে এতগুলো দেশ, এত রকম ভাষা, এত রঙের মানুষ যে একেক সময়ে আমার মনে হয়, মহাকাশের মধ্যে এই নীল-সবুজ গোলাটার কাছাকাছি এলেই মহা ক্যালোর-ব্যালোর শুনতে পাওয়া যাবে। কত রকম খাবার, কত রকম নাচগান বলো তো! কারুর সাথে কারুর মিল নেই। নাঃ, ঐখানেই ভুল হলো। হাজার বেমিলের মধ্যে এত বেশি মিলও আছে যে একেক সময়ে অবাক হয়ে যেতে হয়। আমরাই খেয়াল করে দেখিনা সবসময়।

    তো এমনিইই একটা অদ্ভুত মিল খুঁজে পেয়ে গেলাম একদিন। গল্পের মিল। দুনিয়া জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গল্পের মধ্যে কত মিল আছে তা কী জানতে?

    বিক্রমাদিত্য আর বেতালের গল্প কত পুরোনো ভাবো। ভারতীয় গল্প-সংস্কৃতি পুরোই হবেনা এই সিরিজটা বাদ দিলে। আমি খুঁজতে খুঁজতে, ধুলো, মাকড়্সার জাল হাতড়ে অনে-এ-এক দূরের এক দেশের উপকথার মধ্যে একটা গল্প খুঁজে পেলাম যার সাথে এই বিক্রম-বেতালের (পুরনো গান মনে আছে? বিক্রম বিক্রম বিক্রম, বেতাল তাল তাল?) বেবাক মিল! দেশটার নাম জর্জিয়া। হ্যাঁ, পূর্ব ইউরোপের সেই ককেশাস পাহাড় আর কালো সমুদ্দুরের দেশ। গল্পটা হলো 'রাজা আর আপেলের গল্প'।

    এক দেশের রাজপুত্রের কথা বলছি। রাজপুত্রের বড় মনখারাপ। তাঁর বাবা বুড়ো রাজার খুব অসুখ। সেরে উঠবেন বলে মনে হয়না। রাজপুত্র বাবার বিছানার পাশে মাথা নীচু করে বসে আছেন। বুড়ো রাজা নিঃশ্বাস ফেলে বললেন --"দুঃখ করার কিছু নেই। সময় এসেছে, আমাকে এবার যেতে হবে। তুমি দেশটার, মানুষগুলোর দেখাশোনা ঠিক মতো কোরো। আর এই জিনিষটা সারাক্ষণ সঙ্গে রেখো। কিন্তু সাবধান। খুউব বিপদে না পড়লে খুলোনা।"

    জিনিষটা একটা ছোট্ট কাঠের বাক্স। অনেক পুরনো কিন্তু নিখুঁত কারুকাজ করা। রাজপুত্রের মুঠোতে বাক্সটা গুঁজে দিয়ে বুড়ো রাজা চোখ বুজলেন। মন্ত্রীমশাই এগিয়ে এসে বললেন "তোমার অভিষেকের দিন স্থির করি তাহলে?"

    রাজপুত্র এখন রাজা হয়েছেন। কিন্তু মনখারাপ আর সারেনা। রাজকাজে মনও লাগেনা। কিন্তু এরকম ভাবে চললে তো সব লাটে উঠবে। মন্ত্রীমশাই, সেনাপতিমশাই, কোটাল, পাত্র, মিত্র, বুড়ো রাজার সব ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা মিলে তখন নতুন রাজাকে বোঝাতে বসলেন। "আচ্ছা, বরং এক কাজ করো তাহলে রাজাবাবা। তুমি পূবের দেশে বেড়িয়ে এসো। বেড়াতে গেলে মনও ভালো হবে। আর ওদিকের খোঁজখবরও বহুদিন পাওয়া যাচ্ছেনা, তারও একটা হিল্লে হবে।" বাস্তবিক, পূবের দেশে যতই লোক পাঠানো হয়, ফিরে এসে কিছু জানানো দূরের কথা, তাদের আর টিকির দেখা পাওয়া যায়না! দূর্গম জায়গা, চট করে সেখানের খতিয়ান নেওয়াও মেলা অসুবিধা।

    নতুন রাজা জনা দশ বারো অনুচর নিয়ে বেরিয়েই পড়লেন। মাঝরাস্তায় বিরাট এক জঙ্গল। গাছপালা, কাঁটাঝোপের ঠাস বুনোট। হিংস্র জন্তু জানোয়ার যে মেলাই রয়েছে তাও বোঝা যায়।কিন্তু রাজার সাহসের কোনো অভাব নেই। বনের মধ্যে দিয়ে, নানা বাধা পার হয়ে তাঁরা দিব্যি চললেন। একেবারে মাঝ জঙ্গলের গহীনে যখন পৌঁছেছেন, দেখেন সামনে একটা বিশাল প্রাসাদ। কতকালের যে পুরনো তার কোনো ঠিক নেই! উঁচুউঁচু খিলান আর থাম। তাতে নানা রকম মুর্তি খোদাই করা। সুন্দর কারুকাজ করা দরজা জানালা গুলো সব বন্ধ। ঘন বনের মধ্যে এমন প্রাসাদ কে বানালো?

    রাজা একজন অনুচরকে বললেন "ভেতরে গিয়ে দেখো। কেউ থাকলে অনুমতি নিও যে আমরা প্রাসাদে ঢুকতে পারি কিনা।" সে লোক সিং দরজা দিয়ে ঢুকে গেলো বটে, কিন্তু আর বেরিয়ে এলোনা। একটা পুরো দিন কাটলো। তার দেখা নেই। রাজা আরেকজনকে পাঠালেন।

    এইভাবে তিনদিন কাটলো, তিনজন লোক ভেতরে ঢুকলো। কেউই আর ফিরে এলোনা। রাজা তখন খাপ থেকে ঝকঝকে তরোলারটা বার করে নিজেই সিংদরজা ঠেলে ভেতরে পা বাড়ালেন।

    সেই দরজা পেরিয়ে আরো এক খানা উঁচু দরজা রয়েছে। সেটার ভারী কাঠের পাল্লা দুটো বন্ধ। ওপরে লেখা আছে "যদি ঢোকো, তোমার মনস্তাপের শেষ থাকবেনা। যদি না ঢোকো তাহলেও অনুতাপে মরবে।" কী ধাঁধালো কথা! রাজা ভাবেন "মনস্তাপ তো হবেই যা দেখা যাচ্ছে। তাহলে আর না ঢোকাই বা কেন? তাছাড়া হারানো লোকগুলোরও তো সন্ধান করা দরকার।" তিনি ভারী দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলেন।

    দরজার ওপাশে ঢুকে তাঁর চক্ষু চড়কগাছ! সেখানে খোলা তরোয়াল হাতে বারোজন যোদ্ধা দাঁড়িয়ে আছে। ঝকঝকে বর্ম, পাথরের মত ভাবলেশহীণ মুখ। তাদের পেছনে বারোটা বন্ধ দরজা। আমি তো যা বুঝছি বাড়িটায় দরজার শেষ নেই! দরজামহল নাম বেশ মানাতো। সে যাই হোক, ঐ বারোজনের মধ্যে থেকে একজন এসে রাজার হাত ধরলো।

    রাজা বেশ আশ্চর্য্য হয়েছিলেন। এরা কারা? বিনা বাক্যব্যয়ে এমনি এসে দেশের রাজার হাত ধরে ফেলছে এইই বা কেমন ব্যবহার! কিন্তু দেখাই যাক ব্যপার কোনদিকে গড়ায়। উনি বাধা দিলেননা। লোকটা ওঁকে হাত ধরে একটা দরজার পেছনে নিয়ে গেলো। সেখানে মস্ত একটা দরবার ঘর। অবশেষে!

    সে দরবার ঘরের মধ্যে এখানে ওখানে ছড়িয়ে আছে পাথরের তৈরী মানুষের মূর্তি। এমন সুন্দর কারিগরী যে দেখে মনে হয় যেন এখনই জীবন্ত হয়ে কথা বলে উঠবে। অনেক মূর্তি বহু পুরনো। তার ওপরে ছ্যাৎলা পড়ে গেছে। অনেক গুলো নতুনের মত। তার মধ্যে তিনটে মূর্তি দেখে রাজার বুক জোরে ধকধক করে উঠলো। তাঁরই তিনজন অনুচর, যারা এই বাড়িতে ঢুকে আর ফিরে আসেনি। ব্যাপার বুঝতে তাঁর দেরী হলোনা। এই অসংখ্য মূর্তিরা সবাইই একদিন মানুষ ছিলো। অসাবধান হলে তিনিও এদের দলে সামিল হবেন।

    ঘরের ঠিক মধ্যিখানে একটা মস্ত সোনার সিংহাসন। যোদ্ধা রাজাকে তার একেবারে সামনে নিয়ে হাজির করলো। রাজা অবাক হয়ে দেখলেন সেখানে যে বসে আছে তার বয়স আট-নয়ের বেশি হবেনা। শান্ত সমাহিত মুখের এক বাচ্চা ছেলে। চোখ দুটো বোজা। যোদ্ধা রাজাকে বললো "ইনি আমাদের জ্ঞানী ঠাকুর। আপনি এঁকে তিনটে প্রশ্ন করবেন। মনে রাখবেন, প্রশ্ন এমনই হতে হবে যেন কেউ তার উত্তর দিতে না পারে। কিন্তু জ্ঞানী ঠাকুর নিজে যদি উত্তর দিতে না পারেন, তাহলে আপনি পাথর হয়ে যাবেন। আবার যদি এমন প্রশ্ন করেন যে অন্য যেকোনো লোকেই তার জবাব জানে, তাহলেও আপনি পাথর হয়ে যাবেন।" রাজা বেশ বুঝলেন এও সেই দরজায় লেখা ধাঁধার মতই, এদিকে গেলেও বিপদ, ওদিকে গেলেও মুশকিল! জ্ঞানী ঠাকুর না ছাই, পাথর বানাবেই সে তুমি যাই করো! প্রশ্ন টশ্ন সব বাহানা!

    হঠাৎ মনে পড়ে গেলো কোমরে গোঁজা সেই কাঠের বাক্সটার কথা। বুড়ো রাজার দেওয়া। এর থেকে বেশি বিপদ আর কীই বা হতে পারে? এই ভেবে রাজা বাক্সটা খুলে ফেললেন। অমনি তার ভেতর থেকে একটা আপেল বেরিয়ে এলো।

    রাজার মনটা দমে গেলো। শেষে কিনা একটা আপেল? এই দিয়ে কাউকে না লোভ দেখানো যায়, না ভয়! কিন্তু আপেলটা যে সে আপেল নয়। নাহলে কেনই বা অমন বাক্সে ভরে, রহস্যের মোড়কে মুড়ে টুড়ে রাখা হয়েছে? আপেলটা কথা বলে উঠলো।

    আপেল বললো -- "বেশ, প্রথম প্রশ্ন করছি। তার জন্য আগে একটা গল্প বলতে হবে।"

    এই শুরু হচ্ছে বেতালের গল্পের মত, দেখতে থাকো! তো, সেই গল্পে একদিন এক কাঠুরে তার ভাই আর বৌকে নিয়ে ভিন গাঁ থেকে বাড়ি ফিরছে। মাঝে পড়লো বড় এক জঙ্গল। জঙ্গলে ঢুকে রাস্তা হারিয়ে গেছে। ঘুরেঘুরে তারা সারা। সারাদিন পথ হেঁটে বৌটির আর পা চলছেনা। তখন ভাই বললো "তোমরা এখানে গাছের তলায় বসে থাকো, আমি এগিয়ে দেখি কোথাও কোনো গ্রাম বা কিছু আছে নাকি।" সে গেছে তো গেছেই। ফেরার নাম নেই। এই আমাদের রাজার অনুচরদের মতই খানিকটা। শেষে অনেক দেরী দেখে কাঠুরে বৌকে বললো "ছেলেটা কোথায় গেলো খুঁজে দেখতেই হয়। তুমি একটু একা থাকো এখানে। আমি এগিয়ে দেখি।" এদিকে হয়েছে কী, ঐ জঙ্গলের মধ্যে ছিলো ডাকাতের আস্তানা। ভাই তো গিয়ে পড়েছে তাদের সামনে। ওরা তার কাছে যা ছিলো সব কেড়েকুড়ে নিয়ে তার মুন্ডু করে দিয়েছে ঘ্যাচাং। গল্পের মধ্যে এরকম ভায়োলেন্স আমার একেবারে পছন্দ নয়। কিন্তু ঘটনাটা নেহাৎ জরুরী!
    আমাদের কাঠুরেও যখন খুঁজতে খুঁজতে ওখানে গিয়ে হাজির হয়েছে অমনি তারও অবস্থা ঐ একই হলো। বৌ বেচারী একাএকা অনেকক্ষণ বসে থেকে দেখে কেউই ফিরে আসছেনা। এদিকে অন্ধকার হয়ে আসছে। ভয়ে, ভাবনায় তার প্রাণ যায় আর কি! শেষে আর বসে থাকতে না পেরে বৌ নিজেই উঠে তাদের খুঁজতে বেরোলো। ততক্ষণে ডাকতের দল কোথায় যেন ডাকাতি করতে বেরিয়ে গেছে। বৌ গিয়ে দেখে তার স্বামী আর দেওর দুজনেই অমন ভয়ানক মুন্ডুহীণ অবস্থায় পড়ে আছে। দেখে সে শোকে দুঃখে কী করবে ভেবে পায়না!

    এতদূর অব্দি শুনে রাজা মনেমনে ভাবছেন "এই আপেলটার বুদ্ধির বলিহারি! হচ্ছে একটা গুরুতর প্রশ্নের কথা, তার মধ্যে সাতকাহণ করে গল্প ফেঁদে বসেছে। তাও যদি কোনো মননশীল গল্প হতো।খালি মুন্ডুকাটা আর রক্তারক্তি !" ওদিকে তরোয়াল হাতে যোদ্ধা পাথুরে মুখ করে গল্প শুনছে। 'জ্ঞানী ঠাকুর' চোখের পাতা অব্দি খোলেননি।

    তারপর? তারপর কী তা পরের পর্বে বলবো। আজ এই অব্দিই থাক! কাহিনী অনেক লম্বা। একদিনে এত বলাই যাবেনা!


  • | বিভাগ : ধারাবাহিক | ১১ ডিসেম্বর ২০২১ | ৮২৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • r2h | 2405:201:8005:9947:6c72:8d3a:1b34:ecef | ১১ ডিসেম্বর ২০২১ ১৫:২৮501969
  • "তাও যদি কোনো মননশীল গল্প হতো।"

    রাজা যেন বাঙালী বুদ্ধিজীবি ঃD
  • প্রত্যয় ভুক্ত | ১১ ডিসেম্বর ২০২১ ১৮:২০501971
  • ওহো,এ তো সত্যিই খুব চেনা গল্প,সেই আইডেন্টিটি ক্রাইসিস,একের মাথা অন্যের ধড়ে ,তাহলে কে বর ,কে-ই বা দেওর?বাঃ,নতুন করে জানলাম যে এ গল্প ইউরোপীয় রূপকথাতেও আছে,থ্যাঙ্কু, লেখাটা ও বেশ ভাল।
  • কৌশিক ঘোষ | ১১ ডিসেম্বর ২০২১ ২০:২৮501979
  • লেখার ঢং এতো ঝরঝরে যে সর্বোচ্চ রেটিং দেওয়াই যায়। কিন্তু এমন বিচ্ছিরি জায়গায় এসে থামলেন যে নেগেটিভ মার্কিং দিলে ঠিক হবে।
    যেহেতু গল্পের মধ্যে গল্প, ফলে মুন্ডু ঘ‍্যাচাংয়ের কেসটা পরিণতিতে না পৌঁছনো পর্যন্ত জ্ঞানী ঠাকুরের কাজকারবার কোন দিকে ঘোরে, তা জানা যাবে না। বসে থাকো এখন পরের পর্ব পর্যন্ত কৌতূহল গিলে ফেলে।
     
    পানিশেবল অফেন্স, কেকে, হান্ড্রেড পার্সেন্ট পানিশেবল অফেন্স।
  • কৌশিক ঘোষ | ১১ ডিসেম্বর ২০২১ ২০:৩৫501980
  • পর্ব ৬ এসেছিলো ২৬ জুন,  তার পরেরগুলো ১৭ জুলাই, ১৩ অগাস্ট, ৪ সেপ্টেম্বর, ২৫ সেপ্টেম্বর, ৩০ অক্টোবর,  ১২ নম্বর পর্ব এলো ১১ ডিসেম্বর... 
    ১১ আর ১২-র মধ্যে ফাঁক ছিলো বড্ড বেশি। ১৩-র জন‍্য কতোদিন বসিয়ে রাখবেন কে জানে ! 
  • দীপক দাস। | 103.220.17.142 | ১২ ডিসেম্বর ২০২১ ০০:০৩501987
  • ভাল লাগল। এমন একটা গল্প কথা সরিৎ সাগরেও মেলে। 
  • :|: | 174.251.169.106 | ১২ ডিসেম্বর ২০২১ ০৪:১৬501989
  • বেতাল বিক্রমের গল্পগুলি কবে লেখা আর জর্জিয়ার গল্পটিই বা কবেকার সে বিষয়ে ইতিহাসের কিছু বলার আছে? কোনও তারিখ বা জন্মদাগ? 
  • kk | 68.184.245.97 | ১২ ডিসেম্বর ২০২১ ০৫:১২501990
  • দীপক সাহেব,
    বেতাল পঞ্চবিংশতি তো কথাসরিৎ সাগরেরই একটা পার্ট। নয়?

    ফুটিচার সাহেব,
    আমি ইতিহাস খুব ভালো জানিনা। উইকি বলছে কাশ্মীরের কবি সোমদেব ভট্ট বেতাল পঞ্চবিংশতি লিখেছিলেন একাদশ শতাব্দীতে। জর্জিয়ার গল্পটা লোককথা, বা উপকথা। মার্জরি ওয়ারড্রপের লেখা যে বইয়ে এই গল্প আছে, সেটা ১৮৯৪ এ লেখা হয়েছিলো। কিন্তু লোককথা, উপকথা তো সংগৃহিত হয়। কাজেই ঠিক কোন সময়ে তার উৎপত্তি তা বলা মুশকিল।

    কৌশিক সাহেব,
    কথাটা বলেছেন ঠিক। দুই পর্বের মধ্যে গ্যাপটা ... হেঁ হেঁ, মানে... একটু অনিয়মিত হয়ে যায় আর কি! নানা কারণে, বুঝলেন না! আপনার ঝপাং টা প্লিজ এখন বার করবেন না। আমি ভতাং হতে বেশ ভয় পাই। চেষ্টা করবো তেরো নম্বর পর্ব যাতে তাড়াতাড়িই দিতে পারি।

    লেখা যাঁরা পড়েছেন, মন্তব্য করেছেন সক্কলডিরে ধন্যবাদ।
  • কৌশিক ঘোষ | ১২ ডিসেম্বর ২০২১ ১১:০১501998
  • আপনি ঘটি, না ? শেষ লাইনে হগ্গলডিরে দন‍্যবাদ হবে। আমরা পাবনা-যশোর জুড়ে ছিলাম।
    তোমাগো দ‍্যাশে আইয়া পড়si বইলা, অহন আমাগো বাষা লইয়‍্যা za খুশি ল‍্যাখবা, হেইডা কিন্তুক কহনোই মাইন‍্যা নিত‍্যাসি না।
    আমরা খ-রে ক, ঝ-রে জ, ঢ-রে ড, ভ-রে ব কইয়া থাহি। হ‍্যার লাইগ‍্যাই দন‍্যবাদ হইবো।
    বাংগালগো বাষা ল‍্যাখবার ব‍্যালা তুমাগেরে বারবার বুল ওইতেই থাহে, ওইতেই থাহে। বোzলা নি ?
  • kk | 68.184.245.97 | ১২ ডিসেম্বর ২০২১ ১১:৫৫501999
  • একদম ঠিক ধরেছেন :-), লেখার পরেই বুঝলাম ভুল হয়ে গেছে। কিন্তু কুঁড়েমিতে আর শুধরানো হয়নি। এই জিভ কাটলাম, কান মললাম। নিন, এবার মশলা খান :-))
  • &/ | 151.141.85.8 | ১২ ডিসেম্বর ২০২১ ১১:৫৭502000
  • আমি হুদাই স রে হ কই। এই মাত্র। ঃ-)
  • &/ | 151.141.85.8 | ১২ ডিসেম্বর ২০২১ ১২:০০502001
  • গ্রীকরা নাকি স কে হ বলে সিন্ধু কে হিন্দু বানিয়েছে। আরে তাইলে তো আমরা সেলুকাসকে হেলুকাহ, সক্রেতিসকে হক্রেতিহ আলেক্সান্ডারকে আলেকহান্ডার (আরেক খান্ডার ঃ-)) -এইসব শুনতাম! ঃ-)
  • কৌশিক ঘোষ | ১২ ডিসেম্বর ২০২১ ১৫:১৯502002
  • &/
    গ্রীকরা না। স-কে হ উচ্চারণ করা ইরানের সেই প্রাচীনকালের লোকদের কান্ড। বেদের অসুর ওদের জিভে অহুর।
  • কৌশিক ঘোষ | ১২ ডিসেম্বর ২০২১ ১৫:২৩502003
  • সেজন্যই হেলুকাহ বা আলেকহান্ডার হয়নি।
  • &/ | 151.141.85.8 | ১২ ডিসেম্বর ২০২১ ১৫:৫৫502004
  • আহুর মাজদা অর্থাৎ কিনা অসুর মেজদা। ঃ-)
  • &/ | 151.141.85.8 | ১২ ডিসেম্বর ২০২১ ১৬:০২502005
  • প্রাচীনকালে ইরাণ তো ছিল পারস্য। ওরা হয়তো পারস্য বলত না, অন্যরকম উচ্চারণ করত।
  • &/ | 151.141.85.8 | ১২ ডিসেম্বর ২০২১ ১৯:৩৯502011
  • কেকে, এইরকম বত্রিশ সিংহাসন ধরণের গল্প কি এভাবে মাঝপথে ছেড়ে থামিয়ে রাখা উচিত? প্রতিদিন তাহলে নতুন কিস্তি দিও।
  • যদুবাবু | ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ ০৩:৫৭502027
  • kk: যথারীতি দুর্দান্ত লেখা। কিন্তু ঐ কৌশিকবাবু যা বললেন, এরকম ক্লিফ-হ্যাঙ্গার দেবেন তাই বলে? প্লীজ পরেরটা তাড়াতাড়ি লিখুন। 

    আর র২হ-র ছবিটা দারুণ হয়েছে - রাজা আর আপেল - দুজনার-ই মুখের এক্সপ্রেশন একদম সে-ই হয়েছে। 

     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে মতামত দিন