এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • দৌড় - শুধুই কি গল্প?

    Surajit Dasgupta লেখকের গ্রাহক হোন
    ১৯ জুন ২০২৪ | ১৩১ বার পঠিত
  • পৃথিবী নামক গ্রহে মানব জাতির বিকাশের ইতিহাস যত এগিয়েছে, এমনকি হোমোস্যাপিয়েন্স থেকে আজকের মানুষের বিবর্তনের সিঁড়িতে আমরা যত উপরের দিকে এগিয়েছি, মানব চরিত্রের পশুত্ব তত প্রকট হয়েছে। হয়তো আদি পুরুষের জিনে মানবতার গুণগুলো ছিল না বলেই তার বহিঃপ্রকাশ আজও পশুত্বের গুণের কাছে নতজানু হয়ে আছে। আবার জগতের কলুষতা আমাদের মধ্যে পশুত্বকে বাড়িয়ে তুলছে ক্রমশঃ। প্রতিযোগিতার বাজারের নিষ্ঠুরতা, টিকে থাকার রিক্ত ও তিক্ত মানসিকতা, দৈনন্দিন জীবনের কঠোরতা, আমাদের জীবন থেকে মনুষ্যত্বের বিদায় জানাচ্ছে ক্রমশঃ।

    আজকের পৃথিবীর একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ হলো রেসের মাঠ। দৌড়, দৌড় আর দৌড়। চরইবেতি, চরইবেতি, চরইবেতি। নিয়মশৃঙ্খলার জন্য কোনো হা-হুতাশ নেই, ন্যায়-অন্যায়ের কোনো বিভেদ নেই, মানবতার কোনো দাম নেই। শুধু আছে জয়ের উল্লাস, আছে পয়সা রোজগারের আকাঙ্ক্ষা, বিজিতের কোনো ভবিষ্যত নেই। ঘোড়ার দৌড়ে যে জিতবে সেই টিকে থাকবে এই দুনিয়ায়, পরাজিতের স্থান হবে আস্তাকুড়ে। তাই সকলকেই জিততে হবে। জেতার অভ্যাস তৈরী করো, দৌড়ও, সারাদিন ধরে দৌড়ও। বিশ্রামের কোনো স্থান নেই এই জগতে। নইলে বিশ্রামের সময়টুকুতেও কেউ বা কারা তোমাকে ডিঙিয়ে চলে যাবে, টেরও পাবে না, পড়ে থাকবে আস্তাকুড়ে। পাশের বাড়ীর লোকটি অথবা নিজের পরিবারের লোকটিও দৌড়ে পিছিয়ে পড়লো কিনা, সেসব দেখা বা ভাবার ফুরসৎটুকুও নেই। সেই সময়টুকুতেও যদি কেউ এগিয়ে যায়। রেসের মাঠে যে ঘোড়াটি হেরে যায় বা অসুস্থ হয়ে পড়ে তার কোনো দাম নেই। তাই সর্বসমক্ষে সেই ঘোড়াটিকে মেরে ফেলা হতো।

    দিন, রাতের ফারাক এখন ঘুচে গিয়েছে, চব্বিশ ঘণ্টাই এখন দিন। সবাই ছুটে চলেছে, মুখ ফিরে তাকানোর সময় নেই। কেউ তাকে ঠেলে ফেলে দিলেও সময় নেই সেই লোকটিকে চিহ্নিত করার। বরং মাটি থেকে খুব তাড়াতাড়ি উঠে আবার দৌড় দেওয়াটাই সমীচীন। নইলে অন্য কেউ ডিঙিয়ে যাবে। বাসে, ট্রামে, ট্রেনে, মেট্রোয় যাত্রাকালীন বিশ্রাম নেওয়া যেতে পারে। গুরুজনেরা সেইরকমই বিধান দিয়ে গেছেন অনেককাল আগে। সিটে বসতে পারলে তো কথাই নেই, একেবারে নাসিকা গর্জনের সাথে বেশ কিছুটা সময় ঘুমিয়ে নেওয়াই বিধেয়। আর বসার জায়গা না পেলে ওই ঘুমানোর কাজটা দাঁড়িয়ে করে নেওয়াটাও মহাভারত অশুদ্ধ করে না।

    আদিকালে, মানুষের থুড়ি হোমোস্যাপিয়েন্সের আদলে যে জন্তুটি বর্তমানকালে পৃথিবীতে চব্বিশ ঘন্টা দৌড়ে চলেছে, সেই জন্তুটির, ঘুমোতে গেলে একটি বিছানা লাগতো, একটা তোষক, চাদর আর বালিশ নামের কিছু জিনিসের প্রয়োজন পড়তো। আর ট্যাঁকে রেস্ত থাকলে একটু গদির প্রয়োজন পড়তো। সেসব কাল গিয়েছে, এখন সে আরও উন্নত হয়েছে। ফলে বিছানা, বালিশ, গদি নামক বস্তুগুলো তাদের মর্যাদা হারিয়েছে। সেই জন্তুটি এখন নিশ্চিন্তে সেসব ছাড়াই ঘুমোতে পারে। বাসের, ট্রামের, মেট্রোর হাতল ধরে দুইপায়ে দাঁড়িয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমোয়। অন্যের ঘাড়ের ওপর এসে পড়ে না একদম, বরং সিটে বসে ঘুমোলে পাশের যাত্রীর কাঁধে হামেশা ঢলে পড়ে। আর ট্রেনে তো দরজায় ঝুলতে ঝুলতেও ঘুমোতে দেখা যায় সেই প্রাণীটিকে। এ এক আজব অভিযোজন, স্বয়ং ডারউইনও এই অভিযোজনের কথা কল্পনা করতে পারেননি।

    পৃথিবীতে অন্য কোনো ধরনের প্রাণীর এইরকম অভিযোজনের ইতিহাস নেই। এই অভিযোজনের কারণ, তার হাতে সময়ের বড্ড অভাব। আরও এগিয়ে যেতে হবে, আরও এগিয়ে, সুতরাং সময় নষ্ট করা একদম শোভা পায় না তার। এই অভিযোজনের যুদ্ধের শেষ কোথায় সে নিজেই জানেনা। তবুও তাকে জিততেই হবে সেই যুদ্ধ এবং যুদ্ধের পরের হিমশীতল পৃথিবীতে নিজের অধিকার স্পষ্ট করতে হবে। তাই দৌড় ছাড়া অন্য কিছু সে ভাবতেও পারে না। শত সহস্র বছরের এই দৌড়ের ইতিহাসে মানবতা তাকে ছেড়ে চলে গেছে, ভালবাসার অর্থ পাল্টে গেছে, কোমলতা আর পেলবতা রাস্তার কোন বাঁকে হারিয়ে গেছে, ভাষা-সংস্কৃতি ভেঙে খানখান হয়ে গেছে, সততা মুখ লুকোনোর জায়গা খুঁজে নিয়েছে কখন, সে টেরও পায়নি। সে শুধু জানে যুদ্ধে পিছিয়ে পড়লেই রেসের মাঠের ঘোড়ার মতোই তাকে হত্যা করা হবে। তাই ওসব নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই তার কাছে।

    এই যাত্রার উল্টো পথে হেঁটেই সুজনের বয়স এখন বত্রিশ। একেবারে একলা, বেকার, দরিদ্র এক মাঝ বয়সী ছেলে, থাকা-খাওয়ার স্থায়ী ঠিকানা এখনও গড়ে ওঠেনি সুজনের। ছোটবেলায় একটা স্থায়ী ঠিকানা ছিল বটে, তবে সেটা সুজনের বাবার। একটা বস্তির এক কোনায় ছোট্ট একটা ঘরে সুজনের বাবা আর মা দুজনে থাকতো। বোধহয় ভাড়ায়, সুজনের ঠিক মনে নেই। সেই ঘরেই সুজনের জন্ম। জন্মের পরে পাঁচ বছর বয়স হতে না হতেই সুজন বাবাকে হারায়। একটা কাঠ চেরাই কারখানায় সুজনের বাবা কাজ করত। সেই কারখানাতেই একদিন কেউ বা কারা কাঠের বদলে সুজনের বাবাকে চিরে দেয় মেশিনে। তারপরে সুজনের মা কারুর সাথে পালিয়ে যায়, সুজনকে ফেলে রেখে। আজ অব্দি সুজন বুঝে উঠতে পারেনি, সুজনের বাবার হত্যার সাথে সুজনের মায়ের পালিয়ে যাওয়ার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা।

    সেই থেকেই সুজন একা, এই বিরাট পৃথিবীতে পুরো একা। বস্তির কুকুর, ছাগল আর শুয়োরগুলোর সাথে বেড়ে উঠেছে। তারা যা খেয়েছে, সুজনও তাই খেয়েছে। ছোটবেলায় লজ্জা বস্ত্রের কথা চিন্তা করতে হয়নি। কিন্তু বয়স বাড়লে বস্তির কারুর কাছ থেকে চেয়েচিন্তে লজ্জা বস্ত্রের চাহিদা মিটিয়েছে। দেহে বড় হয়েছে সুজন, কিন্তু মননে কি বড় হতে পেরেছে? তার তো শিক্ষা নেই, সংস্কৃতির সাথে তার কোনোদিন আলাপই হয়নি, মানবতা-পেলবতা-ভালোবাসা-সততা ইত্যাদি শব্দের সাথে তার কোনোদিন পরিচয় ঘটেনি। তার পৃথিবীতে একটাই শব্দ, ক্ষিদে। আর ক্ষিদে মিটলে একটু ঘুমের দরকার পড়ে। কিন্তু তারজন্য মাথার ওপর ছাদ লাগবে বা তক্তপোষ লাগবে বা বিছানা লাগবে, এই জাতীয় চিন্তা তার কোনোদিন মাথাতেই আসেনি। ঘুম পেলে যেখানে সুযোগ পায় সে ঘুমিয়ে পড়ে। ক্ষিদে মেটানোর জন্য তার কোনোদিন কোনো পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপার নেই। যা পায়, খেয়ে নেয়। কিছু না পেলে বস্তির কল থেকে পেট পুরে জল খেয়ে নেয়। বস্তিতে এখনও কিছু লোক আছে যারা সুজনকে ভালবাসে। মাঝে মাঝে ডেকে কিছু না কিছু খেতে দেয়। সেইদিনগুলো খুব ভালো কাটে সুজনের।

    নিজের মতোই বস্তির এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ায় সুজন। কাউকে বিরক্ত করে না, কোনো খারাপ কাজ করে না। চুরি, ডাকাতি করার চিন্তা মাথাতেও আসে না। মুখেও কোনো খারাপ কথা পাওয়া যায় না সুজনের। সুজনের বেশভূষা আর ক্ষুধার্ত চেহারা ছাড়া তাকে বস্তির অন্য ছেলের সাথে মেলানো যায় না। নিজের মতো করেই থাকতে ভালবাসে সে। মাথায় বিভিন্ন চিন্তা আসে সবসময়েই, আর তাই নিয়েই নিজের মনে বিভিন্নরকম চিন্তা করেই দিন কেটে যায় তার।

    সেদিন সে একমনে ভাবছিল, পৃথিবীটা কি খারাপ, চারিদিকে এত মানুষ, সবাই নিজের নিজের কাজে ব্যস্ত সারাদিন। সবাই ছুটছে, সারাদিন ধরে ছুটছে, রাত্রে এরা স্বপ্নের মধ্যেও বোধহয় ছুটছে। কেউ পড়ে যাচ্ছে আবার উঠে দাঁড়াচ্ছে, আবার ছুটছে। মানুষের কেনো কোনো শান্তি নেই? সুজনের মনে হয়, শান্তি নেই বলেই মানুষ ছুটে চলেছে। শান্তি থাকলে মানুষ ঘরে থিতু হয়ে শুয়ে, বসে সময় কাটাতো। তখন খুব ছোট বয়স হলেও সুজনের দাদুর চেহারাটা আজও আবছা আবছা মনে পড়ে। দাদুকে সে কোনোদিন ছুটতে দেখেনি। দিব্যি সুন্দর শুয়ে, বসে দিন কাটাতো। ছোটো বয়সে সেও খুব ছুটত, মেঝেতে পড়ে যেত। বাবা বা মা তুলে দিলেই সে আবার ছুটত। কিন্তু বড় হয়ে সে তো আর ছোটে না।

    খুব ইচ্ছে করে, স্টেশনে, বাস স্ট্যান্ডে, লোকগুলো যেমন ছুটে চলেছে, সেইরকম একদিন ছুটবে। দেখবে ছুটে কি মজা পাওয়া যায়, জীবনে ছোটার মূল্য কতখানি। সুজন স্বপ্নে দেখে, সে ছুটে চলেছে। সামনে কোনো বাড়ী, ঘর, বস্তি, কিছুই দেখতে পায় না। চারিদিকে দিগন্ত বিস্তৃত আকাশ, আকাশটার রং দেখতে পায় মিশ কালো। কিছুই বুঝতে পারে না, সামনে কি আছে। তবুও ছুটে চলে সে। হাঁফিয়ে ওঠে, পড়ে যায়। আবার মাটি থেকে উঠে ছুটতে শুরু করে। দৌড়, দৌড়, দৌড়। থামতে চায় না। হঠাৎ করে সামনে দেখে এক রাজপ্রাসাদ। এ কোথায় এলো কিছুই বুঝতে পারে না সুজন। এবার থেমে যায় সে। ভয় এসে বাসা বাঁধে মনে। তবুও মনের ঈশান কোণে কৌতূহল দেখা দেয়। রাজপ্রাসাদের ভেতরে কি আছে? এতদূর ছুটে এসে যখন রাজপ্রাসাদের দেখা পেয়েছে, তখন ভেতরটা না দেখে ফিরে যাবে? আর যদি কোনোদিন এখানে আসতে না পারে? আর যদি কোনোদিন রাজপ্রাসাদের দেখা না পায় সে?

    মনে মনে ঠিক করে ফেলে সুজন, রাজপ্রাসাদে তাকে ঢুকতেই হবে। ছোটবেলায় অনেককিছু গল্প শুনেছে দাদুর কাছে। রাজপ্রাসাদে রাজকুমারী থাকে, একটা রাক্ষস বা খোক্ষস থাকে, কেউ এসে সেই রাক্ষসকে মেরে রাজকুমারীকে মুক্ত করে। তারপরে রাজা তার সাথে সেই রাজকুমারীর বিয়ে দিয়ে দেয়, অর্ধেক রাজত্ব দিয়ে দেয়। একবার ভেতরে গিয়ে দেখতেই হবে রাজপ্রাসাদের ভিতরটা কেমন হয়। সত্যিই সেখানে রাজকুমারী থাকে কিনা। থাকলে দেখতে কেমন হয়। মনে অনেক কৌতূহল, ভয় নিয়ে শেষ অব্দি সুজন ঢোকে সেই রাজপ্রাসাদের ভিতরে।

    ভিতরটা নিকষ কালো, কেউ নেই কোথাও। এত বড় রাজপ্রাসাদ যে কোথায় শেষ, কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। হেঁটেই চলে সুজন, কাউকেই দেখতে পায় না। মনের মধ্যে ভয়টা বাড়তে থেকে। এমন সময় কোথা থেকে এক সুন্দর, অতীব সুন্দর এক রাজপুরুষ এসে দাঁড়ায় সুজনের সামনে। এক অনাবিল আনন্দে সুজনের মন দুলে ওঠে। তারমানে রাজকুমারী এখানেই আছে, তার সাথে দেখা হবে।

    সেই রাজপুরুষ কোনো কথা না বলে সুজনের দুটো হাত ধরে ভিতরে নিয়ে যায়। দুজনে হাঁটছে তো হাঁটছেই, পথ শেষ আর হয় না। চারিদিক নিকষ কালো, তার ওপর সেই রাজপুরুষ কোনো কথা বলছে না। সুজনের ভিতরে ভয়ের পরিমাণ বেড়েই চলছে। কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? কি করবে নিয়ে গিয়ে? ভয় কাটিয়ে ওঠার জন্য সুজন কিছু বলার চেষ্টা করে, কিন্তু মুখ দিয়ে কোনো কথা বেরোয় না। অনেকক্ষণ এইভাবে কাটার পরে সেই রাজপুরুষ তাকে একটা ফাঁকা ঘরের সামনে এনে দাঁড় করায়। ঘরটা আলোতে ভরে আছে, কোথা থেকে এত আলো এলো কে জানে। কিন্তু সমস্ত ঘর এক স্নিগ্ধ আলোয় ভরে আছে।

    এক অদ্ভুত আলো, হাল্কা নীলাভ, মনটা এক অদ্ভুত আনন্দে, প্রশান্তিতে ভরে যায় সুজনের। একেই বোধহয় দেবজ্যোতি বলে। মনে হয় এতদিন তো সে এই জায়গাটাই খুঁজছিল। সেই রাজপুরুষকে আর দেখতে পায় না সুজন। এবার কিন্তু তার মনে ভয় বা কোনো আশঙ্কা এসে বাসা বাঁধে না। সুজন ধীরে ধীরে মেঝেতে বসে পড়ে, দু চোখ ভরে সেই আলো দেখতে লাগে। মনের মধ্যে, দেহের মধ্যে সঞ্চয় করতে থাকে। চোখ দুটো আপনা থেকেই বুঁজে আসে তার।

    কোথায় দৌড়, কোথায় বিদ্বেষ, কোথায় হানাহানি, কোথায় শত্রুতা, কোথায় রেষারেষি? চারিদিকে শুধু শান্তি, শুধুই প্রশান্তি, শুধুই নীরবতা। মনটা এক অনাবিল আনন্দে ভরে ওঠে সুজনের। বাবার মুখটা পরিষ্কার দেখতে পায় সেই নীলাভ রশ্মির ভিতরে। চিন্তার বলিরেখাগুলো কপালে নেই, চোখের ক্ষুধার্ত ভাবটা কেটে গিয়ে প্রশান্তি ভাব। বাবার এই চেহারা সে দেখেনি কোনোদিন। দু হাত বাড়িয়ে বাবা তাকে ডাকছে।

    শান্ত, উদাস, স্থিতধী, ধ্যানমগ্ন সুজনের পৃথিবীতে কোনো কোলাহল নেই, প্রতিযোগিতা নেই, রেষারেষি নেই, দৌড় নেই, লোভ নেই। আছে শুধু স্নিগ্ধতা, সমর্পণ, নিজের মতো করে বাঁচার চেষ্টা বা ইচ্ছে। মৃত্যু যেখানে একমাত্র সত্য, বাঁচার চেষ্টা সেখানে একান্তই নিজস্ব, স্বাধীন।

    সেদিনেও সূর্য উঠেছিল তার নিজস্ব সময়ে। পৃথিবীটা সূর্যের চারিদিকে ঘুরছিল, যেমন সে প্রতিদিন ঘোরে। বস্তিতেও সকাল থেকে কোলাহলে ভরে উঠেছিল চারিদিক। সবাই ট্রামে, বাসে, ট্রেনে, মেট্রোয় দৌড় দিচ্ছিল দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে। শুধু সুজনের অস্তিত্বটুকু উবে গিয়েছিল বস্তির জঞ্জাল থেকে। কোথায় হারিয়ে গিয়েছিল সুজন, আর কেউ কোনোদিন তার দেখা পায় নি।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে প্রতিক্রিয়া দিন