• বুলবুলভাজা  পড়াবই  প্রথম পাঠ

  • ভারতবর্ষের মানুষের উৎস

    জয়ন্ত দাস
    পড়াবই | প্রথম পাঠ | ৩১ অক্টোবর ২০২১ | ৩৬৬ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)

  • ছোট-মাঝারি প্রকাশকের বাংলা বই। অচেনা লেখকের প্রথম বই। বেশ গুরুগম্ভীর প্রবন্ধের আড়াইশোটি পৃষ্ঠা। কোভিডের ঝড়ে মুখ থুবড়ে পড়া বই-ব্যবসার সময়ে প্রকাশিত। নির্বাচনের ডামাডোলের দু’দিন আগে, অতিমারিতে বন্ধ-বইমেলাতে প্রকাশের জন্য রাখা বই। ইংরাজিতে একে বলে recipe for disaster, বাংলায় বলতে পারি হেরো হেরো হেরো।

    তবে কিনা, শেষ অবধি হারেনি। ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম সংস্করণ বেরোনোর পরে সে-বছরই আগস্টে পরিমার্জিত দ্বিতীয় সংস্করণ অধুনা কোনও বাংলা বইয়ের হয়েছে কি? বই-বাজারের হালহকিকত জানা দুঁদে পড়ুয়ারাও নাকের ওপর চশমা তুলে সবিস্ময়ে বলছেন, সেকি!

    তবে কি বাঙালি হুজুগে পড়ে বই কিনল? তেমনটাও সম্ভব বলে মনে হয় না। কোনও নামী সংবাদপত্রে বইটি নিয়ে এক কলমও ভালমন্দ সমালোচনা জোটেনি। হুজুগ তোলারও তো লোক চাই! ফেসবুকে খানিক প্রচার হয়েছে বটে, যেমন সব বইকেই প্রমোট করা হয়। তার বেশি কিছু হয়নি। লেখক বইয়ের বিষয়ে আকাদেমিক চর্চা করে খুব নাম-ডাক কিনেছেন, এমনও নয়। কেন লোকে বইটা কিনে পড়ছে, সেটা খানিকটা প্রহেলিকা। বড় জোর বলা যেতে পারে, যারা কিনেছে তারা ঠকছে না।

    বাংলা বইয়ের বাজারে বিষয়টা নতুন। বছর তিনেক আগে টনি যোসেফ লিখেছিলেন একখান ইংরাজি বই, ‘আর্লি ইন্ডিয়ানস’। বেস্ট সেলারের তালিকায় নাম উঠেছিল সে বইয়ের। মধুশ্রীর বিষয় অনেকটা আর্লি ইন্ডিয়ানস-এর ধারে-কাছে। ভারতবর্ষে বিভিন্ন মানুষজন কবে এসেছে, কারা ভারতের আদি বাসিন্দা, এটা দুই বইয়েরই প্রতর্কের অন্যতম বিষয়। তবে টনি মূলত সাংবাদিক, অনবদ্য স্টোরি টেলিং-এর ওপর ভর করে তিনি এগিয়েছেন। লেখার মধ্যে তথ্য-যুক্তিতে ফাঁক থাকলেও তা সহজে ঠাওর করা মুশকিল। টনির ব্যক্তিগত পরিচয়-বৃত্ত আর ইংরাজি ভাষায় বড় প্রকাশক বাকিটা কামাল করেছে।

    এদিকে মধুশ্রীর প্লাস পয়েন্ট হল দুটো। এক, মূল গবেষণা-পত্রগুলোর ক্রিটিক্যাল পাঠ। দুই, সহজ ভাষা। সহজ কথায় লিখতে আমায় কহ যে, সহজ কথা যায় না লেখা সহজে। তারপরেও অবশ্য অধ্যাপক পার্থ পি মজুমদার তাঁর লেখা মুখবন্ধে পাঠককে প্রথমেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বইটি পড়ার সময়ে পাঠকের পূর্ণ মনোযোগ দাবি করে- এ স্রেফ হাল্কা চালে পড়ার মত গ্রন্থ নয়। সহমত না হয়ে উপায় নেই।

    এনআরসি-সিএএ ও তার বিরুদ্ধে আন্দোলনের আবহাওয়াতে ভারতবর্ষের ‘আদি’ বাসিন্দা কারা তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপান-উতর গত তিন বছরে এক অন্য মাত্রা পেয়েছে। তার সমাধানে ইংরাজি ও বাংলাভাষায় ইতিহাস-প্রাগিতিহাস চর্চা বেড়েছে। কিন্তু বাংলায় তাই নিয়ে ইতিহাসের বই ছিল না, এটিই প্রথম। সাধারণত এদেশের ইতিহাস গবেষণা এদেশের ভাষায় হয় না; এমনকি জনপ্রিয় ইতিহাস বইগুলোও প্রায়শই কেবল ইংরাজিতেই মেলে। অবশ্যই কিছু উজ্জ্বল ব্যতিক্রম রয়েছে, এবং এই বইটি তাদেরই দলে। ভবিষ্যতে এই প্রবণতা গতি পেলে ভাল হয়।

    মধুশ্রী তার বইতে অবশ্য নাগরিকত্বের মত আধুনিক সমস্যা নিয়ে কিছুই বলেননি, সেখানে আলোচনা ভারত ও বাংলায় ঐতিহাসিক-প্রাগৈতিহাসিক মানুষের আগমন ও বিস্তার নিয়েই সীমাবদ্ধ থেকেছে। ভারতীয়দের উৎস সন্ধান করতে গিয়ে প্রশ্ন এসেছে, কারা ভারতীয়? তারা কি অন্য কোথাও থেকে এসেছে? আমাদের সুদূরতম আদি পুরুষ ও আদি নারীর উদ্ভব কি একই জায়গায় হয়েছে? শেষ প্রশ্নটি কিঞ্চিৎ ধাঁধার মত। আদি পুরুষ আর আদি নারী পৃথক ভূমি থেকে আসবে কি করে? এই ধাঁধার উত্তর পেতে জানতে হবে বংশগতি (হেরেডিটি) আর প্রজনন বিদ্যার (জেনেটিক্স) কথা। বর্তমান বইটিতে ছোট করে তার মূলকথা দেওয়া আছে।

    বইটির প্রথম অধ্যায়ে আছে মানুষের উদ্ভবের কাহিনি ও ভারতবর্ষে তাদের আগমনের কথা। দ্বিতীয় অধ্যায় হল সিন্ধু সভ্যতার মানুষদের উৎস ও তাদের উত্থান-পতনের কথা। তৃতীয় অধ্যায়ে আছে ‘আর্য’-আগমন কথা। এগুলিই হল ভারতে মূল তিনটি পরিযান। চতুর্থ অধ্যায়ে বাংলায় পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে আরো দুটি পরিযান এবং বাঙালি জাতিগোষ্ঠী গঠনের কথা আলোচিত হয়েছে। পঞ্চম ও শেষ অধ্যায়ে আছে মানুষ কেমন করে ‘মানুষ’ হল, সেই কথা।

    চিরাচরিত প্রত্নতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব আর ভাষাতত্ত্বের সাহায্যে এই সমস্ত বিষয়ে যেটুকু বলা যায়, তার সারকথা এই বইতে নানা জায়গায় বিধৃত আছে। কিন্তু বর্তমান যুগে এই আলোচনায় অবশ্য-প্রয়োজনীয় একটি ডিসিপ্লিন হল জেনেটিক্স। এই বইটি শুরুই হয়েছে বিবর্তন তত্ত্ব আর মানুষের উদ্ভব থেকে। বর্তমান বিবর্তন তত্ত্ব জেনেটিক্স কণ্টকিত, চিরাচরিত ইতিহাস পাঠকের কাছে তেমন পরিচিত নয়। প্রথম সংস্করণটি তাদের সমস্যা পুরোটা অনুধাবন করতে পারেনি, তবে বর্তমান সংস্করণে সে প্রচেষ্টা লক্ষণীয়।

    বইয়ের মধ্যে ছড়ানো-ছিটানো আছে প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে কথিত গল্প। সেগুলোর ঐতিহাসিক সত্যতা নেই, কিন্তু সমকালকে চিত্রিত করার মুনশিয়ানা আছে। এই গল্পগুলোতে প্রাচীন মানুষ আর তার চারপাশের গাছ-প্রান্তর-পশুপাখির সঙ্গে আমাদের দূরত্বের বেড়া ভেঙে পড়তে থাকে-

    দিনটা উষ্ণ ও আর্দ্র। আকাশের এক কোণে ঘাপটি মেরে থাকা কালো মেঘ মাঝে মাঝে সূর্যকে ঢেকে দিচ্ছে। চারিদিকে সবুজ তৃণভূমি; দূরে নীল পাহাড়ের ঢালে স্লেটের মত ধূসর অরণ্য ভূমির রেখা দেখা যায়। সহস্র পশু চলেছে একে অপরকে অনুসরণ করে। ওয়াইল্ড বিস্ট, এলাণ্ড, ইম্পালার দল খাদ্যের সন্ধানে ধীর গতিতে চলেছে। ওই পশুদের অনুগমন করছে খান শতেক মানুষ। মানুষগুলো লম্বা, কালো, হিলহিলে। ওদের কোমরে এক টুকরো পশু চর্ম বাঁধা আছে। হাতে আছে পাথরের কুঠার। ওরা জানে না কোথায় চলেছে, শুধু জানে ওই পশুদের সঙ্গে হেঁটে যেতে হবে। তবে মিলবে নতুন খাদ্য সমৃদ্ধ ভূমি।

    এই হল এক লক্ষ তিরিশ থেকে আশি হাজার বছর আগেকার পূর্ব আফ্রিকার এক খণ্ড-চিত্র।

    =====


    প্রথম অধ্যায়ে এসেছে মানব বিবর্তন ও পরিযানের প্রাথমিক নানা আলোচনা- মানব বিবর্তন, আফ্রিকা থেকে তাদের বহির্গমন ও ভারতে আগমন, এবং তার জীবনযাত্রার পরিচয়। সত্তর হাজার বছর আগে একদল মানুষ প্রচণ্ড ঠাণ্ডার মধ্যে বেরিয়ে পড়েছিল পূর্ব আফ্রিকা থেকে। খাদ্য ও পানীয়ের সন্ধানে তারা বংশ-পরম্পরায় পারি দিয়েছিল সুদূরে। আফ্রিকা থেকে বেরনো সেই ছোট্ট দল থেকেই আজকে আফ্রিকার বাইরে পৃথিবীর সকল মানুষের উদ্ভব। প্রায় পঁয়ষট্টি হাজার বছর আগে এদের এক দল ভারতবর্ষে আসে। আজকের সমগ্র ভারতের ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ মাতৃ ক্রমের দিক দিয়ে সেই আফ্রিকা আগত নারীর সরাসরি বংশধর। এর পরে যে সমস্ত মনুষ্যগোষ্ঠী ভারতে এসেছিলে তারা প্রায় প্রত্যেকটিই ছিল পুরুষ-প্রধান, তাই আমাদের মাতৃ ক্রমের উৎস পিতৃ ক্রমের চাইতে পৃথক।

    দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিষয় হল ভারতবর্ষে দ্বিতীয় পরিযান ও সিন্ধু সভ্যতা। কারা গড়ে তুলেছিল এই সভ্যতা, তাই নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে ইতিহাস-বহির্ভূত নানা কারণে প্রভূত বিতর্ক হচ্ছে। হরপ্পীয় সভ্যতার সাথে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ছিল এমন প্রত্নস্থলগুলিতে ‘প্রাচীন ইরান সম্পর্কিত জনগোষ্ঠী’-র জেনেটিক প্রোফাইল পাওয়া গেছে। হরপ্পার সভ্যতার ক্ষয়ের পরবর্তীকালে তার সংলগ্ন অঞ্চলে থেকে প্রাপ্ত ফসিলেও এই জনগোষ্ঠীর প্রোফাইলের আধিক্য রয়েছে। ঐ সভ্যতা গড়ে তুলেছিল মূলত: প্রাচীন ইরান থেকে আগত এক জনগোষ্ঠী। তবে তারা ভারতে আসার পরে দক্ষিণ এশিয়ার আদি অধিবাসী, আফ্রিকা থেকে আগত মানুষদের সঙ্গে মিশ্রিত হয়েছিল। আজও ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষ সেই মিশ্র জনগোষ্ঠীর জিনোম প্রোফাইল বহন করছে।

    তৃতীয় অধ্যায়ে আছে ইন্দো-ইউরোপীয়দের ভারতে আগমনের কথা। রাশিয়া, ইরান, তুরান ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রাচীন নানা মানব-দেহাবশেষের ডিএনএ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বর্তমান ভারতীয়দের সঙ্গে তার তুলনা করা হয়েছে। রাশিয়ার স্তেপভূমির প্রাচীন দেহাবশেষের ডিএনএ বিশ্লেষণ করে তার সঙ্গে উত্তর ভারতীয়দের জিনগত মিল পাওয়া গেছে, এবং এই একই রকমের মিল পাওয়া যায় পূর্ব ইউরোপীয়দের ডিএনএ-তেও। এ থেকে সিদ্ধান্ত হল, স্তেপভূমির প্রাচীন মানুষ, পূর্ব ইউরোপীয় ও উত্তর ভারতীয়রা এক সময়ে সংযুক্ত ছিল। এই ফলাফল স্তেপভূমিতে ইন্দো-ইউরোপীয়দের উদ্ভবের ও তাদের ভারতে আগমনের তত্ত্বকে সমর্থন করছে। ভাষাতাত্ত্বিকরা বহুদিন ধরে বলছেন, রাশিয়ার স্তেপভূমিতে উদ্ভূত একটি ভাষা হল ‘প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপীয়’। তার এক শাখা হল বৈদিক-সংস্কৃত। জেনেটিক্স সেই সাক্ষ্যই বহন করছে। স্তেপভূমির কিছু মানুষ দল বেঁধে চার থেকে সাড়ে তিন হাজার বছর আগে ভারতবর্ষে এসেছিল।

    ভারতীয়রা বিশুদ্ধ কোনও ‘রেস’ নয়। জিনবিদ্যার সাহায্যে জাতি বা রেস-এর পুরোনো ধারণা ভেঙ্গে গেছে। প্রাচীনকাল থেকে ‘অমিশ্র গোষ্ঠী’ হিসেবে রেস বা জাতির অস্তিত্ব অসম্ভব। প্রাচীন মানব-ডিএনএ বিশ্লেষণে পথিকৃৎ আমেরিকান জেনেটিসিস্ট ডেভিড রাইখ-এর ভাষায়,

    "আজও অনেক মানুষ মনে করে যে, আমাদের ‘জাতি’-র ধারণার সঙ্গে মিল রেখে মানুষকে জৈবিক ভাবে কয়েকটি ‘আদিযুগ’-এর দলে ভাগ করা যেতে পারে, আর এই দলগুলি কয়েক হাজার বছর আগে পরস্পরের থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু জাতি সম্পর্কে বহুযুগের এই দৃষ্টিভঙ্গি গত কয়েক বছরের মধ্যে ভুল প্রমাণিত হয়েছে।"

    কিছু মানুষের মনোভূমি ছাড়া পৃথিবীতে ‘পিওর রেস’ বা বিশুদ্ধ জাতির অস্তিত্ব আছে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন প্রজাতির মধ্যে—যেমন আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে লুপ্তপ্রায় কিছু মানুষ। এক বিশেষ রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিহাস-চর্চার পক্ষে অত্যন্ত শোকের খবর হল, জাতিগত ‘বিশুদ্ধতা’ প্রকৃতির আনুকূল্য পায়নি।

    চতুর্থ অধ্যায়ে আছে পূর্ব ভারতে বিভিন্ন পরিযানের ইতিবৃত্ত ও বাংলার মানুষদের ইতিহাস। উত্তর-পশ্চিম থেকে আগের তিনটি মূল পরিযানের পরে ভারতের উত্তর-পূর্ব দিক দিয়ে পূর্ব ভারতে অপেক্ষাকৃত ছোট দুটি পরিযান হয়েছে। তার ফলে প্রাচীন অস্ট্রো-এশিয়াটিক ও প্রাচীন তিব্বতি-বর্মীরা ভারতের পূর্বদিকে বসতি স্থাপন করেছে ও এই অঞ্চলের প্রাচীন মানবগোষ্ঠীগুলির সঙ্গে মিশ্রিত হয়েছে। দুই হাজার বছর আগেকার বাংলার মানুষ কেমন ছিল সেই ইতিবৃত্ত আলোচিত হয়েছে। এই বিষয়ে জিন-তাত্ত্বিক তথ্য কম, সেই ঘাটতি লেখক খানিকটা অন্যান্য সূত্রের সাহায্যে পূরণ করেছেন।

    পঞ্চম অধ্যায়ে আছে চিন্তাশীল মানুষের আবির্ভাবের ইতিবৃত্ত; আছে মানুষের সংস্কৃতি বলতে আজ আমরা যা যা বুঝি, সেই শিল্পবোধ, প্রযুক্তি, বোধ ও বিশ্বাস গড়ে ওঠার কাহিনি; এবং ভারতের প্রাচীন সংস্কৃতির উন্মেষ আর সেই সংস্কৃতির উত্তরাধিকার। এই অধ্যায়টি বর্তমান সংস্করণে অনেকটা বদলে গেছে, যুক্ত হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের নানা অংশের বিবর্তন ও তার সঙ্গে মানুষের মানুষ হয়ে ওঠার সম্পর্কের কথা।

    বইটির বিষয়বস্তু আকর্ষণীয়, আলোচনা যথেষ্ট উচ্চমানের, ভাষা প্রাঞ্জল। নানা চিত্র ও মানচিত্রগুলি প্রথম সংস্করণে প্রত্যাশিত মানে পৌঁছাতে পারেনি, এবার সেগুলো অনেক উন্নত হয়েছে। প্রচ্ছদটি অসাধারণ। সব মিলিয়ে পড়ার মত বই, তবে দাম আরেকটু কম হলে ভাল হত। অবশ্য এর চাইতে নিম্নমানের ইংরাজি বই বেশি দামে কিনতে অনেক পাঠকেরই দ্বিধা হয় না, সেটাও ঠিক।

    বিশিষ্ট জিন-তাত্ত্বিক, ভারত সরকারে ন্যাশনাল সায়েন্স চেয়ার অধ্যাপক পার্থ পি মজুমদার বইটির মুখবন্ধ লিখেছেন। তাঁর শেষ কথাটি উদ্ধৃতি যোগ্য। “এটি মানব-বিবর্তন, মানুষের পরিযান এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর নৃতাত্ত্বিক সম্পর্ক নিয়ে বাংলা ভাষার প্রথম বই। বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে লেখা নির্ভরযোগ্য এবং অসাধারণ পাঠ যোগ্য এই বই।” একেবারে সত্যি কথা।

    প্রাগিতিহাস - ভারতবর্ষে পরিযান ও জাতিগোষ্ঠী গঠন (দ্বিতীয় পরিমার্জিত সংস্করণ)
    মধুশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়
    প্রকাশক: গাঙচিল, ২০২১
    মুদ্রিত মূল্য: ৪৭৫ টাকা

    প্রাপ্তিস্থান :
    অনলাইনে — কলেজস্ট্রীট ডট নেট
    বাড়িতে বসে বইটি পেতে হোয়াটসঅ্যাপে বা ফোনে অর্ডার করুন +919330308043 নম্বরে।

     

  • বিভাগ : পড়াবই | ৩১ অক্টোবর ২০২১ | ৩৬৬ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
  • টইপত্তর, ভাটিয়া৯, হরিদাস পাল(ব্লগ) এবং খেরোর খাতার লেখার বক্তব্য লেখকের নিজস্ব, গুরুচণ্ডা৯র কোন দায়িত্ব নেই। | ♦ : পঠিত সংখ্যাটি ১৩ই জানুয়ারি ২০২০ থেকে, লেখাটি যদি তার আগে লেখা হয়ে থাকে তাহলে এই সংখ্যাটি সঠিক পরিমাপ নয়। এই বিভ্রান্তির জন্য আমরা দুঃখিত।
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। বুদ্ধি করে মতামত দিন