• বুলবুলভাজা  আলোচনা  বিবিধ

  • মহামারীর মদিরা ও বাঙালির নৈতিকতা

    অর্যমা ঘোষ, শুভদীপ মন্ডল
    আলোচনা | বিবিধ | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১১৬৩ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • করোনাকালের দু’টো ঢেউয়ের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বা মৃতের সংখ্যার কোনো মিল না থাকলেও, একটা মিল আপনি খুজে পাবেন, সেটা হল – মদের দোকানের দীর্ঘ লাইন, আর তা নিয়ে গণমাধ্যমের কৌতুক আর ছিছিক্কার। এই গেল-গেল রবের মূল চালিকা-শক্তিই হল বাঙালির শতাব্দী-লালিত নৈতিকতা। কিন্তু এহেন নৈতিকতার পরাকাষ্ঠা বাঙালি, মদ্যপান নিয়ে ছুঁতমার্গ চালিয়ে গেলেও, বিহার বা গুজরাটের মত ‘non-liquor state’ ঘোষণা করতে পারেনি, আবার অন্ধ্রপ্রদেশ বা তেলেঙ্গানার মত মদ্যপানের সংস্কৃতিকে সহজও করতে পারেনি। বাঙালির সাথে মদ্যের সম্পর্ক দ্বান্দ্বিক সহাবস্থানের; সেখানে মদ্যপকে নিয়ে কৌতুক-মিশ্রিত লঘুরস ও নীতিবাগিশের শুচিবায়ু যেমন আছে, ‘দেবদাস’-দের নিয়ে রোম্যান্টিকতাও আছে। তাই করোনা-কালে মদের লাইন ও কৌতুকময় আশঙ্কার মাঝে এক দ্বান্দ্বিক সহাবস্থানের সমান্তরাল বহমানতা রয়েছে, তার মাঝের দূরত্বটি নাগরিক সমাজের জাতি ও শ্রেণিগত দূরত্বের সমানুপাতিক। 

    এই মদ্যপান নিয়ে বাঙালির নৈতিক দ্বন্দ্বের ইতিহাস বড় পুরাতন। মূলধারার সাথে অস্ফুট লোকাচারের পার্থক্য তো ছিলই; কিন্তু মূল সুর ছিল সহাবস্থানের। কথিত আছে, একবার শাক্ত সাধক কমলাকান্তকে মদ্যপান করতে দেখলে, বর্ধমানরাজ তেজচন্দ্র তিরস্কার করেন। প্রত্যুত্তরে মাতৃভক্ত কমলাকান্ত মদ্যকে দুগ্ধে পরিণত করে সেই দুধে দেবীপ্রতিমার পূজা করেন। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রতিভূ তেজচন্দ্রের কাছে যা অনৈতিক, সাধক কমলাকান্তের কাছে তা নয়। ভারতীয় লোকাচারের ঊর্ধ্বে থাকা সাধক সামাজিক নিয়মনীতির অধীন নন। কমলাকান্তের মতই, সাধক রামপ্রসাদও মদ্যপান করতেন। পণ্ডিতসমাজের প্রধান কুমারহট্ট এ নিয়ে তাঁকে তিরস্কার করলে, রামপ্রসাদ বলতেন, “সুরাপান করিনা আমি / সুধা খাই জয় কালী বলে”। কিন্তু সব প্রেমিক যেমন দেবদাস নয়, সকল মদ্যপই রামপ্রসাদ নয়। শাক্তমতে গুহ্যসাধন-ক্রিয়ায় মদ্যপানের যে রীতি, তা প্রাত্যহিক জীবনের অঙ্গ না হওয়াটিই স্বাভাবিক। কিন্তু ‘প্রাত্যহিক জীবন’ তো কোন সমসত্ত্ব ধারণা নয়, বরং তা স্থান-কাল-পাত্রভেদে ভিন্ন। একদিকে প্রাক-ঔপনিবেশিক বঙ্গীয় উচ্চবর্গ যেমন পারতপক্ষে মদ্যপান এড়িয়ে চলেছে, মঙ্গলকাব্যের অন্ত্যজ শ্রেণি অবশ্য শুঁড়িখানায় ক্রমাগত ভিড় জমিয়ে গেছে। তাই মদের বিচারেই বাঙালি অনেক আগেই ‘আমরা-ওরা’-র ব্যবধান তৈরি করে ফেলেছে। অর্থাৎ ধর্মকেন্দ্রিক মদ্যপান যেমন ছিল, তেমনই ছিল ধর্মভিত্তিক নৈতিকতার প্রভাবে মদ্যপানের উপর নিষেধাজ্ঞা; কিন্তু নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল ছিল জাতিগত। আদি বঙ্গজীবনে সামাজিক লোকাচারের নোটবুক-সুলভ গ্রন্থ ছিল স্মৃতিশাস্ত্র। জীমূতবাহনের ‘কালবিবেক’, স্মার্ত রঘুনন্দনের ‘অষ্টবিংশতি তত্ত্ব’ প্রভৃতি স্মৃতিশাস্ত্রসমূহ, প্রাচীন দুর্গাপূজায় অবাধ মদ্যপানের আচারের কথা বলেছেন। আবার ভবদেবভট্ট তাঁর ‘প্রায়শ্চিত্তপ্রকরণ’-এ ব্রাহ্মণ-অব্রাহ্মণ সকলের জন্যই মদ্যপান নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করেন। তবে কুমারহট্ট-রামপ্রসাদের দ্বন্দ্ব দেখে বোঝা যায় উচ্চবর্ণে মদ্যপান ছিল গৌণ গুহ্যধর্মাচারের বিষয় আর অব্রাহ্মণের মদ্যপান ছিল প্রাত্যহিক লোকাচারমূলক। যা হোক, মোট কথায়, ষোড়শ শতকে রঘুনন্দন ভট্টাচার্য্য কলিযুগে ব্রাহ্মণ ছাড়া সকলকে শূদ্র বলে ঘোষণাই করে দিলেন আর মদিরাচার পক্ষান্তরে পরিণত হল শূদ্রাচারে। অ্যারিস্টটল বলেছিলেন, যে সমাজে বাস করে না – সে হয় দেবতা, নয় পশু; কুমারহট্টদের ভাষায় তা হয়ে দাঁড়াল, যে মদ্যপান করে – সে হয় সাধক, না হয় শূদ্র।। ব্রাহ্মণের মদ্যপান যে লোকাচারবিরুদ্ধ, তা জানা যায় অতীব পরিচিত শ্লেষ-বক্রোক্তিতে;-

    “বিপ্র হয়ে সুরাসক্ত কেন মহাশয়?
    সুরে না সেবিলে বল কেবা মুক্ত হয়?”

    প্রশ্নকর্তার ‘সুরা’-কে ‘সুর’ বা ইষ্টদেবতার্থে বুঝে উত্তর দিয়েছেন মদিরাসক্ত ব্রাহ্মণ। প্রকৃতপক্ষে Habermas-এর Communicative Action তত্ত্বের মতই লোকাচার ও ধর্মাচারের এই কথোপকথন ভিন্ন যৌক্তিকতার ধারণানুসারে মূক ও বধিরের আলাপের মত, যদিও বিরোধার্থক সহাবস্থানের কোন সমস্যা হয়নি। 

    সমস্যা দেখা দিল ঔপনিবেশিক প্রভাবে; যখন মদ্যপান উচ্চবর্ণের দৈনন্দিন জীবনে প্রবেশ করল। ঊনবিংশ শতকের বাবু সম্প্রদায়ের মধ্যে মদ্যপান ছড়িয়েছিল মূলত পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাবেই, যার সাথে রামপ্রসাদ-কমলাকান্তের যোগ বড় ক্ষীণ। হিকির ডায়েরিতে অষ্টাদশ শতকের শেষভাগের Harmonic Tavern এর কথা আছে যেখানে কোম্পানির কর্মচারিরা নিয়মিত মদ্যপান করত। ইংরেজ মদ্যপায়ীদের মধ্যে ক্ল্যারেটের বেশ চল ছিল এবং ডাচ ক্ল্যারেট কি ইংরেজ ক্ল্যারেটের থেকে বেশি স্বাদু কিনা তা নিয়ে চলত বিতর্ক। তা এই ইংরেজ ক্ল্যারেট কিভাবে কলকাতার বাবুর পেয়ালায় পৌঁছাল তা এক আকর্ষণীয় ইতিহাস। প্রথম যুগের বাবুরা তো বটেই, তার সাথে সাথে দ্বারকানাথের মতো ইংরাজ বাণিজ্যের ‘এজেন্সি’গিরি করে লক্ষ্মীলাভ করা প্রমুখরাও মদ্য-মাংসের নিত্যসেবা করতেন। প্রিন্স দ্বারকানাথ শুধু মদ খেতেনই না; বরং কোম্পানির বানানো মদ আমদানি-রপ্তানির কাজেও যুক্ত ছিলেন। বাহির জগতে বিলিতি ধারার বাহক দ্বারকানাথের গৃহে অবশ্য চিরাচরিত শুদ্ধাশুদ্ধ বিচার অব্যাহত ছিল। এই ভিতর ও বাহিরের দ্বন্দ্বই আসলে চিরকালিন দ্বিধা-দীর্ণ নৈতিকতার গোড়ায় সার জুগিয়েছিল। প্রথমদিকে বাবুসমাজের মদ্যপান ছিল দ্বারকানাথের মত বাহিরের বিষয়, কিন্তু ধীরে ধীরে নবজাগরণের পথিকৃতদের হাত ধরে মদ্যপান অশাস্ত্রীয় কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকল। মনে রাখা দরকার, প্রথম যুগের সমাজ সংস্কারের যৌক্তিকতা প্রমাণিত হত শাস্ত্রানুসারে; পাশ্চাত্য যুক্তিবাদে নয়। রামমোহন ১৮২৬ সালে লিখিত ‘কায়স্থের সহিত মদ্যপান বিষয়ক বিচার’ গ্রন্থে শূদ্রের মদ্যপানে অধিকার তথা ব্রাহ্মণের বিধিবিদ্ধ মদ্যপানের সপক্ষে শাস্ত্র উদ্ধৃত করে সমর্থন প্রকাশ করেন। অবশ্য সকল ব্রাহ্ম মদ্যপান সমর্থন করতেন তা নয়। রেভারেন্ড কৃষ্ণমোহন বন্দোপাধ্যায় খ্রীষ্টান হলে দেবেন্দ্রনাথ মন্তব্য করেছিলেন, যে নিষিদ্ধ মাংস ও মদ্যের আশায় এই কাজ। নব্যবঙ্গীয়দের মদ্যপানজনিত উচ্ছৃঙ্খলতা বা ‘বাবু’-শ্রেণির মদ্যপানজনিত লাম্পট্য না থাকলেও অল্পবিস্তর পান সকলেই করতেন। আর এখানেই শুরু হল দ্বন্দ্বের প্রাথমিক স্তরের, কারণ ইংরাজী শিক্ষায় শিক্ষিত সমাজ ছিল মূলত ব্রাহ্মণ-কায়স্থ সন্তান, তাই মদ্যপানে জাতিভ্রষ্ট হওয়ার ভীতি খুব দ্রুতই গড়ে উঠেছিল। 


  • কয়েকদশকের মধ্যেই ভিক্টোরিয় প্রভাব, ব্রাহ্ম-নৈতিকতা ইত্যাদির প্রভাবে পাশ্চাত্য-শিক্ষিত বাঙালির মধ্যেই দেখা দিল বিরোধ। প্রথমদিকের শাস্ত্রীয় বিচারে মদ্যপান ঠিক না বেঠিক তা নিয়ে বিতর্ক চললেও, পরে সামাজিক নৈতিকতার বিচারটিই প্রধান হয়ে ওঠে। রামমোহনের ব্রাহ্মভাব ও মদ্যপানের বিরোধ ছিল না, কিন্তু কেশবচন্দ্রের সময়ে ব্রাহ্ম-নৈতিকতা মদ্যপানের বিরোধী হয়ে ওঠে। ব্রাহ্মধারার মধ্যের এই বিভাজন রেখার কারণ হল বাঙালি শিক্ষিত উচ্চবর্গের জনমানসে পরিবর্তন। যদিও ভিক্টোরিয় নীতিবোধ মদ্যপানের বিরুদ্ধে সরাসরি কিছু বলেনি, কিন্তু মদ্যপানের সাথে অশ্লীলতা ও নীতিহীনতাকে যোগ করার প্রবণতা দেখা গিয়েছিল এসময় থেকে। তাই এই মদ্যপান-বিরোধিতা কিছুটা হলেও ঊনবিংশ শতকের ভিক্টোরিয় প্রভাবযুক্ত ইংলন্ড-আমেরিকার Temperance Movement এর ফসল। ১৮৬১ সালের মদ্যপান-বিরোধী একটি পুস্তিকার লেখক বলেন, ‘নীচশ্রেণিস্থ হিতাহিতজ্ঞানপরিশূন্য ব্যক্তির মদ্য ভক্ষণ কিঞ্চিত ক্ষমণীয়’ হলেও, ‘সমাজের কৃতবিদ্য জ্ঞানবান ব্যক্তিগণের মদ্যপান কখনই ক্ষমার্হ হইতে পারে না’। ‘ছোটলোক’-এর মদ খাওয়াটা দস্তুর, কিন্তু উচ্চবর্গের ‘ভদ্রলোক’ কেন মদ খাবেন? মদ্যপায়ী ‘বাবু’-সমাজকে তিরস্কার করে বঙ্গদেশে ‘ভদ্রলোক’-এর উদ্ভব হল।  ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের কিছু পূর্ব থেকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের উত্তরাধিকারী গিরীশচন্দ্র, শ্রীশচন্দ্র, সতীশচন্দ্র প্রমূখ থেকে শুরু করে কালীপ্রসন্ন সিংহ, হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সহ অনেক কৃতবিদ্য বাঙালি অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে মারা যান। তাই সামাজিক স্বাস্থ্যের সাথে সাথে গণস্বাস্থ্য বিষয়টিও ক্রমে যুক্ত হয় এর সাথে। ঊনবিংশ শতকের ষাট-সত্তরের দশকে মদ্যপান-নিবারণী সভার বাড়-বাড়ন্ত দেখা গেছিল ঠিকই, তবে তা প্যারীচ্যাঁদ মিত্র বা প্যারীচরণ সরকারের প্রবল চেষ্টার পরও বেশিদিন টেকেনি। রাজশেখর বসু, কেশবচন্দ্র সেন তথা বিপিনচন্দ্র পালের মত ব্যক্তিরাও মদ্যপান-নিবারণী সভার সদস্য ছিলেন। কিন্তু বিষয়টি জোরদার হতে পারল না, কারণ বাঙালি ভদ্রলোকের ব্যক্তিগত স্ববিরোধ। ‘হুতোমের’ নক্সায় বাবুসমাজের মদ্যপান ও কার্য্যকলাপকে চিরকাল বিরোধিতা করে লেখক কালীপ্রসন্ন সিংহ নিজেই মারা গেলেন অত্যাধিক মদ্যপানজনিত লিভারের অসুখে। ঈশ্বর গুপ্ত, বঙ্কিমচন্দ্রের মত ব্যক্তিত্বও মদ্যপায়ী ছিলেন। হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, মধুসূদন দত্ত প্রমূখ মদ্যপানের বিরোধিতায় কলম ধরলেও অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণেই শেষ পর্যন্ত মৃত্যুমুখে পতিত হন। তবে বাবুসমাজের মদ্যপান ও অশ্লীলতার সমান্তরাল সম্পর্ককে ভেঙ্গে রুচিশীল মদ্যপানের এক বিকল্প সংস্কৃতি এ সময় উঠে আসে।

    ভদ্রলোকের ও ছোটলোকের মদ্যপান আলাদা হয়। রাহমান চৌধুরীর ‘কলকাতার কত রঙ্গ এবং বাবু সংস্কৃতি’-তে বিদ্যাসাগরের সাথে এক মাতালের কথোপকথনের কথা আছে। বিদ্যাসাগর মাতালকে মদের টাকা দিতে অস্বীকার করায় মাতাল শুধিয়েছে। যে তবে মধুসূদনকে তিনি কেন অর্থ দেন। উত্তরে বিদ্যাসাগর বলেছেন একটা ‘মেঘনাদ বধ কাব্য’ লিখলে তিনি সেই মাতালকেও মদ খাওয়ার টাকা দেবেন। আসলে বিভাজন-রেখাটি স্পষ্ট; ভদ্রবিত্তের সাংস্কৃতিক পানালাপ একটি মন্দের ভাল কিন্তু ছোটলোকের মদ খাওয়া ঠিক কাম্য নয়। প্রাক-ঔপনিবেশিক ব্রাহ্মণ-অব্রাহ্মণ নৈতিক দূরত্ব থেকে ভদ্র-অভদ্র সমাজের নৈতিক ব্যবধানটি প্রায় উল্টে গিয়েছিল বলা যায়। এমনিতেই সুশীল শহুরে সংস্কৃতির প্রভাবে অশ্লীলতার নামে নিম্নবর্গের সংস্কৃতির প্রান্তিকীকরণ হচ্ছিল; তাই ভদ্রসমাজ ঔপনিবেশিক শাসকের অর্থনৈতিক শোষণের মাঝে আটকে থাকা নিম্নবর্গের মদ্যপ রূপ দেখলেও ‘ছোটলোকের সংস্কৃতি’-র মদ্যপানের প্রকৃত অর্থ বুঝতে পারেনি বা চায়নি। গুরুদেব কিছুটা বুঝেছিলেন। ‘পল্লীপ্রকৃতি’-তে তিনি গ্রাম্য নিম্নবর্গের মাদকাসক্তির প্রসঙ্গে বলেছিলেন, যে সারাদিন পরিশ্রমের ক্লান্তি উপশমে যে খাদ্যের প্রাচুর্য্য প্রয়োজন, তা যেহেতু জোটে না – তাই তারা ‘তিন-চার পয়সার ধেনো মদ খায়’। ‘জবরদস্তি করে, ধর্ম-উপদেশ দিয়ে’ এ বিষয় দূর করা যাবে না, কারণ ‘ক্লান্তি দূর করার জন্য মানসিক মত্ততার দরকার হয়ে পড়ে’।

    বিংশ শতকে, সমাজ উদ্ধারের নৈতিক দ্বন্দ্বের সাথে যোগ দিল দেশোদ্ধারের দিকটি। স্বদেশী আমলে বিদেশী মদের দোকানের সামনে পিকেটিং দিয়ে যা শুরু হয়েছিল, গান্ধীজির মদ্যপানের বিরোধে তা বজায় ছিল। বঙ্গজীবনে দাদাঠাকুরের ‘বোতল-পুরাণ’ মদ্যপান-বিরোধী প্রচার হিসেবে এসময় আলোচ্য হয়ে ওঠে, কিন্তু বিশ শতকের ক্লাব ও পাব (Pub) সংস্কৃতিও রমরমিয়ে চলতে থাকে। আলোচনার বুদ্ধিদীপ্ত টেবিলে ডিক্যান্টার-ককটেলের থেকে চা-কফির পেয়ালাপিরিচ অনেক সুলভ রিপ্লেসমেন্ট হওয়া মদ্যপানের জনপ্রিয়তা হ্রাসের আরেকটি কারণ। তাই বিরোধ ও সহাবস্থান একইসাথে চলেছে আর নাগরিক সমাজের প্রতিভূ কবি-সাহিত্যিক-অভিনেতাদের মদ্যপান নিয়ে রোম্যান্টিকতাও বজায় থেকেছে। স্বাধীনতা-উত্তর বাঙালি তখন টলোমলো পায়ে মধ্যরাতের ফুটপাথ বদল করেছে, যে ফুটপাথ গেছে খালাসিটোলার দিকে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসুদের ‘কে.টি.’ বা খালাসিটোলা কাব্যপ্রিয় বাঙালি ভদ্রবৃত্তের রোমান্টিসিজম, কিন্তু রিক্সাওয়ালার গায়ের চোলাইয়ের গন্ধে জাগবে না কারণ বলাই বাহুল্য, রিক্সাওয়ালারা ‘মেঘনাদ বধ’ লিখতে পারে না।

    আজ যখন করোনার পূর্বে মদের দোকানের সামনে ‘গণ’-এর ভিড় গণমাধ্যমে ছড়িয়েছে তখন স্পেন্সারের হোমডেলিভারিকৃত সুধার কল্যাণে ঘরে বসে মোচ্ছব করা জনস্বাস্থ্য-সচেতন বাঙালি তার চিরাচরিত স্ববিরোধী কৌতুক ও নিন্দায় নেমেছে, তখন অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ এটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত চিরাচরিত দ্বান্দিক সহাবস্থানের বিভাজন রেখাগুলিরই প্রশস্ত রূপ। আগের গণমাধ্যমে শ্রোতার কোন ভূমিকা ছিল না, কিন্তু বর্তমানে সে নিজেও তথ্যের নির্মাণ ও প্রসারে যুক্ত। তাই চিরাচরিত মানসিকতা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই Participatory Identity-র চক্করে বার বার উঠে আসে এবং প্রভাবশালীর ব্যাখ্যানটিকে আরো শক্তিশালী করে। সামাজিক নৈতিকতার ব্যাখ্যান সর্বদাই প্রভাবশালীর ব্যাখ্যান; বাংলার ক্ষেত্রে সেটা ভদ্রলোকের ব্যাখ্যান। তাই লকডাউনে চা খেতে বের হওয়া মৃদুল দেবের মিম নিয়ে হাসি ঠাট্টা হবে। তার উত্তরে তাঁরা হয়তো কোন উত্তর দিতে সক্ষম হবেন না, কারণ প্রভাবশালীর ব্যাখ্যানের বিরোধ করার ক্ষমতা তাঁদের নেই, কিন্তু আর একটি দিকও রয়েছে। Post-Bhadrolok বঙ্গসমাজের মাঝে ভদ্রলোকী ঠাট্টার বিশেষ মূল্য আছে বলে বোধ হয় না, কারণ লকডাউনের মাঝেই সরকার কর্তৃক সুলভ মূল্যে মদের পাউচের বিতরণ নিয়ে যতই সমালোচনা হোক, আর যতই মিম ছড়িয়ে পড়ুক – ভোটবাক্সে তার ফল ভালোই বোঝা গেছে। পরিমল ঘোষ ‘What happened to the Bhadralok’ গ্রন্থে বলেছেন ভদ্রলোকী সংস্কৃতির পরিসরে গ্রাম্য মধ্যবিত্ত, অসংগঠিত শ্রমিকশ্রেণির ক্রেতা হিসাবে প্রবেশ ও তার কারণে সংস্কৃতির গণতন্ত্রিকরণ হয়েছে। তাই রামপ্রসাদ যেমন কালীর দয়ায় সুধাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, Post-Bhadrolok বঙ্গের জনতা কালীঘাটের দয়ায় তা পেলে যদি গেল-গেল রব ওঠে, তবে তা বহু পুরাতন ভদ্রলোকী সংস্কৃতির অনুরণন মাত্র।



    মূল ছবি: Nicola Barts, Pexels
  • বিভাগ : আলোচনা | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১১৬৩ বার পঠিত | রেটিং ৪ (১ জন)
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • Prajjwal Pal | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১:৫৪497788
  • ভালো লাগলো
  • প্রতিভা | 2401:4900:1048:ccd3:0:18:d340:5401 | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২:৪২497790
  • আলোচনাটি বিস্তৃত ও ভালো। মধ্য উচ্চ শ্রেণীকেন্দ্রিক। এছাড়াও অগণিত মদ্যপায়ীরা আছে যারা বিষ-মদে প্রাণ দেয়, বৌ পেটায় এবং অপরাধে ডুব দেয়। তাদের জন্য ফ্রি পাউচ দিলে মেয়েরা কি খুশি হবে !  বিহারে মদ্যপান বিরোধী স্ট্যান্ডে নিতীশ কুমার দেদার ভোট কুড়িয়েছেন কিন্তু।
  • অর্যমা ঘোষ | 115.187.36.88 | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৪:৫২497795
  • অবশ্যই মদ্যপান স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার কারন এবং মদ্যপান বন্ধ করে 'non লিকার ' রাজ্য ঘোষনা করতে পারলে খুবই ভাল হবে, কিন্ত পশ্চিমবঙ্গে এটা সম্ভব নয় কারন ভদ্রবিত্ত ও অ-ভদ্রবিত্তের সামাজিক দ্বিধা ও আত্মিক দ্বন্দ্ব থেকেই যাবে।
  • dc | 74.82.60.193 | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৫:৪১497797
  • এই কোভিড আর লকডাউনের বাজারে মদের অনলাইন অর্ডারিং আর ডেলিভারি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। আমি এর মধ্যে দুতিনবার মদ কিনেছি, আর আমার প্রিয় ভোদকা কেটেল ওয়ান একটা বিশেষ দোকানে পাওয়া যায় বলে এমনকি সেখানে লাইনে অবধি দাঁড়াতে হয়েছে। খুবই হাই রিস্ক ব্যপার আর কি। মাঝখানে শুনেছিলাম দিল্লিতে মদ ডেলিভারির ব্যবস্থা হয়েছে। ভারতের অন্যান্য শহরেও এই ব্যবস্থা অবিলম্বে চালু করার দাবী জানালাম। 
  • সায়ন্তনী মৈত্র | 2401:4900:3148:7464:0:30:b606:3f01 | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২১:০৮497802
  • কায়স্থের সহিত মদ্যপান বিষয়ক বিচার একটি প্রবন্ধ, গ্রন্থ নয়।
  • | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২১:৫০497806
  • কিন্তু ইসে এই 'ভদ্র বিত্ত' আর 'অভদ্র বিত্ত' শব্দদুটোর মানে কী? মধ্যবিত্ত জানি মধ্য আয়ের মানুষ, উচ্চবিত্ত অনেক বেশী আয়ের মানুষ আর নিম্নবিত্ত মানে কম আয়ের মানুষ। বিত্ত মানে ধনসম্পত্তি বা আয় রোজগার। তা রোজগারের ভদ্র অভদ্র কী? 
  • S.h | 42.110.242.115 | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২১:৫৬497808
  • সত্যিই  গণ মাধ্যম ও তাই  আজ বিদ্যাসাগর পন্থি গরীব ক্লান্তি নিবারনের জন্যও মদ খেলে ও মাতাল লম্পট আর  উচ্চবর্গ মদ খেলে সূরা প্রেমী । আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এরকম একটি যুক্তি যুক্ত সত্য টা সবার সমানে তুলে ধরার জন্য ।
  • অর্যমা ঘোষ | 115.187.36.88 | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২২:৪৫497810
  • ভদ্রবিত্ত হল মূলত শহরের ঔপনিবেশিক শিক্ষায় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত, আর অভদ্রবিত্ত হল গ্রামীণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত। যদিও বিষয়টি অত সরল নয়। বিত্ত হল আর্থিক মানদন্ড,  অন্যদিকে সামাজিক-সাংস্কৃতিক মূলধনের কথা মাথায় রাখলে উচ্চ-মধ্য-মেধা-বিত্তকে 'ভদ্রবিত্ত' সমাজের প্রধান ধরা যায়। রোজকার দিয়ে তো কেবল সামাজিক মানদন্ড মাপা যায়না তাই এহেন শব্দবন্ধ ব্যবহারের প্রয়োজন।
  • দেবব্রত মণ্ডল | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২২:৫১497811
  • আপনাদের সাথে কি কোনোভাবে একটু কন্টাক্ট করা যাবে ? যদি যায় তাহলে খুব ভালো হয় ।
  • অর্যমা ঘোষ | 115.187.36.88 | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০০:০৪497817
  • অবশ্যই করতে পারেন। ইমেল আই ডি দিলাম।

    [email protected] 

    [email protected] 

  • Somenath Guha | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০০:৩৩497819
  • ইদানিং বাংলার হেব্বি সেল। হাড়িয়া, মহুয়া ও দোকান থেকে বিক্রি করলে ভালোই হয়।
  • ? | 2402:3a80:a44:bfd8:0:74:c75e:5101 | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০১:৪৯497821
  • এই দেবব্রাত মন্ডল সব লেখার নীচে লেখকদের যোগাযোগ চেয়ে বেড়াচ্ছেন কেন?  
  • দেবব্রত মণ্ডল | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০২:১৫497822
  • Ami jodi personally kono lekhok - lekhikar songe contact korte chai tate ki apnar byktigoto vabe kono somosya ache? Ami je lekhok - lekhikar songe contact korte chaichi tar somosya hole tini seta bolben. Kintu er moddhye hotat apnar eto koutuhol kiser? 
  • ডি সন্দীপ | 2405:201:8003:9807:1c6e:afd3:35a5:6005 | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৮:৪৫497862
  • দুর্জনের ছলের অভাব হয় না আর মদ্যপায়ীর যুক্তির, বাকী সবই প্রলাপ
  • অর্যমা | 115.187.36.88 | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৫:৫৪497960
  • প্রলাপ তো আর অপলাপ নয়। 
  • dc | 122.174.77.6 | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১৭:৪০497964
  • সেজন্যই তো কবি বলেছেন, পিনে ওয়ালো কো পিনে কা বাহানা চাহিয়ে! 
     
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:

কুমুদি পুরস্কার   গুরুভারআমার গুরুবন্ধুদের জানান


  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল প্রতিক্রিয়া দিন