• বুলবুলভাজা  ইস্পেশাল  ইদের কড়চা  ইদের কড়চা

  • সংক্রমণ

    বিশ্বদীপ চক্রবর্তী
    ইস্পেশাল | ইদের কড়চা | ২৮ মে ২০২১ | ৫৫২ বার পঠিত
  • — ওরেব্বাস করেছো কী শৈ?

    ডাইনিং টেবিলে বসতে বসতে বললো সুকোমল। সত্যিই আজ আয়োজনটা অন্যদিনের চেয়ে ঢের বেশী। এবং অপরিচিত। বর্ণ, ঘ্রাণ এবং পরিবেশনে। রোজকার ভাত ডাল নয় মোটেই। শৈলী সগর্বে সেই ঘোষণাটা করে এবার। রেসিপি ধরে ধরে বানানো স্যার, সবকটা এস্পেশাল! এটা স্টার্টার চিকেন ব্রেস্ট সটে অ্যান্ড বেবি কর্ন, মেন কোর্সে আছে ক্রাম্বলিং পর্ক বেলি উইদ ম্যাশড পট্যাটো অন দ্য সাইড। ডেসার্টে অ্যাপেল পাই টপড উইদ ভ্যানিলা আইসক্রিম। অবশ্য আইসক্রিমটা দিইনি এখনো, খাবার সময়ে দেবো। নাহলে গলে যাবে। এইসব দেখে সুকোমলের গলে যাওয়া উচিত। কিন্তু ওকে একটা ভয় চেপে ধরছিল। সে কি কোথাও ভুল করছে? কিছুতেই মনে করতে পারছে না আজকের দিনটার তাৎপর্য। মনে মনে হিসেব জুড়তে থাকে। দুজনের কারুরই জন্মদিন নয় আজ। তাদের দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী সবে গেল গত মাসে। তাহলে? কিসের সেলিব্রেশনে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খাবারে এই বিদেশি বাতাস?

    সুকোমলের বিভ্রান্ত মুখ দেখে শৈলীর দয়া হল। না মশাই, কোন বিশেষ দিন ভুলে যান নি। আমি কন্টিটেন্টাল খাবার বানাতে শেখার একটা ক্লাস জয়েন করেছি। তাছাড় ভাবলাম এই নতুন ফ্ল্যাটে শিফট করার একটা সেলিব্রেশন তো বনতা হ্যায়। না কি? শৈলীর চোখ দুটো উৎসাহে জ্বলজ্বল করছিল। অনেকক্ষণ রান্না ঘরে কাটিয়েছে, গালটা লালচে আভা নিয়েছে রুজের ছোঁয়া ছাড়াই। নাকের ডগায় বিন্দু বিন্দু ঘাম। সামনের দুগাছি চুল কপালে পড়ে ঘামে লেপটে গেছে। ইস, একটু হেল্প করা উচিত ছিল। কিছুটা অনুশোচনায়, খানিকটা শৈলীর ক্লান্ত মুখের সৌন্দর্যে মুগ্ধ সুকোমল হাত ধরে টানল।

    — এই একটা হোক? শৈলীর ঠোঁটের স্পর্শ লাভের বাসনা।
    — ওটা হচ্ছে না মশাই। খাবার টেবিলে এসব চলেনা। সুকোমল আশ্চর্য।
    — মানে? বাড়িতে আর কে আছে যে আমি খাবার টেবিলে নিজের বিয়ে করা বউয়ের ঠোঁটে একটা চুমু দিতে পারি না?
    — সব কিছুর একটা স্থান কাল পাত্র আছে, সেটা জানো তো? মুচকি হেসে শৈলী এড়িয়ে যেতে চায়।
    — স্থান নিজের বাড়ি, পাত্র পাত্রী বহুদিন আগে থেকেই পরস্পরে উৎসর্গীকৃত। তাছাড়া চুমু খাওয়ার জন্য সময় রাশি নক্ষত্র দেখার দরকার আছে নাকি?
    — আমার ঠোঁটটা দেখেছো?
    — শুধু দেখেছি? এই অমৃতসুধা গ্রহণ করেছি বহুবার। বলতে বলতেই শৈলীর ঠোঁটের গাঢ করে লাগানো লিপস্টিক সুকোমলের নজরে এলো। এবার মনে হল গালের লালিমাটাও হয়তো তৈরী করা।

    সুকোমলের জিজ্ঞাসু চোখের উত্তরে শৈলী তড়বড়িয়ে ওঠে। তার কারণ আমি আগে ছবি তুলবো, সেলফি। এইসব খাবারের সঙ্গে। তারপরে ফেসবুকে পোস্টাবো।

    — উফফ পারো বটে।
    — কেন খারাপ?
    — না না খারাপ হবে কেন? তবে সেক্ষেত্রে অ্যাপেল পাইয়ের উপর ভ্যানিলা আইসক্রিমটাও চাপিয়ে দিতে হবে তো।
    — শৈলী মুখ চিপে হাসল। দিতাম, কিন্তু তুমিই গলে যাবে গলে যাবে বলে হাঁউমাউ করে উঠবে। তাছাড়া পাইটা আমার বানানো, আইসক্রিম তো নয়। তাই না দিলেও হয়।
    — তাহলে চটপট সেলফিটা তুলে বসে পড়ো। আমরা দুজনে একসঙ্গে খাই।
    — দাঁড়াও, নতুন কেনা জাপানিজ ন্যাপকিনগুলো সেট করি, খুব কালারফুল হবে তাহলে। আর দেখো, আমি গেলাম আর তুমি খাবারে আঙুল চালালে সেটা যেন না হয়। অনেক কষ্ট করে সাজিয়েছি, অ্যারেঞ্জমেন্টটা নষ্ট করোনা।

    সুকোমল যথা আজ্ঞা বলে হাত গুটিয়ে বসেছিল। এমন সময় শৈলীর চিৎকার। না ঠিক চিৎকার নয়, বরং ফিসফিস করে গর্জন করলে যেমন হয়। কায়দায় বাঘ, আওয়াজে মেনি। সুকু এদিকে এসো। চট করে। জলদি! গলায় উত্তেজনা মিশে আছে, ভয় নয়। নিশ্চয় কিছু দেখাবে। দুবছরের বিয়ের অভিজ্ঞতায় সুকোমল জানে বিশেষ কিছু হওয়ার দরকার হয় না, শৈলী একটুতেই ঝাঁপাঝাপি শুরু করে। নিশ্চিন্ত বিশ্রামের আড়মোড়া ভাঙল সুকোমল, এখন আবার কি, পরে দেখলে হয় না?
    — আহ, এসো না চট করে। এখুনি।

    এখনো গলায় ঝাঁঝ আসেনি, কিন্তু অশনিসঙ্কেত আছে একটা। নিমরাজি হয়ে চেয়ারটা ঠেলে সরিয়ে উঠে এলো সুকোমল। প্যাসেজটায় এসে অবাক। শৈলী কী করছে এটা? তাদের প্যাসেজটায় একটা বিশাল কাচের জানালা আছে। এই বাড়িটা নেওয়ার কারণই এই খোলামেলা জানালার জন্যে। শৈলী প্যাসেজের জানালার পর্দার উপর দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। শুধু তাই না, পর্দার উপরের স্প্রিংটা টেনে ধরে নাবিয়ে অনেকটা দেখার জায়গা করে নিয়েছে।

    এই অ্যাপার্টমেন্টটায় এসেছে মাস গড়ায়নি। আটতলা বাড়ির পঞ্চম তলায় ওরা। পাশাপাশি এরকমই লম্বা ফ্ল্যাটের দুটো সারি, আটটা ব্লক মুখোমুখি। সেরকমই কোন পাশের বাড়ির দিকে তাকিয়ে দেখছে শৈলী। ছি:, শৈ কী করছো বলো তো? অন্যের বাড়িতে উঁকিঝুঁকি মারছ! বিরক্তির সঙ্গে সঙ্গে গলার স্বরটা উঁচুতে উঠছিল সুকোমলের। ঠোঁটে আঙুল দিয়ে চুপ করতে বলল শৈলী। ডান হাত দিয়ে সুকোমলের কবজি ধরে টান দিল। কী ব্যাপার, চোর টোর নাকি? দেওয়াল বেয়ে উঠছে? সুকোমল এসে জানালার বাইরে চোখ রাখল। পাশের অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকটার জানালাটা একদম মুখোমুখি, মাঝখানে ফুট তিরিশেকের ব্যাবধান। সেই জানালার পর্দা পুরো সরানো। সেখানে চোখ পড়তেই চমকে উঠল সুকোমল। এ কী দেখছে?

    এক ভদ্রলোক, এতদূর থেকে বয়েস বোঝা মুশকিল। পরনে বিশেষ কিছু নেই, একটা ছোট সুইমিং ট্রাঙ্কের মত কিছু। মেয়েটির বুকে শুধু ব্রা, পরনে লাল রঙের সায়া। লোকটার হাত মেয়েটার কাঁধে, মাথাটা নেমে এলো এবার বুকের উপর। টিউবলাইটের ফটফটে আলোয় কোথাও কোন আড়াল নেই। জানালা খুলে রেখে এসব কি খেলায় মেতেছে ওরা? না কি এমন আবেগতাড়িত যে জানালা খোলা না বন্ধ সে হুঁশটুকুও নেই? চলে এসো শৈলী, আমাদের এসব দেখে কাজ কী? সুকোমল মুখে বলল কিন্তু চোখ সরাতে পারল না নিজেও। লোকটি একটানে মেয়েটির ব্রা খুলতেই সে মেয়ে খিলখিল করে হেসে উঠল যেন। বুকের চূড়া উজিয়ে দিয়ে মেয়েটা এইদিকে মুখ করেই দাঁড়িয়ে আছে। সুকোমল ওর স্তন বেশ ভালমতই দেখতে পাচ্ছে, এমন কিছু দূর তো নয়। তার চেয়েও বড় কথা লোকটা এমনভাবে মেয়েটাকে আদর করছে যেন বুকে কোন আড়াল না পড়ে। অন্তত এরকমই মনে হল সুকোমলের। মেয়েটা হঠাৎ চোখ তুলে তাকাল, মনে হল মুখে একচিলতে হাসি খেলে গেল। ওদের দেখতে পেলো কি? হাসিটা প্রশ্রয়ের না বিরক্তির? সত্যি, না চোখের ভুল!

    একগাদা প্রশ্ন, শঙ্কা গুনগুন করে উঠল সুকোমলের মনে। এতটা দূর থেকে সেভাবে কি বোঝা যায়! এক ঝটকায় নিজের মাথাটা পর্দার নিচে নামিয়ে এনেছিল সুকোমল। শৈলী তখনো জানালায়। বাঁ হাত দিয়ে পর্দা টেনে ধরে রেখেছে, আর ডান হাতের চারটে নখ সুকোমলের কনুইতে গেঁথে যাচ্ছে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম, জোরে জোরে নিঃশ্বাসের সঙ্গে বুক ওঠানামা করছে। সুকোমলও খুব একটা শান্ত নেই আর। শরীর মোমবাতি জ্বেলেছে। এক অমোঘ টানে আবার মাথা তুলল সুকোমল।

    মেয়েটার শরীরে এখন আর একটা সুতোও নেই। তবুও মেয়েটা ওইভাবেই এদিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে, যেন এমনটাই স্বাভাবিক। লোকটা ওর সারা শরীর ঠোঁট দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে। কোন তাড়া নেই, কেউ দেখছে কিনা ভ্রুক্ষেপ নেই। কিংবা দেখছে বলেই, এরকমটাই মনে হল সুকোমলের। সুকোমলের শরীরে কাঠিন্য বাসা বেঁধেছে। ওরও খুব ইচ্ছে হচ্ছিল শৈলীকে নিয়ে খেলে– দুহাতে শৈলীর কোমর জড়িয়ে ধরেছিল পিছন থেকে। হাতটা কুর্তির তলা দিয়ে সরসরিয়ে উঠে নরম বুক খাবলে ধরল। ঠিক যেমন লোকটার হাত মেয়েটার স্তন নিয়ে খেলছে। এমন যখন তখন শারীরিকতা শৈলীর পছন্দ নয়, প্রশ্রয়ও দিতে চায়না। সাধারণত প্রতিবাদ করে, কিন্তু এখন করল না। বরং নিজের হাতটা মুঠো করে চেপে ধরল সুকোমলের দুই পায়ের মাঝখানে, যেখানটা এখন তিতিরের মত ডানা ঝাপটাচ্ছে। দৃশ্য যখন উষ্ণতার শিখরে যেতে চাইছে, তখন ওই লোকটা ধীর গতিতে এসে ওদের জানালার পর্দাটা টেনে দিল। সম্পূর্ণ। যেন আচমকা নাটকের মঞ্চে পর্দা টেনে শো শেষ করে দেওয়া হল। অথবা বিরতি। দর্শকাসনে ওরা দুজন বোকার মত দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ।

    — আমাদের এভাবে দেখা কি উচিত হল? শৈলী ব্রায়ের ফিতে আঁটতে আঁটতে নিজেকে আবার গোছাচ্ছিল। ইস! হাতটা সরাও, জামাটা কেমন কুঁচকে দিলে বলো তো। ফটো শুটের জন্য বদলাতে হবে আবার।
    — ওরা ইচ্ছা করে দেখাল।
    — ধ্যাত, এমন আবার কেউ করে নাকি?
    — আমি নিশ্চিত, ওরা জানতো আমরা দেখছি।
    — কী করে জানলে?

    সুকোমলের মনে হচ্ছিল মেয়েটার চোখে চোখ পড়েছিল ওর, তাতে কোন ভুল নেই। ভুল করে পর্দা তোলা থাকলে নিশ্চিত শরীরে একটা ঝটকা লাগত। তাছাড়া লোকটাও যখন পর্দা টানতে আসছিল, কেমন স্লো মোশানে। দেখবে, ওরা নিশ্চয় এরকম করেই থাকে। নিয়মিত। এটা ওদের খেলা। সুকোমল ঠিকই বলেছিল। মাঝখানে বুধ আর বেষ্পতি বাদ দিয়ে শুক্রবার আবার। ততদিনে শৈলী মেয়েটার নাম জেনে নিয়েছে। রাধিকা।

    — আর ও মালটা বুঝি কেষ্টঠাকুর?
    — কী যেন মাহাতা, পুরো নাম জানি না।
    — মেয়েটার নামই বা জানলে কী করে?
    — শুধু জানলাম? সামনে থেকে দেখলাম। শৈলীর গলায় টিভি সিরিয়ালের উঠতি নায়িকার সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার গর্ব। শুনেই কেমন উত্তেজনায় ছটফট করে উঠল সুকোমল।
    — কেমন দেখলে?




    — ভেরি হট! কী ফিগার! জিনসের উপর একটা লাল রঙের টপ পরেছিল, নিচে গিঁট দিয়ে রাখায় পেটটা খোলা। নাভিতে একটা আংটিও দেখলাম।

    শরীরে শিরশিরানি উঠল সুকোমলের। নিজের গলার স্বর কোনমতে আয়ত্তে আনতে আনতে বলল, তুমি কি করে জানলে সেই মেয়েটাই? রাধিকার বিষয়ে আরও কিছু শুনতে চাইছিল, কিছু ভিতরের খবর। কমলিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। আঁতকে উঠল সুকোমল। তুমি কমলিনীকে বললে? কি বললে ওকে? কমলিনী শৈলীর বন্ধু, ওর থ্রুতেই এই আবাসনে এসেছে ওরা। তাই বলে ওরা যে জানালা দিয়ে অন্যের বাড়ির ভিতরে দেখছে, সেটা কেউ বলে নাকি! তোমার এতসব শুনে কাজ নেই, যা জেনেছি বললাম তো। ও জানো তো, রাধিকা আমার দিকে চেয়ে হাসল একবার। আচ্ছা, ও কি বুঝতে পেরেছে যে আমরা দেখেছি? মানে আমিই এই ফ্লাটের বাসিন্দা।

    — কেন কিছু বলল তোমায়?
    — না না, মুখে কিছু বলেনি। কিন্তু হাসিটা, মানে হয়না এরকম যে কেউ একটা চেনা চেনা ভাইব দিচ্ছে? অনেকটা সেরকম মনে হল।
    — আচ্ছা, আবাসনের আর সবাই জানে ওদের এই রাসলীলার খবর?
    — আমি কী করে জানব অতসব। এইসব কথা কাউকে সোজাসুজি জিজ্ঞেস করা যায়?

    আজ মাহাতা আর রাধিকা দুটো জানালার পর্দাই টেনে রেখেছিল। ঘরের মধ্যে ঘুরে ঘুরে ওদের পোশাক খোলা দেখাল খানিক। তারপর আবার পর্দা টেনে দিল। আজ পর্দা টানল রাধিকা, জানালায় এসে দুহাত তুলে দুদিকের পর্দা ধরে দাঁড়াল কয়েক মুহূর্ত, বুকজোড়া গর্বে মাথা তুলে চেয়ে আছে, ঠিক যেন র‍্যাম্পের শো স্টপার। তারপর খুব ধীরে ধীরে পর্দা টেনে দিল।

    — ওরা কেন এমন করে বলো তো? বুঝতে পারছে আমরা দেখছি তবুও কোন হুঁশ নেই।
    — শুধু আমরা দেখছি সেটা নাও হতে পারে। প্রাইভেট শো তো দিচ্ছিলো না।
    — ওদের ঘরটা আমরাই সোজাসুজি দেখতে পাই। আমাদের উপরে ছতলা আর সাততলা থেকেও একটা ভিউ পাবে। আমাদের মত এরকম ডাইরেক্ট না হলেও, দেখা যাবে। আর আমাদের পাশের ফ্ল্যাটের মিশ্রা ফ্যামিলি, হয়তো ওদের অ্যাঙ্গেল থেকেও দেখা যায়। মিশ্রাদের তো আবার একটা বাচ্চা মেয়ে আছে। সে যদি দেখে ফেলে, তাহলেই তো চিত্তির!
    — ওদের লজ্জা করল না? আই মিন, এইভাবে –
    — ওরকম চেহারা থাকলে কেন লজ্জা পাবে? মাহাতাকে দেখেছ? একেবারে টোনড বডি। অ্যান্ড দ্যাট থিং, হিউজ! দেখাবে না কেন?

    সুকোমল একটু কুঁকড়ে গেল ভিতরে ভিতরে। তার পুরুষাঙ্গ মন্দ নয়, অ্যাভারেজ। এতদিন শৈলীর তো কোন কমপ্লেন ছিল না। চোখমুখ লাল হয়ে গেল সুকোমলের। রাগও হল, মুখ দিয়ে সেটাই বেরিয়ে এলো। হ্যাঁ রাধিকাও চাপকি, কী চেহারা! কোমরটা দেখেছো, চর্বির ছিটেফোঁটা নেই। অ্যান্ড হোয়াট বুবস! বিগ অ্যান্ড বোল্ড। সবাইকে বুক খুলে দেখালেই তো বোল্ড হয়ে গেল, তাই না? ফোঁস করে উঠল শৈলী। জানি জানি, আমাকে আর পছন্দ হচ্ছে না। ওর গলা সন্ধ্যের বাতাসে প্রদীপের সলতের মত কেঁপে উঠল এবার। বারুদের গন্ধ পেয়ে সুকোমল চট করে ডিফেন্সে ফিরে গেল। সেটা আবার কখন বললাম? শৈলীর জামার উপরের বোতামদুটো খোলা হয়ে গিয়েছিল, সেখানেই নিজের নাক গুঁজে দিল সুকোমল, তোমার বুক কিরকম জানো তো শৈ, সদ্য আভেন থেকে বের করে আনা সারডো ব্রেড। ফ্রেশ, জুইসি বাট ফার্ম। অসভ্য কোথাকার! সুখে ডুবতে ডুবতে কোনমতে বলল শৈলী।

    — এই একটা ট্রেডমিল কিনবে?
    — কোথায় রাখবে?
    — সেকেন্ড বেডরুমটা এখন আমাদের কি কাজের? ওটাকে জিম রুম বানিয়ে নিলেই হয়।
    — একটা বেঞ্চ প্রেসও নিয়ে নিই তাহলে কি বলো? মাসলগুলো আরও ভাল খেলবে।
    — হ্যাঁ, মাহাতার মত। রাধিকাকে কীরকম দুহাতে তুলে নিল দেখেছো। এই আমাকে একবার নাও না ওরকম?
    — তাহলে তো রাধিকার মত তোমারও বস্ত্রহরণ করতে হবে আগে। শৈলীর জামার বাকি বোতামগুলো খুলতে খুলতে বলল সুকোমল।
    — ন্যাকা, আমি যেন বারণ করি।

    শৈলীকে পাঁজাকোলা করে বেডরুমের খাটে নিয়ে স্থাপন করল সুকোমল। হাঁফাচ্ছিল। চট করে আলোটা নিভিয়ে দিতেই শৈলী আর রাধিকা একাকার হয়ে গেল সুকোমলের সামনে। জানালা দিয়ে দেখাটা কীরকম অভ্যাসের মত হয়ে যাচ্ছিল। আগে সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফেরার পর ড্রয়িংরুমে বসে চা খেতো দুজনে। নানারকম কথা হত। শৈলীই বেশি বলত, সুকোমল শুনত। শৈলীর নতুন রান্না শেখার গল্প, কমলির লেটেস্ট খবর, সে কোন বই পড়ছে সেটা সুকোমল পড়বে কি না এইসব হরেক কথা। সুকোমল তার বসের নিন্দা, অফিস পলিটিক্সের টুকরো টাকরা যোগান দিয়ে কথা জিইয়ে রাখত। রোজকার কথা যাদের আলাদা করে অস্তিত্ব নেই, তবু সব মিলিয়ে একটা মধুর গুঞ্জন গড়ে তোলে। এর মাঝখানে শৈলী রান্নাঘরটাও সামলাতো। সেখান থেকে মাঝে মাঝে সুকোমলের ডাক পড়ত, এই এদিকে এসে দেখো না একবার মাংসটা ভাল করে সিদ্ধ হয়েছে কিনা। এখনো বসে চা নিয়ে। কিন্তু কথার মাঝখানে মাঝখানে উশখুস করে। আটটা বেজে গেলেই ওরা পালা করে প্যাসেজটায় গিয়ে বি ব্লকের পাঁচ তলার জানালাটার খবর নেয়। মিস্টার অ্যান্ড মিসেস মাহাতার শো কোনদিন মিস করেনা।

    আজ সুকোমল একটা বাইনোকুলার নিয়ে এসেছে। বেশ বড়, কালো লম্বা দুটো নল দূরকে কাছে আনার মোক্ষম সরঞ্জাম। একবার চোখে লাগিয়েই অবাক বিস্ময়ে ছুট্টে প্যাসেজটায় চলে গেল শৈলী। এ বাবা, এ তো একদম সব কিছু হাতের কাছে চলে আসছে গো। আমি ওদের পর্দার প্রিন্টটা একদম স্পষ্ট দেখতে পেলাম! উত্তেজিত হয়ে ফিরে আসে শৈলী। তৃপ্তির হাসি হাসলো সুকোমল। কাছ থেকে দেখার জন্যেই তো আনা। প্রফেশনাল বার্ড ওয়াচাররা এরকম বাইনোকুলার নিয়ে পাখি দেখতে যায়। আমার অফিসে মন্দার বলে একটা ছেলে আছে, প্রতি রবিবার বনে জঙ্গলে এটা হাতে ঘুরে বেড়ায় পাখি দেখার জন্য। ওর কাছ থেকে চেয়ে আনলাম।

    আমরা কি পাখি দেখবো সুকু? খিলখিল হাসিটা ধাপে ধাপে ওঠানামা করছিল শৈলীর গলায়। সুখপাখি। তবে দেখো, আজকে ওদের শো হয় কিনা! গলার ছটফট ভাবটা গোপন রাখতে পারছিল না সুকোমল। এই যন্ত্রটা হাতে পাওয়ার পর থেকেই রাধিকার শরীরটা কখন চোখের নাগালে আসবে ভেবেই অস্থির লাগছিল। অপেক্ষার সময় কাটছে না কিছুতেই। ওরা পর্দা না খুললে আজকের এতো জোগাড়যন্ত্র সব মাটি হয়ে যাবে।

    জোগাড় শৈলীও করেছে অন্যভাবে। আজকাল শৈলী আর রান্নাটা সন্ধের জন্য তুলে রাখে না। সুকোমল বাড়ি ফিরে আসার আগেই সামলে রাখে সেসব। নিজেকে সুবিন্যস্ত করার জন্য সময় পায়। মুখটা পরিষ্কার করে, চোখে কাজলটা টেনে নেয়, ঠোঁটে রং ছড়ায়, গালেও। রাধিকার মত সেও স্ট্র্যাপলেস ব্রা কিনেছে। টকটকে লাল। অফ শোল্ডার টপের সঙ্গে এতো ভাল যাচ্ছে! সুকোমলের চোখের তাপ ওর কাঁধে ছড়িয়ে পড়তে দেখছিল বারবার।

    — সুকোমল বলেই ফেলল, দর্শকরাও খুব সাজুগুজু করছে দেখছি আজকাল।
    — তো, কোন শো দেখতে গেলে নিজেদেরকেও তো সাজতে হয় নাকি? আদুরে পায়রার মত গলায় ঘড়ঘড় শব্দ তুলল শৈলী।
    — হ্যাঁ, সবাই মিলে তৈরী হয়ে বসলাম, আর আজকেই হয়তো দেখবে তোমার মাহাতা ফ্যামিলির গা ম্যাজম্যাজ কি গলে মে খারাস। ব্যাস কামাসূত্রার শো বাতিল।
    — আহা, এখনো সময় আছে।

    এই দিক দিয়ে ওরা খুব পাংচুয়াল। ঠিক সাড়ে আটটার সময় পর্দা খুলে যায়। তার দুই এক মিনিট এদিক ওদিকে না খুললে বোঝা যাবে আজ হবে না। হলও তাই। সাড়ে আটটা বাজতেই রাধিকা এসে পর্দা সরিয়ে দিল। আজ রাধিকার পরনে নীলরঙা শাড়ি, পুরো হাতা ব্লাউজ। সুকোমলের চোখে বাইনোকুলার লাগানো ছিল বলেই মেয়েটার ঠোঁটের কোণের কৌতুকটা নজর এড়ালো না। ঠিক জানে ওরা দাঁড়িয়ে আছে দেখার জন্য, তাই আজ হয়তো উল্টো কায়দা করেছে, শরীরে তিনটে লেয়ার। একটা নিরাশা ছড়িয়ে পড়ল সুকোমলের শরীরে। এই সময় মাহাতা পেছন থেকে এগিয়ে এলো। মাহাতার শরীরে একছিটে জামা কাপড় নেই। শৈলী এক ঝটকায় সুকোমলের হাত থেকে নিয়ে নিল দূরবীনটা। মাহাতা ততক্ষণে রাধিকাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেছে। প্রথমেই বুকের থেকে আঁচলটা খসিয়ে দিল। আহা, এবার আমাকে দাও না একবার। সুকোমল অস্থির হয়ে দূরবীনটা ফেরত নিতে চাইলেও সহজে পাওয়া যায় নাকি। লোকটাকে দেখতে দেখতে সুকোমল নিজেও শৈলীর টপটা খুলতে হাত বাড়াল।

    — এই, আগে পর্দাটা পুরো সরিয়ে নাও না।
    — খুলে দেবো? সবাই দেখতে পাবে যে? অবাক হয়ে গেল সুকোমল।
    — তো? আমরা কম কিসে?

    শৈলী পর্দায় এমন জোরে টান দিল যে স্প্রিংশুদ্ধু ভারী পর্দাটা মাটিতে নেবে এলো। ততক্ষণে সুকোমল স্ট্র্যাপলেস ব্রা পেরিয়ে ওর বুকের নরম নিজের মুঠোবন্দী করে ফেলেছে। অন্য জানালায় রাধিকাকে দুহাতে কোলে তুলে নিয়েছে মাহাতা। ওদিক থেকে চোখ সরিয়ে শৈলীতে ফিরতে ফিরতেই সুকোমল দেখল বি ব্লকের ছয় তলার জানালায় দাঁড়িয়ে দেখছে কেউ। বা কারা। ঘর অন্ধকার করে রাখায় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না, কিন্তু নিশ্চিত কেউ দেখছে। সুকোমলের গলা কেঁপে উঠল, শৈ! শৈ! আমাদের দেখছে ওদিকের ছতলা থেকে। কী করবো? শৈলীর গলার স্বর এখন তুলোয় মোড়া। জানি তো। তোমার ডান হাতটা আমার পেটের উপর রাখো, বাঁ হাত দিয়ে একটা বুক মুঠোয় নাও। আড়ালে না পড়ে যায়। আহা! একটু নরম করে, যেন তুমি জানোই না কেউ দেখছে। সময় নাও, বিল্ড আপ করো।

    উল্টোদিকের অনেকগুলো জানালাতেই উঁকিঝুঁকি শুরু হয়েছে এতক্ষণে।

  • বিভাগ : ইস্পেশাল | ২৮ মে ২০২১ | ৫৫২ বার পঠিত
  • কোনোরকম কর্পোরেট ফান্ডিং ছাড়া সম্পূর্ণরূপে জনতার শ্রম ও অর্থে পরিচালিত এই নন-প্রফিট এবং স্বাধীন উদ্যোগটিকে বাঁচিয়ে রাখতে
    গুরুচণ্ডা৯-র গ্রাহক হোন
    গুরুচণ্ডা৯তে প্রকাশিত লেখাগুলি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হোন। টেলিগ্রাম অ্যাপে পেতে চাইলে এখানে ক্লিক করে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটির গ্রাহক হোন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সায়ন্তন চৌধুরী | ২৮ মে ২০২১ ২১:১৪106515
  • একদম সলিড লেখা; কিছু জায়গায় ইউফেমিজমের বদলে গ্রাফিক বর্ণনা বোধহয় আরও উপযুক্ত ও জোরালো হত।

  • Prativa Sarker | ২৯ মে ২০২১ ১৯:৩৯106582
  • এইভাবেই শিকারি কখন শিকার বনে যায়, অথবা উল্টোটা। মনস্তাত্ত্বিক গভীরতায় ডুব দিয়ে ওঠা। 


    গল্প বলার ভঙ্গি এতো জীবন্ত ! 

আমার গুরুবন্ধুদের জানানকরোনা
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার খেরোর খাতা, লিখতে থাকুন, বানান নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : [email protected]
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত


পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন